deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ

পর্দা, মাহরাম ও নারীদের বিশেষ বিধান

পর্দা ও দৃষ্টি সংযত রাখা, মাহরাম কারা, হায়েজ, নিফাস ও ইস্তিহাযার বিধান: কুরআন ও সহিহ হাদিসের দলিলে, আর যেখানে আলেমদের মতভেদ আছে সেখানে দুই দিকের কথাসহ।

১২ আয়াত২২ হাদিস৫ অধ্যায়

এই বিধানগুলো আল্লাহ দিয়েছেন নারী-পুরুষ দুজনের সম্মান ও পবিত্রতার জন্য, কাউকে ছোট করার জন্য নয়। আল্লাহ দ্বীনে কোনো কঠিনতা রাখেননি (সূরা আল-হাজ্জ ২২:৭৮)। প্রতিটি কথার পাশে সূত্র ও মান দেওয়া আছে; দলিল হিসেবে শুধু কুরআন এবং সহিহ ও হাসান হাদিস নেওয়া হয়েছে।

১

পর্দা: পুরুষ ও নারী দুজনেরই

দৃষ্টি সংযত করা, পোশাক ও আচরণ

কুরআনে পর্দার আদেশ শুরু হয়েছে পুরুষদের দিয়ে: "মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টি সংযত রাখে"; তারপর নারীদের কথা। তাই পর্দা শুধু নারীর কাপড়ের নাম নয়; এটা দুজনেরই দৃষ্টি, আচরণ আর লজ্জার একটা পুরো ব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য পবিত্রতা ও সম্মান।

  • মুমিন পুরুষরা দৃষ্টি সংযত রাখবে আর লজ্জাস্থান হেফাজত করবে; এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র।সূরা আন-নূর ২৪:৩০
  • হঠাৎ চোখ পড়লে সাথে সাথে সরিয়ে নিতে হবে; প্রথম দৃষ্টি ক্ষমার, দ্বিতীয়টি নয়।সহিহ মুসলিম ২১৫৯সহিহ · জামে আত-তিরমিযী ২৭৭৭হাসান
  • মুমিন নারীরাও দৃষ্টি সংযত রাখবে, সাধারণত যা প্রকাশ পায় তা ছাড়া সৌন্দর্য দেখাবে না, আর মাথার ওড়না বুকের উপর টেনে দেবে।সূরা আন-নূর ২৪:৩১
  • আয়াত নাজিল হতেই মুহাজির নারীরা নিজেদের চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে নিজেদের ঢেকে নিয়েছিলেন।সহিহ বুখারী ৪৭৫৮সহিহ
  • নবীজির (ﷺ) স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন নারীরা বাইরে গেলে বড় চাদর (জিলবাব) নিজেদের উপর টেনে দেবে, যাতে চেনা যায় এবং কেউ উত্যক্ত না করে।সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৯
  • জাহেলি যুগের মতো সাজসজ্জা দেখিয়ে বেড়ানো নিষেধ।সূরা আল-আহযাব ৩৩:৩৩
  • যে কাপড় পরেও উলঙ্গ, অর্থাৎ পাতলা বা আঁটসাঁট পোশাক যা শরীর প্রকাশ করে, তার ব্যাপারে কঠিন সতর্কবাণী এসেছে।সহিহ মুসলিম ২১২৮সহিহ
  • সুগন্ধি মেখে পরপুরুষের পাশ দিয়ে যাওয়া নিষেধ; আর নারী-পুরুষ একে অপরের বেশ ধরলে লানত।সুনানে আন-নাসাঈ ৫১২৬হাসান · সহিহ বুখারী ৫৮৮৫সহিহ

মুখ ও হাত ঢাকা নিয়ে আলেমদের মতভেদ

  • পুরো শরীর ঢাকা, আঁটসাঁট বা পাতলা না হওয়া, সুগন্ধি না মাখা: এ বিষয়ে আলেমরা একমত।
  • এক মত (হাম্বলী ও শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত, ইবনু তাইমিয়া, ইবনু বায, ইবনু উসাইমীন): পরপুরুষের সামনে মুখও ঢাকা ওয়াজিব। দলিল: জিলবাব টেনে দেওয়ার আয়াত (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৯), নবীজির (ﷺ) স্ত্রীদের সাথে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলার আদেশ (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৩), আর ইহরামে নিকাব পরতে নিষেধ, যা বোঝায় সাধারণ সময়ে নিকাব পরা প্রচলিত ছিল (সহিহ বুখারী ১৮৩৮)।
  • আরেক মত (হানাফী ও মালিকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত, শাইখ আলবানী): মুখ ও হাতের কব্জি পর্যন্ত সতরের মধ্যে নয়, তবে ঢাকা উত্তম; আর ফিতনার আশঙ্কা থাকলে ঢাকা জরুরি। দলিল: "সাধারণত যা প্রকাশ পায়" অংশের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত মুখ ও হাত।
  • দুই মতই সালাফের পক্ষ থেকে এসেছে। যে মত মানুন, অন্য মতের বোনকে তুচ্ছ করবেন না; আর মুখ খোলা রাখার মত মানলেও সাজসজ্জা, মেকআপ ও আকর্ষণীয় পোশাক থেকে বিরত থাকতে হবে, এ বিষয়ে সবাই একমত।
পুরো দলিল পড়ুন ২টি হাদিস, ৩টি আয়াত

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তবে যা সাধারণত প্রকাশ হয়ে থাকে। আর তারা তাদের গলা ও বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীরা, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা- রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আস, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

يَرْحَمُ اللَّهُ نِسَاءَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلَ، لَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ ‏{‏وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ‏}‏ شَقَّقْنَ مُرُوطَهُنَّ فَاخْتَمَرْنَ بِها‏

আল্লাহ প্রথম যুগের মুহাজির নারীদের প্রতি রহম করুন। যখন আল্লাহ নাজিল করলেন: "তারা যেন তাদের ওড়না বুকের উপর ফেলে রাখে", তখন তারা নিজেদের চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে নিজেদের ঢেকে নিলেন।

সহিহ বুখারী ৪৭৫৮সহিহবর্ণনাকারী: আয়েশা (রা.)

سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَظَرِ الْفُجَاءَةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَصْرِفَ بَصَرِي

আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) হঠাৎ চোখ পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে আদেশ দিলেন।

সহিহ মুসলিম ২১৫৯সহিহবর্ণনাকারী: জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রা.)
২

মাহরাম কারা

যাদের সাথে বিয়ে চিরকাল হারাম

মাহরাম মানে এমন পুরুষ, যার সাথে বংশ, দুধপান বা বিয়ের সম্পর্কের কারণে একজন নারীর বিয়ে চিরকালের জন্য হারাম। তাদের সামনে সাধারণ ঘরোয়া পোশাকে থাকা যায়, তারা সফরে সঙ্গী হতে পারে। যার সাথে কোনো অবস্থায় বিয়ে বৈধ হতে পারে, সে মাহরাম নয়, যত কাছের আত্মীয়ই হোক।

  • যাদের বিয়ে করা হারাম, তাদের তালিকা কুরআন নিজেই দিয়েছে: মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমা, দুধবোন, শাশুড়ি, স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়ে, ছেলের স্ত্রী।সূরা আন-নিসা ৪:২৩ · সূরা আন-নিসা ৪:২২
  • নারী কার সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারে, সেই তালিকাও কুরআনে আছে: স্বামী, বাবা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে।সূরা আন-নূর ২৪:৩১ · সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৫
  • বংশের কারণে যারা হারাম, দুধপানের কারণেও তারা হারাম হয়।সহিহ বুখারী ২৬৪৫সহিহ
  • মাহরাম ছাড়া কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে থাকবে না।সহিহ বুখারী ৫২৩৩সহিহ
  • দেবর-ভাসুরের মতো স্বামীর আত্মীয়দের ব্যাপারে নবীজি (ﷺ) বলেছেন: তারা তো মৃত্যু; অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি সাবধান থাকতে হবে।সহিহ বুখারী ৫২৩২সহিহ
  • মাহরাম ছাড়া কোনো নারী এক দিন এক রাতের পথ সফর করবে না।সহিহ বুখারী ১০৮৮সহিহ · সহিহ বুখারী ৫২৩৩সহিহ
সম্পর্কএকজন নারীর জন্য মাহরামমাহরাম নয়
বংশবাবা, দাদা, নানা; ছেলে, নাতি; ভাই (আপন, বৈমাত্রেয়, বৈপিত্রেয়); ভাতিজা, ভাগ্নে; চাচা, মামাচাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাই
বিয়েস্বামী; শ্বশুর ও স্বামীর দাদা-নানা; স্বামীর আগের ঘরের ছেলে; মেয়ের জামাই; মায়ের স্বামী (সৎবাবা, মায়ের সাথে বিয়ে সম্পন্ন হলে)দেবর, ভাসুর, দুলাভাই, খালু, ফুপা, স্বামীর চাচা-মামা ও তাদের ছেলেরা
দুধপানবংশের মতোই: দুধবাবা, দুধভাই, দুধমামা ইত্যাদিদুধভাইয়ের ভাই, যদি সে নিজে একই মায়ের দুধ না খায়
পালক সম্পর্কদুধপানের সম্পর্ক না থাকলে কেউ নয়পালক ছেলে বা পালক বাবা (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪, সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫)
পুরো দলিল পড়ুন ৪টি হাদিস, ২টি আয়াত

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا

তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমা, দুধবোন, শাশুড়ি ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সংগত হয়েছ তার আগের স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত মেয়ে, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাদের সাথে সংগত না হয়ে থাক তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই। আর তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ তোমাদের ঔরসজাত ছেলের স্ত্রী ও দুই বোনকে একত্র করা, আগে যা হয়েছে তা ছাড়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তবে যা সাধারণত প্রকাশ হয়ে থাকে। আর তারা তাদের গলা ও বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীরা, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা- রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আস, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’

لاَ تَحِلُّ لِي، يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعِ مَا يَحْرُمُ مِنَ النَّسَبِ، هِيَ بِنْتُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ

(হামযার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব প্রসঙ্গে নবীজি (ﷺ) বললেন:) সে আমার জন্য হালাল নয়; বংশের কারণে যা হারাম হয়, দুধপানের কারণেও তা হারাম হয়। সে আমার দুধভাইয়ের মেয়ে।

সহিহ বুখারী ২৬৪৫সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)

إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ ‏"‏‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ‏.‏ قَالَ ‏"‏ الْحَمْوُ الْمَوْتُ

তোমরা (বেগানা) নারীদের কাছে (একান্তে) যাওয়া থেকে সাবধান থাকো। আনসারদের এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, স্বামীর আত্মীয় (দেবর-ভাসুর ইত্যাদি) সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: স্বামীর আত্মীয় তো মৃত্যু।

সহিহ বুখারী ৫২৩২সহিহবর্ণনাকারী: উকবা ইবনু আমির (রা.)

لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ ‏"‏‏.‏ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ امْرَأَتِي خَرَجَتْ حَاجَّةً وَاكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا‏.‏ قَالَ ‏"‏ ارْجِعْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ

কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে মাহরাম ছাড়া নির্জনে না থাকে। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্ত্রী হজে রওনা হয়েছে, আর আমার নাম অমুক যুদ্ধে লেখানো হয়েছে। তিনি বললেন: ফিরে যাও, তোমার স্ত্রীর সাথে হজ করো।

সহিহ বুখারী ৫২৩৩সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)

لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ لَيْسَ مَعَهَا حُرْمَةٌ

আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য মাহরাম ছাড়া এক দিন এক রাতের পথ সফর করা হালাল নয়।

সহিহ বুখারী ১০৮৮সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)
৩

হায়েজ (মাসিক)

আল্লাহ আদমের মেয়েদের জন্য লিখে রেখেছেন

হায়েজ কোনো লজ্জা বা অপবিত্রতার শাস্তি নয়; নবীজি (ﷺ) বলেছেন, এটা আল্লাহ আদমের সব মেয়ের জন্য লিখে রেখেছেন। এ সময় কিছু ইবাদত থেকে বিরতি দেওয়া হয়েছে, এটাও আল্লাহর দয়া। স্ত্রী এ সময় অপবিত্র বা অচ্ছুৎ নয়; তার সাথে খাওয়া, একসাথে থাকা, তার কোলে মাথা রেখে কুরআন পড়া, সবই নবীজি (ﷺ) করেছেন।

  • হায়েজ আল্লাহর লিখে রাখা স্বাভাবিক বিষয়; হজে হায়েজ হলে তাওয়াফ ছাড়া হাজিদের সব কাজ করবে।সহিহ বুখারী ৩০৫সহিহ
  • এ সময় সহবাস হারাম; পবিত্র হয়ে গোসল করার পর বৈধ।সূরা আল-বাকারা ২:২২২
  • সহবাস ছাড়া স্ত্রীর সাথে সবকিছু বৈধ; ইহুদিরা হায়েজের সময় স্ত্রীর সাথে খেত না, ইসলাম এই আচরণ বাতিল করেছে।সহিহ মুসলিম ৩০২সহিহ
  • নামাজ পড়বে না, পরে কাযাও করতে হবে না; রোজা রাখবে না, তবে পরে রোজা কাযা করবে।সহিহ মুসলিম ৩৩৫সহিহ
  • হায়েজ শরীরের সব জায়গায় নয়; নবীজি (ﷺ) আয়েশাকে (রা.) মসজিদ থেকে জায়নামাজ এগিয়ে দিতে বলেছেন।সহিহ মুসলিম ২৯৮সহিহ
  • নবীজি (ﷺ) আয়েশার (রা.) হায়েজের সময় তাঁর কোলে হেলান দিয়ে কুরআন পড়তেন।সহিহ বুখারী ২৯৭সহিহ
  • রক্ত বন্ধ হলে পুরো শরীর ধুয়ে গোসল করবে; নবীজি (ﷺ) দুর্গন্ধ দূর করতে সুগন্ধি ব্যবহারের কথাও বলেছেন।সহিহ বুখারী ৩১৪সহিহ
  • পবিত্র হওয়ার পর হলুদ বা মেটে রঙের স্রাব হায়েজ নয়; তাতে নামাজ-রোজা চলবে।সুনানে আবু দাউদ ৩০৭সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৪টি হাদিস, ১টি আয়াত

আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে বের হলাম, শুধু হজের কথাই ভাবছিলাম। সারিফে পৌঁছলে আমার হায়েয শুরু হলো। নবী (ﷺ) আমার কাছে এসে দেখেন আমি কাঁদছি। বললেন: কাঁদছ কেন? বললাম: আল্লাহর কসম, এ বছর হজে না এলেই ভালো হতো। বললেন: হয়তো তোমার হায়েয শুরু হয়েছে? বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এটা আল্লাহ আদমের মেয়েদের জন্য লিখে রেখেছেন। হাজিরা যা করে, তুমিও তাই করো; শুধু পবিত্র হওয়ার আগে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করবে না।

সহিহ বুখারী ৩০৫সহিহবর্ণনাকারী: আয়েশা (রা.)

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

আর তারা আপনাকে রজঃস্রাব (হায়েজ) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা ‘অশুচি’। কাজেই তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রী-সঙ্গম থেকে বিরত থাক এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত (সঙ্গমের জন্যে) তাদের নিকটবর্তী হবে না। তারপর তারা যখন উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হবে তখন তাদের নিকট ঠিক সেভাবে গমন করবে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং তাদেরকেও ভালোবাসেন যারা পবিত্র থাকে।

(ইহুদিদের মধ্যে) কোনো নারীর হায়েজ হলে তারা তার সাথে খেত না, ঘরে একসাথে থাকত না। নবীজির (ﷺ) সাহাবিরা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ নাজিল করলেন: "তারা আপনাকে হায়েজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলুন, এটা কষ্ট, তাই হায়েজের সময় স্ত্রীদের থেকে (সহবাস থেকে) দূরে থাকো…"। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: সহবাস ছাড়া সবকিছু করো।

সহিহ মুসলিম ৩০২সহিহবর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)

كَانَ يُصِيبُنَا ذَلِكَ فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ وَلاَ نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلاَةِ

(হায়েযগ্রস্ত নারী কেন রোজা কাযা করে কিন্তু নামাজ কাযা করে না, এই প্রশ্নের উত্তরে আয়েশা (রা.) বললেন:) আমাদের এমন (হায়েয) হতো, তখন আমাদের রোজা কাযা করার আদেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজ কাযা করার আদেশ দেওয়া হতো না।

সহিহ মুসলিম ৩৩৫সহিহবর্ণনাকারী: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)

এক নারী নবীজিকে (ﷺ) হায়েজের পরের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি তাকে গোসলের নিয়ম বললেন, আর বললেন: মিশক মাখানো এক টুকরো কাপড় নিয়ে তা দিয়ে পবিত্র হও। সে বলল: কীভাবে পবিত্র হব? তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ, পবিত্র হও। তখন আমি তাকে কাছে টেনে বললাম: রক্তের জায়গাগুলোতে তা লাগাও।

সহিহ বুখারী ৩১৪সহিহবর্ণনাকারী: আয়েশা (রা.)
৪

নিফাস (প্রসবের পরের রক্ত)

সর্বোচ্চ চল্লিশ দিন, আগে বন্ধ হলে আগেই

সন্তান প্রসবের পর যে রক্ত আসে, তাকে নিফাস বলে। এর বিধান হায়েজের মতোই: নামাজ ও রোজা বন্ধ, সহবাস হারাম, পরে রোজা কাযা। পার্থক্য শুধু সময়ের।

  • নবীজির (ﷺ) যুগে প্রসূতি নারীরা চল্লিশ দিন নামাজ-রোজা থেকে বিরত থাকতেন।জামে আত-তিরমিযী ১৩৯হাসান · সুনানে আবু দাউদ ৩১১সহিহ
  • ইমাম তিরমিযী এই হাদিসের পরে লিখেছেন: সাহাবি, তাবেয়ী ও পরবর্তী আলেমরা একমত, প্রসূতি চল্লিশ দিন নামাজ ছাড়বে, তবে এর আগে পবিত্র হলে গোসল করে নামাজ পড়বে। চল্লিশ দিনের পরও রক্ত থাকলে অধিকাংশ আলেমের মতে নামাজ ছাড়বে না।জামে আত-তিরমিযী ১৩৯হাসান
  • তাই চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা জরুরি নয়; রক্ত বন্ধ হলেই গোসল করে নামাজ শুরু।জামে আত-তিরমিযী ১৩৯হাসান
পুরো দলিল পড়ুন ১টি হাদিস

كَانَتِ النُّفَسَاءُ تَجْلِسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَكُنَّا نَطْلِي وُجُوهَنَا بِالْوَرْسِ مِنَ الْكَلَفِ

রাসূলুল্লাহর (ﷺ) যুগে সন্তান প্রসবের পর নারীরা চল্লিশ দিন (নামাজ-রোজা থেকে) বিরত থাকতেন; আর আমরা মুখের দাগের জন্য মুখে ওয়ারস (এক ধরনের হলুদ উদ্ভিদ) মাখতাম।

জামে আত-তিরমিযী ১৩৯হাসানবর্ণনাকারী: উম্মু সালামা (রা.)
৫

ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত)

হায়েজের দিনের বাইরে যে রক্ত

নিয়মিত হায়েজের দিনের বাইরে যে রক্ত আসে, বা রক্ত একটানা চলতে থাকে, তা ইস্তিহাযা। এটা অসুস্থতা, হায়েজ নয়; তাই নামাজ-রোজা চলবে।

  • নবীজি (ﷺ) বলেছেন, এটা একটা রগের রক্ত, হায়েজ নয়; নিজের হায়েজের দিনগুলোতে নামাজ ছাড়বে, দিন শেষ হলে রক্ত ধুয়ে নামাজ পড়বে।সহিহ বুখারী ২২৮সহিহ
  • একই বর্ণনায় আছে, এমন নারী প্রতি নামাজের জন্য নতুন করে অজু করবে।সহিহ বুখারী ২২৮সহিহ
  • যার আগের নিয়মিত দিন জানা নেই, সে রক্তের রং ও ধরন দেখে পার্থক্য করবে; আর তাও সম্ভব না হলে সাধারণ নারীদের মতো মাসে ছয় বা সাত দিন হায়েজ ধরবে। এই বিস্তারিত বিধান সুনান গ্রন্থের হাদিসে এসেছে; জটিল অবস্থায় আলেমের সাথে পরামর্শ করুন।সূরা আন-নাহল ১৬:৪৩
পুরো দলিল পড়ুন ১টি হাদিস

ফাতিমা বিনতু আবী হুবাইশ নবীজির (ﷺ) কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার ইস্তিহাযা হয়, আমি পবিত্র হই না; আমি কি নামাজ ছেড়ে দেব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: না, এটা একটা রগের রক্ত, হায়েজ নয়। যখন তোমার হায়েজের দিন আসে, তখন নামাজ ছেড়ে দাও; আর যখন তা শেষ হয়, রক্ত ধুয়ে নামাজ পড়ো। (বর্ণনাকারী হিশাম বলেন,) আমার পিতা বলেছেন: তারপর প্রতি নামাজের জন্য অজু করবে, পরের হায়েজের সময় আসা পর্যন্ত।

সহিহ বুখারী ২২৮সহিহবর্ণনাকারী: আয়েশা (রা.)

হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় কী করা যায়, কী নয়

এক নজরে, সূত্রসহ

যেখানে সহিহ দলিল স্পষ্ট, সেখানে বিধান সরাসরি লেখা আছে; যেখানে আলেমদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মতভেদ আছে, সেখানে তা বলে দেওয়া হয়েছে। নিজের অবস্থা জটিল হলে নির্ভরযোগ্য আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।

কাজবিধানসূত্র
ফরজ ও নফল নামাজপড়বে না; পরে কাযাও নেইসহিহ মুসলিম ৩৩৫সহিহ
রমজানের রোজারাখবে না; পরে কাযা করবেসহিহ মুসলিম ৩৩৫সহিহ
কাবার তাওয়াফকরবে না; হজের বাকি সব কাজ করবেসহিহ বুখারী ৩০৫সহিহ
সহবাসহারাম; অন্য ঘনিষ্ঠতা বৈধসহিহ মুসলিম ৩০২সহিহ
যিকির, দোয়া, ইস্তিগফারকরবে, এতে কোনো নিষেধ নেইসহিহ মুসলিম ৮৯০সহিহ
ঈদগাহে যাওয়াযাবে, নামাজের জায়গা থেকে আলাদা থেকে দোয়ায় শরিক হবেসহিহ মুসলিম ৮৯০সহিহ
রান্না, খাওয়া, একসাথে থাকাসবই স্বাভাবিকসহিহ মুসলিম ৩০২সহিহ
মুখস্থ কুরআন পড়ামতভেদ আছে; নিষেধের হাদিসটি (তিরমিযী ১৩১) দুর্বল, তাই অনেক আলেম অনুমতি দেনআলেমদের মতভেদ
মুসহাফ (কুরআনের কপি) সরাসরি ছোঁয়াচার মাযহাবের অধিকাংশ আলেম নিষেধ করেন; কাপড় বা আবরণ দিয়ে ধরা, অথবা ফোন বা অ্যাপ থেকে পড়ার সুযোগ আছেআলেমদের মতভেদ
মসজিদে বসে থাকাঅধিকাংশ আলেম নিষেধ করেন; প্রয়োজনে কিছু নেওয়া-দেওয়া বৈধসহিহ মুসলিম ২৯৮সহিহ

মুসহাফ ছোঁয়ার ব্যাপারে অধিকাংশ আলেমের দলিল: নবীজির (ﷺ) পাঠানো আমর ইবনু হাযমের চিঠি, "পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না" (মুয়াত্তা মালিক; শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীলে সহিহ বলেছেন)। যাঁরা অনুমতি দেন, তাঁরা বলেন "পবিত্র" শব্দের অর্থ মুমিন, আর হায়েজের কারণে নারী অপবিত্র হয় না। সাবধানতার জন্য আবরণ দিয়ে ধরাই উত্তম।

প্রচলিত কিন্তু সহিহ নয়

পর্দা ও হায়েজ নিয়ে সমাজে অনেক কথা চলে, যার কিছু অতিরিক্ত কড়াকড়ি, কিছু অতিরিক্ত ঢিলেমি। প্রতিটির সাথে সঠিক কথা ও সূত্র দেওয়া হলো।

ভিত্তিহীন "হায়েজের সময় নখ-চুল কাটা যায় না, কাটলে কিয়ামতের দিন ওগুলো অপবিত্র অবস্থায় হাজির হবে"

কুরআন বা সহিহ হাদিসে এমন কোনো নিষেধ নেই। হায়েজের সময় যা নিষেধ, তা নবীজি (ﷺ) স্পষ্ট বলে দিয়েছেন: নামাজ, রোজা, তাওয়াফ ও সহবাস (সহিহ মুসলিম ৩৩৫, সহিহ বুখারী ৩০৫, সূরা আল-বাকারা ২:২২২)। নখ-চুল কাটা এর মধ্যে নেই।

ভুল ধারণা "হায়েজের সময় স্ত্রী অপবিত্র, তার হাতের রান্না খাওয়া বা তার বিছানায় শোয়া যায় না"

এটা ইহুদিদের প্রথা ছিল, যা ইসলাম বাতিল করেছে: "সহবাস ছাড়া সবকিছু করো" (সহিহ মুসলিম ৩০২)। নবীজি (ﷺ) আয়েশার (রা.) হায়েজের সময় তাঁর কোলে হেলান দিয়ে কুরআন পড়তেন (সহিহ বুখারী ২৯৭)।

ভুল ধারণা "দেবর-ভাসুর তো ভাইয়ের মতো, তাদের সাথে পর্দা লাগে না"

নবীজি (ﷺ) স্বামীর আত্মীয়দের ব্যাপারেই সবচেয়ে কঠিন কথা বলেছেন: "স্বামীর আত্মীয় তো মৃত্যু" (সহিহ বুখারী ৫২৩২)। কারণ তারা ঘরে সহজে আসা-যাওয়া করে, আর কেউ সন্দেহও করে না। ভদ্রতা ও সম্মান বজায় রেখেই পর্দা ও নির্জনতা এড়ানো যায়।

ভুল ধারণা "মাথায় কাপড় দিলেই পর্দা হয়ে গেল, পোশাক যেমনই হোক"

যে পোশাক পরেও শরীর বোঝা যায়, পাতলা বা আঁটসাঁট, তার ব্যাপারে নবীজি (ﷺ) কঠিন সতর্কবাণী দিয়েছেন: "কাপড় পরেও উলঙ্গ" (সহিহ মুসলিম ২১২৮)। পর্দার উদ্দেশ্য সৌন্দর্য ঢাকা (সূরা আন-নূর ২৪:৩১), তাই পোশাক ঢিলেঢালা ও অস্বচ্ছ হতে হবে, আর সুগন্ধি মেখে বাইরে যাওয়া যাবে না (সুনানে আন-নাসাঈ ৫১২৬)।

ভুল ধারণা "নিফাসের চল্লিশ দিন পূর্ণ না হলে নামাজ পড়া যাবে না"

চল্লিশ দিন সর্বোচ্চ সীমা, বাধ্যতামূলক অপেক্ষা নয়। ইমাম তিরমিযী আলেমদের ঐকমত্য উল্লেখ করেছেন: এর আগে পবিত্র হলে গোসল করে নামাজ পড়বে (জামে আত-তিরমিযী ১৩৯)।

ভুল ধারণা "পর্দা শুধু নারীদের বিষয়, পুরুষের কোনো দায় নেই"

পর্দার আয়াতে আল্লাহ প্রথমে পুরুষদেরই দৃষ্টি সংযত করতে বলেছেন (সূরা আন-নূর ২৪:৩০), তারপর নারীদের (সূরা আন-নূর ২৪:৩১)। হঠাৎ চোখ পড়লে সরিয়ে নেওয়ার আদেশও দেওয়া হয়েছে একজন পুরুষ সাহাবিকে (সহিহ মুসলিম ২১৫৯)।

ভুল ধারণা "হায়েজের নামাজও পরে কাযা করতে হয়"

আয়েশা (রা.) বলেছেন, আমাদের রোজা কাযা করার আদেশ দেওয়া হতো, নামাজ কাযার আদেশ দেওয়া হতো না (সহিহ মুসলিম ৩৩৫)। এটা আল্লাহর দেওয়া সহজতা।

শেষ কথা: লজ্জা ঈমানের অংশ

সাহাবি নারীরা আয়াত শোনামাত্র চাদর ছিঁড়ে নিজেদের ঢেকেছিলেন (সহিহ বুখারী ৪৭৫৮); তাঁদের কাছে এটা বোঝা নয়, আল্লাহর আদেশ পালনের আনন্দ ছিল। আজ কেউ পর্দা শুরু করতে চাইলে এক ধাপ এক ধাপ করে এগোন, আর আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। আল্লাহ কাউকে সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না (সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬)।

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তবে যা সাধারণত প্রকাশ হয়ে থাকে। আর তারা তাদের গলা ও বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীরা, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা- রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আস, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’

সাথে পড়ুনঅজু, ফরজ গোসল ও তায়াম্মুমের নিয়মহায়েজ ও নিফাসের পর গোসল কীভাবে করবেন, ধাপে ধাপে
deenpedia.com · https://deenpedia.com/jibon/nari-bidhan/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার