فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ
মীরাস: কে কত পাবে
মৃত্যুর পর সম্পদ ভাগের ক্রম, কারা মীরাস পায় না, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, মা-বাবা ও ভাই-বোনের অংশ, এক নজরে টেবিল আর হিসাবের উদাহরণ: কুরআন ও সহিহ হাদিসের দলিলে।
এই পাতায় কুরআনে বলা মূল অংশগুলো সহজ করে দেওয়া হলো, যাতে প্রত্যেকে অন্তত জানেন কার কী হক। দলিল হিসেবে শুধু কুরআন এবং সহিহ ও হাসান হাদিস নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ভাগের সময় পুরো পরিবারের তালিকা নিয়ে ফারায়েজ জানা আলেমের সাহায্য নিন, আর দেশের আইনে নিবন্ধন ও দলিলের কাজ আইনজীবীর মাধ্যমে করুন।
মীরাস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
অংশগুলো আল্লাহ নিজে ঠিক করে দিয়েছেন
নামাজ-রোজার নিয়মের বেশিরভাগ বিস্তারিত এসেছে হাদিসে, কিন্তু মীরাসের অংশগুলো আল্লাহ কুরআনেই নাম ধরে, হিসাব করে বলে দিয়েছেন। তারপর বলেছেন, এগুলো আল্লাহর সীমা। আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হয় বোন ও মেয়েদের অংশ, অথচ মীরাসের আয়াত নাজিলই হয়েছিল দুই এতিম মেয়ের হক ফিরিয়ে দিতে।
- বাবা-মা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদে পুরুষের অংশ আছে, নারীরও অংশ আছে; কম হোক বা বেশি, এটা নির্ধারিত অংশ।সূরা আন-নিসা ৪:৭
- সা’দ ইবনুর রাবী (রা.) উহুদে শহীদ হলে চাচা তাঁর দুই মেয়ের সব সম্পদ নিয়ে নেয়। তখন মীরাসের আয়াত নাজিল হয়, আর নবীজি (ﷺ) মেয়েদের দুই-তৃতীয়াংশ, মাকে এক-অষ্টমাংশ দেওয়ালেন।জামে আত-তিরমিযী ২০৯২হাসান · সূরা আন-নিসা ৪:১১
- তোমাদের মা-বাবা ও সন্তানদের মধ্যে কে তোমার বেশি উপকারী, তোমরা জানো না; এটা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান।সূরা আন-নিসা ৪:১১
- এগুলো আল্লাহর সীমা। যে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, সে জান্নাতে যাবে; আর যে অবাধ্য হয়ে সীমা লঙ্ঘন করে, তার জন্য অপমানজনক শাস্তি।সূরা আন-নিসা ৪:১৩ · সূরা আন-নিসা ৪:১৪
- যারা এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা পেটে আগুন খায়।সূরা আন-নিসা ৪:১০
- আল্লাহ তিরস্কার করেছেন তাদের, যারা মীরাসের সম্পদ পুরোটা গ্রাস করে খায়।সূরা আল-ফাজর ৮৯:১৯
পুরো দলিল পড়ুন ২টি হাদিস, ২টি আয়াত
لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ ۚ نَصِيبًا مَّفْرُوضًا
পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে, সেটা অল্পই হোক বা বেশীই হোক, এক নির্ধারিত অংশ।
সা’দ ইবনুর রাবীর স্ত্রী সা’দের দুই মেয়েকে নিয়ে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এরা সা’দ ইবনুর রাবীর দুই মেয়ে; তাদের বাবা আপনার সাথে উহুদে শহীদ হয়েছেন। তাদের চাচা তাদের সব সম্পদ নিয়ে নিয়েছে, তাদের জন্য কিছুই রাখেনি; আর সম্পদ না থাকলে তাদের বিয়েও হবে না। তিনি বললেন: আল্লাহ এ ব্যাপারে ফয়সালা দেবেন। তখন মীরাসের আয়াত নাজিল হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের চাচাকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন: সা’দের দুই মেয়েকে দুই-তৃতীয়াংশ দাও, তাদের মাকে এক-অষ্টমাংশ দাও, আর যা বাকি থাকে তা তোমার।
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
এসব আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমা। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করলে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; তারা সেখানে স্থায়ী হবে আর এটাই হলো মহাসাফল্য।
আমি অসুস্থ হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রা.) হেঁটে আমাকে দেখতে এলেন। তিনি এসে দেখলেন আমি অচেতন। তিনি অজু করে অজুর পানি আমার উপর ঢেলে দিলেন, আমার জ্ঞান ফিরল। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার সম্পদের ব্যাপারে কী করব, কীভাবে ফয়সালা করব? তিনি কোনো উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না মীরাসের আয়াত নাজিল হলো।
ভাগের আগে: দাফন, ঋণ, ওসিয়ত
মৃত্যুর পর সম্পদ খরচের ক্রম
মৃত্যুর সাথে সাথে সম্পদ ওয়ারিশদের হয়ে যায় না। আলেমদের ঐকমত্যে ক্রমটা এমন: প্রথমে মৃতের কাফন-দাফনের মাঝারি খরচ, তারপর সব ঋণ শোধ (স্ত্রীর বাকি মোহরও ঋণ), তারপর ওসিয়ত থাকলে তা পূরণ (সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ), আর বাকিটা ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ।
- কুরআনে প্রতিটি অংশের পর বলা হয়েছে: এই ভাগ হবে ওসিয়ত পূরণ ও ঋণ শোধের পরে।সূরা আন-নিসা ৪:১১ · সূরা আন-নিসা ৪:১২
- আয়াতে ওসিয়তের কথা আগে এলেও নবীজি (ﷺ) ফয়সালা দিয়েছেন, ঋণ শোধ হবে ওসিয়তের আগে।জামে আত-তিরমিযী ২১২২হাসান
- মুমিনের রূহ তার ঋণের সাথে ঝুলে থাকে, যতক্ষণ না তা শোধ করা হয়; তাই ভাগের আগে ঋণ শোধ ওয়ারিশদের দায়িত্ব।জামে আত-তিরমিযী ১০৭৮সহিহ
- ওসিয়ত সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ; ওয়ারিশদের সচ্ছল রেখে যাওয়া তাদের মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।সহিহ বুখারী ২৭৪২সহিহ
- যারা মীরাসের অংশ পায়, তাদের জন্য ওসিয়ত নেই; আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক দিয়ে দিয়েছেন।সুনানে আবু দাউদ ২৮৭০সহিহ
- এরপর যা থাকে, তা ওয়ারিশদের।সহিহ বুখারী ২৩৯৮সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৩টি হাদিস, ১টি আয়াত
وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۚ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم ۚ مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ ۚ فَإِن كَانُوا أَكْثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَىٰ بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ ۚ وَصِيَّةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ
তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে এবং তাদের সন্তান থাকলে তোমাদের জন্য তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ; ওসিয়াত পালন এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের সন্তান না থাকলে তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ; তোমরা যা ওসিয়াত করবে তা দেয়ার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি কোনো পুরুষ অথবা নারীর ‘কালালাহ’ বা পিতা-মাতা ও সন্তানহীন উত্তরাধিকারী হয়, আর থাকে তার এক বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন, তবে প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ। তারা এর বেশি হলে সবাই সমান অংশীদার হবে তিন ভাগের এক ভাগে; এটা যা ওসিয়াত করা হয় তা দেয়ার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর, কারো ক্ষতি না করে। এ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالدَّيْنِ قَبْلَ الْوَصِيَّةِ وَأَنْتُمْ تَقْرَءُونَ الْوَصِيَّةَ قَبْلَ الدَّيْنِ
নবীজি (ﷺ) ওসিয়তের আগে ঋণ (শোধ করার) ফয়সালা দিয়েছেন, অথচ তোমরা (আয়াতে) ওসিয়তের কথা ঋণের আগে পড়ো।
نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ
মুমিনের রূহ তার ঋণের সাথে ঝুলে থাকে, যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তা শোধ করা হয়।
مَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِوَرَثَتِهِ، وَمَنْ تَرَكَ كَلاًّ فَإِلَيْنَا
যে সম্পদ রেখে যায়, তা তার ওয়ারিশদের; আর যে (অসহায় পরিবার বা ঋণের) বোঝা রেখে যায়, তার দায়িত্ব আমাদের।
কারা মীরাস পায় না
ধর্মের পার্থক্য, হত্যা আর পালক সম্পর্ক
রক্ত বা বিয়ের সম্পর্ক থাকলেও কয়েকটি কারণে মীরাস পাওয়া যায় না। আবার কেউ মীরাস না পেলেও ওসিয়ত বা উপহারের মাধ্যমে তাকে দেওয়ার পথ খোলা।
- মুসলিম কাফিরের ওয়ারিশ হয় না, কাফিরও মুসলিমের ওয়ারিশ হয় না।সহিহ বুখারী ৬৭৬৪সহিহ
- যে ওয়ারিশ যাকে হত্যা করেছে, সে তার মীরাস পায় না; যাতে কেউ সম্পদের লোভে প্রাণ না নেয়।সুনানে ইবনু মাজাহ ২৬৪৫সহিহ
- পালক সন্তান নিজের সন্তান হয়ে যায় না, তাকে তার আসল বাবার নামেই ডাকতে হবে; তাই সে মীরাস পায় না।সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪ · সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫
- আত্মীয়রা আল্লাহর কিতাবে একে অপরের বেশি হকদার; মীরাস চলে রক্ত ও বিয়ের সম্পর্কে।সূরা আল-আহযাব ৩৩:৬
- ভাগের সময় যে আত্মীয়, এতিম ও অভাবী উপস্থিত থাকে (যারা অংশ পায় না), তাদেরও কিছু দাও আর সুন্দর কথা বলো।সূরা আন-নিসা ৪:৮
পুরো দলিল পড়ুন ২টি হাদিস, ২টি আয়াত
لاَ يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ، وَلاَ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ
মুসলিম কাফিরের ওয়ারিশ হয় না, আর কাফিরও মুসলিমের ওয়ারিশ হয় না।
الْقَاتِلُ لاَ يَرِثُ
হত্যাকারী (যাকে হত্যা করেছে, তার) ওয়ারিশ হয় না।
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ ۚ فَإِن لَّمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ ۚ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُم بِهِ وَلَـٰكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
ডাকো তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে; আল্লাহর নিকট এটাই বেশী ন্যায়সংগত। অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতৃ পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের দীনি ভাই এবং বন্ধু। আর এ ব্যাপারে তোমরা কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল করলে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তর যা স্বেচ্ছায় করেছে (তা অপরাধ), আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينُ فَارْزُقُوهُم مِّنْهُ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
আর সম্পত্তি বন্টনকালে আত্মীয়, ইয়াতীম এবং অভাবগ্রস্ত লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে তা থেকে কিছু দিবে এবং তাদের সাথে সদালাপ করবে।
স্বামী ও স্ত্রীর অংশ
সন্তান থাকা না থাকায় অংশ বদলায়
স্বামী-স্ত্রী কখনো মীরাস থেকে বাদ পড়েন না; শুধু মৃতের সন্তান (বা ছেলের সন্তান) থাকলে অংশ কমে অর্ধেক হয়।
- স্ত্রী মারা গেলে, তার কোনো সন্তান না থাকলে স্বামী পাবেন অর্ধেক; সন্তান থাকলে এক-চতুর্থাংশ।সূরা আন-নিসা ৪:১২
- স্বামী মারা গেলে, তার কোনো সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন এক-চতুর্থাংশ; সন্তান থাকলে এক-অষ্টমাংশ।সূরা আন-নিসা ৪:১২
- একাধিক স্ত্রী থাকলে ওই এক-চতুর্থাংশ বা এক-অষ্টমাংশ তাঁরা সমান ভাগে ভাগ করে নেবেন।সূরা আন-নিসা ৪:১২
- স্ত্রীর অপরিশোধিত মোহর মীরাসের অংশ নয়, বরং ঋণ; তা ভাগের আগে পুরোটা দিতে হবে, তারপর মীরাসের অংশ আলাদা।সূরা আন-নিসা ৪:৪ · জামে আত-তিরমিযী ২১২২হাসান
পুরো দলিল পড়ুন ২টি আয়াত
وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۚ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم ۚ مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ ۚ فَإِن كَانُوا أَكْثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَىٰ بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ ۚ وَصِيَّةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ
তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে এবং তাদের সন্তান থাকলে তোমাদের জন্য তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ; ওসিয়াত পালন এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের সন্তান না থাকলে তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ; তোমরা যা ওসিয়াত করবে তা দেয়ার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি কোনো পুরুষ অথবা নারীর ‘কালালাহ’ বা পিতা-মাতা ও সন্তানহীন উত্তরাধিকারী হয়, আর থাকে তার এক বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন, তবে প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ। তারা এর বেশি হলে সবাই সমান অংশীদার হবে তিন ভাগের এক ভাগে; এটা যা ওসিয়াত করা হয় তা দেয়ার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর, কারো ক্ষতি না করে। এ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا
আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মাহ্র মনের সন্তোষের সাথে প্রদান কর; অতঃপর সন্তুষ্ট চিত্তে তারা মাহ্রের কিছু অংশ ছেড়ে দিলে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।
ছেলে ও মেয়ের অংশ
ছেলে দুই মেয়ের সমান, শুধু মেয়ে হলে নির্ধারিত অংশ
সন্তানরা মীরাসের সবচেয়ে কাছের ওয়ারিশ। ছেলে থাকলে মেয়েরা ছেলের সাথে মিলে বাকিটা ২:১ অনুপাতে পায়; ছেলে না থাকলে মেয়েদের অংশ কুরআনে নির্দিষ্ট।
- আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আদেশ দিচ্ছেন: এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের সমান।সূরা আন-নিসা ৪:১১
- ছেলে নেই, শুধু মেয়ে: একজন হলে অর্ধেক; দুই বা তার বেশি হলে সবাই মিলে দুই-তৃতীয়াংশ।সূরা আন-নিসা ৪:১১ · জামে আত-তিরমিযী ২০৯২হাসান
- ছেলের কারণ: বিয়েতে মোহর দেওয়া, স্ত্রী-সন্তান ও প্রয়োজনে মা-বাবার ভরণপোষণ পুরুষের দায়িত্ব; নারীর সম্পদ শুধু তারই, কারো খরচ চালানো তার উপর ফরজ নয়।সূরা আন-নিসা ৪:৩৪ · সূরা আন-নিসা ৪:৪
- ছেলে না থাকলে ছেলের ছেলে-মেয়েরা ছেলে-মেয়ের জায়গায় আসে; এক মেয়ে থাকলে ছেলের মেয়ে পায় এক-ষষ্ঠাংশ, দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ করতে।সহিহ বুখারী ৬৭৩৬সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ১টি হাদিস, ২টি আয়াত
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ ۚ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ۚ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ ۚ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ۚ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا
আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান; কিন্তু শুধু কন্যা দুইয়ের বেশি থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ভাগ, আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধেক। তার সন্তান থাকলে তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ; সে নিঃসন্তান হলে এবং পিতা-মাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য তিন ভাগের এক ভাগ; তার ভাই-বোন থাকলে মাতার জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ; এ সবই সে যা ওসিয়ত করে তা দেয়ার এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও সন্তানদের মধ্যে উপকারে কে তোমাদের নিকটতর তা তোমরা জান না। এ বিধান আল্লাহর; নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
পুরুষরা নারীদের কর্তা, কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং এজন্যে যে, পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। কাজেই পূণ্যশীলা স্ত্রীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর আড়ালে আল্লাহর হেফাযতে তারা হেফাযত করে। আর স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাদেরকে প্রহার কর। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অন্বেষণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, মহান।
আবু মূসাকে (রা.) জিজ্ঞেস করা হলো: (মৃতের) এক মেয়ে, ছেলের এক মেয়ে আর এক বোন আছে। তিনি বললেন: মেয়ে অর্ধেক, বোন অর্ধেক; আর ইবনু মাসঊদের কাছে যাও, তিনিও আমার সাথে একমত হবেন। ইবনু মাসঊদকে (রা.) জিজ্ঞেস করে আবু মূসার কথা জানানো হলে তিনি বললেন: তাহলে তো আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাব, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে থাকব না! আমি এতে সেই ফয়সালাই করব, যা নবীজি (ﷺ) করেছেন: মেয়ে অর্ধেক, ছেলের মেয়ে এক-ষষ্ঠাংশ, দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ করতে; আর যা বাকি থাকে, তা বোনের। আমরা আবু মূসার কাছে এসে ইবনু মাসঊদের কথা জানালে তিনি বললেন: এই বিজ্ঞ আলেম যতদিন তোমাদের মাঝে আছেন, আমাকে জিজ্ঞেস করো না।
মা ও বাবার অংশ
সন্তান থাকলে দুজনেই এক-ষষ্ঠাংশ
সন্তানের সম্পদে মা-বাবার অংশ কখনো বাদ পড়ে না। মৃতের সন্তান থাকলে মা-বাবা সমান পান; সন্তান না থাকলে বাবা বাকিটা নেন।
- মৃতের সন্তান থাকলে মা-বাবা প্রত্যেকে এক-ষষ্ঠাংশ।সূরা আন-নিসা ৪:১১
- সন্তান নেই, মা-বাবাই ওয়ারিশ: মা এক-তৃতীয়াংশ, বাবা বাকিটা।সূরা আন-নিসা ৪:১১
- সন্তান নেই কিন্তু মৃতের একাধিক ভাই-বোন আছে: মা এক-ষষ্ঠাংশ (ভাই-বোনরা বাবার কারণে কিছু পায় না, কিন্তু মায়ের অংশ কমিয়ে দেয়)।সূরা আন-নিসা ৪:১১
- শুধু মেয়ে থাকলে বাবা এক-ষষ্ঠাংশ নেবেন, আর নির্ধারিত অংশগুলো দেওয়ার পর কিছু বাকি থাকলে নিকটতম পুরুষ হিসেবে তাও তাঁর।সূরা আন-নিসা ৪:১১ · সহিহ বুখারী ৬৭৩২সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ১টি হাদিস, ১টি আয়াত
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ ۚ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ۚ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ ۚ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ۚ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا
আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান; কিন্তু শুধু কন্যা দুইয়ের বেশি থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ভাগ, আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধেক। তার সন্তান থাকলে তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ; সে নিঃসন্তান হলে এবং পিতা-মাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য তিন ভাগের এক ভাগ; তার ভাই-বোন থাকলে মাতার জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ; এ সবই সে যা ওসিয়ত করে তা দেয়ার এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও সন্তানদের মধ্যে উপকারে কে তোমাদের নিকটতর তা তোমরা জান না। এ বিধান আল্লাহর; নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَهْوَ لأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
নির্ধারিত অংশগুলো তার হকদারদের দিয়ে দাও; এরপর যা বাকি থাকে, তা (মৃতের) সবচেয়ে নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের।
ভাই-বোনের অংশ (কালালা)
সন্তান ও বাবা না থাকলে
যার ছেলে-মেয়ে বা বাবা নেই, তাকে কুরআন "কালালা" বলেছে; তখন ভাই-বোনরা ওয়ারিশ হন। শুধু মায়ের দিক থেকে ভাই-বোনের নিয়ম আলাদা (৪:১২), আপন বা বাবার দিকের ভাই-বোনের নিয়ম আলাদা (৪:১৭৬)।
- শুধু মায়ের দিকের (বৈপিত্রেয়) ভাই বা বোন একজন হলে এক-ষষ্ঠাংশ; একাধিক হলে সবাই মিলে এক-তৃতীয়াংশ, ছেলে-মেয়ে সমান।সূরা আন-নিসা ৪:১২
- আপন বোন একজন হলে অর্ধেক, দুই বা তার বেশি হলে দুই-তৃতীয়াংশ।সূরা আন-নিসা ৪:১৭৬
- আপন ভাই ও বোন একসাথে থাকলে বাকিটা ভাগ হবে, এক ভাই দুই বোনের সমান।সূরা আন-নিসা ৪:১৭৬
- মৃতের মেয়ে থাকলে আপন বোন বাদ পড়েন না; মেয়েদের অংশের পর যা বাকি, তা বোন পান।সহিহ বুখারী ৬৭৩৬সহিহ
- নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর যা থাকে, তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের; তাই আপন ভাই থাকলে বৈমাত্রেয় (বাবার দিকের) ভাই পায় না।সহিহ বুখারী ৬৭৩২সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ১টি হাদিস, ২টি আয়াত
وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۚ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم ۚ مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ ۚ فَإِن كَانُوا أَكْثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَىٰ بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ ۚ وَصِيَّةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ
তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে এবং তাদের সন্তান থাকলে তোমাদের জন্য তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ; ওসিয়াত পালন এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের সন্তান না থাকলে তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ; তোমরা যা ওসিয়াত করবে তা দেয়ার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি কোনো পুরুষ অথবা নারীর ‘কালালাহ’ বা পিতা-মাতা ও সন্তানহীন উত্তরাধিকারী হয়, আর থাকে তার এক বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন, তবে প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ। তারা এর বেশি হলে সবাই সমান অংশীদার হবে তিন ভাগের এক ভাগে; এটা যা ওসিয়াত করা হয় তা দেয়ার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর, কারো ক্ষতি না করে। এ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ ۚ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ ۚ وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ ۚ وَإِن كَانُوا إِخْوَةً رِّجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ ۗ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّوا ۗ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
লোকেরা আপনার কাছে ব্যবস্থা জানতে চায়। বলুন, ‘পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন, কোনো পুরুষ মারা গেলে সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তার এক বোন থাকে তবে তার জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক। আর সে (মহিলা) যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। অতঃপর যদি দুই বোন থাকে তবে তাদের জন্য তার পরিত্যখ্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ভাগ। আর যদি ভাই-বোন উভয়ে থাকে তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান। তোমরা পথভ্রষ্ট হবে –এ আশংকায় আল্লাহ তোমাদেরকে পরিস্কারভাবে জানাচ্ছেন এবং আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সবিশেষ অবগত।
أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَهْوَ لأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
নির্ধারিত অংশগুলো তার হকদারদের দিয়ে দাও; এরপর যা বাকি থাকে, তা (মৃতের) সবচেয়ে নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের।
এক নজরে অংশ
কে কত পাবে, কখন, সূত্রসহ
| ওয়ারিশ | অংশ | কখন | সূত্র |
|---|---|---|---|
| স্বামী | অর্ধেক / এক-চতুর্থাংশ | সন্তান না থাকলে / থাকলে | সূরা আন-নিসা ৪:১২ |
| স্ত্রী (এক বা একাধিক) | এক-চতুর্থাংশ / এক-অষ্টমাংশ | সন্তান না থাকলে / থাকলে | সূরা আন-নিসা ৪:১২ |
| ছেলে | বাকি সব, মেয়ের দ্বিগুণ | সব সময়; ভাই-বোনদের বাদ দেয় | সূরা আন-নিসা ৪:১১ |
| মেয়ে (ছেলে নেই) | একজন অর্ধেক, একাধিক দুই-তৃতীয়াংশ | ছেলে থাকলে ছেলের অর্ধেক | সূরা আন-নিসা ৪:১১ |
| বাবা | এক-ষষ্ঠাংশ, বা বাকিটা | ছেলে থাকলে এক-ষষ্ঠাংশ; সন্তান না থাকলে বাকিটা | সূরা আন-নিসা ৪:১১ |
| মা | এক-ষষ্ঠাংশ / এক-তৃতীয়াংশ | সন্তান বা একাধিক ভাই-বোন থাকলে / না থাকলে | সূরা আন-নিসা ৪:১১ |
| মায়ের দিকের ভাই-বোন | একজন এক-ষষ্ঠাংশ, একাধিক এক-তৃতীয়াংশ | সন্তান ও বাবা না থাকলে | সূরা আন-নিসা ৪:১২ |
| আপন বোন (ভাই নেই) | একজন অর্ধেক, একাধিক দুই-তৃতীয়াংশ | ছেলে, ছেলের ছেলে ও বাবা না থাকলে | সূরা আন-নিসা ৪:১৭৬ |
| আপন ভাই | বাকিটা, বোনের দ্বিগুণ | ছেলে, ছেলের ছেলে ও বাবা না থাকলে | সহিহ বুখারী ৬৭৩২সহিহ |
"সন্তান" মানে মৃতের ছেলে বা মেয়ে, আর ছেলে না থাকলে ছেলের সন্তানও। টেবিলে মূল নিয়মগুলো রাখা হয়েছে; দাদা-দাদি, নানি, বৈমাত্রেয় ভাই-বোন, চাচা-চাচাতো ভাইয়ের মতো আরও ওয়ারিশের নিয়ম আছে।
উদাহরণে হিসাব
দাফন, ঋণ ও ওসিয়তের পর যা থাকে, তার ভাগ
১একজন পুরুষ মারা গেলেন; রেখে গেলেন স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে।
| ওয়ারিশ | অংশ | কেন |
|---|---|---|
| স্ত্রী | ১/৮ | সন্তান আছে, তাই এক-অষ্টমাংশ |
| ছেলে | ৭/১৬ | বাকি ৭/৮ চার ভাগে, ছেলে দুই ভাগ |
| প্রথম মেয়ে | ৭/৩২ | এক ভাগ |
| দ্বিতীয় মেয়ে | ৭/৩২ | এক ভাগ |
২একজন পুরুষ মারা গেলেন; রেখে গেলেন স্ত্রী, মা, বাবা ও এক মেয়ে।
| ওয়ারিশ | অংশ | কেন |
|---|---|---|
| স্ত্রী | ১/৮ | সন্তান আছে |
| মা | ১/৬ | সন্তান আছে |
| মেয়ে | ১/২ | একমাত্র মেয়ে, ছেলে নেই |
| বাবা | ৫/২৪ | এক-ষষ্ঠাংশ, আর বাকি ১/২৪ নিকটতম পুরুষ হিসেবে |
৩একজন পুরুষ মারা গেলেন; সন্তান ও মা-বাবা কেউ নেই; রেখে গেলেন স্ত্রী, এক আপন ভাই ও এক আপন বোন।
| ওয়ারিশ | অংশ | কেন |
|---|---|---|
| স্ত্রী | ১/৪ | সন্তান নেই, তাই এক-চতুর্থাংশ |
| ভাই | ১/২ | বাকি ৩/৪ তিন ভাগে, ভাই দুই ভাগ |
| বোন | ১/৪ | এক ভাগ |
কখনো নির্ধারিত অংশগুলো যোগ করলে মোট সম্পদের চেয়ে বেশি বা কম হয়ে যায়। তখন সাহাবিদের যুগ থেকে চলে আসা "আউল" ও "রদ্দ" নামের নিয়মে হিসাব মেলানো হয়। এমন জটিল অবস্থায়, বা জমি-বাড়ি ভাগের আগে, ফারায়েজ জানা আলেমের কাছে পুরো পরিবারের তালিকা নিয়ে যান।
প্রচলিত কিন্তু সহিহ নয়
মীরাস নিয়ে ভুল ধারণার কারণে সবচেয়ে বেশি ঠকেন বোন, মেয়ে, বিধবা আর এতিম শিশুরা। প্রতিটির সাথে সঠিক কথা ও সূত্র দেওয়া হলো।
ভুল ধারণা "বোনেরা ভাইদের জন্য নিজের অংশ ছেড়ে দেয়, এটাই ভালো মেয়ের লক্ষণ"
বোনের অংশ আল্লাহ নিজে ঠিক করেছেন (সূরা আন-নিসা ৪:৭, সূরা আন-নিসা ৪:১১)। লজ্জা, সামাজিক চাপ বা "বাপের বাড়ির সাথে সম্পর্ক নষ্ট হবে" এই ভয় দেখিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়া মানে মীরাস গ্রাস করা (সূরা আল-ফাজর ৮৯:১৯)। আগে তার অংশ বুঝিয়ে দিন; তারপর সে সত্যিকার খুশি মনে কাউকে কিছু দিলে সেটা তার দান।
সুন্নাহবিরোধী "জীবদ্দশায় সব জমি ছেলেদের নামে লিখে দিলে সমস্যা নেই"
নবীজি (ﷺ) এক সাহাবিকে শুধু এক সন্তানকে উপহার দিতে দেখে বলেছেন: আল্লাহকে ভয় করো, সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ করো (সহিহ বুখারী ২৫৮৭)। জীবদ্দশার উপহারে আলেমদের কেউ বলেছেন সবাইকে সমান, কেউ বলেছেন মীরাসের অনুপাতে; কিন্তু মেয়েদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে লিখে দেওয়া কোনো মতেই জায়েজ নয়।
ভুল ধারণা "পালক সন্তান নিজের সন্তানের মতোই মীরাস পায়"
পালক সন্তান আসল সন্তান হয় না (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪, সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫), তাই মীরাস পায় না। তবে তাকে লালনপালন করা বড় নেকির কাজ; তার জন্য এক-তৃতীয়াংশের ভেতরে ওসিয়ত (সহিহ বুখারী ২৭৪২) বা জীবদ্দশায় উপহার দেওয়া যায়।
ভুল ধারণা "মেয়েকে ছেলের অর্ধেক দেওয়া মানে ইসলামে নারীর মূল্য অর্ধেক"
সব ক্ষেত্রে নারী অর্ধেক পান না: সন্তান থাকলে মা ও বাবা দুজনেই এক-ষষ্ঠাংশ পান (সূরা আন-নিসা ৪:১১), মায়ের দিকের ভাই-বোনরা সমান পান (সূরা আন-নিসা ৪:১২)। ছেলে-মেয়ের পার্থক্য দায়িত্বের পার্থক্য: মোহর ও পরিবারের খরচ পুরুষের উপর (সূরা আন-নিসা ৪:৩৪), অথচ নারীর পাওয়া সম্পদ পুরোটা তার নিজের।
দুর্বল "যে ওয়ারিশকে বঞ্চিত করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের মীরাস থেকে বঞ্চিত করবেন"
এই বর্ণনা সুনানে ইবনু মাজাহ ২৭০৩-এ আছে; শাইখ আলবানী, শুআইব আরনাউত ও ফুআদ আব্দুল বাকী একে দুর্বল বলেছেন। ওয়ারিশকে বঞ্চিত করা যে কত বড় গুনাহ, তা বোঝাতে কুরআনের আয়াতই যথেষ্ট: এগুলো আল্লাহর সীমা, যে লঙ্ঘন করে তার জন্য অপমানজনক শাস্তি (সূরা আন-নিসা ৪:১৩, সূরা আন-নিসা ৪:১৪)।
ভিত্তিহীন "ভাগের আগে মৃতের টাকায় চল্লিশা-কুলখানি করতে হয়"
মৃতের সম্পদ থেকে আগে দাফন, তারপর ঋণ, তারপর ওসিয়ত, বাকিটা ওয়ারিশদের (সূরা আন-নিসা ৪:১১, জামে আত-তিরমিযী ২১২২)। ওয়ারিশদের মধ্যে এতিম শিশুও থাকতে পারে, তাদের অনুমতি ছাড়া তাদের অংশ খরচ করা এতিমের সম্পদ খাওয়া (সূরা আন-নিসা ৪:১০)। আর চল্লিশা-কুলখানির কোনো দলিল সুন্নাহয় নেই।
ভুল ধারণা "স্ত্রী শুধু মোহর পায়, স্বামীর সম্পত্তিতে তার ভাগ নেই"
স্ত্রী মীরাস থেকে কখনো বাদ পড়েন না: সন্তান থাকলে এক-অষ্টমাংশ, না থাকলে এক-চতুর্থাংশ (সূরা আন-নিসা ৪:১২)। বাকি মোহর আলাদা ঋণ, যা ভাগের আগে দিতে হবে।
শেষ কথা: আমানত বুঝিয়ে দিন
মীরাসের আয়াত শেষ হয়েছে এই কথায়: এগুলো আল্লাহর সীমা (সূরা আন-নিসা ৪:১৩)। সম্পদ দুনিয়াতেই থেকে যায়, কিন্তু কার হক কে খেল, সেই হিসাব সাথে যায়। জীবিত থাকতেই ঋণ শোধ করুন, ওসিয়ত লিখে রাখুন, আর মারা গেলে প্রত্যেক ওয়ারিশকে তাঁর অংশ বুঝিয়ে দিন। ঋণের বোঝা থেকে নবীজি (ﷺ) এভাবে আশ্রয় চাইতেন:
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
এসব আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমা। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করলে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; তারা সেখানে স্থায়ী হবে আর এটাই হলো মহাসাফল্য।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে, ঋণের বোঝা থেকে এবং মানুষের দাপট থেকে।