وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ
ইয়ারমুক ও শাম বিজয়: আমীন আবু উবাইদা আর আল্লাহর তলোয়ার
তাবুকে রোমানরা মুখোমুখি হয়নি। কয়েক বছর পর, নবীজির (ﷺ) সাহাবিরা আবার এলেন শামের সীমান্তে, এবার খলিফার পাঠানো বাহিনী নিয়ে। ইয়ারমুকের ছয় দিনে বদলে গেল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র, আর পূর্ণ হলো নবীজির (ﷺ) কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী।
সীরাত · খুলাফায়ে রাশেদীন৬৩৬ খ্রি. · ১৫ হিজরি · উমরের (রা.) খিলাফত
- কখন
- ইয়ারমুক: ১৫ হিজরি, রজব (প্রসিদ্ধ মত; ১৩ হিজরির মতও আছে), ৬৩৬ খ্রি.; বায়তুল মাকদিস: ১৬/১৭ হিজরি; আমওয়াসের মহামারি: ১৮ হিজরি
- কোথায়
- ইয়ারমুক নদীর উপত্যকা, আজকের জর্ডান-সিরিয়া সীমান্তের কাছে
- দুই পক্ষ
- মুসলিম প্রায় ৩০-৪০ হাজার; রোমান (বাইজেন্টাইন) বাহিনী কয়েক গুণ বড় (ইতিহাসগ্রন্থে সংখ্যা নিয়ে বড় মতভেদ)
- এই গল্পে
- আবু বকরের (রা.) বাহিনী পাঠানো থেকে আমওয়াসের মহামারি পর্যন্ত
কেন পড়বেন: ইয়ারমুকের গল্প শুধু বিজয়ের নয়। এখানে আছে যুদ্ধেও নৈতিকতার নির্দেশ, পদ হারিয়েও সেনাপতির আনুগত্য, আর মহামারির সময় তাকদীর ও সতর্কতার এক অসাধারণ শিক্ষা, যা সহিহ বুখারীতে সংরক্ষিত।
গল্প
বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।
- ১
১৩ হিজরি
আবু বকরের (রা.) দশ উপদেশ
মুরতাদদের ফিতনা থামার পর আবু বকর (রা.) শামের দিকে চারটি বাহিনী পাঠালেন: আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, ইয়াযীদ ইবনু আবি সুফিয়ান, শুরাহবীল ইবনু হাসানা আর আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নেতৃত্বে। ইয়াযীদকে বিদায় দিতে তিনি নিজে হেঁটে কিছুদূর গেলেন, আর কিছু উপদেশ দিলেন, যা মুওয়াত্তা মালিকে এসেছে: নারী, শিশু আর বৃদ্ধকে হত্যা কোরো না; ফলের গাছ কেটো না; বসতি ধ্বংস কোরো না; খাওয়ার প্রয়োজন ছাড়া ছাগল-উট জবাই কোরো না; খেজুর বাগান পুড়িয়ো না; গনিমতে খেয়ানত কোরো না; আর যারা গির্জায় নিজেদের ইবাদতে নিয়োজিত, তাদের ছেড়ে দাও।
এগুলো নবীজির (ﷺ) নিজের নির্দেশেরই প্রতিধ্বনি:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কাউকে কোনো বাহিনী বা ছোট দলের নেতা বানাতেন, তাকে বিশেষ করে আল্লাহকে ভয় করার আর সাথের মুসলিমদের প্রতি ভালো আচরণের উপদেশ দিতেন। তারপর বলতেন: আল্লাহর নামে, আল্লাহর পথে অভিযানে যাও; যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে (আর যুদ্ধ করে), তাদের সাথে লড়ো। অভিযানে যাও, কিন্তু গনিমতে খেয়ানত কোরো না, চুক্তি ভেঙে প্রতারণা কোরো না, লাশের অঙ্গবিকৃতি কোরো না, আর কোনো শিশুকে হত্যা কোরো না।
সূত্রমুওয়াত্তা মালিক, কিতাবুল জিহাদ: আবু বকরের (রা.) উপদেশ (ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের সূত্রে, সনদে বিচ্ছিন্নতা আছে) ঐতিহাসিক বর্ণনাসহিহ মুসলিম ১৭৩১ সহিহসহিহ বুখারী ৩০১৫ সহিহ
যুদ্ধের ময়দানেও গাছ, পশু, বসতি আর ইবাদতকারীদের নিরাপত্তা। নৈতিকতা শান্তির সময়ের বিলাসিতা নয়, সবচেয়ে কঠিন সময়ের পরীক্ষা।
- ২
১৩ হিজরি
মরুভূমি পাড়ি দিয়ে খালিদ
রোমানরা বিশাল বাহিনী জড়ো করছে শুনে আবু বকর (রা.) ইরাকে থাকা খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে (রা.) শামে যেতে বললেন। ইতিহাসগ্রন্থে আছে, খালিদ পানিহীন মরুভূমির এমন এক পথ বেছে নিলেন, যা কেউ পাড়ি দেয় না; পানির জন্য উটদের আগে বেশি পানি খাইয়ে পথে জবাই করে তাদের পেটের পানি ব্যবহার করা হয়েছিল। কয়েক দিনের মধ্যে তিনি শামে পৌঁছে গেলেন।
নবীজি (ﷺ) মুতার দিন খালিদকে বলেছিলেন "আল্লাহর তলোয়ারগুলোর একটি" (সহিহ বুখারী ৪২৬২)।
সূত্রতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: ইরাক থেকে শামে খালিদের (রা.) মরুযাত্রা ঐতিহাসিক বর্ণনাসহিহ বুখারী ৪২৬২ সহিহ
খলিফার এক চিঠিতে খালিদ একটা জয় করা অঞ্চল ছেড়ে অজানা মরুভূমিতে নেমে গেলেন। আনুগত্য আর সাহস, দুটো একসাথে।
- ৩
১৫ হিজরি, রজব (প্রসিদ্ধ মত)
ইয়ারমুকের ছয় দিন
রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস তাঁর সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় বাহিনী পাঠালেন। মুসলিমরা ছড়ানো বাহিনীগুলো এক জায়গায় জড়ো করলেন ইয়ারমুক নদীর উপত্যকায়। ইতিহাসগ্রন্থে আছে, যুদ্ধ চলেছিল কয়েক দিন; এক কঠিন মুহূর্তে আবু জাহলের ছেলে ইকরিমা (রা.), যিনি মক্কা বিজয়ের পর মুসলিম হয়েছিলেন, চারশো সঙ্গী নিয়ে মৃত্যুর উপর বাইআত নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন, আর মুসলিম নারীরা পিছু হটা সৈন্যদের ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। শেষ দিনে রোমান বাহিনী ভেঙে পড়ল, অনেকে নদীর খাদে পড়ে গেল।
নবীজি (ﷺ) আগেই বলে গিয়েছিলেন:
إِذَا هَلَكَ كِسْرَى فَلاَ كِسْرَى بَعْدَهُ، وَإِذَا هَلَكَ قَيْصَرُ فَلاَ قَيْصَرَ بَعْدَهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَتُنْفِقُنَّ كُنُوزَهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ
কিসরা (পারস্যের সম্রাট) ধ্বংস হলে তার পরে আর কোনো কিসরা থাকবে না; কায়সার (রোমের সম্রাট) ধ্বংস হলে তার পরে আর কোনো কায়সার থাকবে না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম, তোমরা অবশ্যই তাদের দুজনের ধনভাণ্ডার আল্লাহর পথে খরচ করবে।
সূত্রতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: ইয়ারমুকের যুদ্ধ, ইকরিমার (রা.) বাইআত ঐতিহাসিক বর্ণনাইবনে কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ইয়ারমুকের বিবরণ ও তারিখ নিয়ে মতভেদ ঐতিহাসিক বর্ণনাসহিহ বুখারী ৩১২০ সহিহ
যে ইকরিমা একদিন বাবার সাথে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, ইয়ারমুকে তিনি ইসলামের জন্য প্রাণ দিলেন। মানুষের শেষটা দেখার আগে তাকে বিচার করা যায় না।
- ৪
উমরের (রা.) খিলাফতের শুরু
পদ হারিয়েও সৈনিক
আবু বকরের (রা.) ইন্তেকালের পর খলিফা হয়ে উমর (রা.) খালিদকে প্রধান সেনাপতির পদ থেকে সরিয়ে আবু উবাইদাকে (রা.) দায়িত্ব দিলেন। ইতিহাসগ্রন্থে উমরের নিজের ব্যাখ্যা আছে: মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল, বিজয় খালিদের কারণে আসে; তিনি চেয়েছিলেন সবাই জানুক, বিজয় দেন আল্লাহ। খালিদ কোনো বিদ্রোহ করলেন না, আবু উবাইদার অধীনে সাধারণ সেনাপতি হয়ে লড়ে গেলেন।
আর আবু উবাইদা? নবীজি (ﷺ) তাঁকে যে উপাধি দিয়েছিলেন:
إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينًا، وَإِنَّ أَمِينَنَا أَيَّتُهَا الأُمَّةُ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ
প্রত্যেক উম্মতের একজন বিশ্বস্ত (আমীন) মানুষ থাকে; আর হে উম্মত, আমাদের আমীন হলো আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ।
সূত্রতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: খালিদকে (রা.) সরানো ও উমরের (রা.) কারণ ব্যাখ্যা ঐতিহাসিক বর্ণনাসহিহ বুখারী ৩৭৪৪ সহিহ
"আমি উমরের জন্য লড়ি না, উমরের রবের জন্য লড়ি" (খালিদের কথা হিসেবে প্রসিদ্ধ)। পদ বদলালেও নিয়ত না বদলালে কাজ থামে না।
- ৫
১৬/১৭ হিজরি
বায়তুল মাকদিসের চাবি
ইয়ারমুকের পর একে একে দামেশক, হিমস আর শামের অন্য শহরগুলো চুক্তির মাধ্যমে মুসলিমদের হাতে এল। বায়তুল মাকদিস (জেরুজালেম) অবরোধ হলে সেখানকার খ্রিস্টান নেতারা শর্ত দিলেন, খলিফা নিজে এলে শহর তুলে দেবেন। উমর (রা.) মদিনা থেকে এলেন, আর নিরাপত্তার চুক্তি লিখে দিলেন: তাদের জান, মাল, গির্জা আর ক্রুশ নিরাপদ থাকবে, কাউকে ধর্মের জন্য জোর করা হবে না (তাবারীতে চুক্তির পাঠ আছে)।
নবীজি (ﷺ) কিয়ামতের আগের যে ছয়টি ঘটনা গুনে রাখতে বলেছিলেন, তার দ্বিতীয়টি এই বিজয়, আর তৃতীয়টি এক মহামারি:
(তাবুক যুদ্ধের সময় নবীজি বললেন:) কিয়ামতের আগে ছয়টি জিনিস গুনে রাখো: আমার মৃত্যু; তারপর বায়তুল মাকদিস বিজয়; তারপর এমন মহামারি, যা তোমাদের মাঝে ভেড়ার রোগের মতো দ্রুত মৃত্যু ঘটাবে; তারপর সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি কাউকে একশ দিনার দিলেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে; তারপর এমন ফিতনা, যা আরবের প্রতিটি ঘরে ঢুকবে; তারপর তোমাদের আর বনুল আসফারের (রোমানদের) মাঝে সন্ধি হবে, কিন্তু তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকার নিচে তোমাদের বিরুদ্ধে আসবে, প্রতিটি পতাকার নিচে বারো হাজার।
সূত্রতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: বায়তুল মাকদিসবাসীর সাথে উমরের (রা.) চুক্তি ঐতিহাসিক বর্ণনাসহিহ বুখারী ৩১৭৬ সহিহসূরা আল-বাকারা ২:২৫৬ কুরআন
মিরাজের রাতে নবীজি (ﷺ) যেখানে নবীদের ইমামতি করেছিলেন, সেই শহর রক্তপাত ছাড়াই চুক্তিতে মুসলিমদের হাতে এল, আর সেখানকার মানুষ পেল ধর্মের স্বাধীনতা।
- ৬
১৮ হিজরি
আমওয়াসের মহামারি
শামে দেখা দিল ভয়ংকর মহামারি, যা আমওয়াস নামের জায়গার নামে পরিচিত। উমর (রা.) তখন শামের পথে। কী করবেন, তা নিয়ে তিনি সাহাবিদের পরামর্শ নিলেন:
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) শামের দিকে রওনা হলেন। সারগ নামক জায়গায় পৌঁছালে বাহিনীর সেনাপতিরা, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ ও তাঁর সঙ্গীরা, এসে জানালেন, শামে মহামারি দেখা দিয়েছে। উমর প্রথম যুগের মুহাজিরদের ডেকে পরামর্শ চাইলেন; তাঁরা মতভেদ করলেন: কেউ বললেন, আপনি একটা কাজে বেরিয়েছেন, ফিরে যাওয়া ঠিক মনে করি না; কেউ বললেন, আপনার সাথে বাকি মানুষ আর রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাহাবিরা আছেন, তাঁদের এই মহামারির মুখে নেওয়া ঠিক নয়। তারপর আনসারদের ডাকলেন, তাঁরাও একইভাবে মতভেদ করলেন। তারপর মক্কা বিজয়ের সময়ের কুরাইশ প্রবীণদের ডাকলেন; তাঁদের দুজনও ভিন্নমত করলেন না, সবাই বললেন: মানুষকে নিয়ে ফিরে যান, এই মহামারির মুখে নেবেন না। উমর ঘোষণা দিলেন: আমি সকালে ফিরে যাচ্ছি। আবু উবাইদা বললেন: আল্লাহর তাকদীর থেকে পালাচ্ছেন? উমর বললেন: আবু উবাইদা, অন্য কেউ এ কথা বললে (অবাক হতাম না)! হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর তাকদীর থেকে আল্লাহর তাকদীরের দিকেই যাচ্ছি। তোমার উট যদি এমন উপত্যকায় নামে, যার এক পাশ সবুজ আর অন্য পাশ শুকনো, তুমি সবুজ পাশে চরালেও আল্লাহর তাকদীরেই চরাও, শুকনো পাশে চরালেও আল্লাহর তাকদীরেই। এমন সময় আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রা.) এলেন, তিনি কোনো কাজে বাইরে ছিলেন। বললেন: এ বিষয়ে আমার কাছে জ্ঞান আছে; আমি রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) বলতে শুনেছি: কোনো এলাকায় মহামারির খবর শুনলে সেখানে যেয়ো না, আর তোমরা যেখানে আছ সেখানে দেখা দিলে পালিয়ে বেরিয়ে যেয়ো না। উমর আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর ফিরে গেলেন।
সেই মহামারিতেই ইন্তেকাল করলেন আমীনুল উম্মাহ আবু উবাইদা (রা.), মুআয ইবনু জাবাল (রা.), ইয়াযীদ ইবনু আবি সুফিয়ান আর শুরাহবীল ইবনু হাসানাসহ হাজার হাজার মুসলিম (ইতিহাসের বর্ণনা)। নবীজি (ﷺ) বলেছেন, মহামারিতে মারা যাওয়া মুসলিম শহীদ (সহিহ বুখারী ২৮২৯)।
সূত্রসহিহ বুখারী ৫৭২৯ সহিহসহিহ বুখারী ২৮২৯ সহিহতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: আমওয়াসের মহামারি ও সাহাবিদের ইন্তেকাল ঐতিহাসিক বর্ণনা
"আল্লাহর তাকদীর থেকে আল্লাহর তাকদীরের দিকে।" সতর্কতা নেওয়া তাওয়াক্কুলের বিরোধী নয়; সতর্ক হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করাই সুন্নাহ।
প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।
ঐতিহাসিক বর্ণনা উমর (রা.) ব্যক্তিগত শত্রুতা বা হিংসা থেকে খালিদকে (রা.) পদ থেকে সরিয়েছিলেন
ইতিহাসগ্রন্থে উমরের (রা.) নিজের ব্যাখ্যা আছে: মানুষ খালিদের উপর ভরসা করতে শুরু করেছিল, তিনি চেয়েছিলেন সবাই জানুক বিজয় আল্লাহর পক্ষ থেকে। দুই সাহাবির মধ্যে কিছু মতপার্থক্য ছিল, কিন্তু খালিদ আনুগত্য ছাড়েননি, আর তাঁর ইন্তেকালের সময় উমর (রা.) তাঁর জন্য কেঁদেছেন বলে বর্ণনা আছে। সাহাবিদের মতপার্থক্য নিয়ে কথা বলায় সংযম রাখা আহলুস সুন্নাহর নীতি (সূরা আল-হাশর ৫৯:১০)।
সহিহ হাদিসবিরোধী মহামারিতে সতর্কতা নেওয়া মানে তাকদীরে অবিশ্বাস
উমর (রা.) নিজে মহামারির এলাকায় না ঢুকে ফিরে এসেছেন, আর আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রা.) নবীজির (ﷺ) নির্দেশ শুনিয়েছেন: মহামারির এলাকায় যেয়ো না, আর সেখানে থাকলে পালিয়ে বেরিয়ো না (সহিহ বুখারী ৫৭২৯)। সতর্কতাও আল্লাহর তাকদীরের অংশ।
এই গল্প থেকে আমার জীবনে
গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।
কঠিন সময়েও নৈতিকতা
আবু বকরের (রা.) উপদেশ: গাছ, পশু, বসতি আর নিরীহ মানুষ নিরাপদ।
আজকের কাজ: আজ রাগ বা বিরোধের মুহূর্তে মুখের কথা আর আচরণে সীমা রাখুন; প্রতিপক্ষের পরিবার বা নির্দোষ কাউকে জড়াবেন না।
সহিহ মুসলিম ১৭৩১ সহিহসূরা আল-মায়িদা ৫:৮ কুরআন
পদ নয়, নিয়ত
খালিদ (রা.) প্রধান সেনাপতির পদ হারিয়েও একই উদ্যমে লড়েছেন।
আজকের কাজ: যে কাজে আপনি এখন স্বীকৃতি বা পদ পাচ্ছেন না, আজ সেটা আল্লাহর জন্য একই যত্নে করুন।
সহিহ বুখারী ১ সহিহ
পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত
মহামারির সময় উমর (রা.) মুহাজির, আনসার আর প্রবীণদের আলাদা আলাদা পরামর্শ নিয়েছেন।
আজকের কাজ: আজ পরিবারের বা কাজের একটা বড় সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞ কয়েকজনের মত নিন, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করে এগোন।
সহিহ বুখারী ৫৭২৯ সহিহসূরা আশ-শূরা ৪২:৩৮ কুরআন
মহামারিতে সুন্নাহর নির্দেশ
আক্রান্ত এলাকায় না যাওয়া, সেখান থেকে না পালানো: এটাই নবীজির (ﷺ) নির্দেশ।
আজকের কাজ: রোগব্যাধির সময় সতর্কতা মেনে চলুন, আর অসুস্থ মানুষের খোঁজখবর নিন, যতটা নিরাপদে সম্ভব।
সহিহ বুখারী ৫৭২৯ সহিহ
খালিদ (রা.) পদ হারিয়েও বলেছিলেন বলে প্রসিদ্ধ, "আমি উমরের জন্য নয়, উমরের রবের জন্য লড়ি।" আপনার কোন ভালো কাজটা মানুষের স্বীকৃতির উপর নির্ভর করে চলছে?
সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
- কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
- সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
- ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
- মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
- দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।
সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।