deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ: সময়, রাকাত ও ফজিলত

পর্ব ২/৬প্রতিদিনপ্রতিদিনের নামাজ

অন্য সব ইবাদত ফরজ হয়েছে পৃথিবীতে, কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়েছে আসমানে, মিরাজের রাতে। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল শুধু "নামাজ" নয়, "সময়মতো নামাজ"। এই পর্বে প্রতিটি ওয়াক্তের সময়, রাকাত আর ফজিলত, আর প্রতিদিন সময়মতো ও মন দিয়ে পড়ার উপায়।

৮টি অধ্যায়
৬টি আয়াত
২২টি সহিহ হাদিস
৪টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

পঞ্চাশ থেকে পাঁচ: মিরাজের রাতের উপহার

মিরাজের রাত। নবী (ﷺ)-কে নিয়ে যাওয়া হলো সাত আসমান পেরিয়ে। সেখানে আল্লাহ তাঁর উম্মতের ওপর দিনে-রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করলেন।

ফেরার পথে মূসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, আপনার উম্মতের ওপর কী ফরজ হলো? পঞ্চাশ ওয়াক্ত শুনে বললেন, ফিরে যান, কমানোর আবেদন করুন; আপনার উম্মত পারবে না। আমি বনী ইসরাঈলকে দেখেছি। নবীজি ফিরে গেলেন, কমানো হলো। মূসা (আ.) আবার বললেন, আবার যান। এভাবে বারবার যাওয়া-আসার পর থাকল পাঁচ ওয়াক্ত।

তখন আল্লাহ ঘোষণা দিলেন: এগুলো পড়তে পাঁচ, কিন্তু সওয়াবে পঞ্চাশ; আমার কথার কোনো পরিবর্তন হয় না।

(নবী ﷺ বলেন:) আল্লাহ আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করলেন। আমি তা নিয়ে ফেরার পথে মূসা (আ.)-এর কাছ দিয়ে গেলাম। তিনি বললেন: আল্লাহ আপনার উম্মতের উপর কী ফরজ করেছেন? আমি বললাম: পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ। তিনি বললেন: আপনার রবের কাছে ফিরে যান, আপনার উম্মত এটা পারবে না। আমি ফিরে গেলাম, তিনি এর একটা অংশ কমিয়ে দিলেন। ... এভাবে কয়েকবার যাওয়ার পর আল্লাহ বললেন: এগুলো পাঁচ, আর এগুলোই পঞ্চাশ। আমার কাছে কথা বদলায় না।

সহিহ বুখারী ৩৪৯সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.), আবু যার (রা.) থেকে

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত আসলে পঞ্চাশের পুরস্কার নিয়ে আসা এক দয়া। যে নামাজকে বোঝা মনে হয়, তার পেছনে আছে এক রাতের দীর্ঘ দরকষাকষি, শুধু যাতে আমাদের জন্য সহজ হয়।

এই পর্বে ৮টি অধ্যায়
১
কুরআনে

কুরআনে পাঁচ ওয়াক্তের ইশারা

পাঁচ ওয়াক্তের নাম কুরআনে একসাথে তালিকা আকারে নেই, কিন্তু কয়েকটি আয়াতে সময়গুলোর দিকে ইশারা আছে, আর নবীজি হাতে-কলমে দেখিয়ে দিয়েছেন। মুফাসসিরদের ব্যাখ্যায় এই এক আয়াতেই পাঁচ ওয়াক্ত: সূর্য হেলে পড়া থেকে জোহর ও আসর, রাতের অন্ধকার পর্যন্ত মাগরিব ও এশা, আর আলাদা করে ফজর।

নামাজ নির্দিষ্ট সময়ের সাথে বাঁধা ফরজ (সূরা আন-নিসা ৪:১০৩)। দিনের দুই প্রান্তে ও রাতের কিছু অংশে নামাজ কায়েমের আদেশ, কারণ নেক কাজ গুনাহ মুছে দেয় (সূরা হুদ ১১:১১৪)। আর বিশেষ যত্ন নিতে বলা হয়েছে মধ্যবর্তী নামাজের, যা সহিহ হাদিসে আসর।

أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ۖ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا

সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করুন এবং ফজরের সালাত। নিশ্চয় ফজরের সালাত উপস্থিতির সময়।

সূরা আল-ইসরা ১৭:৭৮
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ

তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে তোমরা দাঁড়াবে বিনীতভাবে;

আপনার জীবনেআজ এই আয়াতটা অর্থসহ একবার পড়ুন, তারপর দিনের পাঁচটা সময় মিলিয়ে দেখুন। কুরআনের সাথে নিজের দিনটা মিলে গেলে নামাজ আর আলাদা কাজ মনে হয় না।
২
ফজিলত

সবচেয়ে প্রিয় আমল, আর দরজার সামনের নদী

ইবনু মাসউদ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? উত্তর এল: সময়মতো নামাজ।

নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, কারো দরজার সামনে একটা নদী থাকলে আর সে তাতে দিনে পাঁচবার গোসল করলে শরীরে কি ময়লা থাকবে? পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ এমনই।

যে পাঁচ ওয়াক্ত ঠিকমতো আদায় করে, আল্লাহর কাছে তার জন্য জান্নাতের অঙ্গীকার আছে (সুনানে আবু দাউদ ১৪২০)। আর কিয়ামতে সবার আগে নামাজের হিসাব হবে; ফরজে ঘাটতি থাকলে নফল দিয়ে পূরণ করা হবে (সুনানে আবু দাউদ ৮৬৪)।

আমি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বললেন: সময়মতো নামাজ পড়া। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? বললেন: তারপর মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর? বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ।

সহিহ বুখারী ৫২৭ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

বলো তো, তোমাদের কারও দরজার সামনে যদি একটি নদী থাকে, আর সে প্রতিদিন তাতে পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার গায়ে কোনো ময়লা থাকবে? সাহাবিরা বললেন: কোনো ময়লাই থাকবে না। তিনি বললেন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ এমনই। এর মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহ মুছে দেন।

সহিহ বুখারী ৫২৮সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

الصَّلاَةُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ مَا لَمْ تُغْشَ الْكَبَائِرُ

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, আর এক জুমা থেকে পরের জুমা, এগুলোর মাঝখানের (ছোট) গুনাহের কাফফারা, যতক্ষণ কবিরা গুনাহে জড়ানো না হয়।

সহিহ মুসলিম ২৩৩সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেকাল একটা ওয়াক্ত বেছে নিন, আজান হলেই পড়বেন, কোনো "একটু পরে" নয়। একটা ওয়াক্তে জিতলে বাকিগুলো সহজ হয়।
৩
সতর্কবাণী

নামাজ ছাড়া আর দেরি করার বিপদ

নবীজি বলেছেন, মানুষ আর শিরক ও কুফরের মাঝে পার্থক্য হলো নামাজ ছেড়ে দেওয়া।

কুরআন সতর্ক করেছে তাদের ব্যাপারে, যারা নামাজ নষ্ট করল (সূরা মারইয়াম ১৯:৫৯), আর তাদের ব্যাপারে, যারা নামাজ পড়ে ঠিকই, কিন্তু উদাসীন। অনেক মুফাসসিরের ব্যাখ্যায় এর একটি অর্থ: নামাজকে সময় পার করে দেরিতে পড়া।

শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে আসর পড়াকে নবীজি বলেছেন মুনাফিকের নামাজ: সূর্য ডোবার একদম আগে উঠে চারটা ঠোকর।

মানুষ এবং শিরক ও কুফরের মাঝে (পার্থক্য) হলো নামাজ ছেড়ে দেওয়া।

সহিহ মুসলিম ৮২ সহিহ বর্ণনা: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ

যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন,

تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَهَا أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً

এটা মুনাফিকের নামাজ: বসে বসে সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে, যখন তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে চলে যায় (ডোবার কাছাকাছি), তখন উঠে চারটা ঠোকর দেয়, তাতে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে।

সহিহ মুসলিম ৬২২সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)
আপনার জীবনেআজ কোন নামাজটা শেষ মুহূর্তে পড়েছেন, আর কেন? কারণটা লিখে ফেলুন। বেশিরভাগ সময় কারণ একটাই থাকে, আর সেটা বদলানো যায়।
৪
সময়

জিবরাঈল (আ.) যেভাবে সময় শেখালেন

নামাজের সময়ের মূল দলিল একটি বিখ্যাত হাদিস। জিবরাঈল (আ.) কাবার কাছে পরপর দুই দিন নবীজিকে পাঁচ ওয়াক্ত পড়ালেন: প্রথম দিন প্রতিটি নামাজ সময়ের শুরুতে, দ্বিতীয় দিন শেষ দিকে। তারপর বললেন, সময় এই দুইয়ের মাঝখানে।

সহিহ মুসলিমের আরেকটি হাদিসে নবীজি নিজে প্রতিটি সময়ের শেষ সীমা বলে দিয়েছেন।

ছায়া দিয়ে সময় চেনা: মাটিতে সোজা একটা লাঠি পুঁতলে দুপুরে ছায়া সবচেয়ে ছোট হয়; ছায়া আবার বাড়তে শুরু করলেই জোহর। ছায়া লাঠির সমান হলে (দুপুরের সেই ছোট ছায়া বাদ দিয়ে) আসর শুরু; হানাফি মতে দ্বিগুণ হলে। বাংলাদেশের ক্যালেন্ডারে আসর সাধারণত হানাফি মতে দেওয়া থাকে; অ্যাপে "Hanafi" আর "Standard" দুটো অপশনে প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার পার্থক্য হয়। দুই মতেরই দলিল আছে।

জিবরাঈল (আ.) কাবার কাছে দুইবার আমার ইমামতি করলেন। (প্রথম দিন) জোহর পড়ালেন যখন সূর্য হেলে পড়ল; আসর যখন প্রতিটি জিনিসের ছায়া তার সমান হলো; মাগরিব যখন রোজাদার ইফতার করে; এশা যখন লালিমা মিলিয়ে গেল; ফজর যখন রোজাদারের খাওয়া-পান করা হারাম হয়। পরদিন জোহর পড়ালেন যখন ছায়া জিনিসের সমান; আসর যখন ছায়া দ্বিগুণ; মাগরিব রোজাদারের ইফতারের সময়; এশা রাতের এক-তৃতীয়াংশে; আর ফজর পড়ালেন চারদিক ফর্সা হলে। তারপর আমার দিকে ফিরে বললেন: হে মুহাম্মাদ, এটা আপনার আগের নবীদের সময়, আর (নামাজের) সময় এই দুইয়ের মাঝখানে।

সুনানে আবু দাউদ ৩৯৩ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

তোমরা ফজর পড়লে তার সময় সূর্যের প্রথম কিনারা ওঠা পর্যন্ত। জোহর পড়লে তার সময় আসরের সময় আসা পর্যন্ত। আসর পড়লে তার সময় সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত। মাগরিব পড়লে তার সময় পশ্চিম আকাশের লালিমা (শাফাক) মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। আর এশা পড়লে তার সময় মধ্যরাত পর্যন্ত।

সহিহ মুসলিম ৬১২সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)
আপনার জীবনেফোনের নামাজের অ্যাপে নিজের জেলা আর আসরের পদ্ধতি একবার ঠিক করে নিন। সময় জানা থাকলে "পরে পড়ব" বলার সুযোগ কমে যায়।
৫
ফজর ও আসর

দুই ঠান্ডা সময়ের নামাজ: ফজর ও আসর

একরাতে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে নবীজি বললেন, তোমরা তোমাদের রবকে এভাবে দেখবে; তাই সূর্য ওঠার আগের আর ডোবার আগের নামাজ যেন কিছুতেই ছুটে না যায়।

এই দুই নামাজে রাত আর দিনের ফেরেশতারা পালা বদল করে, আর আল্লাহকে জানায়: তাদের নামাজরত অবস্থায় রেখে এসেছি।

যে দুই ঠান্ডা সময়ের নামাজ পড়ে, সে জান্নাতে যাবে (সহিহ বুখারী ৫৭৪)। ফজর পড়লে সারাদিন আল্লাহর জিম্মায় (সহিহ মুসলিম ৬৫৭)। আর ফজরের আগের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম (সহিহ মুসলিম ৭২৫)।

উল্টো দিকে, যার আসর ছুটে গেল, সে যেন পরিবার ও সম্পদ হারিয়ে ফেলল।

আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। তিনি পূর্ণিমার রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন: তোমরা তোমাদের রবকে দেখবে, যেমন এই চাঁদ দেখছ; তাঁকে দেখতে তোমাদের কোনো ভিড় বা কষ্ট হবে না। তাই পারলে সূর্য ওঠার আগের নামাজ (ফজর) আর সূর্য ডোবার আগের নামাজ (আসর) যেন কিছুতেই ছুটে না যায়।

সহিহ বুখারী ৫৫৪ সহিহ বর্ণনা: জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

রাতের ফেরেশতা আর দিনের ফেরেশতারা পালা করে তোমাদের কাছে আসে, আর ফজর ও আসরের নামাজে তারা একত্র হয়। তারপর যারা রাতে তোমাদের মাঝে ছিল, তারা ওপরে ওঠে। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জেনেও তাদের জিজ্ঞেস করেন: আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে? তারা বলে: আমরা তাদের নামাজরত অবস্থায় রেখে এসেছি, আর যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাজ পড়ছিল।

সহিহ বুখারী ৫৫৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ

যার আসরের নামাজ ছুটে গেল, সে যেন তার পরিবার ও সম্পদ হারিয়ে ফেলল।

সহিহ বুখারী ৫৫২সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)
আপনার জীবনেফজরের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয় আগের রাতে: এশার পর অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুম, আর একটা অ্যালার্ম ফোন থেকে দূরে রাখুন।
৬
জোহর, মাগরিব, এশা

জোহর, মাগরিব ও এশা: উত্তম সময়

জোহর: সময় শুরু হলে তাড়াতাড়ি; প্রচণ্ড গরমে একটু দেরি করে, রোদ কমলে।

মাগরিব: সূর্য ডোবার সাথে সাথে, দেরি না করে। সাহাবিরা মাগরিব পড়ে ফিরতেন, তখনো এত আলো থাকত যে ছোড়া তীর কোথায় পড়ল দেখা যেত।

এশা: রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরি উত্তম, যদি কষ্ট না হয় (সহিহ মুসলিম ৬৩৮); তবে পুরুষদের জন্য মসজিদের জামাতই আগে। জামাতে এশা অর্ধেক রাতের নামাজ, আর ফজরও জামাতে পড়লে পুরো রাতের।

মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ভারী নামাজ এশা আর ফজর; তারা যদি জানত এতে কী আছে, হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসত।

যে জামাতে এশা পড়ল, সে যেন অর্ধেক রাত নামাজ পড়ল। আর যে জামাতে ফজর পড়ল, সে যেন পুরো রাত নামাজ পড়ল।

সহিহ মুসলিম ৬৫৬ সহিহ বর্ণনা: উসমান ইবনু আফফান (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৩টি দলিল

إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ

গরম যখন তীব্র হয়, তখন (জোহরের) নামাজ ঠান্ডা সময়ে পড়ো; কারণ তীব্র গরম জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে।

সহিহ বুখারী ৫৩৬সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيَنْصَرِفُ أَحَدُنَا وَإِنَّهُ لَيُبْصِرُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِ‏

আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে মাগরিব পড়তাম, তারপর আমাদের কেউ ফিরে যেত, তখনো (এত আলো থাকত যে) সে তার ছোড়া তীর কোথায় পড়ল দেখতে পেত।

সহিহ বুখারী ৫৫৯সহিহবর্ণনাকারী: রাফি ইবনু খাদীজ (রা.)

لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ مِنَ الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا

মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার চেয়ে ভারী কোনো নামাজ নেই। এ দুটিতে কী আছে তারা যদি জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসত।

সহিহ বুখারী ৬৫৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেএই সপ্তাহে অন্তত একদিন এশা আর পরদিন ফজর দুটোই জামাতে পড়ুন। হাদিসের হিসাবে সেটা পুরো এক রাতের নামাজ।
৭
মাসআলা

নিষিদ্ধ সময়, কাজা, জামাত আর সফর

তিন সময়ে নামাজ নিষেধ: সূর্য ওঠার সময়, ঠিক দুপুরে, আর সূর্য ডোবার সময়।

ঘুম বা ভুলে নামাজ ছুটে গেলে মনে পড়ামাত্র পড়ে নিন, এটাই কাফফারা।

ঘুমের মধ্যে অবহেলা নেই; অবহেলা হলো জেগে থেকেও না পড়া (সহিহ মুসলিম ৬৮১)।

জামাতে নামাজ একা পড়ার চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদার (সহিহ বুখারী ৬৪৫)। মসজিদের পথে প্রতিটি কদমে একটি গুনাহ মাফ, আরেক কদমে মর্যাদা বৃদ্ধি (সহিহ মুসলিম ৬৬৬)।

সফরে চার রাকাতের ফরজ দুই রাকাত। আয়েশা (রা.) বলেছেন, নামাজ প্রথমে দুই রাকাত করে ফরজ হয়েছিল; সফরের নামাজ সেভাবেই রাখা হয়েছে।

কেউ যদি কোনো নামাজ ভুলে যায়, তাহলে মনে পড়ার সাথে সাথে যেন তা পড়ে নেয়। এর আর কোনো কাফফারা নেই।

সহিহ বুখারী ৫৯৭ সহিহ বর্ণনা: আনাস ইবনু মালিক (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

তিনটি সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নামাজ পড়তে ও মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করতেন: সূর্য যখন উঠতে থাকে, যতক্ষণ না কিছুটা ওপরে ওঠে; দুপুরে সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর থাকে, যতক্ষণ না হেলে পড়ে; আর সূর্য যখন ডুবতে শুরু করে, যতক্ষণ না পুরোপুরি ডোবে।

সহিহ মুসলিম ৮৩১সহিহবর্ণনাকারী: উকবা ইবনু আমির (রা.)

فَرَضَ اللَّهُ الصَّلاَةَ حِينَ فَرَضَهَا رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ، وَزِيدَ فِي صَلاَةِ الْحَضَرِ

আল্লাহ যখন নামাজ ফরজ করেন, তখন ঘরে ও সফরে দুই রাকাত দুই রাকাত করে ফরজ করেছিলেন। পরে সফরের নামাজ সেভাবেই রাখা হলো, আর নিজ এলাকায় থাকা অবস্থার নামাজে বাড়ানো হলো।

সহিহ বুখারী ৩৫০সহিহবর্ণনাকারী: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)
আপনার জীবনেকোনো নামাজ ছুটে গেলে হতাশ হয়ে বাকি দিনটা ছেড়ে দেবেন না। মনে পড়ামাত্র পড়ে নিন, তাওবা করুন, পরের ওয়াক্ত থেকে আবার শুরু।
৮
খুশু

"পড়তে হবে" নয়, "পড়তে পারছি": মনোযোগী নামাজ

সফল তারা, যারা নামাজে বিনয়ী ও মনোযোগী।

খুশুর সবচেয়ে বড় চাবি অর্থ বোঝা। ফাতিহার প্রতিটি আয়াতে আল্লাহ জবাব দিচ্ছেন, এটা জানলে ফাতিহা আর যান্ত্রিক থাকে না।

নবীজি নামাজকে দেখতেন বিশ্রাম ও আনন্দ হিসেবে। বিলালকে বলতেন, ইকামত দাও, এর মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও (সুনানে আবু দাউদ ৪৯৮৫)। নামাজে রাখা হয়েছিল তাঁর চোখের শীতলতা (সুনানে আন-নাসাঈ ৩৯৩৯)। ঘরে পরিবারের কাজে সাহায্য করতেন, নামাজের সময় হলে বেরিয়ে যেতেন (সহিহ বুখারী ৬৭৬)।

আর এক নামাজের পর পরের নামাজের অপেক্ষাকে তিনি বলেছেন রিবাত, সীমান্ত পাহারা।

الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ

যারা তাদের সালাতে ভীত-অবনত,

সূরা আল-মুমিনূন ২৩:২
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ

আল্লাহ বলেন: আমি নামাজকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগ করেছি, আর আমার বান্দা যা চায় তা পাবে। বান্দা যখন বলে "আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন", আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। যখন বলে "আর-রাহমানির রাহীম", আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করল। যখন বলে "মালিকি ইয়াওমিদ্দীন", আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার মর্যাদা ঘোষণা করল। যখন বলে "ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন", আল্লাহ বলেন: এটা আমার ও আমার বান্দার মাঝে, আর আমার বান্দা যা চায় তা পাবে। আর যখন বলে "ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম..." শেষ পর্যন্ত, আল্লাহ বলেন: এটা আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চায় তা পাবে।

সহিহ মুসলিম ৩৯৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলব না, যা দিয়ে আল্লাহ গুনাহ মুছে দেন আর মর্যাদা বাড়িয়ে দেন? সাহাবিরা বললেন, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: কষ্টের সময়েও পূর্ণভাবে ওজু করা, মসজিদের দিকে বেশি কদম চলা, আর এক নামাজের পর আরেক নামাজের অপেক্ষায় থাকা। এটাই তোমাদের রিবাত (সীমান্ত পাহারা)।

সহিহ মুসলিম ২৫১সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেকাল একটা নামাজ বেছে নিন: আজানের পরপরই, ফাতিহার প্রতিটি আয়াতের পর এক মুহূর্ত থেমে, ধীরে পড়ুন। একটা থেকে শুরু করলেই পাঁচটায় পৌঁছানো সহজ।

এক নজরে পাঁচ ওয়াক্ত: সময় ও রাকাত

নামাজসময় শুরুসময় শেষউত্তম সময়
ফজরসুবহে সাদিক (দিগন্তে আড়াআড়ি সাদা আলো)সূর্যোদয় শুরুর আগ পর্যন্তঅন্ধকার থাকতে শুরু, লম্বা কিরাত (হানাফি: ফর্সা হলে)
জোহরসূর্য মাথার ওপর থেকে হেলে পড়লেছায়া জিনিসের সমান (হানাফি: দ্বিগুণ)শুরুতে; প্রচণ্ড গরমে একটু দেরিতে
আসরজোহরের সময় শেষেসূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত (প্রয়োজনে সূর্যাস্ত)সূর্য উঁচু ও উজ্জ্বল থাকতে
মাগরিবসূর্য পুরোপুরি ডুবলেপশ্চিম আকাশের লালিমা মিলিয়ে গেলেসূর্য ডোবার সাথে সাথে
এশালালিমা মিলিয়ে গেলেমধ্যরাত (প্রয়োজনে ফজরের আগ পর্যন্ত)রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ, কষ্ট না হলে
নামাজআগে সুন্নতফরজপরে সুন্নত
ফজর২ (সবচেয়ে জোরালো)২নেই
জোহর৪ (মুয়াক্কাদা; ২ পড়ার বর্ণনাও সহিহ)৪২ (মুয়াক্কাদা), চাইলে আরও ২
আসর৪ (ঐচ্ছিক)৪নেই
মাগরিব২ নফল (ঐচ্ছিক)৩২ (মুয়াক্কাদা)
এশানফল (ঐচ্ছিক)৪২ (মুয়াক্কাদা) + বিতর

মোট ফরজ ১৭ রাকাত, এ বিষয়ে উম্মতের ঐকমত্য। সুন্নতে মুয়াক্কাদা ১২ রাকাত: ফজরের আগে ২, জোহরের আগে ৪ ও পরে ২, মাগরিবের পরে ২, এশার পরে ২ (জামে আত-তিরমিযী ৪১৫)। এগুলো নিয়মিত পড়লে জান্নাতে একটি ঘর (সহিহ মুসলিম ৭২৮)। সময়ের দলিল: সুনানে আবু দাউদ ৩৯৩, সহিহ মুসলিম ৬১২।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই পর্বের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

ফজর ও আসরের আয়াত

فَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا ۖ وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَىٰ ﴿١٣٠﴾

কাজেই তারা যা বলে, সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন এবং রাতে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন এবং দিনের প্রান্তসমূহেও, যাতে আপনি সন্তুষ্ট হতে আপ্রেন।

সূরা ত্বা-হা ২০:১৩০
নামাজি হওয়ার দোয়া (ইবরাহীম আ.)

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ ﴿٤٠﴾

‘হে আমার রব! আমাকে সালাত কয়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও। হে আমাদের রব! আর আমার দো’আ কবূল করুন।

সূরা ইবরাহীম ১৪:৪০
ফরজ নামাজের পরের যিকির

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلاَتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاَثًا وَقَالَ ‏ "‏ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাজ শেষ করে তিনবার ইস্তিগফার করতেন (আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন) এবং বলতেন: "আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম" (হে আল্লাহ, তুমিই শান্তি, তোমার কাছ থেকেই শান্তি; তুমি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী)।

সহিহ মুসলিম ৫৯১ সহিহ

নামাজের পর তাসবীহ

مَنْ سَبَّحَ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَحَمِدَ اللَّهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَكَبَّرَ اللَّهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ فَتِلْكَ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ

যে প্রত্যেক নামাজের পর তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ, তেত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলে, এই নিরানব্বই; আর একশ পূর্ণ করতে বলে: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর", তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার সমান হলেও মাফ করে দেওয়া হয়।

সহিহ মুসলিম ৫৯৭ সহিহ

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

নামাজ: সব পর্ব

deenpedia.com · https://deenpedia.com/poth/namaj/panch-waqt/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার