فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ
কিবলা পরিবর্তন ও রমজানের রোজা: আনুগত্যের দুই পরীক্ষা
মদিনায় এসে ষোলো-সতেরো মাস নবীজি (ﷺ) বায়তুল মাকদিসের দিকে ফিরে নামাজ পড়লেন, কিন্তু মন পড়ে থাকত কাবার দিকে। প্রতিদিন তিনি আকাশের দিকে তাকাতেন। একদিন সেই অপেক্ষার উত্তর এল।
সীরাত · মাদানী যুগ৬২৪ খ্রি. · ২ হিজরি
- কখন
- হিজরতের ১৬/১৭ মাস পর, ২ হিজরি (প্রসিদ্ধ মত রজব বা শাবান); একই বছর শাবানে রমজানের রোজা ফরজ
- কোথায়
- মদিনা: মসজিদে নববী, কুবা ও অন্য মসজিদগুলো
- কারা
- নবীজি (ﷺ) ও সাহাবিরা; মদিনার ইহুদি ও মুনাফিকদের সমালোচনা
- এই গল্পে
- কিবলা বদলের আয়াত থেকে রমজানের প্রথম রোজা পর্যন্ত
কেন পড়বেন: আল্লাহর নির্দেশ এলে সাহাবিরা নামাজের মধ্যেই, রুকু অবস্থায় ঘুরে গেছেন, প্রশ্ন না করে। এই গল্প শেখায় আনুগত্য কাকে বলে; আর রোজা কেন এসেছে: তাকওয়ার জন্য।
গল্প
বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।
- ১
হিজরতের পর ১৬/১৭ মাস
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা
মক্কায় নবীজি (ﷺ) এমনভাবে দাঁড়াতেন, যাতে কাবা আর বায়তুল মাকদিস দুটোই সামনে থাকে। মদিনায় তা আর সম্ভব ছিল না; তিনি বায়তুল মাকদিসের দিকে ফিরে নামাজ পড়তেন। কিন্তু তাঁর মন চাইত, কিবলা হোক ইবরাহীমের (আ.) বানানো কাবা (সহিহ বুখারী ৪০)।
তিনি বারবার আকাশের দিকে তাকাতেন, মুখে কিছু না বলে। আল্লাহ সেই নীরব চাওয়াও দেখছিলেন:
قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ
অবশ্যই আমরা আকাশের দিকে আপনার বারবার তাকানো লক্ষ্য করি। সুতরাং অবশ্যই আমরা আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি মসজিদুল হারামের দিকে চেহারা ফিরান। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের চেহারাসমূহকে এর দিকে ফিরাও এবং নিশ্চয় যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে, এটা তাদের রবের পক্ষ হতে হক। আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ্ গাফেল নন।
সূত্রসহিহ বুখারী ৪০ সহিহসূরা আল-বাকারা ২:১৪৪ কুরআন
নবীজি (ﷺ) মুখে দাবি করেননি, শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন। আল্লাহ মনের না বলা চাওয়াও জানেন।
- ২
২ হিজরি
আসরের নামাজে নতুন কিবলা
আয়াত নাজিল হলো, আর নবীজি (ﷺ) কাবার দিকে ফিরে প্রথম যে পূর্ণ নামাজ পড়লেন, তা আসর। তারপর কী হলো:
নবীজি (ﷺ) মদিনায় এসে প্রথমে নিজের নানার দিকের আত্মীয় আনসারদের কাছে নামলেন। তিনি ষোলো বা সতেরো মাস বায়তুল মাকদিসের দিকে ফিরে নামাজ পড়েছেন, আর তাঁর মনে চাইত, তাঁর কিবলা হোক কাবার দিকে। (কিবলা বদলের পর) তিনি প্রথম যে নামাজ (কাবার দিকে) পড়লেন, তা আসরের নামাজ, তাঁর সাথে কিছু লোকও পড়ল। তাঁদের একজন বের হয়ে এক মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেখানকার লোকেরা তখন রুকুতে। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি এইমাত্র রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে মক্কার দিকে ফিরে নামাজ পড়ে এসেছি। তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন, সেভাবেই ঘুরে কাবার দিকে ফিরে গেলেন।
পরদিন ভোরে কুবায়ও একই দৃশ্য। লোকেরা ফজরের নামাজে, তখন কেউ এসে খবর দিল:
কুবায় মানুষ ফজরের নামাজ পড়ছিল। এমন সময় একজন এসে বলল: আজ রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওপর কুরআন নাজিল হয়েছে, তাঁকে কাবার দিকে মুখ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে; তাই তোমরাও কাবার দিকে ফেরো। তাদের মুখ ছিল শামের (বায়তুল মাকদিসের) দিকে, তারা (নামাজের মধ্যেই) ঘুরে কাবার দিকে ফিরল।
সূত্রসহিহ বুখারী ৪০ সহিহসহিহ বুখারী ৪০৩ সহিহ
রুকু অবস্থায়ও তাঁরা অপেক্ষা করেননি "নামাজ শেষ হোক, তারপর দেখা যাবে"। আল্লাহর নির্দেশ এলে সেই মুহূর্তেই মানা।
- ৩
কিবলা বদলের পর
"কেন তারা কিবলা বদলাল?"
মদিনার ইহুদিরা আগে খুশি ছিল, মুসলিমরা তাদের কিবলার দিকে নামাজ পড়ে। এবার তারা আর মুনাফিকরা প্রশ্ন তুলল (সহিহ বুখারী ৪০)। আল্লাহ আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন:
سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
মানুষের মধ্য হতে নির্বোধরা অচিরেই বলবে যে, এ যাবত তারা যে কেবলা অনুসরণ করে আসছিল তা থেকে কিসে তাদেরকে ফিরালো ? বলুন, ‘পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্রই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের হিদায়াত করেন’।
কিছু মুসলিমের মনে আরেকটা প্রশ্ন জাগল: যাঁরা আগের কিবলায় নামাজ পড়ে মারা গেছেন, তাঁদের নামাজের কী হবে? আল্লাহ জবাব দিলেন: আল্লাহ তোমাদের ঈমান (নামাজ) নষ্ট করবেন না (সূরা আল-বাকারা ২:১৪৩)।
সূত্রসূরা আল-বাকারা ২:১৪২ কুরআনসূরা আল-বাকারা ২:১৪৩ কুরআনসহিহ বুখারী ৪০ সহিহ
পূর্ব-পশ্চিম সবই আল্লাহর। কিবলা কোনো জায়গার পূজা নয়, আনুগত্যের দিক।
- ৪
একই আয়াতে
মধ্যপন্থী উম্মত
কিবলা বদলের এই আয়াতগুলোতেই আল্লাহ মুসলিমদের পরিচয় দিয়েছেন:
وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ۗ وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ ۗ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ
আর এভাবে আমরা তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর স্বাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন আর আপনি এ যাবত যে কিবলা অনুসরণ করছিলেন সেটাকে আমরা এ উদ্দেশ্যে কেবলায় পরিণত করেছিলাম যাতে প্রকাশ করে দিতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে এবং কে পিছনে ফিরে যায় ? আল্লাহ্ যাদেরকে হিদায়াত করেছেন তারা ছাড়া অন্যদের উপর এটা নিশ্চিত কঠিন। আল্লাহ্ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমানকে ব্যর্থ করে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল, পরম দয়ালু।
আর আল্লাহ বলে দিয়েছেন, কিবলা বদল ছিল এক পরীক্ষা: কে রাসূলের অনুসরণ করে আর কে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তা জানার জন্য। আর এই আয়াতেই তিনি বলেছেন, আসল পুণ্য শুধু পূর্ব বা পশ্চিমে মুখ ফেরানো নয়, বরং ঈমান, দান, নামাজ, অঙ্গীকার রক্ষা আর ধৈর্য (সূরা আল-বাকারা ২:১৭৭)।
সূত্রসূরা আল-বাকারা ২:১৪৩ কুরআনসূরা আল-বাকারা ২:১৭৭ কুরআন
কিবলা একটাই, তাই সারা পৃথিবীর মুসলিম এক কাতারে। দিক এক হলে মনও এক হওয়ার কথা।
- ৫
২ হিজরি, শাবান
আশুরা থেকে রমজান
মদিনায় এসে নবীজি (ﷺ) আশুরার রোজা রাখতেন আর রাখতে বলতেন। তারপর একই বছর রমজানের রোজা ফরজ হলো:
জাহিলিয়াতে কুরাইশ আশুরার দিন রোজা রাখত, রাসূলুল্লাহও (ﷺ) রাখতেন। মদিনায় এসে তিনি নিজে রাখলেন আর রাখার নির্দেশ দিলেন। যখন রমজান ফরজ হলো, তিনি আশুরার রোজা (বাধ্যতামূলক হিসেবে) ছেড়ে দিলেন; যার ইচ্ছা রাখবে, যার ইচ্ছা রাখবে না।
আল্লাহ রোজার উদ্দেশ্য স্পষ্ট বলে দিয়েছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে মুমিনগণ ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল , যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পার।
আর বলেছেন, রমজান সেই মাস, যাতে কুরআন নাজিল হয়েছে (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫)। এই বছরের শেষেই প্রথম ঈদুল ফিতর আর সদাকাতুল ফিতরের বিধান এল (সহিহ বুখারী ১৫০৩)। আর এই প্রথম রমজানেই, ১৭ তারিখে, হয়েছিল বদরের যুদ্ধ।
সূত্রসহিহ বুখারী ২০০২ সহিহসূরা আল-বাকারা ২:১৮৩ কুরআনসূরা আল-বাকারা ২:১৮৫ কুরআনসহিহ বুখারী ১৫০৩ সহিহ
প্রথম রমজানে রোজা রেখেই সাহাবিরা বদরে গিয়েছিলেন। রোজা দুর্বলতা নয়, তাকওয়ার শক্তি।
প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।
বর্ণনায় মতভেদ কিবলা বদল হয়েছিল নবীজির (ﷺ) নিজের জামাআতের মাঝখানে, বনু সালিমার মসজিদে (তাই নাম মসজিদে কিবলাতাইন)
ইবনে সাদের একটি বর্ণনায় এমন আছে, কিন্তু সহিহ বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী নবীজি (ﷺ) কাবার দিকে প্রথম যে নামাজ পড়েছিলেন, তা আসর, আর নামাজের মধ্যে ঘুরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল অন্য মসজিদের লোকদের, যাঁদের কাছে খবর পৌঁছেছিল (সহিহ বুখারী ৪০, সহিহ বুখারী ৪০৩)। মসজিদে কিবলাতাইনের নামকরণ নিয়ে সীরাতবিদদের কথা ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবে ধরা উচিত।
ভুল বোঝা কিবলা বদলেছিল ইহুদিদের ঠাট্টার জবাবে
কুরআন বলছে, কিবলা বদল ছিল আল্লাহর নির্দেশ আর এক পরীক্ষা: কে রাসূলের অনুসরণ করে, তা দেখার জন্য (সূরা আল-বাকারা ২:১৪৩)। নবীজির (ﷺ) মন আগে থেকেই কাবার দিকে চাইত (সহিহ বুখারী ৪০)। ইহুদিদের প্রতিক্রিয়া এসেছে পরে।
এই গল্প থেকে আমার জীবনে
গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।
নির্দেশ এলে দেরি নয়
সাহাবিরা রুকু অবস্থাতেই ঘুরে গিয়েছিলেন, নামাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করেননি।
আজকের কাজ: কুরআন বা সহিহ হাদিসের যে নির্দেশ জানেন কিন্তু "পরে করব" বলে রেখে দিয়েছেন, আজ সেটা শুরু করুন।
সহিহ বুখারী ৪০ সহিহসহিহ বুখারী ৪০৩ সহিহ
মনের চাওয়া আল্লাহকে বলা
নবীজি (ﷺ) আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, আর আল্লাহ তাঁর মনের চাওয়া পূরণ করলেন।
আজকের কাজ: আজ তাহাজ্জুদ বা সিজদায় আপনার মনের এমন একটা চাওয়া আল্লাহকে বলুন, যা কাউকে বলেননি।
সূরা আল-বাকারা ২:১৪৪ কুরআন
কিবলামুখী হওয়ার যত্ন
কিবলার দিকে ফেরা নামাজের শর্ত। নতুন জায়গায় গেলে সাহাবিরা আগে কিবলা জেনে নিতেন।
আজকের কাজ: ফোনে কিবলা দেখার উপায় শিখে রাখুন; সফরে বা অফিসে নামাজের জায়গা ঠিক করার সময় কিবলা নিশ্চিত হয়ে নিন।
সূরা আল-বাকারা ২:১৪৪ কুরআন
রোজার আসল লক্ষ্য তাকওয়া
আল্লাহ বলেছেন, রোজা ফরজ করা হয়েছে যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করো।
আজকের কাজ: রমজান না থাকলেও এই সপ্তাহে সোমবার বা বৃহস্পতিবার একটি নফল রোজা রাখুন, আর সেদিন জিহ্বা ও চোখের বিশেষ যত্ন নিন।
সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩ কুরআনসহিহ মুসলিম ১১৬২ সহিহ
আল্লাহর নির্দেশ শুনে সাহাবিরা রুকু অবস্থাতেই কাবার দিকে ঘুরে গিয়েছিলেন। আপনার জীবনে এমন কোন নির্দেশ আছে, যা জেনেও আপনি এখনো "ঘুরে দাঁড়াননি"?
সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
- কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
- সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
- ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
- মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
- দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।
সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।