deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا

যাকাত: আজকের সম্পদে কীভাবে হিসাব করবেন

গাইড ২/৪সম্পদের ইবাদতরমজান ও সম্পদের ইবাদত

নবীজির (ﷺ) যুগে সম্পদ ছিল সোনা, রুপা, উট, ছাগল আর খেজুর। আজ আমাদের সম্পদ ব্যাংকের হিসাবে, FDR-এ, বিকাশে, শেয়ারে, প্রভিডেন্ট ফান্ডে। নিয়ম কিন্তু একই আছে: নিসাব, এক বছর, আর চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। এই গাইডে সেই নিয়ম আজকের সম্পদে মিলিয়ে দেখানো হয়েছে, নিচে একটা ক্যালকুলেটরও আছে।

৮টি অধ্যায়
৫টি আয়াত
১০টি হাদিস (সহিহ/হাসান)
২টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

"নামাজ আর যাকাতের মধ্যে যে পার্থক্য করবে"

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তেকালের পর মদিনা শোকে ভারী। এর মধ্যেই খবর এল, আরবের কিছু গোত্র বলছে: আমরা নামাজ পড়ব, কিন্তু যাকাত আর দেব না।

নতুন খলিফা আবু বকর (রা.) সিদ্ধান্ত নিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। উমর (রা.) অবাক হয়ে বললেন: যারা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে, তাদের সাথে লড়বেন কীভাবে?

আবু বকর (রা.) দৃঢ় গলায় বললেন: আল্লাহর কসম, যে নামাজ আর যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তার সাথে লড়বই; কারণ যাকাত সম্পদের হক। তারা নবীজিকে একটা ছাগলছানা দিত, সেটাও যদি আটকায়, তার জন্যও লড়ব।

উমর (রা.) পরে বলেছেন: আমি দেখলাম আল্লাহ আবু বকরের বুক খুলে দিয়েছেন, তখন বুঝলাম এটাই সঠিক।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা.) খলিফা হলেন, আর আরবের কিছু লোক কুফরিতে ফিরে গেল। উমর (রা.) বললেন: আপনি এদের সাথে কীভাবে লড়বেন, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমাকে মানুষের সাথে লড়তে আদেশ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তারা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে; যে তা বলল, সে আমার থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ রক্ষা করল, তবে এর হক ছাড়া, আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে? আবু বকর বললেন: আল্লাহর কসম, যে নামাজ আর যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি অবশ্যই তার সাথে লড়ব; কারণ যাকাত সম্পদের হক। আল্লাহর কসম, তারা রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) যে একটি ছাগলছানা দিত, তা-ও যদি আমাকে দিতে অস্বীকার করে, তার জন্যও আমি লড়ব। উমর বললেন: আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম আল্লাহ আবু বকরের বুক (এ ব্যাপারে) খুলে দিয়েছেন, তখন বুঝলাম এটাই সঠিক।

সহিহ বুখারী ১৩৯৯সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? কুরআনে নামাজ আর যাকাত বারবার একসাথে এসেছে। যাকাত দয়া বা দান নয় যে ইচ্ছা হলে দেব; এটা আমার সম্পদে গরিবের হক, যা আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

এই গাইডে ৮টি অধ্যায়
১
ফরজ

যাকাত কী, কেন

যাকাত মানে পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। আল্লাহ বলেছেন, তাদের সম্পদ থেকে সদকা নাও, যা তাদের পবিত্র করবে।

কুরআনে নামাজের সাথে বারবার যাকাতের নির্দেশ এসেছে (সূরা আল-বাকারা ২:৪৩)। নামাজ, রোজা ও হজের মতো যাকাতও ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি (সহিহ বুখারী ৮)।

ইবনু উমার (রা.) বুঝিয়েছেন, যে সম্পদের যাকাত দেওয়া হয়, সেটা আর কুরআনের নিন্দিত "জমানো ধন" নয়; যাকাত সম্পদকে পবিত্র করে।

আর দান সম্পদ কমায় না, বরং বরকত বাড়ায় (সহিহ মুসলিম ২৫৮৮)।

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

আপনি তাদের সম্পদ থেকে ‘সদকা’ গ্রহন করুন। এর দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন। আর আপনি তেদের জন্য দো’আ করুন। আপনার দো’আ তো তোদের জন্য প্রশান্তি কর। আর আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

সূরা আত-তাওবা ৯:১০৩
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

مَنْ كَنَزَهَا فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهَا فَوَيْلٌ لَهُ، إِنَّمَا كَانَ هَذَا قَبْلَ أَنْ تُنْزَلَ الزَّكَاةُ فَلَمَّا أُنْزِلَتْ جَعَلَهَا اللَّهُ طُهْرًا لِلأَمْوَالِ‏

(সূরা তাওবার ৩৪ আয়াত সম্পর্কে এক বেদুইনের প্রশ্নের জবাবে ইবনু উমার বললেন) যে সোনা-রুপা জমিয়ে রাখল আর তার যাকাত দিল না, তার জন্য ধ্বংস। এটা ছিল যাকাতের বিধান নাজিলের আগে; যাকাত নাজিল হওয়ার পর আল্লাহ একে সম্পদের পবিত্রতা বানিয়ে দিয়েছেন।

সহিহ বুখারী ১৪০৪সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)-এর কথা
আপনার জীবনেযাকাতকে "খরচ" না ভেবে নিজের সম্পদের পবিত্রতা ভাবুন। এ বছর যাকাতের দিনটা বড় দিনের মতো প্রস্তুতি নিয়ে পালন করুন।
২
শর্ত

কার উপর যাকাত ফরজ

পাঁচটি শর্ত পূর্ণ হলে যাকাত ফরজ:

  1. মুসলিম হওয়া।
  2. নিসাব: প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ নির্দিষ্ট পরিমাণে পৌঁছানো (সহিহ বুখারী ১৪৪৭)।
  3. পূর্ণ মালিকানা: সম্পদ আপনার হাতে বা আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকা।
  4. এক বছর: নিসাব পরিমাণ সম্পদের উপর এক চান্দ্র (হিজরি) বছর পূর্ণ হওয়া। ফসলে বছরের শর্ত নেই, ফসল তোলার দিনই।
  5. প্রবৃদ্ধিযোগ্য সম্পদ: টাকা, সোনা-রুপা, ব্যবসার মাল, পশু, ফসল। নিজের ব্যবহারের জিনিসে যাকাত নেই।

শিশু বা মানসিক প্রতিবন্ধীর সম্পদ: অধিকাংশ আলেম (মালিকি, শাফিঈ, হাম্বলি) বলেন, তাদের সম্পদেও যাকাত ফরজ, অভিভাবক আদায় করবেন। হানাফি আলেমরা বলেন, ফরজ নয় (ফসল ছাড়া)।

বছর কীভাবে গুনবেন: যেদিন প্রথম নিসাবের মালিক হলেন, সেই হিজরি তারিখটা লিখে রাখুন। বছর শেষে সেদিনের মোট সম্পদ হিসাব করুন। মাঝে মাঝে আয় যোগ হয়েছে, খরচ হয়েছে, এগুলো আলাদা আলাদা হিসাব করার দরকার নেই; বছরের শেষ দিনের সম্পদ নিসাব ছুঁলে পুরোটার উপর যাকাত (হানাফি মত, আর সহজও)। ইংরেজি বছর ধরলে কিছু আলেম ২.৫%-এর বদলে ২.৫৭৭% দিতে বলেন, কারণ সৌর বছর এগারো দিন বড়।

যখন তোমার কাছে দুশো দিরহাম (রুপা) থাকে আর তার উপর এক বছর পূর্ণ হয়, তাতে পাঁচ দিরহাম (যাকাত)। আর সোনায় তোমার উপর কিছু নেই, যতক্ষণ না বিশ দিনার হয়। যখন বিশ দিনার হয় আর তার উপর এক বছর পূর্ণ হয়, তাতে অর্ধেক দিনার। এর বেশি হলে সেই হিসাবে।

সুনানে আবু দাউদ ১৫৭৩ সহিহ বর্ণনা: আলী (রা.)
আপনার জীবনেআজই আপনার "যাকাতের তারিখ" ঠিক করে ক্যালেন্ডারে প্রতি বছরের রিমাইন্ডার দিন।
৩
নিসাব

নিসাব আজকের হিসাবে: সোনা নাকি রুপা

হাদিসে নিসাব এসেছে দুশো দিরহাম রুপা আর বিশ দিনার সোনা (সুনানে আবু দাউদ ১৫৭৩); পাঁচ উকিয়ার কম রুপায় যাকাত নেই (সহিহ বুখারী ১৪৪৭)। আজকের ওজনে:

সম্পদহাদিসের মাপউপমহাদেশের হিসাবআরব আলেমদের প্রচলিত হিসাব
সোনা২০ দিনার (মিসকাল)৭.৫ ভরি (প্রায় ৮৭.৫ গ্রাম)৮৫ গ্রাম
রুপা২০০ দিরহাম (৫ উকিয়া)৫২.৫ ভরি (প্রায় ৬১২ গ্রাম)৫৯৫ গ্রাম

সমস্যা হলো, আজ সোনা আর রুপার দামে অনেক ফারাক। ৫২.৫ ভরি রুপার দাম সাড়ে সাত ভরি সোনার দামের অনেক কম। তাহলে যার কাছে শুধু টাকা আছে, সে কোনটা ধরবে?

  • রুপার নিসাব: হানাফি আলেমরা, আর বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের প্রায় সব মুফতি বলেন, টাকা বা মিশ্র সম্পদে রুপার নিসাব ধরবেন। কারণ এতে বেশি মানুষ যাকাত দেয়, গরিবের উপকার বেশি, আর এটাই সতর্কতা।
  • সোনার নিসাব: কিছু সমকালীন আলেম (যেমন ইউসুফ আল-কারযাভী, ফিকহুয যাকাত) বলেন, আজ সোনার দামই সম্পদের আসল মাপ বোঝায়, তাই টাকায় সোনার নিসাব ধরা উচিত।

শুধু সোনা থাকলে (আর কিছু না থাকলে) সোনার নিসাবই ধরবেন, এতে সবাই একমত। আর টাকা, সোনা, ব্যবসার মাল মিলিয়ে থাকলে সবগুলোর দাম যোগ করে রুপার নিসাবের সাথে মেলানো সতর্ক পথ।

(আবু বকর রা. বাহরাইনে পাঠানোর সময় আনাসকে এই চিঠি লিখে দেন) এটা সদকার (যাকাতের) সেই ফরজ বিধান, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিমদের উপর ফরজ করেছেন, আর যার নির্দেশ আল্লাহ তাঁর রাসূলকে দিয়েছেন। মুসলিমদের মধ্যে যার কাছে নিয়ম অনুযায়ী চাওয়া হয়, সে যেন দেয়; আর যার কাছে এর বেশি চাওয়া হয়, সে যেন না দেয়। … আর রুপায় চল্লিশ ভাগের এক ভাগ (২.৫%)। যদি একশো নব্বই (দিরহাম) ছাড়া কিছু না থাকে, তাহলে তাতে কিছু নেই, তবে মালিক নিজে চাইলে দিতে পারে।

সহিহ বুখারী ১৪৫৪ সহিহ বর্ণনা: আনাস (রা.), আবু বকর (রা.)-এর চিঠি থেকে
আপনার জীবনেআপনার যাকাতের দিনে বাজুসের ঘোষিত সোনা ও রুপার দাম দেখে নিসাব হিসাব করুন; আগের বছরের দাম ধরবেন না।
৪
কোন সম্পদে

কোন সম্পদে যাকাত, কোনটায় নয়

নবীজি (ﷺ) জানিয়েছেন, নিজের ব্যবহারের জিনিসে যাকাত নেই (সহিহ বুখারী ১৪৬৪)। এই মূলনীতিতে আজকের সম্পদ:

সম্পদযাকাত?কীভাবে ধরবেন
নগদ টাকা, ব্যাংক হিসাব, FDR, DPS, বিকাশ-নগদ-রকেটহ্যাঁযাকাতের দিনে যা আছে, পুরোটা
সঞ্চয়পত্র, বন্ডহ্যাঁ (আসলে)আপনার জমা দেওয়া আসল টাকার উপর। সুদ বা মুনাফার অংশ হারাম আয়: সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিবকে দিয়ে দিন, যাকাতে গুনবেন না
সোনা-রুপা (বার, কয়েন, জমানো)হ্যাঁআজকের বিক্রয়মূল্যে
পরার সোনার গয়নামতভেদনিচে আলাদা করে দেখুন
ব্যবসার মাল (দোকানের স্টক, বিক্রির জন্য কেনা জিনিস)হ্যাঁযাকাতের দিনের বিক্রয়মূল্যে (কেনা দামে নয়)
বিক্রির জন্য কেনা জমি, প্লট বা ফ্ল্যাটহ্যাঁপ্রতি বছর বাজারমূল্যে
থাকার বাড়ি, নিজের গাড়ি, আসবাব, কাপড়, ব্যবহারের ফোন-ল্যাপটপনাসহিহ বুখারী ১৪৬৪
ভাড়া দেওয়া বাড়ি, দোকান বা গাড়িভবনে না, ভাড়ায় হ্যাঁভাড়ার টাকা জমে থাকলে অন্য টাকার সাথে যোগ হবে
কারখানার মেশিন, দোকানের আসবাবনাএগুলো ব্যবসার মাল নয়, যন্ত্র; তবে উৎপাদিত পণ্য ও কাঁচামালে হ্যাঁ
শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডহ্যাঁনিচে আলাদা করে দেখুন
প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, গ্র্যাচুইটিঅবস্থাভেদেনিচে আলাদা করে দেখুন
ক্রিপ্টোকারেন্সিহ্যাঁ, যার কাছে আছেএটা হালাল কি না নিয়েই আলেমদের বড় মতভেদ আছে। কেউ রাখলে যাকাতের দিনের বাজারমূল্যে ২.৫% দেবেন, ব্যবসার মালের মতো
গরু, ছাগল, উট (চারণভূমিতে চরে বড় হলে)হ্যাঁসংখ্যার আলাদা নিয়ম আছে (সহিহ বুখারী ১৪৫৪); খামারের বিক্রির পশু ব্যবসার মাল হিসেবে দামে
ফসল (ধান, গম, খেজুর ইত্যাদি)হ্যাঁ (উশর)বৃষ্টির পানিতে হলে ১০%, সেচ দিয়ে হলে ৫% (সহিহ বুখারী ১৪৮৩); ফসল তোলার সময়

পরার সোনার গয়না

স্ত্রী বা মেয়ের নিয়মিত পরার গয়নায় যাকাত আছে কি না, এ নিয়ে সাহাবিদের যুগ থেকেই মতভেদ:

  • যাকাত দিতে হবে: হানাফি আলেমরা, আর শাইখ ইবনু বায ও ইবনু উসাইমীন। দলিল: সোনার কাঁকনের হাদিস (নিচে), আর নারীদের "গয়না থেকে হলেও সদকা করো" নির্দেশ (সহিহ বুখারী ১৪৬৬)।
  • দিতে হবে না: মালিকি, শাফিঈ ও হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত। কারণ এটা ব্যবহারের জিনিস, আর কয়েকজন সাহাবি (যেমন আয়েশা ও ইবনু উমার রা.) পরিবারের গয়নার যাকাত দিতেন না বলে বর্ণিত।

বাংলাদেশে প্রায় সব আলেম হানাফি মত অনুযায়ী গয়নার যাকাত দিতে বলেন, আর এটাই সতর্ক পথ। গয়নার মালিক যিনি (সাধারণত স্ত্রী), যাকাত তাঁর উপর; স্বামী খুশি হয়ে তাঁর পক্ষ থেকে দিয়ে দিতে পারেন। দাম ধরবেন আজকের বিক্রয়মূল্যে (বানানোর মজুরি বাদ দিয়ে)।

শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড

  • কেনাবেচা করে লাভের জন্য রাখা শেয়ার: এটা ব্যবসার মাল। যাকাতের দিনের বাজারমূল্যের ২.৫%।
  • বছরের পর বছর লভ্যাংশের জন্য রাখা শেয়ার: ইসলামিক ফিকহ একাডেমি (জেদ্দা, ১৯৮৮) বলেছে, কোম্পানির যাকাতযোগ্য সম্পদে (নগদ, পাওনা, পণ্য) আপনার অংশের উপর যাকাত; কোম্পানির ভবন ও মেশিনের অংশে নয়। এই হিসাব জানা কঠিন হলে বাজারমূল্যের উপর দেওয়াই সতর্ক ও সহজ। আর লভ্যাংশ হাতে এলে অন্য টাকার সাথে যোগ হবে।
  • সুদি ব্যাংক, মদ, জুয়া ইত্যাদি হারাম ব্যবসার শেয়ার রাখা নিজেই জায়েজ নয়; এগুলো ছেড়ে দিন।

প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি

  • বাধ্যতামূলক কাটা অংশ, যা চাকরি শেষের আগে তোলা যায় না: উপমহাদেশের অধিকাংশ মুফতি বলেন, পূর্ণ মালিকানা না থাকায় হাতে আসার আগে যাকাত নেই; হাতে এলে বাকি সম্পদের সাথে যোগ হবে।
  • নিজের ইচ্ছায় দেওয়া বাড়তি অংশ, বা যে টাকা চাইলেই তোলা যায়: প্রতি বছর যাকাত দেবেন।
  • পেনশন ও গ্র্যাচুইটি হাতে আসার পর থেকে হিসাব।

এই বিষয়গুলোতে কোনো আয়াত বা হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই; এগুলো আলেমদের ইজতিহাদ। তাই মতভেদ থাকলে সতর্ক পথটা বেছে নিন, যাতে গরিবের হক কম না পড়ে।

এক নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলেন, সাথে তাঁর মেয়ে; মেয়ের হাতে সোনার দুটি মোটা কাঁকন। তিনি বললেন: তুমি কি এগুলোর যাকাত দাও? সে বলল: না। তিনি বললেন: তুমি কি চাও, কিয়ামতের দিন আল্লাহ এ দুটোর বদলে তোমাকে আগুনের দুটি কাঁকন পরান? তখন সে দুটো খুলে নবীজির (ﷺ) সামনে রেখে বলল: এ দুটো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।

সুনানে আবু দাউদ ১৫৬৩ হাসান বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)
আপনার জীবনেআজ আপনার সব সম্পদের একটা তালিকা করুন: ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং, গয়না, শেয়ার, পাওনা। তালিকা ছাড়া যাকাতের হিসাব প্রায়ই ভুল হয়।
৫
পাওনা ও দেনা

কেউ টাকা পাবে, কারো কাছে পাবেন

যে টাকা অন্যকে ধার দিয়েছেন:

  • যে ফেরত দেবে বলে নিশ্চিত, সেই পাওনা আপনার সম্পদের মধ্যেই ধরা হয়। প্রতি বছর যাকাত দিন, অথবা (হানাফি মতে) টাকা ফেরত পেলে আগের সব বছরের যাকাত একসাথে দিন।
  • যে পাওনা ফেরত পাওয়ার আশা কম (অস্বীকার করছে বা দেউলিয়া), তা হাতে আসার আগে যাকাত নেই; অনেক আলেম বলেন, হাতে এলে এক বছরের যাকাত দেবেন।

যে টাকা আপনি অন্যের কাছে দেনা:

  • এখনই শোধ করতে হবে এমন দেনা (ধার, বকেয়া বিল, এই মাসের কিস্তি) মোট সম্পদ থেকে বাদ দিন।
  • বাড়ি বা ব্যবসার লম্বা মেয়াদি ঋণের পুরোটা বাদ দেবেন না; শুধু চলতি বছরে যা শোধ করতে হবে, সেটুকু বাদ দেওয়ার মত সমকালীন অনেক আলেমের, কারণ নইলে কোটি টাকার মালিকও যাকাতমুক্ত হয়ে যাবেন।

আর মনে রাখুন, যাকাত দেওয়া হয় হালাল সম্পদ থেকে। আল্লাহ হালাল ছাড়া কবুল করেন না।

যে হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণও সদকা করে, আর আল্লাহ হালাল ছাড়া কিছু কবুল করেন না, আল্লাহ তা ডান হাতে গ্রহণ করেন। তারপর দাতার জন্য তা বাড়াতে থাকেন, যেমন তোমরা ঘোড়ার বাচ্চা লালন করে বড় করো; শেষে তা পাহাড়ের মতো হয়ে যায়।

সহিহ বুখারী ১৪১০ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেকারো কাছে আপনার পাওনা থাকলে তার নাম, পরিমাণ আর ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা লিখে রাখুন; যাকাতের দিনে এই তালিকা কাজে লাগবে।
৬
কাকে দেবেন

যাকাত কাকে দেবেন, কাকে নয়

যাকাতের আট শ্রেণির প্রাপক আল্লাহ নিজে ঠিক করে দিয়েছেন:

প্রাপকআজকের উদাহরণ
ফকির ও মিসকিনযার প্রয়োজন মেটানোর মতো আয় নেই: বিধবা, এতিম, দিনমজুর, অসুস্থ গরিব, মাদরাসার গরিব ছাত্র
যাকাত আদায়ের কর্মীসরকার বা রাষ্ট্রীয় যাকাত ব্যবস্থার নিয়োগ দেওয়া কর্মী
যাদের মন জয় করা দরকারনতুন মুসলিম, যে অভাবে আছে
দাসমুক্তিআজ ঋণের কারণে বন্দি বা পাচার হওয়া মানুষকে মুক্ত করা, অনেক আলেমের মতে
ঋণগ্রস্তহালাল প্রয়োজনে ঋণ করে শোধ করতে পারছে না এমন মানুষ
আল্লাহর পথেঅধিকাংশ আলেমের মতে আল্লাহর পথে লড়াইকারী; কেউ কেউ দ্বীনি ইলমের গরিব ছাত্রকেও এর মধ্যে ধরেন
মুসাফিরসফরে টাকা ফুরিয়ে আটকে পড়া মানুষ, বাড়িতে সম্পদ থাকলেও

যাদের দেওয়া যাবে না: নিজের মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, সন্তান ও নাতি-নাতনি, আর স্ত্রী; কারণ তাদের ভরণপোষণ এমনিতেই আপনার দায়িত্ব। ধনী আর সুস্থ-সবল কর্মক্ষম মানুষও যাকাত পায় না।

সবচেয়ে ভালো প্রাপক: গরিব ভাই-বোন, চাচা-মামা, খালা-ফুফু আর অন্য আত্মীয়। নবীজি (ﷺ) বলেছেন, এতে দুটি সওয়াব: আত্মীয়তার আর সদকার।

স্ত্রী কি স্বামীকে যাকাত দিতে পারেন? গরিব স্বামীকে স্ত্রীর যাকাত দেওয়া অধিকাংশ আলেমের মতে জায়েজ, ওপরের যায়নাবের (রা.) হাদিস এর দলিল। ইমাম আবু হানিফা জায়েজ বলেননি, তবে তাঁর দুই প্রধান ছাত্র জায়েজ বলেছেন।
মসজিদ বানানো, রাস্তা বা হাসপাতালের ভবন: অধিকাংশ আলেমের মতে যাকাতের খাত নয়, কারণ যাকাত নির্দিষ্ট মানুষকে মালিক বানিয়ে দিতে হয়; এগুলো সাধারণ দান থেকে করুন।
সংগঠনের মাধ্যমে দেওয়া: বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান আপনার প্রতিনিধি হিসেবে ঠিক খাতে পৌঁছে দিলে জায়েজ; তারা যেন যাকাতের টাকা আলাদা রাখে, এটা জেনে নিন।

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

সদকা তো শুধু ফকীর, মিসকীন ও সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তিতে, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহ্‌র পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

সূরা আত-তাওবা ৯:৬০
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ

ধনী ব্যক্তির জন্য সদকা (যাকাত) হালাল নয়, আর সুস্থ-সবল কর্মক্ষম মানুষের জন্যও নয়।

সুনানে আবু দাউদ ১৬৩৪সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)

(নবীজি ﷺ নারীদের বললেন) সদকা করো, তোমাদের গয়না থেকে হলেও। যায়নাব নিজের স্বামী আবদুল্লাহ আর নিজের তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়াতীমদের জন্য খরচ করতেন। তিনি বিলালের মাধ্যমে জিজ্ঞেস করালেন: স্বামী ও তত্ত্বাবধানের ইয়াতীমদের জন্য খরচ করলে কি আমার সদকা আদায় হবে? নবীজি বললেন: হ্যাঁ, তার জন্য দুটি সওয়াব: আত্মীয়তার সওয়াব আর সদকার সওয়াব।

সহিহ বুখারী ১৪৬৬সহিহবর্ণনাকারী: যায়নাব (রা.), আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের স্ত্রী
আপনার জীবনেএ বছর যাকাতের তালিকার শুরুতে নিজের গরিব আত্মীয়দের নাম লিখুন, তারপর প্রতিবেশী ও অন্যরা।
৭
কখন, কীভাবে

যাকাত দেওয়ার আদব

  • দেরি নয়: বছর পূর্ণ হলেই দিন; রমজানের অপেক্ষায় মাসের পর মাস ফেলে রাখবেন না।
  • আগাম দেওয়া যায়: রমজানের সওয়াব বা কোনো দরিদ্রের জরুরি প্রয়োজনে বছর শেষের আগেই দেওয়া যায় (সুনানে আবু দাউদ ১৬২৪)। পরে হিসাব মিলিয়ে কম পড়লে বাকিটা দিন।
  • ভালো জিনিস দিন: নিম্নমানের কাপড় বা জিনিস বেছে বেছে যাকাতে দেওয়া কুরআনে নিষেধ (সূরা আল-বাকারা ২:২৬৭)। টাকায় দিলে প্রাপক নিজের দরকারমতো কিনতে পারে।
  • গোপনে দেওয়া উত্তম, আর প্রকাশ্যে দিলেও দোষ নেই (সূরা আল-বাকারা ২:২৭১)। প্রাপককে "এটা যাকাত" বলে জানানো জরুরি নয়।
  • খোঁটা দেবেন না, কষ্টও দেবেন না; এতে সদকা নষ্ট হয় (সূরা আল-বাকারা ২:২৬৪)।
  • নিয়ত: দেওয়ার সময় বা আলাদা করে রাখার সময় মনে মনে যাকাতের নিয়ত থাকা জরুরি।

কেউ যাকাত নিয়ে এলে নবীজি (ﷺ) তার জন্য দোয়া করতেন। যাকাত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিও দাতার জন্য দোয়া করবেন।

কোনো দল নিজেদের যাকাত নিয়ে এলে নবী (ﷺ) বলতেন: "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা আলি ফুলান" (হে আল্লাহ, অমুকের পরিবারের উপর রহমত দাও)। আমার বাবা তাঁর যাকাত নিয়ে এলে তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আবু আওফার পরিবারের উপর রহমত দাও।

সহিহ বুখারী ১৪৯৭ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রা.)
আপনার জীবনেযাকাত দিয়ে নিজের জন্যও দোয়া করুন: রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।
৮
সতর্কবাণী

যাকাত না দিলে

যারা সোনা-রুপা জমিয়ে রাখে আর আল্লাহর পথে খরচ করে না, তাদের জন্য কুরআনের সতর্কবাণী খুব কঠিন।

নবীজি (ﷺ) জানিয়েছেন, যাকাত না দেওয়া সম্পদ কিয়ামতের দিন বিষধর সাপ হয়ে মালিকের গলা পেঁচিয়ে ধরবে।

আগের বছরগুলোর যাকাত বাকি থাকলে সেটা দেনার মতোই আপনার উপর আছে। আনুমানিক হিসাব করে, একটু বেশি ধরে, এখনই আদায় শুরু করুন, আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۗ وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ

হে ঈমানদারগণ! পণ্ডিত এবং সংসার-বিরাগীদের মধ্যে অনেকেই তো জনসাধারণের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায় এবং মানুষকে আল্লাহ্‌র পথ থেকে নিবৃত্ত করে। আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করে না আপনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।

সূরা আত-তাওবা ৯:৩৪
এই অধ্যায়ের আরও ২টি দলিল

يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ ۖ هَـٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ

যেদিন জাহান্নামের আগুনে সেগুলোকে উত্তপ্ত করা হবে এবং সে সব দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর আর পিঠে দাগ দেয়া হবে। বলা হবে, ‘এগুলোই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। কাজেই তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তার স্বাদ ভোগ কর।’

مَنْ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً، فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثِّلَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ، لَهُ زَبِيبَتَانِ، يُطَوَّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ ـ يَعْنِي شِدْقَيْهِ ـ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا مَالُكَ، أَنَا كَنْزُكَ

আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন, আর সে তার যাকাত দেয়নি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে একটি বিষধর টাক-মাথা সাপের রূপ দেওয়া হবে, যার চোখের উপর দুটি কালো দাগ। সেটি তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে, তারপর তার দুই চোয়াল কামড়ে ধরে বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমানো ধন।

সহিহ বুখারী ১৪০৩সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেআগের কোনো বছরের যাকাত বাকি আছে কি না, এই সপ্তাহেই হিসাব করুন। বাকি থাকলে কিস্তিতে হলেও আজ থেকে শুরু করুন।

যাকাত হিসাব করুন

আজকের সোনা ও রুপার দাম বসান (বাংলাদেশে বাজুস প্রতিদিনের দাম ঘোষণা করে), তারপর নিজের সম্পদ লিখুন। হিসাব শুধু আপনার ফোনেই হয়, কোথাও পাঠানো হয় না।

আজকের দাম (প্রতি ভরি, টাকায়)

নিসাব যেভাবে ধরবেন

আপনার সম্পদ (টাকায়)
মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ০
নিসাবদাম বসান
আপনার যাকাত (২.৫%)০

এক ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম। সোনার নিসাব ৭.৫ ভরি (প্রায় ৮৭.৫ গ্রাম), রুপার নিসাব ৫২.৫ ভরি (প্রায় ৬১২ গ্রাম); এটা উপমহাদেশের প্রচলিত হিসাব। আরব দেশের অনেক আলেম ৮৫ গ্রাম সোনা ও ৫৯৫ গ্রাম রুপা ধরেন; পার্থক্য সামান্য, বেশিটা ধরলে সতর্কতা বেশি। সুদ বা অন্য হারাম আয় এখানে যোগ করবেন না; সেটা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া পুরোটা গরিবকে দিয়ে দিতে হয়। হিসাবটা শুধু সাহায্যের জন্য; জটিল ব্যবসা বা উত্তরাধিকারের সম্পদে একজন আলেমকে দেখিয়ে নিন।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই গাইডের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

আমল কবুলের দোয়া

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٢٧﴾

আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিলেন, (তারা বলছিলেন) ‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

সূরা আল-বাকারা ২:১২৭
যাকাতদাতার জন্য দোয়া

كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَاهُ قَوْمٌ بِصَدَقَتِهِمْ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ فُلاَنٍ ‏"‏‏.‏ فَأَتَاهُ أَبِي بِصَدَقَتِهِ، فَقَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى

কোনো দল নিজেদের যাকাত নিয়ে এলে নবী (ﷺ) বলতেন: "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা আলি ফুলান" (হে আল্লাহ, অমুকের পরিবারের উপর রহমত দাও)। আমার বাবা তাঁর যাকাত নিয়ে এলে তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আবু আওফার পরিবারের উপর রহমত দাও।

সহিহ বুখারী ১৪৯৭ সহিহ

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

রোজা, যাকাত ও হজ: সব গাইড

deenpedia.com · https://deenpedia.com/poth/zakat/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার