وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
প্রথম মুসলিমরা ও প্রকাশ্য দাওয়াত: সাফা পাহাড়ের ডাক
প্রথম যাঁরা ঈমান আনলেন, তাঁরা ছিলেন নবীজির (ﷺ) ঘরের মানুষ আর সবচেয়ে কাছের বন্ধু, যাঁরা তাঁকে সবচেয়ে ভালো চিনতেন। তিন বছর নীরবে কাজ চলল, তারপর একদিন সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি পুরো মক্কাকে ডাকলেন।
সীরাত · মক্কী যুগ৬১০ - ৬১৩ খ্রি. · নবুয়তের ১ম থেকে ৩য় বছর
- কখন
- নবুয়তের প্রথম তিন বছর গোপনে, তারপর প্রকাশ্যে (আনুমানিক ৬১৩ খ্রি.)
- কোথায়
- মক্কা: নবীজির (ﷺ) ঘর, দারুল আরকাম, সাফা পাহাড়
- প্রথম মুসলিম
- খাদিজা, আলী, যায়দ ইবনু হারিসা, আবু বকর (রা.)
- এই গল্পে
- প্রথম ঈমান আনা থেকে আত্মীয়দের প্রকাশ্যে ডাকা পর্যন্ত
কেন পড়বেন: দাওয়াতের শুরু মঞ্চ থেকে নয়, ঘর থেকে; আর তার প্রথম পুঁজি ছিল চল্লিশ বছরের সত্যবাদিতা। এই গল্প দেখায়, যারা আমাদের সবচেয়ে কাছ থেকে দেখে, তারা আমাদের কথা বিশ্বাস করবে কি না, তা নির্ভর করে আমাদের চরিত্রের উপর।
গল্প
বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।
- ১
নবুয়তের প্রথম দিনগুলো
ঘরের ভেতর থেকে শুরু
সবার আগে ঈমান আনলেন খাদিজা (রা.), যিনি প্রথম ওহীর রাতেই পাশে ছিলেন। তারপর ঘরেরই আরও দুজন: চাচাতো ভাই আলী ইবনু আবি তালিব (রা.), তখন দশ বছরের মতো বয়সের কিশোর, যিনি নবীজির (ﷺ) কাছেই বড় হচ্ছিলেন; আর যায়দ ইবনু হারিসা (রা.), যাঁকে তিনি মুক্ত করে নিজের ছেলের মতো রেখেছিলেন।
ঘরের বাইরে প্রথম ঈমান আনলেন সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবু বকর (রা.)। ইবনে কাসীর আলেমদের মত এভাবে মিলিয়েছেন: নারীদের মধ্যে প্রথম খাদিজা, শিশুদের মধ্যে আলী, মুক্ত দাসদের মধ্যে যায়দ, আর স্বাধীন পুরুষদের মধ্যে আবু বকর।
সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: প্রথম যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন ঐতিহাসিক বর্ণনাইবনে কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: প্রথম মুসলিম নিয়ে মতগুলোর সমন্বয় ঐতিহাসিক বর্ণনা
যাঁরা তাঁকে ঘরের ভেতর থেকে সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরাই সবার আগে বিশ্বাস করেছেন। এর চেয়ে বড় চরিত্র-সনদ আর হয় না।
- ২
প্রথম বছর
"আবু বকর বলল: সত্য বলেছেন"
আবু বকর (রা.) দ্বিধা করেননি। বহু বছর পরে এক ঘটনায় নবীজি (ﷺ) সেই দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন:
إِنَّ اللَّهَ بَعَثَنِي إِلَيْكُمْ فَقُلْتُمْ كَذَبْتَ. وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ صَدَقَ. وَوَاسَانِي بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، فَهَلْ أَنْتُمْ تَارِكُو لِي صَاحِبِي
(নবীজি বললেন:) আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে পাঠালেন, তোমরা বললে: মিথ্যা বলছ। আর আবু বকর বলল: সত্য বলেছেন। সে নিজের জান ও মাল দিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। তোমরা কি আমার এই সাথীকে আমার জন্য ছেড়ে দেবে না?
আবু বকর (রা.) শুধু নিজে ঈমান আনেননি, অন্যদেরও ডেকেছেন। সীরাতের বর্ণনায় আছে, তাঁর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন উসমান ইবনু আফফান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আবদুর রহমান ইবনু আওফ, সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস ও তালহা ইবনু উবাইদিল্লাহ (রা.)। তবু শুরুর দিনগুলোতে মুসলিম ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন:
رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا مَعَهُ إِلاَّ خَمْسَةُ أَعْبُدٍ وَامْرَأَتَانِ، وَأَبُو بَكْرٍ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমন সময় দেখেছি, যখন তাঁর সাথে ছিল কেবল পাঁচজন দাস, দুজন নারী আর আবু বকর।
সূত্রসহিহ বুখারী ৩৬৬১ সহিহসহিহ বুখারী ৩৮৫৭ সহিহইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: আবু বকরের (রা.) দাওয়াতে যাঁরা মুসলিম হন ঐতিহাসিক বর্ণনা
একজন মানুষের ঈমান আরও পাঁচজনের ঈমানের দরজা খুলে দিল। আপনার একটি ভালো উদাহরণও কারও হেদায়াতের কারণ হতে পারে।
- ৩
নবুয়তের ১ম থেকে ৩য় বছর
নীরবে তিন বছর
প্রথম তিন বছর দাওয়াত চলেছে গোপনে, বিশ্বস্ত মানুষদের মধ্যে, একজন একজন করে। মুসলিমরা মক্কার উপত্যকায় লুকিয়ে নামাজ পড়তেন, যাতে কুরাইশের চোখে না পড়েন।
পরে সাফা পাহাড়ের কাছে আরকাম ইবনু আবিল আরকাম (রা.)-এর ঘর, "দারুল আরকাম", হয়ে ওঠে মুসলিমদের গোপন মিলনকেন্দ্র। সেখানে নবীজি (ﷺ) সাহাবিদের কুরআন শেখাতেন, তাঁদের ঈমান মজবুত করতেন।
সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: গোপন দাওয়াতের তিন বছর ও উপত্যকায় নামাজ ঐতিহাসিক বর্ণনাইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা: দারুল আরকাম ঐতিহাসিক বর্ণনা
শুরুতে সংখ্যা নয়, ভিত্তি। কয়েকজন মজবুত মানুষ তৈরি হলে বড় ঝড়ও সামলানো যায়।
- ৪
নবুয়তের ৩য় বছর
"প্রকাশ্যে ঘোষণা করো"
তারপর নির্দেশ এল নীরবতা ভাঙার। প্রথমে নিজের আত্মীয়দের দিয়ে:
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
আর আপনার নিকটস্থ জ্ঞাতি-গোষ্ঠীকে সতর্ক করুন।
আর তারপর সবার সামনে, মুশরিকদের পরোয়া না করে:
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ
অতএব আপনি যে বিষয়ে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছেন তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।
সূত্রসূরা আশ-শুআরা ২৬:২১৪ কুরআনসূরা আল-হিজর ১৫:৯৪ কুরআন
সময় হলে সত্য প্রকাশ্যে বলতে হয়। হিকমত মানে চিরদিন চুপ থাকা নয়।
- ৫
প্রকাশ্য দাওয়াতের প্রথম দিন
সাফা পাহাড়ে: "আমি তোমাদের সতর্ককারী"
নবীজি (ﷺ) সাফা পাহাড়ে উঠলেন। সে যুগে বিপদের খবর দিতে উঁচু জায়গায় উঠে ডাকা হতো। তিনি গোত্রগুলোকে নাম ধরে ডাকলেন:
যখন নাযিল হলো "আর তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো", নবী (ﷺ) সাফা পাহাড়ে উঠে কুরাইশের গোত্রগুলোকে নাম ধরে ডাকতে লাগলেন: হে বনু ফিহর, হে বনু আদী! সবাই জড়ো হলো; যে নিজে আসতে পারল না, সে লোক পাঠাল কী হয়েছে দেখতে। আবু লাহাব ও কুরাইশরা এল। তিনি বললেন: আমি যদি বলি, উপত্যকায় একদল অশ্বারোহী তোমাদের উপর হামলা করতে আসছে, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা বলল: হ্যাঁ, আমরা আপনাকে কখনো মিথ্যা বলতে দেখিনি। তিনি বললেন: তাহলে শোনো, আমি তোমাদের সামনে আসা এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি।
সবাই এক বাক্যে বলেছিল: আমরা আপনাকে কখনো মিথ্যা বলতে দেখিনি। কিন্তু সতর্কবাণী শোনার পর তাঁরই চাচা আবু লাহাব বলে উঠল: সারা দিন তোমার ধ্বংস হোক, এজন্যই কি আমাদের জড়ো করেছ? তখন নাজিল হলো:
تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দু‘হাত এবং ধ্বংস হয়েছে সে নিজেও।
সূত্রসহিহ বুখারী ৪৭৭০ সহিহসূরা আল-মাসাদ ১১১:১ কুরআন
চল্লিশ বছরের সত্যবাদিতা ছিল তাঁর প্রথম দলিল। যারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে পারেনি, তারা শুধু অহংকারে সত্য মানেনি।
- ৬
একই সময়ে
"ফাতিমা, নিজেকে আগুন থেকে বাঁচাও"
আত্মীয়দের সতর্ক করার আয়াত নাজিল হলে তিনি আরও স্পষ্ট করে বললেন, আল্লাহর কাছে কারও বংশ কোনো কাজে আসবে না, এমনকি নবীর মেয়েরও না:
(যখন "তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো" নাজিল হলো, নবীজি দাঁড়িয়ে বললেন:) হে কুরাইশ, নিজেদের (আল্লাহর আযাব থেকে) কিনে নাও; আল্লাহর কাছে আমি তোমাদের কোনো কাজে আসব না। হে বনু আবদে মানাফ, আল্লাহর কাছে আমি তোমাদের কোনো কাজে আসব না। হে আব্বাস ইবনু আবদিল মুত্তালিব, আমি আল্লাহর কাছে তোমার কোনো কাজে আসব না। হে আল্লাহর রাসূলের ফুফু সাফিয়্যা, আমি আল্লাহর কাছে তোমার কোনো কাজে আসব না। হে মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতিমা, আমার সম্পদ থেকে যা খুশি চেয়ে নাও; কিন্তু আল্লাহর কাছে আমি তোমার কোনো কাজে আসব না।
নিজের ফুফু, চাচা, এমনকি প্রিয় মেয়ের নাম ধরে তিনি বললেন: দুনিয়ার সম্পদ চাইলে আমি দিতে পারি, কিন্তু আল্লাহর কাছে বাঁচাবে শুধু নিজের ঈমান আর আমল।
সূত্রসহিহ বুখারী ৪৭৭১ সহিহসূরা আশ-শুআরা ২৬:২১৪ কুরআন
জান্নাত বংশ দিয়ে কেনা যায় না। নবীর মেয়েকেও আমল করতে বলা হয়েছে, আমাদের তো আরও বেশি।
- ৭
প্রকাশ্য দাওয়াতের পর
আল-আমীন থেকে "পাগল", "জাদুকর"
যে মানুষটিকে মক্কা আল-আমীন বলে ডাকত, প্রকাশ্য দাওয়াতের পর তারাই তাঁকে কবি, জাদুকর, গণক আর পাগল বলতে শুরু করল। আল্লাহ এর জবাব দিয়েছেন:
فَذَكِّرْ فَمَا أَنتَ بِنِعْمَتِ رَبِّكَ بِكَاهِنٍ وَلَا مَجْنُونٍ
অতএব আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ, আপনার রবের অনুগ্রহে আপনি গণক নন, উন্মাদও নন।
কুরাইশ নেতারা চাচা আবু তালিবের কাছে বারবার গিয়ে দাবি করল, হয় ভাতিজাকে থামাও, নয়তো আমাদের হাতে ছেড়ে দাও। আবু তালিব নিজে ইসলাম গ্রহণ না করলেও আমৃত্যু ভাতিজাকে আশ্রয় দিয়ে গেছেন।
সূত্রসূরা আত-তূর ৫২:২৯ কুরআনইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: কুরাইশ প্রতিনিধিদের আবু তালিবের কাছে যাওয়া ঐতিহাসিক বর্ণনা
সত্য বললে মানুষের দেওয়া উপাধি বদলে যেতে পারে। আল্লাহর কাছে আপনি কী, সেটাই আসল।
প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।
দুর্বল "চাচা, ওরা আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চাঁদ এনে দিলেও আমি এই কাজ ছাড়ব না"
কথাটি খুব প্রসিদ্ধ, কিন্তু ইবনে ইসহাক এটা এনেছেন ইয়াকুব ইবনে উতবা থেকে, যিনি ঘটনার সময় ছিলেন না; মাঝের বর্ণনাকারী অজ্ঞাত। আলবানী (সিলসিলা দঈফা) একে দুর্বল বলেছেন। দাওয়াতে নবীজির (ﷺ) অবিচলতা প্রমাণে এর দরকারও নেই; সহিহ হাদিস আর কুরআনেই তা স্পষ্ট (সূরা আল-হিজর ১৫:৯৪)।
খুবই দুর্বল আত্মীয়দের ভোজসভায় নবীজি (ﷺ) আলীকে (রা.) নিজের ভাই, ওসি ও খলিফা ঘোষণা করেন
তাবারী এটা এনেছেন আবদুল গাফফার ইবনুল কাসিম (আবু মারইয়াম) এর সূত্রে। ইবনে কাসীর (তাফসীর, সূরা শুআরা ২১৪) বলেছেন, এই বিবরণ শুধু তিনিই বর্ণনা করেছেন, আর তিনি পরিত্যক্ত; আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ তাঁর বিরুদ্ধে হাদিস বানানোর অভিযোগ করেছেন। সহিহ বর্ণনায় আছে শুধু আত্মীয়দের ডেকে সতর্ক করা (সহিহ বুখারী ৪৭৭১)।
ভুল বোঝা প্রথম মুসলিম কে, এ নিয়ে তর্ক করে একজন সাহাবিকে অন্যজনের চেয়ে খাটো করা
বর্ণনাগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই: নারীদের মধ্যে খাদিজা, শিশুদের মধ্যে আলী, মুক্ত দাসদের মধ্যে যায়দ, স্বাধীন পুরুষদের মধ্যে আবু বকর (রা.)। এঁদের সবাই প্রথম সারির, সবাই আল্লাহর প্রিয়।
এই গল্প থেকে আমার জীবনে
গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।
দাওয়াত শুরু ঘর থেকে
আল্লাহ প্রথমে নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করতে বলেছেন, আর বলেছেন নিজেকে ও পরিবারকে আগুন থেকে বাঁচাতে।
আজকের কাজ: আজ পরিবারের একজনকে ভালোবাসার সাথে, ধমক ছাড়া, নামাজ বা একটি সুন্নাহর কথা মনে করিয়ে দিন।
সূরা আশ-শুআরা ২৬:২১৪ কুরআনসূরা আত-তাহরীম ৬৬:৬ কুরআন
হক শুনলে দেরি না করা
সবাই যখন বলল মিথ্যা, আবু বকর (রা.) বললেন: সত্য বলেছেন। তিনি হক মানতে দেরি করেননি।
আজকের কাজ: কুরআন বা সহিহ হাদিসের কোনো কথা জানার পর যেটা এখনো মানছেন না, সেটা আজ থেকেই শুরু করুন।
সহিহ বুখারী ৩৬৬১ সহিহ
বংশ নয়, আমল
নবীজি (ﷺ) নিজের মেয়েকেও বলেছেন, আল্লাহর কাছে আমি তোমার কোনো কাজে আসব না। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।
আজকের কাজ: আজ রাতে পাঁচ মিনিট নিজের আমলের হিসাব নিন: "কেউ আমাকে বাঁচিয়ে দেবে" এমন কোনো ভরসায় কি আমল ঢিলা করছি?
সহিহ বুখারী ৪৭৭১ সহিহসূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৩ কুরআন
সত্যবাদিতার সুনাম
সাফা পাহাড়ে কুরাইশের মুখেই সাক্ষ্য: আমরা কখনো আপনাকে মিথ্যা বলতে দেখিনি। আল্লাহ বলেছেন, সত্যবাদীদের সাথে থাকো।
আজকের কাজ: আজ একটা ছোট মিথ্যাও বলবেন না, মজা করে, ব্যবসায় বা বাচ্চাকে ভোলাতেও না।
সহিহ বুখারী ৪৭৭০ সহিহসূরা আত-তাওবা ৯:১১৯ কুরআন
হিকমতের সাথে ধাপে ধাপে
প্রথম তিন বছর দাওয়াত চলেছে নীরবে, মানুষ বুঝে। আল্লাহ বলেছেন, হিকমত আর সুন্দর উপদেশ দিয়ে ডাকো।
আজকের কাজ: কাউকে দ্বীনের কথা বলার আগে তার অবস্থা বুঝুন; আজ একজনকে তর্ক নয়, সুন্দর একটা কথা বা ভালো ব্যবহার দিয়ে কাছে টানুন।
সূরা আন-নাহল ১৬:১২৫ কুরআন
সাফা পাহাড়ে নবীজির (ﷺ) প্রথম পুঁজি ছিল চল্লিশ বছরের সত্যবাদিতা। কাল যদি আপনি পরিচিতদের সামনে দাঁড়িয়ে একটা সত্য কথা বলেন, তারা কি চোখ বন্ধ করে আপনার কথা বিশ্বাস করবে?
সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
- কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
- সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
- ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
- মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
- দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।
সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।