"নামাজ আর যাকাতের মধ্যে যে পার্থক্য করবে"
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তেকালের পর মদিনা শোকে ভারী। এর মধ্যেই খবর এল, আরবের কিছু গোত্র বলছে: আমরা নামাজ পড়ব, কিন্তু যাকাত আর দেব না।
নতুন খলিফা আবু বকর (রা.) সিদ্ধান্ত নিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। উমর (রা.) অবাক হয়ে বললেন: যারা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে, তাদের সাথে লড়বেন কীভাবে?
আবু বকর (রা.) দৃঢ় গলায় বললেন: আল্লাহর কসম, যে নামাজ আর যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তার সাথে লড়বই; কারণ যাকাত সম্পদের হক। তারা নবীজিকে একটা ছাগলছানা দিত, সেটাও যদি আটকায়, তার জন্যও লড়ব।
উমর (রা.) পরে বলেছেন: আমি দেখলাম আল্লাহ আবু বকরের বুক খুলে দিয়েছেন, তখন বুঝলাম এটাই সঠিক।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা.) খলিফা হলেন, আর আরবের কিছু লোক কুফরিতে ফিরে গেল। উমর (রা.) বললেন: আপনি এদের সাথে কীভাবে লড়বেন, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমাকে মানুষের সাথে লড়তে আদেশ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তারা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে; যে তা বলল, সে আমার থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ রক্ষা করল, তবে এর হক ছাড়া, আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে? আবু বকর বললেন: আল্লাহর কসম, যে নামাজ আর যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি অবশ্যই তার সাথে লড়ব; কারণ যাকাত সম্পদের হক। আল্লাহর কসম, তারা রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) যে একটি ছাগলছানা দিত, তা-ও যদি আমাকে দিতে অস্বীকার করে, তার জন্যও আমি লড়ব। উমর বললেন: আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম আল্লাহ আবু বকরের বুক (এ ব্যাপারে) খুলে দিয়েছেন, তখন বুঝলাম এটাই সঠিক।
এই গল্প আমাদের কী শেখায়? কুরআনে নামাজ আর যাকাত বারবার একসাথে এসেছে। যাকাত দয়া বা দান নয় যে ইচ্ছা হলে দেব; এটা আমার সম্পদে গরিবের হক, যা আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।