ইমাম পরিচিতি · ব্যাখ্যাকার ও রিজালের ইমাম
ইমাম নববী
يحيى بن شرف النووي
রিয়াদুস সালিহীন ও শরহু মুসলিমের লেখক
মুহিউদ্দীন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনু শারাফ ইবনি মুরী আন-নববী
মাত্র ৪৫ বছর বেঁচেছিলেন, বিয়ে করেননি, অথচ তাঁর রিয়াদুস সালিহীন, চল্লিশ হাদিস আর আযকার আজও প্রায় প্রতিটি মুসলিম ঘরে পড়া হয়।
- জন্ম
- মুহাররম ৬৩১ হিজরি (১২৩৩ খ্রি.)
- জন্মস্থান
- নাওয়া (হাওরান) · আজকের সিরিয়া (দারআর কাছে)
- মৃত্যু
- ২৪ রজব ৬৭৬ হিজরি (১২৭৭ খ্রি.)
- কোথায়
- নাওয়া
- বয়স
- ৪৫ বছর
- প্রধান গ্রন্থ
- আল-মিনহাজ শরহু সহিহ মুসলিম المنهاج شرح صحيح مسلم
পরিবার ও শৈশব
দামেশকের দক্ষিণে হাওরানের নাওয়া গ্রামে জন্ম, তাই "আন-নববী"। বাবা শারাফ ছিলেন দোকানদার, নেককার মানুষ। ছোটবেলায় অন্য ছেলেরা খেলতে ডাকলে তিনি কাঁদতে কাঁদতে পালিয়ে কুরআন পড়তেন, এক শায়খ এটা দেখে বাবাকে বলেছিলেন ছেলেটিকে জ্ঞানের জন্য ছেড়ে দিতে (ইবনুল আত্তার, তুহফাতুত তালিবীন)।
শিক্ষা ও জ্ঞানের সফর
৬৪৯ হিজরিতে, উনিশ বছর বয়সে, বাবা তাঁকে দামেশকে নিয়ে যান। রাওয়াহিয়্যা মাদরাসায় থেকে প্রতিদিন শিক্ষকদের কাছে বারোটি পাঠ নিতেন: ফিকহ, হাদিস, ব্যাকরণ, উসূল ইত্যাদি। ৬৫১ হিজরিতে বাবার সাথে হজ করেন। পরে দামেশকের দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যার প্রধান হন, বেতন নিতেন না বলে বর্ণিত (তুহফাতুত তালিবীন)।
শিক্ষক
- কামাল ইসহাক আল-মাগরিবী (ফিকহ)
- আব্দুর রহমান ইবনু নূহ
- আবুল বাকা খালিদ আন-নাবুলুসী (হাদিস)
- আবু ইসহাক আল-মুরাদী (মুসলিম)
ছাত্র
- আলাউদ্দীন ইবনুল আত্তার (তাঁর জীবনীকার)
- আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযী
যেভাবে কাজ করেছেন
- ১সহজ ভাষায় সংকলন
রিয়াদুস সালিহীনে শুধু সহিহ হাদিস রাখার চেষ্টা করেছেন, প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে আয়াত, তারপর হাদিস।
- ২ব্যাখ্যায় মাযহাবের তুলনা
শরহু মুসলিমে শব্দার্থ, ফিকহ, আলেমদের মতভেদ আর সনদের আলোচনা একসাথে; ইমাম মুসলিমের অধ্যায়ের নামও তিনিই দিয়েছেন।
- ৩সময়ের হিসাব
ইবনুল আত্তার বলেছেন, তিনি দিনরাতের কোনো সময় নষ্ট করতেন না, রাস্তায় চলতে চলতেও পড়তেন।
তাঁর গ্রন্থ: আল-মিনহাজ শরহু সহিহ মুসলিম
তাঁর প্রধান বই: আল-মিনহাজ শরহু সহিহ মুসলিম, রিয়াদুস সালিহীন, আল-আরবাঈন (চল্লিশ হাদিস), আল-আযকার, আল-মাজমূ শরহুল মুহাযযাব (অসম্পূর্ণ), রাওদাতুত তালিবীন, আত-তাকরীব (হাদিস বিজ্ঞান)।
এই সাইটে: হাদিসের ব্যাখ্যায় বারবার নববীর শরহু মুসলিম ও রিয়াদুস সালিহীন থেকে উদ্ধৃতি এসেছে। সহিহাইন সম্পর্কে তাঁর কথা: আলেমরা একমত, কুরআনের পরে সবচেয়ে বিশুদ্ধ দুটি বই সহিহ বুখারী ও মুসলিম (শরহু মুসলিমের ভূমিকা)।
পরীক্ষা ও শেষ জীবন
সুলতান বাইবার্স যুদ্ধের জন্য সাধারণ মানুষের সম্পদ নিতে চাইলে নববী চিঠি লিখে প্রতিবাদ করেন, ফলে তাঁকে দামেশক থেকে বের করে দেওয়ার কথা ওঠে। জীবনের শেষে তিনি নাওয়ায় ফেরেন, ৬৭৬ হিজরির ২৪ রজব সেখানে মারা যান (তুহফাতুত তালিবীন; সুবকী, তাবাকাত খণ্ড ৮)।
আলেমদের চোখে
আমি তাঁর সাথে প্রায় ছয় বছর ছিলাম; তিনি কোনো সময় নষ্ট করতেন না, দিন হোক বা রাত।
ইবনুল আত্তার · তুহফাতুত তালিবীন
জীবনের সময়রেখা
| হিজরি | খ্রিস্টাব্দ | ঘটনা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| ৬৩১ | ১২৩৩ | নাওয়ায় জন্ম | তুহফাতুত তালিবীন |
| ৬৪৯ | ১২৫১ | দামেশকে এসে রাওয়াহিয়্যা মাদরাসায় | তুহফাতুত তালিবীন |
| ৬৫১ | ১২৫৩ | বাবার সাথে হজ | তুহফাতুত তালিবীন |
| ৬৬৫ | ১২৬৭ | দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যার প্রধান | সুবকী, তাবাকাত খণ্ড ৮ |
| ৬৭৬ | ১২৭৭ | নাওয়ায় ইন্তেকাল | তুহফাতুত তালিবীন |
সূত্র
- ইবনুল আত্তার, তুহফাতুত তালিবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
ঘনিষ্ঠ ছাত্রের লেখা জীবনী - সুবকী, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা
খণ্ড ৮ - যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায
নববীর জীবনী - সাখাবী, আল-মানহালুল আযবুর রাবী ফী তারজামাতিন নববী
বিস্তারিত জীবনী
সিয়ারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী। হাদিসের সংখ্যা সংস্করণ ও গণনার ধরনভেদে কিছুটা আলাদা হয়; কোন সংস্করণের সংখ্যা, তা পাশে লেখা। জন্মসাল বা মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলে দুই মতই দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, সূত্রসহ সংশোধন করা হবে। আরও দেখুন: সূত্র নীতি।