اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ
হেরা গুহায় প্রথম ওহী: "পড়ো, তোমার রবের নামে"
মক্কার কাছে এক পাহাড়ের ছোট্ট গুহায় একা ইবাদত করছিলেন চল্লিশ বছরের এক মানুষ। এক রাতে এলেন এক ফেরেশতা, বললেন: পড়ো। সেই এক শব্দ দিয়ে শুরু হলো কুরআন, আর বদলে গেল পৃথিবীর ইতিহাস।
সীরাত · মক্কী যুগ৬১০ খ্রি. · বয়স ৪০ · রমজান
- কখন
- নবুয়তের শুরু, আনুমানিক ৬১০ খ্রি., রমজান মাস, এক সোমবার
- কোথায়
- মক্কার কাছে হেরা গুহা (আজ জাবালুন নূর পাহাড়ে)
- কারা
- নবীজি (ﷺ), জিবরীল (আ.), খাদিজা (রা.), ওয়ারাকা ইবনু নাওফাল
- এই গল্পে
- নবুয়তের আগের সত্য স্বপ্ন থেকে ওহীর বিরতি শেষে সূরা মুদ্দাসসির পর্যন্ত
কেন পড়বেন: প্রথম ওহীর দিনে নবীজি (ﷺ) ভয় পেয়েছিলেন, কেঁপেছিলেন, ঘরে ফিরে স্ত্রীর কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন। এই গল্প শেখায়: বড় দায়িত্বের শুরু ভয় দিয়ে হতে পারে, আর সেই সময় পাশে একজন বিশ্বস্ত মানুষ কত বড় নিয়ামত। আর শেখায়, ইসলামের প্রথম শব্দটাই ছিল "পড়ো"।
গল্প
বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।
- ১
নবুয়তের কয়েক মাস আগে
ভোরের আলোর মতো স্বপ্ন
আয়িশা (রা.) বলেন, ওহীর শুরু হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্ন দিয়ে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে বাস্তবে ঘটত।
তারপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি মক্কার কাছে হেরা গুহায় চলে যেতেন, সেখানে কয়েক রাত একটানা ইবাদত করতেন। সাথে খাবার নিয়ে যেতেন; খাবার ফুরোলে খাদিজার (রা.) কাছে ফিরে আসতেন, তিনি আবার খাবার গুছিয়ে দিতেন।
সীরাতের বর্ণনায় আছে, প্রতি বছর রমজান মাসে তিনি এভাবে হেরায় কাটাতেন। গুহাটি ছোট; সেখান থেকে দূরে কাবার দিক দেখা যায়।
সূত্রসহিহ বুখারী ৩ সহিহইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: প্রতি বছর রমজানে হেরায় ইবাদত (ইবনে ইসহাক থেকে) ঐতিহাসিক বর্ণনা
মানুষের ভিড়, মূর্তি আর অন্যায়ের মাঝে থেকেও তিনি নিজের জন্য একটা নির্জন সময় রাখতেন। হৃদয় পরিষ্কার রাখতে সেই সময়টা দরকার।
- ২
রমজান, এক রাত
"আমি তো পড়তে জানি না"
একদিন গুহার ভেতরেই হঠাৎ সত্য এসে পড়ল। ফেরেশতা এসে বললেন: পড়ো। নবীজি (ﷺ) নিজে সেই মুহূর্তের কথা বলেছেন:
(হেরা গুহায়) ফেরেশতা এসে বললেন: পড়ো। তিনি বললেন: আমি পড়তে জানি না। (নবীজি বলেন) তখন তিনি আমাকে ধরে এমন জোরে চাপ দিলেন যে আমার খুব কষ্ট হলো, তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ো। আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। এভাবে তিনবার হলো। তারপর তিনি বললেন: "পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ো, আর তোমার রব মহা দয়ালু।" রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাঁপা হৃদয়ে এই আয়াতগুলো নিয়ে খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ (রা.)-এর কাছে ফিরে এসে বললেন: আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। তাঁরা ঢেকে দিলেন, শেষে তাঁর ভয় কেটে গেল। তিনি খাদিজাকে ঘটনাটি জানিয়ে বললেন: আমি নিজের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছি। খাদিজা (রা.) বললেন: কখনো না! আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, অসহায়ের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বকে উপার্জন করে দেন, অতিথির আপ্যায়ন করেন, আর সত্যের পথে আসা বিপদে মানুষকে সাহায্য করেন।
এই পাঁচ আয়াতই কুরআনের প্রথম নাজিল হওয়া অংশ। এর শেষ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।
কুরআন নাজিল শুরু হয়েছে রমজানে, এক মর্যাদাপূর্ণ রাতে, যা আল্লাহ নিজে বলেছেন (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫, সূরা আল-কদর ৯৭:১)। দিনটি ছিল সোমবার, নবীজি (ﷺ) সোমবারের রোজার কারণ বলতে গিয়ে এ কথা বলেছেন (সহিহ মুসলিম ১১৬২)। তবে রমজানের ঠিক কোন তারিখে, তা নিয়ে সীরাতবিদদের মতভেদ আছে।
সূত্রসহিহ বুখারী ৩ সহিহসূরা আল-আলাক ৯৬:১ কুরআনসূরা আল-বাকারা ২:১৮৫ কুরআনসূরা আল-কদর ৯৭:১ কুরআনসহিহ মুসলিম ১১৬২ সহিহ
যিনি পড়তে জানতেন না, তাঁকে দিয়ে আল্লাহ শুরু করলেন "পড়ো" শব্দে, আর কলমের কথা দিয়ে। জ্ঞান এই দ্বীনের প্রথম দরজা।
- ৩
সেই রাতেই, ঘরে ফেরা
"আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও"
আয়াতগুলো নিয়ে তিনি ফিরে এলেন, বুক তখনো কাঁপছে। খাদিজার (রা.) কাছে ঢুকেই বললেন:
আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।
তাঁকে ঢেকে দেওয়া হলো, যতক্ষণ না ভয় কেটে গেল। তারপর তিনি সব খুলে বললেন, আর বললেন:আমি নিজেকে নিয়ে ভয় পাচ্ছি।
খাদিজা (রা.) কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ করলেন না। বললেন:
কখনো না! আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না।
তারপর গুনে গুনে বললেন কেন: আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, অসহায়ের বোঝা বহন করেন, যার কিছু নেই তাকে উপার্জন করে দেন, অতিথির আপ্যায়ন করেন, আর সত্যের পথে বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করেন।সূত্রসহিহ বুখারী ৩ সহিহ
খাদিজা (রা.) ভয় পাওয়া স্বামীকে সান্ত্বনা দিলেন তাঁর ভালো কাজগুলো মনে করিয়ে দিয়ে। ভালো কাজ শুধু আখিরাতের পুঁজি নয়, দুনিয়ার বিপদেও আল্লাহর সাহায্যের আশা।
- ৪
পরের দিনগুলোতে
ওয়ারাকার সাক্ষ্য
খাদিজা (রা.) তাঁকে নিয়ে গেলেন নিজের চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনু নাওফালের কাছে। ওয়ারাকা জাহিলিয়াতের যুগেই মূর্তিপূজা ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, ইঞ্জিল থেকে লিখতেন; তখন তিনি বৃদ্ধ, চোখে দেখেন না। খাদিজা বললেন: ভাই, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। নবীজি (ﷺ) যা দেখেছেন, সব বললেন। ওয়ারাকা বললেন:
(ওয়ারাকা বললেন:) ইনিই সেই নামূস (ওহীর বাহক ফেরেশতা), যাঁকে মূসার কাছে পাঠানো হয়েছিল। হায়, যদি আমি তখন যুবক থাকতাম! যদি বেঁচে থাকতাম, যখন তোমার কওম তোমাকে বের করে দেবে! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তারা কি আমাকে বের করে দেবে? ওয়ারাকা বললেন: হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছ, এমন কিছু নিয়ে যে-ই এসেছে, তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। যদি তোমার সেই দিন আমি পাই, তোমাকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে সাহায্য করব।
"তারা কি আমাকে বের করে দেবে?" নবীজির (ﷺ) এই অবাক প্রশ্নটা বোঝায়, যে কওমের কাছে তিনি ছিলেন আল-আমীন, তারাই একদিন তাঁকে বের করে দেবে, এটা তিনি কল্পনাও করেননি। এর কিছুদিন পরই ওয়ারাকা মারা যান।
সূত্রসহিহ বুখারী ৬৯৮২ সহিহসহিহ বুখারী ৩ সহিহ
সত্যের পথে চলা মানুষকে বাধা আসবেই, এটা নবীদের সুন্নাহ। বাধা আসা মানে পথ ভুল নয়।
- ৫
ওহীর বিরতি
অপেক্ষার দিনগুলো
ওয়ারাকার মৃত্যুর পর কিছুদিন ওহী বন্ধ রইল। সহিহ বর্ণনায় আছে, এতে নবীজি (ﷺ) খুব দুঃখ পেয়েছিলেন। এই বিরতি কতদিনের ছিল, তা কোনো সহিহ হাদিসে নির্দিষ্ট করে বলা নেই; সীরাতবিদদের মধ্যে কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত ভিন্ন মত আছে।
আলেমরা বলেন, এই অপেক্ষার একটা হিকমত ছিল: প্রথম দিনের ভয় কেটে গিয়ে মনে আবার ওহীর জন্য আকুলতা তৈরি হওয়া, যাতে পরের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য হৃদয় প্রস্তুত থাকে।
সূত্রসহিহ বুখারী ৬৯৮২ সহিহইবনে হাজার, ফাতহুল বারী: ওহীর বিরতির সময়কাল নিয়ে মতামত ঐতিহাসিক বর্ণনা
আল্লাহর নীরবতা মানে আল্লাহর অনুপস্থিতি নয়। কখনো অপেক্ষাই প্রস্তুতি।
- ৬
বিরতির পর
আকাশে সেই ফেরেশতা: "ওঠো, সতর্ক করো"
একদিন তিনি হাঁটছিলেন। হঠাৎ আকাশ থেকে আওয়াজ এল। এরপর কী হলো, তিনি নিজেই বলেছেন:
(নবীজি ওহীর বিরতির কথা বলতে গিয়ে বললেন:) আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটা আওয়াজ শুনলাম। চোখ তুলে দেখি, হেরায় যে ফেরেশতা আমার কাছে এসেছিলেন, তিনি আসমান ও জমিনের মাঝে একটি আসনে বসে আছেন। আমি ভয় পেয়ে গেলাম, ফিরে এসে বললাম: আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। তখন আল্লাহ নাজিল করলেন: "হে চাদর জড়ানো, ওঠো, সতর্ক করো" থেকে "অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো" পর্যন্ত। এরপর ওহী জোরালো হলো আর একটানা আসতে থাকল।
প্রথম ওহী ছিল "পড়ো", নিজের জন্য। এবার নির্দেশ এল অন্যদের কাছে যাওয়ার:
এখান থেকে শুরু হলো দাওয়াতের দায়িত্ব। আর সাথে এল নিজের পবিত্রতা, রবের বড়ত্ব ঘোষণা আর ধৈর্যের নির্দেশ।قُمْ فَأَنذِرْ
উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন,
সূত্রসহিহ বুখারী ৪ সহিহসূরা আল-মুদ্দাসসির ৭৪:১ কুরআনসূরা আল-মুদ্দাসসির ৭৪:২ কুরআন
"ওঠো" দিয়ে দায়িত্ব শুরু। আরাম আর চাদরের ভেতর থেকে দ্বীনের কাজ হয় না।
- ৭
মক্কী যুগের শুরুতে
"আপনার রব আপনাকে ছেড়ে যাননি"
এক সময় নবীজি (ﷺ) অসুস্থ হয়ে দুই-তিন রাত তাহাজ্জুদে উঠতে পারলেন না। এক মহিলা এসে বিদ্রূপ করল। তখন নাজিল হলো সূরা দুহা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ হলেন, দুই-তিন রাত (তাহাজ্জুদে) উঠতে পারলেন না। তখন এক মহিলা এসে বলল: হে মুহাম্মাদ, মনে হয় তোমার শয়তান তোমাকে ছেড়ে গেছে, দুই-তিন রাত তাকে তোমার কাছে আসতে দেখিনি। তখন আল্লাহ নাজিল করলেন: "শপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রাতের যখন তা নিঝুম হয়; আপনার রব আপনাকে ছেড়ে যাননি, অসন্তুষ্টও হননি।"
এর পরের আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাঁকে মনে করিয়ে দিলেন: তুমি এতিম ছিলে, আমি আশ্রয় দিয়েছি; পথ খুঁজছিলে, আমি পথ দেখিয়েছি; অভাবী ছিলে, আমি অভাবমুক্ত করেছি (সূরা আদ-দুহা ৯৩:৬)। সূরা দুহার এই প্রেক্ষাপট প্রথম ওহীর বিরতির সময়ের, নাকি পরের কোনো সময়ের, তা নিয়ে আলেমদের দুই মতই আছে।
সূত্রসহিহ বুখারী ৪৯৫০ সহিহসূরা আদ-দুহা ৯৩:৩ কুরআনসূরা আদ-দুহা ৯৩:৬ কুরআন
যখন মনে হয় দোয়ার কোনো উত্তর আসছে না, সূরা দুহা পড়ুন। আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাকে ছেড়ে দেন না।
প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।
সনদ ছাড়া ওহী বন্ধ থাকায় দুঃখে নবীজি (ﷺ) পাহাড় থেকে লাফ দিতে চেয়েছিলেন
কথাটি সহিহ বুখারীর একটি বর্ণনার শেষে আছে (বুখারী ৬৯৮২), কিন্তু তা আয়িশা (রা.)-এর সংযুক্ত বর্ণনার অংশ নয়। ইমাম যুহরী সেখানে বলেছেন "فيما بلغنا", মানে "আমাদের কাছে খবর পৌঁছেছে", কার কাছ থেকে, তা বলেননি। ইবনে হাজার (ফাতহুল বারী) স্পষ্ট করেছেন, এটা যুহরীর সনদহীন সংযোজন। তাই বুখারীতে থাকলেও এই অংশ সহিহ হাদিস হিসেবে প্রমাণিত নয়; দুঃখ পাওয়ার কথাটুকুই নির্ভরযোগ্য।
দুর্বল জিবরীল সত্যিই ফেরেশতা কি না, তা যাচাই করতে খাদিজা (রা.) মাথার কাপড় সরিয়েছিলেন
বর্ণনাটি ইবনে ইসহাক এনেছেন ইসমাঈল ইবনে আবি হাকীম থেকে, যিনি বলেছেন "খাদিজা থেকে আমাকে বলা হয়েছে", কে বলেছে তার নাম নেই। সনদ বিচ্ছিন্ন, তাই প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। সহিহ বর্ণনায় খাদিজার (রা.) ভূমিকা আরও সুন্দর: তিনি নবীজির (ﷺ) চরিত্র দেখেই তাঁকে বিশ্বাস করেছিলেন (সহিহ বুখারী ৩)।
ভুল ধারণা নবীজি (ﷺ) নবুয়তের আগে লেখাপড়া জানতেন, পূর্বের কিতাব পড়ে কুরআন বানিয়েছেন
কুরআন নিজেই বলে, তিনি এর আগে কোনো কিতাব পড়তেন না, নিজের হাতে লিখতেনও না; তাহলে বাতিলপন্থীরা সন্দেহ করার সুযোগ পেত (সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৪৮)। প্রথম ওহীতেও তিনি বলেছিলেন "আমি পড়তে জানি না" (সহিহ বুখারী ৩)।
এই গল্প থেকে আমার জীবনে
গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।
নির্জনে আল্লাহর সাথে সময়
নবুয়তের আগে নবীজির (ﷺ) কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠেছিল। আল্লাহ তাঁকে পরে বলেছেন, রবের নাম স্মরণ করো আর একাগ্রভাবে তাঁর দিকে মন দাও।
আজকের কাজ: আজ ঘুমানোর আগে বা ফজরের পর দশ মিনিট ফোন দূরে রেখে একা বসে জিকির আর নিজের ভাষায় দোয়া করুন।
সহিহ বুখারী ৩ সহিহসূরা আল-মুযযাম্মিল ৭৩:৮ কুরআন
প্রতিদিন একটু পড়া
ইসলামের প্রথম শব্দ "পড়ো"। আর সেরা মানুষ সে, যে কুরআন শেখে ও শেখায়।
আজকের কাজ: আজ থেকে প্রতিদিন অন্তত এক পৃষ্ঠা কুরআন অর্থসহ পড়ুন; শুরু করুন সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত দিয়ে।
সূরা আল-আলাক ৯৬:১ কুরআনসহিহ বুখারী ৫০২৭ সহিহ
ভয়ের সময় পাশে দাঁড়ানো
খাদিজা (রা.) প্রশ্ন বা দোষারোপ না করে স্বামীকে আগে শান্ত করেছেন, তারপর আশার কথা বলেছেন, তারপর সঠিক মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন।
আজকের কাজ: আপনার স্বামী, স্ত্রী, সন্তান বা বন্ধু ভয় বা দুশ্চিন্তায় থাকলে আজ আগে শুনুন, তারপর তার ভালো গুণগুলো মনে করিয়ে সাহস দিন।
সহিহ বুখারী ৩ সহিহ
ভালো কাজের পুঁজি জমানো
খাদিজা (রা.) বলেছিলেন, যে আত্মীয়তা রক্ষা করে, অসহায়ের বোঝা বয়, অতিথির আপ্যায়ন করে, আল্লাহ তাকে অপমানিত করবেন না।
আজকের কাজ: এই সপ্তাহে তালিকার অন্তত একটি করুন: একজন আত্মীয়ের খোঁজ নিন, বা একজন অভাবী মানুষের একটা প্রয়োজন মিটিয়ে দিন।
সহিহ বুখারী ৩ সহিহ
আল্লাহ ছেড়ে যান না
বিদ্রূপের জবাবে আল্লাহ বলেছেন: তোমার রব তোমাকে ছেড়ে যাননি, অসন্তুষ্টও হননি।
আজকের কাজ: যে দোয়ার উত্তর দেরিতে আসছে বলে মন ভারী, আজ সূরা দুহা অর্থসহ পড়ে সেই দোয়াটা আবার করুন।
সূরা আদ-দুহা ৯৩:৩ কুরআনসহিহ বুখারী ৪৯৫০ সহিহ
ভয়ে কাঁপতে থাকা স্বামীকে খাদিজা (রা.) সান্ত্বনা দিয়েছিলেন তাঁর পাঁচটি ভালো কাজ গুনে। আজ যদি আপনি ভয় পান, আপনার কাছের কেউ কি আপনার এমন পাঁচটি ভালো কাজ গুনে বলতে পারবে?
সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
- কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
- সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
- ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
- মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
- দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।
সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।