deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ

উমরা: ধাপে ধাপে নিয়ম, দোয়া ও সাধারণ ভুল

গাইড ৪/৪যেকোনো সময়হজ ও উমরা

উমরা হজের ছোট ভাই: সারা বছর যেকোনো সময় করা যায়, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শেষ হয়। চারটি কাজ: ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ আর চুল কাটা। কিন্তু ছোট বলে অনেকে না শিখেই চলে যান, আর এমন অনেক কাজ করেন যার কোনো দলিল নেই। এই গাইডে নবীজির (ﷺ) সুন্নাহ অনুযায়ী উমরা, ধাপে ধাপে।

৭টি অধ্যায়
৩টি আয়াত
৯টি হাদিস (সহিহ/হাসান)
৩টি দোয়া

এই পাতার প্রতিটি আয়াত ও হাদিস মূল আরবি সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেওয়া; হাদিস শুধু সহিহ ও হাসান। দুর্বল বর্ণনা শুধু "প্রচলিত ভুল" অংশে, মানসহ। আয়াতের অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।

গল্প দিয়ে শুরু

যে নারী হজে যেতে পারেননি

বিদায় হজ থেকে ফিরে নবীজি (ﷺ) আনসারের এক নারীকে জিজ্ঞেস করলেন: আমাদের সাথে হজে যেতে তোমাকে কী আটকাল?

নারী সরল মনে বললেন: আমাদের দুটো উট ছিল। একটায় চড়ে আমার স্বামী আর ছেলে হজে চলে গেছেন, আর অন্যটা রেখে গেছেন পানি টানার জন্য। ঘরের কাজ ফেলে আমি যেতে পারিনি।

নবীজি (ﷺ) তাঁকে হতাশ করলেন না। বললেন: তাহলে রমজান এলে উমরা করো; রমজানের একটি উমরা একটি হজের সমান।

مَا مَنَعَكِ أَنْ تَحُجِّي مَعَنَا ‏"‏‏.‏ قَالَتْ كَانَ لَنَا نَاضِحٌ فَرَكِبَهُ أَبُو فُلاَنٍ وَابْنُهُ ـ لِزَوْجِهَا وَابْنِهَا ـ وَتَرَكَ نَاضِحًا نَنْضَحُ عَلَيْهِ قَالَ ‏"‏ فَإِذَا كَانَ رَمَضَانُ اعْتَمِرِي فِيهِ فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ حَجَّةٌ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারের এক নারীকে বললেন: আমাদের সাথে হজে যেতে তোমাকে কী আটকাল? সে বলল: আমাদের পানি টানার একটা উট ছিল; সেটায় চড়ে অমুকের বাবা আর তার ছেলে (তার স্বামী ও ছেলে) চলে গেছে, আর আমাদের জন্য রেখে গেছে একটা উট, যেটা দিয়ে আমরা পানি টানি। তিনি বললেন: তাহলে রমজান এলে উমরা করো, কারণ রমজানের একটি উমরা একটি হজের সমান।

সহিহ বুখারী ১৭৮২সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)

এই গল্প আমাদের কী শেখায়? যে আন্তরিকভাবে চেয়েও পারেনি, আল্লাহ তার জন্য অন্য দরজা খুলে দেন। তবে সওয়াবে সমান হলেও রমজানের উমরা ফরজ হজের জায়গা নেয় না; হজ ফরজ হলে তা আলাদা করেই আদায় করতে হয়।

এই গাইডে ৭টি অধ্যায়
১
ফজিলত

উমরা কেন

আল্লাহ হজ ও উমরা দুটোই পূর্ণ করে আদায় করতে বলেছেন।

এক উমরা থেকে আরেক উমরা মাঝের গুনাহের কাফফারা (সহিহ বুখারী ১৭৭৩)। নবীজি (ﷺ) জীবনে চারবার উমরা করেছেন, আর হজ একবার।

উমরা কি ফরজ? শাফিঈ ও হাম্বলি আলেমদের মতে জীবনে একবার উমরা ওয়াজিব; হানাফি ও মালিকি আলেমদের মতে সুন্নাতে মুআক্কাদা। সামর্থ্য থাকলে অন্তত একবার করে নিন।

(কাতাদা বলেন) আমি আনাসকে (রা.) জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কতবার উমরা করেছেন? তিনি বললেন: চারবার। যুল-কাদায় হুদায়বিয়ার উমরা, যখন মুশরিকরা তাঁকে আটকে দিয়েছিল; পরের বছর যুল-কাদায় উমরা, যখন তাদের সাথে সন্ধি করেছিলেন; জিরানার উমরা, যখন (আমার ধারণা) হুনাইনের গনিমত বণ্টন করেছিলেন (আর চতুর্থটি হজের সাথে)। আমি বললাম: হজ কতবার করেছেন? বললেন: একবার।

সহিহ বুখারী ১৭৭৮ সহিহ বর্ণনা: আনাস ইবনু মালিক (রা.)
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ ۚ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۖ وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ ۚ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ ۗ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

আর তোমরা হজ ও ‘উমরা পূর্ণ কর আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে। অতঃপর যদি তোমরা বাঁধা প্রাপ্ত হও তাহলে সহজলভ্য হাদঈ প্রদান করো। আর তোমরা মাথা মুণ্ডন করো না, যে পর্যন্ত হাদঈ তার স্থানে না পৌছে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অসুস্থ হয় বা মাথায় কষ্টদায়ক কিছু হয় তবে সিয়াম কিংবা সাদাকা অথবা পশু যবেহ দ্বারা তার ফিদ্‌ইয়া দিবে। অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কেউ উমরাকে হজের সঙ্গে মিলিয়ে লাভবান হতে চায় সে সহজলভ্য হাদঈ যবাই করবে। কিন্তু যদি কেউ তা না পায়, তবে তাকে হজের সময় তিন দিন এবং ঘরে ফিরার পর সাত দিন এ পূর্ণ দশ দিন সিয়াম পালন করতে হবে। এটা তাদের জন্য, যাদের পরিজনবর্গ মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয়। আর তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং জেনে রাখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ শাস্তি দানে কঠোর।

আপনার জীবনেউমরার নিয়ত থাকলে আলাদা একটা সঞ্চয় খুলুন; আর যাওয়ার আগে এই চারটি ধাপ পরিবারের সবাইকে নিয়ে একবার পড়ে নিন।
২
ধাপ ১

ইহরাম: মীকাত থেকে নিয়ত

উমরার ইহরামের নিয়ম হজের মতোই: গোসল, পুরুষের দুটি সেলাইবিহীন সাদা কাপড়, নারীর সাধারণ শালীন পোশাক (নিকাব ও হাতমোজা ছাড়া), তারপর মীকাতে বা প্লেনে মীকাতের ঘোষণায় নিয়ত, "লাব্বাইকা উমরাতান", আর তালবিয়া (সহিহ বুখারী ১৫৪৯)।

যারা মক্কায় থাকেন বা মক্কায় পৌঁছে আবার উমরা করতে চান, তারা হারামের সীমার বাইরে (সাধারণত তানঈম, যেখানে মসজিদে আয়েশা) গিয়ে ইহরাম বাঁধবেন; নবীজি (ﷺ) আয়েশাকে (রা.) এভাবেই তানঈম থেকে উমরা করিয়েছিলেন। তালবিয়া চলবে তাওয়াফ শুরু পর্যন্ত।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মীকাত ঠিক করে দিয়েছেন: মদিনাবাসীর জন্য যুল-হুলাইফা, শামবাসীর জন্য জুহফা, নজদবাসীর জন্য কারনুল মানাযিল, আর ইয়েমেনবাসীর জন্য ইয়ালামলাম। এগুলো তাদের জন্য, আর অন্য এলাকার যারা হজ বা উমরার নিয়তে এগুলোর উপর দিয়ে আসে, তাদের জন্যও। যারা এগুলোর ভেতরে থাকে, তারা নিজের বাড়ি থেকেই ইহরাম বাঁধবে; এভাবে মক্কাবাসী মক্কা থেকেই।

সহিহ বুখারী ১৫২৬ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
আপনার জীবনেতালবিয়ার অর্থটা মনে রাখুন: "আমি হাজির, হে আল্লাহ"। প্রতিবার বলার সময় নিজেকে মনে করিয়ে দিন, কার ডাকে এসেছেন।
৩
ধাপ ২

তাওয়াফ: কাবার চারপাশে সাত চক্কর

  1. অজু অবস্থায় মসজিদুল হারামে ডান পা দিয়ে ঢুকুন। পুরুষেরা চাদরের মাঝখান ডান বগলের নিচে দিয়ে ডান কাঁধ খোলা রাখবেন (ইযতিবা), শুধু এই তাওয়াফে।
  2. হাজরে আসওয়াদের বরাবর থেকে শুরু: সম্ভব হলে চুমু দিন বা হাত দিয়ে ছুঁয়ে হাতে চুমু; ভিড়ে না পারলে দূর থেকে ডান হাত তুলে ইশারা করে "আল্লাহু আকবার" বলুন। ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করে চুমু দেওয়া সুন্নাহ নয়, বরং অন্যকে কষ্ট দেওয়া হারাম (সহিহ বুখারী ১৫৯৭)।
  3. কাবাকে বাঁ দিকে রেখে সাত চক্কর। পুরুষেরা প্রথম তিন চক্করে ছোট ছোট পায়ে একটু দ্রুত (রমল) চলবেন (সহিহ বুখারী ১৬০৪)।
  4. রুকনে ইয়ামানি (হাজরে আসওয়াদের আগের কোণ) হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়, চুমু নয়; না পারলে ইশারাও নয়, এমনি চলে যান। এই কোণ থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পড়ুন: "রব্বানা আতিনা..." (সুনানে আবু দাউদ ১৮৯২)। বাকি সময় নিজের ভাষায় যেকোনো দোয়া, যিকির বা কুরআন।
  5. সাত চক্কর শেষে কাঁধ ঢেকে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে (ভিড় হলে মসজিদের যেকোনো জায়গায়) দুই রাকাত: প্রথমটায় সূরা কাফিরূন, দ্বিতীয়টায় ইখলাস (সহিহ মুসলিম ১২১৮)। তারপর যমযমের পানি পান।

চক্কর গুনতে ভুল হলে: কম সংখ্যাটা ধরে বাকিটা পূর্ণ করুন। তাওয়াফের মাঝে জামাতের নামাজ শুরু হলে: নামাজ পড়ে যেখান থেকে থেমেছিলেন, সেখান থেকে বাকি চক্কর পূর্ণ করুন।

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দুই রুকনের (রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের) মাঝে বলতে শুনেছি: "রব্বানা আতিনা ফিদ-দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান নার" (হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও, আর আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো)।

সুনানে আবু দাউদ ১৮৯২ হাসান বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনুস সাইব (রা.)
আপনার জীবনেতাওয়াফে ফোন দিয়ে ছবি-ভিডিও নয়; এই কয়েক মিনিট শুধু আপনার আর আপনার রবের। দোয়ার তালিকা আগে মুখস্থ করে নিন।
৪
ধাপ ৩

সাঈ: সাফা থেকে মারওয়া

হাজেরা (আ.) শিশু ইসমাঈলের জন্য পানি খুঁজতে এই দুই পাহাড়ের মাঝে দৌড়েছিলেন; সাঈ তাঁরই স্মৃতি। সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন, আর সাঈ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

  1. সাফার কাছে পৌঁছে পড়ুন: "ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ"। নবীজি (ﷺ) বলেছিলেন: আল্লাহ যেখান থেকে শুরু করেছেন, আমিও সেখান থেকে শুরু করছি (সহিহ মুসলিম ১২১৮)।
  2. সাফায় উঠে কাবার দিকে মুখ করে হাত তুলে তিনবার: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়া'দাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু"; মাঝে মাঝে নিজের দোয়া (সহিহ মুসলিম ১২১৮)।
  3. সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা আরেক চক্কর; এভাবে সাত চক্কর, শেষ হবে মারওয়ায়। মারওয়াতেও সাফার মতো দোয়া।
  4. দুই সবুজ বাতির মাঝে পুরুষেরা একটু দৌড়ে চলবেন; নারীরা স্বাভাবিক হাঁটবেন।

সাঈর জন্য অজু জরুরি নয়, তবে উত্তম। অসুস্থ বা দুর্বল হলে হুইলচেয়ারে সাঈ করা যায়।

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যে কেউ (কা’বা) ঘরের হজ বা “উমরা সম্পন্ন করে, এ দু'টির মধ্যে সাঈ করলে তার কোনো পাপ নেই। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকাজ করবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ উত্তম পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।

সূরা আল-বাকারা ২:১৫৮
এই অধ্যায়ের আরও ১টি দলিল

(উরওয়া সূরা বাকারার ১৫৮ আয়াত থেকে বুঝেছিলেন, সাঈ না করলেও দোষ নেই। আয়েশা রা. বললেন) বোনপো, তুমি খারাপ কথা বললে! তোমার ব্যাখ্যা ঠিক হলে আয়াত হতো "সাঈ না করলে দোষ নেই"। আসলে আয়াতটি নাজিল হয়েছে আনসারদের ব্যাপারে: ইসলামের আগে তারা মানাত মূর্তির নামে ইহরাম বাঁধত, তাই সাফা-মারওয়ায় সাঈ করতে সংকোচ বোধ করত। মুসলিম হওয়ার পর তারা রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) এ নিয়ে জিজ্ঞেস করল, তখন আল্লাহ নাজিল করলেন: "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম।" আয়েশা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দুইয়ের মাঝে সাঈ সুন্নাহ (নির্ধারিত বিধান) করেছেন, তাই কারো জন্য তা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

সহিহ বুখারী ১৬৪৩সহিহবর্ণনাকারী: আয়েশা (রা.)
আপনার জীবনেসাঈর প্রতিটি চক্করে হাজেরার (আ.) কথা ভাবুন: অসহায় অবস্থায়ও তিনি আল্লাহর উপর ভরসা করে চেষ্টা থামাননি। নিজের কঠিন সময়ের জন্য এখানে দোয়া করুন।
৫
ধাপ ৪

চুল কাটা, তারপর ইহরাম খোলা

সাঈর পর পুরুষেরা মাথা মুণ্ডাবেন বা পুরো মাথার চুল ছোট করবেন; মুণ্ডানো উত্তম, নবীজি (ﷺ) এদের জন্য তিনবার দোয়া করেছেন।

নারীরা চুলের আগা একসাথে ধরে আঙুলের এক কর পরিমাণ কাটবেন। এখানেই উমরা শেষ; ইহরামের সব নিষেধ উঠে গেল।

তামাত্তু হজে হজের আগে উমরা করলে চুল একটু ছোট করাই ভালো, যাতে হজের পর মুণ্ডানোর মতো চুল থাকে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হে আল্লাহ, মাথা মুণ্ডানো লোকদের প্রতি রহম করো। সাহাবিরা বললেন: আর চুল ছোটকারীদের প্রতি, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: হে আল্লাহ, মাথা মুণ্ডানোদের প্রতি রহম করো। তারা আবার বললেন: আর চুল ছোটকারীদের প্রতি? তিনি বললেন: আর চুল ছোটকারীদের প্রতিও।

সহিহ বুখারী ১৭২৭ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)
আপনার জীবনেচুল কাটার পর দুই রাকাত শোকরের নামাজ পড়ে নিজের, পরিবারের আর যারা দোয়া চেয়েছে, তাদের জন্য দোয়া করুন।
৬
নারীদের

নারীদের উমরা

  • মাহরামের শর্ত হজের মতোই (সহিহ বুখারী ১৮৬২)।
  • ইহরামে কোনো নির্দিষ্ট রং নেই; শুধু নিকাব আর হাতমোজা নয় (সহিহ বুখারী ১৮৩৮)।
  • তালবিয়া আস্তে; তাওয়াফে রমল আর সাঈতে দৌড় নেই।
  • হায়েয অবস্থায় ইহরাম বাঁধা যায়, কিন্তু তাওয়াফ করা যায় না; পবিত্র হয়ে তাওয়াফ ও সাঈ করবেন (সহিহ বুখারী ৩০৫)।
  • পুরুষের ভিড়ে হাজরে আসওয়াদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না; দূর থেকে ইশারাই যথেষ্ট।

আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে বের হলাম, শুধু হজের কথাই ভাবছিলাম। সারিফে পৌঁছলে আমার হায়েয শুরু হলো। নবী (ﷺ) আমার কাছে এসে দেখেন আমি কাঁদছি। বললেন: কাঁদছ কেন? বললাম: আল্লাহর কসম, এ বছর হজে না এলেই ভালো হতো। বললেন: হয়তো তোমার হায়েয শুরু হয়েছে? বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এটা আল্লাহ আদমের মেয়েদের জন্য লিখে রেখেছেন। হাজিরা যা করে, তুমিও তাই করো; শুধু পবিত্র হওয়ার আগে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করবে না।

সহিহ বুখারী ৩০৫ সহিহ বর্ণনা: আয়েশা (রা.)
আপনার জীবনেযাত্রার তারিখ ঠিক করার সময় নিজের মাসিকের সময়ের কথা মাথায় রাখুন, যাতে মক্কায় থাকার দিনগুলোতে তাওয়াফের সুযোগ থাকে।
৭
মদিনা

মদিনা ও মসজিদে নববী

মদিনা যাওয়া উমরা বা হজের অংশ নয়, কিন্তু বড় সওয়াবের সফর। মসজিদে নববীতে এক নামাজ হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম (সহিহ বুখারী ১১৯০), আর তিন মসজিদের একটি, যেখানে সওয়াবের নিয়তে সফর করা যায়।

মদিনায় গিয়ে নিয়ত করুন মসজিদে নববীর; তারপর নবীজি (ﷺ), আবু বকর ও উমর (রা.)-কে আদবের সাথে সালাম দিন। কবরের দিকে ফিরে দোয়া চাওয়া বা কবরের জালি ছুঁয়ে বরকত নেওয়া সুন্নাহ নয়; দোয়া করুন কিবলামুখী হয়ে, আল্লাহর কাছে। রিয়াযুল জান্নাহয় নামাজের জন্য এখন নুসুক অ্যাপে আগে থেকে সময় নিতে হয়। কুবা মসজিদে অজু করে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ, আর বাকী ও উহুদের শহীদদের কবর জিয়ারত সুন্নাহ।

তিনটি মসজিদ ছাড়া (বিশেষ সওয়াবের নিয়তে) সফরের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে না: মসজিদুল হারাম, রাসূলের (ﷺ) মসজিদ আর মসজিদুল আকসা।

সহিহ বুখারী ১১৮৯ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরায়রা (রা.)
আপনার জীবনেমদিনায় নিজের ব্যস্ততা কমিয়ে বেশি সময় মসজিদে নববীতে কাটান; আর নবীজির (ﷺ) জীবনী আগে পড়ে যান, শহরটা তখন অন্যভাবে চোখে পড়বে।

দোয়া, আমল ও যাচাই

এই গাইডের দোয়া, আমলের চেকলিস্ট, প্রচলিত ভুল আর নিজেকে যাচাই

দোয়া

তালবিয়া

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক। (আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। সব প্রশংসা আর নিয়ামত তোমারই, আর রাজত্বও; তোমার কোনো শরিক নেই।)

সহিহ বুখারী ১৫৪৯ সহিহ

দুই রুকনের মাঝের দোয়া

مَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ ‏{‏ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দুই রুকনের (রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের) মাঝে বলতে শুনেছি: "রব্বানা আতিনা ফিদ-দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান নার" (হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও, আর আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো)।

সুনানে আবু দাউদ ১৮৯২ হাসান

কবুলের দোয়া

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٢٧﴾

আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিলেন, (তারা বলছিলেন) ‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

সূরা আল-বাকারা ২:১২৭

কুরআনের দোয়ার অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে; হাদিসের দোয়ার সাথে মূল গ্রন্থের নম্বর ও মান দেওয়া আছে।

রোজা, যাকাত ও হজ: সব গাইড

deenpedia.com · https://deenpedia.com/poth/umrah/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার