আল-কুরআন
সূরা আল-ফাতহ ৪৮:২৫
هُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْهَدْيَ مَعْكُوفًا أَن يَبْلُغَ مَحِلَّهُ ۚ وَلَوْلَا رِجَالٌ مُّؤْمِنُونَ وَنِسَاءٌ مُّؤْمِنَاتٌ لَّمْ تَعْلَمُوهُمْ أَن تَطَئُوهُمْ فَتُصِيبَكُم مِّنْهُم مَّعَرَّةٌ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۖ لِّيُدْخِلَ اللَّهُ فِي رَحْمَتِهِ مَن يَشَاءُ ۚ لَوْ تَزَيَّلُوا لَعَذَّبْنَا الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
তারাই তো কুফরী করেছিল এবং বাধা দিয়েছিল তোমাদেরকে মসজিদুল- হারাম হতে ও বাধা দিয়েছিল কুরবানীর জন্য আবদ্ধ পশুগুলোকে যথাস্থানে পৌঁছতে [১]। আর যদি মুমিন পুরুষরা ও মুমিন নারীরা না থাকত, যাদের সম্পর্কে তোমরা জান না যে, তোমরা অজ্ঞাতসারে তাদেরকে পদদলিত করবে, ফলে তাদের কারণে তোমরা অপরাধী ও দোষী সাব্যস্ত হতে, (তবে অবশ্যই তিনি যুদ্ধের অনুমতি দিতেন। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে তখন এর অনুমতি দেন নি) [২] যাতে তিনি যাকে ইচ্ছে নিজ অনুগ্রহে প্রবেশ করাবেন [৩]। যদি তারা [৪] পৃথক হয়ে থাকত, তবে অবশ্যই আমরা তাদের মধ্যে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিতাম [৫]।
অনুবাদে ‘আমরা’ কেন, আল্লাহ তো এক?
আরবিতে রাজা বা মহান কেউ নিজের মর্যাদা বোঝাতে নিজেকে বহুবচনে বলেন। কুরআনে আল্লাহ কখনো একবচনে বলেছেন (যেমন ত্বা-হা ২০:১৪-এ «إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ», নিশ্চয় আমিই আল্লাহ), কখনো বহুবচনে (যেমন «إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ», সূরা হিজর ১৫:৯)। এই বহুবচন সম্মান আর মহত্ত্বের, সংখ্যার নয়। আল্লাহ যে এক, তা কুরআনে স্পষ্ট: «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ» (সূরা ইখলাস ১১২:১)।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন, আল্লাহ নিজেকে কখনো একবচনে, কখনো বহুবচনে উল্লেখ করেন, কিন্তু দ্বিবচনে কখনো নয়; কারণ বহুবচন তাঁর প্রাপ্য মহত্ত্ব বোঝায়, আর দ্বিবচন নির্দিষ্ট সংখ্যা বোঝায়, যা থেকে তিনি পবিত্র (আত-তাদমুরিয়্যা, পৃ. ৭৫)।
ড. যাকারিয়া আরবির শব্দ যেমন আছে তেমন রেখে ‘আমরা’ লিখেছেন; কোনো কোনো অনুবাদক বাংলার রীতিতে ‘আমি’ লেখেন। দুটোর অর্থ একই। মানুষের কথায় যে ‘আমরা’ আসে (যেমন দোয়ায়), সেটা সাধারণ বহুবচন।
অনুবাদকের টীকা
[২] উপরোক্ত অংশটুকু উহ্য রয়েছে। [জালালাইন]
[৩] অর্থাৎ যুদ্ধ করার অনুমতি না দেয়ার পিছনে দু'টি উদ্দেশ্য কাজ করেছে। এক. দুনিয়াবী উদ্দেশ্য, তা হচ্ছে মক্কায় যারা এখনও ঈমানদার রয়ে গেছে, কিন্তু তাদের সম্পর্কে কেউ জানে না, তারা যেন তোমাদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আর তোমরাই তোমাদের দীনী ভাইদের হত্যার কারণে মনঃকষ্টে না থাক। অপমান বোধ না কর। দুই. আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ্ চাচ্ছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঈমান এনে তাঁর রহমতে শামিল হয়ে যাবে। [সা'দী]
[৪] অর্থাৎ যাদের ঈমান সম্পর্কে তোমাদের জানা নেই, এমন মুমিন নারী ও পুরুষরা যদি আলাদা আলাদা থাকত। আর যুদ্ধের সময় তাদেরকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, তবে অবশ্যই তিনি তাদেরকে শাস্তি দিতেন। [সা’দী; মুয়াসসার]
[৫] تزيل শব্দের আসল অর্থ বিচ্ছিন্ন হওয়া। [ফাতহুল কাদীর]
এই আয়াত যেসব পাতায় এসেছে
আরবি পাঠ: Tanzil Quran Text (Simple), CC BY 3.0, tanzil.net। বাংলা অর্থ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, QuranEnc.com থেকে হুবহু। তিলাওয়াত: শাইখ মিশারী রাশিদ আল-আফাসী (everyayah.com)।