يَحْيَى عَلَيْهِ السَّلَامُ
ইয়াহইয়া (আ.)
ইয়াহইয়া (আ.) যাকারিয়া (আ.)-এর দোয়ার ফসল, বৃদ্ধ পিতা আর বন্ধ্যা মায়ের সন্তান। আল্লাহ নিজে তাঁর নাম রেখেছেন, যে নাম আগে কাউকে দেওয়া হয়নি। শৈশবেই তাঁকে প্রজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তিনি ছিলেন কোমল হৃদয়, পবিত্র, মুত্তাকী আর পিতামাতার অনুগত। তিনি ঈসা (আ.)-কে সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর বনী ইসরাঈলকে এমন পাঁচটি আদেশ দিয়েছিলেন যা নবী (ﷺ) আমাদের শুনিয়েছেন।
يَا يَحْيَىٰ خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ ۖ وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا
হে ইয়াহইয়া! আপনি কিতাবটিকে দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করুন। আর আমরা তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম প্রজ্ঞা।
এই পাতার মূল ঘটনা কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া। তাফসীর ও ইতিহাসের বই (ইবনু কাসীর, তাবারী প্রভৃতি) থেকে যা এসেছে, তা আলাদা বাক্সে মানসহ দেখানো হয়েছে; ইসরাঈলি বর্ণনা (আগের কিতাবধারীদের কাছ থেকে আসা গল্প) চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা, দলিল হিসেবে নয়। আয়াতের বাংলা অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।
- পিতা
- যাকারিয়া (আ.) (সূরা মারইয়াম ১৯:৭)
- নাম
- আল্লাহর দেওয়া, আগে কারো ছিল না (সূরা মারইয়াম ১৯:৭)
- গুণ
- নেতা, সংযমী, নবী (সূরা আলে ইমরান ৩:৩৯); কোমল ও পবিত্র (সূরা মারইয়াম ১৯:১৩)
- আত্মীয়তা
- ঈসা (আ.)-এর খালাতো ভাই (সহিহ বুখারী ৩৮৮৭)
- কুরআনে যেখানে
- সূরা আলে ইমরান, আল-আনআম, মারইয়াম ও আল-আম্বিয়া
এক অনন্য নাম
যাকারিয়া (আ.)-এর দোয়ার উত্তরে আল্লাহ বললেন:
يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَىٰ لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا
তিনি বললেন, ‘হে যাকারিয়্যা! আমরা আপনাকে এক পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহইয়া; এ নামে আগে আমরা কারো নামকরণ করিনি।
আলে ইমরানে তাঁর পরিচয় আরও বিস্তারিত: তিনি আল্লাহর এক কালিমার (অর্থাৎ ঈসা আ.-এর) সত্যায়নকারী, নেতা, সংযমী আর নেককার নবী (সূরা আলে ইমরান ৩:৩৯)।
শৈশবেই কিতাব ও প্রজ্ঞা
আল্লাহ তাঁকে শৈশবেই ডেকে বললেন:
يَا يَحْيَىٰ خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ ۖ وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا
হে ইয়াহইয়া! আপনি কিতাবটিকে দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করুন। আর আমরা তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম প্রজ্ঞা।
وَحَنَانًا مِّن لَّدُنَّا وَزَكَاةً ۖ وَكَانَ تَقِيًّا
এবং আমাদের কাছ থেকে হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতা; আর তিনি ছিলেন মুত্তাকী।
সূরা মারইয়াম ১৯:১৩
وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُن جَبَّارًا عَصِيًّا
পিতা-মাতার অনুগত এবং তিনি ছিলেন না উদ্ধত ও অবাধ্য।
সূরা মারইয়াম ১৯:১৪
দৃঢ়ভাবে কিতাব ধরা, শৈশবেই প্রজ্ঞা, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোমলতা ও পবিত্রতা, তাকওয়া, পিতামাতার আনুগত্য, আর অহংকার ও অবাধ্যতা থেকে মুক্ত। এক আয়াতে একজন আদর্শ যুবকের পুরো ছবি।
বনী ইসরাঈলকে পাঁচ আদেশ
আল্লাহ ইয়াহইয়া (আ.)-কে পাঁচটি কথা দিয়েছিলেন, নিজে আমল করতে আর বনী ইসরাঈলকে আমল করাতে। নবী (ﷺ) পুরো ঘটনা শুনিয়েছেন:
আল্লাহ ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়াকে পাঁচটি কথার আদেশ দিয়েছিলেন, যেন তিনি নিজে আমল করেন আর বনী ইসরাঈলকেও আমল করতে বলেন। তিনি দেরি করে ফেলার উপক্রম হলে ঈসা (আ.) বললেন: আল্লাহ আপনাকে পাঁচটি কথার আদেশ দিয়েছেন; হয় আপনি তাদের বলুন, নয়তো আমি বলি। ইয়াহইয়া (আ.) বললেন: আমার ভয় হয়, আপনি আগে বললে আমাকে মাটিতে ধসিয়ে দেওয়া হবে বা শাস্তি দেওয়া হবে। তারপর তিনি বাইতুল মাকদিসে লোকদের জড়ো করলেন, মসজিদ ভরে গেল, লোকেরা উঁচু জায়গাগুলোতেও বসল। তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কথার আদেশ দিয়েছেন, যেন আমি আমল করি আর তোমাদেরও আমল করতে বলি। প্রথম: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কিছু শরিক করবে না। যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, তার উদাহরণ সেই দাসের মতো, যাকে মালিক নিজের খাঁটি সোনা-রুপা দিয়ে কিনে বলল, এই আমার ঘর, এই আমার কাজ, কাজ করো আর আয় আমাকে দাও; কিন্তু সে কাজ করে আয় দেয় মালিক ছাড়া অন্যজনকে। তোমাদের কে চায় তার দাস এমন হোক? দ্বিতীয়: আল্লাহ তোমাদের নামাজের আদেশ দিয়েছেন; নামাজে এদিক-ওদিক তাকাবে না, কারণ বান্দা যতক্ষণ না তাকায়, আল্লাহ নামাজে তার দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখেন। তৃতীয়: আমি তোমাদের রোজার আদেশ দিচ্ছি; এর উদাহরণ এক দলের মধ্যে থাকা সেই লোক, যার কাছে মেশকের থলে, সবাই এর ঘ্রাণে মুগ্ধ। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও সুগন্ধি। চতুর্থ: আমি তোমাদের দান-সদকার আদেশ দিচ্ছি; এর উদাহরণ সেই লোক, যাকে শত্রু বন্দি করে হাত গলায় বেঁধে মারতে নিয়ে যাচ্ছে, আর সে বলল, কম-বেশি যা আছে দিয়ে আমি নিজেকে মুক্ত করছি, এভাবে সে নিজেকে মুক্ত করল। পঞ্চম: আমি তোমাদের আল্লাহর যিকির করার আদেশ দিচ্ছি; এর উদাহরণ সেই লোক, যার পেছনে শত্রু দ্রুত ছুটে আসছে, আর সে এক মজবুত দুর্গে ঢুকে নিজেকে রক্ষা করল। বান্দাও আল্লাহর যিকির ছাড়া শয়তান থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না।
তাওহীদ, নামাজে মনোযোগ, রোজা, সদকা আর যিকির: পাঁচটি উদাহরণই এত জীবন্ত যে আজও তা শিক্ষাদানের আদর্শ পদ্ধতি।
ঈসা (আ.)-এর সত্যায়ন ও মিরাজে সাক্ষাৎ
কুরআন বলেছে, ইয়াহইয়া (আ.) আল্লাহর এক কালিমার সত্যায়নকারী হবেন (সূরা আলে ইমরান ৩:৩৯); তাফসীরকাররা বলেছেন, কালিমা মানে ঈসা (আ.)। তিনি ছিলেন ঈসা (আ.)-এর আত্মীয় ও সমসাময়িক। মিরাজের রাতে দ্বিতীয় আসমানে দুজনকে একসাথে দেখা গেছে:
(দ্বিতীয় আসমানে) পৌঁছে দেখি ইয়াহইয়া ও ঈসা (আ.), তাঁরা দুজন খালাতো ভাই। জিবরীল বললেন: ইনি ইয়াহইয়া আর ইনি ঈসা, তাঁদের সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তাঁরা উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (চতুর্থ আসমানে) পৌঁছালাম ইদরীস (আ.)-এর কাছে। জিবরীল বললেন: ইনি ইদরীস, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (পঞ্চম আসমানে) দেখি হারূন (আ.)। জিবরীল বললেন: ইনি হারূন, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (সপ্তম আসমানে) দেখি ইবরাহীম (আ.)। জিবরীল বললেন: ইনি আপনার পিতা, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার সন্তান ও নেককার নবীকে স্বাগতম।
শাহাদাত ও আল্লাহর সালাম
আল্লাহ ইয়াহইয়া (আ.)-এর জীবনের তিনটি দিনে সালাম দিয়েছেন:
وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا
আর তার প্রতি শাস্তি যেদিন তিনি জন্ম লাভ করেন, যেদিন তার মৃত্যু হবে এবং যেদিন তিনি জীবিত অবস্থায় উত্থিত হবেন।
বনী ইসরাঈলের নবী হত্যার কথা কুরআনও উল্লেখ করেছে:
إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
নিশ্চয় যারা আল্লাহ্র আয়াতসমূহে কুফরী করে, অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করে এবং মানুষের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে হত্যা করে, আপনি তাদেরকে মর্মন্তদ শাস্তির সংবাদ দিন।
সূরা আলে ইমরান ৩:২১
শেখা ও রিসোর্স
দোয়া, হাদিস, শিক্ষা, ভুল ধারণা আর কুরআনে কোথায় পড়বেন
দোয়া
দোয়াগুলো কুরআনের আয়াত, তাই আরবি হুবহু রাখা হয়েছে; অর্থ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে।
হাদিস
আল্লাহ ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়াকে পাঁচটি কথার আদেশ দিয়েছিলেন, যেন তিনি নিজে আমল করেন আর বনী ইসরাঈলকেও আমল করতে বলেন। তিনি দেরি করে ফেলার উপক্রম হলে ঈসা (আ.) বললেন: আল্লাহ আপনাকে পাঁচটি কথার আদেশ দিয়েছেন; হয় আপনি তাদের বলুন, নয়তো আমি বলি। ইয়াহইয়া (আ.) বললেন: আমার ভয় হয়, আপনি আগে বললে আমাকে মাটিতে ধসিয়ে দেওয়া হবে বা শাস্তি দেওয়া হবে। তারপর তিনি বাইতুল মাকদিসে লোকদের জড়ো করলেন, মসজিদ ভরে গেল, লোকেরা উঁচু জায়গাগুলোতেও বসল। তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কথার আদেশ দিয়েছেন, যেন আমি আমল করি আর তোমাদেরও আমল করতে বলি। প্রথম: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কিছু শরিক করবে না। যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, তার উদাহরণ সেই দাসের মতো, যাকে মালিক নিজের খাঁটি সোনা-রুপা দিয়ে কিনে বলল, এই আমার ঘর, এই আমার কাজ, কাজ করো আর আয় আমাকে দাও; কিন্তু সে কাজ করে আয় দেয় মালিক ছাড়া অন্যজনকে। তোমাদের কে চায় তার দাস এমন হোক? দ্বিতীয়: আল্লাহ তোমাদের নামাজের আদেশ দিয়েছেন; নামাজে এদিক-ওদিক তাকাবে না, কারণ বান্দা যতক্ষণ না তাকায়, আল্লাহ নামাজে তার দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখেন। তৃতীয়: আমি তোমাদের রোজার আদেশ দিচ্ছি; এর উদাহরণ এক দলের মধ্যে থাকা সেই লোক, যার কাছে মেশকের থলে, সবাই এর ঘ্রাণে মুগ্ধ। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও সুগন্ধি। চতুর্থ: আমি তোমাদের দান-সদকার আদেশ দিচ্ছি; এর উদাহরণ সেই লোক, যাকে শত্রু বন্দি করে হাত গলায় বেঁধে মারতে নিয়ে যাচ্ছে, আর সে বলল, কম-বেশি যা আছে দিয়ে আমি নিজেকে মুক্ত করছি, এভাবে সে নিজেকে মুক্ত করল। পঞ্চম: আমি তোমাদের আল্লাহর যিকির করার আদেশ দিচ্ছি; এর উদাহরণ সেই লোক, যার পেছনে শত্রু দ্রুত ছুটে আসছে, আর সে এক মজবুত দুর্গে ঢুকে নিজেকে রক্ষা করল। বান্দাও আল্লাহর যিকির ছাড়া শয়তান থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না।
(দ্বিতীয় আসমানে) পৌঁছে দেখি ইয়াহইয়া ও ঈসা (আ.), তাঁরা দুজন খালাতো ভাই। জিবরীল বললেন: ইনি ইয়াহইয়া আর ইনি ঈসা, তাঁদের সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তাঁরা উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (চতুর্থ আসমানে) পৌঁছালাম ইদরীস (আ.)-এর কাছে। জিবরীল বললেন: ইনি ইদরীস, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (পঞ্চম আসমানে) দেখি হারূন (আ.)। জিবরীল বললেন: ইনি হারূন, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (সপ্তম আসমানে) দেখি ইবরাহীম (আ.)। জিবরীল বললেন: ইনি আপনার পিতা, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার সন্তান ও নেককার নবীকে স্বাগতম।
শিক্ষা
অবদান
- ঈসা (আ.)-এর আগমনের সত্যায়ন (সূরা আলে ইমরান ৩:৩৯)।
- বনী ইসরাঈলকে পাঁচটি মৌলিক আদেশ (জামে আত-তিরমিযী ২৮৬৩)।
জীবনের রোডম্যাপ
- ১জন্ম
বৃদ্ধ পিতা ও বন্ধ্যা মায়ের ঘরে, দোয়ার উত্তরে (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৯০)।
- ২নাম
আল্লাহর দেওয়া, অনন্য (সূরা মারইয়াম ১৯:৭)।
- ৩শৈশব
কিতাব ও প্রজ্ঞা (সূরা মারইয়াম ১৯:১২)।
- ৪দাওয়াত
বাইতুল মাকদিসে পাঁচ আদেশ (জামে আত-তিরমিযী ২৮৬৩)।
- ৫ঈসার সত্যায়ন
- ৬শাহাদাত
অন্যায় বিয়েতে নিষেধ করায় এক বাদশাহর হাতে (আল-বিদায়া); আল্লাহর সালাম (সূরা মারইয়াম ১৯:১৫)।
ভুল ধারণা
ইয়াহইয়া (আ.) "হাসূর" ছিলেন, মানে শারীরিকভাবে অক্ষম ছিলেন।
ইয়াহইয়া (আ.) আর খ্রিস্টানদের "জন দ্য ব্যাপটিস্ট"-এর সব বিবরণ এক।
লোকমুখে চলা গল্প যাচাই করা হয়েছে মুহাদ্দিসদের মান অনুযায়ী। কোনো গল্প এখানে না থাকলে, তা সঠিক বলে ধরে নেবেন না; দলিল দেখে নিন।
কুরআনে পড়ুন
পুরো ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পড়তে এই অংশগুলো খুলুন।
| বিষয় | সূরা | আয়াত | সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| সুসংবাদ ও গুণ | সূরা আলে ইমরান | ৩:৩৯-৩৯ | ১ |
| নবী হত্যা | সূরা আলে ইমরান | ৩:২১-২১ | ১ |
| নাম, শৈশব ও সালাম | সূরা মারইয়াম | ১৯:৭-১৫ | ৯ |
| দোয়ার উত্তর | সূরা আল-আম্বিয়া | ২১:৮৯-৯০ | ২ |
যাচাই
১ইয়াহইয়া নামের বিশেষত্ব কী?
আল্লাহ নিজে রেখেছেন, আগে কাউকে এই নাম দেওয়া হয়নি (১৯:৭)।
২ইয়াহইয়া (আ.)-এর পাঁচ আদেশ কী কী?
তাওহীদ, নামাজ, রোজা, সদকা ও আল্লাহর যিকির (তিরমিযী ২৮৬৩)।
৩আল্লাহ ইয়াহইয়া (আ.)-কে কোন তিন দিনে সালাম দিয়েছেন?
জন্মের দিন, মৃত্যুর দিন আর পুনরুত্থানের দিন (১৯:১৫)।
সূত্র
- আল-কুরআনুল কারীম
আরবি পাঠ: তানযীল (হাফস)। বাংলা অর্থ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, হুবহু। - সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম
বুখারীর নম্বর ফাতহুল বারী অনুযায়ী, মুসলিমের নম্বর মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকী অনুযায়ী। - তাফসীর ইবনু কাসীর
সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা; ইসরাঈলি বর্ণনা চিনতে ইবনু কাসীরের নিজের মন্তব্যও কাজে লাগে। - কাসাসুল আম্বিয়া ও আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১ম খণ্ড)
ইবনু কাসীর। আরও পড়ার জন্য; এখানে শুধু কুরআন ও সহিহ হাদিসের অংশ রাখা হয়েছে। - সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা ওয়াল মাওযূআ
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী। দুর্বল ও জাল বর্ণনা যাচাইয়ের জন্য।
সাইটের সব সূত্র: সূত্র তালিকা · সূত্র নীতি