deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ

জান্নাত কেমন

কুরআন ও সহিহ হাদিসে জান্নাতের যে বর্ণনা এসেছে: দরজা, স্তর, নদী, প্রাসাদ, জান্নাতিদের রূপ, পরিবার, আর সবচেয়ে বড় নিয়ামত আল্লাহকে দেখা। প্রতিটি নিয়ামতের সাথে আছে সেই সুন্নাহ আমল, যা ওই নিয়ামতের দিকে নিয়ে যায়।

৫৫ সহিহ ও হাসান হাদিস৩৭ আয়াত১৩ অধ্যায়

জান্নাতের কথা পড়ার উদ্দেশ্য গল্প শোনা নয়, অন্তরে আগ্রহ জাগানো। নবীজি (ﷺ) সাহাবিদের জান্নাতের কথা শোনাতেন, আর তাঁরা সেই আগ্রহে ফজরে উঠতেন, দান করতেন, কষ্ট সহ্য করতেন। এই পাতার প্রতিটি কথার পাশে সূত্র ও মান দেওয়া আছে; দলিল হিসেবে শুধু কুরআন এবং সহিহ ও হাসান হাদিস নেওয়া হয়েছে।

গল্পে গল্পে: এক মুমিনের জান্নাত যাত্রা

শেষ নিঃশ্বাস থেকে আল্লাহকে দেখা পর্যন্ত, আটটি দৃশ্যে

চোখ বন্ধ করে ভাবুন, এই যাত্রাটা আপনার। দৃশ্যগুলো সাজানোর ভাষা আমাদের, কিন্তু প্রতিটি ঘটনা ও বিবরণ কুরআন বা সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া; নিজেদের কল্পনা থেকে কিছু যোগ করা হয়নি। প্রতিটি দৃশ্যের নিচে সূত্র আর সেই দৃশ্যে পৌঁছানোর একটি সুন্নাহ আমল দেওয়া আছে।

  1. ১

    শেষ নিঃশ্বাস

    একদিন দুনিয়ায় আপনার সময় ফুরিয়ে আসবে। যদি আপনি সারাজীবন বলে থাকেন "আমার রব আল্লাহ", আর সেই কথার উপর অটল থাকেন, তাহলে সেই মুহূর্তে ফেরেশতারা নেমে আসবেন। তাঁরা বলবেন: ভয় পেয়ো না, দুঃখও কোরো না; যে জান্নাতের ওয়াদা তোমাকে দেওয়া হয়েছিল, তার সুসংবাদ নাও। আমরা দুনিয়াতেও তোমার বন্ধু ছিলাম, আখিরাতেও। তারপর সালাম দিয়ে বলবেন: তুমি যা করতে, তার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করো।

    সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩০ · সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩১ · সূরা আন-নাহল ১৬:৩২

    এই দৃশ্যের টিকিট: তাওহীদে অটল থাকা (সহিহ মুসলিম ২৬)

  2. ২

    কবরের প্রথম রাত

    প্রিয়জনেরা আপনাকে রেখে ফিরে যাচ্ছে, তাদের জুতার শব্দও আপনি শুনছেন। দুজন ফেরেশতা এসে আপনাকে বসাবেন: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এই মানুষটি কে? আপনি দৃঢ় কণ্ঠে বলবেন: আমার রব আল্লাহ, আমার দ্বীন ইসলাম, তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ); আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, ঈমান এনেছি। তখন আসমান থেকে ঘোষণা আসবে: আমার বান্দা সত্য বলেছে! আপনার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছানো হবে, জান্নাতের পোশাক পরানো হবে, জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে; সেখান থেকে জান্নাতের হাওয়া আর সুগন্ধি আসতে থাকবে, আর কবর চোখ যতদূর যায় ততদূর প্রশস্ত হবে। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা আপনাকে দেখানো হবে: এটাই তোমার ঠিকানা।

    সুনানে আবু দাউদ ৪৭৫৩সহিহ · সহিহ বুখারী ১৩৩৮সহিহ · সহিহ বুখারী ১৩৭৯সহিহ

    এই দৃশ্যের টিকিট: কুরআন পড়া, বোঝা ও মেনে চলা

  3. ৩

    জান্নাতের আগের সেতু

    কিয়ামতের দিন মুত্তাকীদের দয়াময়ের কাছে সম্মানিত মেহমান হিসেবে জড়ো করা হবে। জাহান্নাম থেকে নিরাপদে পার হওয়ার পর জান্নাত আর জাহান্নামের মাঝে একটি সেতুতে আপনাকে একটু থামানো হবে। দুনিয়ায় মানুষের সাথে যে অন্যায়-অভিমান ছিল, সেখানে সব মিটিয়ে দেওয়া হবে। যখন অন্তর পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে, কারও প্রতি একটুও হিংসা থাকবে না, তখনই জান্নাতে ঢোকার অনুমতি আসবে।

    সূরা মারইয়াম ১৯:৮৫ · সহিহ বুখারী ২৪৪০সহিহ · সূরা আল-হিজর ১৫:৪৭

    এই দৃশ্যের টিকিট: মানুষের হক আজই মিটিয়ে নেওয়া, ক্ষমা চেয়ে নেওয়া (সহিহ বুখারী ২৪৪০)

  4. ৪

    দরজার সামনে

    দলে দলে মুত্তাকীদের জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। সবার আগে দরজায় কড়া নাড়বেন নবীজি (ﷺ); দারোয়ান বলবে, আপনার আগে কারও জন্য না খোলার আদেশ আমাকে দেওয়া হয়েছে। তারপর দরজাগুলো খুলবে, রক্ষীরা বলবেন: তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা ভালো ছিলে, চিরকালের জন্য প্রবেশ করো। দুনিয়ায় যে আমলে আপনি বেশি ছিলেন, সেই দরজা থেকে আপনার নাম ধরে ডাকা হবে। রোজাদারদের জন্য আছে আলাদা দরজা: রাইয়ান।

    সূরা আয-যুমার ৩৯:৭৩ · সহিহ মুসলিম ১৯৭সহিহ · সহিহ বুখারী ১৮৯৭সহিহ · সহিহ বুখারী ১৮৯৬সহিহ

    এই দৃশ্যের টিকিট: অজুর পর কালিমায়ে শাহাদাত: আট দরজাই খোলা (সহিহ মুসলিম ২৩৪)

  5. ৫

    প্রথম পা

    ভেতরে পা রাখতেই আপনি বদলে যাবেন। প্রথম দলের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো, বয়স ত্রিশ-তেত্রিশের যুবকের মতো। একজন ঘোষক ঘোষণা দেবেন: তোমরা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না; বাঁচবে, কখনো মরবে না; যুবক থাকবে, কখনো বুড়ো হবে না; সুখে থাকবে, কখনো কষ্টে পড়বে না। আপনার মুখ থেকে নিজে থেকেই বের হবে: সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের এই পথ দেখিয়েছেন; তিনি পথ না দেখালে আমরা কখনো পেতাম না।

    সহিহ বুখারী ৩২৪৫সহিহ · জামে আত-তিরমিযী ২৫৪৫হাসান · সহিহ মুসলিম ২৮৩৭সহিহ · সূরা আল-আরাফ ৭:৪৩

  6. ৬

    নিজের ঘরে

    কাউকে পথ দেখিয়ে দিতে হবে না। দুনিয়ার নিজের বাড়ি যেমন চেনেন, জান্নাতের নিজের ঘর তার চেয়েও ভালো চিনবেন। ভেতরে ফাঁপা মুক্তার তাঁবু, প্রস্থ ষাট মাইল; তার কোণে কোণে আপনার পরিবার। ঈমানে আপনার পথে চলা সন্তানদেরও আপনার সাথে মিলিয়ে দেওয়া হবে। আর মন যা চাইবে, মুখে যা চাইবেন, সবই সেখানে।

    সহিহ বুখারী ২৪৪০সহিহ · সহিহ বুখারী ৪৮৭৯সহিহ · সূরা আত-তূর ৫২:২১ · সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩১

    এই দৃশ্যের টিকিট: প্রতিদিন বারো রাকাত সুন্নত: জান্নাতে একটি ঘর (সহিহ মুসলিম ৭২৮)

  7. ৭

    জুমার দিনের বাজার

    প্রতি জুমায় জান্নাতের বাজারে সবাই আসবে। উত্তরের বাতাস বইবে, চেহারা আর পোশাকে সুগন্ধি ছড়িয়ে দেবে। ঘরে ফিরলে পরিবার বলবে: আল্লাহর কসম, তোমার সৌন্দর্য আরও বেড়ে গেছে! আপনি হেসে বলবেন: তোমাদেরও!

    সহিহ মুসলিম ২৮৩৩সহিহ

  8. ৮

    সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত

    সব পাওয়ার পর আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন: আরও কিছু চাও? আপনি বলবেন: আপনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করেননি, জান্নাত দেননি, জাহান্নাম থেকে বাঁচাননি? তখন পর্দা সরে যাবে। আপনি আপনার রবকে দেখবেন, যেমন পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যায়। জান্নাতের কোনো নিয়ামত এই দেখার চেয়ে প্রিয় মনে হবে না। তারপর তিনি বলবেন: আমি তোমাদের উপর আমার সন্তুষ্টি নাজিল করলাম, এরপর আর কখনো অসন্তুষ্ট হব না।

    সহিহ মুসলিম ১৮১সহিহ · সহিহ বুখারী ৫৫৪সহিহ · সহিহ বুখারী ৬৫৪৯সহিহ

    এই দৃশ্যের টিকিট: ফজর ও আসর: কখনো না ছাড়া (সহিহ বুখারী ৫৫৪)

এই গল্প আপনারও হতে পারে। শুধু আমলের জোরে কেউ জান্নাতে যাবে না, আল্লাহর রহমতই আসল; তবে আজ থেকে অল্প হলেও নিয়মিত আমল সেই রহমতের পথ (সহিহ বুখারী ৬৪৬৪)।

১

যা কোনো চোখ দেখেনি

কল্পনারও বাইরে

ভাবুন, দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর জায়গাটা আপনি দেখেছেন। জান্নাত তার মতো নয়, তার চেয়েও সুন্দর নয়; জান্নাত এমন, যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি, কোনো মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি। আল্লাহ নিজে তাঁর নেক বান্দাদের জন্য তা সাজিয়ে রেখেছেন। তার প্রশস্ততা আসমান আর জমিনের সমান, অথচ সেখানে আপনার একটি ধনুক পরিমাণ জায়গাও পুরো দুনিয়া আর তার সবকিছুর চেয়ে দামি। সেখানে মন যা চাইবে, চোখ যাতে জুড়াবে, সবই থাকবে; আর আল্লাহ বলেছেন, তাঁর কাছে আছে তারও বেশি।

দলিলে যা এসেছে

পুরো দলিল পড়ুন ১টি হাদিস, ৩টি আয়াত

قَالَ اللَّهُ أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنَ رَأَتْ، وَلاَ أُذُنَ سَمِعَتْ، وَلاَ خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ

আল্লাহ বলেছেন: আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন জিনিস তৈরি করে রেখেছি, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, আর কোনো মানুষের মনে কল্পনাতেও আসেনি।

সহিহ বুখারী ৩২৪৪সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

অতএব কেউই জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ!

سَابِقُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের রবের ক্ষমা ও সে জান্নাত লাভের প্রয়াসে, যা প্রশস্ততায় আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার মত, যা প্ৰস্তুত করা হয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনে। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছে তিনি এটা দান করেন; আর আল্লাহ মহাঅনুগ্রহশীল।

يُطَافُ عَلَيْهِم بِصِحَافٍ مِّن ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ ۖ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ ۖ وَأَنتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্ৰদক্ষিণ করা হবে; সেখানে মন যা চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয় তাই থাকবে। আর সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে।

২

জান্নাতের দরজা

আটটি দরজা, রাইয়ান ও ডান দিকের দরজা

বিশাল এক দরজার সামনে আপনি দাঁড়িয়ে। এক পাল্লা থেকে অন্য পাল্লা পর্যন্ত দূরত্ব মক্কা থেকে সিরিয়ার বুসরা শহরের মতো। এমন দরজা আটটি। ফেরেশতারা সালাম দিয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। হঠাৎ একটি দরজা থেকে আপনার নাম ধরে ডাক আসে: দুনিয়ায় আপনি যে আমলে বেশি ছিলেন, নামাজ হোক বা দান, সেই দরজা থেকেই। যারা রোজা রাখত, তাদের জন্য খোলা আছে রাইয়ান; তারা ঢুকে গেলেই সেটা বন্ধ হয়ে যাবে। আর আবু বকর (রা.)-এর মতো কিছু মানুষকে সব দরজা থেকেই ডাকা হবে।

দলিলে যা এসেছে

  • জান্নাতে আটটি দরজা; তার একটির নাম রাইয়ান, যা দিয়ে শুধু রোজাদাররা ঢুকবে। তারা ঢুকে গেলে দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।সহিহ বুখারী ৩২৫৭সহিহ · সহিহ বুখারী ১৮৯৬সহিহ
  • নামাজিকে নামাজের দরজা থেকে, দানশীলকে সাদাকার দরজা থেকে, জিহাদকারীকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে। আবু বকর (রা.)-কে সব দরজা থেকে ডাকা হবে বলে নবীজি (ﷺ) আশা করেছেন।সহিহ বুখারী ১৮৯৭সহিহ
  • যাদের কোনো হিসাব হবে না, তারা ঢুকবে ডান দিকের দরজা দিয়ে। এক দরজার দুই পাল্লার মাঝের দূরত্ব মক্কা থেকে বুসরা (সিরিয়া) পর্যন্ত।সহিহ বুখারী ৪৭১২সহিহ
  • দলে দলে মুত্তাকীরা আসবে, দরজা খুলে দেওয়া হবে, রক্ষীরা বলবেন: "তোমাদের প্রতি সালাম"।সূরা আয-যুমার ৩৯:৭৩ · সূরা আর-রাদ ১৩:২৩ · সূরা আর-রাদ ১৩:২৪
পুরো দলিল পড়ুন ৩টি হাদিস, ৩টি আয়াত

জান্নাতে একটি দরজা আছে, তার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন রোজাদাররা তা দিয়ে প্রবেশ করবে, তারা ছাড়া আর কেউ তা দিয়ে ঢুকবে না। ডাকা হবে: রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। তারা ছাড়া আর কেউ তা দিয়ে ঢুকবে না। তারা ঢুকে গেলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে, এরপর আর কেউ তা দিয়ে ঢুকবে না।

সহিহ বুখারী ১৮৯৬সহিহবর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা'দ (রা.)

যে আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া (দুটি করে) কিছু খরচ করে, তাকে জান্নাতের দরজাগুলো থেকে ডাকা হবে: হে আল্লাহর বান্দা, এটা উত্তম! যে নামাজি, তাকে নামাজের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে জিহাদকারী, তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে রোজাদার, তাকে রাইয়ান দরজা থেকে ডাকা হবে। আর যে দানশীল, তাকে সাদাকার দরজা থেকে ডাকা হবে। আবু বকর (রা.) বললেন: আমার বাবা-মা আপনার জন্য কুরবান, হে আল্লাহর রাসূল! যাকে এর যেকোনো একটি দরজা থেকে ডাকা হবে, তার তো আর কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু কাউকে কি সবগুলো দরজা থেকেই ডাকা হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর আমি আশা করি তুমি তাদের একজন।

সহিহ বুখারী ১৮৯৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

(শাফাআতের দীর্ঘ হাদিসের শেষ অংশ। আল্লাহ বলবেন:) হে মুহাম্মাদ, তোমার উম্মতের মধ্যে যাদের কোনো হিসাব নেই, তাদের জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্যে ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করাও; আর অন্য দরজাগুলোতেও তারা অন্য মানুষের সাথে শরিক। (তারপর নবীজি বললেন:) যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, জান্নাতের এক দরজার দুই পাল্লার মাঝের দূরত্ব মক্কা থেকে হিমইয়ার, অথবা মক্কা থেকে বুসরা (সিরিয়া) পর্যন্ত দূরত্বের মতো।

সহিহ বুখারী ৪৭১২সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ

আর যারা তাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে যখন তারা জান্নাতের কাছে আসবে এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের প্রতি সালাম’, তোমরা ভাল ছিলে সুতরাং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়ীভাবে অবস্থিতির জন্য। '

جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ ۖ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ

স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তারাও। আর ফেরেশতাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে,

سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ ۚ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ

এবং বলবে, ‘তোমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি; আর আখেরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম!’

এই নিয়ামতের সুন্নাহ আমল
৩

স্তর ও মর্যাদা

একশ স্তর, সবার উপরে ফিরদাউস

জান্নাতে ঢুকে উপরের দিকে তাকালে দেখবেন, দূরে উঁচু প্রাসাদগুলো জ্বলজ্বল করছে, যেমন রাতের আকাশে দিগন্তের উজ্জ্বল তারা। জান্নাতে একশটি স্তর, এক স্তর থেকে আরেক স্তরের দূরত্ব আসমান আর জমিনের মতো। সবার উপরে ফিরদাউস, যার উপরে দয়াময়ের আরশ, আর যেখান থেকে জান্নাতের সব নদী বের হয়। যে দুনিয়ায় কুরআনের সাথী ছিল, তাকে বলা হবে: পড়ো আর উপরে ওঠো; যে আয়াতে তোমার পড়া শেষ হবে, সেখানেই তোমার ঘর। আর যে ঝগড়া ছেড়েছে, ঠাট্টাতেও মিথ্যা বলেনি, সুন্দর চরিত্রে চলেছে, তার জন্য নবীজি (ﷺ) নিজে ঘরের জামিন হয়েছেন।

দলিলে যা এসেছে

  • জান্নাতে একশ স্তর, দুই স্তরের মাঝে আসমান-জমিনের দূরত্ব। আল্লাহর কাছে চাইলে ফিরদাউস চাও; তা সবচেয়ে উঁচু, তার উপরে দয়াময়ের আরশ, সেখান থেকেই নদীগুলো বের হয়।সহিহ বুখারী ২৭৯০সহিহ · সূরা আল-কাহফ ১৮:১০৭
  • নিচের স্তরের মানুষ উপরের প্রাসাদের মানুষদের দেখবে দিগন্তের জ্বলজ্বলে তারার মতো। আর সেখানে পৌঁছাবে তারা, যারা ঈমান এনেছে ও রাসূলদের সত্য মেনেছে।সহিহ বুখারী ৩২৫৬সহিহ
  • কুরআনের সাথীকে বলা হবে: পড়ো আর উপরে ওঠো; শেষ যে আয়াত পড়বে, সেখানেই তোমার স্থান।সুনানে আবু দাউদ ১৪৬৪সহিহ
  • সঠিক হয়েও ঝগড়া ছাড়লে জান্নাতের পাশে ঘর, ঠাট্টাতেও মিথ্যা না বললে মাঝখানে, আর সুন্দর চরিত্রে সবচেয়ে উঁচুতে ঘর।সুনানে আবু দাউদ ৪৮০০হাসান
পুরো দলিল পড়ুন ৪টি হাদিস

জান্নাতে একশটি স্তর আছে, যা আল্লাহ তাঁর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। দুই স্তরের মাঝে আসমান ও জমিনের মাঝের দূরত্বের সমান দূরত্ব। তাই তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, ফিরদাউস চাইবে। কারণ তা জান্নাতের সবচেয়ে মাঝের ও সবচেয়ে উঁচু অংশ। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: তার উপরে দয়াময়ের আরশ, আর সেখান থেকেই জান্নাতের নদীগুলো প্রবাহিত হয়।

সহিহ বুখারী ২৭৯০সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

জান্নাতবাসীরা তাদের উপরের প্রাসাদের মানুষদের এমনভাবে দেখবে, যেমন তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিগন্তে জ্বলজ্বলে তারা দেখো; তাদের মাঝে মর্যাদার পার্থক্যের কারণে। সাহাবিরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ওগুলো তো নবীদের স্থান, অন্য কেউ সেখানে পৌঁছাতে পারবে না। তিনি বললেন: অবশ্যই পারবে। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, সেই লোকেরা, যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে আর রাসূলদের সত্য বলে মেনেছে।

সহিহ বুখারী ৩২৫৬সহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ খুদরী (রা.)

يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا

কুরআনের সাথীকে (যে কুরআন পড়ত ও মানত) বলা হবে: পড়ো আর উপরে উঠতে থাকো, আর ধীরে ধীরে সুন্দর করে পড়ো যেমন দুনিয়ায় পড়তে। যে আয়াত তুমি সবশেষে পড়বে, সেখানেই তোমার স্থান।

সুনানে আবু দাউদ ১৪৬৪সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)

أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا وَبِبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْكَذِبَ وَإِنْ كَانَ مَازِحًا وَبِبَيْتٍ فِي أَعْلَى الْجَنَّةِ لِمَنْ حَسَّنَ خُلُقَهُ

আমি জামিন হচ্ছি জান্নাতের পাশে একটি ঘরের, তার জন্য যে সঠিক হয়েও ঝগড়া ছেড়ে দেয়; জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের, তার জন্য যে ঠাট্টা করেও মিথ্যা বলে না; আর জান্নাতের সবচেয়ে উঁচুতে একটি ঘরের, তার জন্য যার চরিত্র সুন্দর।

সুনানে আবু দাউদ ৪৮০০হাসানবর্ণনাকারী: আবু উমামা (রা.)
এই নিয়ামতের সুন্নাহ আমল
৪

নদী, গাছ ও বাগান

পানি, দুধ, মধু আর কাউসার

আপনার সামনে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে চার রকম নদী: এমন পানি যা কখনো বদলায় না, এমন দুধ যার স্বাদ কখনো নষ্ট হয় না, সুস্বাদু পানীয়, আর পরিশোধিত মধু। একটু দূরে কাউসার, যার দুই তীরে ভেতরে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ। এমন একটি গাছ আছে, যার ছায়ায় ঘোড়ায় চড়ে একশ বছর চললেও ছায়া শেষ হবে না। আর মজার ব্যাপার: জান্নাতের মাটি খালি, তার চারাগাছ লাগানো হয় দুনিয়া থেকে। আপনি যখনই বলেন "সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার", সেখানে একটি গাছ লাগানো হয়। এই খবর নবীজিকে (ﷺ) মিরাজের রাতে ইবরাহীম (আ.) দিয়েছিলেন, আমাদের সালাম জানিয়ে।

দলিলে যা এসেছে

  • চার রকম নদী: কখনো না বদলানো পানির, স্বাদ না বদলানো দুধের, পানকারীর জন্য সুস্বাদু পানীয়ের, আর পরিশোধিত মধুর।সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:১৫
  • কাউসার নদী, যার দুই তীরে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ; মিরাজের রাতে নবীজি (ﷺ) তা দেখেছেন।সহিহ বুখারী ৪৯৬৪সহিহ
  • এমন গাছ আছে, যার ছায়ায় আরোহী একশ বছর চললেও পার হতে পারবে না।সহিহ বুখারী ৩২৫১সহিহ
  • যে রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখে, তার জন্য দুটি বাগান।সূরা আর-রহমান ৫৫:৪৬
  • জান্নাতের মাটি পবিত্র, পানি মিষ্টি, জমি খালি; তার চারাগাছ হলো "সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার"।জামে আত-তিরমিযী ৩৪৬২হাসান
  • "সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহী" বললে জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়।জামে আত-তিরমিযী ৩৪৬৪সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৪টি হাদিস, ১টি আয়াত

مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِّن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى ۖ وَلَهُمْ فِيهَا مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ ۖ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ

মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত : তাতে আছে নির্মল পানির নহরসমূহ, আছে দুধের নহরসমূহ যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহরসমূহ, আছে পরিশোধিত মধুর নহরসমূহ এবং সেখানে তাদের জন্য থাকবে প্রত্যেক প্রকারের ফলমূল। আর তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা। তারা (মুত্তাকীরা) কি তাদের ন্যায় যারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে এবং যাদেরকে পান করানো হবে ফুটন্ত পানি, ফলে তা তাদের নাড়ীভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিবে?

أَتَيْتُ عَلَى نَهَرٍ حَافَتَاهُ قِبَابُ اللُّؤْلُؤِ مُجَوَّفًا فَقُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَذَا الْكَوْثَرُ

(মিরাজের রাতে) আমি একটি নদীর কাছে এলাম, যার দুই তীরে ভেতরে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ। আমি বললাম: হে জিবরীল, এটা কী? তিনি বললেন: এটাই কাউসার।

সহিহ বুখারী ৪৯৬৪সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَشَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ لاَ يَقْطَعُهَا

জান্নাতে এমন একটি গাছ আছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ বছর চললেও তা পার হতে পারবে না।

সহিহ বুখারী ৩২৫১সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

মিরাজের রাতে আমার সাথে ইবরাহীম (আ.)-এর দেখা হলো। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ, আপনার উম্মতকে আমার সালাম দেবেন, আর তাদের জানাবেন যে জান্নাতের মাটি পবিত্র, পানি মিষ্টি, আর তা এক বিশাল খালি সমতল ভূমি; তার চারাগাছ হলো: "সুবহানাল্লাহ, ওয়াল হামদু লিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার"।

জামে আত-তিরমিযী ৩৪৬২হাসানবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.)

مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ ‏.‏ غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الْجَنَّةِ

যে বলে: "সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহী" (মহান আল্লাহ পবিত্র, আর সব প্রশংসা তাঁর), তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়।

জামে আত-তিরমিযী ৩৪৬৪সহিহবর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)
এই নিয়ামতের সুন্নাহ আমল
৫

প্রাসাদ ও ঘর

সোনা-রুপার ইট, মুক্তার তাঁবু

আপনার ঘরের দিকে এগোচ্ছেন। দেয়ালের একটি ইট সোনার, পরেরটি রুপার; গাঁথুনিতে কস্তুরীর সুগন্ধ, পায়ের নিচে মুক্তা আর ইয়াকূতের কংকর, মাটি জাফরানের। পাশে ভেতরে ফাঁপা এক মুক্তার তাঁবু, ষাট মাইল চওড়া; তার কোণে কোণে আপনার পরিবার। নবীজি (ﷺ) স্বপ্নে জান্নাতে উমার (রা.)-এর প্রাসাদ দেখেছিলেন, আর খাদিজা (রা.)-কে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল এমন এক মুক্তার ঘরের, যেখানে কোনো হইচই নেই, কোনো ক্লান্তি নেই। আপনার ঘরের ইটও এখন থেকেই গাঁথা হতে পারে: প্রতিদিন বারো রাকাত সুন্নতে একটি ঘর, আল্লাহর জন্য মসজিদ বানালে আরেকটি।

দলিলে যা এসেছে

  • জান্নাতের ঘরের একটি ইট সোনার, একটি রুপার; গাঁথুনি কস্তুরীর, কংকর মুক্তা ও ইয়াকূতের, মাটি জাফরানের।জামে আত-তিরমিযী ২৫২৬সহিহ
  • ভেতরে ফাঁপা মুক্তার তাঁবু, প্রস্থ ষাট মাইল; প্রতিটি কোণে মুমিনের পরিবার।সহিহ বুখারী ৪৮৭৯সহিহ
  • নবীজি (ﷺ) স্বপ্নে জান্নাতে উমার (রা.)-এর প্রাসাদ দেখেছেন; আর খাদিজা (রা.)-কে মুক্তার ঘরের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে হইচই নেই, ক্লান্তি নেই।সহিহ বুখারী ৩২৪২সহিহ · সহিহ বুখারী ৩৮২০সহিহ
  • প্রতিদিন ফরজের বাইরে বারো রাকাত সুন্নত পড়লে জান্নাতে একটি ঘর।সহিহ মুসলিম ৭২৮সহিহ
  • আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ বানালে জান্নাতে তেমন একটি ঘর।সহিহ বুখারী ৪৫০সহিহ
  • ফিরআউনের স্ত্রী দোয়া করেছিলেন: "হে রব, আপনার কাছে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর বানিয়ে দিন"।সূরা আত-তাহরীম ৬৬:১১

মান নিয়ে একটি কথা: সোনা-রুপার ইটের হাদিসটিকে (তিরমিযী ২৫২৬) শাইখ আলবানী ও আহমাদ শাকির সহিহ বলেছেন, তবে ইমাম তিরমিযী নিজে বলেছেন এর সনদ খুব মজবুত নয়। একই কথা অন্য সূত্রেও এসেছে বলে আলেমরা একে গ্রহণ করেছেন; হাদিসের পাতায় সব মুহাদ্দিসের মান দেওয়া আছে।

পুরো দলিল পড়ুন ৬টি হাদিস, ১টি আয়াত

আমরা বললাম: জান্নাত কী দিয়ে তৈরি? তিনি বললেন: একটি ইট রুপার, একটি ইট সোনার; তার গাঁথুনি (মশলা) সুগন্ধি কস্তুরীর, তার কংকর মুক্তা ও ইয়াকূতের, আর তার মাটি জাফরানের। যে তাতে প্রবেশ করবে, সে সুখে থাকবে, কোনো কষ্ট পাবে না; চিরকাল থাকবে, মরবে না; তাদের কাপড় পুরোনো হবে না, যৌবনও ফুরাবে না।

জামে আত-তিরমিযী ২৫২৬সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

জান্নাতে ভেতরে ফাঁপা একটি মুক্তার তাঁবু আছে, তার প্রস্থ ষাট মাইল। তার প্রতিটি কোণে (মুমিনের) পরিবার থাকবে, এক কোণের লোকেরা অন্য কোণের লোকদের দেখবে না; মুমিন তাদের কাছে ঘুরে ঘুরে যাবে। আর দুটি বাগান রুপার, তার পাত্র ও ভেতরের সবকিছুও রুপার; আর দুটি বাগান (সোনার), তার পাত্র ও ভেতরের সবকিছুও (সোনার)। জান্নাতে আদনে মানুষ আর তাদের রবের দিকে তাকানোর মাঝে শুধু তাঁর চেহারার উপর মহিমার চাদর ছাড়া আর কিছু থাকবে না।

সহিহ বুখারী ৪৮৭৯সহিহবর্ণনাকারী: আবু মূসা আশআরী (রা.)

আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, (স্বপ্নে) দেখলাম আমি জান্নাতে। দেখি একটি প্রাসাদের পাশে এক নারী অজু করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এই প্রাসাদ কার? তাঁরা বললেন: উমার ইবনুল খাত্তাবের। তখন তার আত্মমর্যাদাবোধের কথা মনে পড়ল, তাই আমি ফিরে চলে এলাম। (এ কথা শুনে) উমার (রা.) কেঁদে ফেললেন আর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ব্যাপারেও কি আমি আত্মমর্যাদা দেখাব?

সহিহ বুখারী ৩২৪২সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

জিবরীল (আ.) নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এই যে খাদিজা আসছেন, তাঁর সাথে একটি পাত্রে তরকারি বা খাবার বা পানীয় আছে। তিনি আপনার কাছে এলে তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে আর আমার পক্ষ থেকে সালাম দেবেন, আর তাঁকে জান্নাতে ফাঁপা মুক্তার একটি ঘরের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোনো হইচই নেই, কোনো ক্লান্তিও নেই।

সহিহ বুখারী ৩৮২০সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا غَيْرَ فَرِيضَةٍ إِلاَّ بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ أَوْ إِلاَّ بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ

যে মুসলিম বান্দা প্রতিদিন আল্লাহর জন্য ফরজ ছাড়া বারো রাকাত নফল (সুন্নত) নামাজ পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানান, অথবা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানানো হয়।

সহিহ মুসলিম ৭২৮সহিহবর্ণনাকারী: উম্মু হাবীবা (রা.)

مَنْ بَنَى مَسْجِدًا ـ قَالَ بُكَيْرٌ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ ـ يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ، بَنَى اللَّهُ لَهُ مِثْلَهُ فِي الْجَنَّةِ

যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ বানায়, আল্লাহ জান্নাতে তার জন্য সেরকম একটি ঘর বানান।

সহিহ বুখারী ৪৫০সহিহবর্ণনাকারী: উসমান ইবনু আফফান (রা.)

وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِّلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

আর যারা ঈমান আনে, আল্লাহ্‌ তাদের জন্য পেশ করেন ফির’আউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত, যখন সে এ বলে প্রার্থনা করেছিল, ‘হে আমার রব! আপনার সন্নিধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন এবং আমাকে উদ্ধার করুন ফির’আউন ও তার দুস্কৃতি হতে এবং আমাকে উদ্ধার করুন যালিম সম্প্রদায় হতে।’

এই নিয়ামতের সুন্নাহ আমল
৬

জান্নাতিদের রূপ ও অবস্থা

পূর্ণিমার চেহারা, চিরযৌবন

জান্নাতে ঢুকতেই আপনার রূপ বদলে যাবে। প্রথম দলের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো, বয়স ত্রিশ-তেত্রিশের যুবকের মতো। শরীরে কোনো ময়লা নেই, ঘামে কস্তুরীর সুগন্ধ। একজন ঘোষক ঘোষণা দেবেন: আর কখনো অসুস্থ হবে না, কখনো মরবে না, কখনো বুড়ো হবে না, কখনো কষ্টে পড়বে না। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা অন্তরে: কারও প্রতি কোনো হিংসা নেই, সবার অন্তর যেন একটি অন্তর; ভাইয়ের মতো মুখোমুখি আসনে বসা। আর প্রতি জুমায় বাজার থেকে ফিরলে আপনার সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে।

দলিলে যা এসেছে

পুরো দলিল পড়ুন ৫টি হাদিস, ২টি আয়াত

জান্নাতে প্রথম যে দল প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মতো। সেখানে তারা থুথু ফেলবে না, নাক ঝাড়বে না, পায়খানাও করবে না। সেখানে তাদের পাত্র সোনার, চিরুনি সোনা ও রুপার, ধূপদানিতে সুগন্ধি আগর কাঠ, আর তাদের ঘাম কস্তুরীর মতো সুগন্ধি। তাদের প্রত্যেকের দুজন স্ত্রী থাকবে, সৌন্দর্যের কারণে যাদের পায়ের নলার মজ্জা মাংসের ভেতর দিয়ে দেখা যাবে। তাদের মাঝে কোনো মতবিরোধ নেই, কোনো বিদ্বেষ নেই; তাদের সবার অন্তর যেন একটি অন্তর। তারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে।

সহিহ বুখারী ৩২৪৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلاَثِينَ أَوْ ثَلاَثٍ وَثَلاَثِينَ سَنَةً

জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে শরীরে লোম ছাড়া, দাড়ি-গোঁফ ওঠার আগের মতো (কোমল) চেহারায়, চোখে সুরমা দেওয়া, ত্রিশ বা তেত্রিশ বছর বয়সী হয়ে।

জামে আত-তিরমিযী ২৫৪৫হাসানবর্ণনাকারী: মুআয ইবনু জাবাল (রা.)

يُنَادِي مُنَادٍ إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلاَ تَسْقَمُوا أَبَدًا وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَوْا فَلاَ تَمُوتُوا أَبَدًا وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَشِبُّوا فَلاَ تَهْرَمُوا أَبَدًا وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلاَ تَبْتَئِسُوا أَبَدًا

একজন ঘোষক ঘোষণা দেবেন: তোমরা সুস্থ থাকবে, আর কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা জীবিত থাকবে, আর কখনো মরবে না। তোমরা যুবক থাকবে, আর কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সুখে থাকবে, আর কখনো কষ্টে পড়বে না।

সহিহ মুসলিম ২৮৩৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রা.)

مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَنْعَمُ لاَ يَبْأَسُ لاَ تَبْلَى ثِيَابُهُ وَلاَ يَفْنَى شَبَابُهُ

যে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে সুখে থাকবে, কখনো কষ্ট পাবে না। তার কাপড় পুরোনো হবে না, তার যৌবনও শেষ হবে না।

সহিহ মুসলিম ২৮৩৬সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَابِلِينَ

আর আমরা তাদের অন্তর হতে বিদ্বেষ দূর করব; তারা ভাইয়ের মত পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে,

لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُم مِّنْهَا بِمُخْرَجِينَ

সেখানে তাদেরকে অবসাদ স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিস্কৃতও হবে না।

জান্নাতে একটি বাজার আছে, জান্নাতবাসীরা প্রতি জুমায় সেখানে আসবে। তখন উত্তরের বাতাস বইবে, তাদের চেহারা ও কাপড়ে (সুগন্ধি) ছড়িয়ে দেবে, ফলে তাদের সৌন্দর্য ও রূপ আরও বেড়ে যাবে। তারা পরিবারের কাছে ফিরবে, তাদের সৌন্দর্য তখন আরও বেশি। পরিবার বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের কাছ থেকে যাওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্য বেড়ে গেছে! তারা বলবে: আল্লাহর কসম, তোমাদেরও আমাদের পরে সৌন্দর্য বেড়ে গেছে!

সহিহ মুসলিম ২৮৩৩সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)
এই নিয়ামতের সুন্নাহ আমল
৭

খাবার, পানীয় ও পোশাক

যা দুনিয়ায় নিষেধ, তা সেখানে উপহার

আপনার সামনে আসছে মনের মতো ফল আর পছন্দের পাখির গোশত। সোনার থালা, রুপার পাত্র; গায়ে সবুজ রেশমের পোশাক, হাতে সোনা-রুপা আর মুক্তার কাঁকন। আর আপনার রব নিজে আপনাকে পবিত্র পানীয় পান করাবেন। খেয়ে কোনো ভার নেই, কোনো ময়লা নেই; একটি ঢেকুর আর কস্তুরীর ঘামেই সব শেষ। ভাবুন তো, দুনিয়ায় যে সোনা-রুপার পাত্র আর (পুরুষের জন্য) রেশম থেকে আপনি নিজেকে বিরত রেখেছিলেন, নবীজি (ﷺ) বলেছিলেন সেগুলো আখিরাতে আমাদের জন্যই রাখা। আজকের একটু ধৈর্য, সেদিনের উপহার।

দলিলে যা এসেছে

পুরো দলিল পড়ুন ৪টি হাদিস, ৩টি আয়াত

عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ ۖ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِن فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا

তাদের আবরণ হবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, আর তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্ৰ পানীয়।

وَفَاكِهَةٍ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ

আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফলমূল নিয়ে,

وَلَحْمِ طَيْرٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ

আর তাদের ঈন্সিত পাখীর গোশত নিয়ে।

জান্নাতবাসীরা সেখানে খাবে, পান করবে; কিন্তু থুথু ফেলবে না, প্রস্রাব করবে না, পায়খানা করবে না, নাকও ঝাড়বে না। সাহাবিরা বললেন: তাহলে খাবারের কী হবে? তিনি বললেন: একটি ঢেকুর আর কস্তুরীর মতো সুগন্ধি ঘাম। আর তাদের অন্তরে তাসবিহ ও হামদ এমনভাবে ঢেলে দেওয়া হবে, যেমন (সহজে) শ্বাস নেওয়া হয়।

সহিহ মুসলিম ২৮৩৫সহিহবর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)

لاَ تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَلاَ الدِّيبَاجَ وَلاَ تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَلاَ تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا، فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَنَا فِي الآخِرَةِ

তোমরা রেশম ও মোটা রেশমি কাপড় পরো না, সোনা ও রুপার পাত্রে পান কোরো না, আর এগুলোর থালায় খেয়ো না। কারণ এগুলো দুনিয়ায় তাদের (কাফিরদের) জন্য, আর আখিরাতে আমাদের জন্য।

সহিহ বুখারী ৫৪২৬সহিহবর্ণনাকারী: হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)

مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا فَلَنْ يَلْبَسَهُ فِي الآخِرَةِ

(পুরুষদের মধ্যে) যে দুনিয়ায় রেশম পরবে, সে আখিরাতে তা পরবে না।

সহিহ বুখারী ৫৮৩২সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا، ثُمَّ لَمْ يَتُبْ مِنْهَا، حُرِمَهَا فِي الآخِرَةِ

যে দুনিয়ায় মদ পান করে, তারপর তা থেকে তাওবা করে না, সে আখিরাতে তা (জান্নাতের পানীয়) থেকে বঞ্চিত হবে।

সহিহ বুখারী ৫৫৭৫সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)
এই নিয়ামতের সুন্নাহ আমল
  • আজকের ধৈর্য: হারাম খাবার, মদ, সোনা-রুপার পাত্র আর পুরুষের রেশম থেকে দূরে থাকা (সহিহ বুখারী ৫৪২৬)
৮

পরিবার ও সঙ্গী

বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান একসাথে

জান্নাতে আপনি একা থাকবেন না। নেককার বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, আর ঈমানের পথে আপনার অনুসরণ করা সন্তানরা আপনার সাথে মিলিত হবে; আল্লাহ সন্তানদের আপনার সাথে মিলিয়ে দেবেন, আর আপনার আমল একটুও কমাবেন না। বলা হবে: তোমরা আর তোমাদের স্ত্রীরা আনন্দে জান্নাতে প্রবেশ করো। নারী হোক বা পুরুষ, যে-ই মুমিন হয়ে সৎকাজ করেছে, তার পুরস্কারে অণু পরিমাণও কমতি হবে না। সুশীতল ছায়ায়, সাজানো আসনে প্রিয় মানুষদের সাথে হেলান দিয়ে বসে থাকবেন।

দলিলে যা এসেছে

পুরো দলিল পড়ুন ১টি হাদিস, ৬টি আয়াত

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُم مِّنْ عَمَلِهِم مِّن شَيْءٍ ۚ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ

আর যারা ঈমান আনে, আর তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, আমরা তাদের সাথে মিলিত করব তাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমরা একটুও কমাবো না; প্র্যত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।

ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ

তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীগণ সানন্দে জান্নাতে প্ৰবেশ কর।

وَمَن يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَـٰئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيرًا

আর পুরুষ বা নারীর মধ্যে কেউ মুমিন অবস্থায় সৎ কাজ করলে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণও যুলুম করা হবে না।

إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا

নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সওম পালনকারী পুরুষ ও সওম পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী নারী, আল্লাহ্কে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহ্‌কে অধিক স্মরণকারী নারী ------ তাদের জন্য আল্লাহ্ রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।

وَحُورٌ عِينٌ

আর তাদের জন্য থাকবে ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হূর,

كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ

যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা,

আল্লাহর কাছে শহীদের জন্য ছয়টি পুরস্কার আছে: (রক্তের) প্রথম ফোঁটাতেই তাকে ক্ষমা করা হয়, জান্নাতে তার জায়গা তাকে দেখানো হয়, কবরের আযাব থেকে তাকে রক্ষা করা হয়, সবচেয়ে বড় আতঙ্ক থেকে সে নিরাপদ থাকে, তার মাথায় সম্মানের মুকুট পরানো হয় যার একটি ইয়াকূত দুনিয়া ও তার সবকিছুর চেয়ে উত্তম, বাহাত্তরজন হূরের সাথে তার বিয়ে দেওয়া হয়, আর তার সত্তরজন আত্মীয়ের জন্য তার সুপারিশ কবুল করা হয়।

জামে আত-তিরমিযী ১৬৬৩সহিহবর্ণনাকারী: মিকদাম ইবনু মা'দীকারিব (রা.)
এই নিয়ামতের সুন্নাহ আমল
৯

সবচেয়ে বড় নিয়ামত: আল্লাহকে দেখা

আর তাঁর চিরস্থায়ী সন্তুষ্টি

সব পাওয়া হয়ে গেছে, আর কিছু চাওয়ার নেই। তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন: আরও কিছু চাও? জান্নাতবাসীরা বলবে: আপনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করেননি, জান্নাত দেননি, জাহান্নাম থেকে বাঁচাননি? তখন পর্দা সরে যাবে। আপনি আপনার রবের দিকে তাকিয়ে থাকবেন, যেমন পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখা যায়, কোনো ভিড় নেই, কোনো কষ্ট নেই। জান্নাতের কোনো নিয়ামত এর চেয়ে প্রিয় মনে হবে না। তারপর তিনি বলবেন: আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হলাম, আর কখনো অসন্তুষ্ট হব না। এই মুহূর্তের কথা বলেই নবীজি (ﷺ) বলেছিলেন: তাই ফজর আর আসর যেন কিছুতেই না ছোটে।

দলিলে যা এসেছে

পুরো দলিল পড়ুন ৩টি হাদিস, ৪টি আয়াত

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ

সেদিন কোনো কোনো মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে,

إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ

তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।

لِّلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَىٰ وَزِيَادَةٌ ۖ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ ۚ أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

যারা ইহসানের সাথে আমল করে (উত্তমরূপে কাজ করে) তাদের জন্য আছে জান্নাত এবং আরো বেশী। কালিমা ও হীনতা তাদের মুখমন্ডলকে আছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।

জান্নাতবাসীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তাআলা বলবেন: তোমরা কি আরও কিছু চাও, আমি তোমাদের বাড়িয়ে দিই? তারা বলবে: আপনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করেননি? আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি, জাহান্নাম থেকে বাঁচাননি? তখন পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে। তাদের যা কিছু দেওয়া হয়েছে, তার কোনোটাই তাদের কাছে তাদের মহান রবের দিকে তাকানোর চেয়ে প্রিয় হবে না।

সহিহ মুসলিম ১৮১সহিহবর্ণনাকারী: সুহাইব রূমী (রা.)

আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। তিনি পূর্ণিমার রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন: তোমরা তোমাদের রবকে দেখবে, যেমন এই চাঁদ দেখছ; তাঁকে দেখতে তোমাদের কোনো ভিড় বা কষ্ট হবে না। তাই পারলে সূর্য ওঠার আগের নামাজ (ফজর) আর সূর্য ডোবার আগের নামাজ (আসর) যেন কিছুতেই ছুটে না যায়।

সহিহ বুখারী ৫৫৪সহিহবর্ণনাকারী: জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)

আল্লাহ জান্নাতবাসীদের বলবেন: হে জান্নাতবাসী! তারা বলবে: আমরা হাজির, হে আমাদের রব, আপনার আনুগত্যে প্রস্তুত। তিনি বলবেন: তোমরা কি সন্তুষ্ট? তারা বলবে: কেন সন্তুষ্ট হব না, আপনি তো আমাদের এমন জিনিস দিয়েছেন যা আপনার সৃষ্টির আর কাউকে দেননি! তিনি বলবেন: আমি কি তোমাদের এর চেয়েও উত্তম কিছু দেব না? তারা বলবে: হে রব, এর চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে? তিনি বলবেন: আমি তোমাদের উপর আমার সন্তুষ্টি নাজিল করলাম, এরপর আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হব না।

সহিহ বুখারী ৬৫৪৯সহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ খুদরী (রা.)

وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

আল্লাহ্ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের---যার নিচে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আরও (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম বাসস্থানের। আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং এটাই মহাসাফল্য।

এই নিয়ামতের সুন্নাহ আমল
১০

চিরকাল, কোনো শেষ নেই

মৃত্যুকেই জবাই করা হবে

দুনিয়ার সব আনন্দের শেষে একটা ভয় থাকে: একদিন তো শেষ হয়ে যাবে। জান্নাতে সেই ভয় চিরতরে মুছে দেওয়া হবে। মৃত্যুকে একটি ভেড়ার আকৃতিতে এনে সবার সামনে জবাই করা হবে, আর ঘোষণা আসবে: হে জান্নাতবাসী, এখন চিরকাল; আর কোনো মৃত্যু নেই। কাপড় কখনো পুরোনো হবে না, যৌবন কখনো ফুরাবে না, আর সেখান থেকে অন্য কোথাও যাওয়ার ইচ্ছাও কারও হবে না।

দলিলে যা এসেছে

পুরো দলিল পড়ুন ১টি হাদিস, ১টি আয়াত

(কিয়ামতের পর) মৃত্যুকে সাদা-কালো মেশানো একটি ভেড়ার আকৃতিতে আনা হবে। একজন ঘোষক ডাকবেন: হে জান্নাতবাসী! তারা গলা বাড়িয়ে দেখবে। তিনি বলবেন: এটাকে চেনো? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটা মৃত্যু; সবাই একে দেখেছে। তারপর ডাকবেন: হে জাহান্নামবাসী! তারাও গলা বাড়িয়ে দেখবে। তিনি বলবেন: এটাকে চেনো? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটা মৃত্যু; সবাই একে দেখেছে। তারপর একে জবাই করা হবে, আর বলা হবে: হে জান্নাতবাসী, চিরকাল থাকবে, আর মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামবাসী, চিরকাল থাকবে, আর মৃত্যু নেই।

সহিহ বুখারী ৪৭৩০সহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)

خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا

সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।

১১

কারা আগে, কারা বিনা হিসাবে

নবীজি (ﷺ) প্রথম, তারপর...

জান্নাতের দরজায় সবার আগে পৌঁছাবেন নবীজি (ﷺ)। তিনি দরজা খুলতে বললে দারোয়ান জিজ্ঞেস করবে: আপনি কে? তিনি বলবেন: মুহাম্মাদ। দারোয়ান বলবে: আপনার জন্যই আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, আপনার আগে কারও জন্য খুলব না। তাঁর উম্মতের সত্তর হাজার মানুষ ঢুকবে কোনো হিসাব ছাড়াই; তারা ছিল সেই মানুষ, যারা কুলক্ষণ মানত না, ঝাড়ফুঁক চেয়ে বেড়াত না, আর সব কিছুতে রবের উপর ভরসা করত। আর দুনিয়ায় যে মুমিনরা গরিব ছিল, তারা ধনীদের পাঁচশ বছর আগেই জান্নাতে পৌঁছে যাবে।

দলিলে যা এসেছে

  • নবীজি (ﷺ) জান্নাতের দরজায় এসে খুলতে বলবেন; দারোয়ান বলবে: আপনার আগে কারও জন্য না খোলার আদেশ আমাকে দেওয়া হয়েছে।সহিহ মুসলিম ১৯৭সহিহ
  • গরিব মুমিনরা ধনীদের পাঁচশ বছর আগে জান্নাতে যাবে।জামে আত-তিরমিযী ২৩৫৩সহিহ
  • সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে, বিনা শাস্তিতে: যারা (রোগে) আগুনের দাগ নিত না, ঝাড়ফুঁক চেয়ে বেড়াত না, কুলক্ষণ মানত না, আর রবের উপরই ভরসা করত।সহিহ বুখারী ৬৫৪১সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৩টি হাদিস

آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الْخَازِنُ مَنْ أَنْتَ فَأَقُولُ مُحَمَّدٌ ‏.‏ فَيَقُولُ بِكَ أُمِرْتُ لاَ أَفْتَحُ لأَحَدٍ قَبْلَكَ

কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় এসে তা খুলতে বলব। দারোয়ান বলবে: আপনি কে? আমি বলব: মুহাম্মাদ। সে বলবে: আপনার জন্যই আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, আপনার আগে কারও জন্য খুলব না।

সহিহ মুসলিম ১৯৭সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

يَدْخُلُ الْفُقَرَاءُ الْجَنَّةَ قَبْلَ الأَغْنِيَاءِ بِخَمْسِمِائَةِ عَامٍ نِصْفِ يَوْمٍ

গরিবরা ধনীদের পাঁচশ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যা (আখিরাতের) অর্ধেক দিন।

জামে আত-তিরমিযী ২৩৫৩সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

هَؤُلاَءِ أُمَّتُكَ، وَهَؤُلاَءِ سَبْعُونَ أَلْفًا قُدَّامَهُمْ، لاَ حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلاَ عَذَابَ‏.‏ قُلْتُ وَلِمَ قَالَ كَانُوا لاَ يَكْتَوُونَ، وَلاَ يَسْتَرْقُونَ، وَلاَ يَتَطَيَّرُونَ، وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ

(জিবরীল বললেন:) এরা আপনার উম্মত, আর তাদের সামনে এই সত্তর হাজার, যাদের কোনো হিসাব হবে না, শাস্তিও হবে না। আমি বললাম: কেন? তিনি বললেন: তারা (রোগে) আগুনের দাগ নিত না, কারও কাছে ঝাড়ফুঁক চাইত না, কুলক্ষণ মানত না, আর তাদের রবের উপরই ভরসা করত।

সহিহ বুখারী ৬৫৪১সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
১২

সবচেয়ে নিচের জান্নাতিও

দুনিয়ার দশগুণ

একজন মানুষ, জাহান্নাম থেকে সবার শেষে হামাগুড়ি দিয়ে বের হলো। আল্লাহ বললেন: যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে গিয়ে ভাবল, জায়গা তো সব ভরে গেছে! ফিরে এসে বলল: হে রব, তা তো ভরা। এভাবে কয়েকবার। শেষে আল্লাহ বললেন: তোমার জন্য পুরো দুনিয়ার মতো, আর তার দশগুণ। মানুষটি অবাক হয়ে বলল: আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন, অথচ আপনি বাদশাহ? এ কথা বলতে গিয়ে নবীজি (ﷺ) এমন হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা গেল। এই হলো সবচেয়ে কম পাওয়া জান্নাতির কথা। আর সবচেয়ে উঁচুদের সম্মান আল্লাহ নিজ হাতে রোপণ করে সিলমোহর দিয়ে রেখেছেন, যা কোনো চোখ দেখেনি।

দলিলে যা এসেছে

  • জাহান্নাম থেকে সবশেষে বের হওয়া মানুষটিকে বলা হবে: তোমার জন্য দুনিয়ার মতো, আর তার দশগুণ। সে অবাক হয়ে বলবে: আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন? নবীজি (ﷺ) তখন এমন হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা গেল।সহিহ বুখারী ৬৫৭১সহিহ
  • মূসা (আ.)-এর প্রশ্নের উত্তরে: সবচেয়ে নিচের জান্নাতি পাবে দুনিয়ার এক বাদশাহর রাজ্যের দশগুণ, সাথে মন যা চায়। আর সবচেয়ে উঁচুদের সম্মান আল্লাহ নিজ হাতে রোপণ করে সিলমোহর দিয়েছেন।সহিহ মুসলিম ১৮৯সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ২টি হাদিস

আমি জানি জাহান্নাম থেকে সবশেষে কে বের হবে আর জান্নাতে সবশেষে কে ঢুকবে। এক ব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হবে। আল্লাহ বলবেন: যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে গিয়ে মনে করবে জান্নাত ভরে গেছে। ফিরে এসে বলবে: হে রব, তা তো ভরা। আল্লাহ বলবেন: যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। এভাবে আবার হবে। শেষে আল্লাহ বলবেন: যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমার জন্য রয়েছে পুরো দুনিয়ার সমান এবং তার দশ গুণ। সে বলবে: আপনি তো রাজাধিরাজ, আমার সাথে কি ঠাট্টা করছেন? (বর্ণনাকারী বলেন:) আমি দেখলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা গেল। বলা হতো, এটাই জান্নাতিদের মধ্যে সবচেয়ে নিচু স্তর।

সহিহ বুখারী ৬৫৭১সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.)

মূসা (আ.) তাঁর রবকে জিজ্ঞেস করলেন: জান্নাতবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে নিচের মর্যাদার কে? তিনি বললেন: সে এমন এক ব্যক্তি, যে সব জান্নাতবাসী জান্নাতে ঢুকে যাওয়ার পর আসবে। তাকে বলা হবে: জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে: হে রব, কীভাবে? মানুষ তো নিজ নিজ জায়গা নিয়ে নিয়েছে, যার যা পাওয়ার তা নিয়ে নিয়েছে! তাকে বলা হবে: দুনিয়ার কোনো এক বাদশাহর রাজ্যের মতো তোমাকে দেওয়া হলে কি তুমি খুশি হবে? সে বলবে: হে রব, খুশি। তিনি বলবেন: তোমার জন্য তা, আর তার মতো আরও, আরও, আরও, আরও। পঞ্চমবারে সে বলবে: হে রব, আমি খুশি। তিনি বলবেন: এটা তোমার, সাথে এর দশগুণ; আর তোমার মন যা চায় আর চোখ যাতে তৃপ্ত হয়, সবই তোমার। সে বলবে: হে রব, আমি খুশি। মূসা (আ.) বললেন: তাহলে সবচেয়ে উঁচু মর্যাদার কারা? তিনি বললেন: তারা সেই লোক, যাদের আমি নিজে বেছে নিয়েছি; তাদের সম্মান আমি নিজ হাতে রোপণ করেছি আর তাতে সিলমোহর দিয়েছি। তা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, কোনো মানুষের মনে কল্পনাও আসেনি।

সহিহ মুসলিম ১৮৯সহিহবর্ণনাকারী: মুগীরা ইবনু শু'বা (রা.)
১৩

জান্নাত কাছে, কিন্তু ঘেরা

সুন্নাহর আনুগত্যই পথ

এক লোক নবীজিকে (ﷺ) জিজ্ঞেস করল: কিয়ামত কবে? তিনি পাল্টা জিজ্ঞেস করলেন: তার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? লোকটি বলল: তেমন কিছু না, শুধু আল্লাহ আর তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তিনি বললেন: তুমি যাকে ভালোবাসো, তার সাথেই থাকবে। আনাস (রা.) বলেন, এই কথায় আমরা যত খুশি হয়েছি, আর কিছুতে তত খুশি হইনি। জান্নাত আপনার জুতার ফিতার চেয়েও কাছে; শুধু তার চারপাশ ঘেরা নফসের অপছন্দের কাজ দিয়ে। নবীজি (ﷺ) পথটা এক বাক্যে বলে দিয়েছেন: যে আমার আনুগত্য করে, সে জান্নাতে যাবে।

দলিলে যা এসেছে

  • আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে যাবে, শুধু অস্বীকারকারী ছাড়া। যে আমার আনুগত্য করে, সে জান্নাতে যাবে; যে অবাধ্য হয়, সে-ই অস্বীকার করল।সহিহ বুখারী ৭২৮০সহিহ
  • জান্নাত ঘেরা অপছন্দের জিনিস দিয়ে, জাহান্নাম ঘেরা কামনা দিয়ে।সহিহ মুসলিম ২৮২২সহিহ
  • জান্নাত তোমাদের জুতার ফিতার চেয়েও কাছে, জাহান্নামও তেমনি।সহিহ বুখারী ৬৪৮৮সহিহ
  • শুধু আমল কাউকে জান্নাতে নেবে না, আল্লাহর রহমতই আসল; তাই সঠিক পথে থাকো আর অল্প হলেও নিয়মিত আমল করো।সহিহ বুখারী ৬৪৬৪সহিহ
  • যাকে ভালোবাসো, তার সাথেই থাকবে: নবীজি (ﷺ) ও সাহাবিদের ভালোবাসা জান্নাতে তাঁদের সঙ্গ এনে দেয়।সহিহ বুখারী ৩৬৮৮সহিহ
  • এতিমের দায়িত্ব নিলে জান্নাতে নবীজির (ﷺ) পাশে, দুই আঙুলের মতো কাছাকাছি।সহিহ বুখারী ৫৩০৪সহিহ
  • যে রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয়ে নিজেকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, জান্নাতই তার ঠিকানা।সূরা আন-নাযিআত ৭৯:৪০ · সূরা আন-নাযিআত ৭৯:৪১
পুরো দলিল পড়ুন ৫টি হাদিস, ২টি আয়াত

كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، إِلاَّ مَنْ أَبَى ‏"‏‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَأْبَى قَالَ ‏"‏ مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى

আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, শুধু সে ছাড়া যে অস্বীকার করে। সাহাবিরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কে অস্বীকার করবে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে আমার অবাধ্য হয়, সে-ই অস্বীকার করল।

সহিহ বুখারী ৭২৮০সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ

জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে (নফসের) অপছন্দের জিনিস দিয়ে, আর জাহান্নামকে ঘিরে রাখা হয়েছে কামনা-বাসনা দিয়ে।

সহিহ মুসলিম ২৮২২সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

الْجَنَّةُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ، وَالنَّارُ مِثْلُ ذَلِكَ

জান্নাত তোমাদের প্রত্যেকের কাছে তার জুতার ফিতার চেয়েও কাছে, আর জাহান্নামও তেমনই।

সহিহ বুখারী ৬৪৮৮সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.)

এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল: কিয়ামত কবে? তিনি বললেন: তুমি তার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? সে বলল: কিছুই না, শুধু এটুকু যে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে (ﷺ) ভালোবাসি। তিনি বললেন: তুমি যাকে ভালোবাসো, তার সাথেই থাকবে। আনাস (রা.) বলেন: "তুমি যাকে ভালোবাসো, তার সাথেই থাকবে", নবীজির (ﷺ) এই কথায় আমরা যত খুশি হয়েছি, আর কিছুতে তত খুশি হইনি। আনাস (রা.) বলেন: আমি নবী (ﷺ), আবু বকর ও উমারকে ভালোবাসি, আর আশা করি তাঁদের প্রতি আমার ভালোবাসার কারণে তাঁদের সাথেই থাকব, যদিও আমি তাঁদের মতো আমল করতে পারিনি।

সহিহ বুখারী ৩৬৮৮সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ فِي الْجَنَّةِ هَكَذَا ‏"‏‏.‏ وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى، وَفَرَّجَ بَيْنَهُمَا شَيْئًا‏

আমি আর এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। (এই বলে) তিনি শাহাদাত আঙুল ও মধ্যমা দিয়ে ইশারা করলেন, আর দুটোর মাঝে সামান্য ফাঁক রাখলেন।

সহিহ বুখারী ৫৩০৪সহিহবর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা'দ (রা.)

وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَىٰ

আর যে তার রবের অবস্থানকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি হতে নিজকে বিরত রাখে

فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَىٰ

জান্নাতই হবে তার আবাস।

ছোট সুন্নাহ, বিশাল পুরস্কার

আজ থেকেই শুরু করা যায় এমন আমল

উপরের প্রতিটি নিয়ামতের সাথে যে আমলগুলো সহিহ হাদিসে সরাসরি জুড়ে আছে, সেগুলো এক জায়গায়। একটি বেছে নিন, আজ থেকে নিয়মিত করুন।

আমলপুরস্কারসূত্র ও মান
অজুর পর কালিমায়ে শাহাদাতআটটি দরজাই খোলাসহিহ মুসলিম ২৩৪সহিহ
ফজর ও আসর যত্নেআল্লাহকে দেখার সুসংবাদসহিহ বুখারী ৫৫৪সহিহ
প্রতিদিন বারো রাকাত সুন্নতজান্নাতে একটি ঘরসহিহ মুসলিম ৭২৮সহিহ
রোজারাইয়ান দরজাসহিহ বুখারী ১৮৯৬সহিহ
সকাল-সন্ধ্যায় সাইয়িদুল ইস্তিগফারসেদিন মারা গেলে জান্নাতিসহিহ বুখারী ৬৩০৬সহিহ
"সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহী"একটি খেজুর গাছজামে আত-তিরমিযী ৩৪৬৪সহিহ
"লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"জান্নাতের একটি ধনভাণ্ডারসহিহ বুখারী ৬৩৮৪সহিহ
কুরআন পড়া ও মুখস্থ করাপড়তে পড়তে উপরের স্তরে ওঠাসুনানে আবু দাউদ ১৪৬৪সহিহ
ঝগড়া ও মিথ্যা ছাড়া, সুন্দর চরিত্রজান্নাতে তিনটি ঘরের জামিনসুনানে আবু দাউদ ৪৮০০হাসান
জ্ঞানের পথে চলাজান্নাতের পথ সহজ হয়সহিহ মুসলিম ২৬৯৯সহিহ
এতিমের দায়িত্ব নেওয়ানবীজির (ﷺ) পাশেসহিহ বুখারী ৫৩০৪সহিহ
মায়ের সেবাজান্নাত তাঁর পায়ের কাছেসুনানে আন-নাসাঈ ৩১০৪সহিহ
তাওয়াক্কুল: তাবিজ-কুলক্ষণ ছাড়াবিনা হিসাবে জান্নাতসহিহ বুখারী ৬৫৪১সহিহ
তিনবার জান্নাত চাওয়াজান্নাত নিজেই দোয়া করেজামে আত-তিরমিযী ২৫৭২সহিহ

জান্নাতের পথের আমলগুলো শুরু করুন ›

জান্নাত চেয়ে দোয়া

যে জিনিসের এত মূল্য, তা প্রতিদিন চাওয়াই স্বাভাবিক। নবীজি (ﷺ) বলেছেন, সব দোয়া আসলে এরই চারপাশে ঘোরে।

জান্নাত চাওয়া, জাহান্নাম থেকে আশ্রয়আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আঊযু বিকা মিনান নার

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই আর জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

সুনানে আবু দাউদ ৭৯২সহিহ
তিনবার চাইলেআল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাহ (তিনবার)

জান্নাত নিজেই বলে: হে আল্লাহ, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।

জামে আত-তিরমিযী ২৫৭২সহিহ
ফিরদাউস চাওয়াআল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ফিরদাউসাল আ'লা

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সবচেয়ে উঁচু ফিরদাউস চাই। (নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "চাইলে ফিরদাউস চাও"; শব্দগুলো সেই নির্দেশ মেনে বানানো।)

সহিহ বুখারী ২৭৯০সহিহ

প্রচলিত কিন্তু সহিহ নয়

জান্নাত নিয়ে অনেক কথা ওয়াজ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ায়। নিচের কথাগুলো হয় দুর্বল বা জাল বর্ণনা, নয়তো ভুল ধারণা; প্রতিটির সাথে সহিহ কথাটি দেওয়া হলো। আরও দেখুন প্রচলিত ভুল পাতা।

এই শব্দে সহিহ নয় "জান্নাত মায়েদের পায়ের নিচে" (الجنة تحت أقدام الأمهات) এই শব্দে

শাইখ আলবানী তাঁর সিলসিলাতুল আহাদীসিয যঈফাহ গ্রন্থে এই শব্দের বর্ণনাটিকে অশুদ্ধ বলেছেন। তবে কথাটির মর্ম সহিহ সূত্রে এসেছে: নবীজি (ﷺ) জাহিমা (রা.)-কে বলেছেন, "মায়ের সাথেই লেগে থাকো, জান্নাত তাঁর দুই পায়ের নিচে" (সুনানে আন-নাসাঈ ৩১০৪, আলবানী: হাসান সহিহ)। তাই বলার সময় সহিহ বর্ণনাটি বলুন।

খুবই দুর্বল "প্রত্যেক জান্নাতি পুরুষ বাহাত্তরজন স্ত্রী পাবে"

এই বর্ণনা সুনানে ইবনু মাজাহ ৪৩৩৭-এ আছে; আলবানী, শুআইব আল-আরনাঊত ও মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকী একে খুবই দুর্বল বলেছেন। সহিহ বুখারীতে আছে প্রত্যেক জান্নাতির দুজন স্ত্রী (সহিহ বুখারী ৩২৪৫)। বাহাত্তর হূরের কথা সহিহ সূত্রে এসেছে শুধু শহীদের ক্ষেত্রে (জামে আত-তিরমিযী ১৬৬৩, আলবানী: সহিহ)।

সহিহ তালিকা নেই জান্নাতের আট দরজার পুরো নামের তালিকা (বাবুত তাওবা, বাবুয যিকর ইত্যাদি)

আটটি দরজা আছে, এটা সহিহ (সহিহ বুখারী ৩২৫৭)। কিন্তু আটটির নাম একসাথে কোনো সহিহ হাদিসে আসেনি। সহিহ হাদিসে যে নামগুলো আছে: নামাজের দরজা, জিহাদের দরজা, রাইয়ান, সাদাকার দরজা (সহিহ বুখারী ১৮৯৭), আর বিনা হিসাবের লোকদের জন্য ডান দিকের দরজা (সহিহ বুখারী ৪৭১২)। বই বা পোস্টে পুরো তালিকা দেখলে সেটাকে নিশ্চিত হাদিস হিসেবে বলবেন না।

জাল "আরবদের ভালোবাসো তিন কারণে... জান্নাতবাসীর ভাষা আরবি"

শাইখ আলবানী সিলসিলাতুল আহাদীসিয যঈফাহ গ্রন্থে এই বর্ণনাকে জাল প্রমাণ করেছেন। জান্নাতিদের ভাষা কী হবে, সে বিষয়ে কোনো সহিহ হাদিস নেই; তাই এ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।

ভুল ধারণা "আমার আমল দিয়েই আমি জান্নাত কিনে নেব"

নবীজি (ﷺ) বলেছেন, শুধু আমল কাউকে জান্নাতে নেবে না, এমনকি তাঁকেও না, যদি না আল্লাহ রহমত দিয়ে ঢেকে নেন (সহিহ বুখারী ৬৪৬৪)। আবার কুরআন বলে, "তোমরা যা করতে তার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করো" (সূরা আন-নাহল ১৬:৩২)। দুটো মিলিয়ে আলেমরা বলেছেন: আমল জান্নাতের কারণ, কিন্তু জান্নাতের দাম নয়; দাম হলো আল্লাহর রহমত।

ভুল ধারণা "জান্নাত শুধু পুরুষদের জন্য, নারীদের জন্য তেমন কিছু নেই"

কুরআন স্পষ্ট বলে, নারী-পুরুষ যে-ই মুমিন হয়ে সৎকাজ করবে, সে জান্নাতে যাবে, একটুও অবিচার হবে না (সূরা আন-নিসা ৪:১২৪, সূরা আন-নাহল ১৬:৯৭); আর মুমিন নারী-পুরুষ দুজনের জন্যই ক্ষমা ও মহা পুরস্কার (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৩৫)। জান্নাতে কেউ কোনো কিছুর অভাব বোধ করবে না, মন যা চাইবে তা-ই পাবে (সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩১)।

শেষ কথা: প্রশান্ত আত্মার ডাক

দুনিয়ার জীবন অল্প কয়েক দিনের। যে আত্মা এখানে আল্লাহর আনুগত্যে প্রশান্তি খুঁজে পায়, মৃত্যুর সময় তাকে এই ডাক দেওয়া হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ

হে প্রশান্ত আত্মা!

ارْجِعِي إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً

তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে আস সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে,

فَادْخُلِي فِي عِبَادِي

অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও,

وَادْخُلِي جَنَّتِي

আর আমার জান্নাতে প্ৰবেশ কর।

এর বিপরীত পাতাজাহান্নাম কেমন? কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণনা, কারা যাবেআশার সাথে ভয়ও দরকার: দরজা, শাস্তি, কারা যাবে, আর যে আমল জাহান্নাম থেকে বাঁচায়
deenpedia.com · https://deenpedia.com/jannat/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার