deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ

নামাজের কিরাত: কোন সূরা, কীভাবে পড়বেন

পর্ব ৬/৬যা পড়বেনআরও নামাজ ও কিরাত

অনেকে নামাজে বছরের পর বছর একই তিন-চারটা সূরা পড়ে যান, কারণ মনে হয় এর বাইরে গেলে ভুল হবে। অথচ কুরআন বলছে, যতটুকু সহজ ততটুকু পড়ো। এই পর্বে কিরাতের সহজ নিয়ম, নবীজি (ﷺ) কোন নামাজে কী পড়তেন, আর নতুন সূরা শিখে নামাজকে তাজা রাখার উপায়।

৭টি অধ্যায়
২৩টি আয়াত
১১টি হাদিস (সহিহ/হাসান)
৪টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

যে সাহাবি প্রতি রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন

নবী (ﷺ) এক সাহাবিকে ছোট একটা বাহিনীর নেতা করে পাঠালেন। তিনি সঙ্গীদের নিয়ে নামাজ পড়াতেন, আর প্রতিবার কিরাত শেষ করতেন "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" দিয়ে।

ফিরে এসে সঙ্গীরা বিষয়টা নবীজিকে জানাল; হয়তো তাদের মনে হয়েছিল এটা একটু অদ্ভুত। নবীজি বললেন, তাকেই জিজ্ঞেস করো, কেন এমন করে।

সাহাবি বললেন: কারণ এতে দয়াময় আল্লাহর গুণের কথা আছে, আর আমি এটা পড়তে ভালোবাসি। নবীজি বললেন: তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।

নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে একটি ছোট বাহিনীর নেতা করে পাঠালেন। তিনি সঙ্গীদের নিয়ে নামাজ পড়াতেন, আর প্রতিবার কিরাত শেষ করতেন "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" দিয়ে। তারা ফিরে এসে নবী (ﷺ)-কে বিষয়টি জানাল। তিনি বললেন: তাকে জিজ্ঞেস করো, কেন সে এমন করে? তারা জিজ্ঞেস করলে সে বলল: কারণ এটা দয়াময় আল্লাহর গুণাবলি, আর আমি এটা পড়তে ভালোবাসি। নবী (ﷺ) বললেন: তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।

সহিহ বুখারী ৭৩৭৫সহিহবর্ণনাকারী: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? নামাজে কোন সূরা পড়ছেন, তার চেয়েও বড় কথা, কেন পড়ছেন আর কতটা ভালোবেসে পড়ছেন। একটা সূরার অর্থ বুঝে ভালোবেসে ফেললে সেই ভালোবাসা আল্লাহর ভালোবাসা টেনে আনে।

এই পর্বে ৭টি অধ্যায়
১
কতটুকু

যতটুকু সহজ: কিরাতের মূল কথা

রাতের নামাজের আলোচনায় আল্লাহ বলেছেন, কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড়ো।

ফাতিহা প্রতিটি রাকাতে জরুরি (সহিহ বুখারী ৭৫৬)। ফাতিহার পর কতটুকু? যে সাহাবিকে নবীজি নামাজ শিখিয়েছিলেন, তাঁকে বলেছিলেন: কুরআন থেকে তোমার জন্য যা সহজ, তা পড়ো (সহিহ বুখারী ৭৫৭)।

হানাফি মাযহাবে: ফাতিহার সাথে অন্তত একটি ছোট সূরা, বা ছোট তিন আয়াত, বা এক লম্বা আয়াত মেলানো ওয়াজিব; ভুলে বাদ পড়লে সাহু সিজদা। অন্য মাযহাবে ফাতিহার পর সূরা মেলানো সুন্নত।

إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَىٰ مِن ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِّنَ الَّذِينَ مَعَكَ ۚ وَاللَّهُ يُقَدِّرُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ ۚ عَلِمَ أَن لَّن تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ ۖ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ ۚ عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُم مَّرْضَىٰ ۙ وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ اللَّهِ ۙ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۖ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ ۚ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا ۚ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

নিশ্চয় আপনার রব জানেন যে, আপনি সালাতে দাঁড়ান কখনও রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, কখনও অর্ধাংশ এবং কখনও এক-তৃতীয়াংশ এবং দাঁড়ায় আপনার সঙ্গে যারা আছে তাদের একটি দলও। আর আল্লাহ্ই নির্ধারণ করেন দিন ও রাতের পরিমান। তিনি জানেন যে, তোমরা এটা পুরোপুরি পালন করতে পারবে না, তাই আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করলেন। কাজেই কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড়, আল্লাহ্ জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে, আর কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশ ভ্ৰমন করবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে লড়াইয়ে লিপ্ত হবে। কাজেই তোমরা কুরআন হতে যতটুকু সহজসাধ্য ততটুকু পড়। আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্ৰদান কর এবং আল্লাহ্কে দাও উত্তম ঋণ। তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য ভাল যা কিছু অগ্রিম পাঠাবে তোমরা তা পাবে আল্লাহর কাছে। তা উৎকৃষ্টতর এবং পুরস্কার হিসেবে মহত্তর। আর তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর আল্লাহর কাছে। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সূরা আল-মুযযাম্মিল ৭৩:২০
আপনার জীবনেআজ নামাজে এমন একটা সূরা পড়ুন, যেটা অনেক দিন পড়েননি। মুখস্থ সূরাগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পড়লে মন সজাগ থাকে।
২
কোন রাকাতে

প্রথম দুই রাকাতে সূরা, পরের দুইয়ে শুধু ফাতিহা

নবীজি জোহর ও আসরের প্রথম দুই রাকাতে ফাতিহা ও আরেকটি সূরা পড়তেন, শেষ দুই রাকাতে শুধু ফাতিহা। প্রথম রাকাত একটু লম্বা করতেন, দ্বিতীয়টি তার চেয়ে ছোট।

ফজর, মাগরিব ও এশার প্রথম দুই রাকাতে ইমাম জোরে পড়েন; জোহর ও আসর পুরোটা চুপে। একা পড়লে জোরের নামাজে হালকা আওয়াজে পড়া যায়।

নবী (ﷺ) জোহরের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা ও আরও দুটি সূরা পড়তেন, আর শেষ দুই রাকাতে শুধু ফাতিহা। কখনো কখনো আমাদের একটা আয়াত শুনিয়ে দিতেন। প্রথম রাকাত যতটা লম্বা করতেন, দ্বিতীয় রাকাত ততটা করতেন না। আসর ও ফজরেও এমনই করতেন।

সহিহ বুখারী ৭৭৬ সহিহ বর্ণনা: আবু কাতাদা (রা.)
আপনার জীবনেদ্বিতীয় রাকাতে প্রথম রাকাতের চেয়ে ছোট সূরা পড়ুন; এটাই নবীজির সাধারণ আমল। এই ছোট্ট খেয়াল নামাজকে সুন্নাহর কাছাকাছি নিয়ে যায়।
৩
ক্রম

সূরার ক্রম আগে-পিছে হলে কী হয়?

এক রাতে হুযাইফা (রা.) নবীজির সাথে নামাজে দাঁড়ালেন। নবীজি সূরা আল-বাকারা পড়লেন, তারপর আন-নিসা, তারপর আলে-ইমরান। মুসহাফে আলে-ইমরান আগে, আন-নিসা পরে।

এ থেকে আলেমরা বলেছেন, সূরার ক্রম উল্টে গেলে নামাজ নষ্ট হয় না। তবে ফরজ নামাজে ইচ্ছা করে ক্রম উল্টানো হানাফি সহ অনেক আলেমের মতে মাকরূহ; তাই সাধারণত প্রথম রাকাতে আগের সূরা, দ্বিতীয় রাকাতে পরের সূরা পড়ুন। ভুলে উল্টে গেলে চিন্তার কিছু নেই।

এক রাতে আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে নামাজ পড়লাম। তিনি সূরা আল-বাকারা শুরু করলেন... শেষ করে সূরা আন-নিসা শুরু করলেন, সেটা পড়লেন, তারপর সূরা আলে ইমরান শুরু করে পড়লেন। ধীরে ধীরে পড়তেন; তাসবীহের আয়াত এলে তাসবীহ পড়তেন, চাওয়ার আয়াত এলে চাইতেন, আশ্রয়ের আয়াত এলে আশ্রয় চাইতেন। তারপর রুকু করলেন এবং বলতে লাগলেন "সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম"... তারপর সিজদা করলেন এবং বললেন "সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা"।

সহিহ মুসলিম ৭৭২ সহিহ বর্ণনা: হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)
আপনার জীবনেছোট সূরাগুলো মুসহাফের ক্রমে একবার সাজিয়ে লিখে ফেলুন (যেমন আল-ফীল থেকে আন-নাস)। কোনটা আগে, কোনটা পরে মাথায় থাকলে ক্রম আর উল্টাবে না।
৪
এক সূরা দুইবার

এক সূরা দুই রাকাতে, আর এক রাকাতে দুই সূরা

এক সাহাবি শুনেছেন, নবীজি ফজরের দুই রাকাতেই সূরা আয-যিলযাল পড়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, জানি না তিনি ভুলে গিয়েছিলেন নাকি ইচ্ছা করে পড়েছিলেন। অর্থাৎ এক সূরা দুই রাকাতে পড়লেও নামাজ ঠিক আছে।

আর এক রাকাতে দুই সূরাও পড়া যায়। ইবনু মাসউদ (রা.) বলেছেন, নবীজি সমান দৈর্ঘ্যের সূরা জোড়া করে এক রাকাতে পড়তেন, আর মুফাসসাল অংশের বিশটি সূরার নাম বললেন।

তিনি নবী (ﷺ)-কে ফজরের দুই রাকাতেই "ইযা যুলযিলাতিল আরদ" (সূরা আয-যিলযাল) পড়তে শুনেছেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) জানি না, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি ভুলে গিয়েছিলেন, নাকি ইচ্ছা করেই তা পড়েছিলেন।

সুনানে আবু দাউদ ৮১৬ হাসান বর্ণনা: জুহাইনা গোত্রের এক সাহাবি
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

لَقَدْ عَرَفْتُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرِنُ بَيْنَهُنَّ فَذَكَرَ عِشْرِينَ سُورَةً مِنَ الْمُفَصَّلِ سُورَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ‏

আমি জানি, নবী (ﷺ) কোন কোন সমান দৈর্ঘ্যের সূরা জোড়া করে পড়তেন। এরপর তিনি মুফাসসাল অংশের বিশটি সূরার কথা বললেন, প্রতি রাকাতে দুটি করে।

সহিহ বুখারী ৭৭৫সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.)
আপনার জীবনেনতুন সূরা মুখস্থ হলে প্রথম কয়েকদিন সুন্নত বা নফলে দুই রাকাতেই পড়ে পাকা করুন। এক সূরা দুইবার পড়ার অনুমতি শেখার জন্যও সহায়ক।
৫
ইমামের দায়িত্ব

ইমাম হলে হালকা করো

মুআয (রা.) এশায় লম্বা সূরা শুরু করলেন। সারাদিন খেতে কাজ করা এক লোক নামাজ ছেড়ে চলে গেল আর নবীজির কাছে অভিযোগ করল। নবীজি তিনবার বললেন: মুআয, তুমি কি মানুষকে ফিতনায় ফেলবে? কেন সূরা আল-আ'লা, আশ-শামস, আল-লাইলের মতো সূরা দিয়ে পড়ালে না?

ইমাম হলে নামাজ হালকা করো, কারণ পেছনে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ আছে; আর একা পড়লে যত খুশি লম্বা করো।

তোমাদের কেউ যখন মানুষের ইমামতি করে, সে যেন হালকা করে; কারণ তাদের মধ্যে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ আছে। আর যখন একা নামাজ পড়ে, তখন যত ইচ্ছা লম্বা করুক।

সহিহ বুখারী ৭০৩ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

এক লোক সন্ধ্যায় দুটি পানি টানার উট নিয়ে আসছিল। মুআয (রা.)-কে নামাজ পড়াতে দেখে সে উট রেখে তাঁর পেছনে দাঁড়াল। মুআয সূরা আল-বাকারা বা আন-নিসা শুরু করলেন। লোকটি (নামাজ ছেড়ে) চলে গেল... সে নবী (ﷺ)-এর কাছে অভিযোগ করল। নবী (ﷺ) তিনবার বললেন: হে মুআয, তুমি কি মানুষকে ফিতনায় ফেলবে? তুমি কেন "সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা", "ওয়াশ শামসি ওয়া দুহাহা", "ওয়াল লাইলি ইযা ইয়াগশা" দিয়ে নামাজ পড়ালে না?

সহিহ বুখারী ৭০৫সহিহবর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রা.)
আপনার জীবনেপরিবারকে নিয়ে জামাতে পড়ালে ছোট ও মাঝারি সূরা বেছে নিন। নিজের তাহাজ্জুদে লম্বা করুন; এই ভারসাম্যই নবীজির শিক্ষা।
৬
ছোট সূরা

শুরু করার জন্য ছোট সূরা, আর তার ফজিলত

নতুন যারা শুরু করছেন, তাদের জন্য কুরআনের শেষ দশটি সূরা (আল-ফীল থেকে আন-নাস) সবচেয়ে সহজ। এর মধ্যে সূরা ইখলাস একাই কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

প্রতিটি সূরার আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ আর অডিও পাবেন নামাজের সূরা পাতায়। উচ্চারণ দেখে শুরু করুন, তবে আরবি হরফ শিখে কোনো শিক্ষকের কাছে একবার শুনিয়ে নিন; বাংলা হরফে আরবির সব উচ্চারণ ঠিকভাবে লেখা যায় না।

তাজবীদ: নামাজে এমন উচ্চারণের ভুল, যাতে অর্থ বদলে যায় (যেমন "হ" আর "হা", "স" আর "ছ" গুলিয়ে ফেলা), তা এড়াতে চেষ্টা করুন। তবে শেখার পথে থাকা মানুষের ভুলে আল্লাহ ক্ষমাশীল; ভয়ে নামাজ বা কুরআন পড়া ছাড়বেন না।

(এক সাহাবি বারবার শুধু সূরা ইখলাস পড়তেন; আরেকজন সেটাকে কম মনে করে নবী (ﷺ)-কে জানালেন। তিনি বললেন:) যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! এই সূরা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

সহিহ বুখারী ৫০১৩ সহিহ বর্ণনা: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)
আপনার জীবনেপ্রতি মাসে একটি নতুন ছোট সূরা মুখস্থ করার লক্ষ্য রাখুন। এক বছরে বারোটি সূরা, আর প্রতিটি নামাজে নতুন স্বাদ।
৭
নবীজির কিরাত

নবীজি কোন নামাজে কোন সূরা পড়তেন

কিছু নামাজে নবীজির নির্দিষ্ট সূরা পড়ার অভ্যাস সহিহ হাদিসে এসেছে। ফজরের দুই রাকাত সুন্নতে সূরা আল-কাফিরূন ও আল-ইখলাস।

বিতরে সূরা আল-আ'লা, আল-কাফিরূন ও আল-ইখলাস।

দুই ঈদ ও জুমায় সূরা আল-আ'লা ও আল-গাশিয়াহ।

এগুলো মাঝে মাঝে মেনে চললে সুন্নাহর সাথে বাড়তি মিল হয়, তবে অন্য সূরা পড়াও পুরোপুরি বৈধ।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দুই রাকাত (সুন্নতে) "কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন" আর "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" পড়তেন।

সহিহ মুসলিম ৭২৬ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُوتِرُ بِـ ‏{‏ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ‏}‏ وَ ‏{‏ قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا ‏}‏ وَاللَّهُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতরে "সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা", "কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন" আর "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" পড়তেন।

সুনানে আবু দাউদ ১৪২৩সহিহবর্ণনাকারী: উবাই ইবনু কা'ব (রা.)

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْعِيدَيْنِ وَفِي الْجُمُعَةِ بِـ ‏{‏ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى‏}‏ وَ ‏{‏ هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ‏

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুই ঈদ ও জুমার নামাজে "সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা" আর "হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ" পড়তেন।

সহিহ মুসলিম ৮৭৮সহিহবর্ণনাকারী: নু'মান ইবনু বাশীর (রা.)
আপনার জীবনেআজ ফজরের সুন্নতে প্রথম রাকাতে আল-কাফিরূন আর দ্বিতীয় রাকাতে আল-ইখলাস পড়ুন। আর বিতরে আল-আ'লা মুখস্থ না থাকলে এই মাসেই শিখে নিন।

এক নজরে: কোন নামাজে কোন সূরা

নামাজনবীজি যা পড়তেননতুনদের জন্য সহজ বিকল্প
ফজরের সুন্নতআল-কাফিরূন, আল-ইখলাস (সহিহ মুসলিম ৭২৬)একই
ফজরের ফরজসাধারণত লম্বা কিরাতআল-আসর, আল-কাওসার বা যেকোনো ছোট সূরা
মাগরিবসাধারণত ছোট সূরাআল-ফীল ও কুরাইশ, আল-মাঊন ও আল-কাওসার
এশামাঝারি, যেমন আশ-শামস, আল-লাইল (সহিহ বুখারী ৭০৫)আন-নাসর ও আল-লাহাব
বিতরআল-আ'লা, আল-কাফিরূন, আল-ইখলাস (সুনানে আবু দাউদ ১৪২৩)আল-ইখলাস, আল-ফালাক, আন-নাস
জুমা ও ঈদআল-আ'লা ও আল-গাশিয়াহ (সহিহ মুসলিম ৮৭৮)ইমামের দায়িত্ব

বাম কলামের "সাধারণত" কথাগুলো সাধারণ অভ্যাস, বাধ্যতামূলক নয়। সব সূরার উচ্চারণ ও অডিও: নামাজের সূরা।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই পর্বের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

সূরা আল-ফাতিহা

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ ﴿١﴾ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٢﴾ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ ﴿٣﴾ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴿٤﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿٥﴾ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿٦﴾ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴿٧﴾

রহমান, রহীম আল্লাহ্‌র নামে সকল ‘হাম্‌দ’ আল্লাহ্‌র , যিনি সৃষ্টিকুলের রব, দয়াময়, পরম দয়ালু, বিচার দিনের মালিক। আমরা শুধু আপনারই ‘ইবাদাত করি, এবং শুধু আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি, আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নি‘আমত দিয়েছেন, যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়

সূরা আল-ফাতিহা ১:১-৭
সূরা আল-ইখলাস

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾

বলুন , ‘তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয় , ‘আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ' (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী); তিনি কাউকেও জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি , ‘এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।’

সূরা আল-ইখলাস ১১২:১-৪
সূরা আল-ফালাক

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾

বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে, আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয় আর অনিষ্ট হতে সমস্ত নারীদের, যারা গিরায় ফুঁক দেয়, আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।’

সূরা আল-ফালাক ১১৩:১-৫
সূরা আন-নাস

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَـٰهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾

বলুন, ‘আমি আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।’

সূরা আন-নাস ১১৪:১-৬

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

নামাজ: সব পর্ব

deenpedia.com · https://deenpedia.com/poth/namaj/kirat/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার