deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

দ্বীনের পথ · ধাপ ৭

দৈনন্দিন সুন্নাহ ও যিকির: সারা দিন আল্লাহর সাথে

নবীজি (ﷺ) সারা দিনের ছোট ছোট কাজ, যেমন খাওয়া, ঘুম, ঘর থেকে বের হওয়া, সবকিছুর সাথে আল্লাহর একটি স্মরণ জুড়ে দিয়েছেন। এতে সাধারণ দিনটাই ইবাদতে ভরে যায়। এই ধাপে সহিহ হাদিস থেকে সবচেয়ে জরুরি যিকির আর সুন্নাহগুলো একসাথে দেওয়া হলো।

গল্প দিয়ে শুরু

ফাতিমা (রা.)-এর ক্লান্ত হাত, আর খাদেমের চেয়ে উত্তম উপহার

নবীজির (ﷺ) প্রিয় কন্যা ফাতিমা (রা.)। ঘরের সব কাজ নিজে করতেন, জাঁতা ঘুরিয়ে আটা পিষতে পিষতে হাতে দাগ পড়ে গিয়েছিল। খবর এল, নবীজির (ﷺ) কাছে কিছু যুদ্ধবন্দী এসেছে। ফাতিমা (রা.) গেলেন বাবার কাছে একজন খাদেম চাইতে। বাবাকে পেলেন না, আয়েশা (রা.)-কে বলে ফিরে এলেন।

সে রাতে ফাতিমা (রা.) আর আলী (রা.) শুয়ে পড়েছেন, এমন সময় নবীজি (ﷺ) এলেন। তাঁরা উঠতে চাইলে বললেন, যেখানে আছ সেখানেই থাকো। তিনি দুজনের মাঝখানে বসে পড়লেন। তারপর মেয়েকে খাদেম না দিয়ে দিলেন এমন কিছু, যা তিনি নিজে খাদেমের চেয়েও উত্তম বললেন:

ফাতিমার (রা.) জন্য খাদেমের চেয়ে উত্তম উপহারসহিহ বুখারী ৬৩১৮ · সহিহ · পুরো হাদিস পড়ুন

জাঁতা ঘোরাতে ঘোরাতে ফাতিমা (রা.)-এর হাতে কষ্ট হতো। তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে একজন খাদেম চাইতে গেলেন, কিন্তু তাঁকে পেলেন না। তাই আয়েশা (রা.)-কে বলে এলেন। নবী (ﷺ) এলে আয়েশা (রা.) তাঁকে জানালেন। আলী (রা.) বলেন: তিনি আমাদের কাছে এলেন, তখন আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। আমি উঠতে যাচ্ছিলাম, তিনি বললেন: নিজের জায়গায় থাকো। তিনি আমাদের দুজনের মাঝে বসলেন, এমনকি তাঁর পায়ের শীতলতা আমি বুকে অনুভব করলাম। তিনি বললেন: খাদেমের চেয়ে উত্তম জিনিস কি তোমাদের বলে দেব না? যখন বিছানায় যাবে, তেত্রিশবার আল্লাহু আকবার, তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ আর তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ বলবে। এটা তোমাদের জন্য খাদেমের চেয়ে উত্তম।

সহিহ বুখারী ৬৩১৮সহিহবর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবি তালিব (রা.)

পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত বাবা তাঁর সবচেয়ে প্রিয় মেয়েকে দিলেন কয়েকটি বাক্য। কারণ তিনি জানতেন, ক্লান্ত শরীরের আসল শক্তি আসে আল্লাহর স্মরণ থেকে।

এই গল্প আপনাকে কী বলে

  • যিকির শুধু বাড়তি সওয়াব নয়, এটা দৈনন্দিন জীবনের শক্তি। নবীজি (ﷺ) নিজের মেয়ের ক্লান্তির সমাধান হিসেবে যিকিরই দিয়েছেন।
  • সবচেয়ে মূল্যবান উপহার সবসময় হাতে ধরা যায় না। সন্তান বা প্রিয়জনকে একটি দোয়া বা যিকির শেখানোও বড় উপহার।
  • আজ রাত থেকেই শুরু করুন: বিছানায় গিয়ে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, আর আল্লাহু আকবার।
  • এই ধাপে সকাল-সন্ধ্যা, খাওয়া, ঘুম আর ঘরে ঢোকা-বের হওয়ার সহিহ দোয়াগুলো এক জায়গায় পাবেন।

এই ধাপ শেষে আপনি

  1. সকাল-সন্ধ্যা ও নামাজের পরের যিকির শুরু করবেন
  2. খাওয়া, ঘুম, ঘরে ঢোকা-বের হওয়ার দোয়া শিখবেন
  3. অল্প দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়াবেন

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া। হাদিসের মান মুহাদ্দিসদের রায় অনুযায়ী। সব মূল গ্রন্থ ও মিলিয়ে দেখার লিংক এক জায়গায়: সূত্র তালিকা।

যিকির কেন

যিকির মানে আল্লাহকে স্মরণ করা: মুখে, অন্তরে আর কাজে। আল্লাহর স্মরণেই অন্তর শান্ত হয়।

الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহ্‌র স্মরণে যাদের মন প্রশান্ত হয়; জেনে রাখ, আল্লাহ্‌র স্মরণেই মন প্রশান্ত হয়;

مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لاَ يَذْكُرُ مَثَلُ الْحَىِّ وَالْمَيِّتِ

যে তার রবের যিকির করে আর যে করে না, তাদের উদাহরণ জীবিত ও মৃতের মতো।

সহিহ বুখারী ৬৪০৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু মূসা আল-আশআরী (রা.)

যিকিরের জন্য অজু বা নির্দিষ্ট জায়গা লাগে না। নবীজি (ﷺ) সব অবস্থায় আল্লাহর যিকির করতেন।

كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ

নবী (ﷺ) সব অবস্থায় আল্লাহর যিকির করতেন।

সহিহ মুসলিম ৩৭৩সহিহবর্ণনাকারী: আয়েশা (রা.)

সকাল ও সন্ধ্যার যিকির

সকালের যিকির ফজরের পর থেকে, আর সন্ধ্যার যিকির আসরের পর থেকে বা মাগরিবের পর পড়ুন। শুরু করার জন্য এই চারটিই যথেষ্ট; প্রতিটি সহিহ হাদিস থেকে।

  1. সাইয়িদুল ইস্তিগফার, একবার। বিশ্বাসের সাথে সকালে পড়ে সেদিন মারা গেলে জান্নাতি।
  2. সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস, তিনবার করে।
  3. "বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু…", তিনবার।
  4. "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী", দিনে একশো বার।
সাইয়িদুল ইস্তিগফার: সকাল-সন্ধ্যার জান্নাতের দোয়াসহিহ বুখারী ৬৩০৬ · সহিহ · পুরো হাদিস পড়ুন

শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার হলো এটা বলা: "আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাকতানী ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া'দিকা মাসতাতা'তু, আঊযু বিকা মিন শাররি মা সানা'তু, আবূউ লাকা বিনি'মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবূউ লাকা বিযাম্বী, ফাগফির লী, ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা" (হে আল্লাহ, আপনিই আমার রব, আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপর আছি। আমার কৃতকর্মের মন্দ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমার উপর আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি, আর আমার গুনাহও স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন, কারণ আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না)। যে দিনের বেলা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এটা বলে, তারপর সেদিন সন্ধ্যার আগেই মারা যায়, সে জান্নাতবাসী। আর যে রাতে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এটা বলে, তারপর সকালের আগেই মারা যায়, সে-ও জান্নাতবাসী।

সহিহ বুখারী ৬৩০৬সহিহবর্ণনাকারী: শাদ্দাদ ইবনু আওস (রা.)

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ‏}‏ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُمْسِي وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ

(নবীজি ﷺ বললেন) সন্ধ্যায় ও সকালে তিনবার করে "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" (সূরা ইখলাস) আর মুআওয়িযাতাইন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়ো। এটা সব কিছু থেকে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।

সুনানে আবু দাউদ ৫০৮২হাসানবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু খুবাইব (রা.)

যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলে: "বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মাআসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি, ওয়াহুয়াস সামীউল আলীম" (আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সব শোনেন, সব জানেন), সকাল পর্যন্ত তার উপর হঠাৎ কোনো বিপদ আসবে না। আর যে সকালে তিনবার বলে, সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর হঠাৎ কোনো বিপদ আসবে না।

সুনানে আবু দাউদ ৫০৮৮সহিহবর্ণনাকারী: উসমান ইবনু আফফান (রা.)

مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ‏.‏ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ

যে ব্যক্তি দিনে একশো বার বলে "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী" (আল্লাহ পবিত্র, সব প্রশংসা তাঁর), তার গুনাহগুলো ঝরিয়ে দেওয়া হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়।

সহিহ বুখারী ৬৪০৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

প্রতিটি ফরজ নামাজের পর

সালাম ফিরিয়ে তিনবার "আস্তাগফিরুল্লাহ", তারপর "আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম…" পড়ুন (সহিহ মুসলিম ৫৯১)। এরপর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার, আর একশ পূর্ণ করতে একবার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু…"।

যে প্রত্যেক নামাজের পর তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ, তেত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলে, এই নিরানব্বই; আর একশ পূর্ণ করতে বলে: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর", তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার সমান হলেও মাফ করে দেওয়া হয়।

সহিহ মুসলিম ৫৯৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

তাসবিহ গুনুন ডান হাতের আঙুলে; কিয়ামতের দিন আঙুলগুলো সাক্ষী দেবে।

رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ قَالَ ابْنُ قُدَامَةَ - بِيَمِينِهِ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে (আঙুলের গিঁটে) তাসবিহ গুনতে দেখেছি, তাঁর ডান হাতে।

সুনানে আবু দাউদ ১৫০২সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)

أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بِالتَّكْبِيرِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَأَنْ يَعْقِدْنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولاَتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ

নবী (ﷺ) নারী সাহাবিদের আদেশ দিলেন, তারা যেন তাকবীর, তাকদীস ও তাহলীলের (আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) প্রতি যত্নবান থাকে, আর আঙুলে গুনে গুনে বলে। কারণ (কিয়ামতের দিন) আঙুলগুলোকে জিজ্ঞেস করা হবে, আর সেগুলো কথা বলবে।

সুনানে আবু দাউদ ১৫০১হাসানবর্ণনাকারী: ইউসাইরা (রা.)

সারা দিনের সুন্নাহ এক নজরে

কখনকী বলবেন বা করবেনদলিল
ঘুম থেকে উঠে"আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর"সহিহ বুখারী ৬৩১২
টয়লেটে ঢোকার আগে"বিসমিল্লাহ", তারপর "আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস"জামে আত-তিরমিযী ৬০৬, সহিহ বুখারী ১৪২
ঘর থেকে বের হতে"বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"সুনানে আবু দাউদ ৫০৯৫
ঘরে ঢুকতেআল্লাহর নাম নিয়ে ঢুকুন, আর ঘরের লোকদের সালাম দিনসহিহ মুসলিম ২০১৮, সূরা আন-নূর ২৪:৬১
খাওয়ার শুরুতে"বিসমিল্লাহ"; ডান হাতে, নিজের সামনে থেকে খানসহিহ বুখারী ৫৩৭৬, সহিহ মুসলিম ২০২০
শুরুতে ভুলে গেলে"বিসমিল্লাহি আওওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু"সুনানে আবু দাউদ ৩৭৬৭
ঘুমানোর আগেঅজু, ডান কাতে শোয়া, আয়াতুল কুরসি, তিন কুল পড়ে শরীরে হাত বোলানো, "বিসমিকা আমূতু ওয়া আহইয়া"সহিহ বুখারী ৬৩১১, সহিহ বুখারী ২৩১১, সহিহ বুখারী ৫০১৭, সহিহ বুখারী ৬৩১২

সব দোয়ার পুরো আরবি ও অর্থ নিচের হাদিস কার্ডে, আর প্রতিটি হাদিসের নিজের পাতায়।

ঘুমের আগে অজু, ডান কাতে শোয়া ও দোয়াসহিহ বুখারী ৬৩১১ · সহিহ · পুরো হাদিস পড়ুন

যখন বিছানায় যাবে, নামাজের অজুর মতো অজু করে নাও। তারপর ডান কাতে শুয়ে বলো: "আল্লাহুম্মা আসলামতু ওয়াজহী ইলাইকা, ওয়া ফাওওয়াদতু আমরী ইলাইকা, ওয়া আলজা’তু যাহরী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়ালা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযী আনযালতা, ওয়া বিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা" (হে আল্লাহ, আমি নিজেকে তোমার কাছে সঁপে দিলাম, আমার সব কাজ তোমার উপর ছেড়ে দিলাম, তোমার উপর ভরসা করলাম, তোমার প্রতি আশা ও ভয় নিয়ে। তোমার কাছ থেকে পালানোর বা বাঁচার কোনো জায়গা নেই, তোমার কাছে ছাড়া। আমি ঈমান আনলাম তোমার নাজিল করা কিতাবের উপর, আর তোমার পাঠানো নবীর উপর)। এ রাতে মারা গেলে তুমি ফিতরাতের (স্বভাবধর্ম ইসলামের) উপর মারা যাবে। আর এগুলো যেন তোমার শেষ কথা হয়।

সহিহ বুখারী ৬৩১১সহিহবর্ণনাকারী: বারা ইবনু আযিব (রা.)

إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى فَإِنْ نَسِيَ أَنْ يَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى فِي أَوَّلِهِ فَلْيَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ

তোমাদের কেউ যখন খায়, সে যেন আল্লাহর নাম নেয়। যদি শুরুতে আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায়, তাহলে যেন বলে: "বিসমিল্লাহি আওওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু" (শুরুতে ও শেষে আল্লাহর নামে)।

সুনানে আবু দাউদ ৩৭৬৭সহিহবর্ণনাকারী: আয়েশা (রা.)

অল্প দিয়ে শুরু, তারপর বাড়ান

একসাথে সব যিকির শুরু করলে কয়েক দিনেই ক্লান্তি আসতে পারে। প্রথম সপ্তাহে শুধু নামাজের পরের তাসবীহ আর ঘুমের আগের আমল ধরুন। পরের সপ্তাহে সকাল-সন্ধ্যার যিকির যোগ করুন। মনে রাখুন, অল্প হলেও নিয়মিত আমলই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় (সহিহ বুখারী ৬৪৬৪)।

দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা, কিন্তু মীযানে ভারী। হাঁটতে, গাড়িতে বসে, কাজের ফাঁকে এগুলো বলুন।

كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ، حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ، سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা, মীযানে (দাঁড়িপাল্লায়) ভারী, আর দয়াময় আল্লাহর কাছে প্রিয়: "সুবহানাল্লাহিল আযীম, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী"।

সহিহ বুখারী ৬৪০৬সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপের সুন্নাহ বিস্তারিত পাবেন: সুন্নাহর আলোয় জীবন।

নবীজির (ﷺ) জীবন থেকে: হানযালা কেন ভাবলেন তিনি মুনাফিক

সাহাবি হানযালা (রা.) নবীজির (ﷺ) মজলিসে থাকলে জান্নাত-জাহান্নাম চোখের সামনে দেখতেন। কিন্তু ঘরে ফিরে স্ত্রী-সন্তান আর কাজে ডুবে গেলে সে অনুভূতি থাকত না। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন, নিজেকে মুনাফিক ভাবলেন।

"হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে!": ঈমানের ওঠানামাসহিহ মুসলিম ২৭৫০ · সহিহ · পুরো হাদিস পড়ুন

(হানযালা ও আবু বকর রাসূলুল্লাহর কাছে গেলেন। হানযালা বললেন) হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যখন আপনার কাছে থাকি, আপনি জাহান্নাম ও জান্নাতের কথা মনে করিয়ে দেন, যেন আমরা নিজের চোখে দেখছি। কিন্তু আপনার কাছ থেকে বের হয়ে স্ত্রী-সন্তান আর কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ি, তখন অনেক কিছুই ভুলে যাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম, আমার কাছে থাকা অবস্থায় আর যিকিরের সময় তোমরা যেমন থাকো, সব সময় যদি তেমন থাকতে, তাহলে ফেরেশতারা তোমাদের বিছানায় ও পথে-ঘাটে তোমাদের সাথে মুসাফাহা করত। কিন্তু হে হানযালা, কিছু সময় এমন, কিছু সময় তেমন। (তিনবার বললেন)

সহিহ মুসলিম ২৭৫০সহিহবর্ণনাকারী: হানযালা আল-উসাইদী (রা.)

আপনার জীবনে এর মানে: সব সময় একই রকম ঈমানি অনুভূতি থাকবে না, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু দিনের মাঝে মাঝে যিকির, নামাজ আর কুরআন সেই অনুভূতি বারবার ফিরিয়ে আনে। দৈনন্দিন যিকিরগুলো ঠিক এই কাজটাই করে।

কোন অবস্থায় কী করবেন

অজু ছাড়া বা হায়েয অবস্থায় কি যিকির করা যায়?

হ্যাঁ। যিকির ও দোয়ার জন্য অজু শর্ত নয়; নবীজি (ﷺ) সব অবস্থায় আল্লাহর যিকির করতেন (সহিহ মুসলিম ৩৭৩)। হায়েয অবস্থায়ও সকাল-সন্ধ্যার যিকির, দোয়া ও তাসবীহ পড়তে পারবেন।

আরবি মুখস্থ নেই। দেখে পড়লে কি হবে?

হ্যাঁ, দেখে পড়লেও হবে। ধীরে ধীরে মুখস্থ করে নিন: প্রতি সপ্তাহে একটি করে। অর্থ জেনে পড়ুন, তাতে মন বেশি উপস্থিত থাকে। আর নিজের প্রয়োজনের দোয়া নামাজের বাইরে নিজের ভাষাতেও করা যায়।

সকালের যিকির সময়মতো পড়তে না পারলে?

যিকিরের কোনো কাযা ফরজ নয়, কারণ এগুলো ফরজ ইবাদত নয়। দেরি হলেও মনে পড়ার পর পড়ে নিন, যেন অভ্যাসটা না ভাঙে। আর পরের দিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে নিন, যেমন ফজরের নামাজের পরপরই।

তাসবিহ দানা ব্যবহার করা কি জায়েজ?

নবীজি (ﷺ) নিজে ডান হাতের আঙুলে গুনতেন, আর নারী সাহাবিদের আঙুলে গুনতে বলেছেন, কারণ আঙুল সাক্ষী দেবে (সুনানে আবু দাউদ ১৫০২, সুনানে আবু দাউদ ১৫০১)। তাই আঙুলে গোনাই সুন্নাহ ও উত্তম। দানা ব্যবহার নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে; তবে সবাই একমত যে দানা ছাড়া যিকির পুরোপুরি হয়।

প্রচলিত ভুল

✗ "খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ ভুলে গেলে আর কিছু করার নেই।"

মনে পড়লে বলুন: "বিসমিল্লাহি আওওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু" (সুনানে আবু দাউদ ৩৭৬৭)।

✗ "যিকির মানে সবাই মিলে এক সুরে জোরে জোরে পড়া।"

নবীজি (ﷺ) ও সাহাবিরা যিকির করতেন প্রত্যেকে নিজে নিজে, আঙুলে গুনে। দলবেঁধে এক সুরে নির্দিষ্ট সংখ্যায় যিকির করার কোনো প্রমাণ তাঁদের থেকে নেই। আল্লাহ বলেছেন, তোমার রবকে স্মরণ করো মনে মনে, বিনয় ও ভয়ের সাথে, উচ্চস্বর ছাড়া (সূরা আল-আরাফ ৭:২০৫)।

✗ "যিকির শুধু অজু করে, কিবলামুখী হয়ে বসেই করতে হয়।"

নবীজি (ﷺ) সব অবস্থায় যিকির করতেন (সহিহ মুসলিম ৩৭৩)। আল্লাহ বুদ্ধিমানদের প্রশংসা করেছেন, যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯১)।

এই সপ্তাহের আমল

টিক দিলে তা শুধু আপনার ফোনেই থাকবে।

নিজেকে যাচাই করুন

যিকিরের জন্য কি অজু শর্ত?

নবীজি (ﷺ) সব অবস্থায় আল্লাহর যিকির করতেন (সহিহ মুসলিম ৩৭৩)।

খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ ভুলে গেলে কী বলবেন?

সুনানে আবু দাউদ ৩৭৬৭ (আলবানী: সহিহ)।

নবীজি (ﷺ) তাসবীহ কীভাবে গুনতেন?

আমি তাঁকে ডান হাতে তাসবীহ গুনতে দেখেছি (সুনানে আবু দাউদ ১৫০২)।

পরের ধাপ ৮হালাল উপার্জন ও লেনদেনগল্প: আবু বকর (রা.) পেট থেকে যে খাবার বের করে দিলেন ›
deenpedia.com · https://deenpedia.com/poth/sunnah-o-zikir/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার