deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا

হালাল উপার্জন ও হালাল বিনোদন

ধাপ ৭/১৪উপার্জনের বয়সকর্মজীবন ও সমাজ

হালাল রুজি শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়; এর উপর দোয়া কবুল হওয়া নির্ভর করে। আবার ইসলাম মানুষকে যন্ত্র বানায়নি; আনন্দ, খেলা, হাসি সবকিছুর জায়গা আছে, শুধু সীমার ভেতরে। এই ধাপে উপার্জন আর বিনোদন, দুটোকেই কুরআন-সুন্নাহর আলোয় দেখব।

৭টি অধ্যায়
১৪টি আয়াত
১৬টি হাদিস (সহিহ/হাসান)
২টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

আবদুর রহমান ইবনু আউফ: "আমাকে বাজারটা দেখিয়ে দিন"

মক্কা থেকে হিজরত করে আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রা.) যখন মদিনায় পৌঁছলেন, তাঁর হাত প্রায় খালি। ঘরবাড়ি, ব্যবসা সব মক্কায় ফেলে এসেছেন। নবী (ﷺ) তাঁকে এক আনসারী সাহাবির ভাই বানিয়ে দিলেন। সেই আনসারী ভাই আন্তরিকভাবে নিজের সম্পদের অর্ধেক তাঁকে দিতে চাইলেন।

আবদুর রহমান (রা.) কৃতজ্ঞতার সাথে দোয়া করলেন, কিন্তু সম্পদ নিলেন না। শুধু বললেন, আমাকে বাজারটা দেখিয়ে দিন। তিনি বাজারে গেলেন, অল্প পুঁজিতে ঘি আর পনিরের মতো জিনিস কেনাবেচা শুরু করলেন। কিছুদিনের মধ্যেই এতটা উপার্জন হলো যে তিনি বিয়ে করলেন, আর নবী (ﷺ) তাঁকে ওলিমা করতে বললেন।

سَأَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ وَتَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ ‏"‏ كَمْ أَصْدَقْتَهَا ‏"‏‏.‏ قَالَ وَزْنَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ‏ … فَتَزَوَّجَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ

আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রা.) এক আনসারী নারীকে বিয়ে করলেন। নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন: তাকে কত মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন: খেজুরের একটি আঁটির সমান ওজনের সোনা। (মদিনায় এসে তিনি বাজারে ব্যবসা করে নিজে উপার্জন করেছিলেন, তারপর বিয়ে করেন।) নবী (ﷺ) বললেন: ওলিমা করো, একটি ছাগল দিয়ে হলেও।

সহিহ বুখারী ৫১৬৭সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

এই মানুষটি পরে মদিনার সবচেয়ে ধনী সাহাবিদের একজন হয়েছিলেন, আর আল্লাহর পথে দুহাতে খরচ করেছেন। কিন্তু শুরুটা ছিল একটাই সিদ্ধান্তে: অন্যের দয়ায় নয়, নিজের হাতের হালাল পরিশ্রমে চলব।

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? হালাল উপার্জন ছোট থেকে শুরু হলেও তাতে বরকত থাকে। নবী (ﷺ) বলেছেন, নিজ হাতের উপার্জনের চেয়ে ভালো খাবার কেউ খায়নি, আর দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন (সহিহ বুখারী ২০৭২)।

এই ধাপে ৭টি অধ্যায়
১
উপার্জনের মর্যাদা

জীবিকা খোঁজাও ইবাদত

ইসলামে কাজ করা লজ্জার নয়, হাত পাতা লজ্জার। আল্লাহ জুমার নামাজের পরই বলেছেন, এখন জমিনে ছড়িয়ে পড়ো আর আল্লাহর অনুগ্রহ (রিযিক) খোঁজো।

নবী (ﷺ) বলেছেন, কেউ রশি নিয়ে লাকড়ির বোঝা পিঠে করে এনে বিক্রি করুক, এটা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে অনেক ভালো।

তোমাদের কেউ রশি নিয়ে লাকড়ির বোঝা পিঠে করে এনে বিক্রি করবে, আর এভাবে আল্লাহ তার সম্মান রক্ষা করবেন; এটা তার জন্য মানুষের কাছে চাওয়ার চেয়ে অনেক ভালো, তারা দিক বা না দিক।

সহিহ বুখারী ১৪৭১ সহিহ বর্ণনা: যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অতঃপর সালাত শেষ হলে তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অমুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লহকে খুব বেশী স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও ।

هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِن رِّزْقِهِ ۖ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন; অতএব তোমরা এর দিক-দিগন্তে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক থেকে তোমরা আহার কর; আর পুনরুত্থান তো তাঁরই কাছে।

আপনার জীবনেকোনো হালাল কাজকে ছোট ভাববেন না। রিকশা চালানো, দোকানদারি, অফিসের চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং, সবই সম্মানের, যদি তা হালাল হয়। কাজে যাওয়ার সময় নিয়ত করুন: পরিবারের হক আদায় আর হাত না পাতা।
২
হারামের প্রভাব

হারাম খেলে দোয়া আটকে যায়

নবী (ﷺ) এক মুসাফিরের কথা বলেছেন: দীর্ঘ সফরে চুল এলোমেলো, গায়ে ধুলা, আকাশের দিকে হাত তুলে "হে রব, হে রব" বলে দোয়া করছে। কিন্তু তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম। তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?

অর্থাৎ হারাম উপার্জন শুধু একটা গুনাহ নয়; এটা মানুষ আর আল্লাহর মাঝে দেয়াল তৈরি করে। আল্লাহ বলেছেন, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, পারস্পরিক সম্মতির ব্যবসা ছাড়া।

হে লোকসকল, আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না। আল্লাহ মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন, যা রাসূলদের দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "হে রাসূলগণ, পবিত্র জিনিস খাও আর নেক আমল করো।" আরও বলেছেন: "হে মুমিনগণ, আমি তোমাদের যে পবিত্র রিযিক দিয়েছি, তা থেকে খাও।" তারপর তিনি এক ব্যক্তির কথা বললেন, যে দীর্ঘ সফর করে, চুল উসকোখুসকো, শরীর ধুলোমাখা; আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বলে: হে রব, হে রব! অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম, আর হারাম দিয়েই তার শরীর গড়ে উঠেছে। তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?

সহিহ মুসলিম ১০১৫ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ ۚ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا

হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ; এবং নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।

আপনার জীবনেনিজের আয়ের উৎসগুলো একবার লিখে দেখুন। কোনোটাতে সন্দেহ থাকলে কোনো আলেমকে জিজ্ঞেস করুন। হালাল কম টাকা হারাম বেশি টাকার চেয়ে অনেক বেশি বরকতময়।
৩
ব্যবসা ও লেনদেন

ভেজা শস্য লুকানো দোকানি

একদিন নবী (ﷺ) বাজারে এক শস্যের স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন, ভেতরটা ভেজা। দোকানি বলল, বৃষ্টিতে ভিজেছে। নবীজি বললেন, তাহলে ভেজা অংশটা উপরে রাখলে না কেন, যাতে মানুষ দেখে? যে প্রতারণা করে, সে আমার দলের নয়।

ব্যবসায় সত্য বললে আর দোষ খুলে বললে বরকত হয়; মিথ্যা বললে আর গোপন করলে বরকত মুছে যায়। মাপে কম দেওয়া লোকদের জন্য কুরআনে পুরো একটি সূরার শুরুতে "ধ্বংস" ঘোষণা করা হয়েছে।

আর লেনদেনে নরম মানুষের জন্য নবীজি নিজে দোয়া করেছেন (সহিহ বুখারী ২০৭৬)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি খাদ্যশস্যের স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ভেতরে হাত ঢোকালেন, আঙুলে ভেজা লাগল। তিনি বললেন: হে খাদ্যের মালিক, এটা কী? সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। তিনি বললেন: তাহলে ভেজা অংশটা উপরে রাখলে না কেন, যাতে মানুষ দেখতে পায়? যে প্রতারণা করে, সে আমার দলের নয়।

সহিহ মুসলিম ১০২ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৪টি দলিল

الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا ـ أَوْ قَالَ حَتَّى يَتَفَرَّقَا ـ فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا، وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا

ক্রেতা-বিক্রেতা আলাদা না হওয়া পর্যন্ত (চুক্তি বাতিলের) সুযোগ রাখে। তারা যদি সত্য বলে আর (পণ্যের দোষ-ত্রুটি) স্পষ্ট করে, তাহলে তাদের কেনাবেচায় বরকত দেওয়া হয়; আর যদি গোপন করে ও মিথ্যা বলে, তাহলে কেনাবেচার বরকত মুছে ফেলা হয়।

সহিহ বুখারী ২০৭৯সহিহবর্ণনাকারী: হাকীম ইবনু হিযাম (রা.)

وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ

দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়,

الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ

যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে,

وَإِذَا كَالُوهُمْ أَو وَّزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ

আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।

আপনার জীবনেপণ্যের দোষ থাকলে ক্রেতাকে বলে দিন, অনলাইনে বিক্রি করলে ছবি আর বর্ণনা যেন সত্য হয়। দাম নিয়ে কঠোর দরকষাকষি না করে উদার থাকুন; নবীজির দোয়া পাবেন।
৪
সুদ

সুদ: আল্লাহ ও রাসূলের সাথে যুদ্ধ

কুরআন ব্যবসাকে হালাল আর সুদকে হারাম বলেছে। যারা সুদ ছাড়বে না, তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর কোনো গুনাহের ক্ষেত্রে এমন কঠোর ভাষা কুরআনে নেই।

নবী (ﷺ) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের হিসাব লেখক আর দুই সাক্ষী, সবাইকে লানত করেছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লানত করেছেন সুদখোর, সুদদাতা, সুদের হিসাব লেখক এবং এর দুই সাক্ষীর উপর; আর বলেছেন: তারা সবাই (অপরাধে) সমান।

সহিহ মুসলিম ১৫৯৮ সহিহ বর্ণনা: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৩টি দলিল

الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ۚ فَمَن جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىٰ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ ۖ وَمَنْ عَادَ فَأُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

যারা সুদ খায় তারা তার ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, ‘ক্রয়-বিক্রয় তো সূদেরই মত।’ অথচ আল্লাহ্‌ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সূদকে হারাম করেছেন। অতএব, যার নিকট তার রবের পক্ষ হতে উপদেশ আসার পর সে বিরত হল, তাহলে অতীতে যা হয়েছে তা তারই এবং তার ব্যাপার আল্লাহ্‌র ইখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় আরম্ভ করবে তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও।

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ

অতঃপর যদি তোমরা না কর তবে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা নাও। আর যদি তোমরা তাওবা কর তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা যুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও যুলুম করা হবে না।

আপনার জীবনেসুদি ঋণ, সুদি সঞ্চয় বা ক্রেডিট কার্ডের সুদ থেকে ধাপে ধাপে বের হওয়ার পরিকল্পনা করুন। প্রয়োজনে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বিকল্প নিয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের সাথে পরামর্শ করুন।
৫
ঘুষ ও ঋণ

ঘুষ, ঋণ আর শ্রমিকের মজুরি

নবী (ﷺ) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা দুজনকেই লানত করেছেন। কুরআনও বিচারকের কাছে সম্পদ পৌঁছে দিয়ে অন্যের হক খেতে নিষেধ করেছে।

ঋণ নিলে শোধ করার নিয়ত রাখতে হবে; যে শোধের নিয়তে নেয়, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন।

আর আপনি যদি কাউকে কাজে রাখেন, তার মজুরি দিন তার ঘাম শুকানোর আগেই।

শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।

সুনানে ইবনু মাজাহ ২৪৪৩ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৩টি দলিল

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِيَ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা দুজনকেই লানত করেছেন।

সুনানে আবু দাউদ ৩৫৮০সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)

وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে বুঝে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের কাছে পেশ করো না।

مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِتْلاَفَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ

যে মানুষের সম্পদ (ঋণ হিসেবে) নেয় ফেরত দেওয়ার নিয়তে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দেন। আর যে নেয় নষ্ট করার নিয়তে, আল্লাহ তাকেই ধ্বংস করে দেন।

সহিহ বুখারী ২৩৮৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেবাসার কাজের সহকারী, ড্রাইভার বা কর্মচারীর বেতন মাসের নির্দিষ্ট দিনে, দেরি না করে দিন। ঋণ থাকলে আজই একটা শোধের তালিকা বানান।
৬
হালাল বিনোদন

নবীজির ঘরেও আনন্দ ছিল

এক ঈদের দিন আয়েশা (রা.)-এর ঘরে আনসারদের দুটি ছোট মেয়ে কবিতা সুর করে গাইছিল। আবু বকর (রা.) এসে আপত্তি করলেন। নবী (ﷺ) বললেন, হে আবু বকর, প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটা আমাদের ঈদ।

তিনি তীর ছোড়ার প্রতিযোগিতায় সাহাবিদের উৎসাহ দিয়েছেন, এমনকি এক দলের পক্ষ নিয়েছেন। স্ত্রীর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতাও করেছেন (সুনানে আবু দাউদ ২৫৭৮)।

রসিকতাও করতেন, তবে মিথ্যা দিয়ে নয়। মানুষ হাসাতে মিথ্যা বলাকে তিনি ধ্বংসের কারণ বলেছেন।

(ঈদের দিন) আবু বকর (রা.) ঘরে এলেন। তখন আমার কাছে আনসারদের দুটি ছোট মেয়ে বুআস যুদ্ধের দিনের কবিতা সুর করে গাইছিল; তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। আবু বকর (রা.) বললেন: রাসূলুল্লাহর ঘরে শয়তানের বাঁশি! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হে আবু বকর, প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটা আমাদের ঈদ।

সহিহ বুখারী ৯৫২ সহিহ বর্ণনা: আয়েশা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৩টি দলিল

مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى نَفَرٍ مِنْ أَسْلَمَ يَنْتَضِلُونَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ارْمُوا بَنِي إِسْمَاعِيلَ، فَإِنَّ أَبَاكُمْ كَانَ رَامِيًا ارْمُوا وَأَنَا مَعَ بَنِي فُلاَنٍ

নবী (ﷺ) আসলাম গোত্রের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা তীর ছোড়ার প্রতিযোগিতা করছিল। তিনি বললেন: হে ইসমাঈলের বংশধর, তীর ছোড়ো; তোমাদের পিতা (ইসমাঈল আ.) দক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। তীর ছোড়ো, আমি অমুক দলের সাথে আছি।

সহিহ বুখারী ২৮৯৯সহিহবর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.)

قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تُدَاعِبُنَا ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ إِنِّي لاَ أَقُولُ إِلاَّ حَقًّا

সাহাবিরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তো আমাদের সাথে রসিকতা করেন! তিনি বললেন: (হ্যাঁ, তবে) আমি সত্য ছাড়া কিছু বলি না।

জামে আত-তিরমিযী ১৯৯০সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ فَيَكْذِبُ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ

ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য, যে মানুষকে হাসানোর জন্য কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে; তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।

সুনানে আবু দাউদ ৪৯৯০হাসানবর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনু হাইদা (রা.)
আপনার জীবনেপরিবারের সাথে খেলাধুলা, ঘুরতে যাওয়া, সাঁতার, দৌড়, সাইকেল চালানো সবই সুন্দর বিনোদন। শুধু দেখুন: নামাজ যাচ্ছে না তো? মিথ্যা, অশ্লীলতা বা জুয়া নেই তো?
৭
সীমারেখা

যে বিনোদন মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে

আল্লাহ মদ, জুয়া আর ভাগ্যনির্ধারক তীরকে শয়তানের অপবিত্র কাজ বলেছেন। ভাগ্যনির্ভর পাশা খেলাকে নবীজি শূকরের মাংস-রক্তে হাত ডোবানোর সাথে তুলনা করেছেন।

কুরআনে এমন মানুষের কথাও আছে, যে "অসার কথা" কিনে আনে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে সরাতে। আর নবীজি সতর্ক করেছেন, এক সময় কিছু মানুষ বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।

সবচেয়ে বড় সতর্কতা হলো সময়। সুস্থতা আর অবসর, এই দুই নিয়ামতে অনেক মানুষ ঠকে যায়।

দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে: সুস্থতা আর অবসর সময়।

সহিহ বুখারী ৬৪১২ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৪টি দলিল

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, পূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয় করার শর তো কেবল ঘৃণার বস্তু, শয়তানের কাজ। কাজেই তোমরা সেগুলোকে বর্জন কর –যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।

مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدَشِيرِ فَكَأَنَّمَا صَبَغَ يَدَهُ فِي لَحْمِ خِنْزِيرٍ وَدَمِهِ

যে নারদাশীর (পাশার মতো ভাগ্যনির্ভর খেলা) খেলল, সে যেন তার হাত শূকরের মাংস ও রক্তে ডুবিয়ে দিল।

সহিহ মুসলিম ২২৬০সহিহবর্ণনাকারী: বুরাইদা (রা.)

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا ۚ أُولَـٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ

আর মানুষের মধ্যে থেকে কেউ কেউ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য কিনে নেয় জ্ঞান ছাড়াই এবং আল্লাহর দেখানো পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।

لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ

আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু দল আসবে, যারা ব্যভিচার, (পুরুষের জন্য) রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।

সহিহ বুখারী ৫৫৯০সহিহবর্ণনাকারী: আবু আমির বা আবু মালিক আল-আশআরী (রা.)
আপনার জীবনেমোবাইলে দিনে কত সময় যায়, এক সপ্তাহ হিসাব রাখুন। বিনোদন হোক শরীর-মন সতেজ করার জন্য, জীবন খেয়ে ফেলার জন্য নয়।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই ধাপের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

রিযিকের জন্য আল্লাহর মুখাপেক্ষিতা (মূসা আ.)

فَسَقَىٰ لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّىٰ إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ ﴿٢٤﴾

মুসা তখন তাদের পক্ষে জানোয়ারগুলোকে পানি পান করালেন। তারপর তিনি ছায়ার নীচে আশ্রয় গ্রহন করে বললেন, ‘হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবেন আমি তার কাঙ্গাল।’

সূরা আল-কাসাস ২৮:২৪
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাওয়া

وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿٢٠١﴾

আর তাদের মধ্যে যারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’

সূরা আল-বাকারা ২:২০১

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

সুন্নাহর আলোয় জীবন: সব ধাপ

deenpedia.com · https://deenpedia.com/jibon/halal-uparjon/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার