deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

উহুদ যুদ্ধ: একটি নির্দেশ অমান্যের দাম

বদরের এক বছর পর মুসলিমরা আবার মুখোমুখি হলেন কুরাইশের, এবার মদিনার কাছে উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে। সেদিন আল্লাহ শেখালেন, বিজয়ের মুহূর্তেও একটা নির্দেশ অমান্য করলে কী ঘটে, আর বিপর্যয়ের মধ্যেও ঈমান কীভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।

৭ দৃশ্য৯ হাদিস১৩ আয়াত

সীরাত · মাদানী যুগ৬২৫ খ্রি. · ৩ হিজরি · শাওয়াল

কখন
৩ হিজরি, শাওয়াল মাস (প্রসিদ্ধ মতে মাসের মাঝামাঝি, শনিবার)
কোথায়
মদিনার উত্তরে উহুদ পাহাড়ের পাদদেশ; সামনে ছোট পাহাড় "জাবালুর রুমাত" (তীরন্দাজদের পাহাড়)
দুই পক্ষ
মুসলিম প্রায় ৭০০ জন (মুনাফিকরা ফিরে যাওয়ার পর); কুরাইশ প্রায় ৩০০০ জন
এই গল্পে
মদিনায় পরামর্শ থেকে শহীদদের দাফন পর্যন্ত

কেন পড়বেন: উহুদ সাফল্যের গল্প নয়, শিক্ষার গল্প। কুরআনের সূরা আলে ইমরানের প্রায় ষাটটি আয়াত এই যুদ্ধ নিয়ে: কেন বিপর্যয় এল, কে সত্যিকারের মুমিন, আর ভুলের পরেও আল্লাহ কীভাবে ক্ষমা করেন। দুনিয়ার লোভ, নেতার নির্দেশ, গুজব, ধৈর্য, সবকিছুর শিক্ষা এখানে।

গল্প

বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।

  1. ১

    শাওয়াল, ৩ হিজরি

    মদিনায় থাকব, নাকি বের হব?

    বদরে নেতাদের হারিয়ে কুরাইশ প্রতিশোধের প্রস্তুতি নিল। প্রায় তিন হাজার সৈন্য নিয়ে তারা মদিনার কাছে উহুদ পাহাড়ের পাশে এসে থামল। নবীজি (ﷺ) পরামর্শ ডাকলেন। সীরাতের বর্ণনায় আছে, তাঁর নিজের মত ছিল মদিনার ভেতরে থেকে প্রতিরক্ষা করা; কিন্তু বদরে যাঁরা যেতে পারেননি, এমন অনেক যুবক সাহাবি বাইরে গিয়ে লড়তে চাইলেন। নবীজি (ﷺ) সংখ্যাগরিষ্ঠের মত মেনে বর্ম পরে বের হলেন।

    পথে মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবনু উবাই প্রায় তিনশো লোক নিয়ে ফিরে গেল। আল্লাহ তাদের কথা কুরআনে বলেছেন:

    وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ نَافَقُوا ۚ وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِ ادْفَعُوا ۖ قَالُوا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالًا لَّاتَّبَعْنَاكُمْ ۗ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْإِيمَانِ ۚ يَقُولُونَ بِأَفْوَاهِهِم مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ ۗ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُونَ

    আর যাতে তিনি জেনে নেন মুনাফিকদেরকে। আর তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘এস, তোমরা আল্লাহ্‌র পথে যুদ্ধ কর অথবা প্রতিরোধ কর।’ তারা বলেছিল, ‘যদি যুদ্ধ জানতাম তবে নিশ্চিতভাবে তোমাদের অনুসরণ করতাম’। সেদিন তারা ঈমানের চেয়ে কুফরীর কাছাকাছি ছিল। যা তাদের অন্তরে নেই তারা তা মুখে বলে এবং তারা যা গোপন রাখে আল্লাহ তা অধিক অবগত।

    সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: উহুদের আগে পরামর্শ ও ইবনু উবাইয়ের ফিরে যাওয়া ঐতিহাসিক বর্ণনাসূরা আলে ইমরান ৩:১২১ কুরআনসূরা আলে ইমরান ৩:১৬৭ কুরআন

    নবীজি (ﷺ) নিজের মত ছেড়ে পরামর্শের ফল মেনে নিয়েছেন। আর বিপদের সময় কারা সরে যায়, তা দিয়েই আল্লাহ মানুষকে আলাদা করেন।

  2. ২

    যুদ্ধের সকাল

    "পাখিরা আমাদের ছিঁড়ে খেলেও এই জায়গা ছাড়বে না"

    নবীজি (ﷺ) পাহাড়কে পেছনে রেখে সারি সাজালেন। পেছনের একটা ছোট পাহাড়ে বসালেন পঞ্চাশজন তীরন্দাজ, নেতা আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর (রা.)। তাঁদের দিলেন একটি পরিষ্কার নির্দেশ। শুরুতে মুসলিমরা জিতছিলেন, কুরাইশ পালাচ্ছিল, আর তখনই এল পরীক্ষা:

    উহুদের দিন নবীজি (ﷺ) পঞ্চাশজন পদাতিক (তীরন্দাজ) সৈন্যের উপর আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইরকে (রা.) নেতা বানালেন এবং বললেন: যদি দেখো পাখিরা আমাদের ছিঁড়ে খাচ্ছে, তবু আমি লোক না পাঠানো পর্যন্ত তোমরা এই জায়গা ছাড়বে না। আর যদি দেখো আমরা শত্রুদের হারিয়ে পায়ে দলে দিয়েছি, তবু আমি লোক না পাঠানো পর্যন্ত ছাড়বে না। মুসলিমরা শত্রুদের হারিয়ে দিলেন। (বারা বলেন:) আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম (শত্রুপক্ষের) নারীরা কাপড় তুলে দৌড়ে পালাচ্ছে। তখন আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইরের সঙ্গীরা বলল: গনিমত, ভাইয়েরা, গনিমত! তোমাদের সঙ্গীরা জিতে গেছে, আর কিসের অপেক্ষা? আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর বললেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের যা বলেছিলেন, তা কি ভুলে গেলে? তারা বলল: আল্লাহর কসম, আমরা লোকদের কাছে গিয়ে গনিমত নেবই। তারা যখন সেখানে গেল, তাদের মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হলো, তারা পরাজিত হয়ে ফিরতে লাগল; এ সেই সময়, যখন রাসূল পেছন থেকে তাদের ডাকছিলেন। নবীজির (ﷺ) সাথে বারোজন ছাড়া কেউ থাকল না। শত্রুরা আমাদের সত্তরজনকে শহীদ করল; আর বদরের দিন নবীজি (ﷺ) ও সাহাবিরা মুশরিকদের একশো চল্লিশজনের ক্ষতি করেছিলেন: সত্তরজন বন্দি, সত্তরজন নিহত। আবু সুফিয়ান তিনবার বলল: লোকদের মধ্যে কি মুহাম্মাদ আছে? নবীজি (ﷺ) উত্তর দিতে নিষেধ করলেন। তারপর তিনবার বলল: আবু কুহাফার ছেলে (আবু বকর) আছে? তারপর তিনবার: খাত্তাবের ছেলে (উমর) আছে? তারপর নিজের লোকদের কাছে ফিরে বলল: এরা সবাই নিহত। উমর (রা.) আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না, বললেন: আল্লাহর শত্রু, তুমি মিথ্যা বলেছ! যাদের নাম নিয়েছ, তারা সবাই জীবিত, আর তোমার জন্য কষ্টের দিন এখনো বাকি। আবু সুফিয়ান বলল: বদরের বদলে আজকের দিন, যুদ্ধ তো পালাক্রমে চলে। তোমরা (নিহতদের মধ্যে) অঙ্গবিকৃতি দেখবে; আমি এর নির্দেশ দিইনি, তবে এতে আমার খারাপও লাগেনি। তারপর সে ছন্দ ধরে বলতে লাগল: হুবাল উঁচু হোক, হুবাল উঁচু হোক! নবীজি (ﷺ) বললেন: তোমরা তার জবাব দেবে না? সাহাবিরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কী বলব? তিনি বললেন: বলো, আল্লাহ সবার উপরে, সবচেয়ে মহান। সে বলল: আমাদের আছে উযযা, তোমাদের উযযা নেই। নবীজি (ﷺ) বললেন: জবাব দেবে না? তাঁরা বললেন: কী বলব? তিনি বললেন: বলো, আল্লাহ আমাদের অভিভাবক, তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই।

    সহিহ বুখারী ৩০৩৯সহিহবর্ণনাকারী: বারা ইবনু আযিব (রা.)

    সীরাতের বর্ণনায় আছে, তীরন্দাজদের ফাঁকা জায়গা দিয়ে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (তখনো মুসলিম হননি) অশ্বারোহী নিয়ে পেছন থেকে আক্রমণ করেন। আল্লাহ পুরো ঘটনা এক আয়াতে বলেছেন:

    وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللَّهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّن بَعْدِ مَا أَرَاكُم مَّا تُحِبُّونَ ۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الْآخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ۖ وَلَقَدْ عَفَا عَنكُمْ ۗ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ

    অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের সাথে তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিলেন যখন তোমরা আল্লাহ্‌র অনুমতিক্রমে তাদেরকে বিনাশ করছিলে, যে পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারালে, নির্দেশ সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করলে এবং যা তোমরা ভালবাস তা তোমাদেরকে দেখানোর পর তোমরা অবাধ্য হলে। তোমাদের কিছু সংখ্যক দুনিয়া চাচ্ছিল এবং কিছু সংখ্যক চাচ্ছিল আখেরাত। তারপর তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য তাদের (তোমাদের শত্রুদের) থেকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিলেন। অবশ্য তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।

    সূত্রসহিহ বুখারী ৩০৩৯ সহিহসূরা আলে ইমরান ৩:১৫২ কুরআনইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের পেছন থেকে আক্রমণ ঐতিহাসিক বর্ণনা

    আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর (রা.) কয়েকজনকে নিয়ে জায়গায় থেকে গিয়েছিলেন। সবাই যখন সহজ পথে যায়, তখন নির্দেশের উপর অটল থাকাটাই আসল আনুগত্য।

  3. ৩

    যুদ্ধের মধ্যে

    হামযার (রা.) শাহাদাত

    নবীজির (ﷺ) চাচা হামযা (রা.), যাঁকে বলা হতো "আল্লাহর সিংহ", সেদিন বীরের মতো লড়ছিলেন। কিন্তু এক হাবশী দাস ওয়াহশী তাঁর জন্য ওত পেতে ছিল, মুক্তির লোভে। ওয়াহশী নিজে পরে মুসলিম হয়ে পুরো ঘটনা বলেছেন:

    (ওয়াহশী বললেন:) হামযা বদরে তুআইমা ইবনু আদিকে হত্যা করেছিলেন। তাই আমার মনিব জুবাইর ইবনু মুতইম আমাকে বলল: তুমি আমার চাচার বদলে হামযাকে হত্যা করতে পারলে তুমি মুক্ত। ... আমি হামযার জন্য একটা পাথরের আড়ালে ওত পেতে রইলাম। তিনি কাছে আসতেই আমি বর্শা ছুড়লাম, তা তাঁর নাভির নিচে লেগে পেছন দিয়ে বেরিয়ে গেল। এটাই ছিল তাঁর শেষ। ... (পরে আমি ইসলাম গ্রহণ করতে নবীজির কাছে এলাম।) তিনি আমাকে দেখে বললেন: তুমি ওয়াহশী? বললাম: হ্যাঁ। বললেন: তুমিই হামযাকে হত্যা করেছিলে? বললাম: যা ঘটেছে, তা আপনি শুনেছেন। বললেন: তুমি কি তোমার মুখ আমার সামনে থেকে আড়ালে রাখতে পারবে? ... রাসূলুল্লাহর (ﷺ) ইন্তেকালের পর যখন মিথ্যা নবীর দাবিদার মুসাইলামা বের হলো, আমি বললাম: অবশ্যই আমি মুসাইলামার বিরুদ্ধে বের হব, হয়তো তাকে হত্যা করে হামযার বদলা দিতে পারব। ... আমি সেই বর্শা ছুড়লাম, তা তার বুকে লেগে দুই কাঁধের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে গেল।

    সহিহ বুখারী ৪০৭২সহিহবর্ণনাকারী: ওয়াহশী ইবনু হারব (রা.), জাফর ইবনু আমর আদ-দামরীর মাধ্যমে

    যে বর্শা দিয়ে তিনি ইসলামের সিংহকে শহীদ করেছিলেন, সেই বর্শা দিয়েই পরে মিথ্যা নবী মুসাইলামাকে হত্যা করেন। ইসলাম আগের সব গুনাহ মুছে দেয়, এমনকি এত বড় গুনাহও।

    সূত্রসহিহ বুখারী ৪০৭২ সহিহসূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩ কুরআন

    নবীজি (ﷺ) প্রিয় চাচার হত্যাকারীকেও ইসলামে গ্রহণ করেছেন; শুধু বলেছেন, সামনে না আসতে। ক্ষমা মানে কষ্ট ভুলে যাওয়া নয়, প্রতিশোধ না নেওয়া।

  4. ৪

    বিপর্যয়ের মুহূর্ত

    নবীজিকে (ﷺ) ঘিরে প্রাণের দেয়াল

    হঠাৎ গুজব ছড়াল, মুহাম্মাদ (ﷺ) নিহত! অনেকে হতভম্ব হয়ে পড়লেন। আল্লাহ এ নিয়ে আয়াত নাজিল করলেন: মুহাম্মাদ একজন রাসূল মাত্র, তিনি মারা গেলে বা নিহত হলে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে (সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪)? নবীজির (ﷺ) পাশে তখন হাতে গোনা কয়েকজন:

    উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাতজন আনসারী আর দুজন কুরাইশি সাহাবির সাথে একা হয়ে পড়লেন। শত্রুরা যখন তাঁর একেবারে কাছে চলে এল, তিনি বললেন: কে এদের আমাদের কাছ থেকে হটাবে? তার জন্য জান্নাত, অথবা (বললেন) সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে। একজন আনসারী এগিয়ে গিয়ে লড়াই করে শহীদ হলেন। শত্রুরা আবার কাছে এল, তিনি আবার একই কথা বললেন; আরেকজন আনসারী এগিয়ে গিয়ে শহীদ হলেন। এভাবে সাতজনই শহীদ হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দুই (কুরাইশি) সঙ্গীকে বললেন: আমরা আমাদের সাথীদের প্রতি ইনসাফ করিনি।

    সহিহ মুসলিম ১৭৮৯সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

    তালহা (রা.) নিজের হাত দিয়ে তীর ঠেকিয়েছিলেন, সেই হাত চিরদিনের মতো অবশ হয়ে যায় (সহিহ বুখারী ৪০৬৩)। আর নবীজি (ﷺ) নিজেও আহত হলেন:

    উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনের একটি দাঁত ভেঙে গেল, মাথায় আঘাত লেগে ফেটে গেল। তিনি রক্ত মুছতে মুছতে বলছিলেন: সেই জাতি কীভাবে সফল হবে, যারা তাদের নবীর মাথা ফাটিয়েছে, দাঁত ভেঙেছে, অথচ তিনি তাদের আল্লাহর দিকে ডাকছেন? তখন আল্লাহ নাজিল করলেন: "এ বিষয়ে তোমার কোনো এখতিয়ার নেই..." (৩:১২৮)।

    সহিহ মুসলিম ১৭৯১সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

    সূত্রসহিহ মুসলিম ১৭৮৯ সহিহসহিহ বুখারী ৪০৬৩ সহিহসহিহ মুসলিম ১৭৯১ সহিহসূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪ কুরআনসূরা আলে ইমরান ৩:১২৮ কুরআন

    মাথা ফেটে রক্ত ঝরছে, তবু তাঁর চিন্তা: এরা কীভাবে সফল হবে? আর আল্লাহ তাঁকেও মনে করিয়ে দিলেন, হেদায়াত আল্লাহর হাতে। এই জাতির অনেকেই পরে মুসলিম হয়েছিলেন।

  5. ৫

    যুদ্ধের মধ্যে

    "উহুদের ওপাশ থেকে জান্নাতের ঘ্রাণ"

    যখন অনেকে ছত্রভঙ্গ, তখন এক সাহাবি এগিয়ে গেলেন উল্টো দিকে। বদরে না যেতে পারার কষ্ট তিনি এক বছর ধরে বুকে রেখেছিলেন:

