deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

যাচাই · প্রচলিত কথা

প্রচলিত ভুল ও সঠিক তথ্য

বাংলাদেশে মুখে মুখে চলা ১৪৮টি কথা ও আমল: জাল ও দুর্বল "হাদিস", বিদআত আর দৈনন্দিন ভুল বিশ্বাস। প্রতিটির পাশে মুহাদ্দিসদের দেওয়া মান, আর সঠিক কথাটি কুরআন ও সহিহ হাদিসের সূত্রসহ।

জাল ও দুর্বল "হাদিস"১৮টি

জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীনে হলেও যাও।

বাতিল (জাল)সূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ৪১৬

সঠিক কথা: কথাটি নবীজির (ﷺ) নয়। জ্ঞানের মর্যাদা নিয়ে সহিহ হাদিস: "যে জ্ঞান অর্জনের পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন" (সহিহ মুসলিম ২৬৯৯)।

দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।

জালসূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ৩৬

সঠিক কথা: এটি হাদিস নয়। নিজের দেশ ও মানুষকে ভালোবাসা দোষের কিছু নয়, কিন্তু একে নবীজির (ﷺ) বাণী বলে প্রচার করা ঠিক নয়।

মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।

এই শব্দে দুর্বলসূত্র: আলবানীর মতে এই শব্দের সনদ দুর্বল

সঠিক কথা: কাছাকাছি অর্থে হাসান হাদিস আছে: এক সাহাবি জিহাদে যেতে চাইলে নবীজি (ﷺ) বললেন, "মায়ের সেবায় লেগে থাকো, কেননা জান্নাত তাঁর পায়ের কাছে" (সুনানে আন-নাসাঈ ৩১০৪, আলবানী: হাসান সহিহ)।

আমার সাহাবিরা তারকার মতো; যাকেই অনুসরণ করবে, হেদায়েত পাবে।

জালসূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ৫৮

সঠিক কথা: সাহাবিদের মর্যাদা কুরআন ও সহিহ হাদিসে প্রমাণিত (সূরা আত-তাওবা ৯:১০০)। তবে মতভেদের সময় ফয়সালা হবে আল্লাহ ও রাসূলের (ﷺ) দিকে ফিরে (সূরা আন-নিসা ৪:৫৯), এই জাল কথা দিয়ে নয়।

আমার উম্মতের মতভেদ রহমত।

ভিত্তিহীনসূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ৫৭ (কোনো সনদ নেই)

সঠিক কথা: আল্লাহ বিভক্ত হতে নিষেধ করেছেন: "তোমরা সবাই আল্লাহর রশি শক্ত করে ধরো, বিভক্ত হয়ো না" (সূরা আলে ইমরান ৩:১০৩)। মতভেদ হলে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরতে হবে (সূরা আন-নিসা ৪:৫৯)।

যে নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে।

ভিত্তিহীনসূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ৬৬

সঠিক কথা: এটা নবীজির (ﷺ) হাদিস নয়, পরের যুগের কারো কথা। আল্লাহকে চেনার পথ তাঁর কালাম, তাঁর নাম ও গুণ, আর তাঁর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯০)।

(আল্লাহ নবীজিকে বলেছেন) "আপনি না হলে আমি আসমান-জমিন সৃষ্টি করতাম না।"

জালসূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ২৮২

সঠিক কথা: আল্লাহ নিজেই সৃষ্টির উদ্দেশ্য বলে দিয়েছেন: "আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি" (সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৬)।

আমরা ছোট জিহাদ থেকে বড় জিহাদে (নফসের জিহাদে) ফিরে এলাম।

মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)সূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ২৪৬০

সঠিক কথা: নফসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্ব সঠিক, কিন্তু এই বাক্যটি নবীজির (ﷺ) বলে প্রমাণিত নয়। আল্লাহ বলেছেন, যারা তাঁর পথে চেষ্টা করে, তিনি তাদের পথ দেখান (সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৬৯)।

মসজিদে দুনিয়াবি কথা নেকি এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন পশু ঘাস খায় (বা আগুন কাঠ খায়)।

ভিত্তিহীনসূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ৪

সঠিক কথা: এই কথার কোনো সনদ নেই। তবে মসজিদ ইবাদতের জায়গা; সেখানে উঁচু গলায় কথা বা ঝগড়া না করাই আদব। সাহাবিরা ফজরের পর মসজিদে বসে জাহেলি যুগের কথা বলে হাসতেন, নবীজি (ﷺ) মুচকি হাসতেন (সহিহ মুসলিম ৬৭০)।

দুনিয়ার জন্য এমনভাবে কাজ করো যেন চিরকাল বাঁচবে, আর আখিরাতের জন্য এমনভাবে যেন কালই মারা যাবে।

নবীজির বাণী হিসেবে ভিত্তিহীনসূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ৮

সঠিক কথা: কুরআনের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা: "আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে আখিরাতের ঘর খোঁজো, আর দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না" (সূরা আল-কাসাস ২৮:৭৭)।

দোয়া ইবাদতের মগজ (মূল সার)।

এই শব্দে দুর্বলসূত্র: তিরমিযী ৩৩৭১, আলবানী: যঈফ

সঠিক কথা: সহিহ শব্দ হলো: "দোয়াই ইবাদত।" তারপর নবীজি (ﷺ) পড়লেন: "তোমাদের রব বলেছেন, আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব" (সুনানে আবু দাউদ ১৪৭৯, জামে আত-তিরমিযী ৩৩৭২; আয়াত: সূরা গাফির ৪০:৬০)।

দুনিয়ার তিনটি জিনিস আমার প্রিয়: সুগন্ধি, নারী, আর নামাজে আমার চোখের শীতলতা।

"তিনটি" শব্দটি প্রমাণিত নয়সূত্র: মূল হাদিস নাসাঈ ৩৯৩৯ (আলবানী: হাসান সহিহ); সেখানে "তিনটি" শব্দ নেই

সঠিক কথা: সহিহ শব্দ: "দুনিয়ার মধ্যে আমার কাছে প্রিয় করা হয়েছে নারী ও সুগন্ধি, আর আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে নামাজে" (সুনানে আন-নাসাঈ ৩৯৩৯)। নামাজ দুনিয়ার জিনিস নয়, তাই "তিনটি দুনিয়ার জিনিস" বলাটা ভুল।

পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।

এই শব্দে হাদিস নয়সূত্র: হাদিসগ্রন্থে এই শব্দে কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ নেই; সহিহ শব্দ মুসলিম ২২৩-এ

সঠিক কথা: সহিহ হাদিসের শব্দ: "পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক" (সহিহ মুসলিম ২২৩)। অর্থাৎ অজু-গোসলের পবিত্রতা; সাথে শরীর ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখাও ইসলামের শিক্ষা।

বিদেশে (প্রবাসে) মৃত্যু শাহাদাত।

দুর্বলসূত্র: ইবনু মাজাহ ১৬১৩, আলবানী: যঈফ

সঠিক কথা: প্রবাসে মৃত্যুকে শাহাদাত বলার সহিহ দলিল নেই। শহীদের প্রকার সহিহ হাদিসে এসেছে: আল্লাহর পথে নিহত, মহামারিতে মৃত, পেটের রোগে মৃত, ডুবে মৃত ইত্যাদি (সহিহ মুসলিম ১৯১৫)।

"সন্তানদের সাঁতার, তীর ছোড়া ও ঘোড়ায় চড়া শেখাও" কথাটি নবীজির সহিহ হাদিস।

দুর্বল

সঠিক কথা: এই শব্দে বর্ণনাটি শাইখ আলবানী সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা-তে দুর্বল বলেছেন। তবে তীর ছোড়ায় উৎসাহ দেওয়ার কথা সহিহ বুখারীতে আছে (সহিহ বুখারী ২৮৯৯), আর শরীরচর্চা ও দক্ষতা শেখা এমনিতেই ভালো।

ওয়াক্তের শুরুতে নামাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর শেষে আল্লাহর ক্ষমা।

জাল

সঠিক কথা: এটা তিরমিযী ১৭২-এ আছে, কিন্তু শাইখ আলবানী একে জাল (মাওযূ) বলেছেন। সময়মতো নামাজের ফজিলত বোঝাতে সহিহ হাদিসই যথেষ্ট: সবচেয়ে প্রিয় আমল সময়মতো নামাজ (সহিহ বুখারী ৫২৭)।

নামাজ মুমিনের মিরাজ।

ভিত্তিহীন

সঠিক কথা: এটা হাদিস হিসেবে কোনো সনদে পাওয়া যায় না। কথাটার অর্থ ভালো হলেও নবীজির নামে বলা ঠিক নয়। সহিহ কথা হলো: সিজদায় বান্দা রবের সবচেয়ে কাছে (সহিহ মুসলিম ৪৮২)।

জুমা গরিবের হজ।

জাল

সঠিক কথা: এই কথাটি হাদিস হিসেবে প্রমাণিত নয়; মুহাদ্দিসরা এর সনদকে জাল বা ভিত্তিহীন বলেছেন। জুমার মর্যাদা বোঝাতে সহিহ হাদিসই যথেষ্ট (সহিহ মুসলিম ৮৫৪)।

আকিদা, শিরক ও পীর-মাজার১৮টি

নবীজি (ﷺ) গায়েব (অদৃশ্যের সব খবর) জানেন; ওলি-আউলিয়ারাও গায়েব জানেন।

কুরআনবিরোধীসূত্র: সূরা আন-নামল ২৭:৬৫, সূরা আল-আরাফ ৭:১৮৮

সঠিক কথা: আল্লাহ বলেন: "বলুন, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না" (সূরা আন-নামল ২৭:৬৫)। নবীজিকে (ﷺ) দিয়েও বলানো হয়েছে: "আমি যদি গায়েব জানতাম, তবে অনেক কল্যাণ লাভ করতাম" (সূরা আল-আরাফ ৭:১৮৮)। আল্লাহ ওহির মাধ্যমে যতটুকু জানিয়েছেন, তিনি ততটুকুই জানতেন।

নবীজি (ﷺ) মাটির মানুষ নন, নূরের তৈরি।

কুরআনবিরোধীসূত্র: সূরা আল-কাহফ ১৮:১১০

সঠিক কথা: আল্লাহ নবীজিকে (ﷺ) বলতে বলেছেন: "বলুন, আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার কাছে ওহি আসে" (সূরা আল-কাহফ ১৮:১১০)। নবীজি (ﷺ) নিজে বলেছেন: "আমি তোমাদের মতোই মানুষ, তোমরা যেমন ভোলো আমিও ভুলি" (সহিহ বুখারী ৪০১)। তাঁর মর্যাদা নবুয়ত ও ওহিতে, তিনি হেদায়েতের আলো (সূরা আল-মায়িদা ৫:১৫), কিন্তু সৃষ্টিতে মানুষ।

নবীজি (ﷺ) হাজির-নাজির; মিলাদ বা দরুদের মজলিসে তিনি উপস্থিত হন।

কুরআনবিরোধীসূত্র: সূরা আয-যুমার ৩৯:৩০, আলে ইমরান ৩:১৪৪

সঠিক কথা: আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আপনিও মারা যাবেন, আর তারাও মারা যাবে" (সূরা আয-যুমার ৩৯:৩০)। নবীজি (ﷺ) ইন্তেকাল করেছেন (সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪), এখন তিনি বারযাখের জীবনে আছেন। সব জায়গায় সব সময় উপস্থিত থাকা ও সব দেখা শুধু আল্লাহর গুণ।

মৃত পীর-বুজুর্গ কবরে আমাদের ডাক শোনেন, বিপদে সাহায্য করেন ("ইয়া গাউস মদদ", "ইয়া খাজা বাবা")।

শিরকসূত্র: সূরা ফাতির ৩৫:১৩-১৪, সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৫

সঠিক কথা: আল্লাহ বলেন: "তোমরা আল্লাহকে ছাড়া যাদের ডাকো, তারা খেজুরের আঁটির পাতলা আবরণেরও মালিক নয়। তোমরা ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শোনে না, শুনলেও সাড়া দিতে পারে না" (সূরা ফাতির ৩৫:১৩, সূরা ফাতির ৩৫:১৪)। প্রতিদিন নামাজে আমরা বলি: "আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি, আর শুধু তোমার কাছেই সাহায্য চাই" (সূরা আল-ফাতিহা ১:৫)।

মাজারে সিজদা, মানত, গরু-ছাগল বা শিরনি দিলে মনের আশা পূরণ হয়।

শিরকসূত্র: সহিহ মুসলিম ১৯৭৮; সূরা আল-জিন ৭২:১৮

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে পশু জবাই করে, আল্লাহ তাকে লানত করেন" (সহিহ মুসলিম ১৯৭৮)। মানত শুধু আল্লাহর আনুগত্যের কাজে হয় (সহিহ বুখারী ৬৬৯৬)। সিজদা শুধু আল্লাহর জন্য (সূরা আল-জিন ৭২:১৮, সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩৭)।

কবরের উপর মাজার, গম্বুজ বা মসজিদ বানানো বুজুর্গের প্রতি সম্মান।

সুন্নাহবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ৪৩৫-৪৩৬, সহিহ মুসলিম ৯৬৯, ৯৭০

সঠিক কথা: মৃত্যুশয্যায় নবীজি (ﷺ) সতর্ক করেছেন: ইহুদি-খ্রিস্টানদের উপর আল্লাহর লানত, তারা নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়েছে (সহিহ বুখারী ৪৩৫)। তিনি কবর পাকা করতে, তার উপর ঘর বানাতে নিষেধ করেছেন (সহিহ মুসলিম ৯৭০), আর আলী (রা.)-কে পাঠিয়েছিলেন উঁচু কবর মাটির সমান করে দিতে (সহিহ মুসলিম ৯৬৯)।

পীরের হাতে বাইআত (মুরিদ) না হলে মুক্তি নেই; "যে বাইআত ছাড়া মারা যায়, সে জাহেলি মৃত্যু মরে।"

হাদিসের ভুল প্রয়োগসূত্র: সহিহ মুসলিম ১৮৫১ (প্রসঙ্গ: মুসলিম শাসকের আনুগত্য)

সঠিক কথা: এই হাদিস মুসলিমদের শাসক বা খলিফার আনুগত্যের বাইআত নিয়ে, পীর-মুরিদি নিয়ে নয়; ইবনু উমার (রা.) এটি বলেছিলেন খলিফার আনুগত্য ভাঙার প্রসঙ্গে (সহিহ মুসলিম ১৮৫১)। মুক্তির পথ আল্লাহ ও রাসূলের (ﷺ) আনুগত্য (সূরা আন-নিসা ৪:৬৯, সূরা আলে ইমরান ৩:৩১)।

হাত দেখা, রাশিফল, টিয়া পাখি দিয়ে ভাগ্য গণনা বা জ্যোতিষীর কথায় চলা নিছক বিনোদন।

হারাম, বিশ্বাস করলে কুফরসূত্র: সহিহ মুসলিম ২২৩০; আবু দাউদ ৩৯০৪ (আলবানী: সহিহ)

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "যে কোনো গণকের কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে, চল্লিশ রাত তার নামাজ কবুল হয় না" (সহিহ মুসলিম ২২৩০)। আর যে তার কথা বিশ্বাস করে, সে মুহাম্মাদের (ﷺ) উপর নাযিল হওয়া দ্বীন অস্বীকার করল (সুনানে আবু দাউদ ৩৯০৪)।

তাকদিরে যা লেখা আছে তা-ই হবে, তাই আমল বা চেষ্টা করে লাভ নেই।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ৪৯৪৯

সঠিক কথা: সাহাবিরা ঠিক এই প্রশ্ন করেছিলেন। নবীজি (ﷺ) বললেন: "আমল করতে থাকো, যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য তা সহজ করে দেওয়া হয়", তারপর সূরা আল-লাইলের আয়াত পড়লেন (সহিহ বুখারী ৪৯৪৯, সূরা আল-লাইল ৯২:৫)।

ভাগ্য বদলাতে আংটিতে রত্নপাথর (নীলা, পান্না, গোমেদ) পরতে হয়।

শিরকের আশঙ্কাসূত্র: আবু দাউদ ৩৮৮৩ (আলবানী: সহিহ)

সঠিক কথা: কোনো পাথর, সুতা বা তাবিজ নিজে উপকার বা ক্ষতি করে, এমন বিশ্বাস শিরক; নবীজি (ﷺ) শিরকি ঝাড়ফুঁক, তাবিজ ও এ ধরনের জিনিসকে শিরক বলেছেন (সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮৩)। "আল্লাহ যদি তোমাকে কষ্ট দেন, তিনি ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারে না" (সূরা আল-আনআম ৬:১৭)।

মিলাদে বা ওয়াজে নবীজির (ﷺ) প্রশংসায় যত বাড়াবাড়ি করা যায় ততই ভালো।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ৩৪৪৫

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) নিজেই নিষেধ করেছেন: "খ্রিস্টানরা যেমন ঈসা ইবনু মারইয়ামের প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করেছে, তোমরা আমার ব্যাপারে তেমন কোরো না। আমি তো আল্লাহর বান্দা; তাই বলো, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল" (সহিহ বুখারী ৩৪৪৫)।

অনেক গুনাহ করেছি, আমার আর ভালো হওয়ার সুযোগ নেই।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না; তিনি সব গুনাহ মাফ করেন (সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩)। নিরাশ হওয়াটাই শয়তানের চাওয়া।

দ্বীন মানলে একসাথে সব করতে হবে, না পারলে শুরু করে লাভ নেই।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: দ্বীন সহজ, আর অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয় (সহিহ বুখারী ৩৯, সহিহ বুখারী ৬৪৬৪)। ফরজ দিয়ে শুরু করুন, তারপর ধীরে ধীরে বাড়ান।

আল্লাহ সত্তাগতভাবে সব জায়গায় বিরাজমান।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: কুরআন বলছে আল্লাহ আরশের উপরে (সূরা ত্বা-হা ২০:৫, সূরা আল-হাদীদ ৫৭:৪), আর দাসীর হাদিসও তা-ই বলে (সহিহ মুসলিম ৫৩৭)। "আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন" মানে তাঁর জ্ঞান, দেখা, শোনা ও সাহায্য সবখানে।

পীর বা মাজারের মাধ্যমে চাইলে দোয়া তাড়াতাড়ি কবুল হয়।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: আল্লাহ বলেছেন, তিনি কাছে আছেন এবং যে ডাকে তার ডাকে সাড়া দেন (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৬)। আল্লাহ আর বান্দার মাঝে দোয়ার জন্য কোনো মাধ্যম লাগে না।

তাবিজে তো কুরআনের আয়াত আছে, তাই সমস্যা নেই।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) তাবিজকে শিরক বলেছেন (সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮৩)। কুরআনের আয়াতওয়ালা তাবিজ নিয়ে সাহাবিদের পরবর্তী আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে; তবে সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো তা থেকে দূরে থাকা এবং নবীজির শেখানো পদ্ধতিতে আয়াত ও দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করা।

গর্ভবতী মায়ের পেটে বা হাতে তাবিজ বাঁধলে গর্ভ নিরাপদ থাকে।

শিরকের আশঙ্কা

সঠিক কথা: নবী (ﷺ) তাবিজ ও শিরকি ঝাড়ফুঁককে শিরক বলেছেন (সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮৩)। সুরক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, কুরআন দিয়ে নিজে রুকইয়া করুন, আর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

রোগ সারাতে তাবিজ বা সুতা বাঁধা সুন্নাহসম্মত।

শিরকের আশঙ্কা

সঠিক কথা: নবী (ﷺ) তাবিজ ও শিরকি ঝাড়ফুঁককে শিরক বলেছেন (সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮৩)। নিজে কুরআন ও সহিহ দোয়া দিয়ে রুকইয়া করুন (সহিহ মুসলিম ২২০২) এবং চিকিৎসা নিন (সহিহ বুখারী ৫৬৭৮)।

অজু ও পবিত্রতা৯টি

অজুর পর আকাশের দিকে তাকিয়ে, আঙুল তুলে কালিমা পড়তে হয়।

দুর্বলসূত্র: আবু দাউদ ১৭০, আলবানী: যঈফ (আকাশের দিকে তাকানোর অংশ)

সঠিক কথা: অজুর পরের দোয়া সহিহ হাদিসে আছে (সহিহ মুসলিম ২৩৪), কিন্তু আকাশের দিকে তাকানোর অংশটি দুর্বল বর্ণনায় এসেছে। শুধু দোয়াটি পড়ুন।

চামড়ার মোজার উপর মাসাহ চলে না; পা খুলে ধুতেই হবে।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ২০৬

সঠিক কথা: অজু অবস্থায় পরা মোজার উপর নবীজি (ﷺ) মাসাহ করেছেন, আর বলেছেন: "এগুলো রেখে দাও, আমি পবিত্র অবস্থায় পা ঢুকিয়েছিলাম" (সহিহ বুখারী ২০৬)।

অজুর মাঝে কথা বললে অজু ভেঙে যায়।

ভিত্তিহীনসূত্র: অজু ভাঙার কারণের মধ্যে কথা বলার কোনো দলিল নেই

সঠিক কথা: অজু ভাঙে প্রস্রাব-পায়খানা, বায়ু বের হওয়া ইত্যাদিতে (সহিহ বুখারী ১৩৫, সহিহ বুখারী ১৩৭)। অজুর মাঝে প্রয়োজনে কথা বললে অজু নষ্ট হয় না, তবে মন দিয়ে অজু করাই উত্তম।

ফরজ গোসলের আগে নির্দিষ্ট নিয়ত মুখে পড়তে হয় ("নাওয়াইতুল গুসলা...")।

দলিল নেইসূত্র: নবীজি (ﷺ) বা সাহাবিদের থেকে এমন বাক্য বর্ণিত নেই

সঠিক কথা: নিয়ত অন্তরের কাজ (সহিহ বুখারী ১)। নবীজির (ﷺ) গোসলের পদ্ধতি সহিহ হাদিসে আছে, সেখানে মুখে নিয়ত পড়ার কথা নেই (সহিহ বুখারী ২৪৮)।

অজুর প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় আলাদা আলাদা দোয়া পড়তে হয়।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: প্রতিটি অঙ্গের জন্য আলাদা দোয়ার কোনো সহিহ বর্ণনা নেই; ইমাম নববী (রহ.) "আল-আযকার" গ্রন্থে বলেছেন, এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। অজুর পরে সহিহ দোয়াটি পড়ুন (সহিহ মুসলিম ২৩৪)।

একটু সন্দেহ হলেই আবার অজু করা উচিত, এতেই সতর্কতা।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: নিশ্চিত অজু সন্দেহে ভাঙে না (সহিহ বুখারী ১৩৭)। বারবার অজু করার অভ্যাস ওয়াসওয়াসা বাড়ায়।

ওজুতে ঘাড় মাসেহ করা সুন্নাহ।

দুর্বল

সঠিক কথা: ঘাড় মাসেহের বর্ণনাগুলো দুর্বল। সহিহ বর্ণনায় শুধু মাথা ও কান মাসেহের কথা আছে (সহিহ বুখারী ১৫৯)। হানাফি মাযহাবের কিছু কিতাবে একে মুস্তাহাব বলা হয়েছে, তবে দলিল দুর্বল।

প্রস্রাবের পর অনেকক্ষণ হাঁটাহাঁটি, কাশি দেওয়া বা ঢিলা নিয়ে বসে থাকা জরুরি।

বাড়াবাড়ি

সঠিক কথা: এসব বাড়াবাড়ি ওয়াসওয়াসা বাড়ায়। ভালোভাবে পরিষ্কার হওয়াই যথেষ্ট; সন্দেহ ঠেকাতে কাপড়ে হালকা পানি ছিটিয়ে নেওয়া যায়। নিশ্চিত পবিত্রতা সন্দেহে নষ্ট হয় না (সহিহ বুখারী ১৩৭)।

নামাজ ও মসজিদ২১টি

টুপি ছাড়া পুরুষের নামাজ হয় না।

ভুল ধারণাসূত্র: সহিহ বুখারী ৩৫৪

সঠিক কথা: পুরুষের নামাজের শর্ত সতর ঢাকা; মাথা ঢাকা শর্ত নয়। নবীজি (ﷺ) একটি মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়েও নামাজ পড়েছেন (সহিহ বুখারী ৩৫৪)। তবে সুন্দর ও পরিপাটি পোশাকে নামাজে দাঁড়ানো উত্তম (সূরা আল-আরাফ ৭:৩১)।

জুতা পায়ে নামাজ কখনোই হয় না।

ভুল ধারণাসূত্র: সহিহ বুখারী ৩৮৬

সঠিক কথা: আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, নবীজি (ﷺ) কি জুতা পরে নামাজ পড়তেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ (সহিহ বুখারী ৩৮৬)। শর্ত হলো জুতা পাক হতে হবে। মসজিদে কার্পেট থাকলে তা পরিষ্কার রাখতে জুতা খুলে রাখাই এখনকার নিয়ম, এটাও ঠিক।

জায়নামাজের কোণা উল্টে না রাখলে শয়তান তাতে নামাজ পড়ে।

ভিত্তিহীনসূত্র: কোনো হাদিসগ্রন্থে এর অস্তিত্ব নেই

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "পুরো জমিনকে আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার উপকরণ বানানো হয়েছে" (সহিহ বুখারী ৩৩৫)। জায়নামাজ শুধু পরিষ্কার জায়গার ব্যবস্থা; তা ভাঁজ না করলে কোনো ক্ষতি নেই।

নিয়ত মুখে উচ্চারণ না করলে আমল হয় না।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: নিয়ত অন্তরের কাজ (সহিহ বুখারী ১)। নবীজি (ﷺ) বা সাহাবিদের থেকে নামাজ বা অজুর আগে মুখে নিয়তের বাক্য পড়ার কোনো সহিহ বর্ণনা পাওয়া যায় না।

তাড়াতাড়ি পড়লেও নামাজ হয়ে যায়।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: রুকু-সিজদায় স্থির না হওয়া ব্যক্তিকে নবীজি (ﷺ) তিনবার বলেছেন, "তুমি নামাজ পড়োনি" (সহিহ বুখারী ৭৫৭)।

মন না বসলে নামাজ পড়ে লাভ নেই।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: নামাজ ফরজ, মন বসুক বা না বসুক। মনোযোগ (খুশু) ধীরে ধীরে বাড়ানোর চেষ্টা করুন; সফল মুমিনদের গুণই হলো নামাজে বিনয় (সূরা আল-মুমিনূন ২৩:২)।

ফরজ নামাজের পর ইমামের সাথে হাত তুলে সম্মিলিত মুনাজাত নবীজির (ﷺ) নিয়মিত আমল।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: ফরজের পর নবীজি (ﷺ) যে যিকির করতেন তা সহিহভাবে বর্ণিত (সহিহ মুসলিম ৫৯১)। কিন্তু প্রতিদিন ইমাম-মুক্তাদি মিলে হাত তুলে সম্মিলিত মুনাজাত করার কোনো সহিহ বর্ণনা পাওয়া যায় না। প্রত্যেকে নিজে নিজে যেকোনো সময় দোয়া করতে পারেন।

আজানে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" শুনে বুড়ো আঙুলে চুমু দিয়ে চোখে লাগাতে হয়।

ভিত্তিহীন

সঠিক কথা: ইমাম সাখাবী (রহ.) বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা সহিহ নয়। সুন্নাহ হলো মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে বলা (সহিহ মুসলিম ৩৮৫) আর শেষে দরুদ ও দোয়া পড়া (সহিহ বুখারী ৬১৪)।

আজানের সময় কথা বললে ঈমান চলে যায়।

ভিত্তিহীন

সঠিক কথা: এমন কোনো হাদিস নেই। তবে আজানের জবাব দেওয়া সুন্নাহ, তাই অপ্রয়োজনীয় কথা থামিয়ে জবাব দেওয়াই উত্তম।

নামাজ ছাড়লে পনেরোটি শাস্তি: পাঁচটি দুনিয়ায়, তিনটি মৃত্যুর সময়...

জাল

সঠিক কথা: এই লম্বা তালিকা জাল বর্ণনা। নামাজ ছাড়ার ভয়াবহতা বোঝাতে কুরআন ও সহিহ হাদিসই যথেষ্ট (সহিহ মুসলিম ৮২)।

এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা করলে ৮০ হুকবা (২ কোটি ৮৮ লাখ বছর) জাহান্নামে থাকতে হবে।

ভিত্তিহীন

সঠিক কথা: এর কোনো সহিহ ভিত্তি নেই। ঘুম বা ভুলে ছুটে গেলে মনে পড়ামাত্র পড়ে নেওয়াই কাফফারা (সহিহ বুখারী ৫৯৭)।

যার নামাজ তাকে অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে না, সে আল্লাহ থেকে শুধু দূরেই সরে যায়।

বাতিলসূত্র: সিলসিলা যঈফা ২

সঠিক কথা: এটা নবীজির হাদিস হিসেবে প্রমাণিত নয়; শাইখ আলবানী একে বাতিল বলেছেন (সিলসিলা যঈফা ২)। সহিহ কথা কুরআনের আয়াত: নামাজ অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে (সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৪৫)।

রফউল ইয়াদাইন করলে (বা না করলে) নামাজ হয় না।

ভুল

সঠিক কথা: দুই আমলই সাহাবিদের থেকে এসেছে এবং বড় বড় ইমামরা দুটোই মেনেছেন (সহিহ বুখারী ৭৩৫)। এটা উত্তম-অনুত্তমের মতভেদ, নামাজ শুদ্ধ-অশুদ্ধের নয়। এ নিয়ে মসজিদে ঝগড়া করা নামাজের চেয়ে বড় ক্ষতি।

নামাজে কোনো ভুল হলে পুরো নামাজ আবার পড়তে হয়।

ভুল

সঠিক কথা: ওয়াজিব বা সুন্নত কোনো কাজ ভুলে ছুটে গেলে সাহু সিজদাই যথেষ্ট (সহিহ বুখারী ১২২৪, সহিহ মুসলিম ৫৭১)। শুধু কোনো রুকন (যেমন রুকু বা সিজদা) একেবারে বাদ পড়লে সেটা আদায় করতে হয়।

রমজানের শেষ জুমায় কয়েক রাকাত "কাজায়ে উমরী" পড়লে সারাজীবনের ছুটে যাওয়া নামাজ আদায় হয়ে যায়।

ভিত্তিহীন

সঠিক কথা: এর কোনো ভিত্তি নেই, আর হানাফি সহ সব মাযহাবের আলেমরা একে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ছুটে যাওয়া নামাজের জন্য তাওবা আর একটা একটা করে কাজা আদায় করতে হয় (সহিহ বুখারী ৫৯৭)।

মাগরিবের পর ছয় রাকাত "আওয়াবীন" পড়লে বারো বছরের ইবাদতের সওয়াব।

খুবই দুর্বল

সঠিক কথা: এটা তিরমিযী ৪৩৫-এ আছে, শাইখ আলবানী একে খুবই দুর্বল বলেছেন। মাগরিবের পর নফল পড়া এমনিতে ভালো, তবে এই পুরস্কারের কথা প্রমাণিত নয়। সহিহ মুসলিমে (৭৪৮) "আওয়াবীনের নামাজ" বলা হয়েছে দুহার নামাজকে, যখন রোদ তপ্ত হয়।

সালাতুল হাজত: নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট দোয়াসহ বারো রাকাত বা দুই রাকাত পড়লে যেকোনো প্রয়োজন পূরণ হয়।

খুবই দুর্বল

সঠিক কথা: প্রচলিত সালাতুল হাজতের বর্ণনাটি (তিরমিযী ৪৭৯) শাইখ আলবানী খুবই দুর্বল বলেছেন। প্রয়োজনে যেকোনো সময় দুই রাকাত নফল পড়ে নিজের ভাষায় দোয়া করা যায়; সিজদায় দোয়া সবচেয়ে কাছের (সহিহ মুসলিম ৪৮২)। আর সালাতুত তাসবীহ (আবু দাউদ ১২৯৭) নিয়ে আলেমদের মতভেদ আছে: আলবানী সহ অনেকে সহিহ বলেছেন, আবার অনেকে দুর্বল। পড়তে চাইলে মাঝে মাঝে পড়া যায়, তবে একে নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়।

জুমার আগে চার রাকাত সুন্নত নবীজির নির্দিষ্ট আমল ছিল (হাদিস: "তিনি জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন")।

খুবই দুর্বল

সঠিক কথা: এই বর্ণনাটি (ইবনু মাজাহ ১১২৯) শাইখ আলবানী খুবই দুর্বল বলেছেন। ইমাম আসার আগে যত খুশি নফল পড়ার কথা সহিহ (সহিহ বুখারী ৮৮৩)। হানাফি মাযহাবে চার রাকাত পড়া হয় সাহাবিদের আমলের ভিত্তিতে; চাইলে পড়ুন, কিন্তু একে নবীজির হাদিস বলবেন না।

জুমার পর "আখেরি জোহর" পড়তে হয়, কারণ জুমা কবুল হলো কি না নিশ্চিত নয়।

ভিত্তিহীন

সঠিক কথা: জুমা দুই রাকাতের পূর্ণাঙ্গ নামাজ, যা জোহরের বদলে (সুনানে আন-নাসাঈ ১৪২০)। জুমার পর আবার জোহর পড়ার কোনো দলিল নবীজি বা সাহাবিদের থেকে নেই।

"জুমা মোবারক" বলা সুন্নাহ, আর না বললে জুমার আদব পূর্ণ হয় না।

প্রমাণ নেই

সঠিক কথা: নবীজি বা সাহাবিরা জুমার দিন বিশেষ কোনো শুভেচ্ছাবাক্য বলতেন, এমন প্রমাণ নেই। ভালো দোয়া হিসেবে বলা দোষের নয়, কিন্তু একে সুন্নাহ মনে করা বা বার্তা পাঠানোকে জরুরি ভাবা ঠিক নয়।

জুমার দিন নখ কাটলে বিশেষ রোগমুক্তি বা নির্দিষ্ট পুরস্কার।

দুর্বল

সঠিক কথা: জুমার দিন নখ কাটার নির্দিষ্ট ফজিলতের বর্ণনাগুলো দুর্বল। নখ কাটা ফিতরাতের সুন্নাহ, যেকোনো দিন করা যায়; তবে চল্লিশ দিনের বেশি দেরি করা উচিত নয়।

কুরআন তিলাওয়াত১০টি

"প্রতিটি জিনিসের হৃদয় আছে, কুরআনের হৃদয় সূরা ইয়াসীন; যে একবার পড়ে সে দশবার কুরআন খতমের সওয়াব পায়।"

জালসূত্র: তিরমিযী ২৮৮৭, আলবানী: মাওযূ (জাল)

সঠিক কথা: সূরা ইয়াসীন কুরআনের সূরা, পড়লে প্রতিটি অক্ষরে নেকি আছে। কিন্তু এই নির্দিষ্ট ফজিলতের বর্ণনাটি জাল। সূরা ফাতিহা, বাকারা, আলে ইমরান, কাহফ, মুলক ও ইখলাসের ফজিলত সহিহ হাদিসে প্রমাণিত।

যে প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পড়ে, সে কখনো অভাবে পড়বে না।

দুর্বলসূত্র: আলবানী, সিলসিলা যঈফা ২৮৯

সঠিক কথা: সূরাটি পড়া ভালো, কিন্তু এই ফজিলতের বর্ণনা দুর্বল। রিযিকের জন্য সহিহ পথ: তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল (সূরা আত-তালাক ৬৫:২, সূরা আত-তালাক ৬৫:৩), আর বেশি বেশি ইস্তিগফার (সূরা নূহ ৭১:১০, সূরা নূহ ৭১:১১, সূরা নূহ ৭১:১২)।

কুরআন হাত থেকে মাটিতে পড়ে গেলে ওজন করে সমপরিমাণ চাল বা টাকা দান করতে হয়।

ভিত্তিহীনসূত্র: কুরআন বা হাদিসে এমন কাফফারার কোনো উল্লেখ নেই

সঠিক কথা: কাফফারা ঠিক করেন শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ), যেমন কসম ভাঙার কাফফারা (সূরা আল-মায়িদা ৫:৮৯)। কুরআন অসাবধানে পড়ে গেলে সম্মানের সাথে তুলে নিন, আর সাবধান হোন; এতে কোনো গুনাহ বা জরিমানা নেই। নিজের ইচ্ছায় দান করা ভালো কাজ, কিন্তু একে বাধ্যতামূলক নিয়ম বানানো ঠিক নয়।

আরবি না বুঝে শুধু সুর দিয়ে পড়াই যথেষ্ট; কুরআনের অর্থ বোঝা আলেমদের কাজ।

কুরআনবিরোধীসূত্র: সূরা সোয়াদ ৩৮:২৯, সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:২৪

সঠিক কথা: না বুঝে তিলাওয়াতেও নেকি আছে। কিন্তু কুরআন নাযিল হয়েছে চিন্তা করার জন্য: "এটি এক বরকতময় কিতাব, যেন তারা এর আয়াত নিয়ে চিন্তা করে" (সূরা সোয়াদ ৩৮:২৯); "তারা কি কুরআন নিয়ে ভাবে না?" (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:২৪)। প্রতিদিন অল্প হলেও অর্থসহ পড়ুন।

গর্ভাবস্থায় সূরা ইউসুফ পড়লে সন্তান সুন্দর হয়, সূরা মারইয়াম পড়লে প্রসব সহজ হয়।

সহিহ দলিল নেই

সঠিক কথা: নির্দিষ্ট সূরার সাথে সন্তানের চেহারা বা প্রসবের এমন সম্পর্কের কথা কুরআন বা সহিহ হাদিসে নেই। গর্ভের সময় যেকোনো সূরা তিলাওয়াত করা ভালো আমল, তবে নিজে থেকে কোনো বিশেষ ফল নির্দিষ্ট করা ঠিক নয়।

মুমূর্ষুর কাছে সূরা ইয়াসীন পড়ার নির্দেশ সহিহ হাদিসে এসেছে।

দুর্বল বর্ণনা

সঠিক কথা: "তোমাদের মৃতদের কাছে ইয়াসীন পড়ো" বর্ণনাটি (আবু দাউদ ৩১২১) শাইখ আলবানী-সহ অনেক মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন। সহিহ সুন্নাহ হলো কালিমা মনে করিয়ে দেওয়া (সহিহ মুসলিম ৯১৬)। কুরআন পড়া নিজে ভালো কাজ, তবে একে নির্দিষ্ট সুন্নাহ বলা ঠিক নয়।

প্রথম রাকাতে পরের সূরা আর দ্বিতীয় রাকাতে আগের সূরা পড়লে নামাজ হয় না।

ভুল

সঠিক কথা: নবীজি নিজে রাতের নামাজে আন-নিসা পড়ে তারপর আলে-ইমরান পড়েছেন (সহিহ মুসলিম ৭৭২)। ক্রম উল্টালে নামাজ নষ্ট হয় না; ফরজে ইচ্ছা করে উল্টানো অনেকের মতে মাকরূহ মাত্র।

নামাজে শুধু কুরআনের শেষ দশ সূরাই পড়া যায়।

ভুল

সঠিক কথা: কুরআনের যেকোনো অংশ পড়া যায়, যা সহজ (সূরা আল-মুযযাম্মিল ৭৩:২০)। শেষ দশ সূরা শুধু শুরু করার জন্য সহজ; মুখস্থ বাড়লে অন্য অংশও পড়ুন।

একই সূরা দুই রাকাতে পড়া হারাম বা মাকরূহ।

ভুল

সঠিক কথা: নবীজি ফজরের দুই রাকাতেই সূরা আয-যিলযাল পড়েছেন বলে বর্ণনা আছে (সুনানে আবু দাউদ ৮১৬)। প্রয়োজনে বা মুখস্থ কম থাকলে এক সূরা দুই রাকাতে পড়তে কোনো সমস্যা নেই।

তিনবার সূরা ইখলাস পড়লে কুরআন খতমের সমান, তাই আর কুরআন পড়ার দরকার নেই।

ভুল বোঝা

সঠিক কথা: সূরা ইখলাস কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান, এটা সহিহ (সহিহ বুখারী ৫০১৩)। কিন্তু আলেমরা বলেছেন, এর অর্থ সওয়াবের দিক থেকে; এটা পুরো কুরআন পড়া, বোঝা আর মানার বিকল্প নয়।

রোজা ও রমজান৬টি

রোজার নিয়ত মুখে "নাওয়াইতু আন আসুমা গাদান..." না পড়লে রোজা হয় না।

দলিল নেইসূত্র: নবীজি (ﷺ) বা সাহাবিদের থেকে এমন বাক্য বর্ণিত নেই

সঠিক কথা: নিয়ত অন্তরের কাজ (সহিহ বুখারী ১)। ফরজ রোজার জন্য ফজরের আগে মনে মনে রোজার সংকল্প থাকাই যথেষ্ট (সুনানে আবু দাউদ ২৪৫৪)। সাহরি খেতে ওঠাই নিয়তের প্রমাণ।

ইফতারের দোয়া "আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু" সহিহ হাদিসে প্রমাণিত।

দুর্বলসূত্র: আবু দাউদ ২৩৫৮, আলবানী: যঈফ (মুরসাল)

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) ইফতারের পর যে দোয়া পড়তেন বলে হাসান সনদে এসেছে: "যাহাবায যামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ" (পিপাসা মিটল, শিরা ভিজল, আর আল্লাহ চাইলে প্রতিদান নিশ্চিত হলো) (সুনানে আবু দাউদ ২৩৫৭, আলবানী: হাসান)। ইফতারের আগে যেকোনো দোয়া করা যায়।

ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙে যায়, কাজা করতে হবে।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ১৯৩৩, সহিহ মুসলিম ১১৫৫

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "কেউ রোজা অবস্থায় ভুলে খেয়ে বা পান করে ফেললে সে যেন রোজা পূর্ণ করে; আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন" (সহিহ বুখারী ১৯৩৩)। মনে পড়ামাত্র খাওয়া থামিয়ে দিন।

ফরজ গোসল ফজরের আগে করতে না পারলে সেদিনের রোজা হয় না।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ১৯২৬

সঠিক কথা: আয়েশা ও উম্মে সালামা (রা.) জানিয়েছেন, নবীজির (ﷺ) কখনো নাপাক অবস্থায় ফজর হয়ে যেত, তারপর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন (সহিহ বুখারী ১৯২৬)। তবে নামাজের জন্য দেরি না করে গোসল করে নিন।

সাহরি না খেলে রোজা হয় না।

ভুল ধারণাসূত্র: সহিহ বুখারী ১৯২৩

সঠিক কথা: সাহরি সুন্নাহ ও বরকতের খাবার: "সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত আছে" (সহিহ বুখারী ১৯২৩)। ঘুম থেকে উঠতে না পারলেও রোজা রাখতে হবে, রোজা সহিহ হবে।

শবে কদর নিশ্চিতভাবে রমজানের ২৭ তারিখের রাত; শুধু সেই রাতেই জাগলে হবে।

ভুল ধারণাসূত্র: সহিহ বুখারী ২০১৭

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর খোঁজো" (সহিহ বুখারী ২০১৭)। ২৭ তারিখে হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু সাহাবির মত আছে, কিন্তু শেষ দশকের সব রাতে ইবাদত করাই সুন্নাহ।

শবে বরাত, মিলাদ ও বিশেষ দিন১১টি

শবে বরাতে সারা বছরের ভাগ্য, রিযিক ও হায়াত-মওত লেখা হয়।

কুরআনের ব্যাখ্যায় ভুলসূত্র: সূরা আদ-দুখান ৪৪:৩-৪; ইবনু কাসীর, তাফসীর (৪৪:৩)

সঠিক কথা: সূরা দুখানে যে "বরকতময় রাতে" সব বিষয়ের ফয়সালা হওয়ার কথা (সূরা আদ-দুখান ৪৪:৩, সূরা আদ-দুখান ৪৪:৪), তা কুরআন নাযিলের রাত, আর কুরআন নাযিল হয়েছে রমজানে, লাইলাতুল কদরে (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫, সূরা আল-কদর ৯৭:১)। ইমাম ইবনু কাসীর লিখেছেন: যে বলে এটা শাবানের মধ্য রাত, সে সঠিক পথ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে, কারণ কুরআনের স্পষ্ট বক্তব্য হলো এটা রমজানে।

"শাবানের মধ্য রাত এলে রাত জেগে নামাজ পড়ো আর দিনে রোজা রাখো।"

খুবই দুর্বলসূত্র: ইবনু মাজাহ ১৩৮৮, আলবানী: খুবই দুর্বল (যঈফ জিদ্দান)

সঠিক কথা: শবে বরাতের রাতের জন্য আলাদা নামাজ আর পরদিনের রোজার নির্দেশ কোনো সহিহ হাদিসে নেই। সারা বছরের সুন্নাহ মানুন: প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ, আর প্রতি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখের রোজা (আইয়ামে বীয) ও সোমবার-বৃহস্পতিবারের রোজা।

শবে বরাতে আয়েশা (রা.) নবীজিকে (ﷺ) জান্নাতুল বাকিতে পেয়েছিলেন, আর সে রাতে কালব গোত্রের ছাগলের লোম সমান মানুষকে মাফ করা হয়।

দুর্বলসূত্র: তিরমিযী ৭৩৯, ইবনু মাজাহ ১৩৮৯, আলবানী: যঈফ; ইমাম তিরমিযী লিখেছেন, ইমাম বুখারী একে দুর্বল বলেছেন

সঠিক কথা: এই রাতের ক্ষমা নিয়ে একটি হাসান হাদিস আছে: "শাবানের মধ্য রাতে আল্লাহ সৃষ্টির দিকে তাকান এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন" (সুনানে ইবনু মাজাহ ১৩৯০, আলবানী: হাসান)। তাই এ রাতের শিক্ষা হলো শিরক থেকে বাঁচা আর মানুষের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ দূর করা; বিশেষ নামাজ বা অনুষ্ঠান নয়।

শবে বরাতে হালুয়া-রুটি, আলোকসজ্জা, আতশবাজি আর দল বেঁধে কবরস্থানে যাওয়া সুন্নাহ।

দলিল নেইসূত্র: নবীজি (ﷺ), সাহাবি বা তাবেয়ীদের থেকে এর কোনো বর্ণনা নেই

সঠিক কথা: দ্বীনের মধ্যে নতুন আমল যোগ করলে তা প্রত্যাখ্যাত (সহিহ বুখারী ২৬৯৭, সহিহ মুসলিম ১৭১৮)। আতশবাজি টাকার অপচয় আর মানুষের কষ্টের কারণ (সূরা আল-ইসরা ১৭:২৭)। কবর জিয়ারত যেকোনো দিন সুন্নাহ, আখিরাত মনে করিয়ে দেয় (সহিহ মুসলিম ৯৭৬); নির্দিষ্ট রাতে দল বেঁধে উৎসব করার নিয়ম নেই।

ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিমদের তৃতীয় ঈদ, সবচেয়ে বড় ঈদ।

দলিল নেইসূত্র: আবু দাউদ ১১৩৪ (আলবানী: সহিহ): ইসলামে ঈদ দুটি

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) মদিনায় এসে দেখলেন মানুষ দুটি উৎসবের দিন পালন করে। তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমাদের এর বদলে আরও উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন: ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর" (সুনানে আবু দাউদ ১১৩৪)। সাহাবিরা নবীজিকে (ﷺ) সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তবু তাঁরা জন্মদিন পালন করেননি। দ্বীন পূর্ণ হয়ে গেছে (সূরা আল-মায়িদা ৫:৩)।

নবীজির (ﷺ) জন্মদিন উদযাপন না করলে তাঁকে ভালোবাসা হয় না।

ভুল ধারণাসূত্র: সূরা আলে ইমরান ৩:৩১; সহিহ মুসলিম ১১৬২

সঠিক কথা: ভালোবাসার প্রমাণ তাঁর অনুসরণ: "বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো" (সূরা আলে ইমরান ৩:৩১)। জন্মের দিনকে নবীজি (ﷺ) নিজে যেভাবে মর্যাদা দিয়েছেন তা হলো প্রতি সোমবার রোজা: "এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে" (সহিহ মুসলিম ১১৬২)। আর বেশি বেশি দরুদ পড়া (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৬)।

আশুরার রোজা ও মর্যাদা কারবালায় হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের কারণে।

ভুল ধারণাসূত্র: সহিহ বুখারী ২০০৪, সহিহ মুসলিম ১১৩৪

সঠিক কথা: আশুরার রোজা কারবালার (৬১ হিজরি) প্রায় ৫০ বছর আগে থেকেই। নবীজি (ﷺ) মদিনায় এসে জানলেন, এই দিনে আল্লাহ মূসা (আ.)-কে ফিরআউন থেকে বাঁচিয়েছিলেন, তাই তিনি রোজা রাখলেন ও রাখতে বললেন (সহিহ বুখারী ২০০৪)। সাথে ৯ তারিখেও রোজা রাখার ইচ্ছা করেছিলেন (সহিহ মুসলিম ১১৩৪)। হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত মর্মান্তিক ঘটনা, কিন্তু আশুরার কারণ নয়।

মহররমে মাতম, বুক চাপড়ানো, তাজিয়া মিছিল আর শোক পালন করা সওয়াবের কাজ।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ১২৯৪

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "যে গালে চাপড় মারে, জামা ছিঁড়ে আর জাহেলি যুগের মতো বিলাপ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়" (সহিহ বুখারী ১২৯৪)। বিপদে মুমিনের কাজ ধৈর্য ও "ইন্না লিল্লাহ" পড়া (সূরা আল-বাকারা ২:১৫৬)।

মহররম ও সফর মাস অশুভ; এ সময় বিয়ে-শাদি বা নতুন কাজ শুরু করতে নেই। সফরের শেষ বুধবার ("আখেরি চাহার শোম্বা") বিশেষ দিন।

ভিত্তিহীন কুসংস্কারসূত্র: সহিহ বুখারী ৫৭৫৭: "...ওয়া লা সফার"

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) জাহেলি যুগের এই বিশ্বাস সরাসরি বাতিল করে বলেছেন: "সংক্রমণ (নিজে থেকে) নেই, অশুভ লক্ষণ নেই, পেঁচার কুলক্ষণ নেই, আর সফর মাসের কুলক্ষণ নেই" (সহিহ বুখারী ৫৭৫৭)। মহররম আল্লাহর সম্মানিত চার মাসের একটি (সূরা আত-তাওবা ৯:৩৬); এতে বিয়ে বা যেকোনো ভালো কাজ করা যায়।

শবে বরাতে একশো রাকাত নামাজ, প্রতি রাকাতে দশবার সূরা ইখলাস; এতে সত্তরবার আল্লাহর দিকে তাকানো...

জাল

সঠিক কথা: ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) এই বর্ণনাকে তাঁর জাল হাদিসের সংকলনে (আল-মাওযূআত) এনেছেন, আর ইমাম নববী (রহ.) এই নামাজকে নিন্দনীয় বিদআত বলেছেন। এ রাতে সাধারণ নফল ও দোয়া করা যায়, কিন্তু নির্দিষ্ট রাকাত ও সূরার পদ্ধতি ভিত্তিহীন।

রজবের প্রথম জুমার রাতে "সালাতুর রাগাইব" (বারো রাকাত, নির্দিষ্ট সূরা ও দোয়াসহ)।

জাল

সঠিক কথা: ইমাম নববী (রহ.) সহ অনেক আলেম একে জাল বর্ণনার ভিত্তিতে বানানো বিদআত বলেছেন। দ্বীনে নতুন সংযোজন প্রত্যাখ্যাত (সহিহ বুখারী ২৬৯৭)।

নারী১০টি

হায়েজের সময় নারী এতটাই অপবিত্র যে তার রান্না খাওয়া যায় না, তার সাথে এক বিছানায় বসা যায় না, সে দোয়া-যিকিরও করতে পারে না।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ মুসলিম ৩০২, সহিহ বুখারী ২৯৭

সঠিক কথা: ইহুদিরা হায়েজের সময় নারীদের সাথে খাওয়া-থাকা বন্ধ রাখত। তখন নবীজি (ﷺ) বললেন: "শুধু সহবাস ছাড়া সব কিছু করো" (সহিহ মুসলিম ৩০২)। আয়েশা (রা.) হায়েজ অবস্থায় থাকতেন, আর নবীজি (ﷺ) তাঁর কোলে হেলান দিয়ে কুরআন পড়তেন (সহিহ বুখারী ২৯৭)। নবীজি (ﷺ) সব অবস্থায় আল্লাহর যিকির করতেন (সহিহ মুসলিম ৩৭৩)।

হায়েজের দিনগুলোর নামাজ পরে কাজা করতে হয়।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ মুসলিম ৩৩৫

সঠিক কথা: আয়েশা (রা.) বলেছেন: "আমাদের রোজা কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, নামাজ কাজার নির্দেশ দেওয়া হতো না" (সহিহ মুসলিম ৩৩৫)। শুধু ছুটে যাওয়া ফরজ রোজা পরে রাখতে হয়।

সন্তান জন্মের পর পুরো ৪০ দিন মা নামাজ পড়তে পারবেন না, রক্ত আগে বন্ধ হলেও।

ভুল ধারণাসূত্র: তিরমিযী ১৩৯ (আলবানী: হাসান সহিহ) ও তার পরে ইমাম তিরমিযীর মন্তব্য

সঠিক কথা: নবীজির (ﷺ) যুগে নিফাসের নারীরা চল্লিশ দিন পর্যন্ত বিরত থাকতেন (সুনানে আবু দাউদ ৩১১)। ইমাম তিরমিযী লিখেছেন, আলেমদের ঐকমত্য হলো: চল্লিশ দিনের আগে রক্ত বন্ধ হয়ে পবিত্র হয়ে গেলে সে গোসল করে নামাজ পড়বে (জামে আত-তিরমিযী ১৩৯)।

নারীদের মসজিদে যাওয়া হারাম।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ৯০০, আবু দাউদ ৫৬৭ (আলবানী: সহিহ)

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "আল্লাহর বান্দীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিয়ো না" (সহিহ বুখারী ৯০০)। সাথে বলেছেন: "তবে তাদের ঘর তাদের জন্য উত্তম" (সুনানে আবু দাউদ ৫৬৭)। অর্থাৎ ঘরে পড়া উত্তম, কিন্তু পর্দা মেনে মসজিদে গেলে নিষেধ করা যাবে না।

বোনেরা বাবার সম্পত্তির ভাগ নেয় না; ভাইদের দিয়ে দেওয়াই নিয়ম, চাইলে সম্পর্ক নষ্ট হয়।

কুরআনবিরোধীসূত্র: সূরা আন-নিসা ৪:৭, ৪:১১, ৪:১৩-১৪

সঠিক কথা: আল্লাহ নিজে নারীর অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন: "মা-বাবা ও আত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদে পুরুষদের অংশ আছে, নারীদেরও অংশ আছে" (সূরা আন-নিসা ৪:৭, সূরা আন-নিসা ৪:১১)। এই ভাগ আটকে রাখাকে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন বলা হয়েছে (সূরা আন-নিসা ৪:১৪)। বোন নিজে খুশিমনে দিতে চাইলে আলাদা কথা, কিন্তু চাপ দিয়ে বা লজ্জায় ফেলে নেওয়া জুলুম।

মোহর শুধু কাবিননামার কাগজের ব্যাপার; বাসর রাতে মাফ করিয়ে নিলেই হলো।

কুরআনবিরোধীসূত্র: সূরা আন-নিসা ৪:৪

সঠিক কথা: আল্লাহ বলেন: "তোমরা স্ত্রীদের তাদের মোহর খুশিমনে দিয়ে দাও; তারা যদি স্বেচ্ছায় তা থেকে কিছু ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা ভোগ করতে পারো" (সূরা আন-নিসা ৪:৪)। মোহর স্ত্রীর অধিকার; চাপ দিয়ে বা লজ্জায় ফেলে মাফ করানো ঠিক নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী মোহর ঠিক করে তা পরিশোধ করুন।

বিধবা নারীকে সারাজীবন সাদা কাপড় পরতে হয়; আবার বিয়ে করা লজ্জার।

কুরআনবিরোধীসূত্র: সূরা আল-বাকারা ২:২৩৪-২৩৫, সূরা আন-নূর ২৪:৩২

সঠিক কথা: স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর ইদ্দত চার মাস দশ দিন; এ সময় সাজসজ্জা ও রঙিন জমকালো পোশাক এড়িয়ে চলবে (সূরা আল-বাকারা ২:২৩৪, সহিহ বুখারী ৫৩৪১)। সাদা কাপড় বাধ্যতামূলক নয়। ইদ্দত শেষে সে নিজের ব্যাপারে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, বিয়েও করতে পারে (সূরা আল-বাকারা ২:২৩৪)। আল্লাহ স্বামীহীনদের বিয়ে দিতে বলেছেন (সূরা আন-নূর ২৪:৩২)। নবীজির (ﷺ) স্ত্রীদের অনেকেই আগে বিধবা ছিলেন।

"স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নাত"; স্বামী সন্তুষ্ট থাকলেই স্ত্রী জান্নাতে যাবে।

এই কথা হাদিস নয়; কাছাকাছি বর্ণনাটি দুর্বলসূত্র: তিরমিযী ১১৬১ ("যে নারী মারা যায় আর স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট..."), আলবানী: যঈফ

সঠিক কথা: জান্নাত আল্লাহর ইবাদত ও তাকওয়ায়, নারী-পুরুষ দুজনেরই (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৩৫)। স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই একে অপরের উপর অধিকার আছে (সূরা আল-বাকারা ২:২২৮), আর স্ত্রীর সাথে সদাচরণ স্বামীর উপর ফরজ (সূরা আন-নিসা ৪:১৯)। ভালো কাজে স্বামীর আনুগত্য স্ত্রীর দায়িত্ব, কিন্তু উপরের কথাটি নবীজির (ﷺ) বাণী নয়।

মেয়েদের দ্বীনি জ্ঞান শেখার দরকার নেই; স্বামী বা বাবা যা বলবেন তা-ই যথেষ্ট।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ১০১

সঠিক কথা: নারী সাহাবিরা নবীজিকে (ﷺ) বললেন, পুরুষেরা আপনার কাছে বেশি সময় পায়, আমাদের জন্য একটা দিন ঠিক করে দিন। তিনি তাঁদের জন্য আলাদা দিন ঠিক করে শিক্ষা দিয়েছেন (সহিহ বুখারী ১০১)। আয়েশা (রা.) ছিলেন সাহাবিদের বড় শিক্ষক।

মেয়ে সন্তান হলে মায়ের দোষ; ছেলে না হলে বংশ রক্ষা হয় না।

কুরআনবিরোধী

সঠিক কথা: কে ছেলে পাবে, কে মেয়ে, তা আল্লাহর সিদ্ধান্ত (সূরা আশ-শূরা ৪২:৪৯, সূরা আশ-শূরা ৪২:৫০)। মেয়ে জন্মে মন খারাপ করাকে কুরআন জাহিলী আচরণ বলেছে (সূরা আন-নাহল ১৬:৫৮)।

বিয়ে, পরিবার ও সন্তান১৭টি

নবজাতকের ডান কানে আযান আর বাম কানে ইকামত দেওয়া সহিহ হাদিসে প্রমাণিত সুন্নাহ।

দুর্বল / মতভেদ

সঠিক কথা: শুধু কানে আযানের কথা এসেছে সুনানে আবু দাউদ ৫১০৫-এ (আবু রাফি থেকে)। এর বর্ণনাকারী আসিম ইবনু উবাইদুল্লাহকে মুহাদ্দিসরা দুর্বল বলেছেন; যুবাইর আলী যাঈ একে দুর্বল বলেছেন, আর শাইখ আলবানী সুনানের তাহকীকে "হাসান" বললেও পরে সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা-তে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। ডান কানে আযান আর বাম কানে ইকামতের বর্ণনাটিকে তিনি জাল বলেছেন। তাই এটাকে নিশ্চিত সুন্নাহ মনে করবেন না; সহিহ সুন্নাহ হলো তাহনীক, দোয়া, নাম ও আকীকা।

বদনজর থেকে বাঁচাতে শিশুর কপালে কালো টিপ বা হাতে কালো সুতা দিতে হয়।

ভিত্তিহীন

সঠিক কথা: এর কোনো দলিল নেই; সুরক্ষার জন্য এগুলোর উপর ভরসা করা শিরকের দিকে নিয়ে যায় (সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮৩)। নবীজির শেখানো আশ্রয়ের দোয়া পড়ুন (সহিহ বুখারী ৩৩৭১)।

আকীকার গোশত মা-বাবা বা দাদা-দাদি খেতে পারেন না।

দলিল নেই

সঠিক কথা: কুরআন বা সহিহ হাদিসে এমন কোনো নিষেধ নেই। আলেমরা বলেছেন, কুরবানির মতো আকীকার গোশতও পরিবার খেতে পারে, আত্মীয়দের দিতে পারে, আর গরিবদেরও দেবে।

শিশুকে মারধর না করলে মানুষ হয় না; কড়া শাসনই সুন্নাহ।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: নবী (ﷺ) জীবনে কখনো কোনো নারী বা খাদেমকে মারেননি (সহিহ মুসলিম ২৩২৮)। তিনি শিশুদের চুমু খেতেন, কোলে নিতেন (সহিহ বুখারী ৫৯৯৭)। দশ বছরে নামাজের জন্য শাসনের যে অনুমতি, তা নির্দিষ্ট ও সীমিত; আঘাত বা অপমান নয়।

"বিসমিল্লাহখানি" বা "হাতেখড়ি" অনুষ্ঠান করে লেখাপড়া শুরু করানো সুন্নাহ।

দলিল নেই

সঠিক কথা: শিশুকে আরবি অক্ষর ও কুরআন শেখানো খুবই ভালো কাজ, কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান বা দিন নবীজি বা সাহাবিদের থেকে প্রমাণিত নয়। অনুষ্ঠানকে সুন্নাহ মনে করবেন না; শেখানোটাই আসল।

শিশুর গুনাহ হয়, তাই ছোট ভুলেও "পাপ হবে" বলে ভয় দেখাতে হবে।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়ার আগে শিশুর গুনাহ লেখা হয় না (সুনানে আবু দাউদ ৪৪০৩)। শিশুকে ভয় নয়, ভালোবাসা ও বুঝিয়ে ভালো-মন্দ শেখান।

যৌবনে একটু মজা করে নাও; বয়স হলে তাওবা করে ধার্মিক হয়ে যাবে।

ভয়ংকর ভুল

সঠিক কথা: কেউ জানে না সে কোথায় ও কখন মারা যাবে (সূরা লুকমান ৩১:৩৪)। কিয়ামতের দিন যৌবন ও শক্তি কোথায় ক্ষয় করেছ, তা জিজ্ঞেস করা হবে (জামে আত-তিরমিযী ২৪১৭); আর আরশের ছায়া পাবে সেই যুবক, যে ইবাদতে বড় হয়েছে (সহিহ বুখারী ৬৬০)।

বিয়ের নিয়ত থাকলে বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক, একান্তে দেখা বা গোপন চ্যাট জায়েজ।

কুরআনবিরোধী

সঠিক কথা: আল্লাহ ব্যভিচারের কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন (সূরা আল-ইসরা ১৭:৩২) আর দৃষ্টি নত রাখতে বলেছেন (সূরা আন-নূর ২৪:৩০)। পছন্দ হলে অভিভাবকের মাধ্যমে প্রস্তাব দিন; বিয়ের আগে দেখার বৈধ পদ্ধতি আছে (জামে আত-তিরমিযী ১০৮৭)।

মেয়ের পরিবার যৌতুক বা "উপহার" (ফার্নিচার, মোটরসাইকেল, টাকা) দেবে, এটা সামাজিক নিয়ম।

হারাম

সঠিক কথা: ইসলামে বিয়েতে দেওয়ার দায়িত্ব বরের: মোহর (সূরা আন-নিসা ৪:৪) আর ওলিমা (সহিহ বুখারী ৫১৬৭)। চাপ দিয়ে মেয়ের পরিবার থেকে টাকা বা জিনিস নেওয়া অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ খাওয়া (সূরা আন-নিসা ৪:২৯)।

বরযাত্রীদের জন্য কনেপক্ষকে বড় খাবারের আয়োজন করতেই হবে।

দলিল নেই

সঠিক কথা: সুন্নাহতে বিয়ের খাবার (ওলিমা) বরের পক্ষ থেকে (সহিহ বুখারী ৫১৬৭)। কনেপক্ষ খুশি হয়ে আপ্যায়ন করতে পারে, কিন্তু একে বাধ্যবাধকতা বানানো, বিশেষ করে দেনা করে, সুন্নাহর অংশ নয়।

মেয়ের মত না নিয়ে অভিভাবক যেকোনো জায়গায় বিয়ে দিতে পারেন।

সহিহ হাদিসবিরোধী

সঠিক কথা: নবী (ﷺ) বলেছেন, মেয়ের অনুমতি ছাড়া তাকে বিয়ে দেওয়া যাবে না (সহিহ বুখারী ৫১৩৬)। অভিভাবকের দায়িত্ব মেয়ের কল্যাণ দেখা, তার মত উপেক্ষা করা নয়।

স্ত্রীকে শাসন করতে মারধর করা স্বামীর অধিকার।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: নবী (ﷺ) জীবনে কখনো কোনো স্ত্রীকে মারেননি (সহিহ মুসলিম ২৩২৮), আর বলেছেন পরিবারের কাছে ভালো মানুষই সেরা (জামে আত-তিরমিযী ৩৮৯৫)। কুরআন স্ত্রীদের সাথে সুন্দর আচরণের আদেশ দিয়েছে (সূরা আন-নিসা ৪:১৯)।

ঘরের কাজ শুধু মেয়েদের; পুরুষ রান্না বা ঘর গোছানোয় হাত দিলে সম্মান কমে।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: আয়েশা (রা.) বলেছেন, নবীজি ঘরের কাজে পরিবারের সাহায্য করতেন (সহিহ বুখারী ৬৭৬)। ঘরের কাজে সাহায্য করা সরাসরি সুন্নাহ।

বিয়ের পর মেয়ের দায়িত্ব শুধু শ্বশুরবাড়ি; নিজের মা-বাবার খোঁজ নেওয়া জরুরি নয়।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: মা-বাবার প্রতি সদাচরণ ছেলে-মেয়ে সবার উপর ফরজ (সূরা আল-ইসরা ১৭:২৩)। স্বামীর হক আদায় করে, পরামর্শ করে নিজের মা-বাবার খোঁজ নেওয়া স্ত্রীর অধিকার।

মা-বাবা দীন না মানলে বা অন্যায় করলে তাঁদের সাথে সম্পর্ক রাখা জরুরি নয়।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: মুশরিক মায়ের সাথেও সম্পর্ক রাখতে বলা হয়েছে (সহিহ বুখারী ২৬২০), আর দুনিয়াতে তাঁদের সাথে সুন্দরভাবে থাকতে বলা হয়েছে (সূরা লুকমান ৩১:১৫)। শুধু আল্লাহর অবাধ্যতায় আনুগত্য নেই (সহিহ বুখারী ৭২৫৭)।

যে আত্মীয় খারাপ ব্যবহার করে, তার সাথে সম্পর্ক না রাখলে গুনাহ নেই।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: শুধু ভালো ব্যবহারের বদলে ভালো ব্যবহার আসল সম্পর্ক রক্ষা নয় (সহিহ বুখারী ৫৯৯১)। তবে নিজের ক্ষতি থেকে বাঁচতে দূরত্ব রেখে, সালাম-খোঁজখবর দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায়।

বিয়ের পর মা-বাবার খরচ বহন বা সেবা শুধু বড় ছেলের দায়িত্ব।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: মা-বাবার প্রতি সদাচরণের আদেশ সব সন্তানের জন্য (সূরা আল-ইসরা ১৭:২৩)। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই ভাগ করে নেবে।

উপার্জন, লেনদেন ও কাজ৭টি

ব্যাংকের সুদ অল্প হলে বা "প্রফিট" নাম দিলে সমস্যা নেই।

কুরআনবিরোধী

সঠিক কথা: সুদ অল্প হোক বা বেশি, নাম বদলালে হুকুম বদলায় না (সূরা আল-বাকারা ২:২৭৫, সূরা আল-বাকারা ২:২৭৮)। সুদের হিসাব লেখক আর সাক্ষীকেও লানত করা হয়েছে (সহিহ মুসলিম ১৫৯৮)।

কাজ দ্রুত করাতে অফিসে কিছু "চা-নাস্তার টাকা" দেওয়া ঘুষ নয়।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: যে টাকা দিয়ে নিজের প্রাপ্য না হওয়া সুবিধা নেওয়া হয় বা অন্যের হক পেছনে ফেলা হয়, নাম যা-ই হোক, তা ঘুষ। ঘুষদাতা ও গ্রহীতা দুজনেই লানতপ্রাপ্ত (সুনানে আবু দাউদ ৩৫৮০)।

ইসলামে সব খেলাধুলা ও বিনোদন হারাম; দীনদার মানুষ হাসে না।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: নবীজি ঈদের দিনে নির্দোষ আনন্দের অনুমতি দিয়েছেন (সহিহ বুখারী ৯৫২), তীর ছোড়ায় উৎসাহ দিয়েছেন (সহিহ বুখারী ২৮৯৯), রসিকতা করেছেন (জামে আত-তিরমিযী ১৯৯০)। আল্লাহর দেওয়া সৌন্দর্য ও ভালো জিনিস কে হারাম করল, কুরআন সেই প্রশ্ন তুলেছে (সূরা আল-আরাফ ৭:৩২)।

অফিসে টিকে থাকতে একটু-আধটু মিথ্যা বলতেই হয়।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় (সহিহ বুখারী ৬০৯৪), আর কথায় মিথ্যা মুনাফিকের চিহ্ন (সহিহ বুখারী ৩৩)। নবীজির সবচেয়ে বড় পরিচয়ই ছিল তাঁর সততা (সহিহ বুখারী ৪৭৭০)।

বস যা বলবেন তা-ই করতে হবে, অন্যায় হলেও; দায় তাঁর।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে কারো আনুগত্য নেই; আনুগত্য শুধু ভালো কাজে (সহিহ বুখারী ৭২৫৭)। অন্যায় নির্দেশ ভদ্রভাবে ফিরিয়ে দেওয়াই আমানতদারি।

দীনদার হওয়া মানে দুনিয়ার কাজে পিছিয়ে থাকা; ক্যারিয়ারে ভালো করা দুনিয়াদারি।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: আল্লাহ প্রতিটি কাজ সুন্দর ও নিখুঁতভাবে করা বাধ্যতামূলক করেছেন (সহিহ মুসলিম ১৯৫৫)। মূসা (আ.)-এর যোগ্যতা ছিল "শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত" (সূরা আল-কাসাস ২৮:২৬)। হালাল পথে দক্ষ হওয়া দীনেরই অংশ।

মীরাস পাওয়া কোনো সন্তানকে খুশি হয়ে বাড়তি ওসিয়ত করে দেওয়া যায়।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: উত্তরাধিকারীর জন্য ওসিয়ত নেই, কারণ আল্লাহ প্রত্যেকের অংশ ঠিক করে দিয়েছেন (সুনানে আবু দাউদ ২৮৭০, সূরা আন-নিসা ৪:১১)। মেয়েদের মীরাস থেকে বঞ্চিত করাও বড় অন্যায়।

মৃত্যু, কবর ও আখিরাত১৪টি

মৃত্যুর পর রুহ চল্লিশ দিন (বা প্রতি বৃহস্পতিবার) ঘরে ফিরে আসে, পরিবারের খোঁজ নেয়।

ভিত্তিহীনসূত্র: কুরআন ও সহিহ হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই; সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৯৯-১০০

সঠিক কথা: মৃত্যুর পর মানুষ বারযাখে চলে যায়, যেখান থেকে কিয়ামতের আগে ফেরা নেই: "তাদের সামনে বারযাখ (পর্দা), পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত" (সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৯৯, সূরা আল-মুমিনূন ২৩:১০০)। মৃতের উপকার হয় সন্তানের দোয়া, সদকায়ে জারিয়া আর রেখে যাওয়া উপকারী জ্ঞানে (সহিহ মুসলিম ১৬৩১)।

মৃতের বাড়িতে তিন দিন চুলা জ্বালানো নিষেধ।

ভুল ধারণাসূত্র: আবু দাউদ ৩১৩২ (আলবানী: হাসান)

সঠিক কথা: নিষেধ নয়; বরং সুন্নাহ হলো প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা মৃতের পরিবারের জন্য খাবার পাঠাবে। জাফর (রা.)-এর শাহাদাতের খবর এলে নবীজি (ﷺ) বললেন: "জাফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করো, কেননা তাদের উপর এমন বিপদ এসেছে যা তাদের ব্যস্ত রেখেছে" (সুনানে আবু দাউদ ৩১৩২)।

মৃতের জন্য সন্তান বা জীবিতদের দোয়া-সদকা কোনো কাজে আসে না।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ মুসলিম ১৬৩১, সহিহ বুখারী ১৩৮৮

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান, আর নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে (সহিহ মুসলিম ১৬৩১)। এক সাহাবি মৃত মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করতে চাইলে তিনি অনুমতি দেন (সহিহ বুখারী ১৩৮৮)। আর মুমিনরা আগের মুমিনদের জন্য দোয়া করে (সূরা আল-হাশর ৫৯:১০)।

দাফনের পর কবরের পাশে আযান দিতে হয়।

দলিল নেইসূত্র: নবীজি (ﷺ) বা সাহাবিদের থেকে এর কোনো বর্ণনা নেই

সঠিক কথা: দাফনের পর সুন্নাহ হলো মৃতের জন্য ক্ষমা চাওয়া ও দৃঢ়তার দোয়া করা; নবীজি (ﷺ) বলতেন: "তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও, আর তার দৃঢ়তার জন্য দোয়া করো, কেননা এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে" (সুনানে আবু দাউদ ৩২২১, আলবানী: সহিহ)।

মৃত্যুর আগে সব সম্পদ মসজিদ-মাদরাসায় দান করে দেওয়াই সবচেয়ে বড় নেকি।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: নবীজি সা'দ (রা.)-কে সব বা অর্ধেক সম্পদ ওসিয়ত করতে নিষেধ করেছেন; সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (সহিহ বুখারী ২৭৪২)।

বুড়ো বয়সে নামাজ-রোজা শুরু করে লাভ নেই, অনেক দেরি হয়ে গেছে।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবার দরজা খোলা। সবচেয়ে ভালো মানুষ তো সে, যার আয়ু দীর্ঘ আর আমল সুন্দর (জামে আত-তিরমিযী ২৩২৯)।

কবর পাকা করা, টাইলস বসানো বা মাজার বানানো মৃতের প্রতি সম্মান।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: নবীজি কবর পাকা করা ও তার উপর স্থাপনা নির্মাণ নিষেধ করেছেন (সহিহ মুসলিম ৯৭০)।

সব আত্মীয় বিদেশ থেকে না আসা পর্যন্ত দাফন দেরি করা উচিত।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: জানাজা ও দাফনে দ্রুততার আদেশ এসেছে (সহিহ বুখারী ১৩১৫)। আত্মীয়রা পরে কবর জিয়ারত করে দোয়া করতে পারেন।

মৃত্যুর তিন দিন, চল্লিশ দিন পর বা বার্ষিকীতে কুলখানি-চল্লিশা করে খাওয়ানো সুন্নাহ।

সহিহ দলিল নেই

সঠিক কথা: নবীজি ও সাহাবিদের থেকে এমন দিন নির্দিষ্ট করে অনুষ্ঠান প্রমাণিত নয়। উল্টো সাহাবিরা মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজনকে নিষিদ্ধ বিলাপের অংশ মনে করতেন (সুনানে ইবনু মাজাহ ১৬১২)। সুন্নাহ হলো অন্যরা শোকার্ত পরিবারকে খাবার পাঠাবে (সুনানে আবু দাউদ ৩১৩২)।

টাকা দিয়ে হুজুর এনে খতম পড়ালে মৃতের কাছে সওয়াব পৌঁছায়।

সহিহ দলিল নেই

সঠিক কথা: সহিহ হাদিসে মৃতের জন্য পৌঁছানোর যে আমলগুলো এসেছে তা হলো দোয়া, সদকা, সদকায়ে জারিয়া, বাকি রোজা (সহিহ মুসলিম ১৬৩১, সহিহ বুখারী ১৩৮৮, সহিহ বুখারী ১৯৫২)। আর মানুষ নিজে যা চেষ্টা করে, তা-ই তার (সূরা আন-নাজম ৫৩:৩৯)। পারিশ্রমিকের খতম নিয়ে আলেমদের কঠোর আপত্তি আছে।

প্রিয়জন মারা গেলে বছরের পর বছর শোক পালন করা ভালোবাসার প্রমাণ।

সুন্নাহবিরোধী

সঠিক কথা: স্বামী ছাড়া অন্য কারো জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন বৈধ নয় (সহিহ বুখারী ১২৮০)। ভালোবাসার প্রমাণ দোয়া আর সদকায়।

কবরের আযাব বা শান্তির কথা কুরআনে নেই, তাই এটা মানার দরকার নেই।

সহিহ হাদিসবিরোধী

সঠিক কথা: কবরের প্রশ্ন ও আযাবের কথা সহিহ হাদিসে স্পষ্ট (সহিহ বুখারী ১৩৩৮), নবীজি প্রতি নামাজে এর থেকে আশ্রয় চাইতে বলেছেন (সহিহ মুসলিম ৫৮৮), আর কুরআনে বারযাখের কথা আছে (সূরা আল-মুমিনূন ২৩:১০০)।

জান্নাত নিজের আমলের জোরেই পাওয়া যায়; যত আমল, তত নিশ্চিত।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: নবীজি বলেছেন, কারো আমল তাকে জান্নাতে নেবে না; আল্লাহর রহমত লাগবে (সহিহ বুখারী ৬৪৬৪)। আমল সেই রহমত পাওয়ার পথ, অহংকারের কারণ নয়।

অমুক পীর বা বুজুর্গকে ধরলে তিনি কিয়ামতে সুপারিশ করে পার করে দেবেন, আমল না থাকলেও।

কুরআনবিরোধী

সঠিক কথা: আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না (সূরা আল-বাকারা ২:২৫৫)। নবীজির সুপারিশ সবচেয়ে বেশি পাবে খাঁটি তাওহীদের মানুষ (সহিহ বুখারী ৯৯)। আর মানুষ নিজে যা চেষ্টা করে, তা-ই তার (সূরা আন-নাজম ৫৩:৩৯)।

কুসংস্কার ও দৈনন্দিন বিশ্বাস৭টি

পেঁচা বা কাকের ডাক, কালো বিড়াল সামনে দিয়ে যাওয়া, যাত্রার সময় হাঁচি বা খালি কলস দেখা অশুভ।

শিরক (তিয়ারা)সূত্র: সহিহ বুখারী ৫৭৫৭; আবু দাউদ ৩৯১০ (আলবানী: সহিহ)

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "অশুভ লক্ষণ নেই, পেঁচার কুলক্ষণ নেই" (সহিহ বুখারী ৫৭৫৭)। আরও বলেছেন: "অশুভ লক্ষণ মানা শিরক, অশুভ লক্ষণ মানা শিরক" (সুনানে আবু দাউদ ৩৯১০)। মনে খটকা লাগলে আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজটি করুন।

রাতে নখ কাটা, সন্ধ্যায় ঘর ঝাড়ু দেওয়া বা বাড়ির বাইরে ময়লা ফেলা অমঙ্গল ডেকে আনে।

ভিত্তিহীনসূত্র: কুরআন ও হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই

সঠিক কথা: ভালো-মন্দ আল্লাহর হাতে (সূরা আত-তাওবা ৯:৫১)। নখ কাটা স্বভাবগত সুন্নাহ, যেকোনো সময় কাটা যায়; চল্লিশ দিনের বেশি দেরি না করা ভালো (সহিহ মুসলিম ২৫৮)। এসব বিশ্বাস অশুভ লক্ষণেরই এক রূপ (সুনানে আবু দাউদ ৩৯১০)।

"মায়ের কসম", "বাবার কসম", "তোর মাথা ছুঁয়ে বলছি" বলে কসম খাওয়া চলে।

নিষিদ্ধ, ছোট শিরকসূত্র: সহিহ বুখারী ২৬৭৯; আবু দাউদ ৩২৫১ (আলবানী: সহিহ)

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "যে কসম খেতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম খায়, নয়তো চুপ থাকে" (সহিহ বুখারী ২৬৭৯)। আরও বলেছেন: "যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম খায়, সে শিরক করল" (সুনানে আবু দাউদ ৩২৫১)।

নজর লাগা বলে কিছু নেই, এটা কুসংস্কার।

সহিহ হাদিসবিরোধীসূত্র: সহিহ বুখারী ৫৭৪০, ৫৭৩৮

সঠিক কথা: নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "নজর লাগা সত্য" (সহিহ বুখারী ৫৭৪০)। তিনি নজরের জন্য রুকইয়া (কুরআন ও দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক) করার নির্দেশ দিয়েছেন (সহিহ বুখারী ৫৭৩৮)। সমাধান কালো টিপ বা তাবিজ নয়; সূরা ফালাক, নাস, আয়াতুল কুরসি ও সহিহ দোয়া।

বিয়ে-শাদি বা নতুন কাজের জন্য "শুভ দিন" দেখতে হয়; মঙ্গলবার-শনিবার যাত্রা নাস্তি।

ভিত্তিহীন কুসংস্কারসূত্র: সহিহ বুখারী ৫৭৫৭; আবু দাউদ ৩৯১০

সঠিক কথা: কোনো দিন বা মাস নিজে অশুভ নয় (সহিহ বুখারী ৫৭৫৭)। আল্লাহ বলেন: "বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া কিছুই আমাদের হবে না" (সূরা আত-তাওবা ৯:৫১)। কাজের আগে ইস্তিখারার দোয়া করুন, এটাই সুন্নাহ (সহিহ বুখারী ৬৩৮২)।

অসুস্থ হওয়া মানে আল্লাহ অসন্তুষ্ট; বড় গুনাহের শাস্তি।

ভুল ধারণা

সঠিক কথা: নবীরাও অসুস্থ হয়েছেন (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৩)। মুমিনের কষ্ট গুনাহ মোছে (সহিহ বুখারী ৫৬৪১) এবং সবরে তার জন্য কল্যাণ (সহিহ মুসলিম ২৯৯৯)।

নির্দিষ্ট দিন, পাখির ডাক বা কারো "কুফা" পায়ে রোগ-বিপদ আসে।

কুসংস্কার

সঠিক কথা: কুলক্ষণ, অশুভ পেঁচা ইত্যাদির ধারণা নবীজি নাকচ করেছেন (সহিহ বুখারী ৫৭৫৭)। সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছায় হয় (সূরা আত-তাগাবুন ৬৪:১১)।

মান কীভাবে ঠিক করা হয়েছে

হাদিসের মান আমরা নিজেরা দিই না। সুনান গ্রন্থের প্রতিটি হাদিস নম্বর মূল আরবি পাঠে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, আর মান নেওয়া হয়েছে শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানীর রায় থেকে। লোকমুখে চলা কথার মান নেওয়া হয়েছে আলবানীর "সিলসিলাতুল আহাদীসিয যঈফা ওয়াল মাওযূআ" এবং ইমাম ইবনু কাসীর ও অন্য মুহাদ্দিসদের লেখা থেকে। যেসব কথার সূত্র এখনো নিশ্চিতভাবে মেলানো যায়নি, সেগুলো এখানে রাখা হয়নি; যাচাই শেষে যোগ হবে ইনশাআল্লাহ।

কোনো দাবি এখানে না থাকলে তা সঠিক বলে ধরে নেবেন না; দলিল দেখে নিন। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, তারিখসহ সংশোধন করা হবে। বিস্তারিত: সূত্র নীতি।

deenpedia.com · https://deenpedia.com/prochilito-bhul/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার