ইমাম পরিচিতি · কুতুবে সিত্তাহ
ইমাম ইবনু মাজাহ
ابن ماجه
কাযবীনের হাফিয, সুনানে ইবনু মাজাহর সংকলক
আবু আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ আর-রাবঈ আল-কাযবীনী (ইবনু মাজাহ)
কাযবীনের এই মুহাদ্দিস তাফসীর ও ইতিহাসও লিখেছিলেন। তাঁর সুনানে এমন অনেক হাদিস আছে যা অন্য পাঁচ গ্রন্থে নেই, তবে দুর্বল হাদিসও তুলনায় বেশি; তাই এর প্রতিটি হাদিস মান দেখে নিতে হয়।
- জন্ম
- ২০৯ হিজরি (৮২৪ খ্রি.)
- জন্মস্থান
- কাযবীন · আজকের ইরান
- মৃত্যু
- ২২ রমজান ২৭৩ হিজরি, সোমবার (৮৮৭ খ্রি.)
- কোথায়
- কাযবীন
- বয়স
- ৬৪ বছর
- প্রধান গ্রন্থ
- সুনানে ইবনু মাজাহ سنن ابن ماجه
পরিবার ও শৈশব
"মাজাহ" তাঁর নিজের নাম নয়; প্রসিদ্ধ মতে এটি তাঁর বাবা ইয়াযীদের উপাধি। তাই লেখা হয় "মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু মাজাহ"। "আর-রাবঈ" মানে রাবীআ গোত্রের সাথে মৈত্রী সম্পর্ক, আর "আল-কাযবীনী" মানে কাযবীন শহরের মানুষ, যা আজ ইরানের উত্তরে (সিয়ার, খণ্ড ১৩)। তাঁর ভাই আবু বকরও আলেম ছিলেন, তিনিই তাঁর জানাজা পড়ান।
জ্ঞানের খোঁজে সফর
তিনি নিজে বলেছেন, ২০৯ হিজরিতে জন্ম (তাঁর ছাত্র জাফর ইবনু ইদরীসের বর্ণনা)। হাদিসের খোঁজে রায়, বসরা, কূফা, বাগদাদ, মক্কা, শাম ও মিসরে সফর করেছেন (সিয়ার, খণ্ড ১৩)।
শিক্ষক
- আবু বকর ইবনু আবী শাইবা (তাঁর থেকে সবচেয়ে বেশি বর্ণনা)
- হিশাম ইবনু আম্মার (দামেশক)
- মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনু নুমাইর
- মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার
ছাত্র
- আবুল হাসান আল-কাত্তান (সুনানের প্রধান বর্ণনাকারী)
- জাফর ইবনু ইদরীস
- ইবরাহীম ইবনু দীনার
যেভাবে কাজ করেছেন
- ১ফিকহের অধ্যায়ে সাজানো
শুরুতে একটি বড় অধ্যায়: সুন্নাহ মানার গুরুত্ব, সাহাবিদের মর্যাদা, ঈমান ও তাকদীর। তারপর পবিত্রতা, নামাজ, যাকাত, বিয়ে, বেচাকেনা থেকে যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) পর্যন্ত।
- ২নতুন হাদিস যোগ
এমন বহু হাদিস এনেছেন যা অন্য পাঁচ গ্রন্থে নেই (যাওয়াইদ)। পরে আল-বূসীরী "মিসবাহুয যুজাজাহ" বইয়ে এগুলো আলাদা করে মান যাচাই করেছেন।
- ৩সংক্ষিপ্ত সনদ
অনেক জায়গায় তিনি সংক্ষেপে সনদ দিয়েছেন, মান নিয়ে মন্তব্য খুব কম করেছেন। তাই পাঠককে পরবর্তী মুহাদ্দিসদের মান দেখে নিতে হয়।
তাঁর গ্রন্থ: সুনানে ইবনু মাজাহ
সংখ্যা: মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকীর নম্বরে ৪,৩৪১টি হাদিস। এই সাইটে ইবনু মাজাহর নম্বর এই অনুযায়ী।
ছয় গ্রন্থে জায়গা: ইবনু তাহির আল-মাকদিসী (মৃ. ৫০৭ হি.) প্রথম এটিকে ছয় মূল গ্রন্থের তালিকায় আনেন, কারণ এর বাড়তি হাদিসগুলো কাজে লাগে। অন্য কিছু আলেম এর জায়গায় মুয়াত্তা বা সুনানে দারিমী রেখেছেন।
সতর্কতা: আবু যুরআ নাকি বলেছিলেন এতে দুর্বল হাদিস হয়তো ত্রিশটিও নেই। যাহাবী মন্তব্য করেছেন: কথাটা সত্যি হলে তিনি একেবারে পরিত্যক্ত হাদিস বুঝিয়েছেন; আর দলিল হওয়ার অযোগ্য হাদিস অনেক, হয়তো প্রায় এক হাজার (সিয়ার, খণ্ড ১৩)। তাই এই সাইটে ইবনু মাজাহর হাদিস নেওয়া হয় শুধু আলবানীর রায়ে সহিহ বা হাসান হলে।
- সুনানে ইবনু মাজাহ ১৫০ বিলাল (রা.): "আহাদ, আহাদ"
- সুনানে ইবনু মাজাহ ১৬১২ মৃতের বাড়িতে জমায়েত ও খাবারের আয়োজন
- সুনানে ইবনু মাজাহ ২৪৪৩ শ্রমিকের মজুরি ঘাম শুকানোর আগে
- সুনানে ইবনু মাজাহ ৩৫৪৮ "বের হয়ে যা, আল্লাহর শত্রু!"
- সুনানে ইবনু মাজাহ ৪২৫২ অনুতাপই তাওবা
পরীক্ষা ও শেষ জীবন
২৭৩ হিজরির ২২ রমজান সোমবার তিনি মারা যান, মঙ্গলবার দাফন হয়; ভাই আবু বকর জানাজা পড়ান, বয়স হয়েছিল ৬৪ (জাফর ইবনু ইদরীসের বর্ণনা; সিয়ার, খণ্ড ১৩)। কারো মতে মৃত্যু ২৭৫ হিজরিতে, তবে প্রথম মতটিই বেশি প্রসিদ্ধ।
আলেমদের চোখে
বড় মাপের নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস, সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য, দলিল হিসেবে নেওয়া যায়; হাদিস ও মুখস্থে তাঁর জ্ঞান ছিল।
আল-খলীলী · আল-খলীলী, আল-ইরশাদ; সিয়ার, খণ্ড ১৩
জীবনের সময়রেখা
| হিজরি | খ্রিস্টাব্দ | ঘটনা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| ২০৯ | ৮২৪ | কাযবীনে জন্ম | সিয়ার, খণ্ড ১৩ |
| যৌবনে | — | রায়, ইরাক, হিজায, শাম ও মিসরে সফর | সিয়ার, খণ্ড ১৩ |
| ২৭৩ | ৮৮৭ | কাযবীনে ইন্তেকাল | সিয়ার, খণ্ড ১৩ |
| ৫০৭ (পরে) | ১১১৩ | ইবনু তাহির আল-মাকদিসী এটিকে ছয় গ্রন্থে গণ্য করেন | শুরূতুল আইম্মাতিস সিত্তাহ |
সূত্র
- যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা
খণ্ড ১৩, পৃ. ২৭৭ থেকে - মিযযী, তাহযীবুল কামাল
মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ অধ্যায় - ইবনু তাহির আল-মাকদিসী, শুরূতুল আইম্মাতিস সিত্তাহ
ছয় ইমামের শর্ত - আল-বূসীরী, মিসবাহুয যুজাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ
বাড়তি হাদিসের মান
সিয়ারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী। হাদিসের সংখ্যা সংস্করণ ও গণনার ধরনভেদে কিছুটা আলাদা হয়; কোন সংস্করণের সংখ্যা, তা পাশে লেখা। জন্মসাল বা মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলে দুই মতই দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, সূত্রসহ সংশোধন করা হবে। আরও দেখুন: সূত্র নীতি।