আসমা (রা.)-এর মুশরিক মা দরজায়
আবু বকর (রা.)-এর মেয়ে আসমা (রা.) তখন মদিনায়। একদিন তাঁর মা এলেন দেখা করতে, যিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। মেয়ের কাছে কিছু পাওয়ার আশাও নিয়ে এসেছেন। আসমা দ্বিধায় পড়লেন: যে মা শিরকের উপর আছেন, তাঁর সাথে কি সদাচরণ করা যাবে?
তিনি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তর এল এক শব্দে: হ্যাঁ, তোমার মায়ের সাথে সম্পর্ক রাখো।
قَدِمَتْ عَلَىَّ أُمِّي وَهْىَ مُشْرِكَةٌ، فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَاسْتَفْتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ {إِنَّ أُمِّي قَدِمَتْ} وَهْىَ رَاغِبَةٌ، أَفَأَصِلُ أُمِّي قَالَ " نَعَمْ صِلِي أُمَّكِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আমার মা আমার কাছে এলেন; তখনও তিনি মুশরিক, আর আমার কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা করছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম: আমি কি মায়ের সাথে সম্পর্ক রাখব (তাকে কিছু দেব)? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তোমার মায়ের সাথে সম্পর্ক রাখো।
কুরআনও একই কথা বলেছে: মা-বাবা যদি শিরক করতে চাপ দেন, সেটা মানবে না; কিন্তু দুনিয়াতে তাঁদের সাথে সুন্দরভাবে থাকবে।
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ۖ وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ۚ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আর তোমার পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে শির্ক করার জন্য পীড়াপীড়ি করে, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের কথা মেনো না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে আর যে আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অনুসরণ কর। তারপর তোমাদের ফিরে আসা আমারই কাছে, তখন তোমরা যা করতে সে বিষয়ে আমি তোমাদেরকে অবিহিত করব।
এই গল্প আমাদের কী শেখায়? মা-বাবার প্রতি সদাচরণ তাঁদের দীনদারির শর্তে নয়। তাঁরা নামাজি না হলেও, আমাদের সাথে মতের মিল না থাকলেও, তাঁদের সম্মান, সেবা আর নরম কথা তাঁদের হক। শুধু আল্লাহর অবাধ্যতায় আনুগত্য নেই।