ইমাম পরিচিতি · কুতুবে সিত্তাহ
ইমাম নাসাঈ
أحمد بن شعيب النسائي
বর্ণনাকারী যাচাইয়ে কঠোর ইমাম, সুনানে নাসাঈর সংকলক
আবু আব্দির রহমান আহমাদ ইবনু শুআইব ইবনি আলী আল-খুরাসানী আন-নাসাঈ
পনেরো বছর বয়সে ঘর ছেড়ে শিক্ষকের কাছে চৌদ্দ মাস থাকা এই ইমাম বর্ণনাকারী বাছাইয়ে এত কঠোর ছিলেন যে কেউ কেউ তাঁর শর্তকে বুখারী-মুসলিমের চেয়েও কঠিন বলেছেন।
- জন্ম
- ২১৫ হিজরি (৮৩০ খ্রি.)
- জন্মস্থান
- নাসা (খোরাসান) · আজকের তুর্কমেনিস্তান (আশগাবাতের কাছে)
- মৃত্যু
- ৩০৩ হিজরি (শাবান, কারো মতে সফর) (৯১৫-৯১৬ খ্রি.)
- কোথায়
- মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ: ফিলিস্তিনের রামলা, কারো মতে মক্কা
- বয়স
- প্রায় ৮৮ বছর
- প্রধান গ্রন্থ
- সুনানে নাসাঈ (আল-মুজতাবা / আস-সুনানুস সুগরা) المجتبى
পরিবার ও শৈশব
তিনি খোরাসানের নাসা শহরের মানুষ; শহরটির ধ্বংসাবশেষ আজ তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতের কাছে। নিজের জন্মসাল নিয়ে তিনি বলেছেন: "সম্ভবত আমার জন্ম ২১৫ হিজরিতে" (সিয়ার, খণ্ড ১৪)। জীবনের বড় অংশ তিনি মিসরে কাটিয়েছেন।
শিক্ষা ও জ্ঞানের সফর
পনেরো বছর বয়সে তিনি বাগলানে কুতাইবা ইবনু সাঈদের কাছে যান, এক বছর দুই মাস তাঁর কাছে থাকেন (তাঁর নিজের বর্ণনা; সিয়ার, খণ্ড ১৪)। এরপর খোরাসান, হিজায, ইরাক, জাযীরা ও শামে সফর করে মিসরে স্থায়ী হন। ৩০২ হিজরিতে মিসর ছেড়ে দামেশকে যান।
শিক্ষক
- কুতাইবা ইবনু সাঈদ (চৌদ্দ মাস সাহচর্য)
- ইসহাক ইবনু রাহাওয়াইহ
- হিশাম ইবনু আম্মার
- মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার
- আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী
ছাত্র
- আবু বকর ইবনুস সুন্নী
- আবু জাফর আত-তাহাবী
- আবুল কাসিম আত-তাবারানী
যেভাবে কাজ করেছেন
- ১কঠোর বাছাই
সাদ ইবনু আলী আয-যানজানী বলেছেন: "বর্ণনাকারীর ব্যাপারে আবু আব্দির রহমানের শর্ত বুখারী ও মুসলিমের শর্তের চেয়েও কঠিন" (সিয়ার, খণ্ড ১৪)। এই কথা সব ক্ষেত্রে মানা হয় না, কিন্তু তাঁর সতর্কতা বোঝায়।
- ২বড় থেকে ছোট সংস্করণ
প্রথমে বড় গ্রন্থ "আস-সুনানুল কুবরা" লেখেন। এ থেকে বাছাই করা ছোট সংস্করণ "আল-মুজতাবা", যেটা আজ "সুনানে নাসাঈ" নামে ছয় গ্রন্থের একটি।
- ৩সনদের সূক্ষ্ম পার্থক্য
একই হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় শব্দ বা সনদে পার্থক্য থাকলে পাশাপাশি এনে কোনটা ভুল, তা দেখিয়ে দেন।
- ৪বর্ণনাকারী নিয়ে বই
"কিতাবুদ দুআফা ওয়াল মাতরূকীন" নামে দুর্বল ও পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীদের তালিকাও লিখেছেন।
তাঁর গ্রন্থ: সুনানে নাসাঈ (আল-মুজতাবা / আস-সুনানুস সুগরা)
মুজতাবা কে বাছাই করেছেন: অধিকাংশের মতে ইমাম নাসাঈ নিজে। যাহাবী বলেছেন, এটা তাঁর ছাত্র ইবনুস সুন্নীর বাছাই (সিয়ার, খণ্ড ১৪)। দুই মতই আছে।
সংখ্যা: আবু গুদ্দাহর প্রচলিত নম্বরে প্রায় ৫,৭৬০টি। এই সাইটে নাসাঈর নম্বর প্রচলিত নম্বর অনুযায়ী।
মানের দিক থেকে: বুখারী-মুসলিমের পরে সুনান গ্রন্থগুলোর মধ্যে এতে দুর্বল হাদিস তুলনায় কম। তবু এই সাইটে প্রতিটি হাদিস আলবানীর রায়ে মিলিয়ে নেওয়া হয়।
তাঁর অন্য বই: আস-সুনানুল কুবরা, খাসাইসু আলী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ (দিন-রাতের দোয়া ও আমল)।
- সুনানে আন-নাসাঈ ৬৯৩ বাইতুল মাকদিস নির্মাণের পর সুলাইমান (আ.)-এর তিন দোয়া
- সুনানে আন-নাসাঈ ১৪২০ জুমা দুই রাকাত, পূর্ণাঙ্গ
- সুনানে আন-নাসাঈ ৩১০৪ মায়ের সেবায় লেগে থাকো, জান্নাত তাঁর পায়ের কাছে
- সুনানে আন-নাসাঈ ৩৯৩৯ নামাজে নবীজির চোখের শীতলতা
পরীক্ষা ও শেষ জীবন
৩০২ হিজরিতে তিনি দামেশকে যান। বর্ণিত আছে, সেখানে মুআবিয়া (রা.)-এর ফযীলত নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তাঁর কথায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে মসজিদে তাঁকে আঘাত করে, এরপর তাঁকে বের করে নেওয়া হয়। ইবনু ইউনুস (মিসরের ইতিহাসবিদ) বলেছেন, তিনি ৩০৩ হিজরির সফর মাসে ফিলিস্তিনে মারা যান; দারাকুতনী বলেছেন, তাঁকে মক্কায় নেওয়া হয় এবং সেখানে মারা যান। যাহাবী ইবনু ইউনুসের মতকে বেশি সঠিক বলেছেন (সিয়ার, খণ্ড ১৪)। ঘটনার বিস্তারিত নিয়েও বর্ণনাগুলো আলাদা, তাই খুঁটিনাটি নিশ্চিত নয়।
আলেমদের চোখে
তাঁর যুগে এই বিদ্যায় (হাদিসে) যাঁদের নাম নেওয়া হয়, আবু আব্দির রহমান তাঁদের সবার আগে।
ইমাম দারাকুতনী · সিয়ার, খণ্ড ১৪
হাদিস, এর দোষ-ত্রুটি ও বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে তিনি মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিযীর চেয়েও বেশি দক্ষ ছিলেন।
যাহাবী · সিয়ার, খণ্ড ১৪
জীবনের সময়রেখা
| হিজরি | খ্রিস্টাব্দ | ঘটনা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| ২১৫ | ৮৩০ | নাসায় জন্ম | সিয়ার, খণ্ড ১৪ |
| ২৩০ | ৮৪৪ | বাগলানে কুতাইবার কাছে ১৪ মাস | সিয়ার, খণ্ড ১৪ |
| এরপর | — | হিজায, ইরাক, শাম সফর, পরে মিসরে স্থায়ী | সিয়ার, খণ্ড ১৪ |
| ৩০২ | ৯১৪ | মিসর ছেড়ে দামেশকে | সিয়ার, খণ্ড ১৪ |
| ৩০৩ | ৯১৫ | ইন্তেকাল (রামলা বা মক্কায়, মতভেদ আছে) | সিয়ার, খণ্ড ১৪ |
সূত্র
- যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা
খণ্ড ১৪, পৃ. ১২৫ থেকে - মিযযী, তাহযীবুল কামাল
আহমাদ ইবনু শুআইব অধ্যায় - ইবনু হাজার, তাহযীবুত তাহযীব
আহমাদ ইবনু শুআইব অধ্যায়
সিয়ারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী। হাদিসের সংখ্যা সংস্করণ ও গণনার ধরনভেদে কিছুটা আলাদা হয়; কোন সংস্করণের সংখ্যা, তা পাশে লেখা। জন্মসাল বা মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলে দুই মতই দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, সূত্রসহ সংশোধন করা হবে। আরও দেখুন: সূত্র নীতি।