মাদইয়ানের কূপের পাশে: "শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত"
মিসর থেকে পালিয়ে মূসা (আ.) পৌঁছলেন মাদইয়ানে। ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত, অচেনা দেশে একা। একটা কূপের পাশে দেখলেন, রাখালরা ভিড় করে পশুকে পানি খাওয়াচ্ছে, আর দুটি মেয়ে দূরে দাঁড়িয়ে নিজেদের পশু আটকে রেখেছে। জিজ্ঞেস করে জানলেন, তাদের বাবা বৃদ্ধ, তাই তারা পুরুষদের ভিড় শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছে।
وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِّنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِن دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ ۖ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا ۖ قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّىٰ يُصْدِرَ الرِّعَاءُ ۖ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ
আর যখন তিনি মাদ্য়ানের কূপের কাছে পৌঁছলেন, দেখতে পেলেন, একদল লোক তাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের পিছনে দুজন নারী তাদের পশুগুলোকে আগলে রাখছে। মূসা বললেন, ‘তোমাদের কী ব্যাপার?’ তারা বলল, ‘আমরা আমাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করাতে পারি না, যতক্ষণ রাখালেরা তাদের জানোয়ারগুলোকে নিয়ে সরে না যায়। আর আমাদের পিতা খুব বৃদ্ধ।’
মূসা (আ.) কোনো পারিশ্রমিক চাইলেন না, নিজে গিয়ে তাদের পশুকে পানি খাইয়ে দিলেন। তারপর ছায়ায় বসে আল্লাহর কাছে বললেন, হে আমার রব, আপনি আমার জন্য যে কল্যাণই পাঠান, আমি তার মুখাপেক্ষী (সূরা আল-কাসাস ২৮:২৪)।
কিছুক্ষণ পর একটি মেয়ে লাজুকভাবে হেঁটে এসে বলল, আমার বাবা আপনাকে ডেকেছেন, পানি খাওয়ানোর পারিশ্রমিক দিতে। বাড়ি গিয়ে মূসা (আ.) সব খুলে বললেন। তখন মেয়েটি বাবাকে বলল এমন একটি কথা, যা আজও যেকোনো চাকরির সবচেয়ে বড় যোগ্যতা: বাবা, তাকে কাজে রাখুন; আপনি যাদের কাজে রাখবেন, তাদের মধ্যে সেরা সেই, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।
فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ قَالَتْ إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا ۚ فَلَمَّا جَاءَهُ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ قَالَ لَا تَخَفْ ۖ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
তখন নারী দুজনের একজন শরম-জড়িত পায়ে তার কাছে আসল এবং বলল, ‘আমার পিতা আপনাকে আমন্ত্রণ করছেন, আমাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করানোর পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য।’ অতঃপর মূসা তার কাছে এসে সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলে তিনি বললেন, ‘ভয় করো না, তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কবল থেকে বেঁচে গেছ।’
قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ ۖ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
নারীদ্বয়ের একজন বলল, ‘হে আমার পিতা! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন, কারণ আপনার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’
এই গল্প আমাদের কী শেখায়? কাজের জন্য দুটি গুণ লাগে: সামর্থ্য (কাজটা পারা) আর আমানতদারি (কাজটা সৎভাবে করা)। শুধু দক্ষতা থাকলে মানুষ ঠকায়, শুধু সততা থাকলে কাজ হয় না। মূসা (আ.) কারো নজরে আসার জন্য নয়, আল্লাহর জন্য একটা ভালো কাজ করেছিলেন; আল্লাহ সেখান থেকেই তাঁর চাকরি, ঘর আর পরিবারের ব্যবস্থা করে দিলেন।