রমজান এলে ঘরে ঘরে একই প্রশ্ন: ইনসুলিন নিলে রোজা থাকবে তো? প্লেনে সফরে কী করব? সাহরির সময় কখন শেষ? এই গাইডে রোজার মূল নিয়ম থেকে শুরু করে আজকের এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আছে, কুরআন ও সহিহ হাদিসের দলিলে। যেখানে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে, সেখানে দুই মতই খোলাখুলি লেখা।
এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।
গল্প দিয়ে শুরু
বালিশের নিচে দুটো সুতো
রোজার আয়াত তখন সবে নাজিল হয়েছে: খাও, পান করো, যতক্ষণ না কালো সুতো থেকে সাদা সুতো স্পষ্ট হয়। আদী ইবনু হাতিম (রা.) কথাটা একদম শব্দে শব্দে নিলেন।
রাতে তিনি একটা কালো রশি আর একটা সাদা রশি বালিশের নিচে রাখলেন। খানিক পরপর উঁকি দিয়ে দেখেন, দুটো আলাদা করে চেনা যায় কি না। কিন্তু অন্ধকারে কিছুই বোঝা গেল না।
সকালে তিনি নবীজির (ﷺ) কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা বললেন। নবীজি বুঝিয়ে দিলেন: এর মানে রাতের কালো আর ভোরের সাদা আলো।
যখন নাজিল হলো "যতক্ষণ না তোমাদের জন্য কালো সুতো থেকে সাদা সুতো স্পষ্ট হয়", আমি একটা কালো আর একটা সাদা রশি নিয়ে বালিশের নিচে রাখলাম। রাতে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম, কিন্তু আমার কাছে কিছুই স্পষ্ট হলো না। সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে ঘটনাটা বললাম। তিনি বললেন: এর মানে তো রাতের কালো আর দিনের সাদা (ভোরের আলো)।
এই গল্প আমাদের কী শেখায়? আদী (রা.) মানতে চেয়েছিলেন, তাই কষ্ট করে চেষ্টা করেছেন; আর যেখানে বুঝতে পারেননি, সেখানে আন্দাজে না চলে নবীজিকে জিজ্ঞেস করেছেন। রোজার প্রতিটি প্রশ্নেও আমাদের পথ এটাই: মানার আগ্রহ, আর না জানলে দলিলসহ জেনে নেওয়া।
এই গাইডে ১০টি অধ্যায়
১
ফরজ
রোজা কেন: তাকওয়ার প্রশিক্ষণ
আল্লাহ রোজা ফরজ করেছেন, যেন আমরা তাকওয়া অর্জন করি; আগের উম্মতদের উপরও রোজা ফরজ ছিল।
রমজান কুরআন নাজিলের মাস। যে এই মাস পায়, সে রোজা রাখবে; অসুস্থ ও মুসাফির পরে সমান সংখ্যক রোজা রাখবে।
রোজা এমন ইবাদত, যার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেবেন বলেছেন। আর রোজা ঢাল: গালি, ঝগড়া আর অশ্লীলতা থেকে বাঁচায়।
রোজা মানে শুধু না খাওয়া নয়। মিথ্যা আর অন্যায় কাজ না ছাড়লে খাবার ছাড়ার কোনো মূল্য নেই (সহিহ বুখারী ১৯০৩)। ঈমান ও সওয়াবের আশায় রাখা রোজায় আগের গুনাহ মাফ হয় (সহিহ বুখারী ৩৮)।
রমাদান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হিদায়াতের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য তোমরা আল্লাহ্র মহিমা ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
আল্লাহ বলেন: আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা ছাড়া; রোজা আমার জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব। রোজা ঢাল। তাই যেদিন তোমাদের কেউ রোজা রাখে, সে যেন অশ্লীল কথা না বলে, চেঁচামেচি না করে। কেউ তাকে গালি দিলে বা ঝগড়া করতে এলে সে যেন বলে: আমি রোজাদার। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর কসম, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধের চেয়েও প্রিয়। রোজাদারের দুটি আনন্দ: ইফতারের সময় সে আনন্দিত হয়, আর রবের সাথে সাক্ষাতের সময় নিজের রোজার জন্য আনন্দিত হবে।
আপনার জীবনেএবারের রমজানে খাওয়ার সাথে একটা বদভ্যাসও ছাড়ার নিয়ত করুন: গীবত, রাগ, বা ফোনে অযথা সময়। রোজার আসল লক্ষ্য এটাই।
২
চাঁদ
রমজান কবে শুরু: চাঁদ দেখা
রমজান শুরু আর শেষ, দুটোই চাঁদ দেখে। আকাশ মেঘলা থাকলে শাবানের ত্রিশ দিন পূর্ণ করতে হয়।
এক দেশে চাঁদ দেখা গেলে কি পৃথিবীর সব দেশে রোজা শুরু হবে? সাহাবিদের যুগেই এ প্রশ্ন এসেছিল। শামে এক দিন আগে চাঁদ দেখা গেলেও ইবনু আব্বাস (রা.) মদিনায় নিজেদের দেখা অনুযায়ী চলেছেন।
আজকের প্রশ্ন, সৌদির সাথে রোজা? আলেমদের দুটি মত আছে। এক মত: নিজের এলাকার চাঁদ দেখা ধরতে হবে (ওপরের হাদিস এর দলিল)। আরেক মত: পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা নিশ্চিত হলেই সবার জন্য যথেষ্ট। দুটোই আলেমদের ইজতিহাদ। সহজ ও নিরাপদ পথ হলো, নিজের দেশের মুসলিমদের সাথে রোজা ও ঈদ করা (বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা), যাতে পরিবার ও সমাজে বিভেদ না হয়।
চাঁদ দেখে রোজা রাখো, আর চাঁদ দেখে রোজা ছাড়ো (ঈদ করো)। আকাশ মেঘলা থাকলে শাবানের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো।
সহিহ বুখারী ১৯০৯সহিহবর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল
উম্মুল ফাদল (রা.) কুরাইবকে মুআবিয়ার কাছে শামে পাঠালেন। কুরাইব বলেন: আমি শামে থাকতেই রমজানের চাঁদ উঠল; আমি জুমার রাতে চাঁদ দেখলাম। মাসের শেষে মদিনায় ফিরলে ইবনু আব্বাস (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা চাঁদ কবে দেখেছ? বললাম: জুমার রাতে। তিনি বললেন: তুমি নিজে দেখেছ? বললাম: হ্যাঁ, লোকেরাও দেখেছে, তারা রোজা রেখেছে, মুআবিয়াও রোজা রেখেছেন। তিনি বললেন: কিন্তু আমরা দেখেছি শনিবার রাতে। তাই আমরা ত্রিশ পূর্ণ করা বা চাঁদ দেখা পর্যন্ত রোজা রেখে যাব। আমি বললাম: মুআবিয়ার দেখা আর রোজা কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন: না, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।
সহিহ মুসলিম ১০৮৭সহিহবর্ণনাকারী: কুরাইব (রহ.), ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে
আপনার জীবনেশাবানের শেষ দিকে চাঁদ দেখার চেষ্টা করুন বা ঘোষণা শুনুন, আর রমজানের প্রথম রাতেই তারাবিহ দিয়ে শুরু করুন।
৩
সাহরি-ইফতার
সাহরি কখন শেষ, ইফতার কখন
ফজরের সময় শুরু হওয়া (সুবহে সাদিক, আকাশের পূর্ব দিগন্তে ছড়িয়ে পড়া সাদা আলো) পর্যন্ত খাওয়া-পান করা যায়; তারপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত রোজা (সহিহ বুখারী ১৯১৬)।
ক্যালেন্ডারের "সাহরির শেষ সময়": অনেক ক্যালেন্ডার ফজরের কয়েক মিনিট আগের সময় লেখে, সতর্কতার জন্য। এর পরে, কিন্তু ফজরের আগে খেলে রোজা নষ্ট হয় না; তবে সময় নিয়ে সন্দেহ থাকলে আগেই থেমে যাওয়া ভালো। আজানের মাঝে মুখের খাবার ফেলে দিন, আর গিলবেন না।
সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোষাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোষাকস্বরূপ। আল্লাহ্ জানেন যে, তোমরা নিজদের সাথে খিয়ানত করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদের তওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে মার্জনা করেছেন। কাজেই এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ্ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কালোরেখা থেকে উষার সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ না হয়। তারপর রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহ্র সীমারেখা। কাজেই এগুলোর নিকটবতী হয়ো না। এভাবে আল্লাহ্ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারে।
এছাড়া হায়েয বা নিফাস শুরু হলে সেদিনের রোজা হয় না; পরে কাযা করতে হয় (সহিহ মুসলিম ৩৩৫)।
ভুলে খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙে না; মনে পড়লেই থেমে যান (সহিহ বুখারী ১৯৩৩)।
আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে বসে ছিলাম। এক লোক এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি! তিনি বললেন: কী হয়েছে? সে বলল: রোজা অবস্থায় আমি স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: একজন দাস মুক্ত করার সামর্থ্য আছে? সে বলল: না। বললেন: একটানা দুই মাস রোজা রাখতে পারবে? সে বলল: না। বললেন: ষাটজন মিসকিনকে খাওয়ানোর সামর্থ্য আছে? সে বলল: না। নবী (ﷺ) কিছুক্ষণ থামলেন। এর মধ্যে তাঁর কাছে এক ঝুড়ি খেজুর আনা হলো। তিনি বললেন: প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল: এই যে আমি। তিনি বললেন: এটা নিয়ে সদকা করে দাও। লোকটি বলল: আমার চেয়েও গরিব কাউকে, হে আল্লাহর রাসূল? আল্লাহর কসম, মদিনার দুই কালো পাথুরে প্রান্তের মাঝে আমার পরিবারের চেয়ে গরিব কোনো পরিবার নেই। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর দাঁত দেখা গেল। তারপর বললেন: এটা তোমার পরিবারকেই খাওয়াও।
আপনার জীবনেরোজায় বড় ভুল হয়ে গেলে লুকিয়ে না রেখে লোকটির মতো সমাধান খুঁজুন: তওবা করুন, কাযা ও কাফফারার নিয়ম জেনে আদায় করুন।
৫
যা ভাঙে না
যা করলে রোজা ভাঙে না
অনেকে অকারণে ভয় পান যে রোজা ভেঙে গেছে। সহিহ হাদিসে এগুলো স্পষ্ট:
নাপাক অবস্থায় ফজর হয়ে গেলে পরে গোসল করে রোজা রাখা যায় (সহিহ বুখারী ১৯২৬)।
স্ত্রীকে চুমু দেওয়া, যদি নিজেকে সামলাতে পারেন (সহিহ বুখারী ১৯২৭)। না পারলে দূরে থাকুন।
শিঙ্গা লাগানো, অর্থাৎ শরীর থেকে রক্ত বের করা (সহিহ বুখারী ১৯৩৮)। তাই রক্ত পরীক্ষার জন্য অল্প রক্ত দিলে রোজা ভাঙে না।
অজুতে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া; তবে রোজায় নাকে জোরে পানি টানবেন না (সুনানে আবু দাউদ ২৩৬৬)।
নিজের থুথু গেলা, মিসওয়াক বা ব্রাশ করা (পেস্ট গিলবেন না), সুগন্ধি নেওয়া, গোসল করা।
শিঙ্গা নিয়ে মতভেদ: আরেকটি হাদিসে আছে, "শিঙ্গা যে লাগায় আর যাকে লাগানো হয়, দুজনেরই রোজা ভাঙল" (আবু দাউদ ২৩৬৭, আলবানী: সহিহ)। হাম্বলি আলেমরা এই হাদিস ধরে বলেন শিঙ্গায় রোজা ভাঙে; অধিকাংশ আলেম বলেন ইবনু আব্বাসের (রা.) ওপরের হাদিস পরের ঘটনা, তাই ভাঙে না। এ কারণে দুর্বল লাগার মতো বেশি রক্ত দেওয়া (যেমন রক্তদান) ইফতারের পরে করাই ভালো।
নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন (শরীর থেকে রক্ত বের করিয়েছেন), আর রোজা অবস্থায়ও শিঙ্গা লাগিয়েছেন।
আপনার জীবনেরোজা নিয়ে ভয়ের কোনো কথা শুনলে প্রথমে জিজ্ঞেস করুন: এর দলিল কী? অনেক "রোজা ভাঙার কারণ" আসলে মানুষের বানানো।
৬
আজকের প্রশ্ন
ওষুধ, ইনজেকশন, ইনহেলার: আধুনিক মাসআলা
নবীজির (ﷺ) যুগে ইনজেকশন বা ইনহেলার ছিল না; তাই আলেমরা মূলনীতি দিয়ে বিচার করেন: যা মুখ বা নাক দিয়ে পেটে যায়, অথবা যা খাবারের কাজ করে, তাতে রোজা ভাঙে; যা খাবারও নয়, পেটেও যায় না, তাতে ভাঙে না। ইসলামিক ফিকহ একাডেমি (OIC, জেদ্দা) ১৯৯৭ সালে চিকিৎসার এসব বিষয়ে এই মূলনীতিতেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। নিচের "এক নজরে" সারণিতে প্রতিটি বিষয় দেখুন।
সবচেয়ে বড় কথা: আল্লাহ সহজ চান, কঠিন চান না। রোজা রাখলে যদি রোগ বাড়ে বা ক্ষতির ভয় থাকে, তাহলে রোজা ভেঙে পরে কাযা করাই আল্লাহর দেওয়া ছাড়।
রমাদান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হিদায়াতের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য তোমরা আল্লাহ্র মহিমা ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকিনকে খাওয়ানো (ফিদইয়া) (সহিহ বুখারী ৪৫০৫)।
পরীক্ষা, ভারী কাজ
এটা নিজে ছাড়ের কারণ নয়; রোজা রেখে কাজ শুরু করুন। দিনের মাঝে সত্যিই প্রাণের বা স্বাস্থ্যের আশঙ্কা হলে ভেঙে পরে কাযা।
যেখানে দিন খুব লম্বা: ইউরোপ বা উত্তরের দেশে যেখানে দিন-রাত আলাদা চেনা যায়, সেখানে দিন লম্বা হলেও স্থানীয় সময়েই রোজা। যেখানে কয়েক দিন সূর্য ডোবেই না, সেখানে আলেমরা কাছের স্বাভাবিক দেশ বা মক্কার সময় ধরে হিসাব করতে বলেন; দাজ্জালের লম্বা দিনে নামাজের সময় "অনুমান করে নেওয়ার" নির্দেশ থেকে তাঁরা এই নীতি নিয়েছেন (সহিহ মুসলিম ২৯৩৭, নাওয়াস ইবনু সামআন রা.-এর লম্বা হাদিসের প্রথম অংশ)।
এগুলো গোনা কয়েক দিন। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। আর যাদের জন্য সিয়াম কষ্টসাধ্য তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া- একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার জন্য কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণের যদি তোমরা জানতে।
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَرَأَى زِحَامًا، وَرَجُلاً قَدْ ظُلِّلَ عَلَيْهِ، فَقَالَ " مَا هَذَا ". فَقَالُوا صَائِمٌ. فَقَالَ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصَّوْمُ فِي السَّفَرِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে ছিলেন। তিনি দেখলেন ভিড়, আর একজন লোককে ছায়া দেওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞেস করলেন: এ কী? লোকেরা বলল: সে রোজাদার। তিনি বললেন: সফরে (এভাবে কষ্ট করে) রোজা রাখা নেকির কাজ নয়।
এগুলো গোনা কয়েক দিন। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। আর যাদের জন্য সিয়াম কষ্টসাধ্য তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া- একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার জন্য কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণের যদি তোমরা জানতে।
আপনার জীবনেকাযা বাকি থাকলে সামনের সোমবার বা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করুন; সপ্তাহে দুটো রাখলেও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।
৯
শেষ দশক
শেষ দশ রাত, ইতিকাফ ও লাইলাতুল কদর
শেষ দশক শুরু হলে নবীজি (ﷺ) ইবাদতে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতেন, রাত জাগতেন, পরিবারকেও জাগাতেন।
এই দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর খুঁজতে বলেছেন; নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নিশ্চিত নয় (সহিহ বুখারী ২০১৭)। কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম (সূরা আল-কদর ৯৭:৩)।
শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ নবীজির (ﷺ) নিয়মিত সুন্নাহ ছিল, আর তাঁর পরে তাঁর স্ত্রীরাও করেছেন (সহিহ বুখারী ২০২৬)। পুরো দশ দিন না পারলে যতটুকু পারেন, ততটুকু নফল ইতিকাফের নিয়ত করুন।
(রমজানের শেষ) দশক শুরু হলে নবী (ﷺ) কোমর বেঁধে নিতেন (পুরো মনোযোগ দিতেন), রাত জেগে ইবাদত করতেন আর পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন।
সহিহ বুখারী ২০২৪সহিহবর্ণনা: আয়েশা (রা.)এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে (ইবাদতে) দাঁড়ায়, তার আগের গুনাহ মাফ করা হয়। আর যে ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার আগের গুনাহ মাফ করা হয়।
আপনার জীবনেশেষ দশকের রাতে অন্তত এশা ও ফজর জামাতে পড়ুন, আর ঘুমানোর আগে কদরের দোয়াটা পড়ুন। এই দশ রাতে ফোন দূরে রাখার চেষ্টা করুন।
১০
ফিতরা ও ঈদ
সাদাকাতুল ফিতর, ঈদ আর শাওয়ালের ছয় রোজা
ফিতরা রোজার ছোটখাটো ত্রুটি থেকে পবিত্রতা, আর গরিবের ঈদের খাবার। ঈদের নামাজের আগেই দিতে হয়।
পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পক্ষ থেকে, শিশুসহ, এক সা (প্রায় আড়াই থেকে তিন কেজি) খাদ্য (সহিহ বুখারী ১৫০৩)। যার কাছে ঈদের দিনের খাবারের চেয়ে বেশি আছে, তার উপর ফিতরা।
টাকায় ফিতরা দেওয়া যাবে? হাদিসে খাদ্যের কথা আছে, তাই অধিকাংশ আলেম (মালিকি, শাফিঈ, হাম্বলি) খাদ্য দিতে বলেন। হানাফি আলেমরা খাদ্যের দামের সমান টাকা দেওয়াও জায়েজ বলেন, কারণ এতে গরিব নিজের দরকারমতো কিনতে পারে। বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতি বছর টাকার হার ঘোষণা করে। যেটাই দিন, ঈদের নামাজের আগে দিন।
ফিতরার পরিমাণ, ঈদের নামাজ আর ঈদের দিনের সুন্নাহ বিস্তারিত দেখুন ঈদ ও কুরবানির পাতায়।
রমজানের পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখলে সারা বছর রোজার সওয়াব।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন রোজাদারের অনর্থক ও অশ্লীল কথা থেকে পবিত্রতা হিসেবে, আর মিসকিনদের খাবার হিসেবে। যে ঈদের নামাজের আগে আদায় করে, তা কবুলযোগ্য যাকাত; আর যে নামাজের পরে আদায় করে, তা সাধারণ সদকাগুলোর একটি সদকা।
সুনানে আবু দাউদ ১৬০৯হাসানবর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল
মাংসপেশি, চামড়া বা শিরায় ওষুধের ইনজেকশন (টিকা, ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক)
না
খাবার নয়, মুখ দিয়ে পেটেও যায় না; ফিকহ একাডেমি ও অধিকাংশ সমকালীন আলেমের মত
ইনসুলিন ইনজেকশন
না
একই কারণে; তবে রক্তে চিনি খুব কমে গেলে রোজা ভেঙে চিকিৎসা নিন
পুষ্টির স্যালাইন, গ্লুকোজ ড্রিপ
হ্যাঁ, অধিকাংশ আলেমের মতে
খাবার ও পানীয়ের কাজ করে
হাঁপানির ইনহেলার
মতভেদ
শাইখ ইবনু বায ও ইবনু উসাইমীনসহ অনেকে বলেন ভাঙে না, কারণ প্রায় সবটুকু ফুসফুসে যায়; কিছু আলেম ও অনেক হানাফি মুফতি বলেন ভাঙে। দরকার হলে নিন; সম্ভব হলে ডোজ সাহরি-ইফতারে নিন
অক্সিজেন (ওষুধ মেশানো ছাড়া)
না
খাবার বা পানীয় নয়
চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ (কানের পর্দা ঠিক থাকলে)
না, অধিকাংশের মতে
গলায় স্বাদ পেলে থুথু ফেলে দিন
নাকের ড্রপ বা স্প্রে
সাবধানে
গলায় চলে গেলে অনেকের মতে ভাঙে (সুনানে আবু দাউদ ২৩৬৬); দরকার না হলে ইফতারের পর নিন
যেখানে "মতভেদ" লেখা, সেখানে দুই পক্ষেই নির্ভরযোগ্য আলেম আছেন। নিজের অবস্থায় যে আলেমের কাছে নিয়মিত মাসআলা জিজ্ঞেস করেন, তাঁর মত মেনে চলুন, আর সন্দেহ থাকলে সতর্ক পথটা নিন। রোজার আরও প্রচলিত কথা দলিলসহ: প্রচলিত ভুল।
দোয়া, আমল ও যাচাই
এই গাইডের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই
আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিলেন, (তারা বলছিলেন) ‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
যা সঠিক: বর্ণনাটি তাবারানীর আল-মুজামুল আওসাত ইত্যাদিতে দুর্বল সনদে এসেছে; আলবানী তাঁর সিলসিলাতুল আহাদীসিয যঈফাহ-য় একে দুর্বল বলেছেন। রোজায় শরীরের উপকার থাকতে পারে, কিন্তু রোজার আসল উদ্দেশ্য কুরআন বলেছে: তাকওয়া (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩)।
মুনকার (দুর্বল)
"রমজানের প্রথম দশ দিন রহমত, মাঝের দশ দিন মাগফিরাত, শেষ দশ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি।"
যা সঠিক: সালমান (রা.)-এর নামে বর্ণিত এই লম্বা খুতবা সহিহ ইবনু খুযাইমায় (১৮৮৭) এসেছে, কিন্তু সনদে আলী ইবনু যায়দ ইবনু জুদআন আছেন, যিনি দুর্বল; ইবনু খুযাইমা নিজেও "যদি খবরটা সহিহ হয়" বলে শর্ত দিয়েছেন। আলবানী একে মুনকার বলেছেন (সিলসিলা যঈফা)। সহিহ কথা হলো, রমজানের পুরোটাই রহমত ও ক্ষমার মাস: প্রতি রাতে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেন, আর ঈমান নিয়ে রাখা রোজায় আগের গুনাহ মাফ হয় (সহিহ বুখারী ৩৮)।
দুর্বল
"যে বিনা ওজরে রমজানের একটি রোজা ছাড়ল, সে সারা জীবন রোজা রাখলেও তার পূরণ হবে না।"
যা সঠিক: আবু দাউদ ২৩৯৬ ও তিরমিযী ৭২৩-এ এসেছে, সনদে অপরিচিত বর্ণনাকারী আবুল মুতাওয়িস; আলবানী: যঈফ। বিনা ওজরে রোজা ছাড়া কবিরা গুনাহ, এটা সত্য। কিন্তু করণীয় হলো খাঁটি তওবা আর একটি রোজা কাযা (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৪); হতাশ হয়ে কাযা না রাখা নয়।
ভুল ধারণা
ইনজেকশন নিলে, রক্ত পরীক্ষা করালে বা চোখে ড্রপ দিলে রোজা ভেঙে যায়।
যা সঠিক: খাবারের কাজ করে না এমন ইনজেকশন, অল্প রক্ত দেওয়া আর চোখের ড্রপে রোজা ভাঙে না; নবীজি (ﷺ) রোজা অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন (সহিহ বুখারী ১৯৩৮)। পুষ্টির স্যালাইন আলাদা; ওপরের সারণি দেখুন।
সহিহ হাদিসবিরোধী
ফজরের আগে ফরজ গোসল না করলে রোজা হয় না।
যা সঠিক: নবীজির (ﷺ) কখনো নাপাক অবস্থায় ফজর হয়ে যেত, তিনি পরে গোসল করে রোজা রাখতেন (সহিহ বুখারী ১৯২৬)। শুধু ফজরের নামাজ যেন না ছোটে, তাই দেরি করবেন না।
ভুল ধারণা
সাহরির পর মাইকে "সময় শেষ" ঘোষণা হলে আর এক ঢোক পানিও খাওয়া যায় না, যদিও আজান হয়নি।
যা সঠিক: শেষ সীমা ফজরের সময় শুরু হওয়া (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৭)। ঘোষণা সতর্কতার জন্য; ফজরের আগে খেলে রোজা ঠিক থাকে। তবে নিশ্চিত না হলে না খাওয়াই নিরাপদ।
প্রতিটি দাবি যাচাই করা হয়েছে কুরআন, সহিহ হাদিস ও মুহাদ্দিসদের মান অনুযায়ী।
সব হাদিস
যখন নাজিল হলো "যতক্ষণ না তোমাদের জন্য কালো সুতো থেকে সাদা সুতো স্পষ্ট হয়", আমি একটা কালো আর একটা সাদা রশি নিয়ে বালিশের নিচে রাখলাম। রাতে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম, কিন্তু আমার কাছে কিছুই স্পষ্ট হলো না। সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে ঘটনাটা বললাম। তিনি বললেন: এর মানে তো রাতের কালো আর দিনের সাদা (ভোরের আলো)।
আল্লাহ বলেন: আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা ছাড়া; রোজা আমার জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব। রোজা ঢাল। তাই যেদিন তোমাদের কেউ রোজা রাখে, সে যেন অশ্লীল কথা না বলে, চেঁচামেচি না করে। কেউ তাকে গালি দিলে বা ঝগড়া করতে এলে সে যেন বলে: আমি রোজাদার। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর কসম, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধের চেয়েও প্রিয়। রোজাদারের দুটি আনন্দ: ইফতারের সময় সে আনন্দিত হয়, আর রবের সাথে সাক্ষাতের সময় নিজের রোজার জন্য আনন্দিত হবে।
উম্মুল ফাদল (রা.) কুরাইবকে মুআবিয়ার কাছে শামে পাঠালেন। কুরাইব বলেন: আমি শামে থাকতেই রমজানের চাঁদ উঠল; আমি জুমার রাতে চাঁদ দেখলাম। মাসের শেষে মদিনায় ফিরলে ইবনু আব্বাস (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা চাঁদ কবে দেখেছ? বললাম: জুমার রাতে। তিনি বললেন: তুমি নিজে দেখেছ? বললাম: হ্যাঁ, লোকেরাও দেখেছে, তারা রোজা রেখেছে, মুআবিয়াও রোজা রেখেছেন। তিনি বললেন: কিন্তু আমরা দেখেছি শনিবার রাতে। তাই আমরা ত্রিশ পূর্ণ করা বা চাঁদ দেখা পর্যন্ত রোজা রেখে যাব। আমি বললাম: মুআবিয়ার দেখা আর রোজা কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন: না, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।
সহিহ মুসলিম ১০৮৭সহিহবর্ণনাকারী: কুরাইব (রহ.), ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَفْطَرَ قَالَ " ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে বসে ছিলাম। এক লোক এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি! তিনি বললেন: কী হয়েছে? সে বলল: রোজা অবস্থায় আমি স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: একজন দাস মুক্ত করার সামর্থ্য আছে? সে বলল: না। বললেন: একটানা দুই মাস রোজা রাখতে পারবে? সে বলল: না। বললেন: ষাটজন মিসকিনকে খাওয়ানোর সামর্থ্য আছে? সে বলল: না। নবী (ﷺ) কিছুক্ষণ থামলেন। এর মধ্যে তাঁর কাছে এক ঝুড়ি খেজুর আনা হলো। তিনি বললেন: প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল: এই যে আমি। তিনি বললেন: এটা নিয়ে সদকা করে দাও। লোকটি বলল: আমার চেয়েও গরিব কাউকে, হে আল্লাহর রাসূল? আল্লাহর কসম, মদিনার দুই কালো পাথুরে প্রান্তের মাঝে আমার পরিবারের চেয়ে গরিব কোনো পরিবার নেই। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর দাঁত দেখা গেল। তারপর বললেন: এটা তোমার পরিবারকেই খাওয়াও।
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَرَأَى زِحَامًا، وَرَجُلاً قَدْ ظُلِّلَ عَلَيْهِ، فَقَالَ " مَا هَذَا ". فَقَالُوا صَائِمٌ. فَقَالَ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصَّوْمُ فِي السَّفَرِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে ছিলেন। তিনি দেখলেন ভিড়, আর একজন লোককে ছায়া দেওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞেস করলেন: এ কী? লোকেরা বলল: সে রোজাদার। তিনি বললেন: সফরে (এভাবে কষ্ট করে) রোজা রাখা নেকির কাজ নয়।
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে (ইবাদতে) দাঁড়ায়, তার আগের গুনাহ মাফ করা হয়। আর যে ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার আগের গুনাহ মাফ করা হয়।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন রোজাদারের অনর্থক ও অশ্লীল কথা থেকে পবিত্রতা হিসেবে, আর মিসকিনদের খাবার হিসেবে। যে ঈদের নামাজের আগে আদায় করে, তা কবুলযোগ্য যাকাত; আর যে নামাজের পরে আদায় করে, তা সাধারণ সদকাগুলোর একটি সদকা।