ইমাম পরিচিতি · ব্যাখ্যাকার ও রিজালের ইমাম
ইমাম যাহাবী
شمس الدين الذهبي
সিয়ারু আলামিন নুবালার লেখক, বর্ণনাকারী যাচাইয়ের ইমাম
শামসুদ্দীন আবু আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনি উসমান আয-যাহাবী
স্বর্ণকারের পরিবারের ছেলে, তাই "আয-যাহাবী" (স্বর্ণের)। এই সাইটের প্রায় সব জীবনী তাঁর সিয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে। তিনি ইসলামের প্রথম সাতশো বছরের ইতিহাস আর হাজার হাজার বর্ণনাকারীর মান লিখে গেছেন।
- জন্ম
- রবিউল আখির ৬৭৩ হিজরি (১২৭৪ খ্রি.)
- জন্মস্থান
- দামেশক · আজকের সিরিয়া
- মৃত্যু
- ৩ যিলকদ ৭৪৮ হিজরি (১৩৪৮ খ্রি.)
- কোথায়
- দামেশক
- বয়স
- ৭৫ বছর
- প্রধান গ্রন্থ
- সিয়ারু আলামিন নুবালা سير أعلام النبلاء
পরিবার ও শৈশব
পরিবার তুর্কমান বংশের, মূল মাইয়াফারিকীন অঞ্চলের। বাবা আহমাদ সোনার পাত তৈরির কারিগর ছিলেন; তিনি নিজেও কিছুদিন এই কাজ করেছেন বলে নাম "আয-যাহাবী" (সুবকী, তাবাকাত খণ্ড ৯)।
শিক্ষা ও জ্ঞানের সফর
আঠারো বছর বয়সে হাদিস ও কিরাআত শেখা শুরু। দামেশক, বালাবাক্ক, হালাব, নাবুলুস, কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, মক্কা ও মদিনায় শিখেছেন। মিযযী, বিরযালী আর ইবনু তাইমিয়া ছিলেন তাঁর শিক্ষক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু; এই তিনজনকে তাঁর যুগের হাদিসের স্তম্ভ ধরা হয়।
শিক্ষক
- আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযী
- আলামুদ্দীন আল-বিরযালী
- শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া
- ইবনু দাকীকিল ঈদ (মিসরে)
ছাত্র
- তাজুদ্দীন আস-সুবকী
- ইবনু কাসীর
- সালাহুদ্দীন আস-সাফাদী
- ইবনু রজব
যেভাবে কাজ করেছেন
- ১প্রতিটি মানুষের মান
"মীযানুল ইতিদাল"-এ সমালোচিত প্রায় এগারো হাজার বর্ণনাকারীর তালিকা, প্রত্যেকের ব্যাপারে আগের ইমামদের রায় ও নিজের মত।
- ২জীবনীতে ন্যায়
সিয়ারে প্রশংসা আর ভুল দুটোই লিখেছেন; বড় আলেমের ভুলও নম্রভাবে উল্লেখ করেছেন। দুর্বল গল্প এলে প্রায়ই সনদের দুর্বলতা বলে দিয়েছেন।
- ৩অন্যের বই যাচাই
"তালখীসুল মুস্তাদরাক"-এ আল-হাকিমের প্রতিটি হাদিসে নিজের রায় দিয়েছেন।
তাঁর গ্রন্থ: সিয়ারু আলামিন নুবালা
সিয়ারু আলামিন নুবালা: সাহাবি থেকে সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার জীবনী; মুআসসাসাতুর রিসালাহর সংস্করণে ২৫ খণ্ড (শুআইব আল-আরনাঊতের তত্ত্বাবধানে)।
অন্য বই: তারীখুল ইসলাম (বিশাল ইতিহাস), মীযানুল ইতিদাল, তাযকিরাতুল হুফফায, আল-কাশিফ।
এই সাইটে: ইমাম পরিচিতির প্রায় সব জীবনীর প্রধান সূত্র সিয়ার। খণ্ড নম্বর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী।
পরীক্ষা ও শেষ জীবন
জীবনের শেষ সাত বছরের মতো তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। ৭৪৮ হিজরির ৩ যিলকদ রাতে দামেশকে মারা যান (সুবকী, তাবাকাত খণ্ড ৯)।
আলেমদের চোখে
তিনি আমাদের যুগে হাদিস ও বর্ণনাকারী যাচাইয়ের শায়খ, যেন সব উম্মাহকে একটি মাঠে জড়ো করে দেখছেন আর তাদের খবর দিচ্ছেন।
তাজুদ্দীন আস-সুবকী · সুবকী, তাবাকাত খণ্ড ৯
জীবনের সময়রেখা
| হিজরি | খ্রিস্টাব্দ | ঘটনা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| ৬৭৩ | ১২৭৪ | দামেশকে জন্ম | সুবকী, তাবাকাত খণ্ড ৯ |
| ৬৯১ | ১২৯২ | হাদিস ও কিরাআত শেখা শুরু | সুবকী, তাবাকাত খণ্ড ৯ |
| ৬৯৫ | ১২৯৬ | মিসর সফর | আদ-দুরারুল কামিনা |
| ৭৪১ | ১৩৪০ | দৃষ্টিশক্তি হারানো | আদ-দুরারুল কামিনা |
| ৭৪৮ | ১৩৪৮ | দামেশকে ইন্তেকাল | সুবকী, তাবাকাত খণ্ড ৯ |
সূত্র
- সুবকী, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা
খণ্ড ৯, যাহাবীর জীবনী (ছাত্রের লেখা) - ইবনু হাজার, আদ-দুরারুল কামিনা
মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আয-যাহাবী - আস-সাফাদী, আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত
যাহাবীর জীবনী - বাশশার আওয়াদ মারূফ, আয-যাহাবী ওয়া মানহাজুহূ
আধুনিক গবেষণা
সিয়ারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী। হাদিসের সংখ্যা সংস্করণ ও গণনার ধরনভেদে কিছুটা আলাদা হয়; কোন সংস্করণের সংখ্যা, তা পাশে লেখা। জন্মসাল বা মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলে দুই মতই দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, সূত্রসহ সংশোধন করা হবে। আরও দেখুন: সূত্র নীতি।