ইমরানের স্ত্রীর মানত: গর্ভের সন্তান আল্লাহর জন্য
মারইয়াম (আ.)-এর জন্মের আগের ঘটনা। তাঁর মা, ইমরানের স্ত্রী, তখন গর্ভবতী। সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে, তিনি জানতেন না। কিন্তু একটা জিনিস তিনি ঠিক করে ফেলেছিলেন: এই সন্তান হবে আল্লাহর জন্য। তিনি দোয়া করলেন, হে আমার রব, আমার গর্ভে যা আছে তা আমি একান্তভাবে আপনার জন্য মানত করলাম; আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন।
إِذْ قَالَتِ امْرَأَتُ عِمْرَانَ رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
স্মরণ করুন, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, ‘হে আমার রব! আমার গর্ভে যা আছে নিশ্চয় আমি তা একান্ত আপনার জন্য মানত করলাম। কাজেই আপনি আমার নিকট থেকে তা কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।'
সন্তান জন্মের পর দেখা গেল, মেয়ে। সেই যুগে মসজিদের খেদমতে সাধারণত ছেলেদের দেওয়া হতো। তিনি আল্লাহকে বললেন, আমি তো মেয়ে জন্ম দিয়েছি। তারপর মেয়ের নাম রাখলেন মারইয়াম, আর তাকে ও তার ভবিষ্যৎ সন্তানদের শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে দিলেন।
فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَىٰ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنثَىٰ ۖ وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
তারপর যখন সে তা প্রসব করল তখন সে বলল, ‘হে আমার রব! নিশ্চয় আমি তা প্রসব করেছি কন্যারুপে।’ সে যা প্রসব করেছে তা সম্পর্কে আল্লাহ্ সম্যক অবগত। আর পুত্রসন্তান কন্যা সন্তানের মত নয়। আর আমি তার নাম মারিয়াম রেখেছি এবং অভিসপ্ত শয়তান হতে তার ও তার সন্তানকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।’
আল্লাহ সেই মেয়েকে "উত্তমভাবে কবুল করলেন" এবং সুন্দরভাবে বড় করলেন। এই মেয়েই হলেন মারইয়াম (আ.), কুরআনে যাঁর নামে একটি পুরো সূরা আছে, আর যাঁর কোলে এসেছিলেন ঈসা (আ.)।
فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا ۖ كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقًا ۖ قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّىٰ لَكِ هَـٰذَا ۖ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ ۖ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
তারপর তার রব তাকে ভালোভাবেই কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমরূপে লালন-পালন করলেন এবং তিনি তাকে যাকারিয়্যার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন। যখনই যাকারিয়্যা তার কক্ষে প্রবেশ করত তখনই তার নিকট খাদ্য সামগ্রী দেখতে পেত। তিনি বলতেন, ‘হে মারিয়াম! এ সব তুমি কথায় পেলে?’ (মার্ইয়াম) বলতেন, ‘তা আল্লাহ্র নিকট হতে।’ নিশ্চয় আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত রিয্ক দান করেন।
এই গল্প আমাদের কী শেখায়? সন্তানের প্রস্তুতি শুরু হয় নিয়ত দিয়ে। মা-বাবা চাইলে গর্ভ থেকেই সন্তানকে আল্লাহর হাতে সঁপে দিতে পারেন। আর ছেলে না মেয়ে, সেটা বড় কথা নয়; আল্লাহ যাকে কবুল করেন, সে-ই সম্মানিত।