deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ

অসুস্থতা ও বিপদে মুমিনের পথ

ধাপ ১০/১৪বিপদের সময়বিপদ, বার্ধক্য ও বিদায়

জীবনে অসুখ আসবে, বিপদ আসবে, প্রিয় কিছু হারাবে। প্রশ্ন হলো, তখন আমরা কী করব? ইসলাম বিপদকে অর্থহীন কষ্ট হিসেবে দেখে না; এটা পরীক্ষা, গুনাহ মোছার উপায়, আর আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ। পাশাপাশি চিকিৎসা নেওয়ার আদেশও দেয়।

৫টি অধ্যায়
৭টি আয়াত
১১টি সহিহ হাদিস
৫টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

আইয়ুব (আ.): দীর্ঘ রোগের পরও এক বাক্যের দোয়া

আইয়ুব (আ.) ছিলেন সম্পদ, সন্তান আর সুস্থতায় ভরা একজন নবী। তারপর এক এক করে সব চলে গেল। দীর্ঘ সময় তিনি কঠিন রোগে ভুগলেন। কিন্তু এই পুরো সময় তাঁর মুখ থেকে অভিযোগ বের হয়নি।

শেষে তিনি আল্লাহকে ডাকলেন, আর সেই ডাকে কোনো নালিশ ছিল না, ছিল শুধু বিনয়: আমি কষ্টে পড়েছি, আর আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে সবচেয়ে দয়ালু।

وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

আর স্মরণ করুন আইয়ূবকে, যখন তিনি তার রবকে ডেকে বলেছিলেন আমি তো দুক্ষি-কষ্টে পড়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু!’

আল্লাহ সাড়া দিলেন। তাঁর কষ্ট দূর করলেন, পরিবার ফিরিয়ে দিলেন, সাথে আরও তত দিলেন, আর বললেন, এটা ইবাদতকারীদের জন্য একটি শিক্ষা।

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِن ضُرٍّ ۖ وَآتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنْ عِندِنَا وَذِكْرَىٰ لِلْعَابِدِينَ

অতঃপর আমরা তার ডাকে সাড়া দিলাম, তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিলাম, তাকে তার পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম এবং আরো দিলাম তাদের সংগে তাদের সমপরিমাণ, আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ রহমতরূপে এবং ইবাদাতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ।

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? ধৈর্য মানে কান্না চেপে রাখা নয়, কষ্টের কথা বলা নিষেধও নয়। ধৈর্য মানে কষ্টের কথা আল্লাহকেই বলা, তাঁর উপর আশা না ছাড়া। আইয়ুব (আ.) রোগের কথা বলেছেন, কিন্তু আল্লাহর দয়ার কথা দিয়ে শেষ করেছেন।

এই ধাপে ৫টি অধ্যায়
১
দৃষ্টিভঙ্গি

একটা কাঁটা ফুটলেও গুনাহ মাফ

আল্লাহ আগেই বলে রেখেছেন, তিনি ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ-প্রাণ-ফসলের ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করবেন; আর সুসংবাদ দিয়েছেন তাদের, যারা বিপদে বলে "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন"।

নবী (ﷺ) বলেছেন, মুসলিমের উপর যে ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ আসে, এমনকি একটা কাঁটা ফুটলেও, আল্লাহ তা দিয়ে তার গুনাহ মাফ করেন।

মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্য: সুখে শোকর করে, তাতে কল্যাণ; কষ্টে ধৈর্য ধরে, তাতেও কল্যাণ।

মুমিনের ব্যাপারটা কত চমৎকার! তার সব কিছুই কল্যাণকর; আর এটা মুমিন ছাড়া আর কারো জন্য নয়। আনন্দের কিছু ঘটলে সে শুকরিয়া আদায় করে, তা তার জন্য কল্যাণ। আর কষ্টের কিছু ঘটলে সে ধৈর্য ধরে, সেটাও তার জন্য কল্যাণ।

সহিহ মুসলিম ২৯৯৯ সহিহ বর্ণনা: সুহাইব আর-রূমী (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৪টি দলিল

وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ

আর আমরা তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদেরকে--

الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ

যারা তাদের উপর বিপদ আসলে বলে, ‘আমরা তো আল্লাহ্‌রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী’।

أُولَـٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ

এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের রবের কাছ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ এবং রহমত বর্ষিত হয়, আর তারাই সৎপথে পরিচালিত।

مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلاَ وَصَبٍ وَلاَ هَمٍّ وَلاَ حُزْنٍ وَلاَ أَذًى وَلاَ غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا، إِلاَّ كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ

মুসলিমের উপর যে ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট ও অস্থিরতা আসে, এমনকি একটি কাঁটা ফুটলেও, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন।

সহিহ বুখারী ৫৬৪১সহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ আল-খুদরী ও আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেঅসুখের সময় নিজেকে বলুন: এই কষ্ট বৃথা যাচ্ছে না, প্রতিটি মুহূর্তে গুনাহ ঝরছে। আর কষ্টের পরে স্বস্তি আসবেই (সূরা আশ-শারহ ৯৪:৫, সূরা আশ-শারহ ৯৪:৬)।
২
চিকিৎসা

রোগ আল্লাহর, আরোগ্যও আল্লাহর; চিকিৎসা নেওয়া সুন্নাহ

নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ এমন কোনো রোগ পাঠাননি, যার আরোগ্যও পাঠাননি। তাই চিকিৎসা নেওয়া তাওয়াক্কুলের বিরোধী নয়।

ইবরাহীম (আ.) বলেছিলেন, আমি অসুস্থ হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দেন। ডাক্তার আর ওষুধ মাধ্যম, আরোগ্যদাতা আল্লাহ।

রোগ নিজে নিজে ছড়ায়, কোনো দিন বা পাখি অশুভ, এমন কুসংস্কার নবীজি নাকচ করেছেন।

আল্লাহ এমন কোনো রোগ পাঠাননি, যার আরোগ্যের ব্যবস্থাও পাঠাননি।

সহিহ বুখারী ৫৬৭৮ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ

‘এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন;

لاَ عَدْوَى، وَلاَ طِيَرَةَ، وَلاَ هَامَةَ، وَلاَ صَفَرَ

(আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া নিজে নিজে) রোগ ছড়ানো নেই, কুলক্ষণ নেই, পেঁচা অশুভ হওয়া নেই, আর সফর মাস অশুভ হওয়া নেই।

সহিহ বুখারী ৫৭৫৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেডাক্তার দেখান, ওষুধ নিয়ম মেনে খান, আর ওষুধ খাওয়ার সময় আল্লাহর কাছে আরোগ্য চান। কেউ "বদনজর" বা "কুফা" বলে চিকিৎসা ফেলে রাখতে বললে রাজি হবেন না।
৩
নিজের জন্য রুকইয়া

ব্যথার জায়গায় হাত রেখে দোয়া

উসমান ইবনু আবিল আস (রা.) একটা পুরনো ব্যথার কথা জানালে নবীজি শেখালেন: ব্যথার জায়গায় হাত রেখে তিনবার "বিসমিল্লাহ" বলো, তারপর সাতবার বলো, "আঊযু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযির" (আমি যা অনুভব করছি ও যার আশঙ্কা করছি তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের আশ্রয় চাই)।

কষ্ট সহ্যের বাইরে গেলেও মৃত্যু কামনা করতে নবীজি নিষেধ করেছেন; বলতে বলেছেন, হে আল্লাহ, বেঁচে থাকা আমার জন্য ভালো হলে বাঁচিয়ে রাখুন, মৃত্যু ভালো হলে মৃত্যু দিন।

(উসমান ইবনু আবিল আস (রা.) শরীরের একটা পুরনো ব্যথার কথা জানালেন।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: শরীরের যেখানে ব্যথা, সেখানে হাত রাখো, তিনবার বলো "বিসমিল্লাহ", আর সাতবার বলো: "আঊযু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযির" (আমি যে কষ্ট পাচ্ছি আর যার ভয় করছি, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় চাই)।

সহিহ মুসলিম ২২০২ সহিহ বর্ণনা: উসমান ইবনু আবিল আস (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ مِنْ ضُرٍّ أَصَابَهُ، فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي

কোনো বিপদে পড়ে তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। একান্তই কিছু বলতে চাইলে বলুক: "হে আল্লাহ, যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর, ততদিন আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন; আর যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর, তখন মৃত্যু দিন।"

সহিহ বুখারী ৫৬৭১সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)
আপনার জীবনেদোয়াটা মুখস্থ করে রাখুন; মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, যেকোনো ব্যথায় নিজেই পড়তে পারবেন। কাউকে টাকা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানোর চেয়ে নিজের দোয়া অনেক বেশি নিরাপদ ও সুন্নাহসম্মত।
৪
রোগী দেখা

অসুস্থকে দেখতে যাওয়া: সুন্নাহ ও দোয়া

নবী (ﷺ) অসুস্থকে দেখতে যেতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি রোগীর কাছে গিয়ে বলতেন, "লা বা'সা, তাহূরুন ইনশাআল্লাহ" (চিন্তা কোরো না, ইনশাআল্লাহ এটা পবিত্রতা)।

আর রোগীর গায়ে হাত বুলিয়ে এই দোয়া পড়তেন: "আযহিবিল বা'স, রব্বান নাস, ওয়াশফি আনতাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা"।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোনো রোগীর কাছে গেলে, বা রোগীকে তাঁর কাছে আনা হলে বলতেন: "আযহিবিল বা'স, রাব্বান নাস, ইশফি ওয়া আনতাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা" (হে মানুষের রব, কষ্ট দূর করে দিন; আরোগ্য দিন, আপনিই আরোগ্যদাতা; আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই; এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ বাকি রাখে না)।

সহিহ বুখারী ৫৬৭৫ সহিহ বর্ণনা: আয়েশা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

أَطْعِمُوا الْجَائِعَ، وَعُودُوا الْمَرِيضَ، وَفُكُّوا الْعَانِيَ

ক্ষুধার্তকে খাওয়াও, অসুস্থকে দেখতে যাও, আর বন্দিকে মুক্ত করো।

সহিহ বুখারী ৫৬৪৯সহিহবর্ণনাকারী: আবু মূসা আল-আশআরী (রা.)

إِذَا دَخَلَ عَلَى مَرِيضٍ يَعُودُهُ فَقَالَ لَهُ ‏"‏ لاَ بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

নবী (ﷺ) কোনো রোগীকে দেখতে গেলে বলতেন: "লা বা'সা, তাহূরুন ইনশাআল্লাহ" (চিন্তা কোরো না, ইনশাআল্লাহ এই অসুখ তোমাকে গুনাহ থেকে পবিত্র করবে)।

সহিহ বুখারী ৫৬৫৬সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
আপনার জীবনেহাসপাতালে কাউকে দেখতে গেলে কম সময় থাকুন, আশার কথা বলুন, আর এই দোয়াটা পড়ে দিন। রোগীর সামনে অন্যের মৃত্যুর গল্প বা ভয়ের কথা বলবেন না।
৫
অসুস্থের ইবাদত

যতটুকু পারেন, ততটুকুই

অর্শরোগে কষ্ট পাওয়া এক সাহাবিকে নবীজি বলেছিলেন, দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো; না পারলে বসে, তাও না পারলে শুয়ে।

আল্লাহ কাউকে সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না (সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬)। আর বিপদে "ইন্না লিল্লাহ" বলে উত্তম বদলা চাইলে আল্লাহ তা দেন; উম্মু সালামা (রা.) এই দোয়া পড়েছিলেন, আর আবু সালামার পর পেয়েছিলেন স্বয়ং নবীজিকে।

অসুস্থ, সফর ও বিশেষ অবস্থায় নামাজের নিয়ম ›

কোনো মুসলিমের উপর বিপদ এলে সে যদি আল্লাহর আদেশমতো বলে: "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন, আল্লাহুম্মা'জুরনী ফী মুসীবাতী, ওয়া আখলিফ লী খাইরাম মিনহা" (আমরা আল্লাহরই, আর তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ, আমার এই বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন, আর এর চেয়ে ভালো কিছু দিন), তাহলে আল্লাহ তাকে এর চেয়ে ভালো কিছু দেন। উম্মু সালামা (রা.) বলেন: আবু সালামা মারা গেলে আমি ভাবলাম, আবু সালামার চেয়ে ভালো মুসলিম আর কে হবে? তাঁর পরিবারই প্রথম রাসূলুল্লাহর কাছে হিজরত করেছিল। তবু আমি দোয়াটা পড়লাম। ফলে আল্লাহ আমাকে তাঁর বদলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দিলেন।

সহিহ মুসলিম ৯১৮ সহিহ বর্ণনা: উম্মু সালামা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

كَانَتْ بِي بَوَاسِيرُ فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاَةِ فَقَالَ ‏ "‏ صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ

আমার অর্শ রোগ ছিল। তাই আমি নবী (ﷺ)-কে নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো। না পারলে বসে, তাও না পারলে কাত হয়ে শুয়ে।

সহিহ বুখারী ১১১৭সহিহবর্ণনাকারী: ইমরান ইবনু হুসাইন (রা.)
আপনার জীবনেঅসুখে নামাজ ছাড়বেন না, শুধু সহজ পদ্ধতিতে পড়ুন। হাসপাতালে থাকলে তায়াম্মুম ও বসে নামাজের নিয়ম আগেই জেনে নিন।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই ধাপের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

আইয়ুব (আ.)-এর দোয়া

وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ ﴿٨٣﴾

আর স্মরণ করুন আইয়ূবকে, যখন তিনি তার রবকে ডেকে বলেছিলেন আমি তো দুক্ষি-কষ্টে পড়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু!’

সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৩
রোগীর জন্য নবীজির দোয়া

كَانَ إِذَا أَتَى مَرِيضًا ـ أَوْ أُتِيَ بِهِ ـ قَالَ ‏ "‏ أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ، اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোনো রোগীর কাছে গেলে, বা রোগীকে তাঁর কাছে আনা হলে বলতেন: "আযহিবিল বা'স, রাব্বান নাস, ইশফি ওয়া আনতাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা" (হে মানুষের রব, কষ্ট দূর করে দিন; আরোগ্য দিন, আপনিই আরোগ্যদাতা; আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই; এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ বাকি রাখে না)।

সহিহ বুখারী ৫৬৭৫ সহিহ

ব্যথার জায়গায় হাত রেখে দোয়া

ضَعْ يَدَكَ عَلَى الَّذِي تَأَلَّمَ مِنْ جَسَدِكَ وَقُلْ بِاسْمِ اللَّهِ ‏.‏ ثَلاَثًا ‏.‏ وَقُلْ سَبْعَ مَرَّاتٍ أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ

(উসমান ইবনু আবিল আস (রা.) শরীরের একটা পুরনো ব্যথার কথা জানালেন।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: শরীরের যেখানে ব্যথা, সেখানে হাত রাখো, তিনবার বলো "বিসমিল্লাহ", আর সাতবার বলো: "আঊযু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযির" (আমি যে কষ্ট পাচ্ছি আর যার ভয় করছি, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় চাই)।

সহিহ মুসলিম ২২০২ সহিহ

বিপদের দোয়া ও উত্তম বদলা

কোনো মুসলিমের উপর বিপদ এলে সে যদি আল্লাহর আদেশমতো বলে: "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন, আল্লাহুম্মা'জুরনী ফী মুসীবাতী, ওয়া আখলিফ লী খাইরাম মিনহা" (আমরা আল্লাহরই, আর তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ, আমার এই বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন, আর এর চেয়ে ভালো কিছু দিন), তাহলে আল্লাহ তাকে এর চেয়ে ভালো কিছু দেন। উম্মু সালামা (রা.) বলেন: আবু সালামা মারা গেলে আমি ভাবলাম, আবু সালামার চেয়ে ভালো মুসলিম আর কে হবে? তাঁর পরিবারই প্রথম রাসূলুল্লাহর কাছে হিজরত করেছিল। তবু আমি দোয়াটা পড়লাম। ফলে আল্লাহ আমাকে তাঁর বদলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দিলেন।

সহিহ মুসলিম ৯১৮ সহিহ

সাধ্যের বাইরে বোঝা না চাওয়া

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٨٦﴾

আল্লাহ্‌ কারও উপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।’

সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

সুন্নাহর আলোয় জীবন: সব ধাপ

deenpedia.com · https://deenpedia.com/jibon/osusthota/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার