وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا
আল্লাহর নাম ও গুণাবলি
কুরআন ও সহিহ হাদিসে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ: প্রতিটির অর্থ ও সূত্র, সাহাবিরা কীভাবে বুঝেছেন, কোন অবস্থায় কোন নামে ডাকবেন, আর প্রচলিত ভুল।
এই পাতায় নামগুলো নেওয়া হয়েছে শুধু কুরআন ও সহিহ হাদিস থেকে, প্রতিটির পাশে সূত্রসহ। নাম ও গুণ বোঝা হয়েছে সাহাবি ও সালাফে সালেহীনের নীতিতে: যা এসেছে তা মেনে নেওয়া, অর্থ বোঝা, কিন্তু ধরন কল্পনা না করা আর সৃষ্টির সাথে তুলনা না করা। দলিল হিসেবে শুধু কুরআন এবং সহিহ ও হাসান হাদিস নেওয়া হয়েছে।
সব সুন্দর নাম আল্লাহরই
আল্লাহ নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন
আল্লাহকে চেনার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ হলো, তিনি নিজে কুরআনে আর তাঁর রাসূল (ﷺ) সহিহ হাদিসে তাঁর যে পরিচয় দিয়েছেন, তা জানা। ঈমানের প্রথম রুকন আল্লাহর প্রতি ঈমান, আর তাঁর নাম ও গুণ জানা সেই ঈমানের ভিত। যে আল্লাহকে যত বেশি চেনে, সে তাঁকে তত বেশি ভালোবাসে, ভয় করে আর তাঁর উপর ভরসা রাখে।
- সব সুন্দর নাম আল্লাহরই; সেই নামগুলো দিয়েই তাঁকে ডাকতে বলা হয়েছে, আর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায় তাদের বর্জন করতে বলা হয়েছে।সূরা আল-আরাফ ৭:১৮০
- "আল্লাহ" নামে ডাকো বা "রহমান" নামে, যে নামেই ডাকো, সব সুন্দর নাম তাঁরই।সূরা আল-ইসরা ১৭:১১০ · সূরা ত্বা-হা ২০:৮
- সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াতে একসাথে চৌদ্দটি নাম এসেছে: রহমান, রহীম, মালিক, কুদ্দূস, সালাম, মুমিন, মুহাইমিন, আযীয, জাব্বার, মুতাকাব্বির, খালিক, বারি, মুসাওয়ির, হাকীম।সূরা আল-হাশর ৫৯:২২ · সূরা আল-হাশর ৫৯:২৩ · সূরা আল-হাশর ৫৯:২৪
- আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে; যে এগুলো আয়ত্ত করবে, সে জান্নাতে যাবে।সহিহ বুখারী ২৭৩৬সহিহ · সহিহ মুসলিম ২৬৭৭সহিহ
- কুরআনের সবচেয়ে মহান আয়াত আয়াতুল কুরসি, যার পুরোটাই আল্লাহর নাম ও গুণের বর্ণনা।সহিহ মুসলিম ৮১০সহিহ · সূরা আল-বাকারা ২:২৫৫
- সূরা ইখলাস পুরোটাই আল্লাহর পরিচয়: তিনি এক, অমুখাপেক্ষী, তাঁর সন্তান নেই, তিনি কারো সন্তান নন, তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।সূরা আল-ইখলাস ১১২:১ · সূরা আল-ইখলাস ১১২:২ · সূরা আল-ইখলাস ১১২:৩ · সূরা আল-ইখলাস ১১২:৪
পুরো দলিল পড়ুন ২টি হাদিস, ৪টি আয়াত
وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক; আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন কর; তাদের কৃতকর্মের ফল অচিরেই তাদেরকে দেয়া হবে।
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۖ هُوَ الرَّحْمَـٰنُ الرَّحِيمُ
তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি গায়েব ও উপস্থিত বিষয়াদির জ্ঞানী; তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু।
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ
তিনি আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনিই অধিপতি, মহাপবিত্র, ক্রটিমুক্ত, নিরাপত্তা বিধায়ক, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল, অতীব মহিমান্বিত। তারা যা শরীক স্থির করে আল্লাহ্ তা হতে পবিত্র, মহান।
هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
তিনিই আল্লাহ সৃজনকর্তা, উদ্ভাবন কর্তা, তাঁরই সকল উত্তম নাম। আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে, সবকিছুই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمَا مِائَةً إِلاَّ وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে, একশো থেকে একটি কম। যে এগুলো আয়ত্ত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(নবীজি (ﷺ) বললেন:) হে আবুল মুনযির, তুমি কি জানো, আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াত তোমার কাছে সবচেয়ে মহান? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম: "আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ূম" (আয়াতুল কুরসি)। তখন তিনি আমার বুকে হাত মেরে বললেন: আল্লাহর কসম, আবুল মুনযির, জ্ঞান তোমার জন্য আনন্দের হোক।
- আয়াতুল কুরসি অর্থসহ মুখস্থ করা (সূরা আল-বাকারা ২:২৫৫)
নাম ও গুণ বোঝার সঠিক নীতি
সাহাবি ও সালাফ যেভাবে বুঝেছেন
আল্লাহ নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন আর রাসূল (ﷺ) তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন, সাহাবিরা তা যেমন এসেছে তেমনই মেনে নিয়েছেন। তাঁরা শব্দের অর্থ বুঝেছেন, কিন্তু সেই গুণ "কেমন" তা কল্পনা করেননি, আর সৃষ্টির সাথেও তুলনা করেননি। এই পথটাই নিরাপদ।
- কোনো কিছুই তাঁর মতো নয়, আর তিনি সব শোনেন, সব দেখেন। এক আয়াতেই সাদৃশ্য অস্বীকার, আবার শোনা ও দেখার গুণ স্বীকার।সূরা আশ-শূরা ৪২:১১
- তাঁর সমতুল্য কেউ নেই; তাঁর সমনাম (সমকক্ষ) কাউকে কি জানো? তাই আল্লাহর জন্য কোনো উপমা বানিয়ো না।সূরা আল-ইখলাস ১১২:৪ · সূরা মারইয়াম ১৯:৬৫ · সূরা আন-নাহল ১৬:৭৪
- নাম ও গুণ শুধু কুরআন ও সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া হয়; নিজের পক্ষ থেকে আল্লাহর নাম বানানো যায় না, কারণ যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তার পেছনে চলা নিষেধ।সূরা আল-ইসরা ১৭:৩৬ · সূরা আল-আরাফ ৭:১৮০
- রহমান আরশের উপর উঠেছেন (ইসতিওয়া)। ইমাম মালিককে এর ধরন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন: "ইসতিওয়া অজানা নয়, এর ধরন বোধগম্য নয়, এতে ঈমান রাখা ওয়াজিব, আর এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিদআত।" (বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত; ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে এর সনদকে উত্তম বলেছেন।)সূরা ত্বা-হা ২০:৫ · সূরা আল-হাদীদ ৫৭:৪
- নবীজি (ﷺ) এক দাসীকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ কোথায়? সে বলল: আসমানে (উপরে)। তিনি তাকে মুমিন বললেন।সহিহ মুসলিম ৫৩৭সহিহ
- প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন; সাহাবিরা এটা যেমন এসেছে তেমনই মেনেছেন, ধরন কল্পনা করেননি।সহিহ বুখারী ১১৪৫সহিহ
যে চারটি ভুল থেকে সালাফ দূরে থেকেছেন
- অর্থ বদলে দেওয়া (তাহরীফ): যেমন "হাত" মানে শুধু "ক্ষমতা" বলে আসল অর্থ সরিয়ে দেওয়া।
- গুণ অস্বীকার করা (তাতীল): কুরআন-হাদিসে আসা গুণকে "আল্লাহর জন্য খাটে না" বলে বাদ দেওয়া।
- ধরন কল্পনা করা (তাকয়ীফ): গুণটি "কেমন", তা মনে মনে ছবি এঁকে ঠিক করা।
- সৃষ্টির সাথে তুলনা (তামসীল): "আমাদের মতোই" বলা। অথচ কোনো কিছুই তাঁর মতো নয় (সূরা আশ-শূরা ৪২:১১)।
পুরো দলিল পড়ুন ২টি হাদিস, ২টি আয়াত
فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا ۖ يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ ۚ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
তিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং গৃহপালিত জন্তুর মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন জোড়া। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন; কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা।
الرَّحْمَـٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَىٰ
দয়াময় (আল্লাহ্) আরশের উপর উঠেছেন।
فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ لَهَا " أَيْنَ اللَّهُ " . قَالَتْ فِي السَّمَاءِ . قَالَ " مَنْ أَنَا " . قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ . قَالَ " أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ
(মুআবিয়া (রা.) বলেন:) আমি দাসীটিকে নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ কোথায়? সে বলল: আসমানে (উপরে)। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিন।
يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ
আমাদের রব, যিনি বরকতময় ও সুউচ্চ, প্রতি রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন: কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?
নাম "আয়ত্ত করা" মানে কী
শুধু মুখস্থ নয়, চারটি ধাপ
হাদিসে "আহসাহা" শব্দ এসেছে, যার মানে গুনে গুনে আয়ত্ত করা; মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে "হাফিযাহা", অর্থাৎ সংরক্ষণ করা। ইবনুল কাইয়িম (বাদায়েউল ফাওয়ায়িদ) ব্যাখ্যা করেছেন, নাম আয়ত্ত করার কয়েকটি স্তর আছে: শব্দ মুখস্থ করা, অর্থ বোঝা, আর সেই নাম দিয়ে আল্লাহকে ডাকা। আলেমরা এর সাথে যোগ করেছেন জীবনে তার প্রভাব।
- মুখস্থ করা: নামগুলো সঠিক উচ্চারণে শেখা।সহিহ মুসলিম ২৬৭৭সহিহ
- অর্থ বোঝা: প্রতিটি নাম আল্লাহ সম্পর্কে কী বলে, তা জানা। ঈমানের শুরুই জানা দিয়ে।সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:১৯
- নাম ধরে ডাকা: প্রশংসা ও প্রার্থনায় মানানসই নাম ব্যবহার করা, যেমন ক্ষমা চাইলে "গাফূর, রহীম"। নবীজি (ﷺ) আবু বকরকে (রা.) এভাবেই দোয়া শিখিয়েছেন।সূরা আল-আরাফ ৭:১৮০ · সহিহ বুখারী ৮৩৪সহিহ
- জীবনে প্রভাব: যে জানে আল্লাহ দেখেন, সে গোপনেও সাবধান হয়; যে জানে তিনি রাযযাক, সে হারাম রোজগারের দিকে যায় না।সূরা আল-আলাক ৯৬:১৪ · সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৮
পুরো দলিল পড়ুন ১টি হাদিস, ১টি আয়াত
لِلَّهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ اسْمًا مَنْ حَفِظَهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ
আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে; যে এগুলো সংরক্ষণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আল্লাহ বেজোড় (একক), তিনি বেজোড় ভালোবাসেন।
وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক; আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন কর; তাদের কৃতকর্মের ফল অচিরেই তাদেরকে দেয়া হবে।
৬৮টি নাম: অর্থ ও সূত্র
কুরআন ও সহিহ হাদিস থেকে, বিষয় অনুযায়ী সাজানো
প্রতিটি নামের নিচের সূত্রে চাপ দিলে সেই আয়াত বা হাদিস খুলবে, যেখানে নামটি এসেছে। অর্থ লেখা হয়েছে তাফসীর ইবনু কাসীর ও আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সহজ ভাষায়। এগুলো সব নাম নয়; সবচেয়ে বেশি আসা আর দৈনন্দিন দোয়ায় কাজে লাগা নামগুলো বেছে নেওয়া হয়েছে।
এক ও অদ্বিতীয়একত্ব, চিরঞ্জীবতা ও মহিমার নাম
- اللّٰهআল্লাহএকমাত্র সত্য ইলাহ, যাঁর ইবাদত করা হয়; সব নাম এই নামেরই গুণসূরা ত্বা-হা ২০:১৪
- الأَحَدআল-আহাদএকক; সত্তা, গুণ ও কাজে অদ্বিতীয়সূরা আল-ইখলাস ১১২:১
- الصَّمَدআস-সামাদসবাই যাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী ননসূরা আল-ইখলাস ১১২:২
- الوَاحِد القَهَّارআল-ওয়াহিদ, আল-কাহহারএক; সবকিছুর উপর প্রবল, সবাই তাঁর অধীনসূরা আর-রাদ ১৩:১৬
- الحَيّ القَيُّومআল-হাইয়ু, আল-কাইয়ূমচিরঞ্জীব, যাঁর মৃত্যু বা তন্দ্রা নেই; নিজে প্রতিষ্ঠিত এবং সবকিছুর ধারকসূরা আল-বাকারা ২:২৫৫
- العَلِيّ العَظِيمআল-আলিয়ু, আল-আযীমসবার উপরে, সত্তা, মর্যাদা ও ক্ষমতায়; মহানসূরা আল-বাকারা ২:২৫৫
- الكَبِير المُتَعَالআল-কাবীর, আল-মুতাআলসবচেয়ে বড়, সবকিছুর ঊর্ধ্বেসূরা আর-রাদ ১৩:৯
- الأَوَّل الآخِرআল-আউয়াল, আল-আখিরপ্রথম, যাঁর আগে কিছু নেই; শেষ, যাঁর পরে কিছু নেইসূরা আল-হাদীদ ৫৭:৩
- الظَّاهِر البَاطِنআয-যাহির, আল-বাতিনসবার উপরে, যাঁর উপরে কিছু নেই; নিকটতম, যাঁর চেয়ে নিকটে কিছু নেই (নবীজির ব্যাখ্যা)সহিহ মুসলিম ২৭১৩সহিহ
- القُدُّوس السَّلَامআল-কুদ্দূস, আস-সালামসব দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র; সব অপূর্ণতা থেকে মুক্ত, শান্তির উৎসসূরা আল-হাশর ৫৯:২৩
- الحَقّআল-হাক্কসত্য; তাঁর অস্তিত্ব, কথা ও প্রতিশ্রুতি সত্যসূরা আল-হাজ্জ ২২:৬
- المَجِيدআল-মাজীদমহিমান্বিত, যাঁর মর্যাদা ও দান অসীমসূরা হুদ ১১:৭৩
দয়া ও ক্ষমাগুনাহগারের আশার নাম
- الرَّحْمٰنআর-রহমানপরম দয়ালু; যাঁর দয়া সব সৃষ্টিকে ঘিরে আছে। এই নাম শুধু আল্লাহরসূরা আল-ইসরা ১৭:১১০
- الرَّحِيمআর-রহীমঅতি দয়ালু; বিশেষ করে মুমিনদের প্রতি দয়া করেনসূরা আল-আহযাব ৩৩:৪৩
- الغَفُورআল-গাফূরবিপুল ক্ষমাশীল; গুনাহ ঢেকে দেন ও মাফ করেনসূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩
- التَّوَّابআত-তাওয়াববারবার তাওবার তাওফিক দেন আর তাওবা কবুল করেনসূরা আল-বাকারা ২:৩৭
- العَفُوّআল-আফুউগুনাহ একেবারে মুছে দেন, যেন তার চিহ্নও না থাকেসূরা আন-নিসা ৪:৪৩
- الرَّءُوفআর-রউফঅতি স্নেহশীল, কোমল দয়ার অধিকারীসূরা আল-বাকারা ২:১৪৩
- الوَدُودআল-ওয়াদূদমুমিনদের ভালোবাসেন, আর তিনিই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার যোগ্যসূরা আল-বুরূজ ৮৫:১৪
- الحَلِيمআল-হালীমসহনশীল; অবাধ্যকে শাস্তি দিতে তাড়াহুড়া করেন না, সময় দেনসূরা আল-বাকারা ২:২২৫
- الشَّكُورআশ-শাকূরসামান্য আমলেরও কদর করেন, বহুগুণ প্রতিদান দেনসূরা ফাতির ৩৫:৩৪
- الكَرِيمআল-কারীমমহানুভব, অঢেল দানশীলসূরা আল-ইনফিতার ৮২:৬
সৃষ্টি, রিযিক ও রাজত্বযিনি বানান, চালান ও খাওয়ান
- الرَّبّআর-রবপ্রতিপালক; সৃষ্টি করেন, মালিক, আর সবকিছু পরিচালনা করেনসূরা আল-ফাতিহা ১:২
- الخَالِق البَارِئ المُصَوِّرআল-খালিক, আল-বারি, আল-মুসাওয়িরসৃষ্টিকর্তা; নমুনা ছাড়াই অস্তিত্বে আনেন; প্রত্যেককে আলাদা রূপ দেনসূরা আল-হাশর ৫৯:২৪
- الخَلَّاقআল-খাল্লাকবারবার ও অগণিত সৃষ্টিকারীসূরা আল-হিজর ১৫:৮৬
- الرَّزَّاقআর-রাযযাকরিযিকদাতা; সব প্রাণীর খাবার ও প্রয়োজন তাঁর হাতেসূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৮
- الوَهَّابআল-ওয়াহহাববিনিময় ছাড়াই অঢেল দানকারীসূরা আলে ইমরান ৩:৮
- الفَتَّاحআল-ফাত্তাহরহমত ও রিযিকের দরজা খুলে দেন; ন্যায্য ফায়সালা করেনসূরা সাবা ৩৪:২৬
- المَلِكআল-মালিকপ্রকৃত বাদশাহ; সব রাজত্ব তাঁরইসূরা আল-হাশর ৫৯:২৩
- الغَنِيّ الحَمِيدআল-গানিয়্যু, আল-হামীদকারো মুখাপেক্ষী নন; সব অবস্থায় প্রশংসিতসূরা ফাতির ৩৫:১৫
- القَوِيّ المَتِينআল-কাওয়িয়্যু, আল-মাতীনমহাশক্তিধর; সুদৃঢ়, কখনো দুর্বল বা ক্লান্ত হন নাসূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৮
- العَزِيزআল-আযীযপরাক্রমশালী; কেউ তাঁকে পরাস্ত করতে পারে নাসূরা আল-হাশর ৫৯:২৩
- الجَبَّار المُتَكَبِّرআল-জাব্বার, আল-মুতাকাব্বিরপ্রবল, যাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছু হয় না, ভাঙা অন্তর জোড়া লাগান; বড়ত্ব শুধু তাঁরই সাজেসূরা আল-হাশর ৫৯:২৩
- القَدِيرআল-কাদীরসবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবানসূরা আল-বাকারা ২:২০
জ্ঞান, শোনা ও দেখাযাঁর কাছে কিছুই গোপন নয়
- العَلِيمআল-আলীমসব জানেন: যা ছিল, যা আছে, যা হবেসূরা আল-বাকারা ২:৩২
- الحَكِيمআল-হাকীমপ্রজ্ঞাময়; প্রতিটি কাজ ও বিধান ঠিক জায়গায়সূরা আল-বাকারা ২:৩২
- السَّمِيع البَصِيرআস-সামী, আল-বাসীরসব শোনেন, সব দেখেন; মনের গোপন কথাও তাঁর অজানা নয়সূরা আশ-শূরা ৪২:১১
- اللَّطِيف الخَبِيرআল-লাতীফ, আল-খাবীরসূক্ষ্মদর্শী ও কোমল, অজান্তে কল্যাণ পৌঁছে দেন; সব খবর রাখেনসূরা আল-মুলক ৬৭:১৪
- الرَّقِيبআর-রকীবসবসময় পর্যবেক্ষণকারীসূরা আন-নিসা ৪:১
- الشَّهِيدআশ-শাহীদসবকিছুর সাক্ষী, কিছুই তাঁর অগোচরে নেইসূরা আন-নিসা ৪:৩৩
- المُهَيْمِنআল-মুহাইমিনসবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক ও রক্ষকসূরা আল-হাশর ৫৯:২৩
- الحَفِيظআল-হাফীযহেফাজতকারী; বান্দা ও তার আমল সংরক্ষণ করেনসূরা হুদ ১১:৫৭
কাছে থাকেন, সাড়া দেনভরসা আর দোয়ার নাম
- القَرِيب المُجِيبআল-কারীব, আল-মুজীবনিকটবর্তী; ডাকলে সাড়া দেনসূরা হুদ ১১:৬১
- الوَكِيلআল-ওয়াকীলযাঁর উপর ভরসা করা যায়; সব কাজ সামলে দেনসূরা আলে ইমরান ৩:১৭৩
- الوَلِيّআল-ওয়ালীমুমিনদের অভিভাবক ও বন্ধুসূরা আশ-শূরা ৪২:৯
- الحَسِيبআল-হাসীবহিসাব গ্রহণকারী; বান্দার জন্য যথেষ্টসূরা আন-নিসা ৪:৬
- المُؤْمِنআল-মুমিননিরাপত্তাদাতা; তাঁর রাসূলদের সত্যায়নকারীসূরা আল-হাশর ৫৯:২৩
সহিহ হাদিসে আসা নামনবীজি (ﷺ) নিজে যে নামে আল্লাহর পরিচয় দিয়েছেন
- الرَّفِيقআর-রফীককোমল, ধীরে ও সহজভাবে কাজ করেন; কোমলতা ভালোবাসেনসহিহ মুসলিম ২৫৯৩সহিহ
- الجَمِيلআল-জামীলসুন্দর; সৌন্দর্য ভালোবাসেনসহিহ মুসলিম ৯১সহিহ
- الطَّيِّبআত-তাইয়িবপবিত্র; শুধু পবিত্র জিনিস গ্রহণ করেনসহিহ মুসলিম ১০১৫সহিহ
- الوِتْرআল-বিতরবেজোড়, একক; বেজোড় ভালোবাসেনসহিহ মুসলিম ২৬৭৭সহিহ
- الشَّافِيআশ-শাফীআরোগ্যদাতা; তাঁর আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেইসহিহ বুখারী ৫৬৭৫সহিহ
- المَنَّانআল-মান্নানঅনুগ্রহকারী, চাওয়ার আগেই দান করেনসুনানে আবু দাউদ ১৪৯৫সহিহ
সহিহ হাদিসে আল্লাহর গুণ
রহমত, সৌন্দর্য, কোমলতা, তাওবায় খুশি
কুরআনের পাশাপাশি নবীজি (ﷺ) নিজেও আল্লাহর অনেক গুণের কথা বলেছেন। এগুলো পড়লে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা আর আশা দুটোই বাড়ে।
- আল্লাহর একশো রহমত; দুনিয়ার সব মায়া-মমতা তার মাত্র একটি থেকে। বাকি নিরানব্বইটি কিয়ামতের দিনের জন্য রাখা।সহিহ মুসলিম ২৭৫২সহিহ
- তাঁর রহমত তাঁর রাগের উপর জয়ী, এটা তিনি নিজের জন্য লিখে রেখেছেন।সহিহ বুখারী ৭৪০৪সহিহ · সূরা আল-আনআম ৬:৫৪
- আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন।সহিহ মুসলিম ৯১সহিহ
- আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না।সহিহ মুসলিম ১০১৫সহিহ
- আল্লাহ কোমল, কোমলতা ভালোবাসেন; কোমলতায় যা দেন, কঠোরতায় তা দেন না।সহিহ মুসলিম ২৫৯৩সহিহ
- আল্লাহ বেজোড় (একক), তিনি বেজোড় ভালোবাসেন।সহিহ মুসলিম ২৬৭৭সহিহ
- বান্দার তাওবায় তিনি মরুভূমিতে হারানো উট ফিরে পাওয়া মানুষের চেয়েও বেশি খুশি হন।সহিহ বুখারী ৬৩০৯সহিহ
- বান্দা তাঁকে যেমন ভাবে, তিনি তেমন; বান্দা এক বিঘত এগোলে তিনি এক হাত এগিয়ে আসেন।সহিহ বুখারী ৭৪০৫সহিহ
- রাতে তিনি হাত বাড়িয়ে দেন দিনের গুনাহগারের তাওবার জন্য, দিনে হাত বাড়িয়ে দেন রাতের গুনাহগারের জন্য।সহিহ মুসলিম ২৭৫৯সহিহ
পুরো দলিল পড়ুন ৫টি হাদিস
আল্লাহর একশোটি রহমত আছে। তার মাত্র একটি তিনি জিন, মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু ও পোকামাকড়ের মাঝে নামিয়েছেন। সেই একটির কারণেই তারা একে অপরের প্রতি মমতা দেখায়, দয়া করে, আর বন্য প্রাণীও তার বাচ্চার প্রতি মমতা দেখায়। বাকি নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ রেখে দিয়েছেন; কিয়ামতের দিন এগুলো দিয়ে তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করবেন।
لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ فِي كِتَابِهِ ـ هُوَ يَكْتُبُ عَلَى نَفْسِهِ، وَهْوَ وَضْعٌ عِنْدَهُ عَلَى الْعَرْشِ ـ إِنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي
আল্লাহ যখন সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর কিতাবে লিখলেন, যা তাঁর কাছে আরশের উপর রাখা আছে, আর তিনি তা নিজের জন্য লিখে নিয়েছেন: নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার রাগের উপর জয়ী থাকবে।
يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ وَيُعْطِي عَلَى الرِّفْقِ مَا لاَ يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ وَمَا لاَ يُعْطِي عَلَى مَا سِوَاهُ
হে আয়েশা, আল্লাহ কোমল (রফীক), তিনি কোমলতা ভালোবাসেন। কোমলতার কারণে তিনি যা দেন, কঠোরতার কারণে তা দেন না, আর অন্য কিছুর কারণেও তা দেন না।
اللَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ، وَقَدْ أَضَلَّهُ فِي أَرْضِ فَلاَةٍ
বান্দা যখন তাওবা করে, তখন আল্লাহ তোমাদের সেই লোকের চেয়েও বেশি খুশি হন, যে মরুভূমিতে তার হারিয়ে যাওয়া উট হঠাৎ ফিরে পায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা রাখে, আমি তেমনই। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সাথে থাকি। সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করলে আমিও মনে মনে তাকে স্মরণ করি; কোনো মজলিসে আমাকে স্মরণ করলে আমি তার চেয়ে উত্তম মজলিসে তাকে স্মরণ করি। সে এক বিঘত কাছে এলে আমি এক হাত কাছে যাই; এক হাত কাছে এলে আমি দুই বাহু পরিমাণ কাছে যাই; সে হেঁটে এলে আমি দৌড়ে যাই।
- আল্লাহ সম্পর্কে সবসময় ভালো ধারণা রাখা (সহিহ বুখারী ৭৪০৫)
কোন অবস্থায় কোন নামে ডাকবেন
নাম জানার আসল লাভ: প্রয়োজনের সময় ঠিক নামে ডাকা
কুরআনের বেশিরভাগ দোয়া আর আয়াতের শেষ অংশ মিলিয়ে দেখুন: যেখানে ক্ষমার কথা, সেখানে "গাফূর, রহীম"; যেখানে শাস্তির কথা, সেখানে "আযীয, হাকীম"। আমরাও প্রয়োজন অনুযায়ী নাম বেছে নিতে পারি।
| অবস্থা | যে নামে ডাকবেন | সূত্র |
|---|---|---|
| গুনাহ হয়ে গেলে, নিরাশ লাগলে | আল-গাফূর, আত-তাওয়াব, আর-রহীম | সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩ |
| লাইলাতুল কদরে ও ক্ষমা চাওয়ার সময় | আল-আফুউ, আল-কারীম | জামে আত-তিরমিযী ৩৫১৩সহিহ |
| বিপদ ও দুশ্চিন্তায় | আল-হাইয়ু, আল-কাইয়ূম | জামে আত-তিরমিযী ৩৫২৪হাসান |
| কোনো কাজে ভয় বা চাপ থাকলে | আল-ওয়াকীল ("হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকীল") | সূরা আলে ইমরান ৩:১৭৩ |
| রিযিক ও চাকরির চিন্তায় | আর-রাযযাক, আল-ফাত্তাহ, আল-ওয়াহহাব | সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৮ |
| অসুখে, নিজের বা রোগীর জন্য | আশ-শাফী, রব্বান নাস | সহিহ বুখারী ৫৬৭৫সহিহ |
| একা ও অসহায় লাগলে | আল-কারীব, আল-মুজীব | সূরা আল-বাকারা ২:১৮৬ |
| গোপনে গুনাহের ইচ্ছা জাগলে | আর-রকীব, আল-বাসীর | সূরা আল-আলাক ৯৬:১৪ |
| জুলুমের শিকার হলে | আল-আযীয, আল-হাকীম; আল্লাহ জালিমদের কাজ সম্পর্কে গাফিল নন | সূরা ইবরাহীম ১৪:৪২ |
| ঘুমানোর আগে, ঋণ ও অভাবের চিন্তায় | আল-আউয়াল, আল-আখির, আয-যাহির, আল-বাতিন | সহিহ মুসলিম ২৭১৩সহিহ |
আল্লাহর নাম ধরে দোয়া
নবীজি (ﷺ) আর সাহাবিরা দোয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম ও প্রশংসা আনতেন। নিচের দোয়াগুলো কুরআন ও সহিহ হাদিস থেকে; মুখস্থ করে নিয়মিত পড়ুন।
হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক, আপনার রহমতের ওসিলায় সাহায্য চাই।
জামে আত-তিরমিযী ৩৫২৪হাসানহে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে চাইছি এই সাক্ষ্য দিয়ে যে, আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি জন্ম দেননি, জন্ম নেননি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
সুনানে আবু দাউদ ১৪৯৩সহিহহে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে চাইছি, কারণ সব প্রশংসা আপনারই; আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আপনি মহা অনুগ্রহকারী, আসমান ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা; হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক।
সুনানে আবু দাউদ ১৪৯৫সহিহহে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, মহানুভব, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করুন।
জামে আত-তিরমিযী ৩৫১৩সহিহহে আল্লাহ, আমি নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না; তাই আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন; নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।
সহিহ বুখারী ৮৩৪সহিহআল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
সূরা আলে ইমরান ৩:১৭৩কুরআনপ্রচলিত কিন্তু সহিহ নয়
আল্লাহর নাম নিয়ে কিছু কথা খুব ছড়িয়েছে, যার সবটা ঠিক নয়। প্রতিটির সাথে সঠিক কথা ও সূত্র দেওয়া হলো।
দুর্বল পোস্টার আর বইয়ে চলা ৯৯ নামের তালিকাটি নবীজির (ﷺ) নিজের মুখের কথা
"আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে, যে আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে যাবে", এটুকু সহিহ (সহিহ বুখারী ২৭৩৬, সহিহ মুসলিম ২৬৭৭)। কিন্তু নামগুলোর যে তালিকা সাধারণত ছাপা হয়, তা এসেছে সুনানে তিরমিযী ৩৫০৭-এর বর্ণনা থেকে। ইমাম তিরমিযী নিজেই একে "গরীব" বলেছেন; শাইখ আলবানী, আহমাদ শাকির ও যুবাইর আলী যাঈ একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু তাইমিয়া ও ইবনু হাজারসহ অনেক আলেমের মতে তালিকাটি কোনো বর্ণনাকারীর নিজের সংযোজন, নবীজির (ﷺ) কথা নয়। তাই তালিকার কিছু নাম কুরআন-হাদিসে নাম হিসেবে আসেনি, আবার কুরআনে আসা কিছু নাম, যেমন আর-রব (সূরা আল-ফাতিহা ১:২) ও আল-আকরাম (সূরা আল-আলাক ৯৬:৩), তালিকায় নেই। নাম শিখুন কুরআন ও সহিহ হাদিস থেকে, যেমন এই পাতার কার্ডগুলোতে প্রতিটির সাথে সূত্র দেওয়া আছে।
ভুল ধারণা "আল্লাহর নাম মাত্র ৯৯টি, এর বেশি নেই"
হাদিসটি বলছে, আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে যেগুলো আয়ত্ত করলে জান্নাত; এটা বলছে না যে নাম এর বেশি নেই। ইমাম নববী (শরহু মুসলিম) লিখেছেন, এ বিষয়ে আলেমরা একমত যে হাদিসটি নামকে ৯৯-এ সীমাবদ্ধ করে না। ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণিত দুশ্চিন্তার দোয়ায় নবীজি (ﷺ) বলেছেন: "...অথবা যে নাম আপনি আপনার কাছে গায়েবের জ্ঞানে নিজের জন্য রেখে দিয়েছেন" (মুসনাদে আহমাদ ৩৭১২; শাইখ আলবানী সিলসিলাতুস সহীহাহ ১৯৯-এ সহিহ বলেছেন)। অর্থাৎ এমন নামও আছে যা আল্লাহ কাউকে জানাননি।
ভুল ধারণা "আল্লাহ সত্তাসহ সবখানে বিরাজমান"
কুরআন বলছে, আল্লাহ আরশের উপর উঠেছেন (সূরা ত্বা-হা ২০:৫)। একই আয়াতে আছে, "তোমরা যেখানেই থাকো, তিনি তোমাদের সাথে আছেন" (সূরা আল-হাদীদ ৫৭:৪); আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এই সাথে থাকা মানে তাঁর জ্ঞান, শোনা, দেখা ও ক্ষমতা দিয়ে সাথে থাকা। নবীজি (ﷺ) দাসীকে "আল্লাহ কোথায়?" জিজ্ঞেস করে "আসমানে" উত্তর শুনে তাকে মুমিন বলেছেন (সহিহ মুসলিম ৫৩৭)। তাই সঠিক কথা: আল্লাহ আরশের উপর, আর তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সবকিছুকে ঘিরে আছে।
ভিত্তিহীন নির্দিষ্ট নাম নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়লে নির্দিষ্ট ফল, যেমন "ইয়া লাতীফ" এত হাজার বার পড়লে বিপদ কাটে
আল্লাহর নাম ধরে দোয়া করা সুন্নাহ (সূরা আল-আরাফ ৭:১৮০)। কিন্তু কোনো নাম কতবার পড়লে কী ফল হবে, এমন সংখ্যা ও ফলাফলের তালিকা কোনো সহিহ হাদিসে নেই; এগুলো পরে বানানো আমল। নাম লিখে তাবিজ বানানোর ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন: প্রচলিত ভুল পাতায় তাবিজের বিশ্লেষণ দেখুন। সুন্নাহ হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী মানানসই নাম দিয়ে আন্তরিকভাবে দোয়া করা।
এড়িয়ে চলুন আবদুর রহমানকে শুধু "রহমান", আবদুল খালিককে শুধু "খালিক" বলে ডাকা
আর-রহমান নামটি শুধু আল্লাহর; কুরআন একে "আল্লাহ" নামের পাশে রেখেছে (সূরা আল-ইসরা ১৭:১১০)। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান (সহিহ মুসলিম ২১৩২)। তাই এমন নামের মানুষকে পুরো নামে ডাকুন, "আবদ" (বান্দা) অংশ বাদ দেবেন না। আর "আবদুন নবী", "আবদুর রাসূল" ধরনের নাম, যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো বান্দা বলা হয়, তা রাখা যায় না; ইবনু হাযম বলেছেন, এ বিষয়ে আলেমরা একমত।
শেষ কথা: প্রতিদিন একটি নাম
সবগুলো নাম একদিনে মুখস্থ করার দরকার নেই। প্রতিদিন একটি নাম নিন: অর্থ পড়ুন, সূত্রের আয়াতটি পড়ুন, আর সেদিনের দোয়ায় নামটি দিয়ে আল্লাহকে ডাকুন। যে আল্লাহকে চেনে, সে তাঁকে ভালোবাসে; আর আল্লাহ বলেছেন, বান্দা তাঁর দিকে এক বিঘত এগোলে তিনি এক হাত এগিয়ে আসেন (সহিহ বুখারী ৭৪০৫)।
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۖ هُوَ الرَّحْمَـٰنُ الرَّحِيمُ
তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি গায়েব ও উপস্থিত বিষয়াদির জ্ঞানী; তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু।
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ
তিনি আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনিই অধিপতি, মহাপবিত্র, ক্রটিমুক্ত, নিরাপত্তা বিধায়ক, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল, অতীব মহিমান্বিত। তারা যা শরীক স্থির করে আল্লাহ্ তা হতে পবিত্র, মহান।
هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
তিনিই আল্লাহ সৃজনকর্তা, উদ্ভাবন কর্তা, তাঁরই সকল উত্তম নাম। আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে, সবকিছুই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।