deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي

নামাজের নিয়ম: তাকবীর থেকে সালাম, ছবিসহ

পর্ব ৩/৬প্রতিদিনপ্রতিদিনের নামাজ

নামাজ শেখার সবচেয়ে নিরাপদ পথ একটাই: নবীজি (ﷺ) যেভাবে পড়েছেন, সেভাবে পড়া। সাহাবিরা তাঁর প্রতিটি নড়াচড়া খেয়াল করে মনে রেখেছেন, আর আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এই পর্বে তাকবীর থেকে সালাম পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ, ছবি আর দোয়াসহ। ছবিগুলো চেহারা ছাড়া পেনসিল স্কেচ, শুধু ভঙ্গি বোঝানোর জন্য।

৮টি অধ্যায়
১টি আয়াত
৩০টি সহিহ হাদিস
৮টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

"ফিরে যাও, আবার পড়ো; তুমি নামাজ পড়োনি"

একদিন নবী (ﷺ) মসজিদে বসে ছিলেন। এক লোক এসে নামাজ পড়ল, তারপর এসে সালাম দিল। নবীজি সালামের জবাব দিয়ে বললেন: ফিরে যাও, আবার নামাজ পড়ো; তুমি তো নামাজ পড়োনি।

লোকটি ফিরে গিয়ে আগের মতোই পড়ল, আবার এল। নবীজি আবার একই কথা বললেন। এভাবে তিনবার। শেষে লোকটি বলল: যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, এর চেয়ে ভালো আমি পারি না; আমাকে শিখিয়ে দিন।

তখন নবীজি ধীরে ধীরে শেখালেন: তাকবীর দাও, কুরআন থেকে যা সহজ পড়ো, তারপর রুকু করো যতক্ষণ না স্থির হও, তারপর ওঠো যতক্ষণ না সোজা হয়ে দাঁড়াও, তারপর সিজদা করো যতক্ষণ না স্থির হও... আর পুরো নামাজে এভাবেই করো।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে নামাজ পড়ল, তারপর নবী (ﷺ)-কে সালাম দিল। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন: ফিরে যাও, আবার নামাজ পড়ো, কারণ তুমি নামাজ পড়োনি। সে ফিরে গিয়ে আগের মতোই নামাজ পড়ল, তারপর এসে সালাম দিল। তিনি বললেন: ফিরে যাও, আবার নামাজ পড়ো, কারণ তুমি নামাজ পড়োনি। এভাবে তিনবার হলো। তখন লোকটি বলল: যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, আমি এর চেয়ে ভালো পারি না, আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: যখন নামাজে দাঁড়াবে, তাকবীর বলবে। তারপর তোমার জানা কুরআন থেকে যা সহজ, তা পড়বে। তারপর রুকু করবে, রুকুতে স্থির হওয়া পর্যন্ত। তারপর মাথা তুলবে, সোজা হয়ে দাঁড়ানো পর্যন্ত। তারপর সিজদা করবে, সিজদায় স্থির হওয়া পর্যন্ত। তারপর মাথা তুলবে, স্থির হয়ে বসা পর্যন্ত। আর পুরো নামাজে এভাবেই করবে।

সহিহ বুখারী ৭৫৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? নবীজি লোকটিকে লজ্জা দেননি, ধৈর্য ধরে তিনবার সুযোগ দিয়েছেন, তারপর শিখিয়েছেন। আর শিক্ষাটা ছিল একটাই শব্দে: স্থিরতা। তাড়াহুড়ার নামাজকে তিনি নামাজই বলেননি।

এই পর্বে ৮টি অধ্যায়
১
মূলনীতি

যেভাবে আমাকে দেখেছ, সেভাবে পড়ো

নামাজের পদ্ধতির মূল দলিল একটি বাক্য, যা নবীজি একদল তরুণ সাহাবিকে বিদায় দেওয়ার সময় বলেছিলেন।

নামাজ শুরু হয় নিয়ত দিয়ে। নিয়ত মানে অন্তরের সংকল্প: আমি এখন অমুক ওয়াক্তের ফরজ বা সুন্নত পড়ছি। এটা মনের কাজ, মুখে নির্দিষ্ট শব্দ বলা জরুরি নয়।

তাকবীর দিয়ে নামাজে ঢোকা, আর সালাম দিয়ে বের হওয়া। মাঝের সময়টুকু শুধু আল্লাহর জন্য; তখন খাওয়া, কথা বলা, এদিক-ওদিক যাওয়া বন্ধ।

কিবলামুখী হয়ে সোজা দাঁড়ানো, হাত দুই পাশে
নামাজের আগে কিবলামুখী হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান, দৃষ্টি সিজদার জায়গায়।

নামাজের ফরজ (রুকন): সব মাযহাবে মূল কাজগুলো একই: তাকবীরে তাহরীমা, দাঁড়ানো (সামর্থ্য থাকলে), কিরাত, রুকু, দুই সিজদা, শেষ বৈঠক আর প্রতিটি ধাপে স্থিরতা। কোনটা ফরজ, কোনটা ওয়াজিব আর কোনটা সুন্নত, তা নিয়ে মাযহাবের পরিভাষায় পার্থক্য আছে; নবীজির পুরো পদ্ধতি মানলে সব মতই মানা হয়ে যায়।

তোমরা সেভাবে নামাজ পড়ো, যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ।

সহিহ বুখারী ৬৩১ সহিহ বর্ণনা: মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ

সব কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক মানুষ তা-ই পাবে, যার নিয়ত সে করেছে। তাই যার হিজরত দুনিয়া পাওয়ার জন্য বা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য, তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে, যেদিকে সে হিজরত করেছে।

সহিহ বুখারী ১সহিহবর্ণনাকারী: উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.)

مِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ

নামাজের চাবি হলো পবিত্রতা। তাকবীর দিয়ে নামাজ শুরু হয় (তখন অন্য সব কাজ হারাম হয়ে যায়), আর সালাম দিয়ে শেষ হয় (তখন আবার সব কাজ বৈধ হয়)।

সুনানে আবু দাউদ ৬১সহিহবর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রা.)
আপনার জীবনেআজ একটা নামাজ পড়ার আগে মনে মনে ঠিক করুন: আজ আমি নবীজির মতো পড়ার চেষ্টা করব। এই এক নিয়তেই নামাজের মান বদলে যায়।
২
তাকবীর ও কিয়াম

আল্লাহু আকবার: হাত তোলা, হাত বাঁধা, সানা

নামাজে দাঁড়ানো মানে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো। কুরআনের আদেশ: নামাজের হেফাজত করো, আর আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়াও।

"আল্লাহু আকবার" বলে দুই হাত তুলুন: কাঁধ বরাবর, অথবা কানের লতি বরাবর; দুটোই সহিহ বর্ণনায় আছে।

তাকবীরে তাহরীমা: দুই হাত কান বা কাঁধ বরাবর তোলা
তাকবীরে তাহরীমা: হাতের তালু কিবলার দিকে।
কিয়াম: ডান হাত বাম হাতের ওপর রেখে দাঁড়ানো
কিয়াম: ডান হাত বাম হাতের ওপর।

তারপর ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখুন। সাহাবিদের এভাবেই আদেশ দেওয়া হতো।

তাকবীরের পর কিরাতের আগে একটা শুরুর দোয়া (সানা) পড়ুন। আমাদের দেশে বেশি প্রচলিত "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা"; বুখারীতে আরেকটি দোয়া আছে, যেটাও পড়া যায়।

হাত কোথায় বাঁধবেন: সহিহ হাদিসে ডান হাত বাম হাতের ওপর (কবজি ও বাহুর ওপর) রাখার কথা স্পষ্ট। বুকের ওপর, নাভির ওপরে না নিচে, তা নিয়ে আলেমদের মতভেদ আছে: হানাফি মতে পুরুষ নাভির নিচে, শাফেয়ি মতে বুকের নিচে, আর অনেক আহলে হাদিস আলেম বুকের ওপর রাখেন। প্রত্যেক মতের পক্ষে দলিল আছে; অন্যের নামাজকে ভুল বলবেন না।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাজ শুরু করার সময় দুই হাত কাঁধ বরাবর তুলতেন। রুকুর তাকবীর দেওয়ার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময়ও এভাবে হাত তুলতেন এবং বলতেন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ"। সিজদায় এমন করতেন না।

সহিহ বুখারী ৭৩৫ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৫টি দলিল

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ

তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে তোমরা দাঁড়াবে বিনীতভাবে;

كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ‏

মানুষকে আদেশ দেওয়া হতো, নামাজে ডান হাত বাম হাতের বাহুর (যিরা') ওপর রাখতে।

সহিহ বুখারী ৭৪০সহিহবর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা'দ (রা.)

ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى ظَهْرِ كَفِّهِ الْيُسْرَى وَالرُّسْغِ وَالسَّاعِدِ

তারপর তিনি ডান হাত রাখলেন বাম হাতের তালুর পিঠ, কবজি ও বাহুর ওপর।

সুনানে আবু দাউদ ৭২৭সহিহবর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনু হুজর (রা.)

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে তাকবীর দিতেন, তারপর বলতেন: "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক" (হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র, সব প্রশংসা আপনার; আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই)।

সুনানে আবু দাউদ ৭৭৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)

اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ

(তাকবীর ও কিরাতের মাঝে নবী (ﷺ) চুপ থেকে বলতেন:) "আল্লাহুম্মা বাইদ বাইনী ওয়া বাইনা খাতায়ায়া..." হে আল্লাহ, আমার ও আমার গুনাহগুলোর মাঝে এত দূরত্ব করে দিন, যত দূরত্ব করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ, আমাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ, আমার গুনাহগুলো পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে ধুয়ে দিন।

সহিহ বুখারী ৭৪৪সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেসানার অর্থটা একবার পড়ে নিন: "হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র, প্রশংসা আপনার..." নামাজের প্রথম কথাগুলো বুঝে বললে শুরুতেই মন বসে।
৩
ফাতিহা ও কিরাত

সূরা আল-ফাতিহা: প্রতিটি রাকাতের প্রাণ

প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহা। নবীজি বলেছেন, ফাতিহা ছাড়া নামাজ হয় না।

ফাতিহার আগে চুপে চুপে "আউযুবিল্লাহ" আর "বিসমিল্লাহ"। ফাতিহা শেষে "আমীন"; ইমামের আমীনের সাথে আমীন বললে, ফেরেশতাদের আমীনের সাথে মিলে গেলে, আগের গুনাহ মাফ।

প্রথম দুই রাকাতে ফাতিহার পর আরেকটি সূরা বা কয়েকটি আয়াত; তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে শুধু ফাতিহা।

ফাতিহা পড়ার সময় মনে রাখুন, এটা একতরফা পড়া নয়। প্রতিটি আয়াতের পর আল্লাহ জবাব দেন: "আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল..."

ইমামের পেছনে ফাতিহা: এ নিয়ে পুরোনো মতভেদ আছে। হানাফি মতে মুকতাদি চুপ থাকবে, কুরআন পড়া হলে চুপ থেকে শোনার আয়াতের (সূরা আল-আরাফ ৭:২০৪) ভিত্তিতে। শাফেয়ি মতে সব নামাজে মুকতাদিও ফাতিহা পড়বে। মালিকি ও হাম্বলি মতে চুপের (সিররি) নামাজে পড়বে, জোরের নামাজে শুনবে। নিজের মাযহাব বা আস্থাভাজন আলেমের মত মেনে চলুন।

যে সূরা আল-ফাতিহা পড়ে না, তার নামাজ হয় না।

সহিহ বুখারী ৭৫৬ সহিহ বর্ণনা: উবাদা ইবনুস সামিত (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৩টি দলিল

إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

ইমাম যখন আমীন বলে, তোমরাও আমীন বলো। কারণ যার আমীন ফেরেশতাদের আমীনের সাথে মিলে যায়, তার আগের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

সহিহ বুখারী ৭৮০সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

নবী (ﷺ) জোহরের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা ও আরও দুটি সূরা পড়তেন, আর শেষ দুই রাকাতে শুধু ফাতিহা। কখনো কখনো আমাদের একটা আয়াত শুনিয়ে দিতেন। প্রথম রাকাত যতটা লম্বা করতেন, দ্বিতীয় রাকাত ততটা করতেন না। আসর ও ফজরেও এমনই করতেন।

সহিহ বুখারী ৭৭৬সহিহবর্ণনাকারী: আবু কাতাদা (রা.)

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ

আল্লাহ বলেন: আমি নামাজকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগ করেছি, আর আমার বান্দা যা চায় তা পাবে। বান্দা যখন বলে "আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন", আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। যখন বলে "আর-রাহমানির রাহীম", আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করল। যখন বলে "মালিকি ইয়াওমিদ্দীন", আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার মর্যাদা ঘোষণা করল। যখন বলে "ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন", আল্লাহ বলেন: এটা আমার ও আমার বান্দার মাঝে, আর আমার বান্দা যা চায় তা পাবে। আর যখন বলে "ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম..." শেষ পর্যন্ত, আল্লাহ বলেন: এটা আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চায় তা পাবে।

সহিহ মুসলিম ৩৯৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেফাতিহার সাতটি আয়াতের অর্থ এই সপ্তাহে মুখস্থ করুন। দিনে অন্তত সতেরোবার পড়া এই সূরা বুঝে পড়লে পুরো নামাজ বদলে যায়।
৪
রুকু ও কওমা

রুকু: পিঠ সোজা, তারপর সোজা হয়ে দাঁড়ানো

কিরাত শেষে "আল্লাহু আকবার" বলে রুকুতে যান। দুই হাত হাঁটুতে, আঙুল ছড়িয়ে; পিঠ সোজা, মাথা পিঠের সমান, না উঁচু না নিচু। সাহাবি আবু হুমাইদ (রা.) দশজন সাহাবির সামনে নবীজির নামাজের পুরো বর্ণনা দিয়েছিলেন, আর সবাই সায় দিয়েছিলেন।

রুকু: পিঠ সোজা, দুই হাত হাঁটুর ওপর
রুকু: পিঠ আর মাথা এক সরলরেখায়, হাত হাঁটুতে।
কওমা: রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো
কওমা: রুকুর পর পুরো সোজা হয়ে এক মুহূর্ত স্থির।

রুকুতে কমপক্ষে তিনবার "সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম"।

তারপর "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে উঠুন, আর পুরো সোজা হয়ে বলুন "রাব্বানা লাকাল হামদ"।

একদিন এক সাহাবি এর সাথে যোগ করলেন "হামদান কাসীরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহ"। নামাজ শেষে নবীজি বললেন: আমি ত্রিশজনের বেশি ফেরেশতাকে দেখলাম, কে আগে এটা লিখবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে।

রফউল ইয়াদাইন (রুকুর আগে-পরে হাত তোলা): ইবনু উমার (রা.)-এর সহিহ বর্ণনায় রুকুতে যাওয়া ও ওঠার সময় হাত তোলার কথা আছে (সহিহ বুখারী ৭৩৫); শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাব এবং অনেক আহলে হাদিস আলেম এভাবেই পড়েন। হানাফি ও মালিকি মাযহাব ইবনু মাসউদ (রা.) প্রমুখের বর্ণনার ভিত্তিতে শুধু শুরুতে হাত তোলেন। দুই আমলই সাহাবিদের থেকে এসেছে; এ নিয়ে কারো নামাজ বাতিল বলা অন্যায়।

আমি তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামাজ সবচেয়ে ভালো মনে রেখেছি। আমি দেখেছি, তিনি তাকবীর দেওয়ার সময় দুই হাত কাঁধ বরাবর তুলতেন। রুকু করলে দুই হাত দিয়ে হাঁটু শক্ত করে ধরতেন, তারপর পিঠ সমান করে দিতেন। মাথা তুললে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, যাতে প্রতিটি হাড় নিজ জায়গায় ফিরে আসে। সিজদা করলে হাত মাটিতে রাখতেন, বিছিয়েও দিতেন না, শরীরের সাথে মিলিয়েও রাখতেন না, আর পায়ের আঙুলের মাথা কিবলার দিকে রাখতেন। দুই রাকাতের পর বসলে বাম পায়ের ওপর বসতেন, ডান পা খাড়া রাখতেন। আর শেষ রাকাতে বসলে বাম পা সামনে বের করে দিতেন, অন্য পা খাড়া রাখতেন এবং নিতম্বের ওপর বসতেন।

সহিহ বুখারী ৮২৮ সহিহ বর্ণনা: আবু হুমাইদ আস-সাইদী (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৩টি দলিল

এক রাতে আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে নামাজ পড়লাম। তিনি সূরা আল-বাকারা শুরু করলেন... শেষ করে সূরা আন-নিসা শুরু করলেন, সেটা পড়লেন, তারপর সূরা আলে ইমরান শুরু করে পড়লেন। ধীরে ধীরে পড়তেন; তাসবীহের আয়াত এলে তাসবীহ পড়তেন, চাওয়ার আয়াত এলে চাইতেন, আশ্রয়ের আয়াত এলে আশ্রয় চাইতেন। তারপর রুকু করলেন এবং বলতে লাগলেন "সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম"... তারপর সিজদা করলেন এবং বললেন "সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা"।

সহিহ মুসলিম ৭৭২সহিহবর্ণনাকারী: হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)

إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ‏.‏ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ‏.‏ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

ইমাম যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে, তোমরা বলো "আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ"। কারণ যার কথা ফেরেশতাদের কথার সাথে মিলে যায়, তার আগের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

সহিহ বুখারী ৭৯৬সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

একদিন আমরা নবী (ﷺ)-এর পেছনে নামাজ পড়ছিলাম। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে বললেন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ"। পেছন থেকে একজন বলল: "রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু হামদান কাসীরান তাইয়িবান মুবারাকান ফীহ" (হে আমাদের রব, আপনারই সব প্রশংসা, অনেক, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা)। নামাজ শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে বলল? লোকটি বলল, আমি। তিনি বললেন: আমি ত্রিশজনের বেশি ফেরেশতাকে দেখলাম, কে আগে এটা লিখবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে।

সহিহ বুখারী ৭৯৯সহিহবর্ণনাকারী: রিফাআ ইবনু রাফি' (রা.)
আপনার জীবনেআজ রুকু থেকে উঠে এক মুহূর্ত পুরো সোজা হয়ে দাঁড়ান, তারপর সিজদায় যান। সবচেয়ে বেশি তাড়াহুড়া হয় এই জায়গাতেই।
৫
সিজদা ও জলসা

সিজদা: রবের সবচেয়ে কাছে

"আল্লাহু আকবার" বলে সিজদায় যান। সাতটি অঙ্গ মাটিতে: কপাল ও নাক, দুই হাত, দুই হাঁটু, দুই পায়ের আঙুল।

সিজদা: কপাল, নাক, দুই হাত, দুই হাঁটু ও পায়ের আঙুল মাটিতে
সিজদা: সাত অঙ্গ মাটিতে, কনুই মাটি থেকে ওপরে।
জলসা: দুই সিজদার মাঝে বসা
জলসা: দুই সিজদার মাঝে স্থির হয়ে বসা।

কনুই মাটিতে বিছিয়ে দেবেন না, বাহু পাঁজর থেকে একটু দূরে রাখুন।

সিজদায় কমপক্ষে তিনবার "সুবহানা রাব্বিয়াল আলা" (সহিহ মুসলিম ৭৭২)। আর বেশি বেশি দোয়া করুন, কারণ এখানেই বান্দা রবের সবচেয়ে কাছে।

তারপর "আল্লাহু আকবার" বলে উঠে বসুন (জলসা), স্থির হয়ে বলুন "রাব্বিগফির লী", তারপর দ্বিতীয় সিজদা।

সিজদায় যাওয়ার সময় আগে হাত না হাঁটু? আবু দাউদের এক বর্ণনায় আগে হাত রাখার কথা আছে, শাইখ আলবানী যাকে সহিহ বলেছেন (সুনানে আবু দাউদ ৮৪০); মালিকি মাযহাব ও অনেক আহলে হাদিস আলেম এভাবেই করেন। আগে হাঁটু রাখার বর্ণনাটিকে (আবু দাউদ ৮৩৮) আলবানী দুর্বল বলেছেন, তবে হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাব সাহাবিদের আমলের ভিত্তিতে আগে হাঁটু রাখেন। দুই পদ্ধতিতেই নামাজ সহিহ।

বান্দা তার রবের সবচেয়ে কাছে থাকে যখন সে সিজদায় থাকে। তাই (সিজদায়) বেশি বেশি দোয়া করো।

সহিহ মুসলিম ৪৮২ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৩টি দলিল

أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ عَلَى الْجَبْهَةِ ـ وَأَشَارَ بِيَدِهِ عَلَى أَنْفِهِ ـ وَالْيَدَيْنِ، وَالرُّكْبَتَيْنِ وَأَطْرَافِ الْقَدَمَيْنِ، وَلاَ نَكْفِتَ الثِّيَابَ وَالشَّعَرَ

আমাকে সাতটি হাড়ের ওপর সিজদা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল (এবং হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করলেন), দুই হাত, দুই হাঁটু আর দুই পায়ের আঙুলের মাথা। আর (নামাজে) কাপড় ও চুল গুটিয়ে না রাখতে।

সহিহ বুখারী ৮১২সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)

اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ، وَلاَ يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ انْبِسَاطَ الْكَلْبِ

সিজদায় ভারসাম্য রাখো। তোমাদের কেউ যেন কুকুরের মতো দুই হাত (কনুইসহ) মাটিতে বিছিয়ে না দেয়।

সহিহ বুখারী ৮২২সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

وَكَانَ يَقْعُدُ فِيمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ نَحْوًا مِنْ سُجُودِهِ وَكَانَ يَقُولُ ‏"‏ رَبِّ اغْفِرْ لِي

(রাতের নামাজে) তিনি দুই সিজদার মাঝে প্রায় সিজদার সমান সময় বসতেন, আর বলতেন: "রাব্বিগফির লী, রাব্বিগফির লী" (হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন; হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন)।

সুনানে আবু দাউদ ৮৭৪সহিহবর্ণনাকারী: হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)
আপনার জীবনেআজ শেষ সিজদায় নিজের ভাষায় একটা দোয়া মনে মনে করুন, ফরজের পরে না হলে সুন্নত বা নফলে। যা চাওয়ার, সিজদায় চান।
৬
বৈঠক

তাশাহহুদ, দরুদ আর শেষের দোয়া

দুই রাকাত পর বসুন: বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসা, ডান পা খাড়া, আঙুল কিবলামুখী। শেষ বৈঠকে অনেক আলেমের মতে বাম পা ডান দিকে বের করে মাটিতে বসা (তাওয়াররুক), আবু হুমাইদ (রা.)-এর বর্ণনায় যেমন আছে (সহিহ বুখারী ৮২৮)। তাশাহহুদের সময় ডান হাতের শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করা সুন্নাহ।

তাশাহহুদের বৈঠক: হাত উরুর ওপর, শাহাদাত আঙুলে ইশারা
বৈঠক: হাত উরুর ওপর, তাশাহহুদে শাহাদাত আঙুলে ইশারা।
পেছন থেকে বৈঠক: বাম পা বিছানো, ডান পা খাড়া
পেছন থেকে দেখা: বাম পা বিছানো, ডান পায়ের আঙুল কিবলামুখী।

প্রতিটি বৈঠকে "আত্তাহিয়্যাতু", যা নবীজি ইবনু মাসউদ (রা.) সহ সাহাবিদের যত্ন করে শিখিয়েছেন।

শেষ বৈঠকে এরপর দরুদে ইবরাহীম।

তারপর সালামের আগে দোয়া। নবীজি চারটি জিনিস থেকে আশ্রয় চাইতে বলেছেন: জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা আর দাজ্জালের ফিতনা (সহিহ মুসলিম ৫৮৮)। আবু বকর (রা.)-কে শিখিয়েছেন আরেকটি দোয়া, যা আমাদের দেশে "দোয়া মাসূরা" নামে পরিচিত।

(নবী ﷺ বললেন:) তোমাদের কেউ নামাজে (বৈঠকে) যেন বলে: "আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন।" কারণ তোমরা এটা বললে আসমান ও জমিনের আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে তা পৌঁছে যায়। "আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।" (অর্থ: সব সম্মান, সব ইবাদত ও সব পবিত্র কথা আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকত। সালাম আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।)

সহিহ বুখারী ৮৩১ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

(সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, আপনার ওপর দরুদ কীভাবে পড়ব? তিনি বললেন, বলো:) "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।" (হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারের ওপর করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দিন, যেমন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারের ওপর দিয়েছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।)

সহিহ বুখারী ৩৩৭০সহিহবর্ণনাকারী: কা'ব ইবনু উজরা (রা.)

عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلاَتِي‏.‏ قَالَ ‏ "‏ قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا ��َلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

আবু বকর (রা.) নবী (ﷺ)-কে বললেন, আমাকে একটা দোয়া শিখিয়ে দিন, যা নামাজে পড়ব। তিনি বললেন, বলো: "আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসীরা, ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা, ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা, ওয়ারহামনী, ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম" (হে আল্লাহ, আমি নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। তাই আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, দয়াময়)।

সহিহ বুখারী ৮৩৪সহিহবর্ণনাকারী: আবু বকর আস-সিদ্দীক (রা.)
আপনার জীবনেআত্তাহিয়্যাতুর অর্থ একবার পড়ুন: এতে আছে আল্লাহর প্রশংসা, নবীজির ওপর সালাম আর "আমাদের ও আল্লাহর সব নেক বান্দার ওপর" সালাম। প্রতিটি বৈঠকে আপনি পুরো উম্মতের জন্য দোয়া করছেন।
৭
সালাম ও যিকির

সালাম ফেরানো আর নামাজের পরের যিকির

ডানে মুখ ফিরিয়ে "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ", তারপর বামে। নবীজি এতটা মুখ ফেরাতেন যে পেছন থেকে তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেত।

সালাম: বৈঠকে বসে ডান দিকে মুখ ফেরানো
সালাম: আগে ডানে, তারপর বামে মুখ ফেরানো।

সালামের পর নবীজি তিনবার "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলতেন, তারপর "আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম..."।

তারপর তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ, তেত্রিশবার আল্লাহু আকবার, আর একবার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু..." দিয়ে একশো পূর্ণ করলে সমুদ্রের ফেনার সমান গুনাহও মাফ।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাজ শেষ করে তিনবার ইস্তিগফার করতেন (আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন) এবং বলতেন: "আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম" (হে আল্লাহ, তুমিই শান্তি, তোমার কাছ থেকেই শান্তি; তুমি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী)।

সহিহ মুসলিম ৫৯১ সহিহ বর্ণনা: সাওবান (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

كُنْتُ أَرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ حَتَّى أَرَى بَيَاضَ خَدِّهِ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ডানে ও বামে সালাম ফেরাতে দেখতাম, এমনভাবে যে তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেত।

সহিহ মুসলিম ৫৮২সহিহবর্ণনাকারী: সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা.)

যে প্রত্যেক নামাজের পর তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ, তেত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলে, এই নিরানব্বই; আর একশ পূর্ণ করতে বলে: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর", তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার সমান হলেও মাফ করে দেওয়া হয়।

সহিহ মুসলিম ৫৯৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেসালামের পর উঠে যাওয়ার আগে অন্তত দুই মিনিট বসে থাকুন: তিনবার ইস্তিগফার আর তেত্রিশ-তেত্রিশ-তেত্রিশ। নামাজের পুরস্কার এখানে পূর্ণ হয়।
৮
ভুল হলে

ভুল হলে সাহু সিজদা, আর যে ভুলগুলো এড়াবেন

একবার নবীজি নিজেই দুই রাকাতের পর না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। নামাজের শেষে সালামের আগে দুটি সিজদা দিলেন। এটাই সাহু সিজদা।

রাকাত নিয়ে সন্দেহ হলে, তিন না চার, যেটা নিশ্চিত (কম সংখ্যা) সেটা ধরে বাকিটা পড়ুন, তারপর সালামের আগে দুটি সিজদা।

মাযহাবের পার্থক্য: হানাফি মতে সাহু সিজদা শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর ডানে এক সালাম ফিরিয়ে দুটি সিজদা, তারপর আবার তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া ও সালাম। অন্য মাযহাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সালামের আগে। দুই পদ্ধতিই হাদিসে আছে।

আর কয়েকটি ভুল, যেগুলো নিয়ে নবীজি কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন: জামাতে ইমামের আগে মাথা তোলা (সহিহ বুখারী ৬৯১), নামাজে এদিক-ওদিক তাকানো, যাকে তিনি বলেছেন শয়তানের ছিনতাই (সহিহ বুখারী ৭৫১), আর আকাশের দিকে চোখ তোলা (সহিহ বুখারী ৭৫০)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে কোনো এক নামাজের দুই রাকাত পড়লেন, তারপর না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন; মানুষও তাঁর সাথে দাঁড়াল। নামাজ শেষের দিকে আমরা যখন তাঁর সালামের অপেক্ষা করছিলাম, তিনি সালামের আগে বসে থেকেই তাকবীর দিয়ে দুটি সিজদা করলেন, তারপর সালাম ফেরালেন।

সহিহ বুখারী ১২২৪ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু বুহাইনা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

তোমাদের কেউ যদি নামাজে সন্দেহে পড়ে যে কত রাকাত পড়েছে, তিন না চার, তাহলে সে যেন সন্দেহ বাদ দেয় এবং যতটুকু নিশ্চিত তার উপর ভিত্তি করে (বাকি নামাজ শেষ করে), তারপর সালাম ফেরানোর আগে দুটি সিজদা করে। যদি সে পাঁচ রাকাত পড়ে থাকে, তাহলে এই দুই সিজদা তার নামাজকে জোড় করে দেবে। আর যদি চার রাকাত ঠিকঠাক হয়ে থাকে, তাহলে সিজদা দুটি শয়তানের জন্য অপমান হবে।

সহিহ মুসলিম ৫৭১সহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)
আপনার জীবনেনামাজে ভুল হলে ভয় পাবেন না, নবীজিরও হয়েছে, আর তিনি সমাধান শিখিয়ে গেছেন। সাহু সিজদার নিয়মটা একবার কাউকে মুখে বুঝিয়ে বলুন, নিজেরও পাকা হবে।

এক নজরে: এক রাকাত, আর দুই, তিন ও চার রাকাতের নকশা

১কিয়াম: দাঁড়িয়ে হাত বাঁধাকিয়ামদাঁড়িয়ে ফাতিহা ও সূরা
২রুকু: পিঠ সোজা, হাত হাঁটুতেরুকুঝুঁকে তাসবীহ
৩কওমা: সোজা হয়ে দাঁড়ানোকওমাসোজা হয়ে দাঁড়ানো
৪সিজদা: সাত অঙ্গ মাটিতেসিজদাপ্রথম সিজদা
৫জলসা: দুই সিজদার মাঝে বসাজলসাএকটু বসা
৬দ্বিতীয় সিজদাসিজদাদ্বিতীয় সিজদা

এক রাকাত = দাঁড়ানো, রুকু, দাঁড়ানো, সিজদা, বসা, সিজদা। প্রতিটি ধাপে একটু স্থির হয়ে তারপর পরের ধাপে যান। ছবিগুলো শুধু ভঙ্গি বোঝানোর জন্য, চেহারা ছাড়া পেনসিল স্কেচ।

নামাজযেভাবে পড়বেন
দুই রাকাত (ফজর, সুন্নত, নফল)১ম রাকাত: তাকবীর, সানা, ফাতিহা ও সূরা, রুকু, দুই সিজদা। ২য় রাকাত: ফাতিহা ও সূরা, রুকু, দুই সিজদা, তারপর বৈঠকে তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া, সালাম।
তিন রাকাত (মাগরিব)প্রথম দুই রাকাত ওপরের মতো; দ্বিতীয় রাকাতের পর বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে যান। ৩য় রাকাতে শুধু ফাতিহা, তারপর শেষ বৈঠক ও সালাম।
চার রাকাত (জোহর, আসর, এশা)দুই রাকাত পর প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ; ৩য় ও ৪র্থ রাকাতে শুধু ফাতিহা (ফরজে); চতুর্থ রাকাতের পর শেষ বৈঠক, দরুদ, দোয়া ও সালাম।

নারীদের নামাজ: নামাজের মূল নিয়ম নারী-পুরুষ সবার জন্য এক; "যেভাবে আমাকে দেখেছ" কথাটি সবার জন্য (সহিহ বুখারী ৬৩১)। নারীদের জন্য আলাদা পদ্ধতি বোঝাতে স্পষ্ট সহিহ হাদিস নেই। তবে হানাফি সহ কিছু মাযহাবে নারীদের সিজদা ও বসায় শরীর বেশি গুটিয়ে রাখার কথা বলা হয়, যা পর্দার দিক থেকে বলা। নারীদের জন্য ঘরে নামাজ পড়া উত্তম, তবে মসজিদে যেতে চাইলে বাধা দিতে নিষেধ আছে।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই পর্বের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

নামাজ শুরুর দোয়া (সানা)

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে তাকবীর দিতেন, তারপর বলতেন: "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক" (হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র, সব প্রশংসা আপনার; আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই)।

সুনানে আবু দাউদ ৭৭৫ সহিহ

রুকু ও সিজদার তাসবীহ

এক রাতে আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে নামাজ পড়লাম। তিনি সূরা আল-বাকারা শুরু করলেন... শেষ করে সূরা আন-নিসা শুরু করলেন, সেটা পড়লেন, তারপর সূরা আলে ইমরান শুরু করে পড়লেন। ধীরে ধীরে পড়তেন; তাসবীহের আয়াত এলে তাসবীহ পড়তেন, চাওয়ার আয়াত এলে চাইতেন, আশ্রয়ের আয়াত এলে আশ্রয় চাইতেন। তারপর রুকু করলেন এবং বলতে লাগলেন "সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম"... তারপর সিজদা করলেন এবং বললেন "সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা"।

সহিহ মুসলিম ৭৭২ সহিহ

রুকু থেকে উঠে

كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّي وَرَاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ قَالَ ‏"‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏"‏‏.‏ قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏"‏ مَنِ الْمُتَكَلِّمُ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَنَا‏.‏ قَالَ ‏"‏ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلاَثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا، أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا أَوَّلُ

একদিন আমরা নবী (ﷺ)-এর পেছনে নামাজ পড়ছিলাম। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে বললেন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ"। পেছন থেকে একজন বলল: "রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু হামদান কাসীরান তাইয়িবান মুবারাকান ফীহ" (হে আমাদের রব, আপনারই সব প্রশংসা, অনেক, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা)। নামাজ শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে বলল? লোকটি বলল, আমি। তিনি বললেন: আমি ত্রিশজনের বেশি ফেরেশতাকে দেখলাম, কে আগে এটা লিখবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে।

সহিহ বুখারী ৭৯৯ সহিহ

দুই সিজদার মাঝে

وَكَانَ يَقْعُدُ فِيمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ نَحْوًا مِنْ سُجُودِهِ وَكَانَ يَقُولُ ‏"‏ رَبِّ اغْفِرْ لِي

(রাতের নামাজে) তিনি দুই সিজদার মাঝে প্রায় সিজদার সমান সময় বসতেন, আর বলতেন: "রাব্বিগফির লী, রাব্বিগফির লী" (হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন; হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন)।

সুনানে আবু দাউদ ৮৭৪ সহিহ

তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু)

فَلْيَقُلِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ‏.‏ فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمُوهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

(নবী ﷺ বললেন:) তোমাদের কেউ নামাজে (বৈঠকে) যেন বলে: "আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন।" কারণ তোমরা এটা বললে আসমান ও জমিনের আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে তা পৌঁছে যায়। "আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।" (অর্থ: সব সম্মান, সব ইবাদত ও সব পবিত্র কথা আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকত। সালাম আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।)

সহিহ বুখারী ৮৩১ সহিহ

দরুদে ইবরাহীম

قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

(সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, আপনার ওপর দরুদ কীভাবে পড়ব? তিনি বললেন, বলো:) "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।" (হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারের ওপর করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দিন, যেমন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারের ওপর দিয়েছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।)

সহিহ বুখারী ৩৩৭০ সহিহ

দোয়া মাসূরা

عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلاَتِي‏.‏ قَالَ ‏ "‏ قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا ��َلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

আবু বকর (রা.) নবী (ﷺ)-কে বললেন, আমাকে একটা দোয়া শিখিয়ে দিন, যা নামাজে পড়ব। তিনি বললেন, বলো: "আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসীরা, ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা, ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা, ওয়ারহামনী, ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম" (হে আল্লাহ, আমি নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। তাই আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, দয়াময়)।

সহিহ বুখারী ৮৩৪ সহিহ

সালামের আগে চার আশ্রয়

إِذَا تَشَهَّدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ পড়ে, সে যেন চারটি জিনিস থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়; বলবে: "আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযাবিল কাবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল" (হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে, আর মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে)।

সহিহ মুসলিম ৫৮৮ সহিহ

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

নামাজ: সব পর্ব

deenpedia.com · https://deenpedia.com/poth/namaj/niyom/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার