জান্নাতের পথ
যে আমলগুলো জান্নাতে নিয়ে যায়
সহিহ হাদিসে যেসব আমলের সাথে সরাসরি জান্নাতের কথা এসেছে, সেগুলো এখানে এক জায়গায়। পড়ুন, একটি করে বেছে নিন, আর আজ থেকেই শুরু করুন।
وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
আর তোমরা তীব্র গতিতে চল নিজেদের রবের ক্ষমার দিকে এবং সে জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি আসমানসমূহ ও যমীনের সমান, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য।
ভিত্তি: তাওহীদ ও ফরজ ইবাদত
জান্নাতের পথের শুরু তাওহীদ, তারপর ফরজ ইবাদত। মুআয (রা.) ঠিক এই প্রশ্নটিই করেছিলেন।
(মুআয (রা.) বললেন:) হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: তুমি এক বিরাট বিষয় জিজ্ঞেস করেছ, তবে আল্লাহ যার জন্য সহজ করেন তার জন্য এটা সহজ: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কিছু শরিক করবে না, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত দেবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং বাইতুল্লাহর হজ করবে। তারপর বললেন: আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাগুলো দেখিয়ে দেব না? রোজা ঢাল; সাদাকা গুনাহকে নিভিয়ে দেয় যেমন পানি আগুন নেভায়; আর গভীর রাতে মানুষের নামাজ। ... তারপর বললেন: আমি কি তোমাকে এই সবকিছুর মূল বলব না? আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর নবী। তিনি নিজের জিহ্বা ধরে বললেন: এটাকে সংযত রাখো। আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী, আমরা যা বলি, তার জন্যও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: ... মানুষকে মুখের উপর জাহান্নামে ফেলবে তাদের জিহ্বার ফসল (কথা) ছাড়া আর কী?
مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
যে ব্যক্তি এই জ্ঞান (ও বিশ্বাস) নিয়ে মারা যায় যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ বান্দাদের উপর ফরজ করেছেন। যে এগুলো আদায় করে এবং এগুলোর গুরুত্বকে হালকা মনে করে কিছুই নষ্ট করে না, আল্লাহর কাছে তার জন্য অঙ্গীকার আছে যে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে এগুলো আদায় করে না, আল্লাহর কাছে তার জন্য কোনো অঙ্গীকার নেই; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন, চাইলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
চরিত্র ও জিহ্বা
সবচেয়ে বেশি মানুষকে জান্নাতে নেবে তাকওয়া ও উত্তম চরিত্র; আর জাহান্নামে নেবে মুখ ও লজ্জাস্থান।
سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الْجَنَّةَ فَقَالَ " تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ " . وَسُئِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ فَقَالَ " الْفَمُ وَالْفَرْجُ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিনিস সবচেয়ে বেশি মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বললেন: আল্লাহর তাকওয়া (আল্লাহকে ভয় করে চলা) এবং উত্তম চরিত্র। আর জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিনিস সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নামে নেবে? তিনি বললেন: মুখ ও লজ্জাস্থান।
مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ
যে আমার কাছে তার দুই চোয়ালের মাঝের জিনিস (জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মাঝের জিনিসের (লজ্জাস্থানের) হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।
لاَ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا . أَوَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى شَىْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ
তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না ঈমান আনো, আর তোমরা (পূর্ণ) মুমিন হবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসো। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? তোমাদের মধ্যে সালাম ছড়িয়ে দাও।
জ্ঞানের পথ
এই সাইটে দ্বীন শিখতে আসাও জান্নাতের পথে হাঁটা।
وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ
যে জ্ঞানের খোঁজে কোনো পথে চলে, আল্লাহ এর মাধ্যমে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।
مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন।
ছোট কিন্তু বড় আমল
তোমাদের যে কেউ অজু করে এবং পূর্ণভাবে অজু করে, তারপর বলে: "আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুল্লাহি ওয়া রাসূলুহ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল), তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়, যেটা দিয়ে ইচ্ছা সে প্রবেশ করবে।
নবী (ﷺ) ফজরের নামাজের সময় বিলাল (রা.)-কে বললেন: হে বিলাল, ইসলাম গ্রহণের পর তোমার সবচেয়ে আশাজাগানিয়া আমলটি কী, আমাকে বলো। কারণ আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বিলাল বললেন: আমার কাছে সবচেয়ে আশার আমল এটাই যে, দিনে বা রাতে যখনই আমি পবিত্রতা অর্জন (অজু) করেছি, সেই অজু দিয়ে আমার ভাগ্যে যতটুকু নামাজ লেখা ছিল, পড়েছি।
আশা ও ভয়: দুটোই
আল্লাহ নিজের পরিচয় দিয়েছেন ক্ষমাশীল ও দয়ালু হিসেবে, আবার জানিয়েছেন তাঁর শাস্তিও কঠিন। মুমিন দুটোই মনে রাখে: আশা তাকে এগিয়ে নেয়, ভয় তাকে থামিয়ে রাখে।
نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন যে, নিশ্চয় আমিই পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু,
وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ
আর নিশ্চয় আমার শাস্তিই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি!
আর মনে রাখুন, শুধু আমলের জোরে কেউ জান্নাতে যাবে না; আল্লাহর রহমতই আসল। তাই নিয়মিত থাকুন এবং তাঁর রহমতের আশা রাখুন (সহিহ বুখারী ৬৪৬৪)।
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কেবল কেয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেয়া হবে। অতঃপর যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছু নয়।