deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ

সন্তান কামনা ও গর্ভাবস্থা

ধাপ ১/১৪জন্মের আগেজন্মের আগে ও শৈশব

একজন মানুষের সুন্নাহর জীবন শুরু হয় তার জন্মেরও আগে, মা-বাবার নিয়ত আর দোয়া থেকে। নবীরা সন্তান চেয়েছেন, তবে চেয়েছেন "নেক" সন্তান। এই ধাপে দেখবেন, সন্তান কামনা থেকে প্রসব পর্যন্ত কুরআন ও সুন্নাহ কী শেখায়।

৫টি অধ্যায়
১৬টি আয়াত
৪টি সহিহ হাদিস
৫টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

ইমরানের স্ত্রীর মানত: গর্ভের সন্তান আল্লাহর জন্য

মারইয়াম (আ.)-এর জন্মের আগের ঘটনা। তাঁর মা, ইমরানের স্ত্রী, তখন গর্ভবতী। সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে, তিনি জানতেন না। কিন্তু একটা জিনিস তিনি ঠিক করে ফেলেছিলেন: এই সন্তান হবে আল্লাহর জন্য। তিনি দোয়া করলেন, হে আমার রব, আমার গর্ভে যা আছে তা আমি একান্তভাবে আপনার জন্য মানত করলাম; আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন।

إِذْ قَالَتِ امْرَأَتُ عِمْرَانَ رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

স্মরণ করুন, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, ‘হে আমার রব! আমার গর্ভে যা আছে নিশ্চয় আমি তা একান্ত আপনার জন্য মানত করলাম। কাজেই আপনি আমার নিকট থেকে তা কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।'

সন্তান জন্মের পর দেখা গেল, মেয়ে। সেই যুগে মসজিদের খেদমতে সাধারণত ছেলেদের দেওয়া হতো। তিনি আল্লাহকে বললেন, আমি তো মেয়ে জন্ম দিয়েছি। তারপর মেয়ের নাম রাখলেন মারইয়াম, আর তাকে ও তার ভবিষ্যৎ সন্তানদের শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে দিলেন।

فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَىٰ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنثَىٰ ۖ وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

তারপর যখন সে তা প্রসব করল তখন সে বলল, ‘হে আমার রব! নিশ্চয় আমি তা প্রসব করেছি কন্যারুপে।’ সে যা প্রসব করেছে তা সম্পর্কে আল্লাহ্‌ সম্যক অবগত। আর পুত্রসন্তান কন্যা সন্তানের মত নয়। আর আমি তার নাম মারিয়াম রেখেছি এবং অভিসপ্ত শয়তান হতে তার ও তার সন্তানকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।’

আল্লাহ সেই মেয়েকে "উত্তমভাবে কবুল করলেন" এবং সুন্দরভাবে বড় করলেন। এই মেয়েই হলেন মারইয়াম (আ.), কুরআনে যাঁর নামে একটি পুরো সূরা আছে, আর যাঁর কোলে এসেছিলেন ঈসা (আ.)।

فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا ۖ كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقًا ۖ قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّىٰ لَكِ هَـٰذَا ۖ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ ۖ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ

তারপর তার রব তাকে ভালোভাবেই কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমরূপে লালন-পালন করলেন এবং তিনি তাকে যাকারিয়্যার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন। যখনই যাকারিয়্যা তার কক্ষে প্রবেশ করত তখনই তার নিকট খাদ্য সামগ্রী দেখতে পেত। তিনি বলতেন, ‘হে মারিয়াম! এ সব তুমি কথায় পেলে?’ (মার্‌ইয়াম) বলতেন, ‘তা আল্লাহ্‌র নিকট হতে।’ নিশ্চয় আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত রিয্‌ক দান করেন।

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? সন্তানের প্রস্তুতি শুরু হয় নিয়ত দিয়ে। মা-বাবা চাইলে গর্ভ থেকেই সন্তানকে আল্লাহর হাতে সঁপে দিতে পারেন। আর ছেলে না মেয়ে, সেটা বড় কথা নয়; আল্লাহ যাকে কবুল করেন, সে-ই সম্মানিত।

এই ধাপে ৫টি অধ্যায়
১
নিয়ত ও দোয়া

নবীরা সন্তান চেয়েছেন, তবে "নেক" সন্তান

সন্তান আল্লাহর দান; তিনি যাকে ইচ্ছা মেয়ে দেন, যাকে ইচ্ছা ছেলে, যাকে ইচ্ছা দুটোই, আর যাকে ইচ্ছা নিঃসন্তান রাখেন। তাই সন্তান না হলে নিজেকে বা স্ত্রীকে দোষ দেওয়া নয়, আল্লাহর কাছে চাওয়াই প্রথম কাজ।

ইবরাহীম (আ.) বৃদ্ধ বয়সে সন্তান চেয়ে বলেছিলেন: "রব্বি হাবলী মিনাস সালিহীন" (হে আমার রব, আমাকে একজন নেক সন্তান দিন)। যাকারিয়া (আ.)-ও বৃদ্ধ বয়সে, নিঃসন্তান স্ত্রী থাকা অবস্থায় দোয়া করেছিলেন, আর আল্লাহ তাঁকে ইয়াহইয়া (আ.)-কে দিয়েছিলেন।

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ

'হে আমার রব! আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করুন।'

সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১০০
এই অধ্যায়ের আরও ৩টি দলিল

لِّلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ

আসমানসমূহ ও যমীনের আধিপত্য আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছে তা-ই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছে কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছে পুত্ৰ সন্তান দান করেন,

أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا ۖ وَيَجْعَلُ مَن يَشَاءُ عَقِيمًا ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ

অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছে তাকে করে দেন বন্ধ্যা; নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাবান।

هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ ۖ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ

সেখানেই যাকারিয়্যা তার রবের নিকট প্রার্থনা করে বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে আপনি আপনার নিকট থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’

আপনার জীবনেসন্তান চাইলে নিয়মিত এই দোয়াগুলো পড়ুন। শুধু "সন্তান" নয়, "নেক সন্তান" চান; আর সন্তান দেরিতে হলে ধৈর্য হারাবেন না, যাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া কবুল হয়েছিল বৃদ্ধ বয়সে।
২
দাম্পত্য জীবন

মিলনের আগে ছোট্ট একটি দোয়া, সন্তানের জন্য বড় সুরক্ষা

সন্তানের সুরক্ষা শুরু হয় তার অস্তিত্বের আগেই। নবী (ﷺ) স্বামী-স্ত্রীর মিলনের আগে একটি ছোট দোয়া শিখিয়েছেন, আর বলেছেন, এই মিলনে সন্তান হলে শয়তান তার ক্ষতি করতে পারবে না।

দোয়াটা কঠিন নয়, কিন্তু অনেকেই জানেন না। বিয়ের আগেই স্বামী-স্ত্রী দুজনে মুখস্থ করে নিতে পারেন।

তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর কাছে যায়, তখন যদি বলে: "বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা" (আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখুন, আর আমাদের যা দান করবেন তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখুন), তারপর তাদের ভাগ্যে সন্তান আসে, তাহলে শয়তান সেই সন্তানের ক্ষতি করতে পারবে না।

সহিহ বুখারী ১৪১ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
আপনার জীবনেআজই দোয়াটা মুখস্থ করুন: "বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা"। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই জানুন।
৩
গর্ভে শিশু

মায়ের গর্ভে যা ঘটে: কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা

কুরআন গর্ভে শিশুর সৃষ্টির ধাপগুলো বলেছে: শুক্রবিন্দু, জমাট রক্ত, মাংসপিণ্ড, তারপর হাড় ও তাতে মাংসের আবরণ, তারপর এক নতুন সৃষ্টি।

নবী (ﷺ) জানিয়েছেন, এই সময় আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান, যিনি শিশুর রিযিক, আয়ু, আমল আর পরিণতি লেখেন, তারপর রূহ দেওয়া হয়। অর্থাৎ শিশুর রিযিক আল্লাহর হাতে লেখা হয়ে গেছে; অভাবের ভয়ে সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন, অভাবের ভয়ে সন্তান হত্যা কোরো না; তাদের আর তোমাদের রিযিক আমিই দিই।

তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান মায়ের পেটে চল্লিশ দিন একত্র করা হয়। তারপর একই সময় ধরে তা জমাট রক্ত থাকে, তারপর একই সময় ধরে মাংসপিণ্ড। তারপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান। তাকে চারটি বিষয় লেখার আদেশ দেওয়া হয়: তার আমল, তার রিযিক, তার আয়ু, আর সে দুর্ভাগা হবে না সৌভাগ্যবান। তারপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়।

সহিহ বুখারী ৩২০৮ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ৪টি দলিল

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ

আর অবশ্যই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির উপাদান থেকে,

ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ

তারপর আমরা তাকে শুক্রবিন্দুরূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ ভাণ্ডারে;

ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ ۚ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

পরে আমরা শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি ‘আলাকা-তে, অতঃপর ‘আলাকা-কে পরিণত করি গোশতপিণ্ডে, অতঃপর গোশতপিণ্ডকে পরিণত করি অস্থিতে; অতঃপর অস্থিকে ঢেকে দেই গোশত দিয়ে; তারপর তাকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। অতএব, (দেখে নিন) সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ্‌ কত বরকতময়!

وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ ۚ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا

আর তোমরা তোমাদের সন্তান্দেরকে দারিদ্র-ভয়ে হত্যা করো না। তাদেরকেও আমিই রিযক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।

আপনার জীবনেগর্ভের শিশুর রিযিক আল্লাহ আগেই লিখে দিয়েছেন। টাকার চিন্তায় নয়, আল্লাহর উপর ভরসা রেখে পরিকল্পনা করুন; আর গর্ভের সময়টা কুরআন, দোয়া ও শান্ত মন নিয়ে কাটান।
৪
মায়ের কষ্ট

গর্ভবতী মায়ের কষ্ট আল্লাহ নিজে উল্লেখ করেছেন

কুরআন মায়ের কষ্টের কথা আলাদা করে বলেছে: মা কষ্টের উপর কষ্ট সয়ে সন্তান গর্ভে ধারণ করেন, কষ্ট করে প্রসব করেন। এই কারণেই আল্লাহ মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে আদেশ দিয়েছেন।

ইসলাম গর্ভবতী মায়ের জন্য সহজ করেছে। নিজের বা শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তিনি রমজানের রোজা ছাড়তে পারেন।

স্বামীর দায়িত্ব এই সময় আরও বেশি। স্ত্রীর জন্য খরচ করা, তার কাজ হালকা করা, তার পাশে থাকা সবই সওয়াবের কাজ; এমনকি স্ত্রীর মুখে তুলে দেওয়া এক লোকমা খাবারও (সহিহ বুখারী ৫৬)।

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَىٰ وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ

আর আমরা মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভ ধারণ করে, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু'বছরে। কাজেই আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। ফিরে আসা তো আমারই কাছে।

সূরা লুকমান ৩১:১৪
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا ۖ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا ۖ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا ۚ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ

আর আমরা মানুষকে তার মাতা -পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করে কষ্টের সাথে, তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লাগে ত্ৰিশ মাস, অবশেষে যখন সে পূর্ণ শক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে ‘হে আমার রব ! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন, যাতে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন, তার জন্য এবং যাতে আমি এমন সৎকাজ করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আমার জন্য আমার সন্তান–সন্ততিদেরকে সংশোধন করে দিন, নিশ্চয় আমি আপনারই অভিমুখী হলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।

إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَضَعَ شَطْرَ الصَّلاَةِ أَوْ نِصْفَ الصَّلاَةِ وَالصَّوْمَ عَنِ الْمُسَافِرِ وَعَنِ الْمُرْضِعِ أَوِ الْحُبْلَى

আল্লাহ মুসাফিরের জন্য নামাজের অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছেন আর রোজার বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছেন; আর দুধ খাওয়ানো মা ও গর্ভবতী নারীর জন্যও (রোজার বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছেন)।

সুনানে আবু দাউদ ২৪০৮সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক আল-কা'বী (রা.)
আপনার জীবনেবাবা হলে: এই নয় মাস স্ত্রীর কাজ ভাগ করে নিন, ডাক্তারের কাছে সাথে যান। মা হলে: অসুস্থ বোধ করলে রোজা বা কঠিন ইবাদত নিয়ে নিজেকে কষ্টে ফেলবেন না; ইসলাম আপনার জন্য সহজ করেছে।
৫
ছেলে না মেয়ে

মেয়ে হলে মন খারাপ? কুরআন এটাকে জাহিলিয়াত বলেছে

জাহিলী যুগে মেয়ে জন্মের খবর পেলে বাবার মুখ কালো হয়ে যেত, লজ্জায় মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকত। কুরআন এই মানসিকতাকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে।

উল্টো নবী (ﷺ) মেয়ে লালন-পালনকে জান্নাতে তাঁর সঙ্গী হওয়ার উপায় বানিয়েছেন।

যে ব্যক্তি দুটি মেয়েকে বড় হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করে, কিয়ামতের দিন সে আর আমি এভাবে (পাশাপাশি) আসব। এই বলে তিনি নিজের আঙুলগুলো মিলিয়ে দেখালেন।

সহিহ মুসলিম ২৬৩১ সহিহ বর্ণনা: আনাস ইবনু মালিক (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِالْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ

তাদের কাউকে যখন কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয় তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণায় ক্লিষ্ট হয়।

يَتَوَارَىٰ مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ ۚ أَيُمْسِكُهُ عَلَىٰ هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ ۗ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ

তাকে যে সুসংবাদ দেয়া হয়, তার গ্লানির কারণে সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগোপন করে। সে চিন্তা করে হীনতা সত্বেও কি তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে। সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত করে তা কত নিকৃষ্ট!

আপনার জীবনেমেয়ে হলে আনন্দের সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলুন, মিষ্টি বিতরণে ছেলে-মেয়ের পার্থক্য করবেন না। আর ছেলে না মেয়ে, এর জন্য স্ত্রীকে কখনো দায়ী করবেন না; এটা আল্লাহর সিদ্ধান্ত (সূরা আশ-শূরা ৪২:৪৯)।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই ধাপের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

নেক সন্তান চাওয়া (ইবরাহীম আ.)

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿١٠٠﴾

'হে আমার রব! আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করুন।'

সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১০০
পবিত্র সন্তান চাওয়া (যাকারিয়া আ.)

هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ ۖ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ ﴿٣٨﴾

সেখানেই যাকারিয়্যা তার রবের নিকট প্রার্থনা করে বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে আপনি আপনার নিকট থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’

সূরা আলে ইমরান ৩:৩৮
চোখ জুড়ানো পরিবার চাওয়া

وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا ﴿٧٤﴾

এবং যারা প্রার্থনা করে বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন যারা হবে আমাদের জন্য চোখজুড়ানো। আর আপনি আমাদেরকে করুন মুত্তাকীদের জন্য অনুসরণযোগ্য।

সূরা আল-ফুরকান ২৫:৭৪
মিলনের আগের দোয়া

لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا‏.‏ فَقُضِيَ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ، لَمْ يَضُرَّهُ

তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর কাছে যায়, তখন যদি বলে: "বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা" (আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখুন, আর আমাদের যা দান করবেন তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখুন), তারপর তাদের ভাগ্যে সন্তান আসে, তাহলে শয়তান সেই সন্তানের ক্ষতি করতে পারবে না।

সহিহ বুখারী ১৪১ সহিহ

কৃতজ্ঞতা ও নেক সন্তানের দোয়া (৪০ বছর বয়সে)

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا ۖ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا ۖ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا ۚ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿١٥﴾

আর আমরা মানুষকে তার মাতা -পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করে কষ্টের সাথে, তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লাগে ত্ৰিশ মাস, অবশেষে যখন সে পূর্ণ শক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে ‘হে আমার রব ! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন, যাতে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন, তার জন্য এবং যাতে আমি এমন সৎকাজ করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আমার জন্য আমার সন্তান–সন্ততিদেরকে সংশোধন করে দিন, নিশ্চয় আমি আপনারই অভিমুখী হলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।

সূরা আল-আহকাফ ৪৬:১৫

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

সুন্নাহর আলোয় জীবন: সব ধাপ

deenpedia.com · https://deenpedia.com/jibon/shontan-kamona/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার