নবীদের জীবনী · মানবজাতির পিতা
আদম (আ.)
آدَم
আদম (আ.) প্রথম মানুষ, আমাদের সবার পিতা। আল্লাহ তাঁকে মাটি থেকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, জ্ঞান দিয়েছেন, ফেরেশতাদের দিয়ে সিজদা করিয়েছেন। তাঁর ঘটনায় আছে মানুষের মর্যাদা, শয়তানের শত্রুতা আর তাওবার দরজা খোলা থাকার শিক্ষা।
এই পাতার ঘটনা শুধু কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া; ইসরাঈলি বর্ণনা বা লোকমুখের গল্প রাখা হয়নি। আয়াতের বাংলা অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।
- পরিচয়
- প্রথম মানুষ, আল্লাহ যাঁকে যমীনে খলীফা করেছেন (সূরা আল-বাকারা ২:৩০)
- সৃষ্টি
- মাটি থেকে, তারপর আল্লাহ তাঁর মধ্যে রূহ দিয়েছেন (সূরা আল-হিজর ১৫:২৯)
- স্ত্রী
- তাঁর সাথে জান্নাতে ছিলেন (সূরা আল-বাকারা ২:৩৫)
- কুরআনে যেখানে
- সূরা আল-বাকারা, আল-আরাফ, আল-হিজর, ত্ব-হা সহ কয়েকটি সূরায়
জীবনের রোডম্যাপ: শুরু থেকে শেষ
- ১সৃষ্টি
আল্লাহ তাঁকে মাটি থেকে সৃষ্টি করে রূহ দিয়েছেন (সূরা আল-হিজর ১৫:২৮, সূরা আল-হিজর ১৫:২৯)। তাঁর থেকেই তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, আর দুজন থেকে সব মানুষ (সূরা আন-নিসা ৪:১)।
- ২মর্যাদা
ফেরেশতাদের সিজদা, সব কিছুর নাম শিক্ষা (সূরা আল-বাকারা ২:৩১, সূরা আল-বাকারা ২:৩৪)। আল্লাহ তাঁকে মনোনীত করেছেন (সূরা আলে ইমরান ৩:৩৩)।
- ৩জান্নাতে বসবাস ও পরীক্ষা
নিষিদ্ধ গাছের পরীক্ষা, শয়তানের ধোঁকা ও তাওবা (সূরা আল-বাকারা ২:৩৫-সূরা আল-বাকারা ২:৩৭)।
- ৪যমীনে জীবন
আল্লাহর হিদায়াতের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যমীনে নেমে আসা (সূরা আল-বাকারা ২:৩৮)। তাঁর সন্তানদের থেকে পুরো মানবজাতি।
- ৫ইন্তেকাল
কুরআনে তাঁর মৃত্যুর বিবরণ নেই। কোথায় কবর, কত বছর বয়স, এসব নিয়ে প্রচলিত বেশিরভাগ গল্পের সহিহ সূত্র নেই, তাই এখানে রাখা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা
১যমীনে খলীফা সৃষ্টির ঘোষণা
মানুষ সৃষ্টির আগে আল্লাহ ফেরেশতাদের জানালেন যে তিনি যমীনে খলীফা বানাবেন। ফেরেশতারা প্রশ্ন করলেন, আল্লাহ জানিয়ে দিলেন যে তিনি তা জানেন যা তারা জানে না।
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ
আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদের বললেন ‘নিশ্চয় আমি যমীনে খলীফা সৃষ্টি করছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাওকে সৃষ্টি করবেন যে ফাসাদ ঘটাবে ও রক্তপাত করবে ? আর আমরা আপনার হামদসহ তাসবীহ পাঠ করি এবং পবিত্রতা ঘোষণা করি। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তা জানি, যা তোমরা জান না’।
আল্লাহ মানুষকে শুকনো ঠনঠনে কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করার কথা বললেন, আর বললেন, যখন তাকে পূর্ণ আকৃতি দিয়ে রূহ দেবেন, তখন ফেরেশতারা যেন সিজদা করে।
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِّن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ
আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন, নিশ্চয় আমি গন্ধযুক্ত কাদার শুস্ক ঠনঠনে কালচে মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি;
فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ
অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার পক্ষ থেকে রূহ সঞ্চার করব তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো,
নবী (ﷺ) জানিয়েছেন, সৃষ্টির পর আল্লাহ আদম (আ.)-কে ফেরেশতাদের সালাম দিতে পাঠালেন। সেই সালামই আমাদের অভিবাদন।
আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন, তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। তারপর বললেন: যাও, ফেরেশতাদের ওই দলকে সালাম দাও, আর শোনো তারা তোমাকে কী জবাব দেয়; সেটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের অভিবাদন। তিনি বললেন: আসসালামু আলাইকুম। তারা বলল: আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ; তারা "ওয়া রাহমাতুল্লাহ" বাড়িয়ে বলল। যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, সবাই আদমের আকৃতিতে প্রবেশ করবে। তারপর থেকে মানুষের আকার কমতে কমতে আজকের অবস্থায় এসেছে।
২জ্ঞানের মর্যাদা
আল্লাহ আদম (আ.)-কে সব কিছুর নাম শেখালেন। ফেরেশতারা স্বীকার করলেন, আল্লাহ যা শিখিয়েছেন তার বাইরে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। এভাবে আল্লাহ দেখালেন, জ্ঞানের কারণে মানুষকে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَـٰؤُلَاءِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন , তারপর সেগুলো ফেরেশ্তাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন, ‘ এগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ’।
قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
তারা বলল, ‘ আপনি পবিত্র মহান ! আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের তো কোনো জ্ঞানই নেই। নিশ্চয় আপনিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় ‘।
قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَائِهِمْ ۖ فَلَمَّا أَنبَأَهُم بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ
তিনি বললেন, ‘ হে আদম ! তাদেরকে এসবের নাম বলে দিন ’। অতঃপর তিনি (আদম) তাদেরকে সেসবের নাম বলে দিলে তিনি (আল্লাহ্) বললেন, ‘ আমি কি তোমাদের কে বলিনি যে, নিশ্চয় আমি আসমান ও যমীনের গায়েব জানি। আরও জানি যা তোমরা ব্যক্ত কর এবং যা তোমরা গোপন করতে।
৩ইবলিসের অহংকার
আল্লাহর আদেশে সব ফেরেশতা আদম (আ.)-কে সিজদা করল, শুধু ইবলিস করল না। তার যুক্তি ছিল, সে আগুনের তৈরি আর আদম মাটির তৈরি, তাই সে শ্রেষ্ঠ। এই অহংকারই তাকে কাফির বানিয়ে দিল।
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ
আর স্মরণ করুন, যখন আমরা ফেরেশতাদের বললাম, আমাকে সিজদা কর, তখন ইবলিশ ছাড়া সকলেই সিজদা করল; সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল। আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হল।
قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ ۖ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ
তিনি বললেন, ‘আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কি তোমাকে নিবৃত্ত করল যে, তুমি সিজদা করলে না?’ সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্ৰেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কাদামাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।
৪জান্নাত, নিষিদ্ধ গাছ ও শয়তানের ধোঁকা
আল্লাহ আদম (আ.) ও তাঁর স্ত্রীকে জান্নাতে থাকতে দিলেন। সব কিছু খাওয়ার অনুমতি দিলেন, শুধু একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করলেন। আগেই সতর্ক করে দিলেন যে শয়তান তাদের শত্রু।
وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَـٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ
আর আমারা বললাম, ‘ হে আদম ! আপনি ও আপনার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করুন এবং যেখান থেকে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করুন, কিন্তু এই গাছটির কাছে যাবেন না ; তাহলে আপনারা হবেন যালিমদের অন্তর্ভুক্ত’।
فَقُلْنَا يَا آدَمُ إِنَّ هَـٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَىٰ
অতঃপর আমরা বললাম, ‘হে আদম! নিশ্চয় এ আপনার ও আপনার স্ত্রীর শত্রু, কাজেই সে যেন কিছুতেই আপনাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, দিলে আপনারা দুঃখ-কষ্ট পাবেন।
শয়তান মিথ্যা লোভ দেখাল: এই গাছ খেলে চিরজীবন আর অক্ষয় রাজত্ব পাওয়া যাবে। তাঁরা দুজন সেই গাছ থেকে খেলেন।
فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ قَالَ يَا آدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَىٰ شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلَىٰ
অতঃপর শয়তান থেকে তাকে কুমন্ত্রণা দিলো; সে বল্ল,’হে আদম! আমি কি আপনাকে বলে দেব অনন্ত জীবনদায়িনী গাছের কথা ও অক্ষয় রাজ্যের কথা?’
فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ الْجَنَّةِ ۚ وَعَصَىٰ آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَىٰ
তারপর তারা উভয়ে সে গাছ থেকে ভক্ষণ করল; তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে ঢাকতে লাগলেন। আর আদম তার রবের হুকুম অমান্য করলেন ফলে তিনি পথভ্রান্ত হয়ে গেলেন।
৫তাওবা ও ক্ষমা
ভুল বোঝার সাথে সাথে তাঁরা দুজন অহংকার না করে নিজেদের দোষ স্বীকার করলেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন। এই দোয়া কুরআনে সংরক্ষিত আছে।
قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
তারা বলল, ‘হে আমাদের রব! আমারা নিজেদের প্রতি যুলুম করছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’
আল্লাহ তাঁদের তাওবা কবুল করলেন, আর আদম (আ.)-কে মনোনীত করে পথ দেখালেন। ইবলিস ভুল করে যুক্তি দেখিয়েছিল, আদম (আ.) ভুল করে ক্ষমা চেয়েছিলেন; এটাই দুজনের পার্থক্য।
فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
তারপর আদম তার রবের কাছ থেকে কিছু বাণী পেলেন। অতঃপর আল্লাহ্ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনিই তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَىٰ
তারপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, অতঃপর তার তাওবা কবুল করলেন ও তাকে পথনির্দেশ করলেন।
৬যমীনে নেমে আসা ও হিদায়াতের প্রতিশ্রুতি
তারপর আল্লাহ তাঁদের যমীনে পাঠালেন, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকার জন্য। সাথে প্রতিশ্রুতি দিলেন: তাঁর পক্ষ থেকে হিদায়াত আসবে, আর যারা তা মেনে চলবে তাদের কোনো ভয় ও দুঃখ থাকবে না। নবী-রাসূলদের পাঠানো সেই প্রতিশ্রুতিরই পূরণ।
فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ ۖ وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ
অতঃপর শয়তান সেখান থেকে তাদের পদস্খলন ঘটালো এবং তারা যেখানে ছিলো সেখান থেকে তাদেরকে বের করলো। আর আমরা বললাম, ‘তোমরা একে অন্যের শ্ত্রু রুপে নেমে যাও এবং কিছু দিনের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল যমীনে’।
قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
আমরা বললাম, ‘তোমরা সকলে এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট কোনো হিদায়াত আসবে তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না’।
৭আদম ও মূসা (আ.)-এর কথোপকথন
নবী (ﷺ) জানিয়েছেন, আদম ও মূসা (আ.)-এর মাঝে এক কথোপকথন হয়েছিল। মূসা (আ.) জান্নাত থেকে বের হওয়ার কথা তুললে আদম (আ.) তাকদীরের কথা বললেন। এখান থেকে শিক্ষা: তাওবা কবুল হওয়ার পর পুরনো ভুলের জন্য দোষ দেওয়া যায় না।
আদম ও মূসা (আ.) বিতর্ক করলেন। মূসা (আ.) বললেন: আপনি সেই আদম, যাঁর ভুল আপনাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে? আদম (আ.) বললেন: আপনি সেই মূসা, যাঁকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও তাঁর সাথে কথা বলার জন্য বেছে নিয়েছেন; তারপরও আপনি আমাকে এমন বিষয়ে দোষ দিচ্ছেন, যা আমার সৃষ্টির আগেই আমার তাকদীরে লেখা হয়েছিল? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুবার বললেন: এভাবে আদম মূসার উপর যুক্তিতে জিতে গেলেন।
দ্বীনের জন্য অবদান
- মানুষকে আল্লাহর খলীফা হিসেবে যমীনে দায়িত্ব পালনের শুরু তাঁর মাধ্যমে।
- তাওবার আদর্শ: ভুলের পর কীভাবে আল্লাহর কাছে ফিরতে হয়, তার প্রথম উদাহরণ (সূরা আল-আরাফ ৭:২৩)।
- সালামের অভিবাদন তাঁর থেকে শুরু, যা আজও মুসলিমদের পরিচয় (সহিহ বুখারী ৩৩২৬)।
- সন্তানদের মাঝে এক আল্লাহর ইবাদত ও হিদায়াত অনুসরণের ধারা।
আমাদের জন্য শিক্ষা
- অহংকার শয়তানের প্রথম পাপ। নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা থেকে সাবধান থাকুন।
- ভুল হলে যুক্তি না খুঁজে আদম (আ.)-এর মতো স্বীকার করে ক্ষমা চান: رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا (সূরা আল-আরাফ ৭:২৩)।
- শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে সবসময় হারামকে লাভজনক করে দেখায়।
- সালাম আদম (আ.) থেকে চলে আসা অভিবাদন। দেখা হলে সালাম দিন।
- জ্ঞান মানুষের মর্যাদার কারণ। দ্বীনের জ্ঞান শিখতে থাকুন।
কুরআনে তাঁর আলোচনা
পুরো ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পড়তে এই আয়াতগুলো খুলুন।
- সূরা আল-বাকারা ২:৩০-৩৯ খলীফা, নাম শিক্ষা, সিজদা ও জান্নাত
- সূরা আল-আরাফ ৭:১১-২৭ ইবলিসের অহংকার ও শয়তানের শত্রুতা
- সূরা আল-হিজর ১৫:২৬-৪৪ মাটি থেকে সৃষ্টি
- সূরা ত্বা-হা ২০:১১৫-১২৩ ভুলে যাওয়া ও তাওবা
- সূরা সোয়াদ ৩৮:৭১-৮৫ ইবলিসের অহংকার
আরও বিস্তারিত জানতে
- তাফসীর ইবনু কাসীর: উপরের আয়াতগুলোর তাফসীর
- ইবনু কাসীর, কাসাসুল আম্বিয়া (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়ার প্রথম খণ্ড)
- সহিহ বুখারী, কিতাবু আহাদীসিল আম্বিয়া (নবীদের অধ্যায়)
তাফসীর ও ইতিহাসের বইয়ে কিছু ইসরাঈলি বর্ণনাও আছে, যার অনেকগুলো লেখকরা নিজেই দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছেন। দলিল হিসেবে কুরআন ও সহিহ হাদিসই মূল।