আল-কুরআন
সূরা আল-ইসরা ১৭:১৩
وَكُلَّ إِنسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ ۖ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنشُورًا
আর প্রত্যেক মানুষের কাজ আমরা তার গ্রীবালগ্ন করেছি এবং কিয়ামতের দিন আমরা তার জন্য বের করব এক কিতাব যা সে পাবে উন্মুক্ত [১]।
অনুবাদে ‘আমরা’ কেন, আল্লাহ তো এক?
আরবিতে রাজা বা মহান কেউ নিজের মর্যাদা বোঝাতে নিজেকে বহুবচনে বলেন। কুরআনে আল্লাহ কখনো একবচনে বলেছেন (যেমন ত্বা-হা ২০:১৪-এ «إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ», নিশ্চয় আমিই আল্লাহ), কখনো বহুবচনে (যেমন «إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ», সূরা হিজর ১৫:৯)। এই বহুবচন সম্মান আর মহত্ত্বের, সংখ্যার নয়। আল্লাহ যে এক, তা কুরআনে স্পষ্ট: «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ» (সূরা ইখলাস ১১২:১)।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন, আল্লাহ নিজেকে কখনো একবচনে, কখনো বহুবচনে উল্লেখ করেন, কিন্তু দ্বিবচনে কখনো নয়; কারণ বহুবচন তাঁর প্রাপ্য মহত্ত্ব বোঝায়, আর দ্বিবচন নির্দিষ্ট সংখ্যা বোঝায়, যা থেকে তিনি পবিত্র (আত-তাদমুরিয়্যা, পৃ. ৭৫)।
ড. যাকারিয়া আরবির শব্দ যেমন আছে তেমন রেখে ‘আমরা’ লিখেছেন; কোনো কোনো অনুবাদক বাংলার রীতিতে ‘আমি’ লেখেন। দুটোর অর্থ একই। মানুষের কথায় যে ‘আমরা’ আসে (যেমন দোয়ায়), সেটা সাধারণ বহুবচন।
অনুবাদকের টীকা
এক. মানুষের তাকদীর বা তার জন্য আল্লাহর পূর্বলিখিত সিদ্ধান্ত। মানুষ দুনিয়াতে যা-ই করুক না কেন সে অবশ্যই তার তাকদীর অনুসারেই করবে। কিন্তু মানুষ যেহেতু জানেনা তার তাকদীরে কি লিখা আছে তাই তার উচিত ভালো কাজ করতে সচেষ্ট থাকা। কারণ, যাকে যে কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে এবং যাকে যেখানে যাওয়ার জন্য নির্ধারন করা হয়েছে সে সমস্ত কাজ করা তার জন্য সহজ করে দেয়া হবে। সুতরাং তাকদীরের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ কারো নেই কিন্তু মানুষের উচিত নিজেকে ভালো ও সৎ কাজের জন্য সদা প্রস্তুত রাখা তাহলে বুঝা যাবে যে, তার তাকদীরে ভালো আছে এবং সেটা করতে সে সমর্থ ও হবে। পক্ষান্তরে যারা দুর্ভাগা তারা ভালো কাজ করার পরিবর্তে তাকদীরে কি আছে সেটা খোঁজার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং সেটার পিছনে দৌঁড়াতে থাকে, ফলে সে ভালো কাজ করার সুযোগ পায় না। তাই যারা ভালো কাজ করে এবং ভালো কাজ করার প্রয়াসে থাকে তাদের কর্মকাণ্ড আল্লাহর কাছে এমন প্রশংসিত হয়ে থাকে যে, যদি কোনো কারণে সে ভালো কাজ করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সেটা করতে সমর্থ না হয় তবুও আল্লাহ তার জন্য সেটার সওয়াব লিখে দেন। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রতি দিনের সুনির্দষ্টি কাজের উপরই আল্লাহতা’আলা বান্দার শেষ লিখেন তারপর যখন সে অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন ফেরেশতাগণ বলে, হে আমাদের প্রভু! আপনার অমুক বান্দাকে তো আপনি (ভালো কাজ করা থেকে) বাধা দিলেন। তখন মহান আল্লাহ বলেন, তাকে তার পূর্ব কাজের অনুরূপ শেষ পরিণতি লিখ, যতক্ষণ সে সুস্থ না হবে বা মারা না যাবে।” [মুসনাদে আহমাদ ৪/৬৪১]
দুই. মানুষের কাজ বা তার আমলনামা। অর্থাৎ মানুষ যেকোনো জায়গায় যেকোনো অবস্থায় থাকুক, তার আমলনামা তার সাথে থাকে এবং তার আমল লিপিবদ্ধ হতে থাকে। মৃত্যুর পর তা বন্ধ করে রেখে দেয়া হয়। কেয়ামতের দিন এ আমলনামা প্রত্যেকের হাতে হাতে দিয়ে দেয়া হবে, যাতে নিজে পড়ে নিজেই মনে মনে ফয়সালা করে নিতে পারে যে, সে পুরস্কারের যোগ্য, না আযাবের যোগ্য। [আত-তাফসীরুস সহীহ]
এই আয়াত যেসব পাতায় এসেছে
আরবি পাঠ: Tanzil Quran Text (Simple), CC BY 3.0, tanzil.net। বাংলা অর্থ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, QuranEnc.com থেকে হুবহু। তিলাওয়াত: শাইখ মিশারী রাশিদ আল-আফাসী (everyayah.com)।