وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ
দুঃখের বছর: খাদিজা (রা.) ও আবু তালিবের বিদায়
একই বছরে, কয়েক দিনের ব্যবধানে, নবীজি (ﷺ) হারালেন জীবনের দুই সবচেয়ে বড় আশ্রয়। একজন বাইরের ঢাল, একজন ঘরের প্রশান্তি। এরপর মক্কা তাঁর জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠল।
সীরাত · মক্কী যুগ৬১৯ খ্রি. · নবুয়তের ১০ম বছর · বয়স প্রায় ৫০
- কখন
- নবুয়তের ১০ম বছর, হিজরতের প্রায় তিন বছর আগে (আনুমানিক ৬১৯ খ্রি.)
- কোথায়
- মক্কা
- কারা
- আবু তালিব (বয়স আশির বেশি), খাদিজা (রা.) (বয়স প্রায় ৬৫)
- এই গল্পে
- দুজনের ইন্তেকাল আর এর পরে মক্কায় নবীজির (ﷺ) অবস্থা
কেন পড়বেন: প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নবীজিও (ﷺ) পেয়েছেন, আর তা চেপে রাখেননি, স্মরণ করেছেন সারাজীবন। এই গল্প শেখায়: হেদায়াত আল্লাহর হাতে, ভালোবাসার মানুষকেও আমরা জোর করে জান্নাতে নিতে পারি না; আর যে সঙ্গী কঠিন দিনে পাশে থাকে, তার কদর মৃত্যুর পরও শেষ হয় না।
গল্প
বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।
- ১
নবুয়তের ১০ম বছর
অবরোধের পর ক্লান্ত দুটি মানুষ
তিন বছরের অবরোধ সবে শেষ হয়েছে। এর ধকল সবচেয়ে বেশি পড়েছিল বয়স্কদের উপর। আবু তালিবের বয়স তখন আশির বেশি, খাদিজার (রা.) প্রায় পঁয়ষট্টি। সীরাতের বর্ণনায় আছে, অবরোধ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন, আর কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মারা যান।
কে আগে মারা গেছেন, তা নিয়ে সীরাতবিদদের মতভেদ আছে। উরওয়া (রহ.) বলেছেন, খাদিজা (রা.) মারা যান নবীজির (ﷺ) মদিনায় হিজরতের তিন বছর আগে।
সূত্রইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা: আবু তালিব ও খাদিজার (রা.) মৃত্যুর সময় ও বয়স ঐতিহাসিক বর্ণনাসহিহ বুখারী ৩৮৯৬ (উরওয়া রহ.-এর বক্তব্য, সহিহ সনদে): হিজরতের তিন বছর আগে খাদিজার (রা.) ইন্তেকাল ঐতিহাসিক বর্ণনা
যাঁরা সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন, আল্লাহ তাঁদের সেই কঠিন সময় পার করিয়ে তারপর নিজের কাছে নিলেন।
- ২
আবু তালিবের মৃত্যুশয্যা
"চাচা, একবার বলুন"
যে চাচা চল্লিশ বছর ধরে ভাতিজাকে আগলে রেখেছেন, তাঁর শেষ মুহূর্তে নবীজি (ﷺ) পাশে গিয়ে বসলেন। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই বসে ছিল আবু জাহল:
আবু তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে এলে নবীজি (ﷺ) তাঁর কাছে গেলেন, সেখানে আবু জাহলও ছিল। তিনি বললেন: চাচা, বলুন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, একটি কথা, যা দিয়ে আমি আল্লাহর কাছে আপনার পক্ষে দলিল দিতে পারব। আবু জাহল আর আবদুল্লাহ ইবনু আবি উমাইয়া বলল: আবু তালিব, তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ছেড়ে দেবে? তারা কথা বলতেই থাকল, শেষে তাঁর শেষ কথা হলো: আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর। নবীজি (ﷺ) বললেন: যতক্ষণ নিষেধ না করা হয়, আমি আপনার জন্য ক্ষমা চাইতেই থাকব। তখন নাজিল হলো: "নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় মুশরিকদের জন্য ক্ষমা চাওয়া, যদিও তারা আত্মীয় হয়…", আর নাজিল হলো: "তুমি যাকে ভালোবাসো, তাকে হেদায়াত দিতে পারো না।"
নবীজির (ﷺ) সব চেষ্টা, সব ভালোবাসা সত্ত্বেও শেষ কথাটি আবু তালিব বললেন না। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে মনে করিয়ে দিলেন:
إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَـٰكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ ۚ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
আপনি যাকে ভালবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না। বরং আল্লাহ্ই যাকে ইচ্ছে সৎপথে আনয়ন করেন এবং সৎপথ অনুসারীদের সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।
সূত্রসহিহ বুখারী ৩৮৮৪ সহিহসূরা আল-কাসাস ২৮:৫৬ কুরআনসূরা আত-তাওবা ৯:১১৩ কুরআন
শেষ মুহূর্তে মানুষের পাশে কারা বসে থাকে, তা কত গুরুত্বপূর্ণ! খারাপ সঙ্গী মৃত্যুশয্যায়ও মানুষকে আল্লাহ থেকে আটকে রাখে।
- ৩
পরবর্তী সময়ে
যে উপকার ভোলা হয়নি
আবু তালিবের ঋণ নবীজি (ﷺ) কখনো ভোলেননি। চাচা আব্বাস (রা.) একবার জিজ্ঞেস করলেন:
مَا أَغْنَيْتَ عَنْ عَمِّكَ فَإِنَّهُ كَانَ يَحُوطُكَ وَيَغْضَبُ لَكَ. قَالَ " هُوَ فِي ضَحْضَاحٍ مِنْ نَارٍ، وَلَوْلاَ أَنَا لَكَانَ فِي الدَّرَكِ الأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ
(আব্বাস) নবীজিকে (ﷺ) বললেন: আপনি আপনার চাচার কী উপকার করতে পারলেন? তিনি তো আপনাকে আগলে রাখতেন, আপনার জন্য রাগ করতেন। তিনি বললেন: তিনি আগুনের অগভীর অংশে আছেন; আমি না হলে তিনি জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকতেন।
নবীজির (ﷺ) সুপারিশে তাঁর শাস্তি হালকা হবে, কিন্তু ঈমান ছাড়া মুক্তি হবে না। কাউকে ভালোবাসা আর তার জন্য দোয়া করা এক জিনিস; আল্লাহর ফয়সালা আরেক।
সূত্রসহিহ বুখারী ৩৮৮৩ সহিহ
ভালো আচরণ আল্লাহর কাছে বৃথা যায় না, কিন্তু চূড়ান্ত মুক্তির চাবি ঈমান।
- ৪
রমজান, নবুয়তের ১০ম বছর (প্রসিদ্ধ মত)
খাদিজার (রা.) বিদায়
এরপর চলে গেলেন খাদিজা (রা.), যিনি প্রথম ঈমান এনেছিলেন, প্রথম ওহীর রাতে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, অবরোধে নিজের সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। সীরাতের বর্ণনায় আছে, তাঁকে মক্কার হাজূন এলাকায় দাফন করা হয়, নবীজি (ﷺ) নিজে কবরে নেমেছিলেন।
তাঁর জীবদ্দশায় আল্লাহ তাঁকে সালাম পাঠিয়েছিলেন, আর জান্নাতের এক ঘরের সুসংবাদ দিয়েছিলেন:
জিবরীল (আ.) নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এই যে খাদিজা আসছেন, তাঁর সাথে একটি পাত্রে তরকারি বা খাবার বা পানীয় আছে। তিনি আপনার কাছে এলে তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে আর আমার পক্ষ থেকে সালাম দেবেন, আর তাঁকে জান্নাতে ফাঁপা মুক্তার একটি ঘরের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোনো হইচই নেই, কোনো ক্লান্তিও নেই।
আর নবীজি (ﷺ) বলেছেন:
خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ ابْنَةُ عِمْرَانَ، وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ
(সে যুগের) সেরা নারী মারইয়াম বিনতু ইমরান, আর (এই উম্মতের) সেরা নারী খাদিজা।
সূত্রইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা: খাদিজার (রা.) মৃত্যু ও দাফন ঐতিহাসিক বর্ণনাসহিহ বুখারী ৩৮২০ সহিহসহিহ বুখারী ৩৪৩২ সহিহ
যে নারী সারাজীবন অন্যদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন, আল্লাহ তাঁকে দিলেন এমন ঘর, যেখানে কোনো ক্লান্তি নেই, কোনো কোলাহল নেই।
- ৫
বাকি জীবন জুড়ে
যাঁকে ভোলা যায় না
খাদিজার (রা.) মৃত্যুর পর নবীজি (ﷺ) আরও বিয়ে করেছেন, কিন্তু তাঁকে কখনো ভোলেননি। আয়িশা (রা.) বলেন:
নবীজির (ﷺ) কোনো স্ত্রীর প্রতি আমার এত ঈর্ষা হয়নি, যত হয়েছে খাদিজার প্রতি; অথচ আমি তাঁকে দেখিনি। নবীজি (ﷺ) তাঁর কথা খুব বেশি বলতেন। কখনো ছাগল জবাই করে টুকরো করে খাদিজার বান্ধবীদের কাছে পাঠাতেন। আমি কখনো বলতাম: যেন দুনিয়ায় খাদিজা ছাড়া আর কোনো নারী নেই! তিনি বলতেন: সে এমন ছিল, এমন ছিল; আর তার থেকেই আমার সন্তান হয়েছে।
একবার আয়িশা (রা.) কিছু বলে ফেললে নবীজি (ﷺ) বলেছিলেন:
আমাকে তার ভালোবাসা দান করা হয়েছে
(সহিহ মুসলিম ২৪৩৫)। আর খাদিজা (রা.) জীবিত থাকতে তিনি আর কোনো বিয়ে করেননি (সহিহ মুসলিম ২৪৩৬)।সূত্রসহিহ বুখারী ৩৮১৮ সহিহসহিহ মুসলিম ২৪৩৫ সহিহসহিহ মুসলিম ২৪৩৬ সহিহ
ভালোবাসা প্রকাশ করতে লজ্জা নেই। নবীজি (ﷺ) মৃত স্ত্রীর বান্ধবীদের পর্যন্ত উপহার পাঠাতেন।
- ৬
দুজনের মৃত্যুর পর
খালি ঘর, কঠিন শহর
আবু তালিবের মৃত্যুর পর কুরাইশ এমন সাহস দেখাতে লাগল, যা আগে পারেনি। সীরাতের বর্ণনায় আছে, এক নির্বোধ লোক নবীজির (ﷺ) মাথায় ধুলো ছুড়ে দিল। তিনি ঘরে ফিরলে তাঁর এক মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাথা ধুয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন:
কেঁদো না মা, আল্লাহ তোমার বাবাকে রক্ষা করবেন।
পরের যুগের সীরাত লেখকরা এই বছরটিকে বলেছেন "আমুল হুযন", দুঃখের বছর। এই কঠিন সময়েই নবীজি (ﷺ) নতুন আশ্রয়ের খোঁজে রওনা দিলেন তায়েফের পথে।
সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: আবু তালিবের মৃত্যুর পর কুরাইশের আচরণ ঐতিহাসিক বর্ণনা
দুঃখের বছরের পরেই এল তায়েফ, আর তারপর মিরাজ। আল্লাহ কষ্টের পরে সম্মান দেন।
প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।
দুর্বল মৃত্যুর আগে আবু তালিব চুপিচুপি কালিমা পড়েছিলেন, আব্বাস কান পেতে শুনেছিলেন
ইবনে ইসহাক বর্ণনাটি এনেছেন এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সূত্রে ("আমার পরিবারের একজন বলেছেন"), তাই সনদ দুর্বল। আর এটা সহিহ হাদিসের বিরোধী: সেখানে স্পষ্ট আছে, তাঁর শেষ কথা ছিল "আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর" (সহিহ বুখারী ৩৮৮৪), এবং পরে আব্বাস (রা.) নিজেই তাঁর পরিণতি জিজ্ঞেস করেছেন (সহিহ বুখারী ৩৮৮৩)।
ভুল বোঝা "দুঃখের বছর" নামটি নবীজি (ﷺ) নিজে দিয়েছেন
কোনো সহিহ হাদিসে এই নাম নেই। পরের যুগের সীরাত লেখকরা বছরটির কষ্ট বোঝাতে এই নাম ব্যবহার করেছেন। নামটি অর্থে ঠিক, কিন্তু একে হাদিস বলা ঠিক নয়।
এই গল্প থেকে আমার জীবনে
গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।
জীবিত থাকতেই কদর
নবীজি (ﷺ) খাদিজাকে (রা.) এত ভালোবাসতেন যে মৃত্যুর পরও তাঁর বান্ধবীদের উপহার পাঠাতেন।
আজকের কাজ: আজ আপনার স্বামী বা স্ত্রীকে তার একটি নির্দিষ্ট ভালো গুণের জন্য মুখে ধন্যবাদ দিন। মা-বাবা না থাকলে তাঁদের বন্ধু বা আত্মীয়ের খোঁজ নিন।
সহিহ বুখারী ৩৮১৮ সহিহসহিহ মুসলিম ২৪৩৫ সহিহ
হেদায়াত আল্লাহর হাতে
নবীজি (ﷺ) নিজের প্রিয় চাচাকেও জোর করে হেদায়াত দিতে পারেননি। আমাদের কাজ চেষ্টা আর দোয়া, ফল আল্লাহর হাতে।
আজকের কাজ: দ্বীন থেকে দূরে থাকা কোনো আত্মীয়ের জন্য হতাশ না হয়ে আজ দোয়া করুন, আর রাগ ছাড়া সুন্দর একটা কথা বলুন।
সূরা আল-কাসাস ২৮:৫৬ কুরআন
মৃত্যুপথযাত্রীর পাশে কালিমা
নবীজি (ﷺ) চাচার শেষ মুহূর্তে কালিমা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, আর বলেছেন: মুমূর্ষুকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মনে করিয়ে দাও।
আজকের কাজ: অসুস্থ বা বয়স্ক কোনো আত্মীয়কে এই সপ্তাহে দেখতে যান; নরমভাবে আল্লাহর জিকির আর কালিমার কথা বলুন।
সহিহ বুখারী ৩৮৮৪ সহিহসহিহ মুসলিম ৯১৬ সহিহ
দুঃখে ধৈর্য আর আশা
প্রিয়জন হারানোর বছরের পরেই আল্লাহ নবীজিকে (ﷺ) মিরাজের সম্মান দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, তোমার রব তোমাকে এত দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে।
আজকের কাজ: কোনো ক্ষতি বা মৃত্যুর খবর পেলে "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন" বলুন, আর উম্মু সালামার (রা.) শেখা দোয়াটি মুখস্থ করুন।
সূরা আল-বাকারা ২:১৫৬ কুরআনসহিহ মুসলিম ৯১৮ সহিহসূরা আদ-দুহা ৯৩:৫ কুরআন
খাদিজা (রা.) মারা যাওয়ার বহু বছর পরও নবীজি (ﷺ) তাঁর কথা বলতেন। আজ আপনার জীবনের কোন মানুষটি কঠিন দিনে আপনার পাশে ছিলেন, যাঁকে আপনি এখনো ঠিকমতো ধন্যবাদ দেননি?
সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
- কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
- সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
- ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
- মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
- দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।
সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।