جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
মক্কা বিজয়: "সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে"
হুদায়বিয়ার সন্ধি টিকল দুই বছরেরও কম। কুরাইশের মিত্ররা মুসলিমদের মিত্র গোত্রের উপর রাতে হামলা করল, কুরাইশ অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করল। সন্ধি ভাঙল। আর শুরু হলো সেই সফর, যার শেষে কাবা ফিরে পেল ইবরাহীমের (আ.) তাওহীদ।
সীরাত · মাদানী যুগ৬৩০ খ্রি. · ৮ হিজরি · রমজান
- কখন
- ৮ হিজরি, রমজান মাস (প্রসিদ্ধ মতে ২০ রমজান মক্কায় প্রবেশ)
- কোথায়
- মদিনা থেকে মক্কা; চার দিক থেকে চারটি দল মক্কায় প্রবেশ করে
- কারা
- নবীজি (ﷺ) ও প্রায় ১০,০০০ সাহাবি; কুরাইশের পক্ষে আবু সুফিয়ান, যিনি এই সময়েই ইসলাম গ্রহণ করেন
- এই গল্পে
- সন্ধিভঙ্গ থেকে কাবা পবিত্র করা আর সাধারণ নিরাপত্তা পর্যন্ত
কেন পড়বেন: মক্কা বিজয় দেখায় বিজয়ীর চরিত্র কেমন হওয়া উচিত। যারা তাঁকে তেরো বছর কষ্ট দিয়েছিল, ঘর থেকে বের করেছিল, যুদ্ধ করেছিল, তাদের সামনে তিনি দাঁড়ালেন ক্ষমতা নিয়ে, আর দিলেন নিরাপত্তা। প্রতিশোধ নয়, মূর্তি ভাঙা আর মানুষকে মুক্তি দেওয়াই ছিল লক্ষ্য।
গল্প
বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।
- ১
শাবান, ৮ হিজরি
সন্ধি ভাঙল কুরাইশ
হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুযায়ী খুযাআ গোত্র মুসলিমদের মিত্র হয়েছিল, আর বনু বকর কুরাইশের। সীরাতের বর্ণনায় আছে, বনু বকর রাতে খুযাআর উপর হামলা করল, এমনকি হারামের সীমানার ভেতরেও; কুরাইশের কিছু লোক অস্ত্র আর লোক দিয়ে তাদের সাহায্য করল। খুযাআর দূত মদিনায় এসে সাহায্য চাইল। এভাবে কুরাইশ নিজেরাই চুক্তি ভাঙল। কুরআন চুক্তি ভাঙাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুমতি দিয়েছে:
أَلَا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَّكَثُوا أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوا بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُم بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۚ أَتَخْشَوْنَهُمْ ۚ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
তোমরা কি সে সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করবে না, যারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং রাসূলকে বের করে দেয়ার জন্য সংকল্প করেছে? আর তারাই প্রথম তোমাদের সাথে (যুদ্ধ) আরম্ভ করেছে। তোমরা কি তাদেরকে ভয় কর? আল্লাহ্কে ভয় করাই তোমাদের পক্ষে বেশী সমীচীন যদি তোমরা মুমিন হও।
সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: বনু বকরের হামলা ও খুযাআর আবেদন ঐতিহাসিক বর্ণনাসূরা আত-তাওবা ৯:১৩ কুরআন
মুসলিমরা দুই বছর চুক্তির প্রতিটি শর্ত মেনেছেন, এমনকি আবু জানদালকেও ফেরত দিয়েছেন। চুক্তি ভেঙেছে অন্য পক্ষ।
- ২
প্রস্তুতির দিনগুলো
একটি চিঠি আর বদরিদের মর্যাদা
নবীজি (ﷺ) গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যাতে কুরাইশ আগে টের না পায় আর রক্তপাত কম হয়। কিন্তু এক বদরি সাহাবি, হাতিব (রা.), মক্কায় থাকা নিজের পরিবারের নিরাপত্তার ভয়ে কুরাইশকে গোপনে চিঠি পাঠালেন। আল্লাহ নবীজিকে (ﷺ) জানিয়ে দিলেন:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে, যুবাইর আর মিকদাদকে পাঠালেন: রওদাতু খাখ পর্যন্ত যাও, সেখানে উটের পিঠে এক নারী আছে, তার কাছে একটা চিঠি; সেটা নিয়ে এসো। আমরা ঘোড়া ছুটিয়ে সেখানে পৌঁছে নারীটিকে পেলাম, বললাম: চিঠি বের করো। সে বলল: আমার কাছে কোনো চিঠি নেই। আমরা বললাম: চিঠি বের করবে, নইলে কাপড় খুলে তল্লাশি করব। সে খোঁপা থেকে চিঠি বের করল। আমরা তা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে আনলাম; দেখা গেল, হাতিব ইবনু আবি বালতাআ মক্কার কিছু মুশরিককে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কিছু পরিকল্পনার খবর দিচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হাতিব, এটা কী? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তাড়াহুড়া করবেন না। আমি কুরাইশের সাথে জুড়ে থাকা মানুষ, তাদের বংশের নই। আপনার সাথের মুহাজিরদের মক্কায় আত্মীয় আছে, যারা তাদের পরিবার ও সম্পদ রক্ষা করে। আমার সেই বংশ-সম্পর্ক নেই, তাই চেয়েছিলাম তাদের উপর একটা অনুগ্রহ রাখি, যাতে তারা আমার আত্মীয়দের রক্ষা করে। আমি কুফরি, দ্বীন ত্যাগ বা ইসলামের পর কুফরে সন্তুষ্ট হয়ে এটা করিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: সে তোমাদের সত্য বলেছে। উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে অনুমতি দিন, এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন: সে বদরে উপস্থিত ছিল। তুমি কী জানো, হয়তো আল্লাহ বদরিদের দিকে তাকিয়ে বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।
এ ঘটনায় সূরা মুমতাহিনার প্রথম আয়াত নাজিল হয় (সূরা আল-মুমতাহিনা ৬০:১)।
সূত্রসহিহ বুখারী ৩০০৭ সহিহসূরা আল-মুমতাহিনা ৬০:১ কুরআন
গুরুতর ভুলের পরও নবীজি (ﷺ) আগে কারণ শুনেছেন, তারপর মানুষটার পুরো জীবন, তার বদরের ত্যাগ বিবেচনা করেছেন। এক ভুল দিয়ে কাউকে বিচার নয়।
- ৩
রমজান, ৮ হিজরি
রমজানে দশ হাজার
নবীজি (ﷺ) রমজানেই রওনা হলেন:
নবীজি (ﷺ) রমজান মাসে দশ হাজার সাহাবি নিয়ে মদিনা থেকে বের হলেন; তখন তাঁর মদিনায় আসার সাড়ে আট বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি ও মুসলিমরা রোজা রেখে মক্কার দিকে চললেন; কাদীদ (উসফান ও কুদাইদের মাঝের এক পানির জায়গা) পৌঁছে তিনি রোজা ভাঙলেন, সবাইও ভাঙলেন।
সীরাতের বর্ণনায় আছে, মক্কার কাছে মাররুয যাহরানে রাতে দশ হাজার আগুন জ্বালানো হলো। আবু সুফিয়ান খোঁজ নিতে বেরিয়ে আব্বাসের (রা.) সাথে নবীজির (ﷺ) কাছে এলেন, আর সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন।
সূত্রসহিহ বুখারী ৪২৭৬ সহিহইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: মাররুয যাহরান ও আবু সুফিয়ানের ইসলাম গ্রহণ ঐতিহাসিক বর্ণনা
নবীজি (ﷺ) সফরে রোজা ভেঙেছেন, যাতে সবার জন্য সহজ হয়। শরিয়তের ছাড় নেওয়াও সুন্নাহ, কষ্টকে নিজে বাড়ানো নয়।
- ৪
মক্কায় প্রবেশের দিন
"যে আবু সুফিয়ানের ঘরে ঢুকবে, সে নিরাপদ"
নবীজি (ﷺ) বাহিনীকে কয়েক ভাগে ভাগ করে মক্কায় ঢুকলেন, নির্দেশ ছিল কেউ বাধা না দিলে লড়াই নয়। কিছু লোক সামান্য প্রতিরোধ করল, বাকিরা আশ্রয় নিল। তারপর এল নিরাপত্তার ঘোষণা, আর আনসারদের প্রতি নবীজির (ﷺ) এক অবিস্মরণীয় কথা:
আবু সুফিয়ান এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, কুরাইশের সব জনতা তো শেষ হয়ে যাচ্ছে, আজকের পর আর কুরাইশ থাকবে না! তিনি বললেন: যে আবু সুফিয়ানের ঘরে ঢুকবে, সে নিরাপদ। তখন আনসাররা নিজেদের মধ্যে বলল: লোকটার (নবীজির) মনে নিজের শহরের টান আর আত্মীয়দের প্রতি মমতা জেগেছে। তখন ওহী এল ... ওহী শেষ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হে আনসাররা! তাঁরা বললেন: লাব্বাইক, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তোমরা বলেছ, লোকটার মনে নিজের শহরের টান জেগেছে? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, এমন বলেছি। তিনি বললেন: কখনো না! আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; আমি আল্লাহর দিকে আর তোমাদের কাছে হিজরত করেছি। আমার বাঁচা তোমাদের সাথে, মরাও তোমাদের সাথে। তাঁরা কাঁদতে কাঁদতে এগিয়ে এসে বললেন: আল্লাহর কসম, আমরা এ কথা বলেছি শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে হারানোর ভয়ে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের কথা সত্য মানছেন, তোমাদের অপারগতা গ্রহণ করছেন। তারপর লোকেরা আবু সুফিয়ানের ঘরে আশ্রয় নিল, অনেকে নিজের দরজা বন্ধ করে দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করলেন, তারপর কাবা তাওয়াফ করলেন। কাবার পাশে একটা মূর্তি ছিল, যার পূজা হতো; তাঁর হাতে ছিল একটা ধনুক, তার মাথা দিয়ে মূর্তির চোখে খোঁচা দিতে দিতে বললেন: সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। তাওয়াফ শেষে তিনি সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে তাকিয়ে হাত তুলে আল্লাহর প্রশংসা করলেন আর যা ইচ্ছা দোয়া করলেন।
সূত্রসহিহ মুসলিম ১৭৮০ সহিহ
জন্মভূমি ফিরে পেয়েও তিনি বললেন: আমার বাঁচা-মরা তোমাদের সাথে। যাঁরা কঠিন দিনে পাশে ছিলেন, সুদিনে তাঁদের ভোলেননি।
- ৫
বিজয়ের দিন
৩৬০ মূর্তি
যে কাবা ইবরাহীম (আ.) এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য বানিয়েছিলেন, তার চারপাশে তখন তিনশো ষাটটি মূর্তি:
মক্কা বিজয়ের দিন নবীজি (ﷺ) মক্কায় প্রবেশ করলেন; কাবার চারপাশে তখন তিনশো ষাটটি মূর্তি। তিনি হাতের লাঠি দিয়ে সেগুলোতে খোঁচা দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন: সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। সত্য এসেছে, আর মিথ্যা না কিছু শুরু করতে পারে, না ফিরিয়ে আনতে পারে।
তিনি কুরআনের আয়াত পড়ছিলেন: সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল (সূরা আল-ইসরা ১৭:৮১)। সীরাতের বর্ণনায় আছে, বিলাল (রা.), যাঁকে একসময় মক্কার পাথরে শুইয়ে নির্যাতন করা হতো, কাবার ছাদে উঠে আযান দিলেন।
সূত্রসহিহ বুখারী ৪২৮৭ সহিহসূরা আল-ইসরা ১৭:৮১ কুরআনইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: কাবার ছাদে বিলালের (রা.) আযান ঐতিহাসিক বর্ণনা
একুশ বছর আগে যে শহরে তিনি একা তাওহীদের দাওয়াত শুরু করেছিলেন, সেখানে আজ একটা মূর্তিও রইল না। ধৈর্যের ফল আসে, আল্লাহর সময়ে।
- ৬
বিজয়ের পর
সাধারণ নিরাপত্তা, আর মানুষের ঢল
যে মক্কাবাসী তাঁকে আর সাহাবিদের তেরো বছর নির্যাতন করেছিল, তাদের প্রায় সবাই নিরাপত্তা পেল। শুধু অল্প কয়েকজন, যারা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ছিল (যেমন মুসলিম হয়ে হত্যা করে পালানো ইবনু খাতাল), তাদের ব্যাপারে ভিন্ন নির্দেশ ছিল (সহিহ বুখারী ১৮৪৬); তাদেরও কয়েকজন পরে ক্ষমা চেয়ে ক্ষমা পেয়েছিলেন। আর মক্কা বিজয়ের পর আরবের চেহারা বদলে গেল:
আরবরা ইসলাম গ্রহণের জন্য মক্কা বিজয়ের অপেক্ষা করছিল। তারা বলত: তাকে আর তার জাতিকে ছেড়ে দাও; সে যদি তাদের উপর বিজয়ী হয়, তাহলে সে সত্য নবী। মক্কা বিজয়ের ঘটনা ঘটলে প্রত্যেক গোত্র ইসলাম গ্রহণে তাড়াহুড়া করল, আর আমার বাবা তাঁর গোত্রের আগে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
আল্লাহ এই দিনের কথা একটি ছোট সূরায় বলেছেন: যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে, আর তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবে (সূরা আন-নাসর ১১০:১, সূরা আন-নাসর ১১০:২)।
সূত্রসহিহ বুখারী ১৮৪৬ সহিহসহিহ বুখারী ৪৩০২ সহিহসূরা আন-নাসর ১১০:১ কুরআনসূরা আন-নাসর ১১০:৩ কুরআনইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: যাদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, তাদের কয়েকজনের পরে ক্ষমা পাওয়া ঐতিহাসিক বর্ণনা
বিজয়ের সূরা শেষ হয় তাসবিহ আর ইস্তিগফারের নির্দেশ দিয়ে (সূরা আন-নাসর ১১০:৩)। সাফল্যের দিনে বিনয় আর ক্ষমা চাওয়া, এটাই মুমিনের বিজয়োৎসব।
প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।
সনদ দুর্বল মক্কা বিজয়ের দিন নবীজি (ﷺ) বলেছিলেন: "যাও, তোমরা সবাই মুক্ত (আন্তুমুত তুলাকা)", "আজ তোমাদের উপর কোনো অভিযোগ নেই"
এই প্রসিদ্ধ বাক্যগুলো এসেছে ইবনে ইসহাকের সনদবিহীন (মুরসাল) বর্ণনায়; হাদিসবিশারদরা (যেমন আলবানী) একে দুর্বল বলেছেন। তবে মক্কাবাসীকে সাধারণ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা সহিহ মুসলিমেই আছে (সহিহ মুসলিম ১৭৮০)। তাই মূল কথা সঠিক, শুধু এই নির্দিষ্ট শব্দগুলো নিশ্চিতভাবে তাঁর বলা নয়।
ভুল ধারণা মক্কা বিজয় হয়েছিল তলোয়ারের জোরে গণহত্যার মাধ্যমে
সহিহ হাদিস বলছে, যে আবু সুফিয়ানের ঘরে ঢুকেছে বা দরজা বন্ধ করেছে, সে নিরাপদ ছিল (সহিহ মুসলিম ১৭৮০)। লড়াই হয়েছে শুধু যারা বাধা দিয়েছিল তাদের সাথে, আর বিজয়ের পর গোত্রগুলো নিজেরাই দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে (সহিহ বুখারী ৪৩০২)। দ্বীনে কোনো জবরদস্তি নেই (সূরা আল-বাকারা ২:২৫৬)।
এই গল্প থেকে আমার জীবনে
গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।
সামর্থ্য থাকলেও ক্ষমা
ক্ষমতা হাতে নিয়েও নবীজি (ﷺ) পুরোনো শত্রুদের নিরাপত্তা দিয়েছেন।
আজকের কাজ: যে মানুষের উপর এখন আপনার জোর খাটানোর সুযোগ আছে (অধীনস্থ, দেনাদার, ছোট ভাইবোন), আজ তার সাথে নরম আচরণ করুন।
সহিহ মুসলিম ১৭৮০ সহিহসূরা আশ-শূরা ৪২:৪০ কুরআন
এক ভুলে পুরো মানুষকে বিচার নয়
হাতিবের (রা.) গুরুতর ভুলের পরও তাঁর বদরের ত্যাগ বিবেচনা করা হয়েছে।
আজকের কাজ: আজ কাছের কারও কোনো ভুলের কথা মনে এলে, পাশে তার তিনটা ভালো দিকও লিখুন।
সহিহ বুখারী ৩০০৭ সহিহ
ঘরের মূর্তি ভাঙা
কাবা থেকে মূর্তি সরানো হয়েছিল; আমাদের অন্তরেও এমন "মূর্তি" থাকতে পারে: অহংকার, টাকা, মানুষের প্রশংসা।
আজকের কাজ: আজ নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোন জিনিস আমাকে আল্লাহর নির্দেশ মানতে বাধা দেয়; সেটা কমানোর একটা পদক্ষেপ নিন।
সূরা আল-ইসরা ১৭:৮১ কুরআনসূরা আল-জাসিয়া ৪৫:২৩ কুরআন
বিজয়ে তাসবিহ ও ইস্তিগফার
সূরা নাসরে বিজয়ের পর নির্দেশ এসেছে তাসবিহ ও ইস্তিগফারের।
আজকের কাজ: আজ যেকোনো সাফল্য বা খুশির খবরে "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহ" পড়ুন।
সূরা আন-নাসর ১১০:৩ কুরআন
আট বছর আগে যে শহর থেকে লুকিয়ে বের হতে হয়েছিল, সেখানে বিজয়ী হয়ে ফিরে তিনি প্রতিশোধ নেননি। আপনার জীবনে এমন কে আছে, যাকে ক্ষমা করার শক্তি আজ আপনার আছে?
সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
- কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
- সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
- ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
- মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
- দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।
সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।