إِلْيَاس عَلَيْهِ السَّلَامُ
ইলিয়াস (আ.)
ইলিয়াস (আ.) ছিলেন বনী ইসরাঈলের নবী, যিনি এমন এক জাতির কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন যারা "বাআল" নামের মূর্তির পূজা করত। তিনি তাদের সহজ প্রশ্ন করেছিলেন: তোমরা কি সর্বশ্রেষ্ঠ স্রষ্টা আল্লাহকে ছেড়ে বাআলকে ডাকবে? তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নাম পরবর্তীদের মাঝে সম্মানের সাথে রেখে দিলেন।
سَلَامٌ عَلَىٰ إِلْ يَاسِينَ
ইল্য়াসীনের উপর শান্তি বৰ্ষিত হোক।
এই পাতার মূল ঘটনা কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া। তাফসীর ও ইতিহাসের বই (ইবনু কাসীর, তাবারী প্রভৃতি) থেকে যা এসেছে, তা আলাদা বাক্সে মানসহ দেখানো হয়েছে; ইসরাঈলি বর্ণনা (আগের কিতাবধারীদের কাছ থেকে আসা গল্প) চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা, দলিল হিসেবে নয়। আয়াতের বাংলা অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।
- পরিচয়
- রাসূল (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৩); নেককারদের একজন (সূরা আল-আনআম ৬:৮৫)
- বংশ
- ইতিহাসবিদদের মতে হারুন (আ.)-এর বংশধর
- জাতি
- বাআল পূজারি; ইতিহাসে দামেশকের পশ্চিমে বালাবাক্কের অধিবাসী
- কুরআনে যেখানে
- সূরা আল-আনআম ও আস-সাফফাত
বাআলের বিরুদ্ধে এক প্রশ্ন
আল্লাহ বলেছেন:
وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
আর নিশ্চয় ইলইয়াস ছিলেন রাসূলগণের একজন।
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৩
إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَلَا تَتَّقُونَ
যখন তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, 'তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৪
أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ الْخَالِقِينَ
'তোমরা কি বা'আলকে ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা---
اللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ
'আল্লাহকে, যিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের প্রাক্তন পিতৃপুরুষদেরও রব।'
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৬
"বাআল" ছিল তাদের দেবমূর্তির নাম, যার অর্থ "প্রভু" বা "মালিক"। ইলিয়াস (আ.) মনে করিয়ে দিলেন, যিনি তোমাদের আর তোমাদের বাপ-দাদার রব, তাঁকে ছেড়ে নিজের হাতে বানানো জিনিসকে ডাকা কতটা অযৌক্তিক।
প্রত্যাখ্যান ও পরিণতি
জাতি তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল:
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
কিন্তু তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল, কাজেই তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির জন্য উপস্থিত করা হবে।
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ
তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্ৰ।
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৮
"সালামুন আলা ইলইয়াসীন"
আল্লাহ তাঁর জন্য পরবর্তীদের মাঝে সুনাম রেখে দিলেন, আর নিজে তাঁকে সালাম দিলেন:
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ
আর আমরা তার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুনাম-সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৯
سَلَامٌ عَلَىٰ إِلْ يَاسِينَ
ইল্য়াসীনের উপর শান্তি বৰ্ষিত হোক।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
এভাবেই তো আমরা মুহসিনদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৩১
إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ
তিনি তো ছিলেন আমাদের মুমিন বান্দাদের অন্যতম।
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৩২
"ইলইয়াসীন" ইলিয়াস নামেরই আরেক রূপ, যেমন আরবরা "ইসমাঈল"কে "ইসমাঈন"ও বলে, ইবনু কাসীর এমন উল্লেখ করেছেন। সূরা আল-আনআমে তাঁকে যাকারিয়া, ইয়াহইয়া ও ঈসা (আ.)-এর সাথে নেককারদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে (সূরা আল-আনআম ৬:৮৫)।
তিনি কি এখনো জীবিত?
কুরআনের সাধারণ নীতি হলো, প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ নেবে, আর নবী (ﷺ)-এর আগে কোনো মানুষকে আল্লাহ চিরজীবন দেননি:
وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّن قَبْلِكَ الْخُلْدَ ۖ أَفَإِن مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ
আর আমরা আপনার আগেও কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি; কাজেই আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরজীবি হয়ে থাকবে?
শেখা ও রিসোর্স
দোয়া, হাদিস, শিক্ষা, ভুল ধারণা আর কুরআনে কোথায় পড়বেন
দোয়া
দোয়াগুলো কুরআনের আয়াত, তাই আরবি হুবহু রাখা হয়েছে; অর্থ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে।
হাদিস
শিক্ষা
অবদান
- শিরকের বিরুদ্ধে যুক্তিপূর্ণ দাওয়াতের দৃষ্টান্ত (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৫, সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৬)।
জীবনের রোডম্যাপ
- ১বংশ
হারুন (আ.)-এর বংশধর (আল-বিদায়া)।
- ২নবুয়ত
রাসূল (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৩)।
- ৩দাওয়াত
বাআল পূজার বিরুদ্ধে (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৫)।
- ৪প্রত্যাখ্যান
জাতি মিথ্যাবাদী বলল (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১২৭)।
- ৫শেষ জীবন
আল-ইয়াসা (আ.)-কে উত্তরসূরি রেখে যান (ওয়াহবের বর্ণনা); জীবিত থাকার দাবি ভিত্তিহীন।
ভুল ধারণা
ইলিয়াস (আ.) ও খিযির (আ.) এখনো জীবিত, প্রতি বছর হজে মিলিত হন।
ইলিয়াস (আ.)-কে আগুনের রথে আসমানে তুলে নেওয়া হয়েছে।
লোকমুখে চলা গল্প যাচাই করা হয়েছে মুহাদ্দিসদের মান অনুযায়ী। কোনো গল্প এখানে না থাকলে, তা সঠিক বলে ধরে নেবেন না; দলিল দেখে নিন।
কুরআনে পড়ুন
পুরো ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পড়তে এই অংশগুলো খুলুন।
| বিষয় | সূরা | আয়াত | সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| নেককারদের সাথে | সূরা আল-আনআম | ৬:৮৫-৮৫ | ১ |
| দাওয়াত ও সালাম | সূরা আস-সাফফাত | ৩৭:১২৩-১৩২ | ১০ |
যাচাই
১ইলিয়াস (আ.)-এর জাতি কোন মূর্তির পূজা করত?
বাআল (৩৭:১২৫)।
২"সালামুন আলা ইলইয়াসীন" কোন সূরায়?
সূরা আস-সাফফাত (৩৭:১৩০)।
সূত্র
- আল-কুরআনুল কারীম
আরবি পাঠ: তানযীল (হাফস)। বাংলা অর্থ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, হুবহু। - সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম
বুখারীর নম্বর ফাতহুল বারী অনুযায়ী, মুসলিমের নম্বর মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকী অনুযায়ী। - তাফসীর ইবনু কাসীর
সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা; ইসরাঈলি বর্ণনা চিনতে ইবনু কাসীরের নিজের মন্তব্যও কাজে লাগে। - কাসাসুল আম্বিয়া ও আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১ম খণ্ড)
ইবনু কাসীর। আরও পড়ার জন্য; এখানে শুধু কুরআন ও সহিহ হাদিসের অংশ রাখা হয়েছে। - সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা ওয়াল মাওযূআ
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী। দুর্বল ও জাল বর্ণনা যাচাইয়ের জন্য।
সাইটের সব সূত্র: সূত্র তালিকা · সূত্র নীতি