يُونُس عَلَيْهِ السَّلَامُ
ইউনুস (আ.)
ইউনুস (আ.)-কে কুরআন বলেছে "যুন-নূন" আর "সাহিবুল হূত", মাছওয়ালা। নিজের জাতি ঈমান না আনায় তিনি রাগ করে আল্লাহর অনুমতির আগেই চলে গিয়েছিলেন। তারপর জাহাজ, সমুদ্র আর মাছের পেটের অন্ধকার। সেখানে তাঁর একটি ছোট্ট দোয়া কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের বিপদের দোয়া হয়ে আছে। আর তাঁর জাতিই ইতিহাসের একমাত্র জাতি, যারা শাস্তি দেখার আগমুহূর্তে ঈমান এনে বেঁচে গিয়েছিল।
وَذَا النُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَىٰ فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَّا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
আর স্মরণ করুন, যুন-নূনকে, যখন তিনি ক্রোধ ভরে চলে গিয়েছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে, আমরা তাকে পাকড়াও করব না। তারপর তিনি অন্ধকারে এ আহবান করেছিলেন যে, ‘আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; আপনি কতইনা পবিত্র ও মহান, নিশ্চয়ই আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছি’।
এই পাতার মূল ঘটনা কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া। তাফসীর ও ইতিহাসের বই (ইবনু কাসীর, তাবারী প্রভৃতি) থেকে যা এসেছে, তা আলাদা বাক্সে মানসহ দেখানো হয়েছে; ইসরাঈলি বর্ণনা (আগের কিতাবধারীদের কাছ থেকে আসা গল্প) চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা, দলিল হিসেবে নয়। আয়াতের বাংলা অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।
- পরিচয়
- রাসূল (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৩৯); ইউনুস ইবনু মাত্তা (সহিহ বুখারী ৩৪১৩)
- উপাধি
- যুন-নূন (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৭), সাহিবুল হূত (সূরা আল-কলম ৬৮:৪৮)
- জাতি
- এক লাখ বা তার বেশি মানুষ (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৭); ইতিহাসে নিনাওয়া (ইরাকের মসুলের কাছে)
- বিশেষ দোয়া
- লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৭)
- কুরআনে যেখানে
- সূরা ইউনুস, আল-আম্বিয়া, আস-সাফফাত, আল-কলম সহ কয়েকটি সূরায়
এক লাখের বেশি মানুষের কাছে রাসূল
আল্লাহ ইউনুস (আ.)-কে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছিলেন এক বিশাল জনপদে:
وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
আর নিশ্চয় ইউনুস ছিলেন রাসূলগণের একজন।
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৩৯
وَأَرْسَلْنَاهُ إِلَىٰ مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ
আর তাকে আমরা একলক্ষ বা তার চেয়ে বেশী লোকের প্রতি পাঠিয়েছিলাম।
তিনি বহু দিন তাদের তাওহীদের দিকে ডাকলেন, কিন্তু তারা অস্বীকার করল।
ধৈর্য হারিয়ে চলে যাওয়া
জাতি ঈমান না আনায় ইউনুস (আ.) তাদের শাস্তির সতর্কবাণী দিলেন, তারপর রাগ করে আল্লাহর অনুমতির আগেই এলাকা ছেড়ে চলে গেলেন:
وَذَا النُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَىٰ فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَّا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
আর স্মরণ করুন, যুন-নূনকে, যখন তিনি ক্রোধ ভরে চলে গিয়েছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে, আমরা তাকে পাকড়াও করব না। তারপর তিনি অন্ধকারে এ আহবান করেছিলেন যে, ‘আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; আপনি কতইনা পবিত্র ও মহান, নিশ্চয়ই আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছি’।
সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৭
"মনে করেছিলেন আমি তাঁকে ধরব না", আলেমরা বলেন, এর অর্থ তিনি ভেবেছিলেন আল্লাহ এ ব্যাপারে তাঁকে সংকীর্ণতায় ফেলবেন না। নবী (ﷺ)-কেও আল্লাহ সতর্ক করেছেন এমন যেন না হন:
فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تَكُن كَصَاحِبِ الْحُوتِ إِذْ نَادَىٰ وَهُوَ مَكْظُومٌ
অতএব, আপনি ধৈর্য ধারণ করুন আপনার রবের নির্দেশের অপেক্ষায়, আর আপনি মাছওয়ালার ন্যায় হবেন না, যখন তিনি বিষাদ আচ্ছন্ন অবস্থায় আহ্বান করেছিলেন।
বোঝাই জাহাজ ও লটারি
তিনি গিয়ে উঠলেন এক বোঝাই জাহাজে। সমুদ্রে ঝড় উঠল, জাহাজ ডোবার উপক্রম। ভার কমাতে কাকে নামানো হবে, তা ঠিক করতে লটারি হলো:
إِذْ أَبَقَ إِلَى الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ
স্মরণ করুন, যখন তিনি বোঝাই নৌযানের দিকে পালিয়ে গেলেন,
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪০
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ
অতঃপর তিনি লটারীতে যোগগান করে পরাভূতদের অন্তর্ভুক্ত হলেন।
তিনবার লটারিতে তাঁর নাম উঠল, এমনটি তাফসীরে আছে। শেষে তাঁকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হলো।
মাছের পেটে তিন অন্ধকার
এক বিশাল মাছ তাঁকে গিলে ফেলল:
فَالْتَقَمَهُ الْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ
অতঃপর এক বড় আকারের মাছ তাকে গিলে ফেলল, আর তখন সে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগল।
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪২
রাতের অন্ধকার, সমুদ্রের অন্ধকার, মাছের পেটের অন্ধকার। সেখানে তিনি নিজেকে দোষ দিলেন, আর ডাকলেন:
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ ۚ وَكَذَٰلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ
তখন আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা হতে উদ্ধার করেছিলাম, আর এভাবেই আমরা মুমিনদেরকে উদ্ধার করে থাকি।
নবী (ﷺ) বলেছেন, এই দোয়া যে-ই করবে, আল্লাহ কবুল করবেন:
যুন-নূন (ইউনুস আ.) মাছের পেটে থাকা অবস্থায় যে দোয়া করেছিলেন: "লা ইলাহা ইল্লা আনতা, সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন" (আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র, আমি তো জালিমদের একজন ছিলাম)। কোনো মুসলিম কোনো বিষয়ে এই দোয়া করলে আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করেন।
জামে আত-তিরমিযী ৩৫০৫ সহিহ বর্ণনা: সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা.)
আল্লাহ বলেছেন, যদি তিনি তাসবীহকারীদের একজন না হতেন, কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতেন (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৩, সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৪)।
তীরে মুক্তি, লাউ গাছের ছায়া
আল্লাহর আদেশে মাছ তাঁকে খোলা প্রান্তরে উগরে দিল, তিনি তখন অসুস্থ, দুর্বল:
فَنَبَذْنَاهُ بِالْعَرَاءِ وَهُوَ سَقِيمٌ
অতঃপর ইউনুসকে আমরা নিক্ষেপ করলাম এক তৃণহীন প্রান্তরে এবং তিনি ছিলেন অসুস্থ।
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৫
وَأَنبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّن يَقْطِينٍ
আর আমরা তার উপর ইয়াকতীন প্ৰজাতির এক গাছ উদ্গত করলাম,
"ইয়াকতীন" এমন লতাজাতীয় গাছ, যা মাটিতে ছড়ায়, যেমন লাউ। এর বড় পাতা ছায়া দেয়, আর মাছি বসে না, এমন কথা তাফসীরকাররা বলেছেন। আল্লাহ তাঁকে বেছে নিলেন আর নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করলেন (সূরা আল-কলম ৬৮:৪৯, সূরা আল-কলম ৬৮:৫০)।
শাস্তির আগমুহূর্তে পুরো জাতির ঈমান
এদিকে ইউনুস (আ.)-এর চলে যাওয়ার পর জাতির লোকেরা শাস্তির আলামত দেখে ভয় পেল, আর সবাই মিলে আল্লাহর কাছে তাওবা করল। আল্লাহ তাদের শাস্তি তুলে নিলেন। কুরআনে এটি অনন্য ঘটনা:
فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَىٰ حِينٍ
অতঃপর কোনো জনপদবাসী কেন এমন হল না যারা ঈমান আনত এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসত? তবে ইউনুস এর সম্প্রদায় ছাড়া, তারা যখন ঈমান আনল তখন আমরা তাদের থেকে দুনিয়ার জীবনের হীনতাজনক শাস্তি দূর করলাম এবং তাদেরকে কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিলাম।
ইউনুস (আ.) সুস্থ হয়ে তাদের কাছে ফিরলেন, আর তারা ঈমানদার হয়ে গেল (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৮)।
ইউনুস (আ.)-এর মর্যাদা
কেউ ভাবতে পারে, ভুল করায় হয়তো ইউনুস (আ.)-এর মর্যাদা কম। নবী (ﷺ) এই ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন:
কোনো বান্দার জন্য এ কথা বলা ঠিক নয় যে, আমি ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম।
হজের পথে এক গিরিপথ দিয়ে যাওয়ার সময় নবী (ﷺ) যেন তাঁকে চোখের সামনে দেখছিলেন, লাব্বাইক বলতে বলতে:
(হারশা গিরিপথ দিয়ে যাওয়ার সময় নবী ﷺ বললেন:) আমি যেন ইউনুস ইবনু মাত্তা (আ.)-কে দেখছি, একটি শক্তসমর্থ লাল উটনীর উপর, গায়ে পশমের জুব্বা, উটনীর লাগাম খেজুর গাছের আঁশের, আর তিনি লাব্বাইক বলছেন।
সহিহ মুসলিম ১৬৬ সহিহ বর্ণনা: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)
শেখা ও রিসোর্স
দোয়া, হাদিস, শিক্ষা, ভুল ধারণা আর কুরআনে কোথায় পড়বেন
দোয়া
وَذَا النُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَىٰ فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَّا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿٨٧﴾
আর স্মরণ করুন, যুন-নূনকে, যখন তিনি ক্রোধ ভরে চলে গিয়েছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে, আমরা তাকে পাকড়াও করব না। তারপর তিনি অন্ধকারে এ আহবান করেছিলেন যে, ‘আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; আপনি কতইনা পবিত্র ও মহান, নিশ্চয়ই আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছি’।
সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৭দোয়াগুলো কুরআনের আয়াত, তাই আরবি হুবহু রাখা হয়েছে; অর্থ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে।
হাদিস
دَعْوَةُ ذِي النُّونِ إِذْ دَعَا وَهُوَ فِي بَطْنِ الْحُوتِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ . فَإِنَّهُ لَمْ يَدْعُ بِهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلاَّ اسْتَجَابَ اللَّهُ لَهُ
যুন-নূন (ইউনুস আ.) মাছের পেটে থাকা অবস্থায় যে দোয়া করেছিলেন: "লা ইলাহা ইল্লা আনতা, সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন" (আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র, আমি তো জালিমদের একজন ছিলাম)। কোনো মুসলিম কোনো বিষয়ে এই দোয়া করলে আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করেন।
مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ إِنِّي خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى
কোনো বান্দার জন্য এ কথা বলা ঠিক নয় যে, আমি ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম।
كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ بْنِ مَتَّى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ جَعْدَةٍ عَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ خِطَامُ نَاقَتِهِ خُلْبَةٌ وَهُوَ يُلَبِّي
(হারশা গিরিপথ দিয়ে যাওয়ার সময় নবী ﷺ বললেন:) আমি যেন ইউনুস ইবনু মাত্তা (আ.)-কে দেখছি, একটি শক্তসমর্থ লাল উটনীর উপর, গায়ে পশমের জুব্বা, উটনীর লাগাম খেজুর গাছের আঁশের, আর তিনি লাব্বাইক বলছেন।
শিক্ষা
অবদান
- বিপদের দোয়া, যা কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের আশ্রয় (জামে আত-তিরমিযী ৩৫০৫)।
- একটি পুরো জাতির তাওবা ও মুক্তির দৃষ্টান্ত (সূরা ইউনুস ১০:৯৮)।
জীবনের রোডম্যাপ
- ১নবুয়ত
রাসূল, এক লাখের বেশি মানুষের কাছে (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৩৯, সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৭)।
- ২দাওয়াত
জাতির অস্বীকার; তিনি রাগ করে চলে গেলেন (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৭)।
- ৩জাহাজ
বোঝাই জাহাজ, লটারি (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪০, সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪১)।
- ৪মাছের পেট
তাসবীহ ও দোয়া (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৭, সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৩)।
- ৫মুক্তি
খোলা প্রান্তরে, ইয়াকতীন গাছের ছায়া (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৫, সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৬)।
- ৬জাতির ঈমান
শাস্তি তুলে নেওয়া (সূরা ইউনুস ১০:৯৮, সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৪৮)।
- ৭ইন্তেকাল
কুরআন ও সহিহ হাদিসে বিবরণ নেই।
ভুল ধারণা
ইউনুস (আ.) চল্লিশ দিন মাছের পেটে ছিলেন।
ভুল করার কারণে ইউনুস (আ.)-এর মর্যাদা অন্য নবীদের চেয়ে কম।
দোয়ায়ে ইউনুস নির্দিষ্ট সংখ্যায় (যেমন সোয়া লাখ বার) খতম করলে বিপদ কাটে।
লোকমুখে চলা গল্প যাচাই করা হয়েছে মুহাদ্দিসদের মান অনুযায়ী। কোনো গল্প এখানে না থাকলে, তা সঠিক বলে ধরে নেবেন না; দলিল দেখে নিন।
কুরআনে পড়ুন
পুরো ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পড়তে এই অংশগুলো খুলুন।
| বিষয় | সূরা | আয়াত | সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| জাতির ঈমান | সূরা ইউনুস | ১০:৯৮-৯৮ | ১ |
| যুন-নূনের দোয়া | সূরা আল-আম্বিয়া | ২১:৮৭-৮৮ | ২ |
| জাহাজ, মাছ ও মুক্তি | সূরা আস-সাফফাত | ৩৭:১৩৯-১৪৮ | ১০ |
| মাছওয়ালার মতো হবেন না | সূরা আল-কলম | ৬৮:৪৮-৫০ | ৩ |
যাচাই
১ইউনুস (আ.)-কে কুরআনে কোন উপাধিতে ডাকা হয়েছে?
যুন-নূন (২১:৮৭) ও সাহিবুল হূত (৬৮:৪৮), অর্থাৎ মাছওয়ালা।
২মাছের পেটে ইউনুস (আ.) কী দোয়া করেছিলেন?
"লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন" (২১:৮৭)।
৩কোন জাতি শাস্তির আগমুহূর্তে ঈমান এনে বেঁচে গিয়েছিল?
ইউনুস (আ.)-এর জাতি (১০:৯৮)।
সূত্র
- আল-কুরআনুল কারীম
আরবি পাঠ: তানযীল (হাফস)। বাংলা অর্থ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, হুবহু। - সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম
বুখারীর নম্বর ফাতহুল বারী অনুযায়ী, মুসলিমের নম্বর মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকী অনুযায়ী। - তাফসীর ইবনু কাসীর
সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা; ইসরাঈলি বর্ণনা চিনতে ইবনু কাসীরের নিজের মন্তব্যও কাজে লাগে। - কাসাসুল আম্বিয়া ও আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১ম খণ্ড)
ইবনু কাসীর। আরও পড়ার জন্য; এখানে শুধু কুরআন ও সহিহ হাদিসের অংশ রাখা হয়েছে। - সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা ওয়াল মাওযূআ
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী। দুর্বল ও জাল বর্ণনা যাচাইয়ের জন্য।
সাইটের সব সূত্র: সূত্র তালিকা · সূত্র নীতি