    আমার চাচা আনাস ইবনুন নাদর বদরের যুদ্ধে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, মুশরিকদের বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধে আমি অনুপস্থিত ছিলাম; আল্লাহ যদি আমাকে আবার মুশরিকদের সাথে যুদ্ধে হাজির করেন, তাহলে আল্লাহ দেখবেন আমি কী করি। উহুদের দিন যখন মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল, তিনি বললেন: হে আল্লাহ, এরা (আমার সঙ্গীরা) যা করল, তার জন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই; আর ওরা (মুশরিকরা) যা করল, তা থেকে আমি নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করি। তারপর তিনি এগিয়ে গেলেন। সাদ ইবনু মুআয তাঁর সামনে পড়লেন। তিনি বললেন: সাদ ইবনু মুআয, জান্নাত! নাদরের রবের কসম, আমি উহুদের ওপাশ থেকে তার ঘ্রাণ পাচ্ছি। সাদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তিনি যা করলেন, আমি তা পারিনি। আনাস বলেন: আমরা তাঁর শরীরে তলোয়ারের, বর্শার বা তীরের আশিটিরও বেশি আঘাত পেলাম। তিনি শহীদ হয়েছিলেন, মুশরিকরা তাঁর অঙ্গবিকৃতি করেছিল; তাঁর বোন ছাড়া কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি, তিনিও চিনেছেন আঙুলের ডগা দেখে। আমরা মনে করতাম, এই আয়াত তাঁর ও তাঁর মতো লোকদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে: "মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে।"

    সহিহ বুখারী ২৮০৫সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

    আল্লাহ এমন লোকদের প্রশংসা করেছেন: মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে (সূরা আল-আহযাব ৩৩:২৩)।

    সূত্রসহিহ বুখারী ২৮০৫ সহিহসূরা আল-আহযাব ৩৩:২৩ কুরআন

    আনাস ইবনুন নাদর (রা.) একটা সুযোগ হারিয়ে ভেঙে পড়েননি; পরের সুযোগের জন্য প্রস্তুত থেকেছেন। হারানো আমলের কষ্ট পরের আমলে শক্তি হয়ে আসুক।

  6. ৬

    যুদ্ধের শেষে

    "আল্লাহ সবার উপরে, সবচেয়ে মহান"

    যুদ্ধ থামলে আবু সুফিয়ান পাহাড়ের কাছে এসে চিৎকার করে খোঁজ নিল, মুহাম্মাদ (ﷺ), আবু বকর আর উমর বেঁচে আছেন কি না, তারপর তাদের মূর্তি হুবালের জয়ধ্বনি দিল। নবীজি (ﷺ) প্রথমে চুপ থাকতে বললেন, কিন্তু যখন কথা এল আল্লাহর বিরুদ্ধে, তখন জবাব শিখিয়ে দিলেন: "আল্লাহু আলা ওয়া আজাল্ল", "আল্লাহু মাওলানা, ওয়া লা মাওলা লাকুম" (সহিহ বুখারী ৩০৩৯)।

    সেদিন সত্তরজন সাহাবি শহীদ হলেন। আল্লাহ মুমিনদের সান্ত্বনা দিলেন:

    إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُهُ ۚ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ ۗ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ

    যদি তোমাদের আঘাত লেগে থাকে, অনুরূপ আঘাত তো তাদেরও লেগেছে। মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আমরা এ দিনগুলোর আবর্তন ঘটাই, যাতে আল্লাহ মুমিনগণকে জানতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যককে শহীদরূপে গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ যালেমদেরকে পছন্দ করেন না।

    অনুবাদে ‘আমরা’, ‘আমাদের’: আল্লাহ যেখানে নিজের কথা বলেছেন, সেখানে এটা আরবির সম্মানসূচক বহুবচন (নাহনু, ইন্না)। আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

    সূত্রসহিহ বুখারী ৩০৩৯ সহিহসূরা আলে ইমরান ৩:১৩৯ কুরআনসূরা আলে ইমরান ৩:১৪০ কুরআনসূরা আলে ইমরান ৩:১৬৫ কুরআন

    নিজের প্রাণ নিয়ে তিনি চুপ ছিলেন, কিন্তু আল্লাহর মর্যাদার প্রশ্নে চুপ থাকেননি। ব্যক্তিগত অপমান সহ্য করা যায়, দ্বীনের অপমানে জবাব দিতে হয়, শালীন ভাষায়।

  7. ৭

    যুদ্ধের পর

    এক চাদরে দুজন

    শহীদদের কাফনের কাপড়ও পুরো ছিল না। মক্কার ধনী পরিবারের সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরা যুবক মুসআব ইবনু উমাইর (রা.), যিনি মদিনায় প্রথম দাঈ হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর অবস্থা ছিল এমন:

    আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নবীজির (ﷺ) সাথে হিজরত করেছিলাম, আমাদের প্রতিদান আল্লাহর কাছে। আমাদের কেউ কেউ দুনিয়ায় সেই প্রতিদানের কিছুই না খেয়ে চলে গেছেন, তাঁদের একজন মুসআব ইবনু উমাইর (রা.)। আবার কারও ফল পেকেছে, সে তা তুলে নিচ্ছে। মুসআব উহুদের দিন শহীদ হলেন। তাঁকে কাফন দেওয়ার জন্য একটি চাদর ছাড়া কিছু পেলাম না; মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যায়, পা ঢাকলে মাথা। নবীজি (ﷺ) বললেন, মাথা ঢেকে দাও, আর পায়ের উপর ইযখির ঘাস রেখে দাও।

    সহিহ বুখারী ১২৭৬সহিহবর্ণনাকারী: খাব্বাব ইবনুল আরাত (রা.)

    আর নবীজি (ﷺ) কুরআন বেশি জানা ব্যক্তিকে কবরে আগে রাখতেন:

    নবীজি (ﷺ) উহুদের শহীদদের দুজন দুজন করে এক কাপড়ে রাখতেন, তারপর জিজ্ঞেস করতেন: এদের মধ্যে কে কুরআন বেশি জানত? কারও দিকে ইশারা করা হলে তাঁকে কবরে আগে রাখতেন, আর বলতেন: কিয়ামতের দিন আমি এদের পক্ষে সাক্ষী হব। তিনি তাঁদের রক্তমাখা অবস্থায়ই দাফন করার নির্দেশ দিলেন; তাঁদের গোসল দেওয়া হয়নি, জানাজার নামাজও পড়া হয়নি।

    সহিহ বুখারী ১৩৪৩সহিহবর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)

    এত কষ্টের পরও এই পাহাড়ের প্রতি নবীজির (ﷺ) ভালোবাসা কমেনি; তিনি বলতেন, উহুদ আমাদের ভালোবাসে, আমরাও উহুদকে ভালোবাসি (সহিহ বুখারী ৪০৮৩)। পরদিনই তিনি আহত সাহাবিদের নিয়ে শত্রুর পিছু নিয়ে "হামরাউল আসাদ" পর্যন্ত গেলেন, যাতে কুরাইশ ফিরে এসে মদিনায় আক্রমণের সাহস না পায় (সূরা আলে ইমরান ৩:১৭২)।

    সূত্রসহিহ বুখারী ১২৭৬ সহিহসহিহ বুখারী ১৩৪৩ সহিহসহিহ বুখারী ৪০৮৩ সহিহসূরা আলে ইমরান ৩:১৭২ কুরআনইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: হামরাউল আসাদ অভিযান ঐতিহাসিক বর্ণনা

    দুনিয়ায় মুসআবের (রা.) কাফনটুকুও পুরো হয়নি, অথচ তাঁর প্রতিদান পুরোটা আল্লাহর কাছে জমা। আমরা কোন প্রতিদান আগে নিয়ে ফেলছি, ভাবার বিষয়।

প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়

এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।

সনদ দুর্বল হিন্দ (রা.) হামযার (রা.) কলিজা চিবিয়েছিলেন

উহুদে শহীদদের অঙ্গবিকৃতি করা হয়েছিল, এটা সহিহ হাদিসে আছে (সহিহ বুখারী ৩০৩৯, সহিহ বুখারী ২৮০৫)। কিন্তু হিন্দ নিজে হামযার (রা.) কলিজা চিবিয়েছিলেন, এ কথা ইবনে ইসহাক সংযুক্ত সনদ ছাড়া এনেছেন, আর মুসনাদে আহমাদের যে বর্ণনায় এসেছে, তার সনদ দুর্বল। হামযাকে (রা.) শহীদ করার পুরো বিবরণ ওয়াহশী নিজে দিয়েছেন, সেখানে এ কথা নেই (সহিহ বুখারী ৪০৭২)। হিন্দ পরে মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করে সাহাবিয়া হয়েছেন (সহিহ বুখারী ৩৮২৫); তাই এই গল্প নিশ্চিত ইতিহাস হিসেবে বলা বা এ নিয়ে তাঁকে গালি দেওয়া ঠিক নয়।

ভিত্তিহীন উওয়াইস কারনী (রহ.) নবীজির (ﷺ) দাঁত ভাঙার খবর শুনে নিজের সব দাঁত ভেঙে ফেলেছিলেন

এ কথার কোনো সনদ কোনো হাদিস বা নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের বইয়ে নেই। উওয়াইস কারনী নবীজিকে (ﷺ) দেখেননি; তাঁর ব্যাপারে সহিহ হাদিসে যা আছে, তা হলো মায়ের সেবা আর তাঁর দোয়া কবুল হওয়ার কথা (সহিহ মুসলিম ২৫৪২)। আর নিজের শরীরের ক্ষতি করা ইসলামে নিষিদ্ধ (সূরা আল-বাকারা ২:১৯৫)।

ভুল ধারণা উহুদে হেরে যাওয়া প্রমাণ করে মুসলিমরা হকের উপর ছিলেন না

কুরআন নিজেই কারণ বলে দিয়েছে: আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূরণ করেছিলেন, যতক্ষণ না তোমরা নির্দেশ নিয়ে বিবাদ করলে আর অমান্য করলে (সূরা আলে ইমরান ৩:১৫২); এটা তোমাদের নিজেদের কারণেই (সূরা আলে ইমরান ৩:১৬৫)। আর এই দিনগুলো আল্লাহ মানুষের মাঝে পালাক্রমে ঘোরান, মুমিনদের যাচাই করার জন্য (সূরা আলে ইমরান ৩:১৪০)।

এই গল্প থেকে আমার জীবনে

গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।

নির্দেশের উপর অটল থাকা

তীরন্দাজদের বলা হয়েছিল, যা-ই ঘটুক জায়গা ছাড়বে না। কয়েকজনের লোভ পুরো বাহিনীর বিপর্যয় ডেকে আনল।

আজকের কাজ: আল্লাহর যে বিধান আপনি "পরিস্থিতি বুঝে" মাঝে মাঝে ছেড়ে দেন (যেমন সময়মতো নামাজ), আজ থেকে সেটা ঠিক জায়গায় ধরে রাখুন।

সহিহ বুখারী ৩০৩৯ সহিহসূরা আলে ইমরান ৩:১৫২ কুরআন

গুজবে না ভেঙে পড়া

নবীজির (ﷺ) মৃত্যুর গুজবে অনেকে ভেঙে পড়েছিলেন। কুরআন মনে করিয়ে দিল, দ্বীন আল্লাহর, কোনো ব্যক্তির উপর নির্ভর করে না।

আজকের কাজ: আজ কোনো খবর শেয়ার করার আগে যাচাই করুন, বিশেষ করে যা মানুষকে আতঙ্কিত বা হতাশ করে।

সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪ কুরআনসূরা আল-হুজুরাত ৪৯:৬ কুরআন

হারানো সুযোগের বদলে নতুন প্রস্তুতি

আনাস ইবনুন নাদর (রা.) বদর হারিয়েছিলেন, উহুদে নিজের কথা রেখেছেন।

আজকের কাজ: যে ভালো কাজ আগে করতে পারেননি (হজ, কুরআন শেখা, কারও হক আদায়), আজ তার জন্য একটা ছোট বাস্তব পদক্ষেপ নিন।

সহিহ বুখারী ২৮০৫ সহিহসূরা আল-আহযাব ৩৩:২৩ কুরআন

কষ্টদাতার জন্যও হেদায়াতের দোয়া

রক্তাক্ত মুখেও নবীজির (ﷺ) চিন্তা ছিল, এই জাতি কীভাবে সফল হবে।

আজকের কাজ: যে মানুষটা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, আজ নামাজের পর তার হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য একবার দোয়া করুন।

সহিহ মুসলিম ১৭৯১ সহিহসূরা আলে ইমরান ৩:১২৮ কুরআন

কুরআনকে মর্যাদার মাপকাঠি বানানো

দাফনের সময়ও নবীজি (ﷺ) জিজ্ঞেস করেছেন, কে কুরআন বেশি জানত।

আজকের কাজ: আজ থেকে প্রতিদিন কুরআনের অন্তত একটি আয়াত অর্থসহ মুখস্থ করার নিয়ত করুন।

সহিহ বুখারী ১৩৪৩ সহিহ

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন

তীরন্দাজরা ভেবেছিলেন, যুদ্ধ তো শেষ, এখন নির্দেশ মানার দরকার কী। আপনার জীবনে কোন জায়গায় "এখন তো ঠিক আছে" ভেবে আল্লাহর একটা নির্দেশ ঢিলে হয়ে গেছে?

সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
  • কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
  • সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
  • ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
  • মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
  • দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।

সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।

deenpedia.com · https://deenpedia.com/sirat/uhud/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার