deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا

হজ: প্রস্তুতি থেকে বিদায়ী তাওয়াফ, দিন ধরে

গাইড ৩/৪জীবনে একবারহজ ও উমরা

হজ জীবনে একবারের সফর, তাই ভুলের সুযোগ কম। অনেকে সারা জীবন টাকা জমিয়ে যান, আর গিয়ে ভিড়ের মধ্যে বুঝে উঠতে পারেন না কোন দিন কী করবেন। এই গাইডে হজ সাজানো হয়েছে দিন ধরে, নবীজির (ﷺ) নিজের হজের বর্ণনা থেকে। যাওয়ার আগে অবশ্যই হজ প্রশিক্ষণে অংশ নিন; এই পাতা সেই প্রশিক্ষণের সঙ্গী।

৮টি অধ্যায়
৫টি আয়াত
১৩টি হাদিস (সহিহ/হাসান)
৩টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষ

মদিনায় আসার পর নয় বছর কেটে গেছে, নবীজি (ﷺ) হজ করেননি। দশম বছরে ঘোষণা হলো: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবার হজে যাবেন। খবর ছড়াতেই চারদিক থেকে মানুষ মদিনায় আসতে লাগল; সবার একটাই ইচ্ছা, তাঁর সাথে হজ করবে, তিনি যা করেন তা-ই করবে।

জাবির (রা.) সেই সফরের সাক্ষী। তিনি বলেন: বায়দা প্রান্তরে উঠে আমি যতদূর চোখ যায় তাকালাম; সামনে, ডানে, বামে, পেছনে শুধু মানুষ আর মানুষ। আর তাদের মাঝে আল্লাহর রাসূল, যাঁর উপর কুরআন নাজিল হয়; তিনি যা করতেন, আমরাও তাই করতাম।

আরাফার দিনে উটের পিঠে বসে তিনি খুতবা দিলেন: তোমাদের রক্ত আর সম্পদ পরস্পরের জন্য পবিত্র; নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; আমি রেখে যাচ্ছি আল্লাহর কিতাব। তারপর জিজ্ঞেস করলেন: আমার ব্যাপারে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হলে কী বলবে? সবাই বলল: আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আকাশের দিকে আঙুল তুলে বললেন: হে আল্লাহ, সাক্ষী থাকো।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মদিনায়) নয় বছর হজ না করে কাটালেন। দশম বছরে মানুষের মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজে যাচ্ছেন। তখন অসংখ্য মানুষ মদিনায় এল, প্রত্যেকে চাইছিল রাসূলুল্লাহর (ﷺ) অনুসরণ করবে আর তাঁর মতো আমল করবে। … (বায়দা প্রান্তরে) আমি যতদূর চোখ যায় তাকিয়ে দেখলাম, তাঁর সামনে আরোহী আর পায়ে হাঁটা মানুষ, ডানেও তেমন, বামেও তেমন, পেছনেও তেমন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে, তাঁর উপর কুরআন নাজিল হয়, আর তিনিই এর ব্যাখ্যা জানেন; তিনি যা করতেন, আমরাও তাই করতাম। … (আরাফার দিনে খুতবায় তিনি বললেন) তোমাদের রক্ত আর তোমাদের সম্পদ তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন তোমাদের এই দিন, এই মাস, এই শহর পবিত্র। … নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ আল্লাহর দেওয়া নিরাপত্তায়, আর আল্লাহর বাণী দিয়ে তারা তোমাদের জন্য হালাল হয়েছে। … আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব। তোমাদের আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে; তখন তোমরা কী বলবে? সবাই বলল: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি পৌঁছে দিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন, কল্যাণ কামনা করেছেন। তখন তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে মানুষের দিকে নামিয়ে বললেন: হে আল্লাহ, সাক্ষী থাকো; হে আল্লাহ, সাক্ষী থাকো। (তিনবার)

সহিহ মুসলিম ১২১৮সহিহবর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? হজের প্রতিটি কাজ আমরা শিখেছি এই একটি হজ থেকে; জাবির (রা.) ধাপে ধাপে বর্ণনা করে গেছেন। তাই হজের মাপকাঠি কোনো এলাকার প্রথা নয়, নবীজির (ﷺ) হজ। আর খুতবার কথাগুলো, অন্যের জান-মালের পবিত্রতা, নারীর অধিকার, কুরআন আঁকড়ে ধরা, হজ থেকে ফিরে সারা জীবনের পাথেয়।

এই গাইডে ৮টি অধ্যায়
১
ফরজ

হজ কার উপর ফরজ

যার কাবা পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য আছে, তার উপর আল্লাহর জন্য হজ ফরজ, জীবনে একবার (সহিহ মুসলিম ১৩৩৭)।

সামর্থ্য মানে: মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া; যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার খরচ আর ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারের খরচ চালানোর মতো হালাল টাকা; শরীর সফরের উপযুক্ত; পথ নিরাপদ। নারীর জন্য মাহরাম সঙ্গী (নারীদের অধ্যায় দেখুন)।

কবুল হজ থেকে মানুষ নবজাতকের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফেরে (সহিহ বুখারী ১৫২১), আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত।

সামর্থ্য হলে দেরি নয়। অনেকে ভাবেন "বুড়ো হলে যাব" বা "আগে মেয়ের বিয়ে দিই"। সামর্থ্য থাকলে দেরি করা ঠিক নয়; শরীর আর সুযোগ সবসময় থাকে না।
ঋণ করে হজ: হজ ফরজ হয় নিজের টাকায়; ঋণ নিয়ে হজে যাওয়া জরুরি নয়। তবে যার সহজে শোধের নিশ্চিত উপায় আছে, সে সুদমুক্ত ঋণে গেলে হজ সহিহ হয়। সুদি ঋণে হজ করা জায়েজ নয়।

فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَّقَامُ إِبْرَاهِيمَ ۖ وَمَن دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا ۗ وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ

তাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন মাকামে ইবরাহীম। আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ্ব করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য। আর যে কেউ কুফরী করল সে জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন।

সূরা আলে ইমরান ৩:৯৭
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ

এক উমরা থেকে আরেক উমরা, এর মাঝের গুনাহের কাফফারা। আর কবুল হজের (হজ্জে মাবরূর) প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।

সহিহ বুখারী ১৭৭৩সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেহজ ফরজ হয়ে থাকলে আজই একটা বছর ঠিক করুন; ফরজ না হলে আলাদা একটা হালাল সঞ্চয় শুরু করুন।
২
প্রস্তুতি

যাওয়ার আগে: নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, মন

  • নিবন্ধন: বাংলাদেশে হজের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন হয় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে (সরকারি ব্যবস্থাপনা বা অনুমোদিত বেসরকারি এজেন্সি)। সৌদি সরকারের হজ অনুমতি ছাড়া হজ করার সুযোগ নেই; অনুমতি ছাড়া যাওয়া নিজের ও অন্যের জন্য ঝুঁকি। শুধু অনুমোদিত এজেন্সি বেছে নিন।
  • হজ প্রশিক্ষণ: সরকারি বা এজেন্সির প্রশিক্ষণে অবশ্যই যান।
  • হক পরিষ্কার: ঋণ থাকলে শোধ করুন বা পাওনাদারের অনুমতি নিন; ওসিয়ত লিখে যান; যাদের মনে কষ্ট দিয়েছেন, মাফ চেয়ে নিন।
  • শরীর: হজে প্রতিদিন অনেক হাঁটতে হয়। কয়েক মাস আগে থেকে হাঁটার অভ্যাস করুন, দরকারি টিকা নিন, নিয়মিত ওষুধ ডাক্তারের চিঠিসহ সাথে নিন।
  • মন: হজে অশ্লীলতা, গুনাহ আর ঝগড়া নিষেধ। ভিড়, লাইন আর গরমে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় পাথেয়; আর সবচেয়ে উত্তম পাথেয় তাকওয়া।

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ ۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ ۗ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَىٰ ۚ وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ

হজ হয় সুবিদিত মাসগুলোতে। তারপর যে কেউ এ মাসগুলোতে হজ করা স্থির করে সে হজের সময় স্ত্রী-সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ, ও কলহ-বিবাদ করবে না। আর তোমরা উত্তম কাজ থেকে যা-ই কর আল্লাহ্‌ তা জানেন আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। নিশ্চয় সবচেয়ে উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ ! তোমরা আমারই তাকওয়া অবলম্বন কর ।

সূরা আল-বাকারা ২:১৯৭
আপনার জীবনেহজের আগে তিনটা তালিকা করুন: কার কাছে মাফ চাইবেন, কী কী দোয়া করবেন, আর কী সঙ্গে নেবেন। প্রথম দুটোই বেশি জরুরি।
৩
তিন ধরন

তামাত্তু, কিরান, ইফরাদ

হজ তিনভাবে করা যায়; তিনটিই সহিহ হাদিসে প্রমাণিত।

ধরনকী করেনকুরবানি (হাদি)
তামাত্তুমীকাত থেকে শুধু উমরার ইহরাম; উমরা শেষে চুল ছোট করে ইহরাম খোলা; ৮ যিলহজ মক্কা থেকে আবার হজের ইহরামওয়াজিব; না পারলে হজে ৩টি আর বাড়ি ফিরে ৭টি রোজা (সূরা আল-বাকারা ২:১৯৬)
কিরানমীকাত থেকে হজ ও উমরা একসাথে ইহরাম; ১০ যিলহজ পর্যন্ত ইহরামেই থাকাওয়াজিব
ইফরাদমীকাত থেকে শুধু হজের ইহরামনেই (নফল হিসেবে করতে পারেন)

বিদায় হজে নবীজি (ﷺ) নিজে কুরবানির পশু সাথে এনেছিলেন বলে ইহরাম খোলেননি, আর যাদের সাথে পশু ছিল না, তাদের উমরা করে ইহরাম খুলতে বললেন; বললেন, আগে জানলে আমিও পশু আনতাম না (সহিহ মুসলিম ১২১৮)। তাই অনেক আলেম তামাত্তুকে উত্তম বলেন; বাংলাদেশের বেশিরভাগ হাজি তামাত্তুই করেন, কারণ লম্বা সময় ইহরামে থাকতে হয় না।

وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ ۚ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۖ وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ ۚ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ ۗ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

আর তোমরা হজ ও ‘উমরা পূর্ণ কর আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে। অতঃপর যদি তোমরা বাঁধা প্রাপ্ত হও তাহলে সহজলভ্য হাদঈ প্রদান করো। আর তোমরা মাথা মুণ্ডন করো না, যে পর্যন্ত হাদঈ তার স্থানে না পৌছে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অসুস্থ হয় বা মাথায় কষ্টদায়ক কিছু হয় তবে সিয়াম কিংবা সাদাকা অথবা পশু যবেহ দ্বারা তার ফিদ্‌ইয়া দিবে। অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কেউ উমরাকে হজের সঙ্গে মিলিয়ে লাভবান হতে চায় সে সহজলভ্য হাদঈ যবাই করবে। কিন্তু যদি কেউ তা না পায়, তবে তাকে হজের সময় তিন দিন এবং ঘরে ফিরার পর সাত দিন এ পূর্ণ দশ দিন সিয়াম পালন করতে হবে। এটা তাদের জন্য, যাদের পরিজনবর্গ মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয়। আর তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং জেনে রাখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ শাস্তি দানে কঠোর।

সূরা আল-বাকারা ২:১৯৬
আপনার জীবনেআপনার এজেন্সি কোন ধরনের হজ করাবে, আগেই জেনে নিন; তামাত্তু বা কিরান হলে কুরবানির টাকা আলাদা রাখুন।
৪
ইহরাম

মীকাত, ইহরাম আর তালবিয়া

হজ বা উমরার নিয়তে যারা আসে, তাদের জন্য নবীজি (ﷺ) চারদিকে সীমানা (মীকাত) ঠিক করে দিয়েছেন; ইহরাম ছাড়া এই সীমা পার হওয়া যায় না।

বাংলাদেশ থেকে প্লেনে: সরাসরি জেদ্দা গেলে প্লেন মীকাতের (কারনুল মানাযিল বা ইয়ালামলামের বরাবর এলাকা) উপর দিয়ে যায়, আর জেদ্দা মীকাতের ভেতরে। তাই বাসা বা বিমানবন্দরেই গোসল করে ইহরামের কাপড় পরে নিন; প্লেনে যখন মীকাতের ঘোষণা হবে (সাধারণত নামার ঘণ্টাখানেক আগে), তখন নিয়ত করে তালবিয়া শুরু করুন। জেদ্দায় নেমে ইহরাম বাঁধা অধিকাংশ আলেমের মতে ভুল; তাতে দম (কুরবানি) লাগে। আর যারা আগে মদিনা যাবেন, তারা মদিনা থেকে মক্কা আসার পথে যুল-হুলাইফা (আবইয়ার আলী) থেকে ইহরাম বাঁধবেন।

ইহরামের নিয়ম: গোসল, পুরুষের শরীরে সুগন্ধি (কাপড়ে নয়), সেলাইবিহীন দুটি সাদা কাপড় (লুঙ্গির মতো একটি, চাদরের মতো একটি) আর গোড়ালি খোলা স্যান্ডেল। নারীরা সাধারণ শালীন পোশাকেই থাকবেন, কোনো নির্দিষ্ট রং নেই; শুধু নিকাব আর হাতমোজা পরবেন না, পরপুরুষ সামনে এলে কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকবেন।

তারপর নিয়ত (উমরা বা হজ), আর তালবিয়া: পুরুষেরা জোরে, নারীরা আস্তে।

ইহরাম অবস্থায় নিষেধ: চুল-নখ কাটা, সুগন্ধি লাগানো, পুরুষের মাথা ঢাকা ও সেলাই করা পোশাক পরা, স্বামী-স্ত্রীর মিলন ও তার দিকে নিয়ে যায় এমন কাজ, বিয়ের আকদ, আর শিকার। ভুলে বা না জেনে কিছু হলে মনে পড়লেই থেমে যান; জেনে-বুঝে করলে ফিদইয়া লাগে (সূরা আল-বাকারা ২:১৯৬)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মীকাত ঠিক করে দিয়েছেন: মদিনাবাসীর জন্য যুল-হুলাইফা, শামবাসীর জন্য জুহফা, নজদবাসীর জন্য কারনুল মানাযিল, আর ইয়েমেনবাসীর জন্য ইয়ালামলাম। এগুলো তাদের জন্য, আর অন্য এলাকার যারা হজ বা উমরার নিয়তে এগুলোর উপর দিয়ে আসে, তাদের জন্যও। যারা এগুলোর ভেতরে থাকে, তারা নিজের বাড়ি থেকেই ইহরাম বাঁধবে; এভাবে মক্কাবাসী মক্কা থেকেই।

সহিহ বুখারী ১৫২৬ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, ইহরামে আমাদের কী কাপড় পরতে বলেন? নবী (ﷺ) বললেন: জামা, পায়জামা, পাগড়ি আর মাথা-ঢাকা লম্বা কোট পরবে না; তবে যার জুতা (স্যান্ডেল) নেই, সে মোজা পরতে পারে, গোড়ালির নিচে কেটে নিয়ে। জাফরান বা ওয়ারস (সুগন্ধি রং) লাগা কাপড় পরবে না। আর ইহরাম অবস্থায় নারী নিকাব (মুখের নেকাব) বাঁধবে না, হাতমোজাও পরবে না।

সহিহ বুখারী ১৮৩৮সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক। (আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। সব প্রশংসা আর নিয়ামত তোমারই, আর রাজত্বও; তোমার কোনো শরিক নেই।)

সহিহ বুখারী ১৫৪৯সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)
আপনার জীবনেপ্লেনের টিকিট হাতে পেলেই জেনে নিন, আপনার ফ্লাইট কোন মীকাতের উপর দিয়ে যাবে আর কখন ঘোষণা হয়।
৫
দিন ধরে

৮ থেকে ১৩ যিলহজ: কোন দিন কী

নিচের সারণিতে প্রতিটি দিনের কাজ, নবীজির (ﷺ) হজ অনুযায়ী (সহিহ মুসলিম ১২১৮):

দিনকোথায়কাজ
৮ যিলহজ (ইয়াওমুত তারবিয়া)মক্কা থেকে মিনাতামাত্তুকারীরা নিজের জায়গা থেকে হজের ইহরাম বাঁধবেন; মিনায় জোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও পরদিন ফজর (চার রাকাতের নামাজ দুই রাকাত, আলাদা সময়ে)
৯ যিলহজ (আরাফার দিন)আরাফা, তারপর মুযদালিফাসূর্য ওঠার পর আরাফায়; জোহর ও আসর একসাথে জোহরের সময়ে; সূর্য ডোবা পর্যন্ত দোয়া, যিকির, কান্না। এটাই হজের প্রধান রুকন। সূর্য ডোবার পর ধীরে-সুস্থে মুযদালিফায়; সেখানে মাগরিব ও এশা একসাথে, রাতে ঘুম, ফজরের পর আলো ছড়ানো পর্যন্ত দোয়া
১০ যিলহজ (কুরবানির দিন)মিনা ও মক্কা১. বড় জামরায় (আকাবা) সাতটি কংকর, প্রতিটিতে তাকবীর; ২. কুরবানি (তামাত্তু ও কিরানে); ৩. মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা; ৪. তাওয়াফে ইফাদা ও সাঈ। এরপর ইহরামের সব নিষেধ উঠে যায়
১১ ও ১২ যিলহজমিনারাত মিনায়; প্রতিদিন দুপুরের পর তিন জামরায় (ছোট, মাঝারি, বড়) সাতটি করে কংকর। ১২ তারিখ সূর্য ডোবার আগে চাইলে মিনা ছাড়া যায় (সূরা আল-বাকারা ২:২০৩)
১৩ যিলহজমিনাযারা থেকে গেছেন, দুপুরের পর আবার তিন জামরায় কংকর
ফেরার আগেমক্কাবিদায়ী তাওয়াফ (সহিহ বুখারী ১৭৫৫)

আরাফা হজের প্রাণ: "হজ হলো আরাফা" (জামে আত-তিরমিযী ৮৮৯)। এই দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।

১০ তারিখের চারটি কাজ ভিড়ে আগে-পিছে হয়ে গেলে নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "করো, কোনো দোষ নেই।"

জামরায় কংকর মারার পর প্রথম দুটির পরে দাঁড়িয়ে লম্বা দোয়া করা সুন্নাহ (সহিহ বুখারী ১৭৫১)। আর মাথা মুণ্ডানো পুরুষের জন্য উত্তম, নবীজি (ﷺ) তাদের জন্য তিনবার দোয়া করেছেন (সহিহ বুখারী ১৭২৭); নারীরা শুধু চুলের আগা থেকে আঙুলের এক কর পরিমাণ কাটবেন।

দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধদের জন্য: নবীজি (ﷺ) দুর্বলদের মুযদালিফা থেকে রাতেই মিনায় চলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। যে নিজে কংকর মারতে পারে না, তার পক্ষে অন্য হাজি (যে নিজের কংকর আগে মেরেছে) মারতে পারে, আলেমদের ব্যাপক মতে। ভিড়ের সময় এড়িয়ে রাতেও কংকর মারা যায়; এজেন্সি সাধারণত সময় ঠিক করে দেয়।

আরাফার দিনের চেয়ে বেশি আর কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ এত বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তিনি কাছে আসেন, তারপর ফেরেশতাদের কাছে তাদের নিয়ে গর্ব করে বলেন: এরা কী চায়?

সহিহ মুসলিম ১৩৪৮ সহিহ বর্ণনা: আয়েশা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

বিদায় হজে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর লোকেরা তাঁকে প্রশ্ন করছিল। একজন বলল: খেয়াল করিনি, কুরবানির আগে মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন: কুরবানি করো, কোনো দোষ নেই। আরেকজন এসে বলল: খেয়াল করিনি, কংকর মারার আগে কুরবানি করে ফেলেছি। তিনি বললেন: কংকর মারো, কোনো দোষ নেই। সেদিন আগে-পরে করা যে কাজ নিয়েই তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তিনি বলেছেন: করো, কোনো দোষ নেই।

সহিহ বুখারী ১৭৩৬সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)
আপনার জীবনেআরাফার দিনের জন্য আগেই একটা দোয়ার তালিকা লিখে নিন: নিজের, মা-বাবার, পরিবারের, উম্মাহর। সেদিন সময় যেন গল্পে না যায়।
৬
নারীদের

নারীদের হজ: মাহরাম, হায়েয ও অন্যান্য

নবীজি (ﷺ) নারীদের জন্য কবুল হজকে শ্রেষ্ঠ জিহাদ বলেছেন।

মাহরাম: নারী মাহরাম ছাড়া সফর করবে না, হজের সফরেও নয় (সহিহ বুখারী ১৮৬২)। হানাফি ও হাম্বলি আলেমরা এটাকে ফরজ হজের শর্ত বলেন। শাফিঈ ও মালিকি আলেমদের মতে ফরজ হজে নির্ভরযোগ্য নারীদের দলের সাথে নিরাপদ সফর হলে যাওয়া যায়। সৌদি সরকার এখন নির্দিষ্ট বয়সের নারীদের মাহরাম ছাড়া দলে যাওয়ার অনুমতি দেয়, কিন্তু সরকারের অনুমতি আর শরিয়তের বিধান এক জিনিস নয়; সম্ভব হলে মাহরাম নিয়েই যান, আর নিজের অবস্থায় নির্ভরযোগ্য আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।

হজের মাঝে হায়েয শুরু হলে: তাওয়াফ ছাড়া হাজিরা যা করে সব করবেন; আরাফা, মুযদালিফা, কংকর, সব। তাওয়াফে ইফাদা পবিত্র হওয়ার পর।

বিদায়ী তাওয়াফের সময় হায়েয থাকলে তা মাফ; অপেক্ষা না করে ফিরতে পারেন (সহিহ বুখারী ১৭৫৫)। হায়েয পিছিয়ে দেওয়ার ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শে নেওয়া অনেক আলেম জায়েজ বলেছেন, যদি ক্ষতি না হয়।

আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে বের হলাম, শুধু হজের কথাই ভাবছিলাম। সারিফে পৌঁছলে আমার হায়েয শুরু হলো। নবী (ﷺ) আমার কাছে এসে দেখেন আমি কাঁদছি। বললেন: কাঁদছ কেন? বললাম: আল্লাহর কসম, এ বছর হজে না এলেই ভালো হতো। বললেন: হয়তো তোমার হায়েয শুরু হয়েছে? বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এটা আল্লাহ আদমের মেয়েদের জন্য লিখে রেখেছেন। হাজিরা যা করে, তুমিও তাই করো; শুধু পবিত্র হওয়ার আগে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করবে না।

সহিহ বুখারী ৩০৫ সহিহ বর্ণনা: আয়েশা (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلَ الْعَمَلِ، أَفَلاَ نُجَاهِدُ قَالَ ‏ "‏ لاَ، لَكِنَّ أَفْضَلَ الْجِهَادِ حَجٌّ مَبْرُورٌ

(আয়েশা রা. বললেন) হে আল্লাহর রাসূল, আমরা দেখি জিহাদ সবচেয়ে উত্তম আমল; আমরা কি জিহাদ করব না? তিনি বললেন: না, বরং (তোমাদের জন্য) সবচেয়ে উত্তম জিহাদ হলো কবুল হজ।

সহিহ বুখারী ১৫২০সহিহবর্ণনাকারী: আয়েশা (রা.)
আপনার জীবনেযাত্রার আগে মাহরামের সাথে মিলে হজের দিনগুলোর পরিকল্পনা করুন, বিশেষ করে তাওয়াফে ইফাদার সময় কেমন হবে।
৭
বদলি হজ

অন্যের পক্ষ থেকে হজ

যার উপর হজ ফরজ ছিল কিন্তু বার্ধক্য বা স্থায়ী রোগে নিজে যেতে পারেন না, অথবা যিনি হজ না করে মারা গেছেন, তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কেউ হজ করতে পারেন।

শর্ত: যিনি বদলি হজ করবেন, তিনি আগে নিজের হজ করে থাকবেন।

মৃত ব্যক্তির উপর হজ ফরজ থাকলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে আগে বদলি হজের খরচ নেওয়ার কথা অনেক আলেম বলেছেন, কারণ নবীজি (ﷺ) একে ঋণের সাথে তুলনা করেছেন। হজের টাকা নিয়ে ব্যবসা করা বা টাকার জন্য বদলি হজকে পেশা বানানো ঠিক নয়; নিয়ত হোক মৃতের প্রতি ভালোবাসা।

নবী (ﷺ) এক লোককে বলতে শুনলেন: "শুবরুমার পক্ষ থেকে লাব্বাইক।" তিনি বললেন: শুবরুমা কে? লোকটি বলল: আমার ভাই, বা আমার এক আত্মীয়। তিনি বললেন: তুমি কি নিজের হজ করেছ? সে বলল: না। তিনি বললেন: আগে নিজের হজ করো, তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ করো।

সুনানে আবু দাউদ ১৮১১ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

ফাদল (রা.) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পেছনে বাহনে বসা ছিলেন। খাসআম গোত্রের এক নারী এল; ফাদল তার দিকে তাকাতে লাগলেন, সে-ও তাঁর দিকে। নবী (ﷺ) ফাদলের মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে লাগলেন। নারী বলল: হে আল্লাহর রাসূল, বান্দাদের উপর আল্লাহর ফরজ হজ আমার বাবাকে এমন বৃদ্ধ অবস্থায় পেয়েছে যে তিনি বাহনে বসে থাকতে পারেন না। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করব? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এটা ছিল বিদায় হজে।

সহিহ বুখারী ১৫১৩সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)

জুহাইনা গোত্রের এক নারী নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল: আমার মা হজের মানত করেছিলেন, কিন্তু হজ না করেই মারা গেছেন। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাঁর পক্ষ থেকে হজ করো। বলো তো, তোমার মায়ের উপর কোনো ঋণ থাকলে তুমি কি তা শোধ করতে না? আল্লাহর পাওনা শোধ করো; আল্লাহই পাওনা পাওয়ার বেশি হকদার।

সহিহ বুখারী ১৮৫২সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
আপনার জীবনেমা-বাবার কেউ হজ না করে মারা গিয়ে থাকলে, নিজের হজ শেষ করে তাঁদের পক্ষ থেকে হজের নিয়ত রাখুন।
৮
ফিরে এসে

হজের পর: কবুলের লক্ষণ

হজ কবুল হলো কি না, আমরা নিশ্চিত জানি না; কিন্তু আলেমরা বলেন, হজের পর মানুষটা আগের চেয়ে ভালো হয়ে যাওয়া, নামাজ-আমলে স্থির থাকা আর গুনাহ থেকে দূরে থাকা কবুলের আশাব্যঞ্জক লক্ষণ। আল্লাহ বলেছেন, হজ শেষে আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, আর দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাও।

নামের আগে "হাজী" লেখা বা লোকদের দেখানো হজের অংশ নয়; বরং সাবধান থাকুন, যেন আমলটা মানুষের প্রশংসার জন্য না হয়ে যায়।

وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

আর তাদের মধ্যে যারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’

অনুবাদে ‘আমরা’, ‘আমাদের’: আল্লাহ যেখানে নিজের কথা বলেছেন, সেখানে এটা আরবির সম্মানসূচক বহুবচন (নাহনু, ইন্না)। আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

সূরা আল-বাকারা ২:২০১
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا ۗ فَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ

অতঃপর যখন তোমরা হজের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহ্‌কে এভাবে স্মরণ করবে যেভাবে তোমরা তোমাদের পিতৃ পুরুষদের স্মরণ করে থাক, অথবা তার চেয়েও অধিক। মানুষের মধ্যে যারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিন’। আখেরাতে তার জন্য কোনও অংশ নেই।

অনুবাদে ‘আমরা’, ‘আমাদের’: আল্লাহ যেখানে নিজের কথা বলেছেন, সেখানে এটা আরবির সম্মানসূচক বহুবচন (নাহনু, ইন্না)। আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

আপনার জীবনেহজ থেকে ফিরে একটা ভালো অভ্যাস স্থায়ী করার নিয়ত করুন, যেমন তাহাজ্জুদ বা প্রতিদিন কুরআন। এটাই হজের সবচেয়ে বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই গাইডের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

তালবিয়া

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক। (আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। সব প্রশংসা আর নিয়ামত তোমারই, আর রাজত্বও; তোমার কোনো শরিক নেই।)

সহিহ বুখারী ১৫৪৯ সহিহ

আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ যিকির

خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

সবচেয়ে উত্তম দোয়া আরাফার দিনের দোয়া। আর আমি ও আমার আগের নবীরা যা বলেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর" (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান)।

জামে আত-তিরমিযী ৩৫৮৫ হাসান

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া

وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿٢٠١﴾

আর তাদের মধ্যে যারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’

সূরা আল-বাকারা ২:২০১

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

রোজা, যাকাত ও হজ: সব গাইড

deenpedia.com · https://deenpedia.com/poth/hajj/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার