deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنكُمْ شَيْئًا

হুনাইন যুদ্ধ: সংখ্যার অহংকার আর "আমি নবী, এতে মিথ্যা নেই"

বদরে তিনশো তেরো জন জিতেছিলেন। হুনাইনে বারো হাজার জন প্রথমে পালালেন। আল্লাহ দেখিয়ে দিলেন, বিজয় সংখ্যায় নয়। তারপর যুদ্ধের পর গনিমতের বণ্টনে এল আরেক পরীক্ষা, এবার আনসারদের ভালোবাসার।

৬ দৃশ্য৪ হাদিস৭ আয়াত

সীরাত · মাদানী যুগ৬৩০ খ্রি. · ৮ হিজরি · শাওয়াল

কখন
৮ হিজরি, শাওয়াল মাস, মক্কা বিজয়ের প্রায় দুই সপ্তাহ পর
কোথায়
মক্কা ও তায়েফের মাঝে হুনাইন উপত্যকা
দুই পক্ষ
মুসলিম প্রায় ১২,০০০ জন (মদিনার দশ হাজার আর মক্কার নতুন মুসলিম দুই হাজার); হাওয়াযিন ও সাকীফ গোত্র
এই গল্পে
উপত্যকার ফাঁদ থেকে জিইররানায় গনিমত বণ্টন পর্যন্ত

কেন পড়বেন: হুনাইন নিয়ে আল্লাহ কুরআনে নিজে বলেছেন, তোমাদের সংখ্যা তোমাদের মুগ্ধ করেছিল। অহংকারের শাস্তি, নেতার দৃঢ়তা, আর গনিমত নিয়ে মনের কষ্ট কীভাবে ভালোবাসায় বদলে যায়, সবকিছু এক গল্পে।

গল্প

বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।

  1. ১

    শাওয়াল, ৮ হিজরি

    "আজ আমরা সংখ্যায় হারব না"

    মক্কা বিজয়ের পর হাওয়াযিন আর সাকীফ গোত্র ভাবল, এবার তাদের পালা; তারা বিশাল বাহিনী নিয়ে বের হলো। নবীজি (ﷺ) বারো হাজার সাহাবি নিয়ে মোকাবেলায় গেলেন, ইসলামের ইতিহাসে তখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাহিনী। সীরাতের বর্ণনায় আছে, কেউ কেউ বললেন, আজ আমরা সংখ্যার অভাবে হারব না। আল্লাহ এই মনোভাবের কথা কুরআনে বলেছেন:

    لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ ۙ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ ۙ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُم مُّدْبِرِينَ

    অবশ্যই আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন বহু ক্ষেত্রে এবং হুনায়নের যুদ্ধের দিনে যখন তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল তোমাদের সংখ্যাধিক্য হওয়া; কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি এবং বিস্তৃত হওয়া সত্বেও যমীন তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল। তারপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়েছিলে।

    সূত্রসূরা আত-তাওবা ৯:২৫ কুরআনইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: হাওয়াযিনের প্রস্তুতি ও মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ঐতিহাসিক বর্ণনা

    বদরে সংখ্যা কম ছিল, তাঁরা আল্লাহর দিকে তাকিয়েছিলেন। হুনাইনে সংখ্যা বেশি ছিল, কেউ কেউ নিজেদের দিকে তাকালেন। পার্থক্যটা এখানেই।

  2. ২

    যুদ্ধের ভোর

    উপত্যকায় তীরের বৃষ্টি

    হাওয়াযিন ছিল দক্ষ তীরন্দাজ। তারা উপত্যকার দুই পাশে ওত পেতে ছিল। প্রথম আক্রমণে তারা পিছু হটল, মুসলিমরা গনিমতের দিকে ঝুঁকলেন, আর তখনই চারদিক থেকে তীর। বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। কিন্তু একজন জায়গা ছাড়েননি:

    এক লোক বারা ইবনু আযিবকে (রা.) জিজ্ঞেস করল: হুনাইনের দিন কি আপনারা রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) ছেড়ে পালিয়েছিলেন? তিনি বললেন: কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পালাননি। হাওয়াযিন ছিল দক্ষ তীরন্দাজ জাতি। আমরা আক্রমণ করলে তারা পালাল; মুসলিমরা গনিমতের দিকে ঝুঁকে পড়ল, আর তারা তীর দিয়ে আমাদের সামনে থেকে আঘাত করল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পালাননি। আমি তাঁকে দেখেছি তাঁর সাদা খচ্চরের পিঠে, আবু সুফিয়ান (ইবনুল হারিস) তার লাগাম ধরে আছেন, আর নবীজি (ﷺ) বলছেন: আমি নবী, এতে মিথ্যা নেই; আমি আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।

    সহিহ বুখারী ২৮৬৪সহিহবর্ণনাকারী: বারা ইবনু আযিব (রা.)

    সূত্রসহিহ বুখারী ২৮৬৪ সহিহ

    সবাই যখন পালাচ্ছে, নবীজি (ﷺ) শত্রুর দিকে এগোচ্ছেন, আর নিজের নাম-পরিচয় ঘোষণা করছেন, যাতে সাহাবিরা জানে তিনি কোথায়। নেতা বিপদে সবার সামনে থাকেন।

  3. ৩

    বিপর্যয়ের মুহূর্তে

    "কোথায় গাছের নিচের বাইআতকারীরা?"

    নবীজি (ﷺ) চাচা আব্বাসকে (রা.) বললেন হুদায়বিয়ায় গাছের নিচে বাইআত দেওয়া সাহাবিদের ডাকতে। সেই ডাক শুনে যা ঘটল:

    হুনাইনের দিন আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে ছিলাম। আমি আর আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস তাঁর সাথে লেগে রইলাম, আলাদা হইনি; তিনি ছিলেন তাঁর সাদা খচ্চরে, যা ফারওয়া ইবনু নুফাসা আল-জুযামী তাঁকে উপহার দিয়েছিল। মুসলিম আর কাফেররা মুখোমুখি হতেই মুসলিমরা পিঠ ফিরিয়ে পালাল, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খচ্চর ছুটিয়ে কাফেরদের দিকে এগোতে লাগলেন। আমি লাগাম ধরে টেনে রাখছিলাম, যাতে খুব দ্রুত না যায়, আর আবু সুফিয়ান রেকাব ধরে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আব্বাস, গাছের নিচে বাইআতকারীদের ডাকো। আব্বাস ছিলেন উঁচু গলার মানুষ; আমি গলা ফাটিয়ে ডাকলাম: কোথায় গাছের নিচের বাইআতকারীরা? আল্লাহর কসম, আমার ডাক শুনে তারা এমনভাবে ফিরে এল, যেমন গাভী তার বাছুরের দিকে ছুটে আসে; তারা বলছিল: লাব্বাইক, লাব্বাইক! তারপর লড়াই শুরু হলো ... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খচ্চরের উপর গলা বাড়িয়ে লড়াই দেখে বললেন: এখন চুলা গরম হয়েছে! তারপর কয়েকটি কাঁকর নিয়ে কাফেরদের মুখের দিকে ছুড়ে বললেন: মুহাম্মাদের রবের কসম, ওরা হেরে গেছে। আমি দেখছিলাম, লড়াই আগের মতোই চলছে; কিন্তু আল্লাহর কসম, তিনি কাঁকর ছোড়ার পর থেকেই দেখলাম, তাদের ধার কমে যাচ্ছে, তারা পিছু হটছে।

    সহিহ মুসলিম ১৭৭৫সহিহবর্ণনাকারী: আব্বাস ইবনু আবদিল মুত্তালিব (রা.)

    সূত্রসহিহ মুসলিম ১৭৭৫ সহিহসূরা আল-ফাতহ ৪৮:১৮ কুরআন

    বিপদের সময় নবীজি (ﷺ) তাঁদের মনে করিয়ে দিলেন পুরোনো অঙ্গীকারের কথা। আমাদের ঈমানের পুরোনো অঙ্গীকারগুলো কি মনে আছে?

  4. ৪

    যুদ্ধের মোড় ঘোরা

    প্রশান্তি আর অদৃশ্য বাহিনী

    সাহাবিরা ফিরে এলেন, যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল। আল্লাহ বলেছেন, এটা ছিল তাঁরই সাহায্য:

    ثُمَّ أَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ وَذَٰلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ

    তারপর আল্লাহ্‌ তাঁর নিকট হতে তাঁর রাসূলের উপর ও মুমিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেন এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী নাযিল করলেন যা তোমরা দেখতে পাওনি। আর তিনি কাফেরদেরকে শাস্তি দিলেন; আর এটাই কাফেরদের প্রতিফল।

    হাওয়াযিন পরাজিত হলো, অনেকে তায়েফে গিয়ে আশ্রয় নিল। নবীজি (ﷺ) তায়েফ কিছুদিন অবরোধ করে ফিরে এলেন; পরের বছর সাকীফ নিজেরাই মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করল (সীরাতের বর্ণনা)।

    সূত্রসূরা আত-তাওবা ৯:২৬ কুরআনসূরা আত-তাওবা ৯:২৭ কুরআনইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: তায়েফ অবরোধ ও সাকীফের প্রতিনিধিদল ঐতিহাসিক বর্ণনা

    যে তায়েফ একদিন তাঁকে পাথর মেরেছিল, তাদের জন্য তিনি বদদোয়া করেননি; পরে তারা নিজেরাই এসে মুসলিম হলো।

  5. ৫

    জিইররানায় গনিমত বণ্টন

    "আল্লাহ ও রাসূল ইনসাফ না করলে কে করবে?"

    হুনাইনে বিপুল গনিমত এল। নবীজি (ﷺ) তার বড় অংশ দিলেন মক্কা ও আশেপাশের নতুন মুসলিম নেতাদের, যাদের মন তখনো ইসলামে পুরো স্থির হয়নি (কুরআনে "মুআল্লাফাতুল কুলূব", সূরা আত-তাওবা ৯:৬০)। এক লোক আপত্তি তুলল:

    হুনাইনের দিন নবীজি (ﷺ) বণ্টনে কিছু লোককে বেশি দিলেন: আকরা ইবনু হাবিসকে একশো উট, উয়াইনাকেও তত, আর আরবের কিছু নেতাকে। এক লোক বলল: আল্লাহর কসম, এই বণ্টনে ইনসাফ হয়নি, এতে আল্লাহর সন্তুষ্টিও চাওয়া হয়নি। আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আমি নবীজিকে (ﷺ) জানাব। আমি জানালে তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যদি ইনসাফ না করেন, তাহলে কে করবে? আল্লাহ মূসার উপর রহম করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন।

    সহিহ বুখারী ৩১৫০সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.)

    সূত্রসহিহ বুখারী ৩১৫০ সহিহসূরা আত-তাওবা ৯:৬০ কুরআন

    নিজের সততা নিয়ে প্রশ্ন শুনেও তিনি রাগে কিছু করেননি; মূসার (আ.) ধৈর্য মনে করেছেন। অন্যায় অভিযোগে ধৈর্য নবীদের সুন্নাহ।

  6. ৬

    বণ্টনের পর

    আনসারদের কান্না

    আনসাররা কিছুই পেলেন না। তাঁদের কারও কারও মনে কষ্ট এল। নবীজি (ﷺ) সবাইকে একত্র করে কথা বললেন:

    হুনাইনের দিন আল্লাহ যখন তাঁর রাসূলকে গনিমত দিলেন, তিনি তা যাদের মন জয় করা দরকার (নতুন মুসলিম), তাদের মধ্যে বণ্টন করলেন, আনসারদের কিছু দিলেন না। তাঁরা যেন মনে কষ্ট পেলেন। তখন তিনি তাঁদের সামনে খুতবা দিলেন: হে আনসাররা, আমি কি তোমাদের পথহারা পাইনি, তারপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের হেদায়াত দিয়েছেন? তোমরা বিভক্ত ছিলে, আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের এক করেছেন; তোমরা অভাবী ছিলে, আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের সচ্ছল করেছেন। তিনি যা-ই বলছিলেন, তাঁরা বলছিলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগ্রহ সবচেয়ে বেশি। তিনি বললেন: তোমরা চাইলে বলতে পারতে, আপনি আমাদের কাছে এমন অবস্থায় এসেছিলেন... (অর্থাৎ তোমাদেরও আমার উপর অনুগ্রহ আছে)। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা ছাগল আর উট নিয়ে যাবে, আর তোমরা নবীকে নিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরবে? হিজরত না থাকলে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। মানুষ যদি এক উপত্যকা ও গিরিপথে চলে, আমি আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথে চলব। আনসাররা আমার গায়ের সাথে লাগা কাপড়, আর অন্যরা উপরের কাপড়। আমার পরে তোমরা দেখবে, অন্যদের তোমাদের উপর প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে; তখন ধৈর্য ধরো, যতক্ষণ না হাউজে কাওসারে আমার সাথে দেখা হয়।

    সহিহ বুখারী ৪৩৩০সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু যায়েদ ইবনু আসিম (রা.)

    সীরাতের বর্ণনায় আছে, এ কথা শুনে আনসাররা এত কাঁদলেন যে দাড়ি ভিজে গেল, আর বললেন: আমরা আল্লাহর রাসূলকে ভাগে পেয়েই সন্তুষ্ট।

    সূত্রসহিহ বুখারী ৪৩৩০ সহিহইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: আনসারদের কান্না ও উত্তর ঐতিহাসিক বর্ণনা

    "লোকেরা নিয়ে যাবে ছাগল আর উট, তোমরা নিয়ে যাবে আল্লাহর রাসূলকে।" দুনিয়ার ভাগ কম পেলে মনে রাখি, আমাদের ভাগে কী আছে।

প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়

এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।

ভুল ধারণা হুনাইনে নবীজি (ﷺ) আর সব সাহাবি পালিয়ে গিয়েছিলেন

বারা ইবনু আযিব (রা.) এই প্রশ্নের জবাবেই বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পালাননি (সহিহ বুখারী ২৮৬৪)। আব্বাস (রা.), আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিসসহ কয়েকজন তাঁর সাথে অটল ছিলেন, আর ডাক শুনে বাকিরা দ্রুত ফিরে আসেন (সহিহ মুসলিম ১৭৭৫)।

ভুল ধারণা হুনাইনের গনিমত বণ্টন ছিল আত্মীয়প্রীতি বা অন্যায়

নতুন মুসলিমদের মন জয় করার জন্য দেওয়া যাকাতেরও একটি খাত, কুরআনে নির্ধারিত (সূরা আত-তাওবা ৯:৬০)। নবীজি (ﷺ) নিজে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন, আর আনসাররা তাতে সন্তুষ্ট হয়েছেন (সহিহ বুখারী ৪৩৩০)। এ নিয়ে যে আপত্তি তুলেছিল, নবীজি (ﷺ) তাকে বলেছেন: আল্লাহ ও রাসূল ইনসাফ না করলে কে করবে (সহিহ বুখারী ৩১৫০)?

এই গল্প থেকে আমার জীবনে

গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।

সংখ্যা বা সামর্থ্যে অহংকার নয়

বারো হাজারের বাহিনী প্রথমে পালিয়েছিল, কারণ কেউ কেউ সংখ্যার উপর ভরসা করেছিলেন।

আজকের কাজ: আজ যে কাজ নিয়ে আপনি খুব নিশ্চিত, শুরুর আগে "ইনশাআল্লাহ" আর "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" বলুন।

সূরা আত-তাওবা ৯:২৫ কুরআনসূরা আল-কাহফ ১৮:২৩ কুরআন

বিপদে নেতৃত্ব সামনে থেকে

সবাই যখন পালাচ্ছিল, নবীজি (ﷺ) শত্রুর দিকে এগিয়েছেন।

আজকের কাজ: পরিবারে বা দলে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আজ দায় অন্যের ঘাড়ে না দিয়ে নিজে প্রথম পদক্ষেপ নিন।

সহিহ বুখারী ২৮৬৪ সহিহ

ভাগ কম পেলে মন বড় রাখা

আনসাররা গনিমত পাননি, কিন্তু পেয়েছেন নবীজির (ﷺ) সঙ্গ আর হাউজে সাক্ষাতের ওয়াদা।

আজকের কাজ: আজ কোনো বিষয়ে নিজেকে বঞ্চিত মনে হলে, আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন তার তিনটি নেয়ামত লিখুন।

সহিহ বুখারী ৪৩৩০ সহিহসূরা ইবরাহীম ১৪:৭ কুরআন

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন

"আজ আমরা সংখ্যায় হারব না": এই একটা বাক্য বারো হাজারের বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছিল। আপনার কোন সামর্থ্য বা অর্জন নিয়ে মনে অজান্তে এমন ভরসা জন্মেছে?

সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
  • কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
  • সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
  • ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
  • মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
  • দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।

সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।

deenpedia.com · https://deenpedia.com/sirat/hunayn/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার