أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।
deenpedia.com/أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।
"তোমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা নিজের জন্য করে।"
সহিহ বুখারী ১৩ · সহিহ মুসলিম ৪৫৩০ পারা, ১১৪ সূরা, ৬২৩৬ আয়াত। আরবি মূল পাঠ ও সহজ বাংলা অর্থসহ।
নামাজে সবচেয়ে বেশি পড়া হয় সূরা আল-ফাতিহা আর শেষ দিকের ছোট সূরাগুলো। প্রতিটি সূরা আরবি ও সহজ বাংলা অর্থসহ।
প্রতিটি হাদিসের সাথে গ্রন্থ, নম্বর, বর্ণনাকারী আর মান (সহিহ, হাসান, দুর্বল) দেখানো হয়।
সূরা আল-আনআমের ৬:৮৩-৮৬ আয়াতে একসাথে ১৮ জন নবীর নাম এসেছে, বাকিদের নাম অন্য সূরায়। সোনালি চিহ্ন: উলুল আযম রাসূল (৪৬:৩৫)।
প্রতিটি আমল সহিহ হাদিস থেকে। আজ রাতে যেটা করলেন, টিক দিন। টিক আপনার ফোনেই থাকবে।
পুরো জীবনের সুন্নাহ: জন্মের আগে থেকে আখিরাত পর্যন্ত ১৪টি ধাপ ›
মানুষের মুখে মুখে "হাদিস" হিসেবে চলা কিছু কথা। কার্ডে চাপ দিলে সঠিক তথ্য আর সূত্র দেখাবে।
সূরা আন-নাবা (৭৮) থেকে সূরা আন-নাস (১১৪) পর্যন্ত টি সূরা, মোট আয়াত। নামাজে সবচেয়ে বেশি পড়া সূরাগুলো এই পারাতেই।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি:
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى
"সব কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে।"
পূর্ণ হাদিসে হিজরতের উদাহরণ আছে: যার হিজরত আল্লাহ ও রাসূলের জন্য, তার হিজরত আল্লাহ ও রাসূলের জন্যই গণ্য; আর যার হিজরত দুনিয়া বা কোনো নারীকে বিয়ের জন্য, তার হিজরত সেদিকেই।
"যে আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।"
সহিহ বুখারী ৬০১৮ · সহিহ মুসলিম ৪৭"দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা।"
সহিহ মুসলিম ৫৫আল্লাহ নিজেই এই ঘটনাকে "সবচেয়ে সুন্দর কাহিনি" বলেছেন (সূরা ইউসুফ ১২:৩)। পুরো সূরা ইউসুফ (১১১ আয়াত) এই একটি গল্প।
ইউসুফ (আ.) স্বপ্নে দেখলেন এগারোটি তারা, সূর্য আর চাঁদ তাঁকে সিজদা করছে। পিতা ইয়াকুব (আ.) বুঝলেন, ছেলেটি বড় মর্যাদা পাবে। তাই বললেন, স্বপ্নের কথা ভাইদের বোলো না।
সূরা ইউসুফ ১২:৪-৫ভাইয়েরা হিংসায় তাঁকে কূপে ফেলে দিল, আর বাবাকে রক্তমাখা জামা দেখিয়ে বলল নেকড়ে খেয়েছে। ইয়াকুব (আ.) জবাবে বললেন:
فَصَبْرٌ جَمِيلٌ
"সুতরাং সুন্দর ধৈর্যই (আমার পথ)।" ১২:১৮
পথিকদের একটি দল তাঁকে তুলে নিয়ে মিসরে অল্প কয়েক দিরহামে বিক্রি করে দিল।
সূরা ইউসুফ ১২:৮-২০যে ঘরে তিনি বড় হলেন, সেই ঘরের মহিলা তাঁকে পাপের দিকে ডাকল। ইউসুফ (আ.) বললেন:
مَعَاذَ اللَّهِ
"আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই।" ১২:২৩
পাপের বদলে তিনি কারাগার বেছে নিলেন (১২:৩৩)। সেখানেও তাওহীদের দাওয়াত দিলেন। পরে রাজার স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে দুর্ভিক্ষ থেকে দেশ বাঁচানোর দায়িত্ব পেলেন।
সূরা ইউসুফ ১২:৩৩-৫৬দুর্ভিক্ষে খাদ্য চাইতে সেই ভাইয়েরাই এল। প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও তিনি বললেন:
لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ
"আজ তোমাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।" ১২:৯২
শেষে বাবা-মা ও ভাইয়েরা তাঁর সামনে নত হলেন, ছোটবেলার স্বপ্ন সত্য হলো (১২:১০০)।
সূরা ইউসুফ ১২:৫৮-১০১রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ইউসুফ, আল্লাহর নবী, যিনি আল্লাহর নবীর ছেলে, তিনিও আল্লাহর নবীর ছেলে, তিনি আল্লাহর খলীলের ছেলে।
সহিহ বুখারী ৩৩৫৩মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পুরো জীবন বছর ধরে: নবুয়তের আগের ৪০ বছর, মক্কার ১৩ বছর, মদীনার ১০ বছর, ২৩ বছরে কুরআন অবতরণ, আর তাঁর পরে খুলাফায়ে রাশেদীনের ৩০ বছর। শুরুতে আগের নবী-রাসূলদের ধারাবাহিকতাও আছে। প্রতিটি ঘটনার পাশে মূল সূত্র আর বর্ণনার মান (সহিহ, হাসান, দুর্বল) দেওয়া আছে।
অনেক অনেক আগে, ইবরাহীম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজার ও দুধের শিশু ইসমাঈলকে নিয়ে এলেন এক শুকনো উপত্যকায়। সেখানে না ছিল পানি, না কোনো মানুষ। সামান্য খেজুর আর এক মশক পানি রেখে তিনি ফিরে যেতে লাগলেন। হাজার পেছন থেকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর আদেশ দিয়েছেন? ইবরাহীম (আ.) বললেন, হ্যাঁ। হাজার তখন বললেন: তাহলে আল্লাহ আমাদের ধ্বংস হতে দেবেন না।
পানি ফুরিয়ে গেলে শিশুর কষ্ট দেখে তিনি সাফা আর মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়ালেন। তারপর আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা এসে মাটিতে আঘাত করলেন, আর বেরিয়ে এল যমযমের পানি। সেই পানির টানে এক গোত্র এসে সেখানে বসতি গড়ল (সহিহ বুখারী ৩৩৬৪)। দূরে দাঁড়িয়ে ইবরাহীম (আ.) দোয়া করেছিলেন:
رَّبَّنَا إِنِّي أَسْكَنتُ مِن ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِندَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِّنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُم مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ
হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের কিছু সংখ্যককে বসবাস করালাম অনুর্বর উপত্যকায় আপনার পবিত্র ঘরের কাছে, হে আমাদের রব! এ জন্য যে, তারা যেন সালাত কায়েম করে। অতএব আপনি কিছু লোকের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন এবং ফল-ফলাদি দিয়ে তাদের রিযকের ব্যবস্থা করুন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
সূরা ইবরাহীম ১৪:৩৭
ইসমাঈল (আ.) বড় হলেন। ইবরাহীম (আ.) ফিরে এসে ছেলেকে সাথে নিয়ে আল্লাহর ঘর কাবার ভিত তুললেন। কাজ করতে করতে দুজনে দোয়া করছিলেন, আর সেই দোয়ার শেষে ছিল একটি চাওয়া: এই মানুষদের মধ্য থেকেই যেন একজন রাসূল আসেন।
وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিলেন, (তারা বলছিলেন) ‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
সূরা আল-বাকারা ২:১২৭
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
‘হে আমাদের রব! আর আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রাসূল পাঠান, যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করবেন ; তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’।
সূরা আল-বাকারা ২:১২৯
এই দোয়া কবুল হয়েছিল হাজার হাজার বছর পর, এই উপত্যকাতেই, ইসমাঈল (আ.)-এর বংশে।
দিন গেল, প্রজন্ম বদলাল। ইবরাহীম (আ.)-এর একত্ববাদ ধীরে ধীরে ভুলে গেল মানুষ। নবী (ﷺ) জানিয়েছেন, আমর ইবনু আমির ইবনু লুহাই আল-খুযাঈ প্রথম দেবতার নামে পশু ছেড়ে দেওয়ার প্রথা চালু করে, আর তিনি তাকে জাহান্নামে দেখেছেন (সহিহ বুখারী ৩৫২১)। অবস্থা এমন হলো যে পরে মক্কা বিজয়ের দিনেও কাবার চারপাশে ৩৬০টি মূর্তি ছিল (সহিহ বুখারী ৪২৮৭)।
তবু মক্কার মর্যাদা রয়ে গেল। কুরাইশ গোত্র কাবার সেবা করত, শীতে ইয়ামানে আর গ্রীষ্মে শামে বাণিজ্য-সফর করত। আল্লাহ তাদের সেই নিরাপত্তা আর রিজিকের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন:
فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَـٰذَا الْبَيْتِ الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ
অতএব, তারা ‘ইবাদাত করুক এ ঘরের রবের, যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় খাদ্য দিয়েছেন এবং ভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।
সূরা কুরাইশ ১০৬:৩-৪
তারপর এল সেই বছর। সীরাতের বর্ণনায় আছে, ইয়ামানের শাসক আবরাহা হাতির বাহিনী নিয়ে কাবা ভাঙতে এল। মক্কার মানুষ পাহাড়ে আশ্রয় নিল। কিন্তু আল্লাহ নিজেই তাঁর ঘর রক্ষা করলেন।
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيلٍ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍ
আপনি কি দেখেন নি আপনার রব হাতির অধিপতিদের প্রতি কী করেছিলেন? তিনি কি তাদের কৌশল ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে দেননি? আর তাদের বিরুদ্ধে তিনি ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠান যারা তাদের উপর শক্ত পোড়ামাটির কঙ্কর নিক্ষেপ করে। অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণ-সদৃশ করেন।
সূরা আল-ফীল ১০৫:১-৫
সীরাতের গ্রন্থগুলো বলে, এই হাতির বছরেই, আবদুল্লাহ ও আমিনার ঘরে জন্ম নিলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)। ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়ার উত্তর এল সেই উপত্যকাতেই। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের পাতায় যান ›
"ঐতিহাসিক বর্ণনা" মানে সীরাত ও তারিখের গ্রন্থে (ইবনে হিশাম, তাবারী, ইবনে কাসীর) আছে, আলেমরা মোটামুটি একমত, তবে সনদ হাদিসের মানদণ্ডে পুরো যাচাই হয়নি। লাল চিহ্ন মানে প্রচলিত কিন্তু দুর্বল গল্প।
নবুয়তের ২৩ বছরে ঘটনা বেশি, তাই ওই অংশ বড় করে দেখানো হয়েছে (স্কেল সমান নয়)।
জায়গায় চাপ দিলে সেখানকার ঘটনাগুলো সাল ধরে দেখাবে। নিচের সাল সরালে দেখবেন কোন বছর কোথায় কী ঘটেছে।
মানচিত্রটি আনুমানিক, দূরত্ব মাপমতো নয়। হিজরতের পথ সীরাতের বর্ণনা অনুযায়ী আনুমানিক।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তেকালের খবরে মদীনা স্তব্ধ। উমর (রা.) পর্যন্ত মানতে পারছিলেন না। আবু বকর (রা.) এসে প্রিয় বন্ধুর মুখের কাপড় সরিয়ে চুমু খেলেন, তারপর বাইরে এসে মানুষকে বললেন: যে মুহাম্মাদের ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক মুহাম্মাদ মারা গেছেন। আর যে আল্লাহর ইবাদত করত, আল্লাহ চিরঞ্জীব, কখনো মরবেন না। তারপর পড়লেন এই আয়াত (সহিহ বুখারী ৩৬৬৮):
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ ۚ أَفَإِن مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انقَلَبْتُمْ عَلَىٰ أَعْقَابِكُمْ ۚ وَمَن يَنقَلِبْ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ فَلَن يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا ۗ وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ
আর মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র; তার আগে বহু রাসূল গত হয়েছেন। কাজেই যদি তিনি মারা যান বা নিহত হন তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? আর কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহ্র ক্ষতি করবে না; আর আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কৃত করবেন।
সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪
খলিফা হয়ে তিনি যাকাত অস্বীকারকারী আর ভণ্ড নবীদের দমন করলেন। ইয়ামামার যুদ্ধে বহু হাফেজ শহীদ হওয়ার পর উমর (রা.)-এর পরামর্শে যায়েদ ইবনু সাবিত (রা.)-কে দিয়ে পুরো কুরআন এক জায়গায় লিখিয়ে নিলেন (সহিহ বুখারী ৪৯৮৬)। প্রায় সোয়া দুই বছর পর তাঁর ইন্তেকাল হয়।
উমর (রা.)-এর দশ বছরে ইসলাম পৌঁছে গেল শাম, ইরাক, মিসর আর বায়তুল মাকদিসে। তাঁর সময়েই হিজরতের বছর থেকে সাল গোনার নিয়ম চালু হয়, যাকে আজ আমরা হিজরি সাল বলি। সাহল ইবনু সাদ (রা.) বলেন, সাহাবিরা নবুয়ত বা ইন্তেকাল থেকে নয়, মদীনায় আগমন থেকেই সাল গুনেছেন (সহিহ বুখারী ৩৯৩৪)।
এক ফজরের নামাজে তাকবীর বলতেই এক দাস ছুরি নিয়ে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আহত অবস্থাতেই তিনি আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রা.)-কে নামাজ পড়াতে সামনে এগিয়ে দিলেন। মৃত্যুর আগে পরবর্তী খলিফা বাছাইয়ের ভার দিয়ে গেলেন ছয়জন সাহাবির পরামর্শ সভার হাতে (সহিহ বুখারী ৩৭০০)।
নবী (ﷺ) একবার এক বাগানে ছিলেন। আবু বকর, তারপর উমর এলেন, দুজনকেই তিনি জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। তারপর উসমান (রা.) এলে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন:
"তাকে আসতে দাও, আর তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও, এক বিপদের সাথে যা তার উপর আসবে।"
সহিহ বুখারী ৩৬৯৫
তাঁর খিলাফতে ইসলাম আরও দূরে ছড়াল। নানা অঞ্চলে কুরআন পড়ার ধরনে মতভেদ দেখা দিলে তিনি আবু বকর (রা.)-এর সংকলন থেকে কয়েকটি কপি তৈরি করিয়ে সব অঞ্চলে পাঠালেন (সহিহ বুখারী ৪৯৮৭)। আজ সারা পৃথিবীর মুসলমান যে মুসহাফ পড়ে, তা সেই কপিরই ধারা। শেষ জীবনে বিদ্রোহীরা তাঁর ঘর ঘিরে ফেলে, আর সেই বিপদেই তিনি শহীদ হন।
নবী (ﷺ) আলী (রা.)-কে বলেছিলেন:
"তুমি কি খুশি নও যে আমার কাছে তোমার স্থান মূসার কাছে হারুনের মতো?"
সহিহ বুখারী ৩৭০৬
উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর তিনি খলিফা হলেন, কিন্তু সময়টা ছিল কঠিন ফিতনার। রাজধানী গেল ইরাকের কুফায়। প্রায় পাঁচ বছর পর এক খারেজির আঘাতে তিনিও শহীদ হলেন।
আলী (রা.)-এর পর তাঁর ছেলে হাসান (রা.) খলিফা হলেন। বিশাল দুই বাহিনী মুখোমুখি। কিন্তু হাসান (রা.) মুসলমানদের রক্ত বাঁচাতে মুআবিয়া (রা.)-এর সাথে সন্ধি করলেন। নবী (ﷺ) বহু আগেই তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন:
"আমার এই ছেলে একজন নেতা। হয়তো আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলমানদের দুটি বড় দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন।"
সহিহ বুখারী ২৭০৪
এভাবেই পূর্ণ হলো নবী (ﷺ)-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণী: "আমার পরে খিলাফত ত্রিশ বছর থাকবে" (আবু দাউদ ৪৬৪৬; তিরমিযী ২২২৬, হাসান)।