deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ

মৃত্যু, জানাজা ও দাফন: সুন্নাহ পদ্ধতি

ধাপ ১২/১৪বিদায়ের সময়বিপদ, বার্ধক্য ও বিদায়

প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। এই ধাপটা কঠিন, কিন্তু জানা জরুরি; কারণ একদিন আমরা কারো শিয়রে দাঁড়াব, আর একদিন অন্যরা আমাদের শিয়রে দাঁড়াবে। নবী (ﷺ) মৃত্যুর মুহূর্ত থেকে কবর পর্যন্ত প্রতিটি কাজ সহজ ও সুন্দর করে শিখিয়েছেন।

৫টি অধ্যায়
২টি আয়াত
১৪টি সহিহ হাদিস
৫টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

আবু সালামার শিয়রে নবীজি

আবু সালামা (রা.) ছিলেন নবীজির দুধভাই আর প্রথম দিকের মুসলিমদের একজন। উহুদের যুদ্ধের আঘাত থেকে তিনি আর সেরে উঠলেন না। যখন তাঁর মৃত্যু হলো, নবী (ﷺ) তাঁর কাছে এলেন। দেখলেন, তাঁর চোখ খোলা রয়ে গেছে।

নবীজি নিজ হাতে চোখ দুটো বন্ধ করে দিলেন, আর বললেন, রূহ যখন কবজ করা হয়, চোখ তার পিছু নেয়। এতে ঘরের কিছু লোক চিৎকার করে কেঁদে উঠল। নবীজি শান্তভাবে বললেন, নিজেদের জন্য ভালো ছাড়া কোনো দোয়া কোরো না, কারণ তোমরা যা বলো, ফেরেশতারা তাতে আমীন বলেন।

তারপর তিনি আবু সালামার জন্য দোয়া করলেন: হে আল্লাহ, আবু সালামাকে মাফ করুন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর মর্যাদা উঁচু করুন, তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারের অভিভাবক আপনি হোন, তাঁর কবর প্রশস্ত করুন আর সেখানে আলো দিন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু সালামা (রা.)-এর কাছে এলেন; তখন তাঁর চোখ খোলা রয়ে গিয়েছিল। তিনি চোখ বন্ধ করে দিলেন, তারপর বললেন: রূহ যখন কবজ করা হয়, চোখ তার পিছু নেয়। এতে পরিবারের কিছু লোক চিৎকার করে উঠল। তিনি বললেন: নিজেদের জন্য ভালো ছাড়া কোনো দোয়া কোরো না, কারণ তোমরা যা বলো ফেরেশতারা তাতে আমীন বলেন। তারপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আবু সালামাকে মাফ করুন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর মর্যাদা উঁচু করুন, তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারে আপনি তাঁর অভিভাবক হোন, হে সৃষ্টিজগতের রব, আমাদের ও তাঁকে মাফ করুন, তাঁর কবর প্রশস্ত করুন এবং সেখানে তাঁর জন্য আলো দিন।

সহিহ মুসলিম ৯২০সহিহবর্ণনাকারী: উম্মু সালামা (রা.)

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? মৃত্যুর ঘরে প্রথম কাজ চিৎকার নয়, মৃতের প্রতি যত্ন আর তার জন্য দোয়া। আর পরিবারের জন্যও দোয়া, কারণ তারাই এখন সবচেয়ে অসহায়। এই দোয়ার পর আল্লাহ আবু সালামার স্ত্রী উম্মু সালামা (রা.)-কে উত্তম বদলা দিয়েছিলেন (সহিহ মুসলিম ৯১৮)।

এই ধাপে ৫টি অধ্যায়
১
শেষ মুহূর্ত

শেষ কথা হোক "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"

মৃত্যুর সময় যন্ত্রণা সত্যিই আসবে, কুরআন তা বলেছে।

নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মুমূর্ষুদের "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" মনে করিয়ে দাও। আর যার শেষ কথা হবে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ", সে জান্নাতে যাবে।

যার শেষ কথা হবে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ", সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

সুনানে আবু দাউদ ৩১১৬ সহিহ বর্ণনা: মুআয ইবনু জাবাল (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ۖ ذَٰلِكَ مَا كُنتَ مِنْهُ تَحِيدُ

আর মৃত্যুযন্ত্রণা নিয়ে এসেছে (সে) সত্যই; এটা (তা-ই) যা থেকে তুমি পালাতে চাচ্ছিলে।

لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

তোমাদের মৃত্যুপথযাত্রীদের "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" মনে করিয়ে দাও।

সহিহ মুসলিম ৯১৬সহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)
আপনার জীবনেমুমূর্ষুর পাশে নরম স্বরে কালিমা পড়ুন, তাকে জোর করে বলাতে চাপ দেবেন না। একবার বললে বারবার পুনরাবৃত্তি করাবেন না; শেষ কথা যেন কালিমাই থাকে।
২
মৃত্যুর পর

চোখ বন্ধ করা, দোয়া, আর দেরি না করা

মৃত্যুর পর চোখ বন্ধ করে দেওয়া আর মৃত ও তার পরিবারের জন্য দোয়া করা সুন্নাহ, যেমন উপরের ঘটনায় দেখলেন। তারপর যত দ্রুত সম্ভব দাফনের ব্যবস্থা।

নবী (ﷺ) বলেছেন, জানাজা নিয়ে দ্রুত চলো। মৃত নেককার হলে তাকে কল্যাণের দিকে এগিয়ে দিচ্ছ, আর অন্যরকম হলে একটা বোঝা কাঁধ থেকে নামাচ্ছ।

জানাজা নিয়ে দ্রুত চলো। মৃত ব্যক্তি নেককার হলে তোমরা তাকে কল্যাণের দিকে এগিয়ে দিচ্ছ; আর অন্যরকম হলে একটা মন্দ জিনিস তোমাদের কাঁধ থেকে নামিয়ে দিচ্ছ।

সহিহ বুখারী ১৩১৫ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেদূরের আত্মীয়দের জন্য দিনের পর দিন লাশ ফ্রিজে রাখবেন না। খবর দিন, যারা আসতে পারে আসবে; বাকিরা গায়েবানা দোয়া করতে পারে।
৩
গোসল ও কাফন

ডান দিক থেকে গোসল, সাদা কাপড়ে কাফন

নবীজির মেয়ের গোসলের সময় তিনি নারীদের বলেছিলেন, ডান দিক থেকে আর অজুর অঙ্গগুলো থেকে শুরু করো।

তিনি সাদা কাপড়ে কাফন দিতে বলেছেন। আর তাঁকে নিজেকে কাফন দেওয়া হয়েছিল তিনটি সাদা সুতি কাপড়ে, তাতে জামা বা পাগড়ি ছিল না।

(নবীজির মেয়ের গোসলের সময় তিনি গোসলদানকারী নারীদের বললেন:) তার ডান দিক থেকে এবং অজুর অঙ্গগুলো থেকে শুরু করো।

সহিহ বুখারী ১২৫৫ সহিহ বর্ণনা: উম্মু আতিয়্যা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ

তোমরা সাদা কাপড় পরো, কারণ এটা তোমাদের সবচেয়ে ভালো কাপড়; আর এতেই তোমাদের মৃতদের কাফন দাও।

সুনানে আবু দাউদ ৩৮৭৮সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)

كُفِّنَ فِي ثَلاَثَةِ أَثْوَابٍ يَمَانِيَةٍ بِيضٍ سَحُولِيَّةٍ مِنْ كُرْسُفٍ، لَيْسَ فِيهِنَّ قَمِيصٌ وَلاَ عِمَامَةٌ‏

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ইয়েমেনের তৈরি তিনটি সাদা সুতি কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল; তাতে জামা বা পাগড়ি ছিল না।

সহিহ বুখারী ১২৬৪সহিহবর্ণনাকারী: আয়েশা (রা.)
আপনার জীবনেপরিবারের অন্তত একজন পুরুষ ও একজন নারী গোসল-কাফনের নিয়ম শিখে রাখুন। কাফন হোক সাধারণ সাদা কাপড়, দামি বা রঙিন কাপড়ের দরকার নেই।
৪
জানাজার নামাজ

চার তাকবীর, ফাতিহা আর হৃদয় দিয়ে দোয়া

জানাজার নামাজে চার তাকবীর। নাজাশীর মৃত্যুর খবর পেয়ে নবীজি ঈদগাহে সাহাবিদের কাতারবন্দি করে চার তাকবীরে জানাজা পড়েছিলেন। ইবনু আব্বাস (রা.) জানাজায় সূরা আল-ফাতিহা পড়ে বলেছিলেন, যাতে মানুষ জানে এটা সুন্নাত।

তৃতীয় তাকবীরের পর মৃতের জন্য দোয়া। নবীজির একটি দোয়া এতটাই সুন্দর যে সাহাবি আউফ (রা.) বলেছিলেন, শুনে আমার মনে হলো, এই মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম!

জানাজায় শরিক হলে এক কীরাত সওয়াব, দাফন পর্যন্ত থাকলে দুই কীরাত, আর প্রতিটি কীরাত বড় পাহাড়ের সমান।

ঈদ ও জানাজার নামাজ ধাপে ধাপে ›

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি জানাজার নামাজ পড়লেন; আমি তাঁর দোয়া মুখস্থ করে নিলাম। তিনি বলছিলেন: "হে আল্লাহ, তাকে মাফ করুন, তার উপর রহম করুন, তাকে নিরাপত্তা দিন, তাকে ক্ষমা করুন, তার মেহমানদারি সম্মানজনক করুন, তার প্রবেশস্থল প্রশস্ত করুন, তাকে পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে ধুয়ে দিন, তাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়, তাকে তার ঘরের চেয়ে ভালো ঘর, পরিবারের চেয়ে ভালো পরিবার আর সঙ্গীর চেয়ে ভালো সঙ্গী দিন, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, আর তাকে কবরের আযাব (বা জাহান্নামের আযাব) থেকে রক্ষা করুন।"

সহিহ মুসলিম ৯৬৩ সহিহ বর্ণনা: আউফ ইবনু মালিক (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৩টি দলিল

نَعَى النَّجَاشِيَّ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، خَرَجَ إِلَى الْمُصَلَّى، فَصَفَّ بِهِمْ وَكَبَّرَ أَرْبَعًا‏

নাজাশী যেদিন মারা গেলেন, সেদিনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মৃত্যুসংবাদ দিলেন, ঈদগাহে গেলেন, সাহাবিদের কাতারবন্দি করলেন এবং চার তাকবীর দিয়ে (জানাজার নামাজ) পড়লেন।

সহিহ বুখারী ১২৪৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

عَلَى جَنَازَةٍ فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ قَالَ لِيَعْلَمُوا أَنَّهَا سُنَّةٌ‏

আমি ইবনু আব্বাস (রা.)-এর পেছনে জানাজার নামাজ পড়লাম। তিনি সূরা আল-ফাতিহা পড়লেন, আর বললেন: (আমি এটা পড়লাম) যাতে লোকেরা জানে, এটা সুন্নাত।

সহিহ বুখারী ১৩৩৫সহিহবর্ণনাকারী: তালহা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আউফ (রহ.)

مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلِّيَ عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ، وَمَنْ شَهِدَ حَتَّى تُدْفَنَ كَانَ لَهُ قِيرَاطَانِ ‏"‏‏.‏ قِيلَ وَمَا الْقِيرَاطَانِ قَالَ ‏"‏ مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ

যে ব্যক্তি জানাজায় উপস্থিত থেকে নামাজ পড়ে, তার জন্য এক কীরাত (সওয়াব); আর যে দাফন পর্যন্ত থাকে, তার জন্য দুই কীরাত। জিজ্ঞেস করা হলো: দুই কীরাত কী? তিনি বললেন: দুটি বিশাল পাহাড়ের সমান।

সহিহ বুখারী ১৩২৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেজানাজার দোয়াটা অর্থসহ শিখুন, যাতে মুখস্থ বুলি নয়, মৃত ভাইয়ের জন্য মন থেকে চাইতে পারেন। সুযোগ হলে জানাজার পর দাফন পর্যন্ত থাকুন।
৫
দাফন

কবরে রাখা আর দাফনের পর

মৃতকে কবরে রাখার সময় নবীজি বলতেন, "বিসমিল্লাহি ওয়া আলা সুন্নাতি রাসূলিল্লাহ"।

দাফন শেষে তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও আর দৃঢ়তা চাও, কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।

কবর পাকা করা, তার উপর বসা বা স্থাপনা বানানো তিনি নিষেধ করেছেন।

নবী (ﷺ) মৃতের দাফন শেষ করে কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন: তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও, আর তার জন্য দৃঢ়তা (সঠিক উত্তর দেওয়ার শক্তি) চাও; কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।

সুনানে আবু দাউদ ৩২২১ সহিহ বর্ণনা: উসমান ইবনু আফফান (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

كَانَ إِذَا وَضَعَ الْمَيِّتَ فِي الْقَبْرِ قَالَ ‏ "‏ بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ

নবী (ﷺ) মৃতকে কবরে রাখার সময় বলতেন: "বিসমিল্লাহি ওয়া আলা সুন্নাতি রাসূলিল্লাহ" (আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী)।

সুনানে আবু দাউদ ৩২১৩সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)

نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কবর চুনকাম (পাকা) করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।

সহিহ মুসলিম ৯৭০সহিহবর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)
আপনার জীবনেদাফনের পর প্রত্যেকে নিজে নিজে মৃতের জন্য ক্ষমা আর প্রশ্নের উত্তরে দৃঢ়তা চান: "আল্লাহুম্মাগফির লাহু, আল্লাহুম্মা সাব্বিতহু"।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই ধাপের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

মৃত্যুর পর দোয়া (আবু সালামার জন্য)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু সালামা (রা.)-এর কাছে এলেন; তখন তাঁর চোখ খোলা রয়ে গিয়েছিল। তিনি চোখ বন্ধ করে দিলেন, তারপর বললেন: রূহ যখন কবজ করা হয়, চোখ তার পিছু নেয়। এতে পরিবারের কিছু লোক চিৎকার করে উঠল। তিনি বললেন: নিজেদের জন্য ভালো ছাড়া কোনো দোয়া কোরো না, কারণ তোমরা যা বলো ফেরেশতারা তাতে আমীন বলেন। তারপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আবু সালামাকে মাফ করুন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর মর্যাদা উঁচু করুন, তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারে আপনি তাঁর অভিভাবক হোন, হে সৃষ্টিজগতের রব, আমাদের ও তাঁকে মাফ করুন, তাঁর কবর প্রশস্ত করুন এবং সেখানে তাঁর জন্য আলো দিন।

সহিহ মুসলিম ৯২০ সহিহ

জানাজার নামাজের দোয়া

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি জানাজার নামাজ পড়লেন; আমি তাঁর দোয়া মুখস্থ করে নিলাম। তিনি বলছিলেন: "হে আল্লাহ, তাকে মাফ করুন, তার উপর রহম করুন, তাকে নিরাপত্তা দিন, তাকে ক্ষমা করুন, তার মেহমানদারি সম্মানজনক করুন, তার প্রবেশস্থল প্রশস্ত করুন, তাকে পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে ধুয়ে দিন, তাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়, তাকে তার ঘরের চেয়ে ভালো ঘর, পরিবারের চেয়ে ভালো পরিবার আর সঙ্গীর চেয়ে ভালো সঙ্গী দিন, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, আর তাকে কবরের আযাব (বা জাহান্নামের আযাব) থেকে রক্ষা করুন।"

সহিহ মুসলিম ৯৬৩ সহিহ

কবরে রাখার সময়

كَانَ إِذَا وَضَعَ الْمَيِّتَ فِي الْقَبْرِ قَالَ ‏ "‏ بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ

নবী (ﷺ) মৃতকে কবরে রাখার সময় বলতেন: "বিসমিল্লাহি ওয়া আলা সুন্নাতি রাসূলিল্লাহ" (আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী)।

সুনানে আবু দাউদ ৩২১৩ সহিহ

দাফনের পর দৃঢ়তার দোয়া

كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ ‏ "‏ اسْتَغْفِرُوا لأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ فَإِنَّهُ الآنَ يُسْأَلُ

নবী (ﷺ) মৃতের দাফন শেষ করে কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন: তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও, আর তার জন্য দৃঢ়তা (সঠিক উত্তর দেওয়ার শক্তি) চাও; কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।

সুনানে আবু দাউদ ৩২২১ সহিহ

বিপদের দোয়া

الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ﴿١٥٦﴾

যারা তাদের উপর বিপদ আসলে বলে, ‘আমরা তো আল্লাহ্‌রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী’।

সূরা আল-বাকারা ২:১৫৬

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

সুন্নাহর আলোয় জীবন: সব ধাপ

deenpedia.com · https://deenpedia.com/jibon/mrittu-janaza/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার