الْمَلَائِكَةُ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ
ফেরেশতাদের পরিচয়
ফেরেশতারা আল্লাহর এক অদৃশ্য সৃষ্টি, নূর (আলো) থেকে তৈরি। তাঁরা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন না, দিনরাত তাঁর তাসবীহ করেন, আর ওহি পৌঁছানো থেকে শুরু করে আমল লেখা, রূহ কবজ ও জাহান্নাম পাহারা পর্যন্ত নানা দায়িত্ব পালন করেন। এই পাতায় কুরআনে নাম আসা প্রত্যেক ফেরেশতা, সহিহ হাদিসে নাম আসা ফেরেশতা, আর লোকমুখে চলা নাম ও গল্পের মান, সব দলিলসহ।
الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَّثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۚ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
সকল প্রশংসা আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই--- যিনি রাসূল করেন ফিরিশতাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পক্ষবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছে বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
এই পাতার তথ্য শুধু কুরআনের আয়াত এবং সহিহ ও হাসান হাদিস থেকে। যেখানে কোনো কথা শুধু আলেমদের বর্ণনা বা প্রসিদ্ধ মত, সেখানে তা আলাদা করে বলা হয়েছে; দুর্বল ও জাল বর্ণনা শুধু "ভুল ধারণা" অংশে, মানসহ। আয়াতের বাংলা অর্থ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে হুবহু।
- পরিচয়
- আল্লাহর সম্মানিত বান্দা, আদেশ অমান্য করেন না (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:২৬, সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৬)
- সৃষ্টি
- নূর (আলো) থেকে (সহিহ মুসলিম ২৯৯৬)
- আকৃতি
- দুই, তিন বা চার জোড়া ডানা, আল্লাহ চাইলে আরও (সূরা ফাতির ৩৫:১); জিবরীলের ছয়শো (সহিহ বুখারী ৩২৩২)
- কুরআনে নাম
- জিবরীল, মীকাঈল (মীকাল), হারূত, মারূত ও মালিক: মোট পাঁচটি নাম
- হাদিসে নাম
- ইসরাফীল (সহিহ মুসলিম), মুনকার ও নাকীর (তিরমিযী, হাসান)
নামগুলো এক নজরে
"কুরআন" মানে নামটি কুরআনে আছে; "সহিহ"/"হাসান" মানে হাদিসে আছে, সাথে হাদিসের মান; "প্রমাণিত নয়" মানে লোকমুখে চলে, কিন্তু নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।
جِبْرِيل
ওহি (আল্লাহর বাণী) নবীদের কাছে পৌঁছানো
দলিল: সূরা আল-বাকারা ২:৯৭, সূরা আল-বাকারা ২:৯৮, সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৪
বিস্তারিত পড়ুন ›مِيكَائِيل · مِيكَال
কুরআনে কাজ বলা হয়নি (কুরআনে নামের রূপ "মীকাল"); বৃষ্টির দায়িত্বের কথা আলেমদের বর্ণনায়
দলিল: সূরা আল-বাকারা ২:৯৮
বিস্তারিত পড়ুন ›هَارُوت وَمَارُوت
বাবেলে মানুষের জন্য পরীক্ষা
দলিল: সূরা আল-বাকারা ২:১০২
বিস্তারিত পড়ুন ›مَلَكُ الْمَوْت
রূহ কবজ করা (এটি কাজের নাম, ব্যক্তিগত নাম নয়)
দলিল: সূরা আস-সাজদা ৩২:১১
বিস্তারিত পড়ুন ›إِسْرَافِيل
শিঙায় ফুঁ দেওয়া (আলেমদের প্রসিদ্ধ মত)
দলিল: সহিহ মুসলিম ৭৭০
বিস্তারিত পড়ুন ›ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান: ঈমানের একটি রুকন
ফেরেশতা (আরবিতে মালাক, বহুবচনে মালাইকা) আল্লাহর এক বিশেষ সৃষ্টি। আমরা তাঁদের দেখি না, কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) তাঁদের কথা জানিয়েছেন। তাই তাঁদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করা ঈমানের ছয়টি রুকনের (মূল স্তম্ভের) একটি। রাসূল (ﷺ) ও মুমিনরা আল্লাহর সাথে সাথে ফেরেশতাদের প্রতিও ঈমান এনেছেন।
জিবরীল (আ.) যখন মানুষের রূপে এসে নবী (ﷺ)-কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি আল্লাহর পরেই ফেরেশতাদের কথা বললেন।
আর যে ফেরেশতাদের অস্বীকার করে, কুরআন তাকে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্ট বলেছে।
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্র উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে: আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্তাবর্তনস্থল।
এই অংশের আরও ২টি দলিল
(সাদা কাপড় পরা এক অচেনা ব্যক্তি এসে বললেন:) হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: ইসলাম হলো, তুমি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত দেবে, রমজানের রোজা রাখবে, আর সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করবে। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। ... তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবগুলোর প্রতি, তাঁর রাসূলদের প্রতি, শেষ দিনের প্রতি, আর তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তাঁকে দেখছ; আর যদি তাঁকে না দেখো, তিনি তো তোমাকে দেখছেন। ... (পরে নবীজি বললেন:) তিনি ছিলেন জিবরীল, তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنزَلَ مِن قَبْلُ ۚ وَمَن يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا
হে মুমিনগণ! তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি, এবং সে কিতাবের প্রতি যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন। আর সে গ্রন্থের প্রতিও যা তার পূর্বে তিনি নাযিল করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও শেষ দিবসের প্রতি কুফরী করে সে সুদূর বিভ্রান্তিতে পতিত হলো।
নূর থেকে সৃষ্টি, ডানাওয়ালা বার্তাবাহক
নবী (ﷺ) জানিয়েছেন, ফেরেশতারা নূর (আলো) থেকে সৃষ্ট, জিনরা আগুনের শিখা থেকে, আর মানুষ মাটি থেকে।
আল্লাহ ফেরেশতাদের বার্তাবাহক বানিয়েছেন। তাঁদের কারো দুই, কারো তিন, কারো চার জোড়া ডানা, আর আল্লাহ সৃষ্টিতে যা চান বাড়িয়ে দেন। জিবরীল (আ.)-এর ছিল ছয়শো ডানা (জিবরীলের অংশে দেখুন)।
আল্লাহর আদেশে তাঁরা মানুষের রূপ ধরেও আসতেন। মারইয়াম (আ.)-এর কাছে জিবরীল (আ.) এসেছিলেন পূর্ণ মানুষের আকৃতিতে। ইবরাহীম (আ.)-এর কাছে ফেরেশতারা মেহমান হয়ে এসেছিলেন; তিনি ভুনা বাছুর এনে দিলেন, কিন্তু তাঁরা খেলেন না। এ থেকে বোঝা যায়, ফেরেশতারা মানুষের মতো খাওয়া-দাওয়া করেন না।
ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর (আলো) থেকে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে ধোঁয়াহীন আগুনের শিখা থেকে, আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই জিনিস থেকে, যার বর্ণনা তোমাদের দেওয়া হয়েছে (অর্থাৎ মাটি)।
এই অংশের আরও ৪টি দলিল
الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَّثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۚ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
সকল প্রশংসা আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই--- যিনি রাসূল করেন ফিরিশতাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পক্ষবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছে বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
فَاتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا
অতঃপর সে তাদের নিকট থেকে নিজেকে আড়াল করল। তখন আমরা তার কাছে আমাদের রূহকে পাঠালাম, সে তার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।
وَلَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَىٰ قَالُوا سَلَامًا ۖ قَالَ سَلَامٌ ۖ فَمَا لَبِثَ أَن جَاءَ بِعِجْلٍ حَنِيذٍ
আর অবশ্যই আমাদের ফিরিশ্তাগণ সুসংবাদ নিয়ে ইবরাহীমের কাছে এসেছিল। তারা বলল, ‘সালাম।’ তিনিও বললেন, ‘সালাম।’ অতঃপর বিলম্ব না করে তিনি এক কাবাবকৃত বাছূর নিয়ে আসলেন।
فَلَمَّا رَأَىٰ أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۚ قَالُوا لَا تَخَفْ إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَىٰ قَوْمِ لُوطٍ
অতঃপর তিনি যখন দেখলেন তাদের হাত সেটার দিকে প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তাদেরকে অবাঞ্ছিত মনে করলেন এবং তাদের সম্বন্ধে তাঁর মধ্যে ভীতি সঞ্ছার হল। তাঁরা বলল, ‘ভয় করবেন না, আমরা তো লুতের সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।’
অবাধ্য হন না, ক্লান্তও হন না
ফেরেশতারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন না; তাঁদের যা আদেশ করা হয়, তা-ই করেন।
তাঁরা দিনরাত আল্লাহর তাসবীহ (পবিত্রতা ঘোষণা) করেন। ইবাদতে অহংকার করেন না, ক্লান্তও হন না।
মুশরিকরা বলত, ফেরেশতারা আল্লাহর সন্তান। কুরআন জানিয়েছে, তাঁরা আল্লাহর সম্মানিত বান্দা; আল্লাহর আগে কথা বলেন না, তাঁর আদেশেই কাজ করেন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
হে ইমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ, যারা অমান্য করে না তা যা আল্লাহ তাদেরকে আদেশ করেন। আর তারা যা করতে আদেশপ্ৰাপ্ত হয় তা-ই করে।
এই অংশের আরও ৪টি দলিল
وَلَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ وَمَنْ عِندَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ
আর আসমানসমূহ ও যমীনে যারা আছে তারা তাঁরই; আর তাঁর সান্নিধ্যে যারা আছে তারা অহংকার-বশে তাঁর ইবাদাত করা হতে বিমুখ হয় না এবং বিরক্তি বোধ করে না।
يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ
তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, তারা ক্লান্তও হয় না।
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَـٰنُ وَلَدًا ۗ سُبْحَانَهُ ۚ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ
আর তারা বলে, ‘দয়াময় (আল্লাহ্) সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র মহান! তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা।
لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ
তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না; তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে থাকে।
তাঁদের সংখ্যা আল্লাহই জানেন
ফেরেশতাদের সংখ্যা এত বেশি যে আল্লাহ ছাড়া কেউ তা জানে না।
মিরাজের রাতে নবী (ﷺ)-কে আসমানে বাইতুল মা‘মূর দেখানো হয়, ফেরেশতাদের ইবাদতের ঘর (কুরআনে এর নামে কসম করা হয়েছে, সূরা আত-তূর ৫২:৪)। প্রতিদিন সেখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা নামাজ পড়েন, আর যাঁরা একবার যান, তাঁদের পালা আর কখনো ফেরে না।
وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلَائِكَةً ۙ وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا ۙ وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ ۙ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَـٰذَا مَثَلًا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ ۚ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ ۚ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ
আর আমরা তো জাহান্নামের প্রহরী কেবল ফেরেশতাদেরকেই করেছি; কাফিরদের পরীক্ষাস্বরূপই আমরা তাদের এ সংখ্যা উল্লেখ করেছি যাতে কিতাবপ্রাপ্তদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের ঈমান বেড়ে যায়। আর কিতাবপ্রাপ্তরা ও মুমিনরা সন্দেহ পোষণ না করে। আর যেন এর ফলে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা ও কাফিররা বলে, আল্লাহ্ এ (সংখ্যার) উপমা (উল্লেখ করা) দ্বারা কি ইচ্ছা করেছেন?’ এভাবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছে হেদায়াত করেন। আর আপনার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। আর জাহান্নামের এ বর্ণনা তো মানুষের জন্য এক উপদেশ মাত্র।
এই অংশের আরও ১টি দলিল
فَرُفِعَ لِيَ الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ، فَسَأَلْتُ جِبْرِيلَ فَقَالَ هَذَا الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ يُصَلِّي فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ، إِذَا خَرَجُوا لَمْ يَعُودُوا إِلَيْهِ آخِرَ مَا عَلَيْهِمْ
(মিরাজের রাতে নবী (ﷺ) বলেন:) তারপর আমার সামনে বাইতুল মা‘মূর তুলে ধরা হলো। আমি জিবরীলকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: এটা বাইতুল মা‘মূর। এখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা নামাজ পড়েন। তাঁরা একবার বের হলে আর কখনো এখানে ফেরার পালা পান না।
জিবরীল (আ.): ওহির বাহক
জিবরীল (আ.) ফেরেশতাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান। তাঁর প্রধান দায়িত্ব আল্লাহর ওহি (বাণী) নবীদের কাছে পৌঁছানো। কুরআনে তাঁর নাম তিনবার এসেছে: সূরা আল-বাকারায় দুবার (সূরা আল-বাকারা ২:৯৭, সূরা আল-বাকারা ২:৯৮) আর সূরা আত-তাহরীমে একবার (সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৪)।
কুরআন তাঁকে কয়েকটি উপাধিতেও ডেকেছে: আর-রূহুল আমীন (বিশ্বস্ত রূহ), রূহুল কুদুস (পবিত্র রূহ, সূরা আন-নাহল ১৬:১০২), সম্মানিত বার্তাবাহক, শক্তিশালী ও আরশের মালিকের কাছে মর্যাদাবান (সূরা আত-তাকভীর ৮১:১৯-সূরা আত-তাকভীর ৮১:২১), প্রবল শক্তিধর (সূরা আন-নাজম ৫৩:৫)। লাইলাতুল কদরে ফেরেশতাদের সাথে যে "রূহ" নামেন, অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে তিনিও জিবরীল (সূরা আল-কদর ৯৭:৪)।
প্রথম ওহি নিয়ে তিনিই হেরা গুহায় এসেছিলেন। সাধারণত তিনি মানুষের রূপে আসতেন, কিন্তু নবী (ﷺ) তাঁকে দুবার আসল রূপে দেখেছেন (সূরা আন-নাজম ৫৩:১৩, সূরা আত-তাকভীর ৮১:২৩); সেই রূপ পুরো দিগন্ত ঢেকে দিয়েছিল, আর তাঁর ছিল ছয়শো ডানা।
রমজানের প্রতি রাতে তিনি নবী (ﷺ)-এর সাথে কুরআন পাঠ করতেন। আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসলে প্রথমে জিবরীলকে জানান। তিনি আয়েশা (রা.)-কে সালামও পাঠিয়েছিলেন।
نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ
বিশ্বস্ত রূহ (জিবরাঈল) তা নিয়ে নাযিল হয়েছেন।
এই অংশের আরও ১১টি দলিল
قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ
বলুন, ‘যে কেউ জিবরীলের শত্রু হবে, এজন্যে যে, তিনি আল্লাহ্র অনুমতিক্রমে আপনার হৃদয়ে কুরআন নাযিল করেছেন, যা পূর্ববর্তী কিতাবেরও সত্যায়ণকারী এবং যা মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও শুভ সংবাদ’
إِن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا ۖ وَإِن تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَٰلِكَ ظَهِيرٌ
যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর (তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর), কারণ তোমাদের হৃদয় তো ঝুঁকে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অন্যের পোষকতা কর তবে জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ তার সাহায্যকারী এবং জিবরীল ও সৎকর্মশীল মুমিনরাও। তাছাড়া অন্যান্য ফেরেশতাগণও তার সহযোগিতাকারী।
عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ
আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
(হেরা গুহায়) ফেরেশতা এসে বললেন: পড়ো। তিনি বললেন: আমি পড়তে জানি না। (নবীজি বলেন) তখন তিনি আমাকে ধরে এমন জোরে চাপ দিলেন যে আমার খুব কষ্ট হলো, তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ো। আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। এভাবে তিনবার হলো। তারপর তিনি বললেন: "পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ো, আর তোমার রব মহা দয়ালু।" রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাঁপা হৃদয়ে এই আয়াতগুলো নিয়ে খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ (রা.)-এর কাছে ফিরে এসে বললেন: আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। তাঁরা ঢেকে দিলেন, শেষে তাঁর ভয় কেটে গেল। তিনি খাদিজাকে ঘটনাটি জানিয়ে বললেন: আমি নিজের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছি। খাদিজা (রা.) বললেন: কখনো না! আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, অসহায়ের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বকে উপার্জন করে দেন, অতিথির আপ্যায়ন করেন, আর সত্যের পথে আসা বিপদে মানুষকে সাহায্য করেন।
وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ
আর অবশ্যই তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন
عِندَ سِدْرَةِ الْمُنتَهَىٰ
‘সিদরাতুল মুন্তাহা’ তথা প্রান্তবর্তী কুল গাছ এর কাছে,
ذَاكَ جِبْرِيلُ كَانَ يَأْتِيهِ فِي صُورَةِ الرَّجُلِ، وَإِنَّهُ أَتَاهُ هَذِهِ الْمَرَّةَ فِي صُورَتِهِ الَّتِي هِيَ صُورَتُهُ، فَسَدَّ الأُفُقَ
(সূরা আন-নাজমের "তারপর তিনি কাছে এলেন, অতি কাছে" আয়াত সম্পর্কে আয়েশা (রা.) বলেন:) তিনি জিবরীল। তিনি সাধারণত মানুষের আকৃতিতে নবীজির কাছে আসতেন। কিন্তু এবার এসেছিলেন তাঁর নিজের আসল আকৃতিতে, আর তিনি পুরো দিগন্ত ঢেকে দিয়েছিলেন।
حَدَّثَنَا ابْنُ مَسْعُودٍ أَنَّهُ رَأَى جِبْرِيلَ لَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ
(সূরা আন-নাজমের "দুই ধনুকের ব্যবধান বা তার চেয়েও কাছে" আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন:) নবী (ﷺ) জিবরীলকে দেখেছিলেন, তাঁর ছয়শো ডানা ছিল।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল। আর রমজানে, যখন জিবরীল (আ.) তাঁর সাথে দেখা করতেন, তখন তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন। জিবরীল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে দেখা করে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন ও শুনতেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কল্যাণের কাজে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি উদার হতেন।
আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরীলকে ডেকে বলেন: আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, তুমিও তাকে ভালোবাসো। তখন জিবরীল তাকে ভালোবাসেন। তারপর জিবরীল আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা দেন: আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসে। তারপর যমীনেও তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা রেখে দেওয়া হয়।
يَا عَائِشَةُ، هَذَا جِبْرِيلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ ". فَقَالَتْ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ. تَرَى مَا لاَ أَرَى
নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন: হে আয়েশা, ইনি জিবরীল, তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। আয়েশা (রা.) বললেন: ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। (তারপর নবীজিকে উদ্দেশ করে বললেন:) আপনি যা দেখেন, আমি তা দেখি না।
মীকাঈল (আ.)
কুরআনে মীকাঈল (আ.)-এর নাম একবারই এসেছে, জিবরীলের সাথে, "মীকাল" রূপে। যারা জিবরীলকে নিজেদের শত্রু বলত, এই আয়াত তাদের জবাব: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, রাসূল, জিবরীল ও মীকাঈলের শত্রু হওয়া মানে আল্লাহর শত্রু হওয়া।
সহিহ হাদিসে তাঁর নাম আরও কয়েক জায়গায় এসেছে। উহুদের দিন সাদা পোশাকে তিনি ও জিবরীল নবী (ﷺ)-এর দুই পাশে ছিলেন। নবী (ﷺ) তাহাজ্জুদ শুরু করতেন "জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব" বলে আল্লাহকে ডেকে। আর নবীজির এক স্বপ্নে জিবরীল নিজেকে ও মীকাঈলকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
প্রচলিত আছে, মীকাঈল (আ.) বৃষ্টি ও উদ্ভিদের দায়িত্বে। কথাটি তাফসীর ও আকীদার অনেক বইয়ে আছে, কিন্তু নবী (ﷺ) থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট সহিহ হাদিস আমরা যাচাই করে পাইনি। তাই এটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, আলেমদের বর্ণনা হিসেবে জানুন।
مَن كَانَ عَدُوًّا لِّلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِّلْكَافِرِينَ
‘যে কেউ আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর রাসূলগণ এবং জিব্রীল ও মীকাঈলের শত্রু হবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্ কাফিরদের শত্রু’।
এই অংশের আরও ৩টি দলিল
رَأَيْتُ عَنْ يَمِينِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ شِمَالِهِ يَوْمَ أُحُدٍ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا ثِيَابُ بَيَاضٍ مَا رَأَيْتُهُمَا قَبْلُ وَلاَ بَعْدُ . يَعْنِي جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ
উহুদের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ডানে ও বামে সাদা পোশাক পরা দুজন মানুষকে দেখলাম। তাঁদের আমি আগে কখনো দেখিনি, পরেও দেখিনি। অর্থাৎ তাঁরা ছিলেন জিবরীল ও মীকাঈল (আ.)।
(নবী (ﷺ) রাতে নামাজে দাঁড়ালে এই দোয়া দিয়ে শুরু করতেন:) হে আল্লাহ, জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞানী! তোমার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করত, তুমিই তার মীমাংসা করবে। যে সত্য নিয়ে মতভেদ হয়েছে, তোমার অনুমতিতে তুমি আমাকে সেই সত্যের পথ দেখাও। নিশ্চয়ই তুমি যাকে চাও সরল পথ দেখাও।
رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي قَالاَ الَّذِي يُوقِدُ النَّارَ مَالِكٌ خَازِنُ النَّارِ، وَأَنَا جِبْرِيلُ، وَهَذَا مِيكَائِيلُ
(নবী (ﷺ) তাঁর এক স্বপ্নের কথা বললেন:) আজ রাতে দেখলাম, দুজন ব্যক্তি আমার কাছে এলেন। তাঁরা বললেন: যিনি আগুন জ্বালাচ্ছেন, তিনি মালিক, জাহান্নামের রক্ষী। আর আমি জিবরীল, আর ইনি মীকাঈল।
হারূত ও মারূত
সূরা আল-বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে দুই ফেরেশতা হারূত ও মারূতের কথা এসেছে। ইহুদিদের একটি দল আল্লাহর কিতাব ফেলে জাদুর পেছনে ছুটেছিল, আর বলত, সুলাইমান (আ.) জাদু দিয়ে রাজত্ব করতেন। আল্লাহ জানালেন, সুলাইমান (আ.) কুফরি করেননি; কুফরি করেছে শয়তানরা, তারাই মানুষকে জাদু শেখাত।
অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, বাবেলে (ইরাকের প্রাচীন শহর) এই দুই ফেরেশতাকে পাঠানো হয়েছিল মানুষের জন্য পরীক্ষা হিসেবে। তাঁরা কাউকে কিছু শেখানোর আগে সতর্ক করে দিতেন: "আমরা তো পরীক্ষা মাত্র, তাই কুফরি কোরো না।" আয়াত থেকে তিনটি কথা স্পষ্ট: জাদু কুফরি, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া জাদু কারো ক্ষতি করতে পারে না, আর যে জাদু কেনে, আখিরাতে তার কোনো অংশ নেই।
তাঁদের নিয়ে প্রচলিত "যুহরা নামের এক নারীর প্রেমে পড়ে মদ, শিরক ও হত্যা" গল্পটি সহিহ নয়। নিচে "ভুল ধারণা" অংশে এর মান দেখুন।
وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَانَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَـٰكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ ۚ وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
আর সুলাইমানের রাজত্বে শয়তানরা যা আবৃত্তি করতো তারা তা অনুসরণ করেছে। আর সুলাইমান কুফরী করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত যাদু ও (সে বিষয় শিক্ষা দিত) যা বাবিল শহরে হারূত ও মারূত ফিরিশতাদ্বয়ের উপর নাযিল হয়েছিলো। তারা উভয়েই এই কথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, ‘আমরা নিছক একটি পরীক্ষা ; কাজেই তুমি কুফরী করো না।’ তা সত্বেও তারা ফিরিশতাদ্বয়ের কাছ থেকে এমন যাদু শিখতো যা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতো। অথচ তারা আল্লাহ্র অনুমতি ব্যাতীত তা দ্বারা কারো ক্ষতি করতে পারতো না। আর তারা তা-ই শিখতো যা তাদের ক্ষতি করতো এবং কোনো উপকারে আসত না আর তারা নিশ্চিত জানে যে, যে কেউ তা খরিদ করে, (অর্থাৎ যাদুর আশ্রয় নেয়) তার জন্য আখেরাতে কোনো অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে, তা খুবই মন্দ, যদি তারা জানতো !
মালিক: জাহান্নামের রক্ষী
জাহান্নামের প্রধান রক্ষী ফেরেশতার নাম মালিক। জাহান্নামবাসীরা তাঁকে ডেকে বলবে, তোমার রব যেন আমাদের শেষ করে দেন; তিনি জবাব দেবেন: তোমরা তো এখানেই থাকবে।
জাহান্নামের উপর আছেন উনিশজন রক্ষী ফেরেশতা। তাঁরা কঠোর ও অত্যন্ত শক্তিশালী, আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন না (সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৬)। কুরআন তাঁদের "যাবানিয়া" (শাস্তির রক্ষী)-ও বলেছে (সূরা আল-আলাক ৯৬:১৮)।
নবী (ﷺ) এক স্বপ্নে মালিককে আগুন জ্বালাতে দেখেছিলেন (সহিহ বুখারী ৩২৩৬, মীকাঈলের অংশে পুরো হাদিস)।
وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ ۖ قَالَ إِنَّكُم مَّاكِثُونَ
তারা চিৎকার করে বলবে, ‘হে মালেক, তোমার রব যেন আমাদেরকে নিঃশেষ করে দেন।’ সে বলবে, ‘নিশ্চয় তোমরা অবস্থানকারী হবে।’
এই অংশের আরও ২টি দলিল
لَقَدْ جِئْنَاكُم بِالْحَقِّ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ
আল্লাহ বলবেন, ‘অবশ্যই আমরা তমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তোমাদের বেশীর ভাগই ছিলে সত্য অপছন্দকারী।’
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ
‘সাকার’-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে ঊনিশজন প্রহরী।
মালাকুল মাওত: মৃত্যুর ফেরেশতা
কুরআনে মৃত্যুর ফেরেশতাকে তাঁর কাজের নামে ডাকা হয়েছে: মালাকুল মাওত (মৃত্যুর ফেরেশতা)। তাঁর কোনো ব্যক্তিগত নাম কুরআন বা সহিহ হাদিসে আসেনি।
তাঁর সাথে আরও ফেরেশতা থাকেন, যাঁরা আল্লাহর আদেশে রূহ কবজ করেন এবং কোনো ত্রুটি করেন না। নেককারদের তাঁরা সালাম দিয়ে নেন, আর কাফিরদের নেন কঠোরভাবে।
মৃত্যুর ফেরেশতা নবীদের কাছেও এসেছেন; মূসা (আ.)-এর কাছে আসার ঘটনা সহিহ বুখারীতে আছে।
قُلْ يَتَوَفَّاكُم مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ
বলুন, 'তোমাদের জন্য নিযুক্ত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। তারপর তোমাদের রবের কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।'
এই অংশের আরও ৪টি দলিল
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ ۖ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ
আর তিনি তাঁর বান্দাদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধিকারী এবং তিনি তোমাদের উপর প্রেরণ করেন হেফাজতকারীদেরকে। অবশেষে তোমাদের কারও যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন আমাদের রাসূল (ফিরিশতা)গণ তার মৃত্যু ঘটায় এবং তারা কোনো ত্রুটি করে না।
الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ ۙ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
ফিরিশতাগণ যাদের মৃত্যু ঘটায় উত্তমভাবে। ফিরিশতাগণ বলবেন, তোমাদের উপর সালাম! তোমরা যা করতে তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ কর।
وَلَوْ تَرَىٰ إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا ۙ الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ
আর আপনি যদি দেখতে পেতেন যখন ফিরিশতাগণ যারা কুফরী করেছে তাদের প্রাণ হরণ করেছিল, তাদের মুখমন্ডলে ও পিঠে আঘাত করছিল আর বলছিল ‘তোমরা দহনযন্ত্রণা ভোগ কর।’
মালাকুল মাওতকে মূসা (আ.)-এর কাছে পাঠানো হলো। তিনি এলে মূসা (আ.) তাঁকে চড় মারলেন। তিনি তাঁর রবের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন: আপনি আমাকে এমন বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যে মরতে চায় না। আল্লাহ বললেন: তার কাছে ফিরে যাও, তাকে বলো সে যেন একটি ষাঁড়ের পিঠে হাত রাখে; হাতের নিচে যত পশম পড়বে, প্রতিটির বদলে সে এক বছর করে আয়ু পাবে। মূসা (আ.) বললেন: হে রব, তারপর কী? আল্লাহ বললেন: তারপর মৃত্যু। তিনি বললেন: তাহলে এখনই। তারপর তিনি আল্লাহর কাছে চাইলেন, যেন তাঁকে পবিত্র ভূমির এক ঢিল ছোড়ার দূরত্ব পর্যন্ত কাছে নেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আমি সেখানে থাকলে তোমাদের তাঁর কবর দেখিয়ে দিতাম, পথের পাশে লাল বালির টিলার নিচে।
কিরামান কাতিবীন: আমল লেখক ও হেফাজতকারী
প্রত্যেক মানুষের সাথে সম্মানিত লেখক ফেরেশতারা (কিরামান কাতিবীন) আছেন। আমরা যা করি, তাঁরা জানেন ও লিখে রাখেন।
মুখ থেকে যে কথাই বের হয়, তা লেখার জন্য একজন ডানে, একজন বামে বসে আছেন; তাঁরা "রাকীব" (পাহারাদার) ও "আতীদ" (সদা প্রস্তুত)।
এছাড়া প্রত্যেকের সামনে-পেছনে পালা করে আসা ফেরেশতারাও আছেন, যাঁরা আল্লাহর আদেশে মানুষকে হেফাজত করেন।
كِرَامًا كَاتِبِينَ
সম্মানিত লেখকবৃন্দ;
এই অংশের আরও ৫টি দলিল
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ
আর নিশ্চয় নিয়োজিত আছেন তোমাদের উপর সংরক্ষকদল;
يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ
তারা জানে তোমরা যা কর।
إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ
যখন তার ডানে ও বামে বসা দু’জন ফেরেশতা পরস্পর (তার আমল লিখার জন্য) গ্ৰহণ করে;
مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা উপস্থিত সংরক্ষণকারী রয়েছে।
لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِّن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ ۗ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ ۚ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ
মানুষের জন্য রয়েছে তার সামনে ও পিছনে একের পর এক আগমনকারী প্রহরী; তারা আল্লাহ্র আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। নিশ্চয় আল্লাহ্ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। আর কোনো সম্প্রদায়ের জন্য যদি আল্লাহ্ অশুভ কিছু ইচ্ছে করেন তবে তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই।
আরশ বহনকারী ফেরেশতা
আল্লাহর আরশ বহন করেন একদল ফেরেশতা, আর আরশের চারপাশে আছেন আরও ফেরেশতা। তাঁরা আল্লাহর প্রশংসা করেন, আর যারা তাওবা করে আল্লাহর পথে চলে, তাদের জন্য ক্ষমা চান।
কিয়ামতের দিন আটজন ফেরেশতা আরশ বহন করবেন।
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
যারা ‘আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চারপাশে আছে, তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্ৰশংসার সাথে এবং তাঁর উপর ঈমান রাখে, আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, 'হে আমাদের রব! আপনি দয়া ও জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন। অতএব, যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অবলম্বন করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন। আর জাহান্নামের শাস্তি হতে আপনি তাদের রক্ষা করুন।।
এই অংশের আরও ২টি দলিল
رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
'হে আমাদের রব! আর আপনি তাদেরকে প্রবেশ করান স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের পিতামাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তাদেরকেও ৷ নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্ৰজ্ঞাময়।
وَالْمَلَكُ عَلَىٰ أَرْجَائِهَا ۚ وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ
আর ফেরেশ্তাগণ আসমানের প্রান্ত দেশে থাকবে এবং সেদিন আটজন ফিরিশ্তা আপনার রবের ‘আরশকে ধারণ করবে তাদের উপরে।
জান্নাতের রক্ষী ও অভ্যর্থনা
জান্নাতের দরজায় থাকবেন তার রক্ষী ফেরেশতারা। মুত্তাকীরা দলে দলে পৌঁছালে তাঁরা সালাম দিয়ে স্বাগত জানাবেন। কুরআনে তাঁদের কোনো ব্যক্তিগত নাম বলা হয়নি।
ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করে বলবেন: তোমরা ধৈর্য ধরেছিলে, তাই তোমাদের প্রতি শান্তি।
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ
আর যারা তাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে যখন তারা জান্নাতের কাছে আসবে এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের প্রতি সালাম’, তোমরা ভাল ছিলে সুতরাং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়ীভাবে অবস্থিতির জন্য। '
এই অংশের আরও ২টি দলিল
جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ ۖ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ
স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তারাও। আর ফেরেশতাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে,
سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ ۚ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ
এবং বলবে, ‘তোমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি; আর আখেরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম!’
আরও কিছু দায়িত্ব: গর্ভ, পাহাড় ও নামাজের পালা
সহিহ হাদিসে আরও কয়েক দল ফেরেশতার কাজের কথা এসেছে। মায়ের গর্ভে সন্তানের আমল, রিযিক, আয়ু ও পরিণতি লেখার জন্য একজন ফেরেশতা পাঠানো হয়।
তায়েফের কষ্টের দিনে পাহাড়ের ফেরেশতা এসে অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু নবী (ﷺ) প্রতিশোধ না নিয়ে তাদের বংশধরদের হিদায়াতের আশা করেছিলেন।
রাতের ও দিনের ফেরেশতারা পালা করে আসেন, আর ফজর ও আসরের নামাজে একত্র হন।
(তায়েফ থেকে দুঃখ নিয়ে ফেরার পথে নবী (ﷺ) বলেন:) হঠাৎ দেখি একখণ্ড মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। তাকিয়ে দেখি তাতে জিবরীল। তিনি আমাকে ডেকে বললেন: আপনার সম্প্রদায় আপনাকে যা বলেছে আর যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে, আল্লাহ তা শুনেছেন। তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আপনি যা চান তাকে আদেশ করতে পারেন। তখন পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডেকে সালাম দিলেন, তারপর বললেন: হে মুহাম্মাদ, আপনি যা চান তা-ই হবে। আপনি চাইলে আমি দুই পাহাড় (আখশাবাইন) তাদের উপর চাপিয়ে দেব। নবী (ﷺ) বললেন: না, বরং আমি আশা করি আল্লাহ তাদের বংশে এমন মানুষ সৃষ্টি করবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কিছুকে শরিক করবে না।
এই অংশের আরও ২টি দলিল
তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান মায়ের পেটে চল্লিশ দিন একত্র করা হয়। তারপর একই সময় ধরে তা জমাট রক্ত থাকে, তারপর একই সময় ধরে মাংসপিণ্ড। তারপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান। তাকে চারটি বিষয় লেখার আদেশ দেওয়া হয়: তার আমল, তার রিযিক, তার আয়ু, আর সে দুর্ভাগা হবে না সৌভাগ্যবান। তারপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়।
রাতের ফেরেশতা আর দিনের ফেরেশতারা পালা করে তোমাদের কাছে আসে, আর ফজর ও আসরের নামাজে তারা একত্র হয়। তারপর যারা রাতে তোমাদের মাঝে ছিল, তারা ওপরে ওঠে। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জেনেও তাদের জিজ্ঞেস করেন: আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে? তারা বলে: আমরা তাদের নামাজরত অবস্থায় রেখে এসেছি, আর যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাজ পড়ছিল।
ইসরাফীল (আ.)
ইসরাফীল (আ.)-এর নাম কুরআনে নেই, এসেছে সহিহ মুসলিমের হাদিসে: নবী (ﷺ) তাহাজ্জুদের শুরুতে আল্লাহকে "জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব" বলে ডাকতেন।
কুরআন জানিয়েছে, শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে, তাতে আসমান-যমীনের সবাই বেহুঁশ হয়ে পড়বে (আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া); তারপর আবার ফুঁ দিলে সবাই দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।
নবী (ﷺ) বলেছেন, শিঙাওয়ালা ফেরেশতা শিঙা মুখে নিয়ে আদেশের অপেক্ষায় আছেন। শাইখ আলবানী এই হাদিসকে সহিহ বলেছেন; শাইখ যুবাইর আলী যাঈ সনদের এক বর্ণনাকারী আতিয়্যা আল-আওফীর দুর্বলতার কারণে একে দুর্বল বলেছেন।
শিঙায় যিনি ফুঁ দেবেন, তিনি ইসরাফীল: এটি আলেমদের মধ্যে প্রসিদ্ধ মত, ইবনু হাজার (রহ.) ফাতহুল বারীতেও এর প্রসিদ্ধির কথা বলেছেন। তবে কোনো সহিহ হাদিসে শিঙাওয়ালার নাম স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তাই "শিঙাওয়ালা ফেরেশতা" বলাই সবচেয়ে নিরাপদ; "তিনি ইসরাফীল" কথাটি আলেমদের প্রসিদ্ধ মত হিসেবে জানুন।
(নবী (ﷺ) রাতে নামাজে দাঁড়ালে এই দোয়া দিয়ে শুরু করতেন:) হে আল্লাহ, জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞানী! তোমার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করত, তুমিই তার মীমাংসা করবে। যে সত্য নিয়ে মতভেদ হয়েছে, তোমার অনুমতিতে তুমি আমাকে সেই সত্যের পথ দেখাও। নিশ্চয়ই তুমি যাকে চাও সরল পথ দেখাও।
এই অংশের আরও ২টি দলিল
وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ۖ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَىٰ فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ
আর শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে আসমানসমূহে যারা আছে ও যমীনে যারা আছে তারা সবাই বেহুশ হয়ে পড়বে, যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া। তারপর আবার শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে তৎক্ষণাৎ তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।
আমি কীভাবে আরামে থাকি, অথচ শিঙাওয়ালা (ফেরেশতা) শিঙা মুখে নিয়ে কান পেতে আছেন, কখন ফুঁ দেওয়ার আদেশ আসবে আর তিনি ফুঁ দেবেন! কথাটি সাহাবিদের কাছে ভারী মনে হলো। তখন তিনি বললেন: তোমরা বলো, "হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল, আলাল্লাহি তাওয়াক্কালনা" (আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক; আমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করি)।
মুনকার ও নাকীর: কবরের প্রশ্নকারী
কবরে দুজন ফেরেশতা এসে মানুষকে প্রশ্ন করবেন, এ কথা সহিহ বুখারীতে আছে।
তাঁদের নাম "মুনকার" ও "নাকীর" এসেছে জামে আত-তিরমিযীর হাদিসে। ইমাম তিরমিযী একে হাসান গরীব বলেছেন, শাইখ আলবানীও হাসান বলেছেন।
সেই কঠিন মুহূর্তে অটল থাকার শক্তি আল্লাহই দেন।
মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন তার কাছে কালো ও নীল চোখের দুজন ফেরেশতা আসেন। একজনকে বলা হয় মুনকার, অন্যজনকে নাকীর। তাঁরা জিজ্ঞেস করেন: এই ব্যক্তি (মুহাম্মাদ ﷺ) সম্পর্কে তুমি কী বলতে? মুমিন বলে: তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; আমি সাক্ষ্য দিই, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তখন তার কবর প্রশস্ত ও আলোকিত করা হয়, আর তাকে বলা হয়: ঘুমাও, নববধূর ঘুমের মতো। আর মুনাফিক বলে: লোকদের যা বলতে শুনতাম, আমিও তা-ই বলতাম; আমি জানি না। তখন যমীনকে বলা হয় তাকে চেপে ধরতে, আর আল্লাহ তাকে ওঠানো পর্যন্ত সে সেখানে শাস্তি পেতে থাকে।
এই অংশের আরও ২টি দলিল
বান্দাকে যখন কবরে রাখা হয় আর তার সঙ্গীরা ফিরে যায়, এমনকি সে তাদের জুতার আওয়াজও শুনতে পায়, তখন দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করেন: এই ব্যক্তি, মুহাম্মাদ (ﷺ) সম্পর্কে তুমি কী বলতে? মুমিন বলবে: আমি সাক্ষ্য দিই, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাকে বলা হবে: জাহান্নামে তোমার জায়গাটা দেখো, আল্লাহ এর বদলে তোমাকে জান্নাতে জায়গা দিয়েছেন। সে দুটোই দেখবে। আর কাফির বা মুনাফিক বলবে: আমি জানি না, লোকে যা বলত আমিও তা-ই বলতাম। তাকে বলা হবে: তুমি নিজেও জানোনি, (জ্ঞানীদের) অনুসরণও করোনি। তারপর লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাকে এমন আঘাত করা হবে যে সে চিৎকার করে উঠবে; মানুষ ও জিন ছাড়া আশপাশের সবাই তা শুনতে পাবে।
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ۖ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ ۚ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ্ তাদেরকে সুদৃঢ় বাক্যের দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন এবং যারা যালিম আল্লাহ্ তাদেরকে বিভ্রান্তিতে রাখবেন। আর আল্লাহ্ যা ইচ্ছে তা করেন।
যে কাজে ফেরেশতারা কাছে আসেন, যে কারণে দূরে থাকেন
ফেরেশতাদের দেখা যায় না, কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের আমলের সাথে তাঁদের সম্পর্ক আছে। নামাজের জায়গায় বসে থাকলে তাঁরা দোয়া করেন, ইমামের সাথে আমীন বলেন, আর যিকিরের মজলিস খুঁজে বেড়ান।
আবার যে ঘরে কুকুর বা প্রাণীর মূর্তি-ছবি থাকে, সেখানে (রহমতের) ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না। (শিকার, পাহারা ও খামারের কুকুরের ব্যাপারে আলেমদের আলাদা আলোচনা আছে।)
তোমাদের কেউ যতক্ষণ নামাজের জায়গায় থাকে আর ওজু না ভাঙে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে: হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ, তার ওপর রহম করুন। আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ নামাজের অপেক্ষায় আটকে থাকে, যদি নামাজ ছাড়া অন্য কিছু তাকে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে বাধা না দেয়, ততক্ষণ সে নামাজের মধ্যেই আছে।
এই অংশের আরও ৩টি দলিল
إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
ইমাম যখন আমীন বলে, তোমরাও আমীন বলো। কারণ যার আমীন ফেরেশতাদের আমীনের সাথে মিলে যায়, তার আগের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
إِنَّ لِلَّهِ مَلاَئِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ، يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ، فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللَّهَ تَنَادَوْا هَلُمُّوا إِلَى حَاجَتِكُمْ. قَالَ فَيَحُفُّونَهُمْ بِأَجْنِحَتِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
আল্লাহর কিছু ফেরেশতা আছেন, যাঁরা পথে পথে ঘুরে আল্লাহর যিকিরকারীদের খোঁজেন। কোনো দলকে আল্লাহর যিকির করতে পেলে তাঁরা একে অপরকে ডেকে বলেন: তোমাদের কাঙ্ক্ষিত জিনিসের দিকে এসো। তারপর তাঁরা নিজেদের ডানা দিয়ে তাদের ঘিরে দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত ঢেকে ফেলেন। (হাদিসের শেষে আছে, আল্লাহ ফেরেশতাদের সাক্ষী রেখে তাদের ক্ষমা করে দেন।)
لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ صُورَةُ تَمَاثِيلَ
যে ঘরে কুকুর বা প্রাণীর মূর্তি-ছবি থাকে, সেই ঘরে (রহমতের) ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না।
ভুল ধারণা ও রিসোর্স
প্রচলিত নাম ও গল্পের মান, দোয়া, হাদিস, শিক্ষা আর কুরআনে কোথায় পড়বেন
ভুল ধারণা
মৃত্যুর ফেরেশতার নাম "আযরাঈল" (আজরাইল)।
হারূত ও মারূত আসমান থেকে নেমে "যুহরা" নামের এক সুন্দরী নারীর প্রেমে পড়েন, তারপর মদ পান, শিরক ও হত্যা করেন; সেই নারী শুক্র গ্রহ হয়ে যায়।
"রাকীব" ও "আতীদ" দুজন ফেরেশতার নাম।
জান্নাতের দারোয়ান ফেরেশতার নাম "রিদওয়ান" (রেজওয়ান)।
ফেরেশতারা নারী, বা আল্লাহর কন্যা।
ইসরাফীলের চারটি ডানা, লাওহে মাহফূয তাঁর দুই চোখের মাঝে; আল্লাহ ওহি লিখতে চাইলে তাঁর কপালে টোকা দেয়।
লোকমুখে চলা নাম ও গল্প যাচাই করা হয়েছে মুহাদ্দিসদের মান অনুযায়ী। এখানে না থাকলেই কোনো গল্প সঠিক, এমন নয়; দলিল দেখে নিন। আরও দেখুন: প্রচলিত ভুল ও সঠিক তথ্য।
দোয়া
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ ﴿٧﴾ رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٨﴾ وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ ۚ وَمَن تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿٩﴾
যারা ‘আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চারপাশে আছে, তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্ৰশংসার সাথে এবং তাঁর উপর ঈমান রাখে, আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, 'হে আমাদের রব! আপনি দয়া ও জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন। অতএব, যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অবলম্বন করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন। আর জাহান্নামের শাস্তি হতে আপনি তাদের রক্ষা করুন।। 'হে আমাদের রব! আর আপনি তাদেরকে প্রবেশ করান স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের পিতামাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তাদেরকেও ৷ নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্ৰজ্ঞাময়। 'আর আপনি তাদেরকে অপরাধের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। সেদিন আপনি যাকে (অপরাধের) খারাপ পরিণতি হতে রক্ষা করবেন, তাকে অবশ্যই অনুগ্রহ করবেন; আর এটাই মহাসাফল্য!'
সূরা গাফির ৪০:৭-৯(নবী (ﷺ) রাতে নামাজে দাঁড়ালে এই দোয়া দিয়ে শুরু করতেন:) হে আল্লাহ, জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞানী! তোমার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করত, তুমিই তার মীমাংসা করবে। যে সত্য নিয়ে মতভেদ হয়েছে, তোমার অনুমতিতে তুমি আমাকে সেই সত্যের পথ দেখাও। নিশ্চয়ই তুমি যাকে চাও সরল পথ দেখাও।
প্রথম দোয়াটি কুরআনের আয়াত, অর্থ যাকারিয়ার অনুবাদ থেকে। দ্বিতীয়টি নবী (ﷺ)-এর তাহাজ্জুদের দোয়া, যেখানে তিন বড় ফেরেশতার নাম এসেছে।
হাদিস
(সাদা কাপড় পরা এক অচেনা ব্যক্তি এসে বললেন:) হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: ইসলাম হলো, তুমি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত দেবে, রমজানের রোজা রাখবে, আর সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করবে। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। ... তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবগুলোর প্রতি, তাঁর রাসূলদের প্রতি, শেষ দিনের প্রতি, আর তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তাঁকে দেখছ; আর যদি তাঁকে না দেখো, তিনি তো তোমাকে দেখছেন। ... (পরে নবীজি বললেন:) তিনি ছিলেন জিবরীল, তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।
خُلِقَتِ الْمَلاَئِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ
ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর (আলো) থেকে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে ধোঁয়াহীন আগুনের শিখা থেকে, আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই জিনিস থেকে, যার বর্ণনা তোমাদের দেওয়া হয়েছে (অর্থাৎ মাটি)।
فَرُفِعَ لِيَ الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ، فَسَأَلْتُ جِبْرِيلَ فَقَالَ هَذَا الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ يُصَلِّي فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ، إِذَا خَرَجُوا لَمْ يَعُودُوا إِلَيْهِ آخِرَ مَا عَلَيْهِمْ
(মিরাজের রাতে নবী (ﷺ) বলেন:) তারপর আমার সামনে বাইতুল মা‘মূর তুলে ধরা হলো। আমি জিবরীলকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: এটা বাইতুল মা‘মূর। এখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা নামাজ পড়েন। তাঁরা একবার বের হলে আর কখনো এখানে ফেরার পালা পান না।
(হেরা গুহায়) ফেরেশতা এসে বললেন: পড়ো। তিনি বললেন: আমি পড়তে জানি না। (নবীজি বলেন) তখন তিনি আমাকে ধরে এমন জোরে চাপ দিলেন যে আমার খুব কষ্ট হলো, তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ো। আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। এভাবে তিনবার হলো। তারপর তিনি বললেন: "পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ো, আর তোমার রব মহা দয়ালু।" রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাঁপা হৃদয়ে এই আয়াতগুলো নিয়ে খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ (রা.)-এর কাছে ফিরে এসে বললেন: আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। তাঁরা ঢেকে দিলেন, শেষে তাঁর ভয় কেটে গেল। তিনি খাদিজাকে ঘটনাটি জানিয়ে বললেন: আমি নিজের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছি। খাদিজা (রা.) বললেন: কখনো না! আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, অসহায়ের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বকে উপার্জন করে দেন, অতিথির আপ্যায়ন করেন, আর সত্যের পথে আসা বিপদে মানুষকে সাহায্য করেন।
ذَاكَ جِبْرِيلُ كَانَ يَأْتِيهِ فِي صُورَةِ الرَّجُلِ، وَإِنَّهُ أَتَاهُ هَذِهِ الْمَرَّةَ فِي صُورَتِهِ الَّتِي هِيَ صُورَتُهُ، فَسَدَّ الأُفُقَ
(সূরা আন-নাজমের "তারপর তিনি কাছে এলেন, অতি কাছে" আয়াত সম্পর্কে আয়েশা (রা.) বলেন:) তিনি জিবরীল। তিনি সাধারণত মানুষের আকৃতিতে নবীজির কাছে আসতেন। কিন্তু এবার এসেছিলেন তাঁর নিজের আসল আকৃতিতে, আর তিনি পুরো দিগন্ত ঢেকে দিয়েছিলেন।
حَدَّثَنَا ابْنُ مَسْعُودٍ أَنَّهُ رَأَى جِبْرِيلَ لَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ
(সূরা আন-নাজমের "দুই ধনুকের ব্যবধান বা তার চেয়েও কাছে" আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন:) নবী (ﷺ) জিবরীলকে দেখেছিলেন, তাঁর ছয়শো ডানা ছিল।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল। আর রমজানে, যখন জিবরীল (আ.) তাঁর সাথে দেখা করতেন, তখন তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন। জিবরীল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে দেখা করে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন ও শুনতেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কল্যাণের কাজে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি উদার হতেন।
আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরীলকে ডেকে বলেন: আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, তুমিও তাকে ভালোবাসো। তখন জিবরীল তাকে ভালোবাসেন। তারপর জিবরীল আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা দেন: আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসে। তারপর যমীনেও তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা রেখে দেওয়া হয়।
يَا عَائِشَةُ، هَذَا جِبْرِيلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ ". فَقَالَتْ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ. تَرَى مَا لاَ أَرَى
নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন: হে আয়েশা, ইনি জিবরীল, তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। আয়েশা (রা.) বললেন: ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। (তারপর নবীজিকে উদ্দেশ করে বললেন:) আপনি যা দেখেন, আমি তা দেখি না।
رَأَيْتُ عَنْ يَمِينِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ شِمَالِهِ يَوْمَ أُحُدٍ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا ثِيَابُ بَيَاضٍ مَا رَأَيْتُهُمَا قَبْلُ وَلاَ بَعْدُ . يَعْنِي جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ
উহুদের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ডানে ও বামে সাদা পোশাক পরা দুজন মানুষকে দেখলাম। তাঁদের আমি আগে কখনো দেখিনি, পরেও দেখিনি। অর্থাৎ তাঁরা ছিলেন জিবরীল ও মীকাঈল (আ.)।
(নবী (ﷺ) রাতে নামাজে দাঁড়ালে এই দোয়া দিয়ে শুরু করতেন:) হে আল্লাহ, জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞানী! তোমার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করত, তুমিই তার মীমাংসা করবে। যে সত্য নিয়ে মতভেদ হয়েছে, তোমার অনুমতিতে তুমি আমাকে সেই সত্যের পথ দেখাও। নিশ্চয়ই তুমি যাকে চাও সরল পথ দেখাও।
رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي قَالاَ الَّذِي يُوقِدُ النَّارَ مَالِكٌ خَازِنُ النَّارِ، وَأَنَا جِبْرِيلُ، وَهَذَا مِيكَائِيلُ
(নবী (ﷺ) তাঁর এক স্বপ্নের কথা বললেন:) আজ রাতে দেখলাম, দুজন ব্যক্তি আমার কাছে এলেন। তাঁরা বললেন: যিনি আগুন জ্বালাচ্ছেন, তিনি মালিক, জাহান্নামের রক্ষী। আর আমি জিবরীল, আর ইনি মীকাঈল।
মালাকুল মাওতকে মূসা (আ.)-এর কাছে পাঠানো হলো। তিনি এলে মূসা (আ.) তাঁকে চড় মারলেন। তিনি তাঁর রবের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন: আপনি আমাকে এমন বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যে মরতে চায় না। আল্লাহ বললেন: তার কাছে ফিরে যাও, তাকে বলো সে যেন একটি ষাঁড়ের পিঠে হাত রাখে; হাতের নিচে যত পশম পড়বে, প্রতিটির বদলে সে এক বছর করে আয়ু পাবে। মূসা (আ.) বললেন: হে রব, তারপর কী? আল্লাহ বললেন: তারপর মৃত্যু। তিনি বললেন: তাহলে এখনই। তারপর তিনি আল্লাহর কাছে চাইলেন, যেন তাঁকে পবিত্র ভূমির এক ঢিল ছোড়ার দূরত্ব পর্যন্ত কাছে নেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আমি সেখানে থাকলে তোমাদের তাঁর কবর দেখিয়ে দিতাম, পথের পাশে লাল বালির টিলার নিচে।
তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান মায়ের পেটে চল্লিশ দিন একত্র করা হয়। তারপর একই সময় ধরে তা জমাট রক্ত থাকে, তারপর একই সময় ধরে মাংসপিণ্ড। তারপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান। তাকে চারটি বিষয় লেখার আদেশ দেওয়া হয়: তার আমল, তার রিযিক, তার আয়ু, আর সে দুর্ভাগা হবে না সৌভাগ্যবান। তারপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়।
(তায়েফ থেকে দুঃখ নিয়ে ফেরার পথে নবী (ﷺ) বলেন:) হঠাৎ দেখি একখণ্ড মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। তাকিয়ে দেখি তাতে জিবরীল। তিনি আমাকে ডেকে বললেন: আপনার সম্প্রদায় আপনাকে যা বলেছে আর যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে, আল্লাহ তা শুনেছেন। তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আপনি যা চান তাকে আদেশ করতে পারেন। তখন পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডেকে সালাম দিলেন, তারপর বললেন: হে মুহাম্মাদ, আপনি যা চান তা-ই হবে। আপনি চাইলে আমি দুই পাহাড় (আখশাবাইন) তাদের উপর চাপিয়ে দেব। নবী (ﷺ) বললেন: না, বরং আমি আশা করি আল্লাহ তাদের বংশে এমন মানুষ সৃষ্টি করবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কিছুকে শরিক করবে না।
রাতের ফেরেশতা আর দিনের ফেরেশতারা পালা করে তোমাদের কাছে আসে, আর ফজর ও আসরের নামাজে তারা একত্র হয়। তারপর যারা রাতে তোমাদের মাঝে ছিল, তারা ওপরে ওঠে। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জেনেও তাদের জিজ্ঞেস করেন: আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে? তারা বলে: আমরা তাদের নামাজরত অবস্থায় রেখে এসেছি, আর যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাজ পড়ছিল।
আমি কীভাবে আরামে থাকি, অথচ শিঙাওয়ালা (ফেরেশতা) শিঙা মুখে নিয়ে কান পেতে আছেন, কখন ফুঁ দেওয়ার আদেশ আসবে আর তিনি ফুঁ দেবেন! কথাটি সাহাবিদের কাছে ভারী মনে হলো। তখন তিনি বললেন: তোমরা বলো, "হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল, আলাল্লাহি তাওয়াক্কালনা" (আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক; আমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করি)।
বান্দাকে যখন কবরে রাখা হয় আর তার সঙ্গীরা ফিরে যায়, এমনকি সে তাদের জুতার আওয়াজও শুনতে পায়, তখন দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করেন: এই ব্যক্তি, মুহাম্মাদ (ﷺ) সম্পর্কে তুমি কী বলতে? মুমিন বলবে: আমি সাক্ষ্য দিই, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাকে বলা হবে: জাহান্নামে তোমার জায়গাটা দেখো, আল্লাহ এর বদলে তোমাকে জান্নাতে জায়গা দিয়েছেন। সে দুটোই দেখবে। আর কাফির বা মুনাফিক বলবে: আমি জানি না, লোকে যা বলত আমিও তা-ই বলতাম। তাকে বলা হবে: তুমি নিজেও জানোনি, (জ্ঞানীদের) অনুসরণও করোনি। তারপর লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাকে এমন আঘাত করা হবে যে সে চিৎকার করে উঠবে; মানুষ ও জিন ছাড়া আশপাশের সবাই তা শুনতে পাবে।
মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন তার কাছে কালো ও নীল চোখের দুজন ফেরেশতা আসেন। একজনকে বলা হয় মুনকার, অন্যজনকে নাকীর। তাঁরা জিজ্ঞেস করেন: এই ব্যক্তি (মুহাম্মাদ ﷺ) সম্পর্কে তুমি কী বলতে? মুমিন বলে: তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; আমি সাক্ষ্য দিই, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তখন তার কবর প্রশস্ত ও আলোকিত করা হয়, আর তাকে বলা হয়: ঘুমাও, নববধূর ঘুমের মতো। আর মুনাফিক বলে: লোকদের যা বলতে শুনতাম, আমিও তা-ই বলতাম; আমি জানি না। তখন যমীনকে বলা হয় তাকে চেপে ধরতে, আর আল্লাহ তাকে ওঠানো পর্যন্ত সে সেখানে শাস্তি পেতে থাকে।
তোমাদের কেউ যতক্ষণ নামাজের জায়গায় থাকে আর ওজু না ভাঙে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে: হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ, তার ওপর রহম করুন। আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ নামাজের অপেক্ষায় আটকে থাকে, যদি নামাজ ছাড়া অন্য কিছু তাকে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে বাধা না দেয়, ততক্ষণ সে নামাজের মধ্যেই আছে।
إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
ইমাম যখন আমীন বলে, তোমরাও আমীন বলো। কারণ যার আমীন ফেরেশতাদের আমীনের সাথে মিলে যায়, তার আগের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
إِنَّ لِلَّهِ مَلاَئِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ، يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ، فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللَّهَ تَنَادَوْا هَلُمُّوا إِلَى حَاجَتِكُمْ. قَالَ فَيَحُفُّونَهُمْ بِأَجْنِحَتِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
আল্লাহর কিছু ফেরেশতা আছেন, যাঁরা পথে পথে ঘুরে আল্লাহর যিকিরকারীদের খোঁজেন। কোনো দলকে আল্লাহর যিকির করতে পেলে তাঁরা একে অপরকে ডেকে বলেন: তোমাদের কাঙ্ক্ষিত জিনিসের দিকে এসো। তারপর তাঁরা নিজেদের ডানা দিয়ে তাদের ঘিরে দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত ঢেকে ফেলেন। (হাদিসের শেষে আছে, আল্লাহ ফেরেশতাদের সাক্ষী রেখে তাদের ক্ষমা করে দেন।)
لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ صُورَةُ تَمَاثِيلَ
যে ঘরে কুকুর বা প্রাণীর মূর্তি-ছবি থাকে, সেই ঘরে (রহমতের) ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না।
শিক্ষা
কুরআনে পড়ুন
ফেরেশতাদের নিয়ে মূল আয়াতগুলো প্রসঙ্গসহ পড়তে এই অংশগুলো খুলুন।
| বিষয় | সূরা | আয়াত | সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| জিবরীল ও মীকাঈলের নাম | সূরা আল-বাকারা | ২:৯৭-৯৮ | ২ |
| হারূত ও মারূত | সূরা আল-বাকারা | ২:১০২ | ১ |
| ফেরেশতাদের ডানা | সূরা ফাতির | ৩৫:১ | ১ |
| জিবরীলকে আসল রূপে দেখা | সূরা আন-নাজম | ৫৩:১-১৮ | ১৮ |
| রূহুল আমীন কুরআন নিয়ে নামলেন | সূরা আশ-শুআরা | ২৬:১৯২-১৯৫ | ৪ |
| মালিক ও জাহান্নামবাসী | সূরা আয-যুখরুফ | ৪৩:৭৪-৭৮ | ৫ |
| জাহান্নামের উনিশ রক্ষী | সূরা আল-মুদ্দাসসির | ৭৪:২৬-৩১ | ৬ |
| মালাকুল মাওত | সূরা আস-সাজদা | ৩২:১১ | ১ |
| আমল লেখক ফেরেশতা | সূরা আল-ইনফিতার | ৮২:১০-১২ | ৩ |
| আরশ বহনকারীদের দোয়া | সূরা গাফির | ৪০:৭-৯ | ৩ |
| জান্নাতের রক্ষীদের সালাম | সূরা আয-যুমার | ৩৯:৭৩-৭৪ | ২ |
| ফেরেশতা আল্লাহর কন্যা নন | সূরা আয-যুখরুফ | ৪৩:১৯-২০ | ২ |
যাচাই
১কুরআনে নাম ধরে কোন কোন ফেরেশতার কথা এসেছে?
জিবরীল, মীকাঈল (মীকাল), হারূত, মারূত ও মালিক (২:৯৭-৯৮, ২:১০২, ৪৩:৭৭)।
২ফেরেশতারা কী থেকে সৃষ্ট?
নূর (আলো) থেকে (সহিহ মুসলিম ২৯৯৬)।
৩জিবরীল (আ.)-এর কয়টি ডানা ছিল?
ছয়শো (সহিহ বুখারী ৩২৩২)।
৪জাহান্নামের প্রধান রক্ষী ফেরেশতার নাম কী?
মালিক (সূরা আয-যুখরুফ ৪৩:৭৭)।
৫"আযরাঈল" নামটি কি কুরআনে আছে?
না। কুরআনে আছে "মালাকুল মাওত", অর্থাৎ মৃত্যুর ফেরেশতা (৩২:১১)। নামটি কোনো সহিহ হাদিসেও নেই।
৬ইসরাফীল (আ.)-এর নাম কোথায় এসেছে?
সহিহ মুসলিম ৭৭০-এ, তাহাজ্জুদের শুরুর দোয়ায়।
৭কবরের দুই ফেরেশতার নাম কোন হাদিসে এসেছে?
জামে আত-তিরমিযী ১০৭১ (হাসান): মুনকার ও নাকীর।
সূত্র
- আল-কুরআনুল কারীম
আরবি পাঠ: তানযীল (হাফস)। বাংলা অর্থ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, হুবহু। - সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম
বুখারীর নম্বর ফাতহুল বারী অনুযায়ী, মুসলিমের নম্বর মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকী অনুযায়ী। - জামে আত-তিরমিযী
হাদিস ১০৭১ ও ২৪৩১; মান: আলবানী, আহমাদ শাকির ও যুবাইর আলী যাঈ। - তাফসীর ইবনু কাসীর
সূরা আল-বাকারা ২:১০২ (হারূত-মারূত) ও সূরা আস-সাজদা ৩২:১১ (মালাকুল মাওত)-এর ব্যাখ্যা। - ফাতহুল বারী
ইবনু হাজার আল-আসকালানী; শিঙাওয়ালা ফেরেশতার নাম নিয়ে আলোচনা। - সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা ওয়াল মাওযূআ
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী। হারূত-মারূত, রিদওয়ান ও ইসরাফীল বিষয়ক দুর্বল ও জাল বর্ণনা যাচাই।
সাইটের সব সূত্র: সূত্র তালিকা · সূত্র নীতি