لُوط عَلَيْهِ السَّلَامُ
লূত (আ.)
লূত (আ.) ছিলেন ইবরাহীম (আ.)-এর ভাতিজা, আর তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে একমাত্র যিনি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। দুজনে একসাথে হিজরত করেন। পরে আল্লাহ লূত (আ.)-কে পাঠান এমন এক জাতির কাছে, যারা এমন অশ্লীল কাজ শুরু করেছিল যা তাদের আগে পৃথিবীতে কেউ করেনি। একা, অসহায় অবস্থায় তিনি সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَت تَّعْمَلُ الْخَبَائِثَ ۗ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ
আর লূতকে আমরা দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এবং তাকে উদ্ধার করেছিলাম এমন এক জনপদ থেকে যার অধিবাসীরা লিপ্ত ছিল অশ্লীল কাজে; নিশ্চয় তারা ছিল এক মন্দ ফাসেক সম্প্রদায়।
এই পাতার মূল ঘটনা কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া। তাফসীর ও ইতিহাসের বই (ইবনু কাসীর, তাবারী প্রভৃতি) থেকে যা এসেছে, তা আলাদা বাক্সে মানসহ দেখানো হয়েছে; ইসরাঈলি বর্ণনা (আগের কিতাবধারীদের কাছ থেকে আসা গল্প) চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা, দলিল হিসেবে নয়। আয়াতের বাংলা অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।
- পরিচয়
- ইবরাহীম (আ.)-এর প্রতি ঈমান এনে তাঁর সাথে হিজরত (সূরা আল-আনকাবূত ২৯:২৬)
- জাতি
- জনপদবাসী, যাদের শহর উল্টে দেওয়া হয় (সূরা হুদ ১১:৮২); ইতিহাসে "সাদূম"
- পরিবার
- মেয়েরা ঈমানদার, স্ত্রী কাফির (সূরা হুদ ১১:৭৮, সূরা আত-তাহরীম ৬৬:১০)
- কুরআনে যেখানে
- সূরা আল-আরাফ, হূদ, আল-হিজর, আশ-শুআরা, আন-নামল, আল-আনকাবূত, আল-কামার সহ কয়েকটি সূরায়
ইবরাহীম (আ.)-এর সাথে ঈমান ও হিজরত
ইবরাহীম (আ.) আগুন থেকে বেঁচে গেলেও তাঁর সম্প্রদায় ঈমান আনেনি। ঈমান এনেছিলেন একজন, লূত (আ.):
فَآمَنَ لَهُ لُوطٌ ۘ وَقَالَ إِنِّي مُهَاجِرٌ إِلَىٰ رَبِّي ۖ إِنَّهُ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
অতঃপর লূত তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলেন। আর ইবরাহীম বললেন, ‘আমি আমার রবের উদ্দেশ্যে হিজরত করছি। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্ৰজ্ঞাময়।’
আল্লাহ দুজনকেই বরকতময় ভূমিতে পৌঁছে দিলেন (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৭১)। পরে আল্লাহ লূত (আ.)-কে প্রজ্ঞা, জ্ঞান আর নবুয়ত দিলেন (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৭৪)।
এক নজিরবিহীন অশ্লীলতার বিরুদ্ধে
লূত (আ.)-এর জাতি পুরুষে পুরুষে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়েছিল। তিনি তাদের সরাসরি প্রশ্ন করলেন:
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُم بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِّنَ الْعَالَمِينَ
আর আমি লূতকেও পাঠিয়েছিলাম। তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, ‘তোমরা কি এমন খারাপ কাজ করে যাচ্ছ যা তোমাদের আগে সৃষ্টিকুলের কেউ করেনি ?
إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ
‘তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষের কাছে যাও, বরং তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’
সূরা আল-আরাফ ৭:৮১
এর সাথে তারা রাস্তায় ডাকাতি করত, আর নিজেদের মজলিসে প্রকাশ্যে মন্দ কাজ করত (সূরা আল-আনকাবূত ২৯:২৯)। আল্লাহ তাদের জন্য যে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, তা ছেড়ে তারা সীমা লঙ্ঘন করছিল (সূরা আশ-শুআরা ২৬:১৬৫, সূরা আশ-শুআরা ২৬:১৬৬)।
তাদের উত্তর ছিল উল্টো অভিযোগ:
وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا أَخْرِجُوهُم مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ
উত্তরে তার সম্প্রদায় শুধু বলল, ‘এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বহিস্কার কর, এরা তো এমন লোক যারা অতি পবিত্র হতে চায়।’
সূরা আল-আরাফ ৭:৮২
পবিত্র থাকতে চাওয়াই হয়ে গেল অপরাধ। যখন সমাজ নষ্ট হয়ে যায়, তখন ভালো মানুষকেই সমাজ থেকে বের করে দেওয়ার কথা ওঠে।
ইবরাহীম (আ.)-এর ঘরে ফেরেশতারা
শাস্তি দিতে যাওয়ার পথে ফেরেশতারা প্রথমে এলেন ইবরাহীম (আ.)-এর কাছে, ইসহাকের সুসংবাদ নিয়ে। তারপর জানালেন, তাঁরা লূতের জাতির কাছে যাচ্ছেন। ইবরাহীম (আ.) উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন, সেখানে তো লূত আছেন:
قَالَ إِنَّ فِيهَا لُوطًا ۚ قَالُوا نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَن فِيهَا ۖ لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ
ইবরাহীম বললেন, ‘এ জনপদে তো লূত রয়েছে।’ তারা বলল, ‘সেখানে কারা আছে, তা আমরা ভাল জানি, নিশ্চয় আমরা লূতকে ও তার পরিজনবর্গকে রক্ষা করব তার স্ত্রীকে ছাড়া; সে তো পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’
ইবরাহীম (আ.) তাদের পক্ষে অনেক কথা বললেন, কারণ তিনি ছিলেন কোমল হৃদয়ের (সূরা হুদ ১১:৭৪, সূরা হুদ ১১:৭৫)। কিন্তু উত্তর এল, আল্লাহর আদেশ এসে গেছে (সূরা হুদ ১১:৭৬)।
অতিথিদের রক্ষায় এক অসহায় নবী
ফেরেশতারা সুদর্শন যুবকের রূপে লূত (আ.)-এর কাছে এলেন। তিনি তাঁদের দেখে দুশ্চিন্তায় পড়লেন, কারণ জানতেন তাঁর জাতি কী করবে:
وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالَ هَـٰذَا يَوْمٌ عَصِيبٌ
আর যখন আমাদের প্রেরিত ফিরিশতাগণ লূতের কাছে আসল তখন তাদের আগমনে তিনি বিষণ্ণ হলেন এবং নিজেকে তাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করলেন এবং বললেন, ‘এটা বড়ই বিপদের দিন।’
সূরা হুদ ১১:৭৭
লোকেরা ছুটে এল। তিনি অনুনয় করলেন, আমার অতিথিদের সামনে আমাকে অপমান কোরো না; এই আমার (জাতির) মেয়েরা, তাদের বিয়ে করো, এটাই তোমাদের জন্য পবিত্র (সূরা হুদ ১১:৭৮)। তারা মানল না। তখন অসহায় হয়ে তিনি বললেন:
قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَىٰ رُكْنٍ شَدِيدٍ
তিনি বললেন, ‘তোমাদের উপর যদি আমার শক্তি থাকত অথবা যদি আমি আশ্রয় নিতে পারতাম কোনো সুদৃঢ় স্তম্ভের!’
সূরা হুদ ১১:৮০
নবী (ﷺ) এই কথা স্মরণ করে বলেছেন, আল্লাহ লূতের উপর রহম করুন, তিনি তো এক শক্তিশালী আশ্রয়েই (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় নিচ্ছিলেন:
(সন্দেহের প্রশ্ন উঠলে) আমরা ইবরাহীমের চেয়ে বেশি যোগ্য, যখন তিনি বলেছিলেন: "হে আমার রব, আমাকে দেখান কীভাবে আপনি মৃতকে জীবিত করেন। তিনি বললেন: তুমি কি বিশ্বাস করো না? তিনি বললেন: অবশ্যই, তবে আমার অন্তর প্রশান্ত হওয়ার জন্য" (২:২৬০)। আল্লাহ লূতের উপর রহম করুন, তিনি তো এক শক্ত আশ্রয়েই আশ্রয় নিচ্ছিলেন। আর ইউসুফ যত দিন কারাগারে ছিলেন, আমি তত দিন থাকলে (মুক্তির) ডাক আসতেই সাড়া দিতাম।
সহিহ বুখারী ৩৩৭২ সহিহ বর্ণনা: আবু হুরাইরা (রা.)
তখন অতিথিরা নিজেদের পরিচয় দিলেন:
قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَن يَصِلُوا إِلَيْكَ ۖ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِّنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ ۖ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ ۚ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ ۚ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ
তারা বলল, ‘হে লূত! নিশ্চয় আমরা আপনার রব প্রেরিত ফিরিশ্তা। তারা কখনই আপনার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। কাজেই আপনি রাতের কোনো এক সময়ে আপনার পরিবার বর্গ সহ বের হয়ে পড়ুন এবং আপনাদের মধ্যে কেও পিছনের দিকে তাকাবে না, আপনার স্ত্রী ছাড়া। তাদের যা ঘটবে তাঁরও তাই ঘটবে। নিশ্চয় প্রভাত তাদের জন্য নির্ধারিত সময়। প্রভাত কী খুব কাছাকাছি নয় ?’
আর যারা দরজা ভেঙে ঢুকতে চেয়েছিল, আল্লাহ তাদের চোখ অন্ধ করে দিলেন (সূরা আল-কামার ৫৪:৩৭)।
রাতের অন্ধকারে যাত্রা, স্ত্রী রয়ে গেল
ফেরেশতারা নির্দেশ দিলেন, রাতের শেষ ভাগে পরিবার নিয়ে বের হয়ে যান, কেউ পেছনে তাকাবে না, শুধু আপনার স্ত্রী ছাড়া; তার উপরও তা-ই আসবে যা ওদের উপর আসবে। আর শাস্তির সময় ভোর (সূরা হুদ ১১:৮১)।
পুরো জনপদে মুমিনদের একটি মাত্র ঘর পাওয়া গিয়েছিল:
فَأَخْرَجْنَا مَن كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
অতঃপর সেখানে যেসব মুমিন ছিল আমরা তাদেরকে বের করে নিয়ে আসলাম।
সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৩৫
فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِّنَ الْمُسْلِمِينَ
তবে আমরা সেখানে একটি পরিবার ছাড়া আর কোনো মুসলিম পাইনি।
সেই ঘরেও একজন ছিল না: লূত (আ.)-এর স্ত্রী। নূহ (আ.)-এর স্ত্রীর সাথে আল্লাহ তাকে কাফিরদের দৃষ্টান্ত বানিয়েছেন (সূরা আত-তাহরীম ৬৬:১০)।
জনপদ উল্টে দেওয়া
ভোর হতেই এল আল্লাহর আদেশ:
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِّن سِجِّيلٍ مَّنضُودٍ
অতঃপর যখন আমাদের আদেশ আসল তখন আমরা জনপদকে উল্টে দিলাম এবং তাদের উপর ক্রমাগত বর্ষণ করলাম পোড়ামাটির পাথর,
مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ ۖ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ
যা আপনার রবের কাছে চিহ্নিত ছিল। আর এটা যালিমদের থেকে দূরে নয়।
সূরা হুদ ১১:৮৩
প্রথমে বিকট শব্দ (সূরা আল-হিজর ১৫:৭৩), তারপর জনপদ উল্টে দেওয়া আর পোড়া মাটির পাথর বর্ষণ (সূরা আল-হিজর ১৫:৭৪)। আল্লাহ এই জায়গাকে পথের ধারে চিরস্থায়ী নিদর্শন করে রেখেছেন (সূরা আল-হিজর ১৫:৭৬)।
শেষ জীবন ও তাঁর স্মরণ
লূত (আ.)-কে আল্লাহ রক্ষা করে নিয়ে গেলেন, আর তাঁকে নেককারদের মধ্যে শামিল করলেন (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৭৫)। কুরআন তাঁর নাম রেখেছে সেই নবীদের তালিকায়, যাঁদের আল্লাহ সারা জগতের উপর মর্যাদা দিয়েছেন:
وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُسَ وَلُوطًا ۚ وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ
এবং ইসমা’ঈল, আল-ইয়াসা, ‘ইউনুস ও লূতকেও (হিদায়াত দিয়েছিলাম); আর তাদের প্রত্যেককে আমরা শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম দৃষ্টিকুলের উপর।
শেখা ও রিসোর্স
দোয়া, হাদিস, শিক্ষা, ভুল ধারণা আর কুরআনে কোথায় পড়বেন
দোয়া
قَالَ رَبِّ انصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ ﴿٣٠﴾
তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।’
সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৩০رَبِّ نَجِّنِي وَأَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ ﴿١٦٩﴾
‘হে আমার রব! আমাকে এবং আমার পরিবার-পরিজনকে, তারা যা করে তা থেকে রক্ষা করুন।’
সূরা আশ-শুআরা ২৬:১৬৯দোয়াগুলো কুরআনের আয়াত, তাই আরবি হুবহু রাখা হয়েছে; অর্থ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে।
হাদিস
(সন্দেহের প্রশ্ন উঠলে) আমরা ইবরাহীমের চেয়ে বেশি যোগ্য, যখন তিনি বলেছিলেন: "হে আমার রব, আমাকে দেখান কীভাবে আপনি মৃতকে জীবিত করেন। তিনি বললেন: তুমি কি বিশ্বাস করো না? তিনি বললেন: অবশ্যই, তবে আমার অন্তর প্রশান্ত হওয়ার জন্য" (২:২৬০)। আল্লাহ লূতের উপর রহম করুন, তিনি তো এক শক্ত আশ্রয়েই আশ্রয় নিচ্ছিলেন। আর ইউসুফ যত দিন কারাগারে ছিলেন, আমি তত দিন থাকলে (মুক্তির) ডাক আসতেই সাড়া দিতাম।
শিক্ষা
অবদান
- সবচেয়ে কঠিন সামাজিক অশ্লীলতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট দাওয়াত (সূরা আল-আরাফ ৭:৮০)।
- ইবরাহীম (আ.)-এর প্রথম ঈমানদার সঙ্গী ও হিজরতের সাথী (সূরা আল-আনকাবূত ২৯:২৬)।
- অতিথির সম্মান রক্ষার দৃষ্টান্ত (সূরা হুদ ১১:৭৮)।
জীবনের রোডম্যাপ
- ১পরিচয়
ইবরাহীম (আ.)-এর ভাতিজা (ইতিহাসবিদদের বর্ণনা); তাঁর প্রতি ঈমান আনেন (সূরা আল-আনকাবূত ২৯:২৬)।
- ২হিজরত
ইবরাহীম (আ.)-এর সাথে বরকতময় ভূমিতে (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৭১)। নবুয়ত, প্রজ্ঞা ও জ্ঞান লাভ (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৭৪)।
- ৩দাওয়াত
অশ্লীলতা, ডাকাতি ও প্রকাশ্য পাপের বিরুদ্ধে (সূরা আল-আরাফ ৭:৮০, সূরা আল-আনকাবূত ২৯:২৯)।
- ৪অতিথি ফেরেশতা
অতিথিদের রক্ষায় অসহায় অবস্থা (সূরা হুদ ১১:৭৭-সূরা হুদ ১১:৮১)।
- ৫নাজাত
রাতের শেষ ভাগে পরিবার নিয়ে বের হওয়া; স্ত্রী রয়ে গেল (সূরা হুদ ১১:৮১, সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৩৬)।
- ৬শাস্তি
জনপদ উল্টে দেওয়া, পাথর বর্ষণ (সূরা হুদ ১১:৮২)।
- ৭শেষ জীবন
নেককারদের অন্তর্ভুক্ত (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৭৫)। ইন্তেকালের স্থান ও সময় অজানা।
ভুল ধারণা
লূত (আ.)-এর স্ত্রী পেছনে ফিরে তাকানোয় লবণের খুঁটি হয়ে গিয়েছিল।
লূত (আ.) তাঁর জাতির লোকদের নিজের মেয়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
লোকমুখে চলা গল্প যাচাই করা হয়েছে মুহাদ্দিসদের মান অনুযায়ী। কোনো গল্প এখানে না থাকলে, তা সঠিক বলে ধরে নেবেন না; দলিল দেখে নিন।
কুরআনে পড়ুন
পুরো ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পড়তে এই অংশগুলো খুলুন।
| বিষয় | সূরা | আয়াত | সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| দাওয়াত ও পরিণতি | সূরা আল-আরাফ | ৭:৮০-৮৪ | ৫ |
| অতিথি ফেরেশতা | সূরা হুদ | ১১:৭৭-৮৩ | ৭ |
| ইবরাহীম ও লূত | সূরা আল-হিজর | ১৫:৫১-৭৭ | ২৭ |
| জাতির উত্তর | সূরা আশ-শুআরা | ২৬:১৬০-১৭৫ | ১৬ |
| হিজরত ও শাস্তি | সূরা আল-আনকাবূত | ২৯:২৬-৩৫ | ১০ |
| মুমিনদের একটি ঘর | সূরা আয-যারিয়াত | ৫১:৩১-৩৭ | ৭ |
যাচাই
১ইবরাহীম (আ.)-এর সম্প্রদায় থেকে কে তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন?
লূত (আ.) (২৯:২৬)।
২লূত (আ.)-এর জনপদে মুমিনদের কয়টি ঘর পাওয়া গিয়েছিল?
মাত্র একটি (৫১:৩৬)।
৩অসহায় অবস্থায় লূত (আ.) কী বলেছিলেন?
"যদি তোমাদের প্রতিরোধের শক্তি থাকত, বা কোনো শক্ত আশ্রয় পেতাম" (১১:৮০); নবী (ﷺ) বলেছেন, তিনি তো আল্লাহর আশ্রয়েই ছিলেন (বুখারী ৩৩৭২)।
সূত্র
- আল-কুরআনুল কারীম
আরবি পাঠ: তানযীল (হাফস)। বাংলা অর্থ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, হুবহু। - সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম
বুখারীর নম্বর ফাতহুল বারী অনুযায়ী, মুসলিমের নম্বর মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকী অনুযায়ী। - তাফসীর ইবনু কাসীর
সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা; ইসরাঈলি বর্ণনা চিনতে ইবনু কাসীরের নিজের মন্তব্যও কাজে লাগে। - কাসাসুল আম্বিয়া ও আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১ম খণ্ড)
ইবনু কাসীর। আরও পড়ার জন্য; এখানে শুধু কুরআন ও সহিহ হাদিসের অংশ রাখা হয়েছে। - সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা ওয়াল মাওযূআ
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী। দুর্বল ও জাল বর্ণনা যাচাইয়ের জন্য।
সাইটের সব সূত্র: সূত্র তালিকা · সূত্র নীতি