إِدْرِيس عَلَيْهِ السَّلَامُ
ইদরীস (আ.)
ইদরীস (আ.)-এর কথা কুরআনে মাত্র দুই জায়গায় এসেছে, কিন্তু দুই জায়গাতেই উঁচু প্রশংসা: তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ নবী, ধৈর্যশীল, আর আল্লাহ তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় তুলেছেন। মিরাজের রাতে নবী (ﷺ) চতুর্থ আসমানে তাঁর সাথে দেখা করেছেন। তাঁর জীবনের বাকি যত গল্প, প্রায় সবই আহলে কিতাবের বর্ণনা; এই পাতায় সেগুলো আলাদা করে মানসহ দেখানো হয়েছে।
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا
আর আমরা তাকে উন্নীত করেছিলাম উচ্চ মর্যাদায়।
এই পাতার মূল ঘটনা কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া। তাফসীর ও ইতিহাসের বই (ইবনু কাসীর, তাবারী প্রভৃতি) থেকে যা এসেছে, তা আলাদা বাক্সে মানসহ দেখানো হয়েছে; ইসরাঈলি বর্ণনা (আগের কিতাবধারীদের কাছ থেকে আসা গল্প) চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা, দলিল হিসেবে নয়। আয়াতের বাংলা অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু। সব সূত্র: সূত্র তালিকা।
- পরিচয়
- সত্যনিষ্ঠ নবী (সূরা মারইয়াম ১৯:৫৬)
- গুণ
- ধৈর্যশীল ও নেককার (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৫, সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৬)
- মর্যাদা
- আল্লাহ তাঁকে উচ্চ স্থানে তুলেছেন (সূরা মারইয়াম ১৯:৫৭); মিরাজে চতুর্থ আসমানে (সহিহ বুখারী ৩৮৮৭)
- কুরআনে যেখানে
- সূরা মারইয়াম ও আল-আম্বিয়া
কে ছিলেন ইদরীস (আ.)
কুরআন ইদরীস (আ.)-এর পরিচয় দিয়েছে খুব অল্প কথায়, কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর শব্দে:
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيسَ ۚ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا
আর স্মরণ করুন এ কিতাবে ইদরীসকে, তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ নবী;
"সিদ্দীক" মানে যিনি কথায়, কাজে আর বিশ্বাসে পুরোপুরি সত্যনিষ্ঠ। একই সূরায় ইবরাহীম (আ.)-কেও এই শব্দে প্রশংসা করা হয়েছে (সূরা মারইয়াম ১৯:৪১)।
উচ্চ মর্যাদায় তুলে নেওয়া
পরের আয়াতেই আল্লাহ তাঁর একটি বিশেষ সম্মানের কথা বলেছেন:
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا
আর আমরা তাকে উন্নীত করেছিলাম উচ্চ মর্যাদায়।
এই "উচ্চ স্থান" কী? আলেমদের এক মত: নবুয়ত ও আল্লাহর কাছে মর্যাদা। আরেক মত: আসমানের উঁচু স্তর, কারণ মিরাজের রাতে নবী (ﷺ) তাঁকে চতুর্থ আসমানে দেখেছেন। কাতাদা (রহ.) সহ কয়েকজন তাবেয়ী আয়াতটিকে এই হাদিসের সাথেই মিলিয়েছেন।
ধৈর্যশীলদের একজন
সূরা আল-আম্বিয়ায় আল্লাহ ইসমাঈল ও যুলকিফল (আ.)-এর সাথে ইদরীস (আ.)-এর নাম একসাথে বলেছেন, আর তিনজনের একটি সাধারণ গুণ উল্লেখ করেছেন:
وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ ۖ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ
এবং স্মরণ করুন ইসমাঈল, ইদরীস ও যুলকিফলকে, তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন ধৈর্যশীল;
وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا ۖ إِنَّهُم مِّنَ الصَّالِحِينَ
আর আমরা তাদেরকে আমাদের অনুগ্রহে প্রবেশ করালাম; তারা ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ।
সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৬
কোন বিপদে তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন, কুরআন তা বলেনি। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে ধৈর্যশীল আর নেককার বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন, আর নিজের রহমতে প্রবেশ করিয়েছেন। এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সনদ।
মিরাজের রাতে চতুর্থ আসমানে
মিরাজের রাতে প্রতিটি আসমানে নবী (ﷺ)-এর সাথে কোনো না কোনো নবীর দেখা হয়েছে। চতুর্থ আসমানে ছিলেন ইদরীস (আ.):
(দ্বিতীয় আসমানে) পৌঁছে দেখি ইয়াহইয়া ও ঈসা (আ.), তাঁরা দুজন খালাতো ভাই। জিবরীল বললেন: ইনি ইয়াহইয়া আর ইনি ঈসা, তাঁদের সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তাঁরা উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (চতুর্থ আসমানে) পৌঁছালাম ইদরীস (আ.)-এর কাছে। জিবরীল বললেন: ইনি ইদরীস, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (পঞ্চম আসমানে) দেখি হারূন (আ.)। জিবরীল বললেন: ইনি হারূন, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (সপ্তম আসমানে) দেখি ইবরাহীম (আ.)। জিবরীল বললেন: ইনি আপনার পিতা, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার সন্তান ও নেককার নবীকে স্বাগতম।
তিনি নবী (ﷺ)-কে সালামের উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। হাজার হাজার বছরের ব্যবধানে দুই নবীর সাক্ষাৎ, দুজনের দ্বীন এক।
যা প্রচলিত, কিন্তু প্রমাণিত নয়
ইদরীস (আ.)-কে নিয়ে বইপত্রে অনেক কথা পাওয়া যায়। সেগুলোর বেশিরভাগ আগের কিতাবধারীদের বর্ণনা। নিচে মানসহ সংক্ষেপে দেওয়া হলো, যাতে পাঠক আলাদা করতে পারেন।
শেখা ও রিসোর্স
দোয়া, হাদিস, শিক্ষা, ভুল ধারণা আর কুরআনে কোথায় পড়বেন
দোয়া
দোয়াগুলো কুরআনের আয়াত, তাই আরবি হুবহু রাখা হয়েছে; অর্থ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে।
হাদিস
(দ্বিতীয় আসমানে) পৌঁছে দেখি ইয়াহইয়া ও ঈসা (আ.), তাঁরা দুজন খালাতো ভাই। জিবরীল বললেন: ইনি ইয়াহইয়া আর ইনি ঈসা, তাঁদের সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তাঁরা উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (চতুর্থ আসমানে) পৌঁছালাম ইদরীস (আ.)-এর কাছে। জিবরীল বললেন: ইনি ইদরীস, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (পঞ্চম আসমানে) দেখি হারূন (আ.)। জিবরীল বললেন: ইনি হারূন, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার ভাই ও নেককার নবীকে স্বাগতম। ... (সপ্তম আসমানে) দেখি ইবরাহীম (আ.)। জিবরীল বললেন: ইনি আপনার পিতা, তাঁকে সালাম দিন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: নেককার সন্তান ও নেককার নবীকে স্বাগতম।
শিক্ষা
অবদান
- কুরআনে নবীদের মধ্যে সত্যনিষ্ঠার দৃষ্টান্ত (সূরা মারইয়াম ১৯:৫৬)।
- ধৈর্যশীলদের তালিকায় তাঁর নাম, যা আমাদের ধৈর্যের শিক্ষা দেয় (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৫)।
জীবনের রোডম্যাপ
- ১যুগ
নিশ্চিত নয়। বহু আলেমের মতে নূহ (আ.)-এর আগে; কারো মতে তিনি ও ইলিয়াস (আ.) একই ব্যক্তি (আল-বিদায়া; বুখারী)।
- ২নবুয়ত
সত্যনিষ্ঠ নবী (সূরা মারইয়াম ১৯:৫৬), ধৈর্যশীল ও নেককার (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৫, সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৬)।
- ৩মর্যাদা
আল্লাহ তাঁকে উচ্চ স্থানে তুলেছেন (সূরা মারইয়াম ১৯:৫৭)।
- ৪ইন্তেকাল
কুরআন ও সহিহ হাদিসে বিবরণ নেই। আসমানে রূহ কবজের গল্পটি ইসরাঈলি বর্ণনা।
- ৫মিরাজের রাতে
চতুর্থ আসমানে নবী (ﷺ)-কে স্বাগত জানান (সহিহ বুখারী ৩৮৮৭)।
ভুল ধারণা
ইদরীস (আ.) প্রথম কলম দিয়ে লিখেছেন, প্রথম কাপড় সেলাই করেছেন।
ইদরীস (আ.) এখনো আসমানে জীবিত আছেন।
লোকমুখে চলা গল্প যাচাই করা হয়েছে মুহাদ্দিসদের মান অনুযায়ী। কোনো গল্প এখানে না থাকলে, তা সঠিক বলে ধরে নেবেন না; দলিল দেখে নিন।
কুরআনে পড়ুন
পুরো ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পড়তে এই অংশগুলো খুলুন।
| বিষয় | সূরা | আয়াত | সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| সত্যনিষ্ঠ নবী, উচ্চ স্থান | সূরা মারইয়াম | ১৯:৫৬-৫৮ | ৩ |
| ধৈর্যশীলদের সাথে | সূরা আল-আম্বিয়া | ২১:৮৫-৮৬ | ২ |
যাচাই
১কুরআন ইদরীস (আ.)-কে কোন দুটি গুণে প্রশংসা করেছে?
সত্যনিষ্ঠ নবী (১৯:৫৬) এবং ধৈর্যশীল (২১:৮৫)।
২মিরাজের রাতে কোন আসমানে ইদরীস (আ.)-এর সাথে দেখা হয়?
চতুর্থ আসমানে (বুখারী ৩৮৮৭)।
সূত্র
- আল-কুরআনুল কারীম
আরবি পাঠ: তানযীল (হাফস)। বাংলা অর্থ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, হুবহু। - সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম
বুখারীর নম্বর ফাতহুল বারী অনুযায়ী, মুসলিমের নম্বর মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকী অনুযায়ী। - তাফসীর ইবনু কাসীর
সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা; ইসরাঈলি বর্ণনা চিনতে ইবনু কাসীরের নিজের মন্তব্যও কাজে লাগে। - কাসাসুল আম্বিয়া ও আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১ম খণ্ড)
ইবনু কাসীর। আরও পড়ার জন্য; এখানে শুধু কুরআন ও সহিহ হাদিসের অংশ রাখা হয়েছে। - সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা ওয়াল মাওযূআ
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী। দুর্বল ও জাল বর্ণনা যাচাইয়ের জন্য।
সাইটের সব সূত্র: সূত্র তালিকা · সূত্র নীতি