deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ ثُمَّ يَتَوَفَّاكُمْ

বার্ধক্য: শেষ অধ্যায়ের প্রস্তুতি

ধাপ ১১/১৪বার্ধক্যবিপদ, বার্ধক্য ও বিদায়

চুল পাকা মানে জীবন শেষ নয়, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অধ্যায়ের শুরু। এই সময় অভিজ্ঞতা আছে, অবসর আছে, আর আছে শেষটা সুন্দর করার শেষ সুযোগ। নবী (ﷺ) বলেছেন, সবচেয়ে ভালো মানুষ সে, যার আয়ু দীর্ঘ আর আমল সুন্দর।

৫টি অধ্যায়
৭টি আয়াত
৮টি সহিহ হাদিস
৩টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস: "সব সম্পদ দান করে দেব?"

বিদায় হজের সময় মক্কায় সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা.) এত অসুস্থ হলেন যে মনে হলো আর বাঁচবেন না। নবী (ﷺ) তাঁকে দেখতে এলেন। সা'দ ধনী মানুষ ছিলেন। মৃত্যুর চিন্তায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আমার সব সম্পদ আল্লাহর পথে ওসিয়ত করে দেব?

নবীজি বললেন, না। সা'দ বললেন, তাহলে অর্ধেক? না। তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? নবীজি বললেন, এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। তারপর বললেন এমন একটি কথা, যা প্রতিটি বাবা-মায়ের মনে রাখার মতো: তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল রেখে যাওয়া তাদের এমন অভাবী রেখে যাওয়ার চেয়ে ভালো, যাতে তারা মানুষের কাছে হাত পাতে।

(মক্কায় আমি অসুস্থ হলে নবীজি দেখতে এলেন।) আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আমার সব সম্পদ ওসিয়ত করে দেব? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: অর্ধেক? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল রেখে যাওয়া তাদের এমন অভাবী রেখে যাওয়ার চেয়ে ভালো, যাতে তারা মানুষের কাছে হাত পাতে।

সহিহ বুখারী ২৭৪২সহিহবর্ণনাকারী: সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা.)

আল্লাহর ইচ্ছায় সা'দ (রা.) সেই অসুখ থেকে সেরে উঠেছিলেন এবং এরপর আরও বহু বছর বেঁচে ছিলেন।

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? শেষ বয়সের প্রস্তুতি মানে আবেগে সব বিলিয়ে দেওয়া নয়, আবার সব আঁকড়ে ধরাও নয়। ইসলাম ভারসাম্য শেখায়: পরিবারের হক রক্ষা করো, সীমার ভেতরে দান করো, আর সব কিছু লিখে স্পষ্ট করে যাও।

এই ধাপে ৫টি অধ্যায়
১
জীবনের চক্র

দুর্বলতা থেকে শক্তি, আবার দুর্বলতা

আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন দুর্বল অবস্থায়, তারপর দিয়েছেন শক্তি, তারপর আবার দুর্বলতা আর পাকা চুল। কাউকে কাউকে এমন বয়সে নেওয়া হয়, যখন অনেক কিছু জেনেও আর কিছু মনে থাকে না।

কুরআন চল্লিশ বছর বয়সকে একটা মোড় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই বয়সে মুমিন দোয়া করে: হে রব, আমাকে আপনার নিয়ামতের শোকর করার তাওফীক দিন, আমার সন্তানদের নেক বানান, আমি আপনার দিকে ফিরে এলাম।

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا ۖ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا ۖ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا ۚ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ

আর আমরা মানুষকে তার মাতা -পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করে কষ্টের সাথে, তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লাগে ত্ৰিশ মাস, অবশেষে যখন সে পূর্ণ শক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে ‘হে আমার রব ! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন, যাতে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন, তার জন্য এবং যাতে আমি এমন সৎকাজ করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আমার জন্য আমার সন্তান–সন্ততিদেরকে সংশোধন করে দিন, নিশ্চয় আমি আপনারই অভিমুখী হলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।

সূরা আল-আহকাফ ৪৬:১৫
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۖ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْقَدِيرُ

আল্লাহ্ তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেন দুর্বলতা থেকে, দুর্বলতার পর তিনি দেন শক্তি; শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছে সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বক্ষম।

وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ ثُمَّ يَتَوَفَّاكُمْ ۚ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْ لَا يَعْلَمَ بَعْدَ عِلْمٍ شَيْئًا ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ قَدِيرٌ

আর আল্লাহ্‌ই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে নিকৃষ্টতম বয়সে; যাতে জ্ঞান লাভের পরেও তার সবকিছু অজানা হয়ে যায়। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, পূর্ণ ক্ষমতাবান।

আপনার জীবনেবয়স চল্লিশ পার হলে এই দোয়াটা প্রতিদিনের অভ্যাস করুন। আর বয়স যা-ই হোক, কুরআন জিজ্ঞেস করে: আমি কি তোমাদের এতটা আয়ু দিইনি, যাতে উপদেশ নেওয়ার মানুষ উপদেশ নিতে পারে? (সূরা ফাতির ৩৫:৩৭)
২
দীর্ঘ জীবনের মূল্য

বাড়তি প্রতিটি দিন একটি সুযোগ

এক বেদুইন জিজ্ঞেস করল, সবচেয়ে ভালো মানুষ কে? নবীজি বললেন, যার আয়ু দীর্ঘ আর আমল সুন্দর।

ইবনু উমার (রা.)-এর কাঁধ ধরে নবীজি বলেছিলেন, দুনিয়াতে থাকো একজন অপরিচিত মানুষ বা পথচারীর মতো। আর বলেছেন, স্বাদ ধ্বংসকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো।

এক বেদুইন জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল, সবচেয়ে ভালো মানুষ কে? তিনি বললেন: যার আয়ু দীর্ঘ আর আমল সুন্দর।

জামে আত-তিরমিযী ২৩২৯ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাঁধ ধরে বললেন: দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো, যেন তুমি একজন অপরিচিত মানুষ বা পথচারী। আর ইবনু উমার (রা.) বলতেন: সন্ধ্যা হলে সকালের অপেক্ষা কোরো না, সকাল হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা কোরো না। অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতাকে কাজে লাগাও, আর মৃত্যুর আগে জীবনকে।

সহিহ বুখারী ৬৪১৬সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)

أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي الْمَوْتَ

স্বাদ ধ্বংসকারী জিনিসকে, অর্থাৎ মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো।

জামে আত-তিরমিযী ২৩০৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেঅবসরের পর দিনগুলো খালি না রেখে একটা রুটিন বানান: মসজিদে জামাতে নামাজ, প্রতিদিন কিছু কুরআন, নাতি-নাতনিদের দীন শেখানো, আর অভিজ্ঞতা দিয়ে সমাজের সেবা।
৩
ওসিয়ত

দুই রাতও ওসিয়ত না লিখে নয়

নবী (ﷺ) বলেছেন, যে মুসলিমের কাছে ওসিয়ত করার মতো কিছু আছে, তার উচিত নয় ওসিয়ত লিখে না রেখে দুই রাতও কাটানো।

তবে ওসিয়ত হবে সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত, যেমন সা'দ (রা.)-এর ঘটনায় দেখলেন। আর যারা মীরাসের অংশ পাবে, তাদের জন্য আলাদা ওসিয়ত নেই, কারণ আল্লাহ নিজেই প্রত্যেকের অংশ ঠিক করে দিয়েছেন।

যে মুসলিমের কাছে ওসিয়ত করার মতো কিছু আছে, তার জন্য উচিত নয় যে ওসিয়ত লিখে না রেখে দুই রাতও কাটায়।

সহিহ বুখারী ২৭৩৮ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ فَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ

আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক (মীরাসের অংশ) দিয়ে দিয়েছেন; তাই উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো ওসিয়ত নেই।

সুনানে আবু দাউদ ২৮৭০সহিহবর্ণনাকারী: আবু উমামা আল-বাহিলী (রা.)

يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ ۚ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ۚ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ ۚ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ۚ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান; কিন্তু শুধু কন্যা দুইয়ের বেশি থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ভাগ, আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধেক। তার সন্তান থাকলে তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ; সে নিঃসন্তান হলে এবং পিতা-মাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য তিন ভাগের এক ভাগ; তার ভাই-বোন থাকলে মাতার জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ; এ সবই সে যা ওসিয়ত করে তা দেয়ার এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও সন্তানদের মধ্যে উপকারে কে তোমাদের নিকটতর তা তোমরা জান না। এ বিধান আল্লাহর; নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

আপনার জীবনেআজই একটা কাগজে লিখুন: কার কাছে কত পাওনা, কাকে কত দেনা, কোথায় কী সম্পদ আছে, আর এক-তৃতীয়াংশের ভেতরে কোনো দান করতে চাইলে তা কী। দুজন সাক্ষী রাখুন আর পরিবারকে জানিয়ে রাখুন।
৪
ঋণ ও হক

শহীদেরও ঋণ মাফ হয় না

নবী (ﷺ) বলেছেন, শহীদের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়, শুধু ঋণ ছাড়া। অর্থাৎ মানুষের হক আল্লাহ নিজে মাফ করেন না, পাওনাদার মাফ না করলে বা শোধ না হলে তা থেকে যায়।

আল্লাহ সতর্ক করেছেন, মৃত্যু আসার আগেই খরচ করো, নইলে তখন মানুষ বলবে, হে রব, আমাকে আর অল্প কিছু সময় দিলে আমি দান করতাম, নেক মানুষ হতাম।

শহীদের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়, শুধু ঋণ ছাড়া।

সহিহ মুসলিম ১৮৮৬ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

وَأَنفِقُوا مِن مَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَىٰ أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ الصَّالِحِينَ

আর আমরা তোমাদেরকে যে রিফিক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে। তোমাদের কারও মৃত্যু আসার আগে। (অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে) 'হে আমার রব! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সাদাকাহ দিতাম ও সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!’

আপনার জীবনেকারো কাছে ঋণ থাকলে শোধ করুন, না পারলে লিখে রাখুন আর ওয়ারিসদের দায়িত্ব দিন। কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে জীবিত থাকতেই ক্ষমা চেয়ে নিন।
৫
আশা নিয়ে বিদায়

আল্লাহর প্রতি সুধারণা নিয়ে মরো

নবী (ﷺ) তাঁর মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগে বলেছিলেন, তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ না করে মৃত্যুবরণ না করে।

বার্ধক্যের ভয়, মৃত্যুর ভয় স্বাভাবিক। কিন্তু মুমিন জানে, সে ফিরে যাচ্ছে সেই রবের কাছে, যিনি মায়ের চেয়েও বেশি দয়ালু। যে মৃত্যু থেকে মানুষ পালায়, তা আসবেই (সূরা আল-জুমুআ ৬২:৮); তাই ভয় নয়, প্রস্তুতি।

(নবী (ﷺ)-কে তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগে বলতে শুনেছি:) তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা অবস্থা ছাড়া মৃত্যুবরণ না করে।

সহিহ মুসলিম ২৮৭৭ সহিহ বর্ণনা: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)
আপনার জীবনেপ্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: আজ রাতে চলে গেলে আমি প্রস্তুত কি? যা বাকি, কাল তা দিয়ে শুরু করুন; আর আল্লাহর দয়ার উপর আশা রাখুন।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই ধাপের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

চল্লিশ বছর বয়সের দোয়া

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا ۖ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا ۖ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا ۚ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿١٥﴾

আর আমরা মানুষকে তার মাতা -পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করে কষ্টের সাথে, তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লাগে ত্ৰিশ মাস, অবশেষে যখন সে পূর্ণ শক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে ‘হে আমার রব ! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন, যাতে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন, তার জন্য এবং যাতে আমি এমন সৎকাজ করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আমার জন্য আমার সন্তান–সন্ততিদেরকে সংশোধন করে দিন, নিশ্চয় আমি আপনারই অভিমুখী হলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।

সূরা আল-আহকাফ ৪৬:১৫
মা-বাবার জন্য দোয়া

وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ﴿٢٤﴾

আর মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত কর এবং বল, ‘হে আমার রব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’

সূরা আল-ইসরা ১৭:২৪
নিজের, মা-বাবা ও মুমিনদের ক্ষমার দোয়া

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ ﴿٤١﴾

‘হে আমার রব! যেদিন হিসেব অনুষ্ঠিত হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন।’

সূরা ইবরাহীম ১৪:৪১

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

সুন্নাহর আলোয় জীবন: সব ধাপ

deenpedia.com · https://deenpedia.com/jibon/bardhokko/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার