নবীদের জীবনী · মাসীহ, উলুল আযম রাসূল
ঈসা (আ.)
عِيسَى
ঈসা (আ.) মারইয়ামের পুত্র, আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। পিতা ছাড়া তাঁর জন্ম আল্লাহর এক বড় নিদর্শন। তিনি নিজেকে কখনো উপাস্য দাবি করেননি, বরং এক আল্লাহর ইবাদতের দিকেই ডেকেছেন। তাঁকে হত্যা বা ক্রুশবিদ্ধ করা হয়নি; আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন, আর কিয়ামতের আগে তিনি আবার নেমে আসবেন।
এই পাতার ঘটনা শুধু কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া; ইসরাঈলি বর্ণনা বা লোকমুখের গল্প রাখা হয়নি। আয়াতের বাংলা অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।
- পরিচয়
- আল্লাহর বান্দা, নবী ও কিতাবপ্রাপ্ত (সূরা মারইয়াম ১৯:৩০)
- মা
- মারইয়াম (আ.), যাঁকে আল্লাহ বিশ্বের নারীদের উপর মনোনীত করেছেন (সূরা আলে ইমরান ৩:৪২)
- কিতাব
- ইঞ্জীল (সূরা আল-মায়িদা ৫:১১০)
- কুরআনে যেখানে
- সূরা আলে ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদা, মারইয়াম, আস-সফ সহ বিভিন্ন সূরায়
জীবনের রোডম্যাপ: শুরু থেকে শেষ
- ১মা মারইয়াম (আ.)
ইমরানের স্ত্রী গর্ভের সন্তানকে আল্লাহর জন্য মানত করেন; জন্ম নেন মারইয়াম, যাকারিয়া (আ.)-এর তত্ত্বাবধানে বড় হন (সূরা আলে ইমরান ৩:৩৫-সূরা আলে ইমরান ৩:৩৭)।
- ২জন্ম
পিতা ছাড়া, আল্লাহর "হও" আদেশে (সূরা আলে ইমরান ৩:৫৯)। খেজুর গাছের নিচে জন্ম (সূরা মারইয়াম ১৯:২৩)।
- ৩শৈশব
দোলনায় কথা বলে নিজেকে আল্লাহর বান্দা ঘোষণা (সূরা মারইয়াম ১৯:৩০)।
- ৪নবুয়ত ও দাওয়াত
বনী ইসরাঈলের প্রতি রাসূল, ইঞ্জীল লাভ ও মুজিযা (সূরা আলে ইমরান ৩:৪৯, সূরা আল-মায়িদা ৫:১১০)।
- ৫আসমানে তুলে নেওয়া
শত্রুরা হত্যা বা ক্রুশবিদ্ধ করতে পারেনি; আল্লাহ তাঁকে তুলে নিয়েছেন (সূরা আন-নিসা ৪:১৫৭, সূরা আন-নিসা ৪:১৫৮)।
- ৬আবার আগমন ও ইন্তেকাল
কিয়ামতের আগে নেমে আসবেন, দাজ্জালকে ধ্বংস করবেন, চল্লিশ বছর থাকবেন, তারপর ইন্তেকাল করবেন এবং মুসলিমরা তাঁর জানাযা পড়বে (সুনানে আবু দাউদ ৪৩২৪)।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা
১মারইয়াম (আ.)-এর জন্ম ও বেড়ে ওঠা
ইমরানের স্ত্রী গর্ভের সন্তানকে আল্লাহর ঘরের সেবার জন্য মানত করলেন। কন্যা জন্ম নিলে নাম রাখলেন মারইয়াম, আর তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে দিলেন। আল্লাহ তাঁকে কবুল করলেন এবং যাকারিয়া (আ.)-এর তত্ত্বাবধানে দিলেন।
إِذْ قَالَتِ امْرَأَتُ عِمْرَانَ رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
স্মরণ করুন, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, ‘হে আমার রব! আমার গর্ভে যা আছে নিশ্চয় আমি তা একান্ত আপনার জন্য মানত করলাম। কাজেই আপনি আমার নিকট থেকে তা কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।'
فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَىٰ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنثَىٰ ۖ وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
তারপর যখন সে তা প্রসব করল তখন সে বলল, ‘হে আমার রব! নিশ্চয় আমি তা প্রসব করেছি কন্যারুপে।’ সে যা প্রসব করেছে তা সম্পর্কে আল্লাহ্ সম্যক অবগত। আর পুত্রসন্তান কন্যা সন্তানের মত নয়। আর আমি তার নাম মারিয়াম রেখেছি এবং অভিসপ্ত শয়তান হতে তার ও তার সন্তানকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।’
فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا ۖ كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقًا ۖ قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّىٰ لَكِ هَـٰذَا ۖ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ ۖ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
তারপর তার রব তাকে ভালোভাবেই কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমরূপে লালন-পালন করলেন এবং তিনি তাকে যাকারিয়্যার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন। যখনই যাকারিয়্যা তার কক্ষে প্রবেশ করত তখনই তার নিকট খাদ্য সামগ্রী দেখতে পেত। তিনি বলতেন, ‘হে মারিয়াম! এ সব তুমি কথায় পেলে?’ (মার্ইয়াম) বলতেন, ‘তা আল্লাহ্র নিকট হতে।’ নিশ্চয় আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত রিয্ক দান করেন।
وَإِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفَاكِ عَلَىٰ نِسَاءِ الْعَالَمِينَ
আর স্মরণ করুন, যখন ফেরেশতাগণ বলেছিল, ‘হে মার্ইয়াম! নিশ্চয় আল্লাহ্ আপনাকে মনোনীত করেছেন এবং পবিত্র করেছেন আর বিশ্বজগতের নারীগণের উপর আপনাকে মনোনীত করেছেন’
২মারইয়াম (আ.) ও সুসংবাদ
মারইয়াম (আ.) ছিলেন পবিত্র ও ইবাদতগুজার নারী। একদিন নির্জনে থাকার সময় আল্লাহ তাঁর কাছে ফেরেশতা পাঠালেন, পবিত্র এক পুত্রের সুসংবাদ দিতে।
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا
আর স্মরণ করুন এ কিতাবে মারইয়ামকে, যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে নিরালায় পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল,
فَاتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا
অতঃপর সে তাদের নিকট থেকে নিজেকে আড়াল করল। তখন আমরা তার কাছে আমাদের রূহকে পাঠালাম, সে তার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।
قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا
সে বলল, আমি তো তোমার রবের দূত, তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করার জন্য।
তিনি অবাক হয়ে বললেন, কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি, কীভাবে পুত্র হবে? উত্তর এল: এটা আল্লাহর জন্য সহজ, আর তিনি হবেন মানুষের জন্য নিদর্শন ও রহমত।
قَالَتْ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا
মারইয়াম বলল, ‘কেমন করে আমার পুত্র হবে যখন আমাকে কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যাভিচারিণীও নই?’
قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ ۖ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا ۚ وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا
সে বলল, ‘এ রূপই হবে। তোমার রব বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য সহজ। আর আমরা তাকে এজন্যে সৃষ্টি করব যেন সে হয় মানুষের জন্য এক নিদর্শন ও আমাদের কাছ থেকে এক অনুগ্রহ; এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।’
إِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ
স্মরণ করুন, যখন ফেরেশ্তাগণ বললেন, ‘হে মারিয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আপনাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন। তার নাম মসীহ্, মারিয়াম তনয় ঈসা, তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণের অন্যতম হবেন।
৩খেজুর গাছের নিচে জন্ম
প্রসব বেদনায় মারইয়াম (আ.) এক খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নিলেন। আল্লাহ তাঁর পায়ের কাছে পানির নহর দিলেন, খেজুর গাছ থেকে তাজা খেজুর দিলেন, আর মানুষের সাথে কথা না বলার নির্দেশ দিলেন।
فَحَمَلَتْهُ فَانتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا
অতঃপর সে তাকে গর্ভে ধারণ করল এবং তা সহ দূরের এক স্থানে চলে গেল।
فَأَجَاءَهَا الْمَخَاضُ إِلَىٰ جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَـٰذَا وَكُنتُ نَسْيًا مَّنسِيًّا
অতঃপর প্রসব-বেদনা তাকে এক খেজুর-গাছের নীচে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। সে বলল, ‘হায়, এর আগে যদি আমি মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতাম।
فَنَادَاهَا مِن تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا
তখন ফিরিশতা তার নিচ থেকে ডেকে তাকে বলল, ‘তুমি পেরেশান হয়ো না, তোমার পাদদেশে তোমার রব এক নহর সৃষ্টি করেছেন;
وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا
‘আর তুমি তোমার দিকে খেজুর-গাছের কাণ্ডে নাড়া দাও, সেটা তোমার উপর তাজা-পাকা খেজুর ফেলবে।
فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْنًا ۖ فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَـٰنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا
‘কাজেই খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও। অতঃপর মানুষের মধ্যে কাউকেও যদি তুমি দেখ তখন বলো, আমি দয়াময়ের উদ্দেশে মৌনতা অবলম্বনের মানত করেছি। কাজেই আজ আমি কিছুতেই কোনো মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবো না
৪আদমের মতো সৃষ্টি
পিতা ছাড়া জন্ম তাঁকে আল্লাহর পুত্র বানায় না। আদম (আ.)-এর তো পিতা-মাতা কেউই ছিল না। আল্লাহ শুধু বলেন "হও", আর তা হয়ে যায়।
إِنَّ مَثَلَ عِيسَىٰ عِندَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ ۖ خَلَقَهُ مِن تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُن فَيَكُونُ
নিশ্চয় আল্লাহ্র নিকট ‘ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তসদৃশ। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন; তারপর তাকে বলেছিলেন, ‘হও’, ফলে তিনি হয়ে যান।
مَا كَانَ لِلَّهِ أَن يَتَّخِذَ مِن وَلَدٍ ۖ سُبْحَانَهُ ۚ إِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
আল্লাহ্ এমন নন যে, কোনো সন্তান গ্রহণ করবেন, তিনি পবিত্র মহিমাময়। তিনি যখন কিছু স্থির করেন, তখন সেটার জন্য বলেন, ‘হও’ তাতেই তা হয়ে যায়।
৫দোলনা থেকে প্রথম কথা
শিশুকে নিয়ে মারইয়াম (আ.) সম্প্রদায়ের কাছে এলে তারা অপবাদ দিল। তিনি শিশুর দিকে ইশারা করলেন। দোলনার শিশু ঈসা (আ.) প্রথম যে কথা বললেন তা হলো: "আমি আল্লাহর বান্দা।"
فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ ۖ قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا
তারপর সে সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হল; তারা বলল, ‘হে মারইয়াম! তুমি তো এক অঘটন করে বসেছ।
فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ ۖ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَن كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا
তখন মারইয়াম সন্তানের প্রতি ইংগিত করল। তারা বলল, ‘যে কালের শিশু তার সাথে আমারা কেমন করে কথা বলব?’
قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا
তিনি বললেন, ‘আমি তো আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, আমাকে নবী করেছেন,
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا
‘যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করতে-
وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا
‘আর আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে করেননি উদ্ধত, হতভাগ্য;
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
‘আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্ম লাভ করেছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি উত্থিত হব।
৬মুজিযা ও দাওয়াত
আল্লাহর অনুমতিতে তিনি মাটির পাখিতে ফুঁ দিলে তা জীবন্ত পাখি হতো, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগী সুস্থ হতো, মৃত জীবিত হতো। প্রতিটি মুজিযার সাথে কুরআন বারবার বলেছে "আল্লাহর অনুমতিতে"।
وَرَسُولًا إِلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُم بِآيَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ ۖ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُم مِّنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِ اللَّهِ ۖ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِي الْمَوْتَىٰ بِإِذْنِ اللَّهِ ۖ وَأُنَبِّئُكُم بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
আর তাকে বনী ইসরাঈলের জন্য রাসূলরূপে’ (প্রেরণ করবেন, তিনি বলবেন) ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট নিদর্শন নিয়ে এসেছি যে, অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য কাদামাটি দ্বারা একটি পাখিসদৃশ আকৃতি গঠন করব; তারপর তাতে আমি ফুঁ দেব; ফলে আল্লাহ্র হুকুমে সেটা পাখি হয়ে যাবে। আর আমি আল্লাহ্র হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্থকে নিরাময় করব এবং মৃতকে জীবিত করব। আর তোমরা তোমাদের ঘরে যা খাও এবং মজুদ কর তা আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব। নিশ্চয় এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যদি তোমরা মুমিন হও।’
তিনি তাওরাতকে সত্যায়ন করেছেন এবং তাঁর পরে "আহমাদ" নামের রাসূলের আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন।
وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُم مُّصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِن بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ ۖ فَلَمَّا جَاءَهُم بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَـٰذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ
আর স্মরণ করুন, যখন মারইয়াম—পুত্র ‘ঈসা বলেছিলেন, ‘হে বনী ইসরাঈল! নিশ্চয় আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল এবং আমার পূর্ব থেকে তোমাদের কাছে যে তাওরাত রয়েছে আমি তার সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসবেন আমি তার সুসংবাদদাতা। পরে তিনি যখন সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাদের কাছে আসলেন তখন তারা বলতে লাগল, এটা তো স্পষ্ট জাদু।’
কিছু মানুষ অস্বীকার করলে হাওয়ারীরা (তাঁর সাথীরা) তাঁর পাশে দাঁড়ালেন।
فَلَمَّا أَحَسَّ عِيسَىٰ مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنصَارِي إِلَى اللَّهِ ۖ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ اللَّهِ آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
যখন ‘ঈসা তাদের থেকে কুফরী উপলব্ধি করলেন তখন তিনি বললেন, ‘আল্লাহ্র পথে কারা আমার সাহায্যকারী?’ হাওয়ারীগণ বলল, ‘আমরাই আল্লাহ্র সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহ্তে ঈমান এনেছি। আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম।
৭আসমান থেকে খাবারের খাঞ্চা
হাওয়ারীরা আসমান থেকে খাবারের খাঞ্চা চাইল। ঈসা (আ.) দোয়া করলেন, আর আল্লাহ তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন, সাথে সতর্ক করলেন যে এর পর কুফরি করলে কঠিন শাস্তি। এই ঘটনার নামেই সূরা আল-মায়িদা।
إِذْ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ هَلْ يَسْتَطِيعُ رَبُّكَ أَن يُنَزِّلَ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ ۖ قَالَ اتَّقُوا اللَّهَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
স্মরণ করুন, যখন হাওয়ারীগণ বলেছিল, ‘হে মারইয়াম-তনয় ‘ঈসা! আপনার রব কি আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্য পরিপূর্ণ খাঞ্চা পাঠাতে সক্ষম?’ তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমারা মুমিন হও।’
قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
মারইয়াম-তনয় ‘ঈসা বললেন, ‘হে আল্লাহ্ আমাদের রব! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা পাঠান; এটা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্য হবে আনন্দোৎসব স্বরুপ এবং আপনার কাছ থেকে নিদর্শন।আর আমাদের জীবিকা দান করুন; আপনিই তো শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা।’
قَالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ ۖ فَمَن يَكْفُرْ بَعْدُ مِنكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَّا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ
আল্লাহ্ বললেন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কাছে তা নাযিল করব; কিন্তু এর পর তোমাদের মধ্যে কেউ কুফরী করলে তাকে আমি এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি সৃষ্টিকুলের আর কাউকেও দেব না।’
৮হত্যা নয়, আসমানে তুলে নেওয়া
তাঁর শত্রুরা দাবি করল তারা তাঁকে হত্যা করেছে। কুরআন স্পষ্ট বলেছে: তারা তাঁকে হত্যাও করেনি, ক্রুশবিদ্ধও করেনি; বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন।
وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَـٰكِن شُبِّهَ لَهُمْ ۚ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ ۚ مَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ ۚ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينًا
আর ‘আমরা আল্লাহর রাসূল মারঈয়াম তনয় ‘ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি’ তাদের এ উক্তির জন্য। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি; বরং তাদের জন্য (এক লোককে) তার সদৃশ করা হয়েছিল। আর নিশ্চয় যারা তার সম্বন্ধে মতভেদ করেছিল, তারা অবশ্যই এ সম্বন্ধে সংশয়যুক্ত ছিল; এ সম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ছাড়া তাদের কোনো জ্ঞানই ছিল না। আর এটা নিশ্চিত যে, তারা তাঁকে হত্যা করেনি,
بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا
বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَىٰ إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ ۖ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأَحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ
স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ্ বললেন, ‘হে ‘ঈসা! নিশ্চয় আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব, আমার নিকট আপনাকে উঠিয়ে নিব এবং যারা কুফরী করে তাদের মধ্য থেকে আপনাকে পবিত্র করব। আর আপনার অনুসারিগণকে কেয়ামত পর্যন্ত প্রাধান্য দিব, তারপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। ’ অতঃপর যে বিষয়ে তোমাদের মতান্তর ঘটেছে আমি তোমাদের মধ্যে তা মীমাংসা করে দেব।
৯আবার আগমন
নবী (ﷺ) কসম করে বলেছেন, ঈসা (আ.) ন্যায়বিচারক হয়ে আবার নেমে আসবেন। বর্ণনাকারী আবু হুরাইরা (রা.) এর সাথে সূরা আন-নিসার ১৫৯ নম্বর আয়াত পড়তেন।
যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! শিগগিরই মারইয়ামের পুত্র (ঈসা) তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচারক শাসক হয়ে নেমে আসবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযিয়া তুলে দেবেন। সম্পদ এত বেশি হবে যে কেউ তা নিতে চাইবে না। তখন একটি সিজদা দুনিয়া ও তার সবকিছুর চেয়ে উত্তম হবে।
وَإِن مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا
কিতাবীদের মধ্য থেকে প্রত্যেকে তার মৃত্যুর পূর্বে তার উপর ঈমান আনবেই। আর কেয়ামতের দিন তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবেন।
وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِّلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُونِ ۚ هَـٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ
আর নিশ্চয় ‘ঈসা কিয়ামতের নিশ্চিত নিদর্শন ; কাজেই তোমরা কিয়ামতে সন্দেহ করোনা। আর তোমরা আমারই অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ।
১০নবী (ﷺ)-এর সাথে তাঁর সম্পর্ক
নবী (ﷺ) বলেছেন, ঈসা (আ.)-এর সবচেয়ে কাছের মানুষ তিনি, আর দুজনের মাঝে কোনো নবী নেই। তিনি ঈসা (আ.) নেমে এসে কী করবেন এবং তাঁর চেহারা কেমন, তাও জানিয়েছেন।
أَنَا أَوْلَى النَّاسِ بِابْنِ مَرْيَمَ، وَالأَنْبِيَاءُ أَوْلاَدُ عَلاَّتٍ، لَيْسَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ نَبِيٌّ
মারইয়ামের পুত্রের (ঈসা) সবচেয়ে কাছের মানুষ আমি। নবীরা সবাই একই পিতার ভিন্ন মায়ের সন্তানের মতো (দ্বীন এক, শরীয়ত ভিন্ন)। আমার ও তাঁর মাঝে কোনো নবী নেই।
(ঈসা আ. নেমে এসে) ইসলামের জন্য মানুষের সাথে লড়াই করবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযিয়া তুলে দেবেন। তাঁর যুগে আল্লাহ ইসলাম ছাড়া সব ধর্মমত বিলুপ্ত করবেন এবং মাসীহ দাজ্জালকে ধ্বংস করবেন। তিনি পৃথিবীতে চল্লিশ বছর থাকবেন, তারপর ইন্তেকাল করবেন, আর মুসলিমরা তাঁর জানাযা পড়বে।
رَأَيْتُ مُوسَى وَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ رَجِلٌ، كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ، وَرَأَيْتُ عِيسَى، فَإِذَا هُوَ رَجُلٌ رَبْعَةٌ أَحْمَرُ كَأَنَّمَا خَرَجَ مِنْ دِيمَاسٍ
(মিরাজের রাতে নবী ﷺ বলেন) আমি মূসাকে দেখলাম: হালকা-পাতলা গড়নের, চুল না একেবারে কোঁকড়া না একেবারে সোজা, যেন শানূআ গোত্রের একজন মানুষ। আর ঈসাকে দেখলাম: মাঝারি উচ্চতার, লালচে গায়ের রং, যেন এইমাত্র গোসলখানা থেকে বের হয়েছেন।
১১কিয়ামতের দিন তাঁর সাক্ষ্য
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করবেন, তিনি কি মানুষকে বলেছিলেন তাঁকে ও তাঁর মাকে উপাস্য বানাতে? তিনি বলবেন: যা বলার অধিকার আমার নেই তা আমি বলিনি; আমি শুধু বলেছি, আমার ও তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদত করো।
وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَـٰهَيْنِ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ ۚ إِن كُنتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ ۚ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ ۚ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ
আরও স্মরণ করুন, আল্লাহ্ যখন বলবেন, ‘হে মারইয়াম –তনয় ‘ঈসা! আপনি কি লোকদেরকে বলেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহ্ ছাড়া আমাকে আমার জননীকে দুই ইলাহরূপে গ্রহণ কর? ‘তিনি বলবেন, ‘আপনিই মহিমান্বিত! যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভনীয় নয়। যদি আমি তা বলতাম তবে আপনি তো তা জানতেন। আমার অন্তরের কথাতো আপনি জানেন, কিন্তু আপনার অন্তরের কথা আমি জানি না; নিশ্চয় আপনি অদৃশ্য সম্বদ্ধে সবচেয়ে ভালো জানেন।’
مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ ۚ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ ۖ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ
‘আপনি আমাকে যে আদেশ করেছেন তা ছাড়া তাদেরকে আমি কিছুই বলিনি, তা এই যে, তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহ্র ইবাদত কর এবং যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কাজ-কর্মের সাক্ষী, কিন্তু যখন আপনি আমাকে তুলে নিলেন তখন আপনিই তো ছিলেন তাদের কাজ-কর্মের তত্ত্বাবধায়ক এবং আপনিই সব বিষয়ে সাক্ষী।’
তিনি ও তাঁর মা দুজনেই খাবার খেতেন, অর্থাৎ মানুষ ছিলেন। তিনি আল্লাহর একজন রাসূল মাত্র।
مَّا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ ۖ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الْآيَاتِ ثُمَّ انظُرْ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ
মারইয়াম-তনয় মসীহ শুধু একজন রাসূল। তার আগে বহু রাসূল গত হয়েছেন এবং তাঁর মা অত্যন্ত সত্য নিষ্ঠা ছিলেন। তারা দুজনেই খাওয়া-দাওয়া করতেন। দেখনু আমরা তাদের জন্য আয়াতগুলোকে কেমন বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি; তারপরও দেখুন, তারা কিভাবে সত্যবিমুখ হয়!
দ্বীনের জন্য অবদান
- বনী ইসরাঈলকে তাওহীদ ও তাওরাতের বিধানের দিকে ফেরানো (সূরা আস-সাফ ৬১:৬)।
- শেষ নবী "আহমাদ"-এর আগমনের সুসংবাদ (সূরা আস-সাফ ৬১:৬)।
- ইঞ্জীল কিতাব (সূরা আল-মায়িদা ৫:১১০)।
- শেষ যামানায় ফিরে এসে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর শরীয়ত অনুযায়ী শাসন, দাজ্জালের ধ্বংস (সহিহ বুখারী ৩৪৪৮, সুনানে আবু দাউদ ৪৩২৪)।
আমাদের জন্য শিক্ষা
- ঈসা (আ.)-কে ভালোবাসা মানে তাঁকে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল হিসেবে মানা, উপাস্য হিসেবে নয়।
- মুজিযা নবীর নিজের ক্ষমতা নয়, আল্লাহর অনুমতি। সব ক্ষমতা আল্লাহর।
- সব নবীর বার্তা এক: আল্লাহর ইবাদত করো (সূরা আল-মায়িদা ৫:১১৭)।
- ঈসা (আ.) নিজেই মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সুসংবাদ দিয়েছেন। তাঁর সত্যিকার অনুসারী শেষ নবীকে মেনে নেয়।
- মারইয়াম (আ.) পবিত্রতা ও ধৈর্যের আদর্শ; মিথ্যা অপবাদের মুখেও তিনি আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছেন।
কুরআনে তাঁর আলোচনা
পুরো ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পড়তে এই আয়াতগুলো খুলুন।
- সূরা আলে ইমরান ৩:৩৩-৬৩ মারইয়াম (আ.)-এর জন্ম ও সুসংবাদ
- সূরা মারইয়াম ১৯:১৬-৪০ জন্ম ও দোলনায় কথা
- সূরা আন-নিসা ৪:১৫৫-১৫৯ হত্যা নয়, তুলে নেওয়া
- সূরা আল-মায়িদা ৫:১১০-১২০ মুজিযা, খাঞ্চা ও কিয়ামতের প্রশ্ন
- সূরা আস-সাফ ৬১:৬-১৪ আহমাদের সুসংবাদ
- সূরা আল-মায়িদা ৫:৭২-৭৫ তিনি শুধু রাসূল
আরও বিস্তারিত জানতে
- তাফসীর ইবনু কাসীর: উপরের আয়াতগুলোর তাফসীর
- ইবনু কাসীর, কাসাসুল আম্বিয়া (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়ার প্রথম খণ্ড)
- সহিহ বুখারী, কিতাবু আহাদীসিল আম্বিয়া (নবীদের অধ্যায়)
তাফসীর ও ইতিহাসের বইয়ে কিছু ইসরাঈলি বর্ণনাও আছে, যার অনেকগুলো লেখকরা নিজেই দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছেন। দলিল হিসেবে কুরআন ও সহিহ হাদিসই মূল।