الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ
বিদায় হজ: "আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?"
দশম হিজরিতে খবর ছড়াল, এ বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে হজ করবেন। আরবের চারদিক থেকে মানুষ ছুটে এল, তাঁর সাথে হজ করবে, তাঁকে দেখে শিখবে। কেউ জানত না, এটাই তাঁকে শেষবার দেখা।
সীরাত · মাদানী যুগ৬৩২ খ্রি. · ১০ হিজরি · যিলহজ
- কখন
- ১০ হিজরি, যিলহজ (৬৩২ খ্রি.); আরাফার দিন ছিল শুক্রবার
- কোথায়
- মদিনা থেকে মক্কা, তারপর মিনা, আরাফা ও মুযদালিফা
- কারা
- নবীজি (ﷺ), তাঁর পরিবার, আর আরবের চারদিক থেকে আসা বিপুল সাহাবি
- এই গল্পে
- হজের ঘোষণা থেকে মদিনায় ফেরা পর্যন্ত
কেন পড়বেন: বিদায় হজের খুতবা উম্মতের জন্য নবীজির (ﷺ) শেষ বড় ওসিয়ত। মানুষের জান, মাল, সম্মান আর নারীর অধিকার নিয়ে যে কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজও আমাদের সমাজের সবচেয়ে জরুরি পাঠ।
গল্প
বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।
- ১
যিলকদ শেষ, ১০ হিজরি
"আমার কাছ থেকে শিখে নাও"
হিজরতের পর নয় বছর নবীজি (ﷺ) হজ করেননি। দশম বছরে ঘোষণা দিলেন, তিনি হজে যাচ্ছেন; মদিনায় এত মানুষ এল যে সবাই তাঁর অনুসরণ করে হজ করতে চাইছিল (সহিহ মুসলিম ১২১৮)। পুরো হজ জুড়ে তিনি নিজে করে করে দেখাচ্ছিলেন আর বলছিলেন:
رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَرْمِي عَلَى رَاحِلَتِهِ يَوْمَ النَّحْرِ وَيَقُولُ " لِتَأْخُذُوا مَنَاسِكَكُمْ فَإِنِّي لاَ أَدْرِي لَعَلِّي لاَ أَحُجُّ بَعْدَ حَجَّتِي هَذِهِ
আমি দেখলাম, নবীজি (ﷺ) কুরবানির দিন বাহনের উপর থেকে কংকর মারছেন আর বলছেন: তোমরা (আমার কাছ থেকে) তোমাদের হজের নিয়মগুলো শিখে নাও; কারণ আমি জানি না, হয়তো এই হজের পর আমি আর হজ করব না।
এই কথার মধ্যেই ছিল বিদায়ের আভাস: "হয়তো এই হজের পর আমি আর হজ করব না।"
সূত্রসহিহ মুসলিম ১২১৮ সহিহসহিহ মুসলিম ১২৯৭ সহিহ
তিনি শুধু বলেননি, করে দেখিয়েছেন। দ্বীন শেখার সবচেয়ে সুন্দর পথ: যিনি জানেন, তাঁকে দেখে দেখে করা।
- ২
৯ যিলহজ, শুক্রবার
আরাফার খুতবা
আরাফার দিন দুপুরে সূর্য হেলে পড়লে নবীজি (ﷺ) উটনী কাসওয়ার পিঠে বাতনুল ওয়াদিতে এলেন, আর বিশাল জনতার সামনে খুতবা দিলেন:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মদিনায়) নয় বছর হজ না করে কাটালেন। দশম বছরে মানুষের মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজে যাচ্ছেন। তখন অসংখ্য মানুষ মদিনায় এল, প্রত্যেকে চাইছিল রাসূলুল্লাহর (ﷺ) অনুসরণ করবে আর তাঁর মতো আমল করবে। … (বায়দা প্রান্তরে) আমি যতদূর চোখ যায় তাকিয়ে দেখলাম, তাঁর সামনে আরোহী আর পায়ে হাঁটা মানুষ, ডানেও তেমন, বামেও তেমন, পেছনেও তেমন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে, তাঁর উপর কুরআন নাজিল হয়, আর তিনিই এর ব্যাখ্যা জানেন; তিনি যা করতেন, আমরাও তাই করতাম। … (আরাফার দিনে খুতবায় তিনি বললেন) তোমাদের রক্ত আর তোমাদের সম্পদ তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন তোমাদের এই দিন, এই মাস, এই শহর পবিত্র। … নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ আল্লাহর দেওয়া নিরাপত্তায়, আর আল্লাহর বাণী দিয়ে তারা তোমাদের জন্য হালাল হয়েছে। … আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব। তোমাদের আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে; তখন তোমরা কী বলবে? সবাই বলল: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি পৌঁছে দিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন, কল্যাণ কামনা করেছেন। তখন তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে মানুষের দিকে নামিয়ে বললেন: হে আল্লাহ, সাক্ষী থাকো; হে আল্লাহ, সাক্ষী থাকো। (তিনবার)
লক্ষ করুন, জাহিলিয়াতের রক্তের দাবি আর সুদ বাতিল করার সময় তিনি শুরু করেছিলেন নিজের পরিবার থেকে: নিজের চাচাতো ভাইয়ের রক্ত, নিজের চাচা আব্বাসের সুদ।
সূত্রসহিহ মুসলিম ১২১৮ সহিহ
নিয়ম ঘোষণা করে প্রথম প্রয়োগ নিজের পরিবারে। নেতৃত্ব মানে আগে নিজে মানা।
- ৩
আরাফার দিন
দ্বীন পূর্ণ হলো
সেই আরাফার দিনেই নাজিল হলো কুরআনের এক বিশেষ আয়াত:
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ ۚ ذَٰلِكُمْ فِسْقٌ ۗ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ ۚ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ ۙ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোস্ত, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা পশু, গলা চিপে মারা যাওয়া জন্তু, প্রহারে মারা যাওয়া জন্তু, উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া জন্তু, অন্য প্রাণীর শিং এর আঘাতে মারা যাওয়া জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু; তবে যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া, আর যা মূর্তি পূজার বেদীর উপর বলী দেয়া হয় তা এবং জুয়ার তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ণয় করা, এসব পাপ কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দীনের বিরুদ্ধাচরণে হতাশ হয়েছে; কাজেই তাদেরকে ভয় করো না এবং আমাকেই ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতঃপর কেউ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
বহু বছর পর এক ইহুদি এই আয়াত নিয়ে উমরের (রা.) কাছে ঈর্ষা প্রকাশ করেছিল:
এক ইহুদি উমরকে (রা.) বলল: হে আমীরুল মুমিনীন, আপনাদের কিতাবে একটা আয়াত আছে, যা আপনারা পড়েন; সেটা যদি আমাদের ইহুদিদের উপর নাজিল হতো, আমরা সেই দিনকে ঈদ বানিয়ে নিতাম। তিনি বললেন: কোন আয়াত? সে বলল: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" উমর বললেন: আমরা জানি সেই দিন আর সেই জায়গা, যেখানে তা নবীজির (ﷺ) উপর নাজিল হয়েছিল: তিনি তখন আরাফায় দাঁড়িয়ে, আর দিনটি ছিল জুমা।
সূত্রসূরা আল-মায়িদা ৫:৩ কুরআনসহিহ বুখারী ৪৫ সহিহ
দ্বীন পূর্ণ, তাই এতে নতুন কিছু যোগ করার দরকার নেই। যে আমল নবীজি (ﷺ) ও সাহাবিরা করেননি, তা দ্বীনের অংশ বানানো মানে এই পূর্ণতাকে অস্বীকার করা।
- ৪
১০ যিলহজ, কুরবানির দিন
"আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?"
মিনায় কুরবানির দিন তিনি আবার খুতবা দিলেন, প্রশ্ন করে করে, যাতে কথাগুলো মনে গেঁথে যায়:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানির দিন মানুষের উদ্দেশে খুতবা দিয়ে বললেন: হে লোকসকল, এটা কোন দিন? তাঁরা বললেন: পবিত্র দিন। তিনি বললেন: এটা কোন শহর? তাঁরা বললেন: পবিত্র শহর। তিনি বললেন: এটা কোন মাস? তাঁরা বললেন: পবিত্র মাস। তিনি বললেন: তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান তোমাদের উপর তেমনই হারাম, যেমন তোমাদের এই শহরে, এই মাসে, এই দিনটি পবিত্র। তিনি কথাটা কয়েকবার বললেন, তারপর মাথা তুলে বললেন: হে আল্লাহ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? ইবনু আব্বাস বলেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, এটা ছিল উম্মতের প্রতি তাঁর ওসিয়ত: উপস্থিতরা অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেবে। আমার পরে তোমরা কাফির হয়ে যেয়ো না যে একে অপরের গর্দান মারবে।
ইবনু আব্বাস (রা.) কসম করে বলেছেন, এটাই ছিল উম্মতের প্রতি তাঁর ওসিয়ত: উপস্থিতরা অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেবে। আজ আপনি যে এই কথাগুলো পড়ছেন, তা সেই ওসিয়তেরই ফল।
সূত্রসহিহ বুখারী ১৭৩৯ সহিহ
মুসলিমের রক্ত, সম্পদ আর সম্মান কাবা, যিলহজ মাস আর কুরবানির দিনের মতোই পবিত্র। গিবত, প্রতারণা বা মারামারি এই পবিত্রতা ভাঙে।
- ৫
হজের পর
বিদায়ের আভাস
হজ শেষে নবীজি (ﷺ) মদিনায় ফিরলেন। এর আগেই সূরা আন-নাসর নাজিল হয়েছিল, যাকে উমর ও ইবনু আব্বাস (রা.) বুঝেছিলেন নবীজির (ﷺ) বিদায়ের সংকেত (সহিহ বুখারী ৪৯৭০)। আরাফায় সাহাবিরা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন: আপনি পৌঁছে দিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন, কল্যাণ কামনা করেছেন (সহিহ মুসলিম ১২১৮)। এর তিন মাসেরও কম সময় পর তিনি আল্লাহর কাছে চলে গেলেন।
সূত্রসহিহ বুখারী ৪৯৭০ সহিহসহিহ মুসলিম ১২১৮ সহিহ
আমাদের প্রত্যেককেও একদিন জিজ্ঞেস করা হবে, আমরা কী করেছি তাঁর রেখে যাওয়া দ্বীন নিয়ে।
প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।
বর্ণনায় পার্থক্য সহিহ মুসলিমের বিদায় হজের খুতবায় আছে: "আমি রেখে যাচ্ছি আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ"
সহিহ মুসলিমের জাবির (রা.)-এর বর্ণনায় শুধু "আল্লাহর কিতাব" এসেছে (সহিহ মুসলিম ১২১৮)। "কিতাব ও সুন্নাহ" শব্দে বর্ণনাটি মুয়াত্তা মালিক ও মুস্তাদরাক হাকিমে আছে; এর সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মতভেদ আছে, কেউ কেউ সমর্থক বর্ণনার কারণে একে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। তবে সুন্নাহ মানার আদেশ কুরআনেই আছে: রাসূল যা দেন তা গ্রহণ করো (সূরা আল-হাশর ৫৯:৭), আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো (সূরা আন-নিসা ৪:৫৯); তাই "আল্লাহর কিতাব" আঁকড়ে ধরার মধ্যেই সুন্নাহ মানা শামিল।
অনুমাননির্ভর সংখ্যা বিদায় হজে ঠিক এক লাখ চব্বিশ হাজার সাহাবি ছিলেন
সহিহ হাদিসে শুধু এসেছে যে বিপুল মানুষ এসেছিলেন (সহিহ মুসলিম ১২১৮)। নির্দিষ্ট সংখ্যাগুলো (নব্বই হাজার, এক লাখ চৌদ্দ হাজার, এক লাখ চব্বিশ হাজার) পরবর্তী সীরাত গ্রন্থের অনুমান; একে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বলা ঠিক নয়।
এই গল্প থেকে আমার জীবনে
গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।
মুসলিমের সম্মান রক্ষা
তিনি বলেছেন, তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান এই দিনের মতোই পবিত্র।
আজকের কাজ: আজ সারা দিন কারো গিবত করবেন না, কেউ করলে বিনয়ের সাথে থামিয়ে দিন।
সহিহ বুখারী ১৭৩৯ সহিহ
স্ত্রীর হক
খুতবায় তিনি বিশেষভাবে বলেছেন: নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।
আজকের কাজ: আজ স্ত্রী, মা বা বোনের এমন একটা প্রয়োজন পূরণ করুন, যা তিনি মুখে বলেননি।
সহিহ মুসলিম ১২১৮ সহিহ
সুদ থেকে মুক্তি
জাহিলিয়াতের সব সুদ তিনি বাতিল করেছেন, নিজের চাচার সুদ দিয়ে শুরু করে।
আজকের কাজ: আপনার ঋণ, কার্ড বা সঞ্চয়ে সুদ আছে কিনা আজ খুঁজে দেখুন, আর বের হওয়ার একটা পরিকল্পনা লিখুন।
সহিহ মুসলিম ১২১৮ সহিহ
পৌঁছে দেওয়া
উপস্থিতরা অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেবে, এটাই ছিল তাঁর ওসিয়ত।
আজকের কাজ: আজ এই খুতবার একটা বাক্য পরিবারের কাউকে শোনান।
সহিহ বুখারী ১৭৩৯ সহিহ
আরাফায় নবীজি (ﷺ) জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আমার সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে, কী বলবে?" সাহাবিরা বলেছিলেন, আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি যা পৌঁছে দিয়েছেন, তার কতটুকু আপনি আপনার পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন?
সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
- কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
- সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
- ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
- মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
- দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।
সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।