فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
ঈদ ও কুরবানি
দুই ঈদের সুন্নাহ, ঈদের নামাজ, সাদাকাতুল ফিতর, যিলহজের দশ দিন, কুরবানির বিধান, পশুর শর্ত, জবাই ও গোশত বণ্টন: কুরআন ও সহিহ হাদিসের দলিলে, মতভেদসহ।
ঈদ শুধু নতুন জামা আর খাবারের দিন নয়; এটা ইবাদত শেষ করার শুকরিয়া। এই পাতায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সুন্নাহ আর কুরবানির বিধান এক জায়গায়, প্রতিটি কথার পাশে সূত্র ও মান। দলিল হিসেবে শুধু কুরআন এবং সহিহ ও হাসান হাদিস নেওয়া হয়েছে; যেখানে আলেমদের গ্রহণযোগ্য মতভেদ আছে, দুই মতই দেওয়া হয়েছে।
মুসলিমদের দুই ঈদ
আল্লাহর দেওয়া আনন্দের দিন
ইসলামে বছরে দুটি ঈদ: রমজানের রোজা শেষে ঈদুল ফিতর (১ শাওয়াল), আর হজের মৌসুমে ঈদুল আযহা (১০ যিলহজ)। দুটোই ইবাদত শেষ করার আনন্দ: একটা রোজার পর, আরেকটা আরাফার দিনের পর। ঈদ মানে নামাজ, তাকবীর, পরিবার আর নির্দোষ আনন্দ।
- নবীজি (ﷺ) মদিনায় এসে দেখলেন, মানুষ জাহিলি যুগের দুটি উৎসব পালন করে। তিনি বললেন: আল্লাহ এর বদলে তোমাদের উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন, ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।সুনানে আবু দাউদ ১১৩৪সহিহ
- ঈদের দিন ঘরে মেয়েরা গান গাইছিল, আবু বকর (রা.) বাধা দিলে নবীজি (ﷺ) বললেন: প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটা আমাদের ঈদ।সহিহ বুখারী ৯৫২সহিহ
- রমজানের সংখ্যা পূর্ণ করে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা (তাকবীর) করতে কুরআন আদেশ দিয়েছে।সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫
- দুই ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ।সহিহ বুখারী ১৯৯২সহিহ
- ঈদুল আযহার পরের তিন দিন (তাশরিকের দিন) খাওয়া-দাওয়ার দিন; এই দিনগুলোতে আল্লাহর জিকিরও বেশি করতে বলা হয়েছে।সহিহ মুসলিম ১১৪১সহিহ · সূরা আল-বাকারা ২:২০৩
পুরো দলিল পড়ুন ৪টি হাদিস
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদিনায় এলেন, তখন মদিনাবাসীর দুটো দিন ছিল, যাতে তারা খেলাধুলা করত। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এই দুই দিন কী? তারা বলল: জাহিলি যুগে আমরা এই দুই দিনে খেলাধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আল্লাহ তোমাদের এ দুটোর বদলে এর চেয়ে উত্তম দুটো দিন দিয়েছেন: ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।
(ঈদের দিন) আবু বকর (রা.) ঘরে এলেন। তখন আমার কাছে আনসারদের দুটি ছোট মেয়ে বুআস যুদ্ধের দিনের কবিতা সুর করে গাইছিল; তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। আবু বকর (রা.) বললেন: রাসূলুল্লাহর ঘরে শয়তানের বাঁশি! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হে আবু বকর, প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটা আমাদের ঈদ।
نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَالنَّحْرِ
নবীজি (ﷺ) ঈদুল ফিতর ও কুরবানির দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।
أَيَّامُ التَّشْرِيقِ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ
তাশরিকের দিনগুলো (ঈদুল আযহার পরের তিন দিন) খাওয়া ও পান করার দিন।
ঈদের দিনের সুন্নাহ
খাওয়া, পোশাক, পথ আর তাকবীর
ঈদের দিনের ছোট ছোট সুন্নাহগুলো মেনে চললে পুরো দিনটাই ইবাদত হয়ে যায়। সাহাবিরা ঈদে দেখা হলে একে অপরকে বলতেন "তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম" (আল্লাহ আমাদের ও আপনার আমল কবুল করুন); ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে এই বর্ণনার সনদকে হাসান বলেছেন।
- ঈদে সুন্দর ও পরিষ্কার পোশাক পরা সাহাবিদের পরিচিত রীতি ছিল; নবীজি (ﷺ) রেশম হওয়ায় জুব্বাটি নেননি, কিন্তু ঈদে সাজার কথা অস্বীকার করেননি।সহিহ বুখারী ৯৪৮সহিহ
- ঈদুল ফিতরে নবীজি (ﷺ) কয়েকটি খেজুর, বেজোড় সংখ্যায়, খেয়ে তারপর ঈদগাহে যেতেন।সহিহ বুখারী ৯৫৩সহিহ
- ঈদুল আযহায় নামাজ পড়ে আসার আগে কিছু খেতেন না।জামে আত-তিরমিযী ৫৪২সহিহ
- ঈদগাহে এক পথে যেতেন, অন্য পথে ফিরতেন।সহিহ বুখারী ৯৮৬সহিহ
- নারী, কুমারী মেয়ে, এমনকি হায়েজগ্রস্ত নারীরাও ঈদগাহে যেতেন; হায়েজগ্রস্তরা নামাজের জায়গা থেকে দূরে থেকে তাকবীর ও দোয়ায় অংশ নিতেন।সহিহ বুখারী ৯৭১সহিহ
- ঈদুল ফিতরে চাঁদ দেখা থেকে আর ঈদুল আযহায় যিলহজের দিনগুলোতে বেশি বেশি তাকবীর বলা।সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫ · সূরা আল-বাকারা ২:২০৩ · সহিহ বুখারী ৯৭১সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৪টি হাদিস
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ. وَقَالَ مُرَجَّى بْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنِي أَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَيَأْكُلُهُنَّ وِتْرًا
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন কয়েকটি খেজুর না খেয়ে (ঈদগাহে) যেতেন না। আরেক বর্ণনায়: তিনি বেজোড় সংখ্যায় খেতেন।
كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَطْعَمَ وَلاَ يَطْعَمُ يَوْمَ الأَضْحَى حَتَّى يُصَلِّيَ
নবীজি (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না, আর ঈদুল আযহার দিন নামাজ না পড়া পর্যন্ত খেতেন না।
كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ يَوْمُ عِيدٍ خَالَفَ الطَّرِيقَ
নবীজি (ﷺ) ঈদের দিন (যাওয়া-আসায়) পথ বদলাতেন।
كُنَّا نُؤْمَرُ أَنْ نَخْرُجَ يَوْمَ الْعِيدِ، حَتَّى نُخْرِجَ الْبِكْرَ مِنْ خِدْرِهَا، حَتَّى نُخْرِجَ الْحُيَّضَ فَيَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ، فَيُكَبِّرْنَ بِتَكْبِيرِهِمْ، وَيَدْعُونَ بِدُعَائِهِمْ يَرْجُونَ بَرَكَةَ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَطُهْرَتَهُ
আমাদের আদেশ দেওয়া হতো ঈদের দিন বের হতে, এমনকি পর্দানশীন কুমারী মেয়েকেও বের করতাম, হায়েজগ্রস্ত নারীদেরও বের করতাম; তারা লোকদের পেছনে থাকত, তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলত, তাদের দোয়ার সাথে দোয়া করত, সেই দিনের বরকত ও পবিত্রতার আশায়।
ঈদের নামাজ
দুই রাকাত, আজান-ইকামত নেই, নামাজ আগে খুতবা পরে
ঈদের নামাজ সূর্য ওঠার কিছু পর থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত, খোলা মাঠে পড়া সুন্নাহ। হুকুম নিয়ে আলেমদের মত আলাদা: হানাফি মতে ওয়াজিব, অন্য অনেকের মতে সুন্নাতে মুআক্কাদা বা ফরজে কিফায়া। মত যেটাই হোক, নবীজি (ﷺ) কখনো তা বাদ দেননি, আর নারীদেরও যেতে বলেছেন।
- দুই ঈদের নামাজ আজান ও ইকামত ছাড়া।সহিহ মুসলিম ৮৮৭সহিহ
- আগে নামাজ, তারপর খুতবা।সহিহ বুখারী ৯৬৩সহিহ
- নবীজি (ﷺ) সাধারণত সূরা আল-আ’লা ও আল-গাশিয়াহ পড়তেন।সহিহ মুসলিম ৮৭৮সহিহ
- ঈদ শুক্রবারে পড়লে, যে ঈদের নামাজ পড়েছে তার জন্য জুমার ছাড় আছে (তখন যোহর পড়বে); তবে নবীজি (ﷺ) নিজে জুমা পড়েছেন। হানাফি মতে জুমা আলাদাভাবেই পড়তে হবে।সুনানে আবু দাউদ ১০৭৩সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৩টি হাদিস
صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِيدَيْنِ غَيْرَ مَرَّةٍ وَلاَ مَرَّتَيْنِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ
আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে একবার-দুবার নয়, বহুবার দুই ঈদের নামাজ পড়েছি, আজান ও ইকামত ছাড়া।
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ ـ رضى الله عنهما ـ يُصَلُّونَ الْعِيدَيْنِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবু বকর ও উমার (রা.) দুই ঈদের নামাজ খুতবার আগে পড়তেন।
قَدِ اجْتَمَعَ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا عِيدَانِ فَمَنْ شَاءَ أَجْزَأَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ
তোমাদের আজকের এই দিনে দুই ঈদ (ঈদ ও জুমা) একত্র হয়েছে। যে চায়, (ঈদের নামাজ) তার জন্য জুমার বদলে যথেষ্ট; তবে আমরা জুমা পড়ব।
সাদাকাতুল ফিতর
ঈদের নামাজের আগে, পরিবারের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে
রমজান শেষে পরিবারের ছোট-বড়, নারী-পুরুষ প্রত্যেকের পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে হয়, যাতে ঈদের দিন কোনো গরিব না খেয়ে থাকে। পরিবারের প্রধান সবার পক্ষ থেকে দেবেন।
- নবীজি (ﷺ) প্রত্যেক মুসলিমের উপর, স্বাধীন-দাস, নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, এক সা’ খেজুর বা যব ফিতরা ফরজ করেছেন, আর মানুষ নামাজে বের হওয়ার আগে দিতে বলেছেন।সহিহ বুখারী ১৫০৩সহিহ
- ফিতরা রোজাদারের ভুল ও অনর্থক কথার কাফফারা, আর গরিবের খাবার। নামাজের আগে দিলে ফিতরা, পরে দিলে সাধারণ সদকা।সুনানে আবু দাউদ ১৬০৯হাসান
- সাহাবিরা দিতেন এক সা’ খাবার: যব, কিশমিশ, পনির বা খেজুর। এক সা’ মোটামুটি আড়াই থেকে তিন কেজি।সহিহ বুখারী ১৫১০সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৩টি হাদিস
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন: এক সা খেজুর বা এক সা যব, মুসলিমদের দাস ও স্বাধীন, পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড় সবার উপর। আর তিনি আদেশ দিয়েছেন, মানুষ (ঈদের) নামাজে বের হওয়ার আগেই যেন তা আদায় করা হয়।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন রোজাদারের অনর্থক ও অশ্লীল কথা থেকে পবিত্রতা হিসেবে, আর মিসকিনদের খাবার হিসেবে। যে ঈদের নামাজের আগে আদায় করে, তা কবুলযোগ্য যাকাত; আর যে নামাজের পরে আদায় করে, তা সাধারণ সদকাগুলোর একটি সদকা।
كُنَّا نُخْرِجُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ. وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَكَانَ طَعَامَنَا الشَّعِيرُ وَالزَّبِيبُ وَالأَقِطُ وَالتَّمْرُ
রাসূলুল্লাহর (ﷺ) যুগে আমরা ঈদুল ফিতরের দিন এক সা’ খাবার দিতাম। আর তখন আমাদের খাবার ছিল যব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর।
যিলহজের প্রথম দশ দিন
বছরের সেরা দিন, কুরবানির প্রস্তুতি
ঈদুল আযহার আগের দশ দিন বছরের সবচেয়ে ফজিলতের দিন। হাজিরা যখন হজে, বাড়িতে থাকা মুসলিমরাও তখন রোজা, জিকির, দান আর তাকবীরে এই দিনগুলো কাজে লাগাতে পারেন।
- এই দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়, জিহাদও নয়; তবে যে জান-মাল নিয়ে বের হয়ে আর কিছু নিয়ে ফেরেনি, সে ছাড়া।সহিহ বুখারী ৯৬৯সহিহ
- নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে আর পশু কুরবানি করতে কুরআন বলেছে।সূরা আল-হাজ্জ ২২:২৮
- যিনি হজে নেই, তার জন্য আরাফার দিনের (৯ যিলহজ) রোজা আগের ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হওয়ার আশা।জামে আত-তিরমিযী ৭৪৯সহিহ
- যে কুরবানি করার নিয়ত রাখে, যিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি পর্যন্ত সে নিজের চুল ও নখ কাটবে না।সহিহ মুসলিম ১৯৭৭সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৩টি হাদিস
مَا الْعَمَلُ فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ أَفْضَلَ مِنَ الْعَمَلِ فِي هَذِهِ ". قَالُوا وَلاَ الْجِهَادُ قَالَ " وَلاَ الْجِهَادُ، إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ يُخَاطِرُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ بِشَىْءٍ
এই (যিলহজের প্রথম) দশ দিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়। সাহাবিরা বললেন: জিহাদও নয়? তিনি বললেন: জিহাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া, যে নিজের জান-মাল নিয়ে বের হলো আর কিছুই নিয়ে ফিরল না।
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের (সগিরা) গুনাহের কাফফারা হবে।
إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلاَ يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا
যখন (যিলহজের) দশ দিন শুরু হয় আর তোমাদের কেউ কুরবানি করার নিয়ত রাখে, সে যেন তার চুল ও চামড়ার (নখের) কিছুই না কাটে।
কুরবানি: বিধান ও শিক্ষা
গোশত নয়, আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তাকওয়া
কুরবানি ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নাহ, যা প্রতিটি উম্মতের জন্যই ছিল। হুকুম নিয়ে দুই মত: হানাফি মতে সামর্থ্যবানের উপর ওয়াজিব; অধিকাংশ আলেমের মতে সুন্নাতে মুআক্কাদা, সামর্থ্য থাকলে বাদ দেওয়া খুবই অপছন্দনীয়। দুই মতেই সামর্থ্যবানের তা ছাড়া উচিত নয়।
- তোমার রবের জন্য নামাজ পড়ো এবং কুরবানি করো।সূরা আল-কাওসার ১০৮:২
- প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কুরবানির নিয়ম দিয়েছি, যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া পশুর উপর তাঁর নাম নেয়।সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩৪
- এর গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩৭
- যার সামর্থ্য আছে অথচ কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।সুনানে ইবনু মাজাহ ৩১২৩হাসান
- নবীজি (ﷺ) নিজ হাতে দুটি শিংওয়ালা দুম্বা জবাই করেছেন, বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলে।সহিহ বুখারী ৫৫৬৫সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ২টি হাদিস, ২টি আয়াত
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
কাজেই আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَـٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ ۗ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ
আল্লাহ্র কাছে পৌঁছায় না সেগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এদেরকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়েত করেছেন; কাজেই আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে।
مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنَا
যার সামর্থ্য আছে অথচ কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।
ضَحَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ، ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ، وَسَمَّى وَكَبَّرَ وَوَضَعَ رِجْلَهُ عَلَى صِفَاحِهِمَا
নবীজি (ﷺ) সাদা-কালো মেশানো, শিংওয়ালা দুটি দুম্বা কুরবানি করেছেন। নিজ হাতে জবাই করেছেন, বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলেছেন, আর পশুর ঘাড়ের পাশে নিজের পা রেখেছেন।
পশু, শরিক ও সময়
কোন পশু, কত বয়স, কয়জন মিলে, কবে
কুরবানি হয় উট, গরু-মহিষ, ছাগল ও ভেড়া-দুম্বায়। পশু হতে হবে নির্দিষ্ট বয়সের ও স্পষ্ট দোষমুক্ত, আর জবাই হতে হবে ঈদের নামাজের পরে।
- নির্দিষ্ট বয়সের ("মুসিন্না") পশু ছাড়া জবাই নয়; তা কঠিন হলে ছয় মাসের বেশি বয়সী হৃষ্টপুষ্ট ভেড়া-দুম্বা চলে।সহিহ মুসলিম ১৯৬৩সহিহ
- চার দোষে কুরবানি হয় না: স্পষ্ট কানা, স্পষ্ট অসুস্থ, স্পষ্ট খোঁড়া, আর একেবারে হাড্ডিসার।সুনানে ইবনু মাজাহ ৩১৪৪সহিহ
- উট ও গরুতে সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন।সহিহ মুসলিম ১৩১৮সহিহ
- সাহাবিরা একটি ছাগল নিজের ও পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন। (কিছু আলেমের মতে একটি ছাগল এক জনের পক্ষ থেকেই।)জামে আত-তিরমিযী ১৫০৫সহিহ
- ঈদের নামাজের আগে জবাই করলে তা কুরবানি নয়, সাধারণ গোশত।সহিহ বুখারী ৯৬৫সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৪টি হাদিস
لاَ تَذْبَحُوا إِلاَّ مُسِنَّةً إِلاَّ أَنْ يَعْسُرَ عَلَيْكُمْ فَتَذْبَحُوا جَذَعَةً مِنَ الضَّأْنِ
"মুসিন্না" (নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানো পশু) ছাড়া জবাই কোরো না; তবে তা কঠিন হলে ভেড়া-দুম্বার "জাযআ" (ছয় মাস থেকে এক বছরের) জবাই করতে পারো।
أَرْبَعٌ لاَ تُجْزِئُ فِي الأَضَاحِيِّ الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا وَالْكَسِيرَةُ الَّتِي لاَ تُنْقِي
চার ধরনের পশু কুরবানিতে যথেষ্ট নয়: স্পষ্ট কানা, স্পষ্ট অসুস্থ, স্পষ্ট খোঁড়া, আর এমন হাড্ডিসার যার হাড়ে মজ্জা নেই।
حَجَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَحَرْنَا الْبَعِيرَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ
আমরা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে হজ করলাম, তখন উট সাতজনের পক্ষ থেকে আর গরু সাতজনের পক্ষ থেকে কুরবানি করলাম।
إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ نَحَرَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَهُ لأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنَ النُّسْكِ فِي شَىْءٍ
আজকের দিনে আমরা প্রথম যা করি তা হলো নামাজ পড়া, তারপর ফিরে এসে কুরবানি করা। যে এমন করল, সে আমাদের সুন্নাহ পেল। আর যে নামাজের আগে জবাই করল, তা শুধু গোশত, যা সে পরিবারের জন্য আগেভাগে দিল; কুরবানির কিছুই নয়।
জবাই ও গোশত বণ্টন
সুন্দরভাবে জবাই, খাও-খাওয়াও-রাখো
জবাই নিজেও করা যায়, অন্য কাউকে দিয়েও। পশুকে কষ্ট না দেওয়া, ছুরি ধারালো রাখা, আর আল্লাহর নাম নেওয়া জবাইয়ের মূল আদব।
- তোমরা জবাই করলে সুন্দরভাবে জবাই করো; ছুরি ধার দিয়ে নাও আর পশুকে আরাম দাও।সহিহ মুসলিম ১৯৫৫সহিহ
- জবাইয়ের সময় "বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার" বলা।সহিহ বুখারী ৫৫৬৫সহিহ
- নিজে খাও, অভাবী ও যে চায় না তাকেও খাওয়াও।সূরা আল-হাজ্জ ২২:২৮ · সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩৬
- খাও, খাওয়াও, জমিয়ে রাখো; দুর্ভিক্ষের বছরে নবীজি (ﷺ) জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলেন, যাতে সবাই পায়।সহিহ বুখারী ৫৫৬৯সহিহ
- কসাইয়ের মজুরি কুরবানির গোশত বা চামড়া থেকে নয়, আলাদা টাকায়; চামড়া নিজে ব্যবহার বা সদকা করা যায়।সহিহ মুসলিম ১৩১৭সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৩টি হাদিস, ১টি আয়াত
إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ
আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে ইহসান (সুন্দর ও নিখুঁতভাবে করা) বাধ্যতামূলক করেছেন।
وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ ۖ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ ۖ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
আর উট কে আমরা আল্লাহ্র নিদর্শনগুলোর অন্যতম করেছি; তোমাদের জন্য তাতে অনেক মঙ্গল রয়েছে। কাজেই এক পা বাঁধা ও বাকী তিনপায়ে দাঁড়ানো অবস্থায় তাদের উপর তোমরা আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ কর। তারপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্থকে ও সাহায্যপ্রার্থীদেরকে; এভাবে আমরা সেগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
অনুবাদে ‘আমরা’, ‘আমাদের’: আল্লাহ যেখানে নিজের কথা বলেছেন, সেখানে এটা আরবির সম্মানসূচক বহুবচন (নাহনু, ইন্না)। আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
তোমাদের যে কুরবানি করে, তৃতীয় দিনের পর তার ঘরে যেন এর কিছু না থাকে। পরের বছর সাহাবিরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, গত বছরের মতোই করব? তিনি বললেন: খাও, খাওয়াও এবং জমিয়ে রাখো; সেই বছর মানুষ কষ্টে ছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম তোমরা তাদের সাহায্য করো।
أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقُومَ عَلَى بُدْنِهِ وَأَنْ أَتَصَدَّقَ بِلَحْمِهَا وَجُلُودِهَا وَأَجِلَّتِهَا وَأَنْ لاَ أُعْطِيَ الْجَزَّارَ مِنْهَا قَالَ " نَحْنُ نُعْطِيهِ مِنْ عِنْدِنَا
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তাঁর (কুরবানির) উটগুলোর দেখাশোনার আদেশ দিলেন, আর বললেন এর গোশত, চামড়া ও পিঠের আবরণ সদকা করতে, এবং এর থেকে কসাইকে কিছু না দিতে। তিনি বললেন: আমরা তাকে নিজেদের কাছ থেকে (মজুরি) দেব।
কুরবানির পশু এক নজরে
ন্যূনতম বয়স ও শরিক
| পশু | ন্যূনতম বয়স | কয়জনের পক্ষে | সূত্র |
|---|---|---|---|
| উট | পাঁচ বছর পূর্ণ | সাতজন পর্যন্ত | সহিহ মুসলিম ১৩১৮সহিহ |
| গরু ও মহিষ | দুই বছর পূর্ণ | সাতজন পর্যন্ত | সহিহ মুসলিম ১৩১৮সহিহ |
| ছাগল | এক বছর পূর্ণ | একজন (পরিবারসহ সওয়াবে) | জামে আত-তিরমিযী ১৫০৫সহিহ |
| ভেড়া ও দুম্বা | এক বছর; হৃষ্টপুষ্ট হলে ছয় মাসের বেশি | একজন (পরিবারসহ সওয়াবে) | সহিহ মুসলিম ১৯৬৩সহিহ |
বয়সের হিসাব হাদিসের "মুসিন্না" শব্দের ব্যাখ্যায় আলেমদের দেওয়া (বিশেষত হানাফি ও হাম্বলি মত); ছয় মাসের ভেড়া-দুম্বার অনুমতি শুধু ভেড়া জাতের জন্য। শিং ভাঙা, কান কাটা বা দাঁত পড়ার মতো ছোট দোষ নিয়ে আলেমদের মতভেদ আছে; সম্ভব হলে নিখুঁত পশু নিন।
প্রচলিত কিন্তু সহিহ নয়
ঈদ ও কুরবানির সাথে আমাদের সমাজে অনেক প্রথা মিশে গেছে। কোনটা সুন্নাহ, কোনটা শুধু রীতি, আর কোনটা ভুল, সূত্রসহ দেখে নিন।
জাল "দুই ঈদের রাত জেগে ইবাদত করলে, যেদিন অন্তর মরে যাবে সেদিন তার অন্তর মরবে না"
এই বর্ণনা সুনানে ইবনু মাজাহ ১৭৮২-এ আছে; শাইখ আলবানী ও ফুআদ আব্দুল বাকী একে জাল বলেছেন। ঈদের রাতের আলাদা কোনো ফজিলত সহিহ হাদিসে নেই। অন্য রাতের মতো তাহাজ্জুদ পড়তে বাধা নেই, তবে বিশেষ নামাজ বা জাগরণকে সুন্নাহ মনে করা যাবে না।
ভুল ধারণা "কুরবানির গোশত সমান তিন ভাগ করা ফরজ"
হাদিসে এসেছে: খাও, খাওয়াও, জমিয়ে রাখো (সহিহ বুখারী ৫৫৬৯)। অনেক আলেম তিন ভাগ (নিজের, আত্মীয়, গরিব) করাকে উত্তম বলেছেন, কিন্তু মাপা তিন ভাগ ফরজ নয়। গরিবকে কিছু দেওয়া অবশ্যই উচিত (সূরা আল-হাজ্জ ২২:২৮)।
ভুল ধারণা "চুল-নখ না কাটার নিয়ম ঘরের সবার জন্য"
হাদিসের ভাষা: "তোমাদের কেউ কুরবানি করার নিয়ত রাখলে" (সহিহ মুসলিম ১৯৭৭)। তাই এটা যিনি কুরবানি দিচ্ছেন তার জন্য; যাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, অধিকাংশ আলেমের মতে তাদের উপর এই নিষেধ নেই।
সুন্নাহবিরোধী "কসাইকে মজুরি হিসেবে গোশত বা চামড়া দিলেই হয়"
নবীজি (ﷺ) আলী (রা.)-কে কসাইকে কুরবানি থেকে কিছু দিতে নিষেধ করেছেন, আর বলেছেন, আমরা নিজেদের কাছ থেকে মজুরি দেব (সহিহ মুসলিম ১৩১৭)। মজুরি আলাদা দিয়ে, চাইলে উপহার হিসেবে গোশত দেওয়া যায়।
সুন্নাহ নয় "ঈদের নামাজের পর কোলাকুলি করা সুন্নাহ"
ঈদে নামাজের পর কোলাকুলির কোনো সহিহ হাদিস নেই। শুভেচ্ছা বিনিময় একটা সামাজিক রীতি হিসেবে জায়েজ, সাহাবিরা "তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম" বলতেন; কিন্তু কোলাকুলিকে ঈদের সুন্নাহ মনে করা যাবে না।
ভুল নিয়ত "যত বড় ও দামি পশু, তত বেশি নেকি; সবাইকে দেখানো দরকার"
আল্লাহর কাছে গোশত-রক্ত নয়, তাকওয়া পৌঁছায় (সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩৭)। সাহাবিরা বলেছেন, আগে এক ছাগলে পুরো পরিবার কুরবানি দিত, পরে মানুষ গর্ব শুরু করল (জামে আত-তিরমিযী ১৫০৫)। ভালো পশু বাছাই সুন্নাহ, কিন্তু লোক দেখানো নিয়ত সওয়াব নষ্ট করে।
ভিত্তিহীন "ঈদের দিন কবর জিয়ারত বিশেষ সুন্নাহ"
কবর জিয়ারত যেকোনো দিন সুন্নাহ, আখিরাতের কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু ঈদের দিনকে জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করার কোনো দলিল নেই; ঈদ আনন্দ, নামাজ ও তাকবীরের দিন (সহিহ বুখারী ৯৫২)।
শেষ কথা: ইবরাহীমের (আ.) আত্মসমর্পণ
কুরবানির মূল শিক্ষা ইবরাহীম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.)-এর আত্মসমর্পণ: আল্লাহর আদেশ এলে প্রিয় জিনিসও ছাড়তে প্রস্তুত থাকা (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১০২, সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১০৭)। পশুর গলায় ছুরি চালানোর সময় নিজের অহংকার, লোভ আর লোক দেখানোর নিয়তও যেন কাটা পড়ে।
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَـٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ ۗ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ
আল্লাহ্র কাছে পৌঁছায় না সেগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এদেরকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়েত করেছেন; কাজেই আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে।