আবু সালামার শিয়রে নবীজি
আবু সালামা (রা.) ছিলেন নবীজির দুধভাই আর প্রথম দিকের মুসলিমদের একজন। উহুদের যুদ্ধের আঘাত থেকে তিনি আর সেরে উঠলেন না। যখন তাঁর মৃত্যু হলো, নবী (ﷺ) তাঁর কাছে এলেন। দেখলেন, তাঁর চোখ খোলা রয়ে গেছে।
নবীজি নিজ হাতে চোখ দুটো বন্ধ করে দিলেন, আর বললেন, রূহ যখন কবজ করা হয়, চোখ তার পিছু নেয়। এতে ঘরের কিছু লোক চিৎকার করে কেঁদে উঠল। নবীজি শান্তভাবে বললেন, নিজেদের জন্য ভালো ছাড়া কোনো দোয়া কোরো না, কারণ তোমরা যা বলো, ফেরেশতারা তাতে আমীন বলেন।
তারপর তিনি আবু সালামার জন্য দোয়া করলেন: হে আল্লাহ, আবু সালামাকে মাফ করুন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর মর্যাদা উঁচু করুন, তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারের অভিভাবক আপনি হোন, তাঁর কবর প্রশস্ত করুন আর সেখানে আলো দিন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু সালামা (রা.)-এর কাছে এলেন; তখন তাঁর চোখ খোলা রয়ে গিয়েছিল। তিনি চোখ বন্ধ করে দিলেন, তারপর বললেন: রূহ যখন কবজ করা হয়, চোখ তার পিছু নেয়। এতে পরিবারের কিছু লোক চিৎকার করে উঠল। তিনি বললেন: নিজেদের জন্য ভালো ছাড়া কোনো দোয়া কোরো না, কারণ তোমরা যা বলো ফেরেশতারা তাতে আমীন বলেন। তারপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আবু সালামাকে মাফ করুন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর মর্যাদা উঁচু করুন, তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারে আপনি তাঁর অভিভাবক হোন, হে সৃষ্টিজগতের রব, আমাদের ও তাঁকে মাফ করুন, তাঁর কবর প্রশস্ত করুন এবং সেখানে তাঁর জন্য আলো দিন।
এই গল্প আমাদের কী শেখায়? মৃত্যুর ঘরে প্রথম কাজ চিৎকার নয়, মৃতের প্রতি যত্ন আর তার জন্য দোয়া। আর পরিবারের জন্যও দোয়া, কারণ তারাই এখন সবচেয়ে অসহায়। এই দোয়ার পর আল্লাহ আবু সালামার স্ত্রী উম্মু সালামা (রা.)-কে উত্তম বদলা দিয়েছিলেন (সহিহ মুসলিম ৯১৮)।