هُود عَلَيْهِ السَّلَامُ
হূদ (আ.)
নূহ (আ.)-এর পর আল্লাহ যে জাতিকে শক্তি, সম্পদ আর বিশাল প্রাসাদ দিয়েছিলেন, তারা আদ জাতি। তারা গর্ব করে বলত, আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে? তাদের কাছে আল্লাহ পাঠালেন তাদেরই ভাই হূদ (আ.)-কে। তিনি একা দাঁড়িয়ে পুরো জাতিকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, আর শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করেছিলেন।
إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُم ۚ مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
আমি তো নির্ভর করি আমার ও তোমাদের রব আল্লাহ্র উপর; এমন কোনো জীব-জন্তু নেই, যে তাঁর পূর্ণ আয়াত্তাধীন নয়; নিশ্চয় আমার রব আছেন সরল পথে।
এই পাতার মূল ঘটনা কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া। তাফসীর ও ইতিহাসের বই (ইবনু কাসীর, তাবারী প্রভৃতি) থেকে যা এসেছে, তা আলাদা বাক্সে মানসহ দেখানো হয়েছে; ইসরাঈলি বর্ণনা (আগের কিতাবধারীদের কাছ থেকে আসা গল্প) চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা, দলিল হিসেবে নয়। আয়াতের বাংলা অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।
- জাতি
- আদ, "ইরাম" যাদের সুউচ্চ স্তম্ভের অধিকারী (সূরা আল-ফাজর ৮৯:৬-সূরা আল-ফাজর ৮৯:৮)
- বসতি
- আহকাফ, বালির টিলার এলাকা (সূরা আল-আহকাফ ৪৬:২১); আলেমদের মতে ইয়েমেন ও ওমানের মাঝে
- শাস্তি
- সাত রাত আট দিনের প্রচণ্ড ঠান্ডা ঝড়ো বাতাস (সূরা আল-হাক্কা ৬৯:৬, সূরা আল-হাক্কা ৬৯:৭)
- কুরআনে যেখানে
- সূরা আল-আরাফ, হূদ, আশ-শুআরা, আল-আহকাফ, আল-কামার, আল-হাক্কাহ
আদ জাতি: শক্তি আর অহংকার
নূহ (আ.)-এর প্লাবনের পর মানুষ আবার ছড়িয়ে পড়ল। তাদের মধ্যে আদ জাতিকে আল্লাহ দিয়েছিলেন অসাধারণ দৈহিক শক্তি আর সমৃদ্ধি। তাদের মতো জাতি তখন আর কোথাও ছিল না (সূরা আল-ফাজর ৮৯:৮)। কিন্তু এই শক্তিই তাদের অন্ধ করে দিল:
فَأَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً ۖ أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً ۖ وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ
অতঃপর 'আদ সম্প্রদায়, তারা যমীনে অযথা অহংকার করেছিল এবং বলেছিল, 'আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী কে আছে?' তবে কি তারা লক্ষ্য করে নি যে, নিশ্চয় আল্লাহ, যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী? আর তারা আমাদের নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করত।
প্রতিটি উঁচু জায়গায় তারা স্মৃতিস্তম্ভ বানাত, শুধু দেখানোর জন্য; মজবুত প্রাসাদ বানাত যেন চিরকাল থাকবে; আর কাউকে ধরলে নির্দয়ভাবে ধরত (সূরা আশ-শুআরা ২৬:১২৮-সূরা আশ-শুআরা ২৬:১৩০)।
ভাই হূদ: এক আল্লাহর দিকে ডাক
আল্লাহ তাদের কাছে পাঠালেন তাদেরই একজনকে, তাদের "ভাই" হূদ (আ.)-কে। তাঁর প্রথম কথা সব নবীর মতোই:
وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُ ۖ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ
‘আর আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তোমরা তো শুধু মিথ্যা রটনাকারী।
সূরা হুদ ১১:৫০
তিনি কোনো পারিশ্রমিক চাননি (সূরা হুদ ১১:৫১)। তাদের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস, শক্তি আর বৃষ্টির কথা বলে বোঝালেন, ক্ষমা চাইলে আল্লাহ এগুলো আরও বাড়িয়ে দেবেন:
وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ
‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তারপর তাঁর দিকেই ফিরে আস। তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষাবেন। আর তিনি তোমাদেরকে আরো শক্তি দিয়ে তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবেন এবং তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না।’
তিনি মনে করিয়ে দিলেন, আল্লাহই তোমাদের নূহের জাতির পরে খলীফা বানিয়েছেন, দৈহিক গঠনে বাড়তি শক্তি দিয়েছেন (সূরা আল-আরাফ ৭:৬৯)। পশু, সন্তান, বাগান, ঝর্ণা, সবই তাঁর দান (সূরা আশ-শুআরা ২৬:১৩২-সূরা আশ-শুআরা ২৬:১৩৪)।
একাই সবার বিরুদ্ধে: আল্লাহর উপর ভরসা
নেতারা তাঁকে নির্বোধ আর মিথ্যাবাদী বলল (সূরা আল-আরাফ ৭:৬৬)। বলল, তুমি কোনো প্রমাণ আনোনি, তোমার কথায় আমরা উপাস্যদের ছাড়ব না; আমাদের কোনো দেবতা নিশ্চয়ই তোমাকে পাগল করে দিয়েছে (সূরা হুদ ১১:৫৩, সূরা হুদ ১১:৫৪)। তখন হূদ (আ.) একা পুরো জাতির সামনে দাঁড়িয়ে যে কথা বললেন, তা ঈমানের ইতিহাসে এক অনন্য ঘোষণা:
مِن دُونِهِ ۖ فَكِيدُونِي جَمِيعًا ثُمَّ لَا تُنظِرُونِ
‘আল্লাহ্ ছাড়া। সুতরাং তোমরা সবাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর; তারপর আমাকে অবকাশ দিও না।
সূরা হুদ ১১:৫৫
إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُم ۚ مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
আমি তো নির্ভর করি আমার ও তোমাদের রব আল্লাহ্র উপর; এমন কোনো জীব-জন্তু নেই, যে তাঁর পূর্ণ আয়াত্তাধীন নয়; নিশ্চয় আমার রব আছেন সরল পথে।
"তোমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্র করো, আমাকে একটুও সময় দিয়ো না।" একজন মানুষ একটা শক্তিশালী জাতিকে এ কথা বলতে পারেন শুধু তখনই, যখন তিনি জানেন প্রতিটি প্রাণীর কপাল আল্লাহর হাতে।
তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও বা না দাও, আমাদের কাছে সমান; আমরা শাস্তি পাব না (সূরা আশ-শুআরা ২৬:১৩৬-সূরা আশ-শুআরা ২৬:১৩৮)। আর চ্যালেঞ্জ দিল: সত্যবাদী হলে শাস্তি নিয়ে এসো (সূরা আল-আহকাফ ৪৬:২২)।
মেঘ ভেবে আনন্দ, এল ঝড়
তারপর একদিন তারা দেখল, উপত্যকার দিকে বিশাল মেঘ আসছে। দীর্ঘ খরার পর আনন্দে বলে উঠল:
فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُّسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَـٰذَا عَارِضٌ مُّمْطِرُنَا ۚ بَلْ هُوَ مَا اسْتَعْجَلْتُم بِهِ ۖ رِيحٌ فِيهَا عَذَابٌ أَلِيمٌ
অতঃপর যখন তারা তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল তখন বলতে লাগল, ‘এ তো মেঘ আমাদেরকে বৃষ্টি দান করবে।’ না, বরং এটাই তো তা, যা তোমরা ত্বারান্বিত করতে চেয়েছ, এক ঝড়, এতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّهَا فَأَصْبَحُوا لَا يُرَىٰ إِلَّا مَسَاكِنُهُمْ ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْقَوْمَ الْمُجْرِمِينَ
এটা তার রবের নির্দেশে সব কিছুকে ধবংস করে দেবে। অতঃপর তাদের পরিণাম এ হল যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া আর কিছুই দেখা গেল না। এভাবে আমরা অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
সূরা আল-আহকাফ ৪৬:২৫
সাত রাত আট দিন একটানা প্রচণ্ড ঠান্ডা ঝড়ো বাতাস বয়ে গেল। কুরআন সেই দৃশ্য এঁকেছে এভাবে:
وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوا بِرِيحٍ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍ
আর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা,
সূরা আল-হাক্কা ৬৯:৬
سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى الْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَىٰ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ
যা তিনি তাদের উপর প্রবাহিত করেছিলেন সাতরাত ও আটদিন বিরামহীনভাবে; তখন আপনি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখতেন--- তারা সেখানে লুটিয়ে পরে আছে সারশূন্য খেজুর কাণ্ডের ন্যায়।
সূরা আল-হাক্কা ৬৯:৭
যারা বলত "আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে", তারা পড়ে রইল খেজুর গাছের ফাঁপা কাণ্ডের মতো। নবী (ﷺ) বলেছেন, পুবালি বাতাস দিয়ে তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে (খন্দকের যুদ্ধে), আর পশ্চিমা বাতাস দিয়ে আদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছে:
পুবালি বাতাস (সাবা) দিয়ে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে, আর পশ্চিমা বাতাস (দাবূর) দিয়ে আদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছে।
সহিহ বুখারী ১০৩৫ সহিহ বর্ণনা: ইবনু আব্বাস (রা.)
এই ঘটনার কারণেই আকাশে মেঘ বা ঝড় দেখলে নবী (ﷺ)-এর চেহারায় দুশ্চিন্তা দেখা যেত:
নবী (ﷺ) মেঘ বা বাতাস দেখলে তাঁর চেহারায় (দুশ্চিন্তার) ছাপ বোঝা যেত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, মানুষ মেঘ দেখলে খুশি হয়, বৃষ্টির আশায়; আর আপনার চেহারায় দেখি অস্বস্তি। তিনি বললেন: হে আয়েশা, এতে যে আযাব নেই, তার নিশ্চয়তা আমাকে কে দেবে? এক জাতিকে বাতাস দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেই জাতি শাস্তি দেখে বলেছিল: "এ তো মেঘ, আমাদের বৃষ্টি দেবে" (৪৬:২৪)।
সহিহ বুখারী ৪৮২৯ সহিহ বর্ণনা: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)
হূদ (আ.) ও মুমিনদের নাজাত, শেষ জীবন
এই ভয়ংকর ঝড়ের মধ্যেও আল্লাহ তাঁর নবী আর তাঁর সাথের মুমিনদের রক্ষা করলেন:
وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَنَجَّيْنَاهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ
আর যখন আমাদের নির্দেশ আসল তখন আমরা হূদ ও তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমাদের অনুগ্রহে রক্ষা করলাম এবং রক্ষা করলাম তাদেরকে কঠিন শাস্তি হতে।
আর আদ জাতির উপর দুনিয়াতেও লানত, আখিরাতেও (সূরা হুদ ১১:৬০)।
শেখা ও রিসোর্স
দোয়া, হাদিস, শিক্ষা, ভুল ধারণা আর কুরআনে কোথায় পড়বেন
দোয়া
إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُم ۚ مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ ﴿٥٦﴾
আমি তো নির্ভর করি আমার ও তোমাদের রব আল্লাহ্র উপর; এমন কোনো জীব-জন্তু নেই, যে তাঁর পূর্ণ আয়াত্তাধীন নয়; নিশ্চয় আমার রব আছেন সরল পথে।
সূরা হুদ ১১:৫৬وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ ﴿٥٢﴾
‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তারপর তাঁর দিকেই ফিরে আস। তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষাবেন। আর তিনি তোমাদেরকে আরো শক্তি দিয়ে তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবেন এবং তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না।’
সূরা হুদ ১১:৫২দোয়াগুলো কুরআনের আয়াত, তাই আরবি হুবহু রাখা হয়েছে; অর্থ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে।
হাদিস
نُصِرْتُ بِالصَّبَا، وَأُهْلِكَتْ عَادٌ بِالدَّبُورِ
পুবালি বাতাস (সাবা) দিয়ে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে, আর পশ্চিমা বাতাস (দাবূর) দিয়ে আদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছে।
নবী (ﷺ) মেঘ বা বাতাস দেখলে তাঁর চেহারায় (দুশ্চিন্তার) ছাপ বোঝা যেত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, মানুষ মেঘ দেখলে খুশি হয়, বৃষ্টির আশায়; আর আপনার চেহারায় দেখি অস্বস্তি। তিনি বললেন: হে আয়েশা, এতে যে আযাব নেই, তার নিশ্চয়তা আমাকে কে দেবে? এক জাতিকে বাতাস দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেই জাতি শাস্তি দেখে বলেছিল: "এ তো মেঘ, আমাদের বৃষ্টি দেবে" (৪৬:২৪)।
শিক্ষা
অবদান
- শক্তিশালী জাতির সামনে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত (সূরা হুদ ১১:৫০)।
- আল্লাহর উপর ভরসার এক অনন্য ঘোষণা, যা কুরআনে চিরকাল রয়ে গেছে (সূরা হুদ ১১:৫৬)।
- ইস্তিগফারের দুনিয়াবি বরকতের শিক্ষা (সূরা হুদ ১১:৫২)।
জীবনের রোডম্যাপ
- ১জাতি ও যুগ
নূহ (আ.)-এর জাতির পরে আদ জাতি, আল্লাহ যাদের খলীফা বানিয়েছিলেন (সূরা আল-আরাফ ৭:৬৯)। বংশতালিকা ইতিহাসের বর্ণনায়।
- ২দাওয়াত
এক আল্লাহর ইবাদত, ইস্তিগফার, পারিশ্রমিক ছাড়া (সূরা হুদ ১১:৫০-সূরা হুদ ১১:৫২)।
- ৩বিরোধিতা
নেতারা নির্বোধ, মিথ্যাবাদী ও পাগল বলল (সূরা আল-আরাফ ৭:৬৬, সূরা হুদ ১১:৫৪)। তিনি একা চ্যালেঞ্জ দিলেন (সূরা হুদ ১১:৫৫)।
- ৪শাস্তি
মেঘের রূপে ঝড়ো বাতাস, সাত রাত আট দিন (সূরা আল-আহকাফ ৪৬:২৪, সূরা আল-হাক্কা ৬৯:৭)।
- ৫নাজাত
হূদ (আ.) ও মুমিনরা রক্ষা পেলেন (সূরা হুদ ১১:৫৮)।
- ৬ইন্তেকাল
কুরআন ও সহিহ হাদিসে বিবরণ নেই; কবরের স্থান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দুর্বল বর্ণনা।
ভুল ধারণা
"ইরাম" ছিল সোনা-রুপার তৈরি এক শহর, যা এখনো মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ায় আর মাঝে মাঝে কেউ দেখতে পায়।
নবী (ﷺ) বলেছেন, আরবদের মধ্যে চারজন নবী: হূদ, সালিহ, শুআইব ও তোমাদের নবী।
লোকমুখে চলা গল্প যাচাই করা হয়েছে মুহাদ্দিসদের মান অনুযায়ী। কোনো গল্প এখানে না থাকলে, তা সঠিক বলে ধরে নেবেন না; দলিল দেখে নিন।
কুরআনে পড়ুন
পুরো ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পড়তে এই অংশগুলো খুলুন।
| বিষয় | সূরা | আয়াত | সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| দাওয়াত ও পরিণতি | সূরা আল-আরাফ | ৭:৬৫-৭২ | ৮ |
| ভরসার ঘোষণা | সূরা হুদ | ১১:৫০-৬০ | ১১ |
| আদ জাতির অহংকার | সূরা আশ-শুআরা | ২৬:১২৩-১৪০ | ১৮ |
| আহকাফ ও মেঘ | সূরা আল-আহকাফ | ৪৬:২১-২৬ | ৬ |
| সাত রাত আট দিন | সূরা আল-হাক্কা | ৬৯:৬-৮ | ৩ |
যাচাই
১আদ জাতি কী বলে অহংকার করত?
"আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে?" (৪১:১৫)।
২আদ জাতি শাস্তিকে প্রথমে কী মনে করেছিল?
বৃষ্টির মেঘ (৪৬:২৪)।
৩ঝড় কত দিন চলেছিল?
সাত রাত আট দিন (৬৯:৭)।
সূত্র
- আল-কুরআনুল কারীম
আরবি পাঠ: তানযীল (হাফস)। বাংলা অর্থ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, হুবহু। - সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম
বুখারীর নম্বর ফাতহুল বারী অনুযায়ী, মুসলিমের নম্বর মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকী অনুযায়ী। - তাফসীর ইবনু কাসীর
সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা; ইসরাঈলি বর্ণনা চিনতে ইবনু কাসীরের নিজের মন্তব্যও কাজে লাগে। - কাসাসুল আম্বিয়া ও আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১ম খণ্ড)
ইবনু কাসীর। আরও পড়ার জন্য; এখানে শুধু কুরআন ও সহিহ হাদিসের অংশ রাখা হয়েছে। - সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা ওয়াল মাওযূআ
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী। দুর্বল ও জাল বর্ণনা যাচাইয়ের জন্য।
সাইটের সব সূত্র: সূত্র তালিকা · সূত্র নীতি