كَمْ تَرَكُوا مِن جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
কাদিসিয়া ও পারস্য বিজয়: "মানুষের দাসত্ব থেকে আল্লাহর দাসত্বে"
যে কিসরা নবীজির (ﷺ) চিঠি ছিঁড়ে ফেলেছিল, তার সাম্রাজ্য তখন পৃথিবীর দুই পরাশক্তির একটি। উমরের (রা.) খিলাফতের কয়েক বছরের মধ্যে সেই সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ল, আর কিসরার ধনভাণ্ডার পৌঁছাল মদিনার মসজিদে নববীর আঙিনায়।
সীরাত · খুলাফায়ে রাশেদীন৬৩৬ - ৬৪২ খ্রি. · ১৫ - ২১ হিজরি · উমরের (রা.) খিলাফত
- কখন
- কাদিসিয়া: ১৫ হিজরি (১৪ ও ১৬ হিজরির মতও আছে), ৬৩৬ খ্রি.; মাদায়েন: ১৬ হিজরি; নাহাওয়ান্দ: ২১ হিজরি
- কোথায়
- কাদিসিয়া, আজকের ইরাকের কুফার কাছে; মাদায়েন (সাসানীয় রাজধানী, বাগদাদের কাছে); নাহাওয়ান্দ, আজকের ইরানে
- দুই পক্ষ
- মুসলিম প্রায় ৩০ হাজার, সেনাপতি সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রা.); পারস্য বাহিনী কয়েক গুণ বড়, হাতিসহ, সেনাপতি রুস্তম (সংখ্যায় মতভেদ)
- এই গল্পে
- ইরাকের প্রথম লড়াই থেকে নাহাওয়ান্দ পর্যন্ত
কেন পড়বেন: পারস্য বিজয়ের গল্পে আছে নবীজির (ﷺ) ভবিষ্যদ্বাণীর চোখের সামনে পূর্ণ হওয়া, এক সাধারণ সাহাবির মুখে ইসলামের উদ্দেশ্যের সবচেয়ে সুন্দর বর্ণনা, আর বিজয়ের সম্পদ দেখে উমরের (রা.) ভয়: দুনিয়া যেন আমাদের ধ্বংস না করে।
গল্প
বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।
- ১
৭ হিজরি থেকে ১৩ হিজরি
ছেঁড়া চিঠি
নবীজি (ﷺ) পারস্যের সম্রাট কিসরাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন; কিসরা চিঠি ছিঁড়ে ফেলেছিল, আর নবীজি (ﷺ) দোয়া করেছিলেন, তাদের যেন পুরোপুরি টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয় (সহিহ বুখারী ৬৪)। আবু বকরের (রা.) সময় থেকে ইরাক সীমান্তে মুসান্না ইবনু হারিসা (রা.) আর খালিদ (রা.) লড়ছিলেন; উমরের (রা.) সময়ে জিসরের (সেতুর) যুদ্ধে সেনাপতি আবু উবাইদ আস-সাকাফী (রা.) শহীদ হন, মুসলিমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েন (ইতিহাসের বর্ণনা)।
নবীজি (ﷺ) এক সাহাবিকে এই দিনের কথা বলে রেখেছিলেন:
(নবীজি বললেন:) আদী, তুমি কি হীরা (ইরাকের একটি শহর) দেখেছ? ... তুমি যদি দীর্ঘ জীবন পাও, দেখবে একজন নারী উটের পিঠে হীরা থেকে একা রওনা হয়ে কাবা তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবে না। আর যদি দীর্ঘ জীবন পাও, অবশ্যই কিসরার ধনভাণ্ডার জয় করা হবে। ... আদী বলেন: আমি দেখেছি, নারী হীরা থেকে রওনা হয়ে কাবা তাওয়াফ করছে, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করছে না; আর আমি নিজে কিসরা ইবনু হুরমুযের ধনভাণ্ডার যারা জয় করেছিল, তাদের একজন ছিলাম।
সূত্রসহিহ বুখারী ৬৪ সহিহসহিহ বুখারী ৩৫৯৫ সহিহতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: মুসান্না ইবনু হারিসা ও জিসরের যুদ্ধ ঐতিহাসিক বর্ণনা
আদী (রা.) যখন এই কথা শুনেছিলেন, মুসলিমরা তখন ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছিল, পথে ডাকাতের ভয় ছিল। সেখান থেকে কিসরার ধনভাণ্ডার, এটাই আল্লাহর ওয়াদার শক্তি।
- ২
১৪ হিজরি
নবীজির (ﷺ) তীরন্দাজ সেনাপতি
জিসরের পর উমর (রা.) নিজে বাহিনী নিয়ে যেতে চাইলেন। সাহাবিরা পরামর্শ দিলেন, খলিফা মদিনায় থাকুন, আর একজন অভিজ্ঞ সাহাবিকে পাঠান। বাছাই হলেন সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রা.), জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন, যাঁর জন্য নবীজি (ﷺ) উহুদে বলেছিলেন:
مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُفَدِّي رَجُلاً بَعْدَ سَعْدٍ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ " ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي
সাদের (ইবনু আবি ওয়াক্কাস) পরে আর কারও জন্য নবীজিকে (ﷺ) "বাবা-মা কুরবান" বলতে দেখিনি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: তীর ছোড়ো, আমার বাবা-মা তোমার জন্য কুরবান।
সূত্রসহিহ বুখারী ২৯০৫ সহিহতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: উমরের (রা.) পরামর্শসভা ও সাদকে (রা.) নির্বাচন ঐতিহাসিক বর্ণনা
খলিফা নিজে যুদ্ধে যেতে চেয়েছিলেন, পরামর্শ শুনে থেমে গেলেন। নেতৃত্ব মানে নিজের ইচ্ছা নয়, উম্মাহর কল্যাণ।
- ৩
কাদিসিয়ার আগে
"মানুষের দাসত্ব থেকে আল্লাহর দাসত্বে"
যুদ্ধের আগে পারস্যের সেনাপতি রুস্তম মুসলিমদের দূত চাইলেন। ইতিহাসগ্রন্থে আছে, রিবঈ ইবনু আমির (রা.) সাদামাটা পোশাকে, বর্শায় ভর দিয়ে রুস্তমের সোনা-রেশমে সাজানো দরবারে ঢুকলেন। রুস্তম জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেন এসেছ? তিনি বললেন: আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন, যাতে যে চায়, তাকে আমরা মানুষের দাসত্ব থেকে আল্লাহর দাসত্বে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে তার প্রশস্ততায়, আর ধর্মগুলোর জুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফে নিয়ে আসি।
প্রায় একই কথা সহিহ বুখারীতে আছে পরের এক যুদ্ধে মুগীরা ইবনু শুবা (রা.)-এর মুখে, পারস্যের সেনাপতির সামনে: আমরা ছিলাম ক্ষুধার্ত, পাথরপূজারী; আল্লাহ আমাদের মধ্যে একজন নবী পাঠালেন (সহিহ বুখারী ৩১৫৯)।
সূত্রতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক; ইবনে কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: রুস্তমের দরবারে রিবঈ ইবনু আমির (রা.) ঐতিহাসিক বর্ণনাসহিহ বুখারী ৩১৫৯ সহিহ
সোনার দরবারে এক সাধারণ সৈনিক ইসলামের উদ্দেশ্য এক বাক্যে বললেন: মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করা। আমরা কি জানি, আমাদের দ্বীনের উদ্দেশ্য কী?
- ৪
১৫ হিজরি (প্রসিদ্ধ মত)
হাতির বিরুদ্ধে তিন দিন
কাদিসিয়ার যুদ্ধ চলেছিল কয়েক দিন, প্রতিটি দিনের আলাদা নাম ইতিহাসে আছে। পারস্যের হাতির বাহিনী মুসলিমদের ঘোড়াকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছিল; সাহসী কয়েকজন হাতির শুঁড় আর চোখে আঘাত করে সেগুলোকে থামালেন। সাদ (রা.) তখন অসুস্থ, ঘোড়ায় চড়তে পারছিলেন না, তাই একটা দুর্গের উপর থেকে বাহিনী পরিচালনা করছিলেন। শেষ রাতের প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর রুস্তম নিহত হলেন, পারস্য বাহিনী ছত্রভঙ্গ হলো (ইতিহাসের বর্ণনা)।
আল্লাহ মুমিনদের ওয়াদা দিয়েছিলেন, তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দেবেন:
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا ۚ يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ۚ وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ্ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে যমীনে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরে তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ‘ইবাদাত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, আর এরপর যারা কুফরী করবে তারাই ফাসিক।
সূত্রতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: কাদিসিয়ার যুদ্ধের দিনগুলো, সাদের (রা.) অসুস্থতা ঐতিহাসিক বর্ণনাসূরা আন-নূর ২৪:৫৫ কুরআন
সেনাপতি অসুস্থ হয়েও দায়িত্ব ছাড়েননি, যতটুকু পারেন করেছেন। অপারগতা থাকলে যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই আল্লাহ চান।
- ৫
১৬ হিজরি
কিসরার প্রাসাদে আট রাকাত
কাদিসিয়ার পর মুসলিমরা পারস্যের রাজধানী মাদায়েনের দিকে এগোলেন। ইতিহাসগ্রন্থে আছে, দজলা (টাইগ্রিস) নদী পার হওয়ার জন্য নৌকা ছিল না, মুসলিমরা ঘোড়া নিয়েই নদীতে নেমে পড়লেন, আর পারস্যের সৈন্যরা এ দৃশ্য দেখে শহর ছেড়ে পালাল। সাদ (রা.) কিসরার শূন্য প্রাসাদে ঢুকে পড়লেন:
كَمْ تَرَكُوا مِن جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
তারা পিছনে রেখে গিয়েছিল অনেক উদ্যান ও প্রস্রবণ;
তারপর সেখানে আট রাকাত বিজয়ের নামাজ পড়লেন (ইতিহাসের বর্ণনা)। কিসরার ধনভাণ্ডার জয়কারীদের মধ্যে ছিলেন আদী ইবনু হাতিম (রা.), যিনি নিজে নবীজির (ﷺ) কাছে এই ভবিষ্যদ্বাণী শুনেছিলেন (সহিহ বুখারী ৩৫৯৫)।
সূত্রসূরা আদ-দুখান ৪৪:২৫ কুরআনসূরা আদ-দুখান ৪৪:২৬ কুরআনসূরা আদ-দুখান ৪৪:২৭ কুরআনসহিহ বুখারী ৩৫৯৫ সহিহতাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: মাদায়েন জয় ও সাদের (রা.) নামাজ ঐতিহাসিক বর্ণনা
পৃথিবীর সবচেয়ে বিলাসী প্রাসাদে ঢুকে প্রথম কাজ ছিল কুরআন পড়া আর সিজদা। ক্ষমতার মুহূর্তে বিনয়, এটাই সাহাবিদের পরিচয়।
- ৬
মদিনায়
ধনভাণ্ডার দেখে উমরের (রা.) ভয়
কিসরার ধনভাণ্ডারের অংশ মদিনায় পৌঁছালে উমর (রা.) তা মসজিদে নববীর আঙিনায় রেখে মানুষের মধ্যে বণ্টন করলেন। ইতিহাসগ্রন্থে আছে, তিনি এত সম্পদ দেখে কাঁদলেন, আর বললেন, যে জাতিকে আল্লাহ এত দুনিয়া দেন, তাদের মধ্যে শত্রুতা আর বিদ্বেষও আসে। এ ভয় তিনি নবীজির (ﷺ) কাছ থেকেই শিখেছিলেন:
সুসংবাদ নাও, আর যা তোমাদের খুশি করবে তার আশা রাখো। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের জন্য দারিদ্র্যকে ভয় করি না; বরং ভয় করি, তোমাদের জন্য দুনিয়া প্রশস্ত হয়ে যাবে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের জন্য হয়েছিল, তারপর তোমরা তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে, যেমন তারা করেছিল, আর তা তোমাদের ধ্বংস করবে, যেমন তাদের ধ্বংস করেছিল।
নবীজির (ﷺ) কথা অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হলো: কিসরার পর আর কোনো কিসরা রইল না, আর তার ধনভাণ্ডার খরচ হলো আল্লাহর পথে (সহিহ বুখারী ৩১২০)। ২১ হিজরিতে নাহাওয়ান্দের যুদ্ধের পর সাসানীয় সাম্রাজ্যের সংগঠিত প্রতিরোধও শেষ হয়ে গেল (সহিহ বুখারী ৩১৫৯)।
সূত্রসহিহ বুখারী ৩১৫৮ সহিহসহিহ বুখারী ৩১২০ সহিহসহিহ বুখারী ৩১৫৯ সহিহইবনে কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: কিসরার ধনভাণ্ডার দেখে উমরের (রা.) কান্না ঐতিহাসিক বর্ণনা
বিজয়ের দিনে উমর (রা.) খুশির চেয়ে বেশি ভয় পেয়েছেন। আমাদের হাতে সম্পদ এলে আমরা কি একবার ভাবি, এটা আমাদের পরীক্ষা?
প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।
সনদ দুর্বল সুরাকা ইবনু মালিক (রা.) কিসরার কঙ্কণ পরেছিলেন, নবীজির (ﷺ) হিজরতের সময়ের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী
হিজরতের পথে সুরাকার পিছু নেওয়ার ঘটনা সহিহ বুখারীতে আছে (সহিহ বুখারী ৩৯০৬), কিন্তু সেখানে কিসরার কঙ্কণের কথা নেই। কঙ্কণের বর্ণনা এসেছে মুরসাল (সাহাবির নাম বাদ দেওয়া) সূত্রে, যা দুর্বল। কিসরার পতন আর তার ধনভাণ্ডার আল্লাহর পথে খরচ হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী সহিহ (সহিহ বুখারী ৩১২০, সহিহ বুখারী ৩৫৯৫); এর জন্য দুর্বল গল্পের দরকার নেই।
ভুল ধারণা পারস্যের মানুষকে তলোয়ারের মুখে মুসলিম বানানো হয়েছিল
বিজয়ের পর অনেক এলাকা চুক্তির মাধ্যমে মুসলিম শাসনে এসেছিল, অমুসলিমরা জিযিয়া দিয়ে নিজ ধর্মে থেকে গেছে; ঐতিহাসিকরা দেখিয়েছেন, ইরানের বেশিরভাগ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে কয়েক শতাব্দী ধরে, ধীরে ধীরে। কুরআনের নীতি: দ্বীনে কোনো জবরদস্তি নেই (সূরা আল-বাকারা ২:২৫৬)। মুগীরা (রা.) নিজেও দুটি বিকল্পের কথা বলেছেন: ইসলাম, নয়তো জিযিয়া দিয়ে নিজ ধর্মে থাকা (সহিহ বুখারী ৩১৫৯)।
এই গল্প থেকে আমার জীবনে
গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।
দ্বীনের উদ্দেশ্য জানা
রিবঈ (রা.) এক বাক্যে বলেছেন: মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে আল্লাহর দাসত্বে আনা।
আজকের কাজ: আজ নিজের ভাষায় দুই-তিন বাক্যে লিখুন, আপনার কাছে ইসলাম কেন সত্য আর কেন প্রিয়; কাউকে জিজ্ঞেস করলে যেন বলতে পারেন।
সহিহ বুখারী ৩১৫৯ সহিহসূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৬ কুরআন
প্রাচুর্যকে পরীক্ষা মনে করা
কিসরার ধনভাণ্ডার দেখে উমর (রা.) কেঁদেছেন, নবীজির (ﷺ) সতর্কবাণী মনে করে।
আজকের কাজ: এ মাসের আয়ের একটা নির্দিষ্ট অংশ আজই দান বা আত্মীয়ের হকের জন্য আলাদা করুন, খরচের আগে।
সহিহ বুখারী ৩১৫৮ সহিহসূরা আত-তাগাবুন ৬৪:১৫ কুরআন
বিজয়ে সিজদা
কিসরার প্রাসাদে সাদের (রা.) প্রথম কাজ ছিল কুরআন পড়া আর নামাজ।
আজকের কাজ: আজ কোনো সাফল্য বা ভালো খবর পেলে দুই রাকাত শোকরের নামাজ পড়ুন, অন্তত একটা শোকরের সিজদা দিন।
সূরা আদ-দুখান ৪৪:২৫ কুরআনসূরা ইবরাহীম ১৪:৭ কুরআন
পরামর্শে নেতৃত্ব
খলিফা নিজে যেতে চেয়েছিলেন, সাহাবিদের পরামর্শে থেমেছেন।
আজকের কাজ: আজ এমন একটা বিষয়ে, যেখানে আপনি জেদ ধরে আছেন, অভিজ্ঞ কারও মত শুনে আবার ভাবুন।
সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৯ কুরআনসূরা আশ-শূরা ৪২:৩৮ কুরআন
আদী (রা.) ভবিষ্যদ্বাণী শুনেছিলেন অভাব আর ভয়ের দিনে, আর নিজ চোখে দেখেছেন কিসরার ধনভাণ্ডার। আপনার জীবনে কোন কঠিন সময় এখন চলছে, যার পরে আল্লাহর ওয়াদার উপর আপনি ভরসা রাখতে পারেন?
সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
- কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
- সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
- ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
- মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
- দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।
সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।