ইমাম পরিচিতি · কুতুবে সিত্তাহ
ইমাম তিরমিযী
محمد بن عيسى الترمذي
ইমাম বুখারীর ছাত্র, জামে তিরমিযীর সংকলক
আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা ইবনি সাওরা আস-সুলামী আত-তিরমিযী
ইমাম বুখারীর প্রিয় ছাত্র, যাঁর গ্রন্থে প্রতিটি হাদিসের পরে মান বলে দেওয়া আছে, আর কোন সাহাবি ও আলেম কী আমল করতেন তাও লেখা; শেষ জীবনে আল্লাহর ভয়ে কেঁদে কেঁদে দৃষ্টিশক্তি হারান।
- জন্ম
- প্রায় ২০৯ হিজরি (৮২৪ খ্রি.)
- জন্মস্থান
- তিরমিযের বূগ গ্রাম (আমু দরিয়ার তীরে) · আজকের উজবেকিস্তান (তেরমেজ)
- মৃত্যু
- ১৩ রজব ২৭৯ হিজরি (৮৯২ খ্রি.)
- কোথায়
- বূগ, তিরমিয
- বয়স
- প্রায় ৭০ বছর
- প্রধান গ্রন্থ
- জামে আত-তিরমিযী (সুনানে তিরমিযী) الجامع
পরিবার ও শৈশব
তিনি সুলাইম গোত্রের, তিরমিয শহরের কাছে বূগ গ্রামের মানুষ। তিরমিয ছিল আমু দরিয়া নদীর তীরে, আজকের উজবেকিস্তানের তেরমেজ শহর। যাহাবী বলেছেন, তাঁর জন্ম ২১০ হিজরির কাছাকাছি (সিয়ার, খণ্ড ১৩)।
জ্ঞানের খোঁজে সফর
খোরাসান, ইরাক ও হিজাযে সফর করেছেন। তাঁর জীবনের বড় ঘটনা ইমাম বুখারীর ছাত্র হওয়া। হাদিসের দোষ-ত্রুটি (ইলাল) বোঝা তিনি বুখারীর কাছেই শিখেছেন; তাঁর গ্রন্থে বারবার লিখেছেন, "আমি মুহাম্মাদকে (বুখারী) এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম"।
ইমাম বুখারী তাঁকে বলেছিলেন: "তুমি আমার কাছ থেকে যতটা উপকৃত হয়েছ, আমি তোমার কাছ থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি" (তাহযীবুত তাহযীব; সিয়ার, খণ্ড ১৩)।
শিক্ষক
- ইমাম বুখারী (প্রধান শিক্ষক)
- ইমাম মুসলিম
- ইমাম আবু দাউদ
- কুতাইবা ইবনু সাঈদ
- মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (বুনদার)
- হান্নাদ ইবনুস সারী
- আদ-দারিমী
ছাত্র
- আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আল-মাহবূবী (জামের প্রধান বর্ণনাকারী)
- হাইসাম ইবনু কুলাইব আশ-শাশী
- হাম্মাদ ইবনু শাকির
যেভাবে কাজ করেছেন
- ১প্রতিটি হাদিসের পরে মান
হাদিস বলার পর তিনি জানিয়ে দেন: সহিহ, হাসান, হাসান সহিহ, গরীব বা দুর্বল। "হাসান" পরিভাষাকে তিনিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত করেছেন।
- ২"এ বিষয়ে আরও আছে"
"ওয়া ফিল বাব" লিখে জানান, একই বিষয়ে আর কোন কোন সাহাবি থেকে হাদিস আছে। এতে পাঠক বুঝতে পারেন হাদিসটির পক্ষে আর কী আছে।
- ৩আলেমদের আমল
হাদিসের পরে লেখেন, সাহাবি ও পরের ইমামরা (সুফিয়ান সাওরী, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ, ইসহাক) এ বিষয়ে কী মত দিতেন। তাই এটা একসাথে হাদিস ও ফিকহের বই।
- ৪বর্ণনাকারীর দোষ বলা
কোনো বর্ণনাকারী দুর্বল হলে নাম ধরে বলে দেন, আর বইয়ের শেষে "কিতাবুল ইলাল" অংশে নিজের পুরো নিয়ম ব্যাখ্যা করেছেন।
তাঁর গ্রন্থ: জামে আত-তিরমিযী (সুনানে তিরমিযী)
সংখ্যা: আহমাদ শাকির ও সহযোগীদের প্রচলিত নম্বরে ৩,৯৫৬টি। এই সাইটে তিরমিযীর নম্বর এই অনুযায়ী।
নিজের সাক্ষ্য: কিতাবুল ইলালে তিনি লিখেছেন, এই বইয়ের সব হাদিস কোনো না কোনো আলেম আমল করেছেন, শুধু দুটি ছাড়া: ভয় বা বৃষ্টি ছাড়াই মদিনায় দুই নামাজ একসাথে পড়ার হাদিস, আর চতুর্থবার মদ পানকারীকে হত্যার হাদিস।
তাঁর অন্য বই: আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ (নবীজির (ﷺ) চেহারা, পোশাক ও স্বভাবের বর্ণনা), আল-ইলালুল কাবীর।
মানের ব্যাপারে: তিরমিযীর নিজের দেওয়া মান আর আলবানীর মান কখনো আলাদা হয়। এই সাইটে দুটিই বিবেচনায় রেখে আলবানীর রায়ে সহিহ বা হাসান হলে হাদিস নেওয়া হয়।
- জামে আত-তিরমিযী ৪১৫ বারো রাকাত সুন্নতের তালিকা
- জামে আত-তিরমিযী ৪২৭ জোহরের আগে চার, পরে চার রাকাত
- জামে আত-তিরমিযী ৬০৬ টয়লেটে ঢোকার আগে "বিসমিল্লাহ"
- জামে আত-তিরমিযী ৮০৬ ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত: পুরো রাতের সওয়াব
- জামে আত-তিরমিযী ৮৭৭ হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে
পরীক্ষা ও শেষ জীবন
শেষ বয়সে তিনি অন্ধ হয়ে যান। কিছু লোক বলেন তিনি জন্মান্ধ ছিলেন; যাহাবী বলেছেন, সঠিক হলো তিনি বড় বয়সে দৃষ্টি হারিয়েছেন (সিয়ার, খণ্ড ১৩)। উমার ইবনু আল্লাক বলেছেন: "বুখারীর পরে খোরাসানে জ্ঞান, মুখস্থ, পরহেযগারি ও দুনিয়াবিমুখতায় আবু ঈসার মতো কেউ ছিলেন না; তিনি এত কাঁদতেন যে অন্ধ হয়ে যান" (তাহযীবুত তাহযীব; সিয়ার, খণ্ড ১৩)। ২৭৯ হিজরির ১৩ রজব বূগ গ্রামে তিনি মারা যান।
আলেমদের চোখে
তুমি আমার কাছ থেকে যতটা উপকৃত হয়েছ, আমি তোমার কাছ থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি।
ইমাম বুখারী (তিরমিযীকে) · তাহযীবুত তাহযীব; সিয়ার, খণ্ড ১৩
বুখারীর পরে খোরাসানে জ্ঞান, মুখস্থ, পরহেযগারি ও দুনিয়াবিমুখতায় আবু ঈসার মতো কেউ ছিলেন না।
উমার ইবনু আল্লাক · সিয়ার, খণ্ড ১৩
জীবনের সময়রেখা
| হিজরি | খ্রিস্টাব্দ | ঘটনা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| প্রায় ২০৯-২১০ | ৮২৪-৮২৫ | তিরমিযের বূগ গ্রামে জন্ম | সিয়ার, খণ্ড ১৩ |
| যৌবনে | — | খোরাসান, ইরাক ও হিজাযে সফর | সিয়ার, খণ্ড ১৩ |
| ২৫৬-এর আগে | ৮৭০-এর আগে | ইমাম বুখারীর কাছে ইলাল শেখা | জামে তিরমিযী, কিতাবুল ইলাল |
| ২৭৯ | ৮৯২ | বূগে ইন্তেকাল | সিয়ার, খণ্ড ১৩ |
প্রচলিত গল্প: কতটা নিশ্চিত
ইমাম তিরমিযী জন্মান্ধ ছিলেন।
মুহাদ্দিসদের নিয়মে সনদ না মিললে গল্পটি যত সুন্দরই হোক, নিশ্চিত তথ্য হিসেবে লেখা হয় না।
সূত্র
- যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা
খণ্ড ১৩, পৃ. ২৭০ থেকে - ইবনু হাজার, তাহযীবুত তাহযীব
মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা অধ্যায় - তিরমিযী, কিতাবুল ইলাল (জামে তিরমিযীর শেষে)
তাঁর নিজের লেখা পদ্ধতি - মিযযী, তাহযীবুল কামাল
মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা অধ্যায়
সিয়ারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী। হাদিসের সংখ্যা সংস্করণ ও গণনার ধরনভেদে কিছুটা আলাদা হয়; কোন সংস্করণের সংখ্যা, তা পাশে লেখা। জন্মসাল বা মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলে দুই মতই দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, সূত্রসহ সংশোধন করা হবে। আরও দেখুন: সূত্র নীতি।