وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
তায়েফ সফর: রক্তাক্ত পায়ে ক্ষমার দোয়া
মক্কা যখন দরজা বন্ধ করে দিল, নবীজি (ﷺ) পাহাড় পেরিয়ে গেলেন তায়েফে, যদি সেখানে কেউ আল্লাহর কথা শোনে। ফিরলেন রক্তাক্ত পা নিয়ে। আর যখন আল্লাহ তাঁকে প্রতিশোধের সুযোগ দিলেন, তিনি চাইলেন তাদের সন্তানদের হেদায়াত।
সীরাত · মক্কী যুগ৬১৯ খ্রি. · নবুয়তের ১০ম বছর · শাওয়াল
- কখন
- নবুয়তের ১০ম বছর, শাওয়াল মাস (প্রসিদ্ধ মত), আবু তালিব ও খাদিজার (রা.) মৃত্যুর পর
- কোথায়
- মক্কার পূর্বে পাহাড়ি শহর তায়েফ, ফেরার পথে কারনুস সাআলিব ও নাখলা
- কারা
- নবীজি (ﷺ), যায়দ ইবনু হারিসা (রা.), সাকীফের তিন নেতা, আদ্দাস
- এই গল্পে
- তায়েফ যাওয়া থেকে মুতইম ইবনু আদীর আশ্রয়ে মক্কায় ফেরা পর্যন্ত
কেন পড়বেন: নবীজি (ﷺ) নিজে বলেছেন, উহুদের চেয়েও কঠিন দিন ছিল তায়েফের দিন। এই গল্প দেখায়, অপমানের জবাবে তিনি কী করেছেন, আর কেন আল্লাহ তাঁকে বলেছেন "সারা জগতের জন্য রহমত"।
গল্প
বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।
- ১
শাওয়াল, নবুয়তের ১০ম বছর
নতুন আশ্রয়ের খোঁজে
আবু তালিবের মৃত্যুর পর মক্কায় নবীজিকে (ﷺ) রক্ষা করার মতো কেউ রইল না। তিনি ভাবলেন, তায়েফের সাকীফ গোত্র যদি আল্লাহর কথা শোনে, আর তাঁকে আশ্রয় দেয়।
সীরাতের বর্ণনায় আছে, তিনি পালিত পুত্র যায়দ ইবনু হারিসাকে (রা.) নিয়ে পায়ে হেঁটে রওনা দিলেন। মক্কা থেকে তায়েফ পাহাড়ি পথে কয়েক দিনের দূরত্ব। কোনো বাহিনী নেই, কোনো উপহার নেই, শুধু একটা বার্তা।
সূত্রইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা: যায়দকে (রা.) নিয়ে তায়েফ যাত্রা ঐতিহাসিক বর্ণনাইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: তায়েফ সফরের কারণ ঐতিহাসিক বর্ণনা
দরজা বন্ধ হলে তিনি বসে থাকেননি, আরেকটা দরজায় কড়া নেড়েছেন।
- ২
তায়েফে পৌঁছে
সাকীফের তিন নেতা
তায়েফে তখন সাকীফের নেতা তিন ভাই: আবদু ইয়ালীল, মাসঊদ আর হাবীব, আমর ইবনু উমাইরের ছেলে। নবীজি (ﷺ) তাঁদের কাছে বসে ইসলামের দাওয়াত দিলেন, সাহায্য চাইলেন। নবীজি (ﷺ) নিজে পরে বলেছেন, তিনি নিজেকে পেশ করেছিলেন ইবনু আবদি ইয়ালীলের কাছে, কিন্তু সে সাড়া দেয়নি (সহিহ বুখারী ৩২৩১)।
সীরাতের বর্ণনায় তাদের জবাবও আছে। একজন বলল: আল্লাহ যদি তোমাকে পাঠিয়ে থাকেন, তাহলে আমি কাবার গিলাফ ছিঁড়ব। আরেকজন: আল্লাহ কি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে পেলেন না? তৃতীয়জন: আমি তোমার সাথে কথাই বলব না; তুমি সত্যি নবী হলে তোমার কথা ফেরানো বিপজ্জনক, আর মিথ্যা হলে তোমার সাথে কথা বলার যোগ্য নও।
নবীজি (ﷺ) শুধু অনুরোধ করলেন, অন্তত এ কথা গোপন রাখো, যাতে মক্কার লোকেরা জেনে আরও কষ্ট না দেয়। তারা সেটাও রাখল না।
সূত্রসহিহ বুখারী ৩২৩১ সহিহইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: সাকীফ নেতাদের প্রত্যাখ্যান ঐতিহাসিক বর্ণনা
অপমানের জবাবে তিনি তর্ক করেননি, শুধু গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। কঠিন মুহূর্তেও তিনি মাথা ঠান্ডা রেখেছেন।
- ৩
তায়েফ থেকে বের হওয়ার পথে
পাথরের বৃষ্টি
তারা শহরের নির্বোধ লোক, দাস আর বাচ্চাদের লেলিয়ে দিল। রাস্তার দুই পাশে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে তারা গালি দিত আর পাথর ছুড়ত। সীরাতের বর্ণনায় আছে, তাঁর দুই পা রক্তাক্ত হয়ে গেল; যায়দ (রা.) নিজের শরীর দিয়ে আড়াল করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেলেন।
শেষে তাঁরা আশ্রয় নিলেন শহরের বাইরে এক আঙুর বাগানে, যার মালিক মক্কার দুই ভাই উতবা আর শাইবা ইবনু রাবীআ।
সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: পাথর ছোড়া ও বাগানে আশ্রয় ঐতিহাসিক বর্ণনাইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা: যায়দের (রা.) আঘাত ঐতিহাসিক বর্ণনা
যে মানুষটি মানুষকে জান্নাতের দিকে ডাকতে এসেছিলেন, তাঁকে বিদায় দেওয়া হলো পাথর দিয়ে।
- ৪
আঙুর বাগানে
আদ্দাস আর আঙুরের থোকা
উতবা আর শাইবা ইসলামের শত্রু হলেও তাঁকে এ অবস্থায় দেখে হয়তো আত্মীয়তার টান জাগল। তারা নিজেদের খ্রিস্টান দাস আদ্দাসের হাতে এক থোকা আঙুর পাঠাল।
নবীজি (ﷺ) "বিসমিল্লাহ" বলে খেতে শুরু করলেন। আদ্দাস অবাক হয়ে বলল: এ দেশের মানুষ তো এমন কথা বলে না! নবীজি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথাকার? সে বলল, নিনাওয়ার (ইরাকের নিনেভে)। তিনি বললেন:
নেককার মানুষ ইউনুস ইবনু মাত্তার শহরের?
আদ্দাস জিজ্ঞেস করল, আপনি ইউনুসকে কীভাবে চেনেন? তিনি বললেন:তিনি আমার ভাই, তিনি নবী ছিলেন, আমিও নবী।
আদ্দাস ঝুঁকে পড়ে তাঁর মাথা, হাত আর পায়ে চুমু খেল।সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: আদ্দাসের ঘটনা (ইবনে ইসহাক থেকে) ঐতিহাসিক বর্ণনা
পুরো শহর যখন পাথর ছুড়ছে, তখনো তিনি একজন দাসের সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলছেন। দাওয়াতের কাজ কখনো থামে না।
- ৫
মক্কার পথে
কারনুস সাআলিবে: পাহাড়ের ফেরেশতা
দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে তিনি হাঁটতে লাগলেন, কোথায় যাচ্ছেন খেয়াল ছিল না। হুঁশ ফিরল কারনুস সাআলিব নামের জায়গায় এসে। বহু বছর পরে আয়িশা (রা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, উহুদের চেয়েও কঠিন কোনো দিন কি এসেছে? তিনি তায়েফের দিনের কথা বললেন, তারপর:
(তায়েফ থেকে দুঃখ নিয়ে ফেরার পথে নবী (ﷺ) বলেন:) হঠাৎ দেখি একখণ্ড মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। তাকিয়ে দেখি তাতে জিবরীল। তিনি আমাকে ডেকে বললেন: আপনার সম্প্রদায় আপনাকে যা বলেছে আর যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে, আল্লাহ তা শুনেছেন। তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আপনি যা চান তাকে আদেশ করতে পারেন। তখন পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডেকে সালাম দিলেন, তারপর বললেন: হে মুহাম্মাদ, আপনি যা চান তা-ই হবে। আপনি চাইলে আমি দুই পাহাড় (আখশাবাইন) তাদের উপর চাপিয়ে দেব। নবী (ﷺ) বললেন: না, বরং আমি আশা করি আল্লাহ তাদের বংশে এমন মানুষ সৃষ্টি করবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কিছুকে শরিক করবে না।
পুরো একটা শহর ধ্বংস করার সুযোগ ছিল তাঁর হাতে, আর তিনি বললেন: বরং আমি আশা করি, তাদের বংশে এমন মানুষ আসবে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।
সূত্রসহিহ বুখারী ৩২৩১ সহিহসূরা আল-আম্বিয়া ২১:১০৭ কুরআন
এই একটি দোয়ায় বোঝা যায়, কেন তিনি "রহমাতুল লিল আলামীন"। প্রতিশোধের ক্ষমতা হাতে পেয়েও তিনি বেছে নিলেন আশা।
- ৬
ফেরার পথে
নাখলার রাত: জিনেরা শুনল কুরআন
ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় আছে, ফেরার পথে নাখলা নামের জায়গায় রাতে তিনি নামাজে কুরআন পড়ছিলেন। তখন একদল জিন এসে মনোযোগ দিয়ে শুনল, আর ঈমান এনে নিজেদের জাতিকে সতর্ক করতে ফিরে গেল। আল্লাহ বলেছেন:
وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنصِتُوا ۖ فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَىٰ قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ
আর স্মরণ করুন, যখন আমরা আপনার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম জিনদের একটি দলকে, যারা মনোযোগসহকারে কুরআন পাঠ শুনছিল। অতঃপর যখন তারা তার কাছে উপস্থিত হল, তারা বলল, ‘চুপ করে শুন।’ অতঃপর যখন কুরআন পাঠ সমাপ্ত হল তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে।
সহিহ বুখারীতে ইবনু আব্বাসের (রা.) বর্ণনায় নাখলায় জিনদের কুরআন শোনার একটি ঘটনা আছে, তবে সেখানে নবীজি (ﷺ) সাহাবিদের নিয়ে উকাযের বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। দুটি একই ঘটনা, নাকি আলাদা, তা নিয়ে আলেমদের মতভেদ আছে।
সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: নাখলায় জিনদের কুরআন শোনা (ইবনে ইসহাক থেকে) ঐতিহাসিক বর্ণনাসূরা আল-আহকাফ ৪৬:২৯ কুরআনসহিহ বুখারী ৭৭৩ (ইবনু আব্বাস রা.): নাখলায় জিনদের কুরআন শোনা সহিহ
মানুষ যখন মুখ ফিরিয়ে নিল, আল্লাহ অন্য সৃষ্টিকে দিয়ে দেখালেন, এই বাণী কত শক্তিশালী।
- ৭
মক্কায় ফেরা
মুতইম ইবনু আদীর আশ্রয়
মক্কায় ঢোকা এখন বিপজ্জনক; তায়েফের খবর কুরাইশের কানে পৌঁছে গেছে। সীরাতের বর্ণনায় আছে, তিনি কয়েকজন নেতার কাছে আশ্রয় চেয়ে খবর পাঠালেন। রাজি হলেন মুতইম ইবনু আদী, যিনি নিজে মুসলিম ছিলেন না। তিনি ছেলেদের অস্ত্র পরিয়ে কাবার কাছে দাঁড় করালেন, আর ঘোষণা দিলেন: আমি মুহাম্মাদকে আশ্রয় দিয়েছি। নবীজি (ﷺ) কাবা তাওয়াফ করে নিরাপদে ঘরে ফিরলেন।
এই উপকার নবীজি (ﷺ) কখনো ভোলেননি। মুতইম বদরের আগেই মারা যান; বদরের বন্দিদের নিয়ে তিনি বলেছিলেন:
لَوْ كَانَ الْمُطْعِمُ بْنُ عَدِيٍّ حَيًّا، ثُمَّ كَلَّمَنِي فِي هَؤُلاَءِ النَّتْنَى، لَتَرَكْتُهُمْ لَهُ
বদরের বন্দিদের সম্পর্কে নবীজি (ﷺ) বললেন: মুতইম ইবনু আদী যদি বেঁচে থাকত, আর এই নোংরা লোকগুলোর ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করত, তাহলে আমি তার খাতিরে এদের ছেড়ে দিতাম।
সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: মুতইম ইবনু আদীর আশ্রয় ঐতিহাসিক বর্ণনাসহিহ বুখারী ৩১৩৯ সহিহ
যে অমুসলিম একদিন উপকার করেছিল, তার কথা নবীজি (ﷺ) বিজয়ের দিনেও মনে রেখেছেন। কৃতজ্ঞতা ঈমানের অংশ।
প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।
দুর্বল তায়েফের দোয়া: "হে আল্লাহ, তোমার কাছেই আমার দুর্বলতা আর অসহায়ত্বের অভিযোগ করি…"
দোয়াটি খুব প্রসিদ্ধ, আর অর্থও সুন্দর। কিন্তু এটা এসেছে ইবনে ইসহাকের বিচ্ছিন্ন সনদে ও তাবারানীর দুর্বল সূত্রে; আলবানী সিলসিলা দঈফায় একে দুর্বল বলেছেন। তাই একে নিশ্চিতভাবে নবীজির (ﷺ) দোয়া বলা যায় না। সাধারণ দোয়া হিসেবে এর অর্থ নিয়ে দোয়া করা যায়, তবে তায়েফের দিনে তাঁর যে কথা সহিহভাবে প্রমাণিত, তা হলো পাহাড়ের ফেরেশতাকে দেওয়া জবাব (সহিহ বুখারী ৩২৩১)।
ভুল ধারণা নবীজি (ﷺ) তায়েফবাসীর জন্য বদদোয়া করেছিলেন, তাই তারা ধ্বংস হয়েছিল
উল্টো, ফেরেশতা যখন পাহাড় চাপা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন, তিনি তা ফিরিয়ে দিয়ে তাদের বংশধরদের হেদায়াতের আশা করেছেন (সহিহ বুখারী ৩২৩১)। সেই আশা পূরণ হয়েছিল: নবম হিজরিতে সাকীফের প্রতিনিধিদল মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করে।
এই গল্প থেকে আমার জীবনে
গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।
প্রতিশোধ নয়, হেদায়াতের দোয়া
রক্তাক্ত হয়েও নবীজি (ﷺ) তায়েফবাসীর ধ্বংস চাননি, চেয়েছেন তাদের সন্তানদের হেদায়াত।
আজকের কাজ: যে মানুষটি আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, আজ তার নাম ধরে হেদায়াত আর কল্যাণের দোয়া করুন, অন্তত একবার।
সহিহ বুখারী ৩২৩১ সহিহসূরা আল-আম্বিয়া ২১:১০৭ কুরআন
সবার সাথে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ
নিজের কষ্টের মধ্যেও নবীজি (ﷺ) এক দাসের সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। আল্লাহ দাস, প্রতিবেশী আর অসহায়ের সাথে সদাচার করতে বলেছেন।
আজকের কাজ: আজ বাসার কাজের মানুষ, রিকশাচালক বা দারোয়ানকে নাম ধরে সালাম দিন, তাঁর খোঁজ নিন।
সূরা আন-নিসা ৪:৩৬ কুরআন
খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ
আঙুর হাতে নিয়েও নবীজি (ﷺ) বিসমিল্লাহ বলেছিলেন, আর এই ছোট কথাটিই আদ্দাসের মন খুলে দিয়েছিল।
আজকের কাজ: আজ প্রতিটি খাবারের শুরুতে জোরে বিসমিল্লাহ বলুন, যাতে পরিবারের শিশুরাও শেখে।
সহিহ বুখারী ৫৩৭৬ সহিহ
উপকারীর কৃতজ্ঞতা
মুতইম ইবনু আদী অমুসলিম ছিলেন, তবু নবীজি (ﷺ) তাঁর উপকার মনে রেখেছেন। আর বলেছেন, যে মানুষের কৃতজ্ঞতা করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও করে না।
আজকের কাজ: কঠিন সময়ে যে আপনাকে সাহায্য করেছিল, আজ তাকে একটা ফোন বা মেসেজে কৃতজ্ঞতা জানান।
সহিহ বুখারী ৩১৩৯ সহিহজামে আত-তিরমিযী ১৯৫৪ সহিহ
ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা
তায়েফ থেকে খালি হাতে ফিরে তিনি আবার হজের মৌসুমে মানুষকে ডাকতে শুরু করলেন। আল্লাহ বলেছেন, কষ্টের সাথেই আছে স্বস্তি।
আজকের কাজ: যে ভালো কাজে একবার ব্যর্থ হয়ে থেমে গেছেন, আজ নতুন করে তার প্রথম ছোট পদক্ষেপটা নিন।
সূরা আশ-শারহ ৯৪:৫ কুরআনসূরা আশ-শারহ ৯৪:৬ কুরআন
পুরো শহর ধ্বংস করার ক্ষমতা হাতে পেয়েও নবীজি (ﷺ) বললেন, আমি আশা করি তাদের সন্তানরা আল্লাহর ইবাদত করবে। যে মানুষটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে, তার জন্য আপনার মনে কী আছে: প্রতিশোধ, নাকি দোয়া?
সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
- কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
- সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
- ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
- মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
- দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।
সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।